জনাব নুর মােহাম্মদ ক্লাসে তার ছাত্র-ছাত্রীদেরকে চেক বিষয়ে ধারণা দিয়েছেন। বিভিন্ন ধরনের চেকের মধ্যে কোন চেক অধিক নিরাপদ এবং এই চেকের কী কী সুবিধা আছে তা আলােচনা করুন। চেকের জালিয়াতি ও প্রতারণা রােধে ব্যাংক কী কী সতর্কতা অবলম্বন করে ব্যাখ্যা করুন।

জনাব নুর মােহাম্মদ ক্লাসে তার ছাত্র-ছাত্রীদেরকে চেক বিষয়ে ধারণা দিয়েছেন। বিভিন্ন ধরনের চেকের মধ্যে কোন চেক অধিক নিরাপদ এবং এই চেকের কী কী সুবিধা আছে তা আলােচনা করুন। চেকের জালিয়াতি ও প্রতারণা রােধে ব্যাংক কী কী সতর্কতা অবলম্বন করে ব্যাখ্যা করুন।

Assignment এইচ এস সি ডিগ্রি ও উন্মুক্ত পরীক্ষা প্রস্তুতি শিক্ষা
শেয়ার করুন:
শ্রেণি: ১২শ/ hsc/ উন্মুক্ত-2021 বিষয়: ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিমা ২য় পত্র এসাইনমেন্টেরের উত্তর 2021
এসাইনমেন্টের ক্রমিক নংঃ 04 বিষয় কোডঃ 2887
বিভাগ: ব্যবসায় শাখা
বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস// https://www.banglanewsexpress.com/

এসাইনমেন্ট শিরোনামঃ জনাব নুর মােহাম্মদ ক্লাসে তার ছাত্র-ছাত্রীদেরকে চেক বিষয়ে ধারণা দিয়েছেন। বিভিন্ন ধরনের চেকের মধ্যে কোন চেক অধিক নিরাপদ এবং এই চেকের কী কী সুবিধা আছে তা আলােচনা করুন। চেকের জালিয়াতি ও প্রতারণা রােধে ব্যাংক কী কী সতর্কতা অবলম্বন করে ব্যাখ্যা করুন।

এসাইনমেন্ট সম্পর্কে প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে Google News <>YouTube : Like Page ইমেল : assignment@banglanewsexpress.com

ব্যাংকের কোন মক্কেল কর্তৃক তার ব্যাংকের প্রতি তার হিসাব হতে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা বাহককে অথবা আদিষ্ট ব্যক্তিকে প্রদান করার লিখিত আদেশকে চেক বলে। ইংল্যান্ডের বিনিময় বিল আইন-এর ভাষায়, “চেক কোন ব্যাংকের উপর আনীত এমন একটি হস্তান্তরযোগ্য দলিল যা চাওয়ামাত্র পরিশোধ করতে হয়। হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইনের ৬নং ধারায় বলা হয়েছে যে, কোন নির্দিষ্ট ব্যাংকের উপরে কাটা এবং শুধু চাওয়ামাত্র পরিশোধযোগ্য ‘আদেশ’কে চেক বলা হয়। সুতরাং আমরা জানলাম, চেক এক ধরনের আদেশ।

চেক আমানতকারী কর্তৃক তাকে অথবা অন্য কোন ব্যক্তিকে অথবা বাহককে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দেয়ার জন্য ব্যাংকের প্রতি একটি শর্তহীন লিখিত আদেশ। এ আদেশ অনুযায়ী ব্যাংক কোন ব্যক্তিকে বা বাহককে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা চাওয়ামাত্র প্রদান করতে বাধ্য থাকে। চেক একমাত্র ব্যাংকের উপরই কাটা যায়। কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের উপর কাটা যায় না। ব্যাংকে যার আমানত আছে, সে ব্যক্তিই শুধু চেক কাটতে পারে।

