সূরা আরাফ সকল তথ্য আল কোরআন ও হাদিসের আলোতে,পৃথিবীর জানা অজানা কিছু তথ্য আল আরাফ আলমল ও ফজিলত, সূরা আরাফ কতো বার পাঠ করলে কোন আলম ও ফজিলত, সূরা আরাফ নাযিলের কারন গুলো কি কি ,কুরআন ০৭ সূরা আল – আরাফ

আজকের বিষয়: সূরা আরাফ সকল তথ্য আল কোরআন ও হাদিসের আলোতে,পৃথিবীর জানা অজানা কিছু তথ্য আল আরাফ আলমল ও ফজিলত

নামকরণ

এ সূরার ৪৬ ও ৪৭নং আয়াতে (পঞ্চম রুকূতে) আসহাবে আরাফ বা আরাফবাসীদের উল্লেখ করা হয়েছে । সেই জন্যে এর নামকরণ করা হয়েছে আল আরাফ। অন্য কথায় বলা যায়, এ সূরাকে সূরা আল আরাফ বলার তাৎপর্য হচ্ছে এই যে, যে সূরার মধ্যে আ’রাফের কথা বলা হয়েছে ,এটা সেই সূরা।

নাযিলের সময়-কাল

এ সূরার আলোচ্য বিষয়ের প্রতি দৃষ্টিপাত করলে সুস্পষ্টভাবে অনুভূত হয়ে যে, এ সূরাটি সূরা আন’আমের প্রায় সমসময়ে নাযিল হয়। অবশ্য এটা আগে না আন’আম আগে নাযিল হয় তা নিশ্চয়তার সাথে চিহ্নিত করা যাবে না। তবে এ সূরায় প্রদত্ত ভাষণের বাচনভংগী থেকে এটি যে ঐ সময়ের সাথে সম্পর্কিত তা পরিষ্কার বুঝা যায়। কাজেই এর ঐতিহাসিক পটভূমি অনুধাবন করার জন্যে সূরা আন’আমের শুরুতে যে ভূমিকা লেখা হয়েছে তার ওপর একবর নজর বুলিয়ে নেয়া যথেষ্ট হবে।

আলোচ্য বিষয়

এ সূরার ভাষণের কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তু হচ্ছে রিসালাতের প্রতি ঈমান আনার দাওয়াত । আল্লাহ প্রেরিত রসূলের আনুগত্য করার জন্যে শ্রোতাদের উদ্বদ্ধ করাই এর সমগ্র আলোচনার মৌল উদ্দশ্য ও লক্ষ্য। কিন্তু এ দাওয়াত সতর্ক করার ও ভয় দেখানোর ভাবধারাই ফূটে উঠেছে বেশী করে।কারণ এখানে যাদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে (অর্থাৎ মক্কাবাসী) তাদেরকে বুঝাতে বুঝাতে দীর্ঘকাল অতিবাহিত হয়ে গিয়েছিল। তাদের স্থুল শ্রবণ ও অনুধাবন শক্তি, হঠকারিতা, গোয়ার্তুমী ও একগুঁয়ে মনোভাব চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। যার ফলে রসূলের প্রতি তাদেরকে সম্বোধন করা বন্ধ করে দিয়ে অন্যদেরকে সম্বোধন করার হুকুম অচিরেই নাযিল হতে যাচ্ছিল। তাই বুঝাবার ভংগীতে নবুওয়াত ও রিসালাতের দাওয়াত পেশ করার সাথে সাথে তাদেরকে একথাও জানিয়ে দেয়া হচ্ছে যে, নবীর মোকাবিলায় তোমরা যে কর্মনীতি অবলম্বন করেছো তোমাদের আগের বিভিন্ন মানব সম্প্রদায়ও নিজেদের নবীদের সাথে অনুরূপ আচরণ অবলম্বন করে অত্যন্ত মারাত্মক পরিণতির সম্মুখীন হয়েছিল। তারপর বর্তমানে যেহেতু তাদেরকে যুক্তি প্রমাণ সহকারে দাওয়াত দেবার প্রচেষ্টা চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হতে চলেছে। তাই ভাষণের শেষ অংশে তাদের দিক থেকে মূখ ফিরিয়ে আহলি কিতাবদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে । আর এক জায়গায় সারা দুনিয়ার মানুষকে সাধারণভাবে সম্বোধন করা হয়েছে। এ থেকে এরূপ আভাস পাওয়া যাচ্ছে যে, এখন হিজরত নিকটবর্তী এবং নবীর জন্যে তার নিটকতর লোকদেরকে সম্বোধন করার যুগ শেষ হয়ে আসছে।

এ ভাষণের এক পর্যায়ে ইহুদিদেরকেও সম্বোধন করা হয়েছে । তাই এই সাথে রিসালাত ও নবুওয়াতের দাওয়াতের আর একটি দিকও সুষ্পষ্ট করে তুলে ধরা হয়েছে। নবীর প্রতি ঈমান আনার পর তাঁর সাথে মুনাফিকী নীতি অবলম্বন করার, আনুগত্য ও অনুসৃতির অংগীকার করার পর তা ভংগ করার এবং সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য সম্পর্কে অবহিত হয়ে যাওয়ার পর মিথ্যার প্রতি সাহায্য সহযোগিতা দানের কাজে আপাদমস্তক ডুবে থাকার পরিনাম কি, তাও এতে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ

সূরা আল আরাফ মহাগ্রন্থ আল কোরআনের ৭ নম্বর সূরা। এটি মক্কায় অবতীর্ন তাই এই সূরাকে মক্কি সূরা বলা হয়। সূরা আল আরাফের মোট আয়াত সংখ্যা ২০৬টি। এতে রয়েছে ২৪টি রুকু।আরাফ আরবি শব্দ। এর অর্থ উঁচু স্থান। আরাফ বলা হয়, জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যে অবস্থিত একটি বিশেষ স্থানকে।

সূরা আরাফের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, আল্লাহ তাআলা এ সূরার চার স্থানে মানবজাতিকে ‘হে আদম সন্তান!’ বলে সম্বোধন করেছেন। এ সূরায় হজরত আদম ও হাওয়া আলাইহিস সালামের ক্ষমা প্রার্থনার ঐতিহাসিক দোয়া তুলে ধরা হয়েছে। মানুষকে পথভ্রষ্ট করতে শয়তানের আল্লাহর কাছ থেকে ক্ষমতা চেয়ে নেয়ার বিষয়টি ওঠে এসেছে এ সূরায়। আল্লাহ তাআলা কুরআন সে কথা তুলে ধরেছেন এভাবে-

সে বলল- আমাকে কেয়ামতের দিন পর্যন্ত অবকাশ দিন। আল্লাহ বললেন- নিশ্চয় তুমি অবকাশপ্রাপ্তদের অন্তর্ভূক্ত। সে বলল- আপনি আমাকে যেমন পথভ্রষ্ট করেছেন, আমিও তাদের জন্যে আপনার সরল পথে বসে থাকবো। এরপর তাদের কাছে আসব তাদের সামনের দিক থেকে, পেছন দিক থেকে, ডান দিক থেকে এবং বাম দিক থেকে। আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না। ‘ (সূরা আরাফ: আয়াত ১৪-১৭)

শয়তান আল্লাহর আল্লাহর হুকুম অমান্য করার পর বেহেশত থেকে বের হতে বাধ্য হয়েছিল। সেই জেদ থেকেই জান্নাতের নেয়ামতের পরিবর্তে মানুষকে পথভ্রষ্ট করার ক্ষমতা লাভ করে শয়তান। সব সময় মানুষকে ঈমান-আমল থেকে দূরে সরিয়ে দিয়ে উলঙ্গ করে দেয়ার চক্রান্তে লিপ্ত। যেভাবে আদি পিতা ও মাতাকে বেহেশতে থেকে উলঙ্গ করে বের করে দিয়েছিল শয়তান। আল্লাহ তাআলা তা উল্লেখ করেন বলেন-

‘হে বনি আদম! শয়তান যেন তোমাদেরকে বিভ্রান্ত না করে; যেমন সে তোমাদের পিতামাতাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছে এমতাবস্থায় যে, তাদের পোশাক তাদের থেকে খুলিয়ে দিয়েছি-যাতে তাদেরকে লজ্জাস্থান দেখিয়ে দেয়। সে এবং তার দলবল তোমাদেরকে দেখে, যেখান থেকে তোমরা তাদেরকে দেখ না। আমি শয়তানদেরকে তাদের বন্ধু করে দিয়েছি, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে না। ‘ (সূরা আরাফ : আয়াত ২৭)

অতঃপর হজরত আদম ও হাওয়া আলাইহিস সালাম আল্লাহর কাছে এভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন-
رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
‘হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা নিজেদের প্রতি জুলম করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করেন, তবে আমরা অবশ্যই অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাব। ‘ (সূরা আরাফ : আয়াত ২৩)

এ সূরায় আসমান জমিন সৃষ্টি ও তার অবস্থানের কথাও সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন এভাবে- 
‘নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতপর আরশের উপর অধিষ্টিত হয়েছেন। তিনি পরিয়ে দেন রাতের উপর দিনকে এমতাবস্থায় যে, দিন দৌড়ে রাতের পিছনে আসে। তিনি সৃষ্টি করেছেন সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্র দৌড় স্বীয় আদেশের অনুগামী। শুনে রেখ, তাঁরই কাজ সৃষ্টি করা এবং আদেশ দান করা। আল্লাহ, বরকতময় যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক। ‘ (সূরা আরাফ : আয়াত ৫৪)

যুগে যুগে আল্লাহর একত্ববাদের দাওয়াত ও ইবাদতের যে দাবি নিয়ে নবি রাসুলদের আগমন ঘটেছিল তার উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা ওঠে এসেছে এ সূরায় আর তাহলো- 

হজরত নুহ আলাইহিস সালামের দাওয়াত: ‘নিশ্চয় আমি নূহকে তার সম্প্রদায়ের প্রতি পাঠিয়েছি। সে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ব্যতিত তোমাদের কোনো উপাস্য নেই। আমি তোমাদের জন্যে একটি মহাদিবসের শাস্তির আশঙ্কা করি। ‘ (সূরা আরাফ : আয়াত ৫৯)

হজরত হুদ আলাইহিস সালামের দাওয়াত: ‘আদ সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করেছি তাদের ভাই হুদকে। সে বলল- আমার সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ব্যতিত তোমাদের কোনো উপাস্য নেই। ‘ (সূরা আরাফ : আয়াত ৬৫)

এ ছাড়াও হজরত মুসা আলাইহিস সালামের ঘটনা বেশি বর্ণিত হয়েছে। মুসা আলাইহিস সালামকে দেয়া মুজিজাগুলো ছিল সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট। বিশেষ করে লাঠি ও শুভ্র হাতের মোজেজা দুটি। এ জাদুকে ফেরাউন ও তার লোকেরা জাদু মনে করত। মুসার মোকাবিলার জন্য জাদুকররা এসেছিল সাপ নিয়ে। মুসা আলাইহিস সালাম-এর হাতের লাঠিটি সাপ হয়ে সেগুলোকে গিলে ফেলে। এতে জাদুকররা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে ঈমান আনে। ফেরাউন ঈমানের ‘অপরাধে’ এদের শূলে চড়ায়।

আল্লাহ তাআলা বলেন – ‘অবশ্যই আমি কেটে দেব তোমাদের হাত ও পা বিপরীত দিক থেকে। তারপর তোমাদের সবাইকে শূলীতে চড়িয়ে মারব। ‘ (সূরা আরাফ : আয়াত ১২৪)