ব্যাংক থেকে সরবরাহ করা মুদ্রিত চেকের পাতায় চেক কাটা হয়। যে কোন কাগজে চেক লেখা যায় না। আবার এক ব্যাংকের চেক অন্য ব্যাংকের উপর কাটা যায় না। চেকের সংজ্ঞা জানা হল। এবার আসুন আমরা এর নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যগুলো জেনে নিই। চেকের বৈশিষ্ট্যসমূহ

চেকের অনেকগুলো বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা নিচে আলোচনা করা হলোঃ

১. আদেশ ঃ চেক টাকা দেয়ার জন্য ব্যাংকের প্রতি একটি আদেশ। চেক ‘আদেশ’ শব্দটি খোলাখুলি লেখার দরকার নেই। কারণ ‘দেয়া হোক’ এই কথাটি হতে বোঝা যায় যে, চেক একটি আদেশ।

২. শর্তবিহীন আদেশ ঃ টাকা প্রদান করার আদেশ শর্তবিহীন হতে হবে। কোন শর্ত আরোপ করলে তা চেক হয় না।

৩. লিখিত আদেশ ঃ চেক অবশ্যই লিখিত হয়। মৌখিক আদেশ চেক বলে গণ্য হয় না।

৪. ব্যাংকের প্রতি আদেশ ঃ চেক শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ব্যাংককে উদ্দেশ্য করে কাটা হয়। ব্যাংক ব্যতিত অন্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের উপর চেক কাটা যায় না।

৫. স্বাক্ষর ঃ চেকে অবশ্যই চেকদাতার স্বাক্ষর থাকবে। চেক প্রস্তুতকারকের স্বাক্ষর ব্যতীত চেক বৈধ বলে গণ্য হয় না।

৬. তারিখ ঃ চেকে অবশ্যই তারিখ থাকবে। এতে তারিখ না থাকলে ব্যাংকের নিকট তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

৭. পক্ষসমূহ ঃ চেকে সাধারণত: তিনটি পক্ষ থাকে। ১ম পক্ষকে আদেষ্টা, ২য় পক্ষকে আদিষ্ট এবং ৩য় পক্ষকে প্রাপক বলা হয়। যিনি চেক প্রস্তুত করেন বা চেক কাটেন তিনিই আদেষ্টা। পক্ষান্তরে, ব্যাংকের উদ্দেশ্যে চেক কাটা হয় বলে ব্যাংক আদিষ্ট। যিনি ব্যাংকে চেক জমা দিয়ে টাকা গ্রহণ করেন তিনিই প্রাপক। চেক দাতা নিজেও প্রাপক হতে পারেন।

৮. কথায় ও অংকে টাকার পরিমাণ ঃ অস্পষ্টতা পরিহারের উদ্দেশ্যে চেকে কথায় ও অংকে টাকার পরিমাণ লিখতে হয়।

৯. চাওয়ামাত্র পরিশোধ ঃ চেকের টাকা চাওয়ামাত্র পরিশোধ করতে হয়। চেকের উপর ‘চাওয়ামাত্র’ কথাটি লিপিবদ্ধ না থাকলেও তা ব্যাংকে উপস্থাপন করা মাত্রই কোন আইনগত কারণ না থাকলে পরিশোধ করতে হয়। দাগকাটা চেকের বেলায় অবশ্য এই নিয়মের ব্যতিক্রম দেখা যায়।

১০. নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ ঃ চেকে পরিশোধ্য টাকার পরিমাণ নির্দিষ্ট হতে হবে। পরিমাণে দ্ব্যর্থকতা থাকলে তা চেক হিসেবে গণ্য হবে না।

১১. অনুমোদিত ব্যক্তিকে টাকা প্রদান ঃ নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে অথবা তার আদিষ্ট ব্যক্তিকে অথবা চেকের বাহককে দিতে হবে।

১২. বিহিত মুদ্রায় টাকা পরিশোধ ঃ চেকের টাকা দেশীয় বিহিত মুদ্রায় পরিশোধ করতে হবে। দেশের আইনসঙ্গত প্রচলিত মুদ্রা ব্যতীত অন্য কোন বিদেশী মুদ্রায় চেকের টাকা পরিশোধ করা যায় না।