অতঃপর আল্লাহর কাছে মুমিনরা ধৈয্য লাভ ও ঈমানি মৃতু্যর দোয়া করবে এভাবে-
رَبِّنَا لَمَّا جَاءتْنَا رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَتَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ
‘হে আমাদের পরওয়ারদেগার! আমাদের জন্য ধৈর্য্যের দ্বার খুলে দাও এবং আমাদের মুসলমান হিসাবে মৃত্যু দান কর। ‘ (সূরা আরাফ : আয়াত ১২৬)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সবাইকে সূরা আল আরাফ নিয়মিত পাঠ করা ও বোঝার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ

আজকের তারাবিহতে পড়া হবে সবচেয়ে বহুল পঠিত দোয়া। যে দোয়ায় ক্ষমা লাভ করেছিলেন হজরত আদম ও হাওয়া আলাইহিস সালাম। হাফেজে কুরআনগণ ৯ পারা পর্যন্ত তেলাওয়াত শেষ করবেন আজ।

যুগে যুগে নবি রাসুলদের দেয়া সতর্ক বার্তায় ভরপুর আজকের দুই সুরা। শয়তানের ধোকা ও প্রতারণা থেকে হেফাজত থাকার সেরা সতর্ক বার্তা রয়েছে আজকের তারাবিহতে।

সুরা আরাফের ১২ নং আয়াত থেকে (২০৬) শেষ পর্যন্ত এবং সুরা আনফালের শুরু থেকে ৪০নং আয়াত পর্যন্ত তেলাওয়াতে যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ওঠে এসেছে তার কিছু তুলে ধরা হলো-

সুরা আরাফ (১২-২০৬)
সুরা আরাফের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, আল্লাহ তাআলা এ সুরার চার স্থানে মানবজাতিকে ‘হে আদম সন্তান!’ বলে সম্বোধন করেছেন।এ সুরায় হজরত আদম ও হাওয়া আলাইহিস সালামের ক্ষমা প্রার্থনার ঐতিহাসিক দোয়া তুলে ধরা হয়েছে।

মানুষকে পথভ্রষ্ট করতে শয়তানের আল্লাহর কাছ থেকে ক্ষমতা চেয়ে নেয়ার বিষয়টি ওঠে এসেছে এ সুরায়। আল্লাহ তাআলা কুরআন সে কথা তুলে ধরেছেন এভাবে-
সে বলল- আমাকে কেয়ামতের দিন পর্যন্ত অবকাশ দিন। আল্লাহ বললেন- নিশ্চয় তুমি অবকাশপ্রাপ্তদের অন্তর্ভূক্ত। সে বলল- আপনি আমাকে যেমন পথভ্রষ্ট করেছেন, আমিও তাদের জন্যে আপনার সরল পথে বসে থাকবো। এরপর তাদের কাছে আসব তাদের সামনের দিক থেকে, পেছন দিক থেকে, ডান দিক থেকে এবং বাম দিক থেকে। আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না।’ (সুরা আরাফ: আয়াত ১৪-১৭)

শয়তান আল্লাহর আল্লাহর হুকুম অমান্য করার পর বেহেশত থেকে বের হতে বাধ্য হয়েছিল। সেই জেদ থেকেই জান্নাতের নেয়ামতের পরিবর্তে মানুষকে পথভ্রষ্ট করার ক্ষমতা লাভ করে শয়তান। সব সময় মানুষকে ঈমান-আমল থেকে দূরে সরিয়ে দিয়ে উলঙ্গ করে দেয়ার চক্রান্তে লিপ্ত। যেভাবে আদি পিতা ও মাতাকে বেহেশতে থেকে উলঙ্গ করে বের করে দিয়েছিল শয়তান। আল্লাহ তাআলা তা উল্লেখ করেন বলেন-
‘হে বনি আদম! শয়তান যেন তোমাদেরকে বিভ্রান্ত না করে; যেমন সে তোমাদের পিতামাতাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছে এমতাবস্থায় যে, তাদের পোশাক তাদের থেকে খুলিয়ে দিয়েছি-যাতে তাদেরকে লজ্জাস্থান দেখিয়ে দেয়। সে এবং তার দলবল তোমাদেরকে দেখে, যেখান থেকে তোমরা তাদেরকে দেখ না। আমি শয়তানদেরকে তাদের বন্ধু করে দিয়েছি, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে না।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ২৭)

– অতপর হজরত আদম ও হাওয়া আলাইহিস সালাম আল্লাহর কাছে এভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন-
رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
‘হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা নিজেদের প্রতি জুলম করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করেন, তবে আমরা অবশ্যই অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাব।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ২৩)

– উত্তম পোশাক পরে নামাজ আদায়ের নির্দেশ হয়েছে কুরআনে। কেননা নামাজ মুমিনের মেরাজ। সে কারণে আল্লাহ তাআলা নামাজে উত্তম পোশাক পরে নামাজ আদায়ের নির্দেশ দিয়ে বলেন-
‘হে বনি আদম! তোমরা প্রত্যেক নামাজের সময় সাজসজ্জা পরিধান করে নাও, খাও ও পান কর এবং অপব্যয় করো না। তিনি অপব্যয়ীদেরকে পছন্দ করেন না।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ৩১)

– জান্নাতের অধিবাসীরা দুনিয়ার সব ঘোষণার সত্যতা পাবে পরকালে। সে ঘটনার বর্ণনা এবং জাহান্নামিদের সঙ্গী হওয়া থেকে বিরত থাকতে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবে। সে ঘটনা ও দোয়া এভাবে তুলে ধরা হয়েছে-
‘জান্নাতিরা দোযখের অধিবাসীদেরকে ডেকে বলবে, আমাদের সাথে আমাদের প্রতিপালক যে ওয়াদা করেছিলেন, তা আমরা সত্য পেয়েছি? অতএব, তোমরাও কি তোমাদের প্রতিপালকের ওয়াদা সত্য পেয়েছ? তারা বলবে, হ্যাঁ। অতপর একজন ঘোষক উভয়ের মাঝখানে ঘোষণা করবে- আল্লাহর অভিশাপ জালেমদের উপর।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ৪৪)

জান্নাতিরা দোয়া করবে এভাবে। যেভাবে আমাদের দোয়া করা উচিত। আর তাহলো-
رَبَّنَا لاَ تَجْعَلْنَا مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এ জালেমদের সাথী করো না।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ৪৭)

– এ সুরায় আসমান জমিন সৃষ্টি ও তার অবস্থানের কথাও সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন এভাবে-
‘নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতপর আরশের উপর অধিষ্টিত হয়েছেন। তিনি পরিয়ে দেন রাতের উপর দিনকে এমতাবস্থায় যে, দিন দৌড়ে রাতের পিছনে আসে। তিনি সৃষ্টি করেছেন সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্র দৌড় স্বীয় আদেশের অনুগামী। শুনে রেখ, তাঁরই কাজ সৃষ্টি করা এবং আদেশ দান করা। আল্লাহ, বরকতময় যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ৫৪)

– আল্লাহ মৃত জমিনকে যেভাবে বৃষ্টি দিয়ে সজিব করে মানুষের জীবিকার ব্যবস্থা করেন, তার ঘোষণা দিয়ে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন-
‘তিনিই বৃষ্টির আগে সুসংবাদবাহী বায়ু পাঠিয়ে দেন। এমনকি যখন বায়ুরাশি পানিপূর্ন মেঘমালা বয়ে আনে, তখন আমি এ মেঘমালাকে একটি মৃত শহরের দিকে হাঁকিয়ে দেই। অতপর এ মেঘ থেকে বৃষ্টি ধারা বর্ষণ করি। অতপর পানি দ্বারা সব রকমের ফল উৎপন্ন করি। এমনি ভাবে মৃতদেরকে বের করব যাতে তোমরা চিন্তা কর। যে শহর উৎকৃষ্ট, তার ফসল তার প্রতিপালকের নির্দেশে উৎপন্ন হয় এবং যা নিকৃষ্ট তাতে অল্পই ফসল উৎপন্ন হয় এমনিভাবে আমি আয়াতসমূহ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বর্ণনা করি কৃতজ্ঞ সম্প্রদায়ের জন্যে।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ৫৭-৫৮)

– যুগে যুগে আল্লাহর একত্ববাদের দাওয়াত ও ইবাদতের যে দাবি নিয়ে নবি রাসুলদের আগমন ঘটেছিল তার উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা ওঠে এসেছে এ সুরায় আর তাহলো-

– হজরত নুহ আলাইহিস সালামের দাওয়াত
‘নিশ্চয় আমি নূহকে তার সম্প্রদায়ের প্রতি পাঠিয়েছি। সে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ব্যতিত তোমাদের কোনো উপাস্য নেই। আমি তোমাদের জন্যে একটি মহাদিবসের শাস্তির আশঙ্কা করি।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ৫৯)

– হজরত হুদ আলাইহিস সালামের দাওয়াত
‘আদ সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করেছি তাদের ভাই হুদকে। সে বলল- আমার সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ব্যতিত তোমাদের কোনো উপাস্য নেই।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ৬৫)

– হজরত সালেহ আলাইহিস সালামের দাওয়াত
‘সামুদ সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করেছি তাদের ভাই সালেহকে। সে বলল- হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ব্যতিত তোমাদের কোনো উপাস্য নেই। তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে একটি প্রমাণ এসে গেছে। এটি আল্লাহর উষ্ট্রী তোমাদের জন্যে প্রমাণ। অতএব একে ছেড়ে দাও, আল্লাহর ভুমিতে চড়ে বেড়াবে। একে অসৎভাবে স্পর্শ করবে না। অন্যথায় তোমাদেরকে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি পাকড়াও করবে।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ৭৩)

– হজরত লুত আলাইহিস সালামের সতর্কতা
‘আর আমি লুতকে প্রেরণ করেছি। যখন সে স্বীয় সম্প্রদায়কে বলল- তোমরা কি এমন অশ্লীল কাজ করছ, যা তোমাদের আড়ে সারা বিশ্বের কেউ করেনি? তোমরা তো কামবশতঃ পুরুষদের কাছে গমন কর নারীদেরকে ছেড়ে। বরং তোমরা সীমা অতিক্রম করেছ।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ৮০-৮১)

– হজরত শোয়ায়েব আলাইহিস সালামের দাওয়াত
‘আমি মাদইয়ানের প্রতি তাদের ভাই শোয়ায়েবকে প্রেরণ করেছি। সে বলল- হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ব্যতিত তোমাদের কোনো উপাস্য নেই। তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রমাণ এসে গেছে। অতএব তোমরা মাপ ও ওজন পূর্ন কর এবং মানুষকে তাদের দ্রব্যাদি কম দিয়ো না এবং ভুপৃষ্টের সংস্কার সাধন করার পর তাতে অনর্থ সৃষ্টি করো না। এই হল তোমাদের জন্যে কল্যাণকর, যদি তোমরা বিশ্বাসী হও।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ৮৫)

– আল্লাহকে ভয় করলে তার নেয়ামত দান করার বিষয়টিও ওঠে এসেছে এ সুরায়। আল্লাহ বলেন-
‘আর যদি সে জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং পরহেযগারী অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের প্রতি আসমানী ও পার্থিব নেয়ামত সমূহ উম্মুক্ত করে দিতাম। কিন্তু তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে। সুতরাং আমি তাদেরকে পাকড়াও করেছি তাদের কৃতকর্মের বদলাতে। (সুরা আরাফ : আয়াত ৯৬)