১৩. চেক কাটার বাধ্যবাধকতা ঃ ব্যাংকের গ্রাহক ছাড়া অন্য কেউ চেক কাটতে পারে না। অর্থাৎ ব্যাংক হতে যে হিসাবগ্রহীতার নামে চেক ইস্যু করা হয় এবং যার নমুনা স্বাক্ষর ব্যাংকে রক্ষিত থাকে, তিনি ব্যতীত অন্য কেউ চেক কাটলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

১৪. উপস্থাপন ঃ চেকের টাকা পরিশোধের জন্য চেক অবশ্যই প্রচলিত নিয়ম মাফিক ও যথাসময়ে ব্যাংকে উপস্থাপন করতে হবে।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

চেকের পক্ষসমূহ

চেকের ৩টি পক্ষ থাকে যথা আদেষ্টা, আদিষ্ট ও ব্যাংক।

১. আদেষ্টা ঃ চেকের আদেষ্টাকে চেক প্রস্তুতকারকও বলে। এর মাধ্যমে ব্যাংকের আমানতকারী নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা চেকের বাহক বা নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তিকে প্রদান করার জন্য তার ব্যাংককে আদশে প্রদান করে। এক্ষেত্রে আমানতকারী হলেন চেকের আদেষ্টা। কোন প্রতিষ্ঠান কোন কর্মীকে চেক কাটার কর্তৃত্ব (ধঁঃযড়ৎরঃু) প্রদান করলে তিনিও চেকের আদেষ্টা হবেন। এক্ষেত্রে আমানতকারী হলো প্রতিষ্ঠান কিন্তু আদেষ্টা হলেন কর্তৃত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি।

২. আদিষ্ট ঃ আদিষ্ট হলো চেকের দ্বিতীয় পক্ষ। আদিষ্ট বলতে তাকেই বুঝানো হবে যার উপর অর্থ পরিশোধের জন্য চেকের মাধ্যমে আদেশ প্রদান করা হয়। ব্যাংক হলো চেকের আদিষ্ট।

৩. গ্রাহক ঃ সহজ কথায় আদেষ্টা চেকের মাধ্যমে যাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদানের আদেশ দেয় তাকে চেকের প্রাপক বলে। আদেষ্টা নিজেই চেকের প্রাপক হতে পারেন। এর মানে হলো, ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে হলে তাকে চেক কাটতে হবে। চেকের টাকা তিনি নিজে তুলতে পারেন কিংবা অন্যতে দিয়েও তুলতে পারেন।

চেকের প্রকারভেদ

চেক প্রধানত ৩ প্রকার, যথা : বাহক চেক, হুকুম চেক এবং দাগকাটা চেক। এগুলো সম্পর্কে আগের ইউনিটে ধারণা দেয়া হয়েছে। এখানে বিস্তারিত বিবরণ দেয়া হলো।

১. বাহক চেক

যে চেক যে কোন ব্যক্তি ব্যাংকে উপস্থাপন করে টাকা তুলতে পারে, তাকে বাহক চেক বলে। এ ধরনের চেকে প্রাপকের নামের শেষে ‘অথবা’ শব্দ লেখা থাকে। যে এ চেক ধারণ করবে, সে-ই এ চেকের মালিক হবে। যে ব্যক্তিই এ চেক ব্যাংকে যথাসময়ে নিয়মমাফিক উপস্থাপন করবে, সে-ই এ ধরনের চেকের টাকা পাওয়ার অধিকারী। বাহক চেকের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। আগে বাহক চেক দিয়ে নির্দিষ্ট শাখা ছাড়া টাকা তোলা যেত না। এখন অন-লাইন ব্যাংক হওয়ায় যে কোন শাখা থেকে চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করা যায়।

সুবিধা ঃ ১. যে কেউ এ ধরনের চেক ব্যবহার করে ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে পারেন।