– এ ছাড়াও হজরত মুসা আলাইহিস সালামের ঘটনা বেশি বর্ণিত হয়েছে। মুসা আলাইহিস সালামকে দেয়া মুজিজাগুলো ছিল সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট। বিশেষ করে লাঠি ও শুভ্র হাতের মোজেজা দুটি। এ জাদুকে ফেরাউন ও তার লোকেরা জাদু মনে করত। মুসার মোকাবিলার জন্য জাদুকররা এসেছিল সাপ নিয়ে। মুসা আলাইহিস সালাম-এর হাতের লাঠিটি সাপ হয়ে সেগুলোকে গিলে ফেলে। এতে জাদুকররা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে ঈমান আনে। ফেরাউন ঈমানের ‘অপরাধে’ এদের শূলে চড়ায়। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘অবশ্যই আমি কেটে দেব তোমাদের হাত ও পা বিপরীত দিক থেকে। তারপর তোমাদের সবাইকে শূলীতে চড়িয়ে মারব।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ১২৪)

– অতপর আল্লাহর কাছে মুমিনরা ধৈয্য লাভ ও ঈমানি মৃতু্যর দোয়া করবে এভাবে-
رَبِّنَا لَمَّا جَاءتْنَا رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَتَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ
‘হে আমাদের পরওয়ারদেগার! আমাদের জন্য ধৈর্য্যের দ্বার খুলে দাও এবং আমাদের মুসলমান হিসাবে মৃত্যু দান কর।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ১২৬)

– মুসা আলাইহিস সালামের দাওয়াতের প্রত্যুত্তরে ফেরাউন ও তার জাতি অহংকারের পথ বেছে নিয়েছিল। এক পর্যায়ে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে শাস্তিতে নিপতিত করেন। তুফান, দুর্ভিক্ষ, ফল-ফসলে ঘাটতি, পঙ্গপাল, উকুন ও ব্যঙ্গের উপদ্রব এবং যাবতীয় পানিকে রক্তে পরিণত করে আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দেন। আজাব দেখলে এরা তওবা করত; কিন্তু আবার হঠকারী হয়ে যেত। আল্লাহ বলেন-
সুতরাং আমি তাদের উপর পাঠিয়ে দিলাম তুফান, পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ ও রক্ত প্রভৃতি বহুবিধ নিদর্শন একের পর এক। তারপরেও তারা গর্ব করতে থাকল। বস্তুতঃ তারা ছিল অপরাধপ্রবণ। (সুরা আরাফ : আয়াত ১৩৩)

বনি ইসরাইল ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আল্লাহ তাআলা মুসা আলাইহিস সালামের ওপর তাওরাত কিতাব নাজিল করেন। কিন্তু নবি মুসা তাওরাত আনতে তুর পাহাড়ে গেলে সামেরি এদের গো-পূজায় লিপ্ত করে। তাছাড়া তাদের শনিবারে মাছ ধরা নিষেধ থাকলেও তারা হিলা বাহানা করে মাছ ধরত। এ কারণেও তারা শাস্তি পেয়েছিল।

এ ছাড়া মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহকে দেখার যে আবেদন করেছিলেন সে আবেদন ও আল্লাহর দিদারের কথাও পড়া হবে আজ। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘তারপর মুসা যখন আমার প্রতিশ্রুত সময় অনুযায়ী এসে হাজির হলেন এবং তাঁর সাথে তার পরওয়ারদেগার কথা বললেন, তখন তিনি বললেন, হে আমার প্রভু! তোমার দিদার (দেখা) আমাকে দাও, যেন আমি তোমাকে দেখতে পাই। তিনি বললেন, তুমি আমাকে কস্মিনকালেও দেখতে পাবে না, তবে তুমি পাহাড়ের দিকে দেখতে থাক, সেটি যদি স্বস্থানে দঁড়িয়ে থাকে তবে তুমিও আমাকে দেখতে পাবে। তারপর যখন তার পরওয়ারদগার পাহাড়ের উপর আপন জ্যোতির বিকিরণ ঘটালেন, সেটিকে বিধ্বস্ত করে দিলেন এবং মূসা অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন। অতপর যখন তাঁর জ্ঞান ফিরে এল; বললেন, হে প্রভু! তোমার সত্তা পবিত্র, তোমার দরবারে আমি তওবা করছি এবং আমিই সর্বপ্রথম বিশ্বাস স্থাপন করছি।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ১৪৩)

– হজরত মুসা আলাইহিস সালাম নিজের জন্য তার ভাইয়ের জন্য রহমত ও দোয়া কামনা-
رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلأَخِي وَأَدْخِلْنَا فِي رَحْمَتِكَ وَأَنتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ
হে আমার পরওয়ারদেগার, ক্ষমা কর আমাকে আর আমার ভাইকে এবং আমাদেরকে তোমার রহমতের অন্তর্ভুক্ত কর। তুমি যে সর্বাধিক করুণাময়। (সুরা আরাফ : আয়াত ১৫১)

– আল্লাহ সবচেয়ে উত্তম রক্ষাকারী ও গোনাহ মাগফকারী
أَنتَ وَلِيُّنَا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الْغَافِرِينَ
‘তুমি যে আমাদের রক্ষক-সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা করে দাও এবং আমাদের উপর করুনা কর। তাছাড়া তুমিই তো সর্বাধিক ক্ষমাকারী।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ১৫৫)

– কুরআন তেলাওয়াত শোনায়ও রয়েছে আল্লাহর রহমত। তিনি বলেন-
‘আর যখন কোরআন পাঠ করা হয়, তখন তাতে কান লাগিয়ে রাখ এবং নিশ্চুপ থাক যাতে তোমাদের উপর রহমত হয়।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ২০৪)

সুরা আনফাল (১-৪০)
সুরা আনফাল মদিনায় নাজিল হয়েছে। এ সুরাটির রুকু সংখ্যা ১০ এবং আয়াত সংখ্যা ৭৫। এ সুরাটিতে ঐতিহাসিক যুদ্ধের ঘটনাবলীর পর্যালোচনা করা হয়েছে। সুরাটি দ্বিতীয় হিজরির বদর যুদ্ধের পর নাজিল হয়েছে। ইসলাম ও কুফরের মধ্যে সংঘটিত এ প্রথম যুদ্ধের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

প্রথম আয়াতে গনিমতের সম্পদ বণ্টননীতি প্রসঙ্গে আলোকপাত করা হয়েছে। তারপর আল্লাহ তাআলা মুমিনদের গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্য আলোচনা করেছেন এবং আল্লাহ তাআলা বদরের যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরামকে যে সাহায্য করেছেন, তার বিবরণ উল্লেখ করেছেন। যা ছিল ইসলামের ইতিহাসের প্রথম জিহাদ ও বিজয়। যে জিহাদে আল্লাহ তাআলা মুসলমানগণকে বিজয় দান করেছিলেন।

আল্লাহ তআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআন বুঝে পড়ার এবং তাঁর ওপর আমল করার পাশাপাশি নিজেদের আকিদা-বিশ্বাসকে শিরকমুক্ত রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ

সূরা আল আরাফ একটি মক্কি সূরা। এটি পবিত্র কোরআনের ৭ নম্বর সূরা।এই সূরার মোট আয়াত সংখ্যা ২০৬টি। এতে রয়েছে ২৪টি রুকু। আরাফ আরবি শব্দ। অর্থ উঁচু স্থান। আরাফ বলা হয়, জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যে অবস্থিত একটি বিশেষ স্থানকে।

এ সূরায় আরাফ সম্পর্কিত বেশকিছু ঘটনার বর্ণনা রয়েছে বলেই এই নামকরণ করা হয়েছে- আরাফ।

ধর্মীয় নানা বিশ্বাসগত বিষয় ছাড়াও এই সূরার কয়েকটি মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে- প্রথম মানব হজরত আদমকে (আ.) সৃষ্টির ব্যাখ্যা, মানুষের প্রতি হুঁশিয়ারি,  মানুষকে সুপথ দেখানোর ক্ষেত্রে তাদের কাছ থেকে নেয়া মহান আল্লাহতায়ালার অঙ্গীকার, তাওহিদ বা একত্ববাদ ও সুপথ থেকে বিচ্যুত নানা জাতির পরিণতি, প্রকৃত মুমিনদের বিজয়, অতীতের কয়েকটি জাতির ও কয়েকজন নবীর (আ.) ঘটনা।

সূরা আরাফে সাংস্কৃতিক, চারিত্রিক ও নৈতিক নানা বিষয়ে শিক্ষাদান করা হয়েছে। যেমন, কোরআনে কারিম ঐশী বা খোদায়ি গ্রন্থ, এর অনুসরণ করার অপরিহার্যতা, মিজান কী, হজরত আদম (আ.)-এর ঘটনা ও এর নৈতিক পরিণতি, মানবজাতির জন্য উপদেশ এবং কিয়ামত সংঘটনে ক্ষণকালও দেরি না হওয়া বা নির্ধারিত সময়ের এক মুহূর্ত আগেও তা না ঘটা- ইত্যাদি।

সূরা আরাফের গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় হিসেবে অপচয়কে নিষিদ্ধ ঘোষণা, আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাস স্থাপনকারী কাফেরদের অন্তিম অবস্থা, আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে অর্পিত দায়িত্ব সাধ্যের বেশি না হওয়া, জান্নাতবাসীদের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন, আরাফের বর্ণনা, জাহান্নামীদের কামনা ও প্রার্থনার আদেশও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

এ ছাড়া এ সূরায় হজরত নুহ (আ.)-এর ঘটনা ও তার শিক্ষণীয় দিক, হজরত হুদ (আ.)-এর ঘটনা ও তার ফলাফল, হজরত সালেহ (আ.)-এর ঘটনা ও তার উদ্দেশ্য, হজরত লুত (আ.)-এর ঘটনা, পুরুষ সমকামিতার নিন্দা, হজরত শোয়াইব (আ.)-এর ঘটনা, পরিমাপে কম দেওয়ার নিন্দা, দস্যুবৃত্তির অবৈধতা, হজরত মুসা (আ.)-এর ঘটনা ও তার চারিত্রিক ফল, হজরত হারুন (আ.)-এর খিলাফত, চাক্ষুষভাবে আল্লাহতায়ালাকে দেখা অসম্ভব হওয়া, আল্লাহতায়ালার কথপোকথন এবং সামেরির গো-বৎস তৈরির ঘটনাও এই সূরার অন্যতম প্রধান বিষয়বস্তু।

সূরা আরাফে শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রশংসা, বিচ্যুত বনি ইসরাইলি আলেম বালাম বাউরার ঘটনা, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে কিয়ামত সংঘটনের বিষয়ে সঠিক জ্ঞান না থাকার ঘোষণা, মানব সমাজের প্রকৃতি, আরবের মুশরিকদের অবস্থা ও জামাতে নামাজ আদায়ের নির্দেশও এই সূরার অতি প্রয়োজনীয় ও জরুরি কিছু আলোচ্য বিষয়।

যেমন, সূরা আরাফের দ্বিতীয় আয়াতে মহান আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘এটি একটি গ্রন্থ, যা আপনার ওপর নাজিল হয়েছে, যাতে করে আপনি এর মাধ্যমে ভয় দেখান। তাই এটি পৌঁছে দিতে আপনার মনে কোনোরূপ দুঃখ থাকা উচিত নয়। আর এটিই বিশ্বাসীদের জন্যে উপদেশ বা সতর্কবাণী। ’

এই আয়াতে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি সান্ত্বনা দিয়ে মহান আল্লাহ বলছেন, কোরআনের আয়াত আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিল হয়েছে বলে তা প্রচারের ব্যাপারে আপনার মনে কোনো ভয় বা আশঙ্কা থাকা উচিত নয়। রেসালাতের কঠিন দায়িত্ব পালনের ব্যাপারেও আপনি উদ্বিগ্ন হবেন না।

কোরআনের বাস্তবতা বা সত্যগুলোর ব্যাপারে শত্রুদের দুর্বিনীত আচরণ ও কঠোর প্রতিক্রিয়ার ব্যাপারেও আপনার কোনো ভয় থাকা উচিত নয়।