২. এ ধরনের চেককে ইচ্ছে করলেই হুকুম চেক বা দাগকাটা চেকে পরিণত করা যায়।

৩. এটি হস্তান্তর করার জন্য নিয়মকানুন খুব সহজ।

৪. এ ধরনের চেকে লেনদেন সবচেয়ে সহজ। বাহক চেক ব্যাংকে উপস্থাপনের সাথে সাথে অর্থ দিয়ে দিবে।

বাহক চেকের অসুবিধাসমূহ ঃ ১. বাহক চেকের নিরাপত্তা কম। চেক হারিয়ে গেলে ব্যাংকে হারানো সংবাদ দেওয়ার পূর্বে যে কেউ উপস্থাপন করে টাকা তুলে নিতে পারে। ১. এ ধরনের চেক সাথে করে বহন করার সময় নিরাপত্তার কারণে সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

২. এ ধরনের চেকের মাধ্যমে বড় ধরনের লেনদেন নিরাপদ নয়। তখন রেখাংকিত চেক ব্যবহার করা নিরাপদ।

২. হুকুম চেক

যে চেকে প্রাপকের নামের শেষে ‘অথবা’ শব্দটির পর ঙৎফবৎ বা আদেশক্রমে অথবা বাহকের শব্দটি কেটে দেয়া হলে তাকে হুকুম চেক বলে। ব্যাংক চেকে উল্লিখিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তিকে এ ধরনের চেকের টাকা প্রদান করতে পারবে না। আমানতকারী কর্তৃক সনাক্ত করার পর ব্যাংক উপস্থাপিত চেকের টাকা প্রদান করে। এ ধরনের চেকে টাকা তোলার জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তিকেই ব্যাংকে উপস্থিত হতে হয়।

হুকুম চেকের সুবিধাসমূহ ঃ ১. হুকুম চেক বাহক চেকের চেয়ে বেশী নিরাপদ এবং জালিয়াতিও কম হয়।

২. চেক হারিয়ে গেলেও যে কেউ টাকা তুলতে পারে না।

৩. হুকুম চেকের পেছনে স্বাক্ষর করে হস্তান্তর করা যায়।

৪. হুকুম চেকের মাধ্যমে যে কোন পরিমাণ অর্থের লেনদেন করা নিরাপদ।

৫. হুকুম চেকে ঝুঁকি কম থাকে।

হুকুম চেকের অসুবিধাসমূহ ঃ

১. হুকুম চেকের টাকা নির্ধারিত ব্যক্তি ছাড়া কেউ তুলতে পারে না বলে লেনদেন সহজ হয় না।

২. ব্যাংকে হিসাব না থাকলে এ ধরনের চেকের টাকা পেতে অসুবিধা হয় বা বিলম্বিত হয়।

৩. এ ধরনের চেকের নিরাপত্তা দাগকাটা চেক অপেক্ষা কম।

৪. একমাত্র প্রস্তুতকারকই হুকুম চেককে বাহক চেকে রূপান্তর করতে পারে, অন্য কেউ নয়।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

৩. দাগকাটা চেক

যে চেকের উপরে বাম দিকে উপরের কোণায় কোনাকুনি দুটি সমান্তরাল রেখা অংকন করা হয় এবং ‘এন্ড কোং’, ‘কেবলমাত্র প্রাপকের হিসাবে’, কোম্পানীর নাম, ব্যাংকের নাম বা শাখার নাম প্রভৃতি উল্লেখ থাকে, তাকে দাগকাটা চেক বলে। দাগকাটার কারণে চেকের নিরাপত্তা বৃদ্ধি পায়। অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি এড়ানোর উদ্দেশ্যে নিরাপত্তার ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাংকের মাধ্যমে চেকের টাকা পরিশোধের লক্ষে চেকের উপরিভাগে বাম কোণে আড়াআড়ি দুটি দাগকাটাসহ চেক প্রস্তুত করা হয়।

দাগকাটা চেকের সুবিধাসমূহ ঃ

১. দাগকাটা চেকের টাকা ব্যাংকের হিসাবের মাধ্যমে উত্তোলন করতে হয়। ব্যাংকে কোন নির্দিষ্ট হিসাবে জমা না দিয়ে সরাসরি টাকা তোলা যায় না বলে এ চেক হারিয়ে গেলেও চেকের টাকা ঝুঁকি থাকে না। এটি লেনদেনের প্রামান্য দলিল হিসেবে কাজ করে।

২. দাগকাটা চেক ব্যাংকে জমা দিয়ে টাকা সংগ্রহ করা হয় বলে অন্য কেউ টাকা তুলতে পারে না। সে কারণে ঝুঁকি থাকে না। শুধুমাত্র চেকের প্রাপকই চেকের টাকা ভোগ করতে পারে। এ নিশ্চয়তা দাগকাটা চেকেই সম্ভব।

৩. যেহেতু দাগকাটা চেকের টাকা কোন ব্যাংকের নির্দিষ্ট কোন হিসাবের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়, সেহেতু কোন চেক কেউ জালিয়াতি বা চুরি করলে তা সনাক্ত করা সহজ হয়। অর্থাৎ এর মাধ্যমে লেনদেন পুরোপুরি নিরাপদ।

৪. দাগকাটা চেকের নিরাপত্তা সবচেয়ে বেশী হওয়ায় যে কোন ধরনের বড় অংকের টাকা দাগকাটা চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করা যায়।

৫. প্রয়োজন হলে দাগকাটা চেককে আদেষ্টা কর্তৃক খোলা বা হুকুম চেকে পরিণত করা যায়। এ ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারক চেকে দাগকাটা স্থানে তার নমুনা স্বাক্ষর করে চেকটি বাহক চেকে বা হুকুম চেকে রূপান্তর করতে পারেন। এ চেক অনুমোদন দ্বারা হস্তান্তর করা যায়।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

৬. দাগকাটা চেক অধিকতর নিরাপদ এবং জালিয়াতি ও প্রতারণার সুযোগ কম হওয়ায় ব্যাংক ও মক্কেল উভয়েই নিরাপদ বোধ করে। ফলে তাদের মধ্যে কোন ভুল বোঝাবোঝির অবকাশ থাকে না।

৭. ব্যাংকের কাছেও দাগকাটা চেক সুবিধাজনক ও নিরাপদ। কেননা ব্যাংক নিশ্চিন্তে অন্য ব্যাংক কর্তৃক উপস্থাপিত দাগকাটা চেক পরিশোধ করতে পারে।

বিশেষ ধরনের চেকসমূহ ঃ

উপরে আলোচিত প্রধান তিন প্রকার চেক ব্যতীত আরও কিছু চেক রয়েছে। নিচে এসবচেকের বর্ণনা দেয়া হলোঃ

১. পূর্ববর্তী তারিখের চেকঃ ধরুন, চেক উপস্থাপন করা হলো ১ জুলাই ২০১৮ অথচ উপস্থাপনের তারিখ হলো ২৫ জুলাই ২০১৮। এ ধরনের চেককে পূর্ববর্তী তারিখের চেক বলে। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী চেকে উল্লেখিত তারিখ হতে পরবর্তী ছয়মাস বা ১৮০ দিন পর্যন্ত চেক ঠধষরফ থাকে। এরপর আর উক্ত চেকের মাধ্যমে টাকা তোলা যাবে না। তারিখ পরিবর্তন করে প্রস্তুতকারকের স্বাক্ষরের মাধ্যমে আবার টাকা উত্তোলন করা যায়।

২. পরবর্তী তারিখের চেক ঃ এ ধরনের চেকে প্রস্তুতকারী আগাম তারিখ উল্লেখ করে। এক্ষেত্রে উক্ত তারিখ না আসা পর্যন্ত ব্যাংক থেকে টাকা তোলা যাবে না। ধরুন, আজ ১৬-৭-২০১৮ তারিখ। সালাম কবিরকে আগামী ২৫-৮- ২০১৮ তারিখের একটি বাহক বা হুকুম চেক প্রদান করল। এক্ষেত্রে ২৫ আগস্ট ২০১৮ না আসা পর্যন্ত ব্যাংক থেকে টাকা তোলা যাবে না। এ ধরনের চেককে আগাম চেক বলে।