সূরা আরাফের ১১ থেকে ২৭ নম্বর আয়াতে হজরত আদম (আ.) সৃষ্টির ঘটনা এবং প্রতিনিধিত্বের সম্মান দেওয়ার কারণে তাকে সিজদা করতে ফেরেশতাদের প্রতি নির্দেশ দান ও  এ ব্যাপারে শয়তানের বিদ্রোহের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। এর পর ১২ ও ১৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ বললেন, আমি যখন নির্দেশ দিয়েছি, তখন তোকে কিসে সিজদা করতে বারণ করল? সে বলল, আমি তার চাইতে শ্রেষ্ঠ। আপনি আমাকে আগুন দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি দিয়ে। ’ আল্লাহ বললেন, তুই এখান থেকে যা। এখানে অহংকার করার কোনো অধিকার তোর নাই। অতএব তুই বের হয়ে যা। তুই হীনতমদের অন্তর্ভুক্ত। ’

আসলে শয়তান একটি উপাদানকে অন্য উপাদানের সঙ্গে তুলনা করে ভুল করেছিল। তার ভুলের কারণ হলো এটা যে, সে বস্তুগত দিককে লক্ষ্য করলেও অন্য দিকগুলোকে সামান্যতমও গ্রাহ্য করেনি। অথচ সবকিছুর আগে তার উচিত ছিল মহান আল্লাহর হেকমত বা প্রজ্ঞা ও জ্ঞানের বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করা এবং মানুষের সৃষ্টির অবস্তুগত ও ঐশী দিকটিকে গ্রাহ্য করা। কারণ, স্বয়ং আল্লাহ বলেছিলেন, ‘আমি নিজ রুহ হতে তার সত্তায় ফুঁকে দিয়েছি। ’ অর্থাৎ মানুষকে ঐশী গুণাবলী অর্জনের উপযোগিতা দান করেছি যার ফলে সে ঐশী বা খোদায়ী নামগুলোর রহস্য সম্পর্কে অবহিত হয়েছে। এটাও দেখা উচিত ছিল যে, স্বয়ং মহান আল্লাহ বলেছিলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে প্রতিনিধি নিযুক্ত করবো। ’ তাই আল্লাহ যাকে ঐশী গুণাবলী অর্জনের বৈশিষ্ট্য দিয়ে সৃষ্টি করেছেন এবং নিজ প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত করেছেন তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ অন্য কে হতে পারে? আসলে শয়তান যদি এ বিষয়গুলো সামনে রেখে চিন্তা করতো তবে সে এমন বড় ভুল করতো না এবং উচ্চ অবস্থান হারিয়ে চিরদিনের জন্য বিতাড়িত হত না।

শয়তান তার ভুলের জন্য ক্ষমাও চায়নি, বরং ভুল বা অন্যায় জিদের ওপর অটল রয়েছে এবং মানুষের বিরুদ্ধে তার হিংসার  আগুন চির-জাগ্রত করে রেখেছে। সে আল্লাহর কাছে কিয়ামত পর্যন্ত অবকাশ চেয়েছে এবং আল্লাহও তাকে সেই সুযোগ দিয়েছেন। মানুষকে বিভ্রান্ত করার শপথ নিয়েছে সে। মানুষকে কুমন্ত্রণা দেয়ার ক্ষমতাও দেয়া হয়েছে তাকে। অবশ্য আল্লাহ শয়তানের হাত থেকে রক্ষার ও সৌভাগ্য লাভের সরঞ্জাম হিসেবে মানুষকে দিয়েছেন পবিত্র প্রকৃতি, বিবেক-বুদ্ধি ও প্রজ্ঞা। এ ছাড়াও মহান আল্লাহ মানুষকে সুপথ দেখানোর জন্য পাঠিয়েছেন নবী-রাসূল।   

শয়তান বস্তুগত বিষয়েও ভুল করেছে। কারণ, কয়েকটি দিক থেকে মাটি আগুনের চেয়ে শ্রেয়। কোনো জিনিস আগুনে পড়লে তা ছাই হয়ে যায়। তাই আগুন হচ্ছে অবিশ্বস্ত, আত্মসাৎকারী ও বিদ্রোহী। অথচ মাটি তেমন নয়, বরং বিনম্র। মাটি চিত্রিত হয়, কিন্তু আগুন বিকৃত করে দেয়, মাটি উদ্ভাবক আর আগুন বিধ্বংসী। তাই এটা স্পষ্ট যে, শয়তান সব দিক থেকেই ভুল করেছে। শয়তানই সর্বপ্রথম দুনিয়ায় খোদাদ্রোহিতা, ঝগড়া-বিবাদ ও কিয়াসের তথা সদৃশ অনুমানের ভিত্তিতে তুলনা করার প্রথা চালু করেছে। সেই শয়তান মানুষের চিরশত্রু। এটা মনে করে জীবন পরিচালনার শিক্ষা নিতে বলা হয়েছে।

এ সূরায় নবীর প্রতি ঈমান আনার পর তার সঙ্গে মুনাফিকী নীতি অবলম্বন করার ক্ষতি, নবীর প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করার পরিণাম, সত্য-মিথ্যার পার্থক্য সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পরও মিথ্যার প্রতি সাহায্য-সহযোগিতা প্রদান ও সমর্থন প্রদানের পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। এক কথায় মানবজীবনের ঘণিষ্ঠ বেশ কিছু বিষয় সম্পর্কে আলোচান ও বিধান স্থান পেয়েছে এ সূরায়।

আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ

সুরা নং-০০৭ : আল-আরাফ

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

আরবি উচ্চারণ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

বাংলা অনুবাদ পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)।

المص(7.1)

আরবি উচ্চারণ ৭.১। আলিফ্ লা-ম্ মী-ছোয়া-দ্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১ আলিফ-লাম-মীম-সাদ।

كِتَابٌ أُنْزِلَ إِلَيْكَ فَلَا يَكُنْ فِي صَدْرِكَ حَرَجٌ مِنْهُ لِتُنْذِرَ بِهِ وَذِكْرَى لِلْمُؤْمِنِينَ(7.2)

আরবি উচ্চারণ ৭.২। কিতা-বুন্ উন্যিলা ইলাইকা ফালা-ইয়াকুন্ ফী ছোয়াদ্রিকা হারাজুম্ মিন্হু লিতুন্যিরা বিহী অযিক্রা-লিল্মু”মিনীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.২ এটি কিতাব, যা তোমার প্রতি নাযিল করা হয়েছে। সুতরাং তার সম্পর্কে তোমার মনে যেন কোন সংকীর্ণতা না থাকে। যাতে তুমি তার মাধ্যমে সতর্ক করতে পার এবং তা মুমিনদের জন্য উপদেশ।

اتَّبِعُوا مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ وَلَا تَتَّبِعُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ قَلِيلًا مَا تَذَكَّرُونَ(7.3)

আরবি উচ্চারণ ৭.৩। ইত্তাবি‘ঊ মা য় উন্যিলা ইলাইকুম্ র্মি রব্বিকুম্ অলা-তাত্তাবি‘উ মিন্ দূনিহী য় আওলিয়া – আ; ক্বালীলাম্ মা-তাযাক্কারূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৩ তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে, তা অনুসরণ কর এবং তাকে ছাড়া অন্য অভিভাবকের অনুসরণ করো না। তোমরা সামান্যই উপদেশ গ্রহণ কর।

وَكَمْ مِنْ قَرْيَةٍ أَهْلَكْنَاهَا فَجَاءَهَا بَأْسُنَا بَيَاتًا أَوْ هُمْ قَائِلُونَ(47.)

আরবি উচ্চারণ ৭.৪। অকাম্ মিন্ র্ক্বাইয়াতিন্ আহ্লাক্না-হা-ফাজ্বা – য়াহা-বা’সুনা-বাইয়া-তান্ আও হুম্ ক্বা – য়িলূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৪ আর এমন বহু জনবসতি রয়েছে, যা আমি ধ্বংস করে দিয়েছি। বস্তুত সেখানে আমার আযাব এসেছে রাতে, কিংবা যখন তারা দ্বিপ্রহরে বিশ্রামরত ছিল।

فَمَا كَانَ دَعْوَاهُمْ إِذْ جَاءَهُمْ بَأْسُنَا إِلَّا أَنْ قَالُوا إِنَّا كُنَّا ظَالِمِينَ (7.5)

আরবি উচ্চারণ ৭.৫। ফামা-কা-না দা’ওয়া-হুম্ ইয্ জ্বা – য়াহুম্ বা’সুনা য় ইল্লা য় আন্ ক্বা-লূ য় ইন্না-কুন্না-জোয়া-লিমীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৫ সুতরাং যখন তাদের নিকট আমার আযাব এসেছে, তখন তাদের দাবী কেবল এই ছিল যে, তারা বলল, ‘নিশ্চয় আমরা যালিম ছিলাম’।

فَلَنَسْأَلَنَّ الَّذِينَ أُرْسِلَ إِلَيْهِمْ وَلَنَسْأَلَنَّ الْمُرْسَلِينَ(7.6)

আরবি উচ্চারণ ৭.৬। ফালানাস্য়ালান্নাল্লাযীনা র্উসিলা ইলাইহিম্ অলানাস্য়ালান্নাল্ র্মুসালীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৬ সুতরাং আমি অবশ্যই তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করব যাদের নিকট রাসূল প্রেরিত হয়েছিল এবং অবশ্যই আমি প্রেরিতদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করব।

فَلَنَقُصَّنَّ عَلَيْهِمْ بِعِلْمٍ وَمَا كُنَّا غَائِبِينَ(7.7)

আরবি উচ্চারণ ৭.৭। ফালানাকুছ্ছোয়ান্না ‘আলাইহিম্ বি‘ইল্মিওঁ অমা-কুন্না-গা – য়িবীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৭ অতঃপর অবশ্যই আমি তাদের নিকট জেনে- শুনে বর্ণনা করব। আর আমি তো অনুপস্থিত ছিলাম না।

وَالْوَزْنُ يَوْمَئِذٍ الْحَقُّ فَمَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ(7.8)

আরবি উচ্চারণ ৭.৮। অল্অয্নু ইয়াওমায়িযিনিল্ হাক্ব কু ফামান্ ছাকুলাত্ মাওয়া-যীনুহূ ফাউলা – য়িকা হুমুল্ মুফ্লিহূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৮ আর সেদিন পরিমাপ হবে যথাযথ। সুতরাং যাদের পাল্লা ভারি হবে তারাই হবে সফলকাম।

وَمَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَئِكَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنْفُسَهُمْ بِمَا كَانُوا بِآيَاتِنَا يَظْلِمُونَ(7.9)

আরবি উচ্চারণ ৭.৯। অমান্ খাফ্ফাত্ মাওয়া-যীনুহু ফাউলা – য়িকাল্লাযীনা খাসিরূ য় আন্ফুসাহুম্ বিমা-কা-নূ-বিআ-ইয়া-তিনা-ইয়াজ্লিমূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৯ আর যাদের পাল্লা হালকা হবে, তারাই হবে সেই সব লোক, যারা নিজদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কারণ তারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি (অস্বীকার করার মাধ্যমে) যুল্ম করত। وَلَقَدْ مَكَّنَّاكُمْ فِي الْأَرْضِ وَجَعَلْنَا لَكُمْ فِيهَا مَعَايِشَ قَلِيلًا مَا تَشْكُرُونَ(10. 7)

আরবি উচ্চারণ ৭.১০। অলাক্বাদ্ মাক্কান্না-কুম্ ফিল্ র্আদ্বি অজ্বা‘আল্না-লাকুম্ ফীহা-মা‘আ-য়িশ্; ক্বালীলাম্ মা-তাশ্কুরূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১০ আর আমি তো তোমাদেরকে যমীনে আবাসনের ব্যবস্