৩. বাতিল বা বাসি চেক ঃ চেকে উল্লিখিত তারিখ হতে পরবর্তী ছয়মাস পর্যন্ত একটি চেকের মেয়াদ থাকে। ছয় মাস উত্তীর্ণ হওয়ার পরে চেক ব্যাংকে উপস্থাপন করা হলে তাকে বাসি বা বাতিল চেক বলে।

৪. ভ্রমণকারীর চেক ঃ ভ্রমণের সময় নগদ অর্থ বহন করা নিরাপদ নয়। তাই ব্যাংক নগদ টাকা রেখে ভ্রমণকারীকে একটি চেক দেয়। এটিকে ভ্রমণকারীর চেক বলা হয়। ইস্যুকারী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা বা বিদেশে যে কোন শাখা ও প্রতিনিধির নিকট জমা দিয়ে উক্ত চেকের টাকা উত্তোলন করা যায়। অন-লাইন ব্যাংকিং হওয়ার কারণে ভ্রমণকারীর চেক এখন কমে যাচ্ছে।

৫. প্রত্যায়িত চেক ঃ যে চেকের টাকা তুলতে পূর্বে ব্যাংকের ব্যবস্থাপকের অনুমোদন নিতে হয়, তাকে প্রত্যায়িত চেক বলে। শুধুমাত্র বড় অংকের টাকার চেকেই এ ধরনের প্রচলন আছে।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

৬. খোলা চেক ঃ কোন ধরনের দাগকাটা না থাকলে তাকে খোলা চেক বলে। এটা কম নিরাপদ। যেকোন পক্ষ খোলা চেককে দাগকাটা চেকে রূপান্তর করতে পারে। এখানে কোন ব্যক্তির নাম থাকে না। শুধু ‘ঈধংয’ লিখে চেক কাটা হয়।

৭. হারানো চেক ঃ ধরুন, আপনার একটি চেক হারিয়ে গেল। কী করবেন? তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাংককে জানাবেন। এটাই হারানো চেক। ব্যাংক হতে টাকা তোলার পূর্বে চেক হারিয়ে ফেললে তাকে হারানো চেক বলা হয়। হারানো চেক হতে টাকা তোলা যায় না। লিখিত নোটিশের মাধ্যমে এ ধরনের চেকের টাকা পরিশোধ বন্ধ রাখা যায়।

৮. চুরি বা জালিয়াতি চেক ঃ কেউ চেক চুরি বা জালিয়াতি করলে তাকে চুরি বা জালিয়াতি চেক বলা হয়। এক্ষেত্রে চেকের মালিক ব্যাংকে নোটিশ প্রদান করে চেকের টাকা প্রদান বন্ধ রাখতে পারে।

চেকের প্রতারণা ও জালিয়াতি প্রস্তুতকৃত চেকে অবৈধভাবে কোনরূপ পরিবর্তন করে অথবা আমনতকারীর স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংকে চেক উপস্থাপনের মাধ্যমে টাকা তোলাকে জালিয়াতি বলে। এ ধরনের জালিয়াতির জন্য বাংলাদেশে ব্যাংকিং আইনে শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। কোন আমানতকারীর হিসাবে যে পরিমাণ টাকা আছে তা থেকে বেশী অংকের টাকা চেকে লিখা, ভুল হিসাব নম্বর লিখা, একই ব্যাংকের অন্য শাখার চেক উপস্থাপন করা, এক হিসাবের চেক অন্য হিসাবের জন্য জমা করা, যথাযথ হস্তান্তর ব্যতিরিকে চেক জমা দেয়া প্রভৃতি পন্থা ইচ্ছাকৃত ভাবে অবলম্বন করে ব্যাংক থেকে টাকা উঠানোর চেষ্টা করাকে চেকের প্রতারণা বলা হয়।

মোটকথা, কোন অবৈধ পন্থা অবলম্বন করার মাধ্যমে ব্যাংক থেকে যে কেউ টাকা উত্তোলনের ব্যবস্থা করলে তাকে চেকের প্রতারণা ও জালিয়াতি বলা হয়।

চেকের জালিয়াতি ও প্রতারণার বিপক্ষে ব্যাংকের সতর্কতা বা করণীয়সমূহ

চেক জালিয়াতি অনেক সময় বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনে। চেকের জালিয়াতি ও প্রতারণা রোধ করার জন্য সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।

আসুন, বিষয়গুলো নিচে আলোচনা করি:

১. ব্যাংক ও শাখা ঃ কোন চেক ব্যাংকে উপস্থাপন করা হলে প্রথমেই দেখতে হবে উক্ত চেক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কিনা।

২. স্বাক্ষর পরীক্ষা ঃ জমাকৃত চেকটির নির্দিষ্ট জায়গায় চেকের আদেষ্টার স্বাক্ষর আছে কিনা ও উক্ত স্বাক্ষর তার ব্যাংকে জমাকৃত নমুনা স্বাক্ষরের সাথে হুবহু মিল আছে কিনা তা দেখতে হবে।

৩. চেকের তারিখ ঃ মেয়াদ উত্তীর্ণ চেক বা অগ্রিম চেকের টাকা পরিশোধ করা যাবে না। এমনকি চেকে তারিখ কাটাকাটি থাকলে সেক্ষেত্রে আদেষ্টার নমুনা স্বাক্ষর ব্যতীত টাকা প্রদান করা যাবে না।

৪. চেকের ক্রমিক নম্বরঃ চেক বইয়ের মধ্যে নির্দিষ্ট ক্রমিক নম্বর থাকে, যা উক্ত গ্রাহকের লেজার বইয়ে লিপিবদ্ধ করা থাকে। চেকের টাকা পরিশোধ করার পূর্বে দেখতে হবে যে উক্ত চেকের নম্বর তার নামে ইস্যুকৃত সিরিয়াল নম্বরের সাথে মিলে কিনা।

৫. অর্থের পরিমাণ ঃ চেকে উল্লিখিত অংকে ও কথায় টাকার পরিমাণ একই কিনা না হলে চেক প্রত্যাখ্যান করতে হবে।

৬. চেকের পরিবর্তন ঃ চেকে কোন ধরনের পরিবর্তন, যেমন তারিখ পরিবর্তন, টাকার অংক পরিবর্তন ইত্যাদি আছে কিনা

তা দেখতে হবে। আদেষ্টার ব্যাংকে রক্ষিত নমুনা স্বাক্ষর চেকে আছে কিনা তা পরীক্ষা করা অপরিহার্য।

৭. ছেড়া চেক ঃ চেক ছেড়া বা মোচড়ানো হলে ব্যাংক চেকটি প্রত্যাখান করবে।

৮. চুরিকরা চেকঃ কোন চেক চুরি করা হয়েছে বা বাহক কুড়িয়ে পেয়েছে এমনটি প্রমাণিত হলে ব্যাংক চেকের টাকা প্রদান করবে না।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

৯. হিসাব নম্বর ঃ ব্যাংকে উপস্থাপিত চেকে যে হিসাব নম্বর আছে তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

১০. আদালতের নিষেধাজ্ঞা ঃ কোন চেকের মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে আদালতের কোনরূপ নিষেধাজ্ঞা থাকলে চেকের টাকা প্রদান করা যাবে না।

১১. আদেষ্টার মৃত্যু বা দেউলিয়াপনা ঃ আমানতকারীর মৃত্যুমুখে পতিত হলে বা তিনি দেউলিয়া বা পাগল ঘোষিত হলে চেকের টাকা প্রদান করা যাবে না।

১২. আদেষ্টার নিষেধাজ্ঞা ঃ চেক প্রস্তুতকারক কোন কারণে কোন চেকের টাকা পরিশোধ করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে থাকলে উক্ত চেকের টাকা পরিশোধ করা যাবে না।

১৩. সন্দেহযুক্ত চেক ঃ চেকের টাকা পরিশোধ করার পূর্বে চেকে কোন প্রকার সন্দেহ আছে কিনা তা নিশ্চিত করার পরই শুধু টাকা পরিশোধ করতে হবে। কোনরূপ সন্দেহ থাকলে চেকের টাকা পরিশোধ করা সঙ্গত নয়।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

চেক প্রত্যাখ্যান বা চেকের অমর্যাদাকরণ

চেকে কোন প্রকার ত্রুটি না থাকলে ব্যাংক চেকের টাকা দিতে বাধ্য। এটাকে চেকের মর্যাদাকরণ বা যড়হড়ৎ করা বলা হয়। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যাংক চেকের টাকা দিতে অস্বীকার করে থাকে, এটাকেই চেকের অমর্যাদাকরণ বা ফরংযড়হড়ৎ করা বলা হয়। চেকের ফরংযড়হড়ৎ অবশ্যই আইনসঙ্গত হতে হবে। একটি চেকের যে সকল শর্ত উপস্থিত থাকলে চেকের টাকা ব্যাংক দিতে বাধ্য, সে শর্তগুলো থাকার পরও চেকের টাকা প্রদান না করলে তা বেআইনী হবে। বৈধ কারণে ব্যাংক কর্তৃক গ্রাহকের চেকের টাকা প্রদানে অস্বীকৃতিকে চেকের প্রত্যাখান বা অমর্যাদাকরণ বলা হয়।

চেক অমর্যাদাকরণ-এর কারণগুলো নিম্নরূপ ঃ

১. আদেষ্টার পর্যাপ্ত অর্থ ব্যাংকে জমা না থাকলে ঘঝঋ (ঘড় ংঁভভরপরবহঃ ভঁহফ) লিখে ব্যাংক চেক প্রত্যাখান করে।

২. চেক প্রস্তুতকারকের স্বাক্ষর না থাকলে অথবা স্বাক্ষর থাকলে তা ব্যাংকে রক্ষিত নমুনা স্বাক্ষরের সাথে পুরোপুরি না মিললে চেক প্রত্যাখাত হয়।

৩. হিসাব নম্বর না থাকলে বা হিসাব নম্বর ভুল থাকলে চেক প্রত্যাখান করা হয়।

৪. তারিখ না থাকলে বা ছয় মাসের বেশী হয়ে গেলে বা অগ্রিম তারিখ হলে চেকের টাকা প্রদান করা যায় না।

৫. চেকে কথায় ও অংকে টাকার পরিমাণে গড়মিল থাকলে চেক প্রত্যাখান করা হয়।

৬. হুকুম চেকে ব্যক্তির নাম উল্লেখ না থাকলে বা যে নাম উল্লেখ আছে তার সাথে চেকের উপস্থাপক ব্যক্তি এক না হলে চেক প্রত্যাখ্যান করা হয়।

৭. চেকে কোন প্রকার কাটাকাটি বা ঘষামাঝা হলে চেকের টাকা পরিশোধ করা হয় না।

৮. চেকে ওভার রাইটিং থাকলে চেক প্রত্যাখান করা হয়।

৯. চেকের আদেষ্টার মৃত্যু হলে, দেউলিয়া ঘোষিত হলে বা মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটলে বা আদেষ্টা পাগল হলে চেক প্রত্যাখ্যাত হয়।

১০. আমানতকারীর বা আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলে ব্যাংক চেক প্রত্যাখান করে।

১২. হিসাব কোন কারণে বন্ধ থাকলে চেকের টাকা পরিশোধ করা যায় না।

১৩. চেক ছেড়া বা অস্পষ্ট হলে ব্যাংক চেক প্রত্যাখান করে।

১৪. কোন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক চেকদাতার অফিসিয়াল সিল না থাকলে চেক প্রত্যাখ্যাত হয়।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

সবার আগে Assignment আপডেট পেতে Follower ক্লিক করুন

এসাইনমেন্ট সম্পর্কে প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে Google News <>YouTube : Like Page ইমেল : assignment@banglanewsexpress.com

অন্য সকল ক্লাস এর অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর সমূহ :-

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় SSC এসাইনমেন্ট :

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় HSC এসাইনমেন্ট :

বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস// https://www.banglanewsexpress.com/

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *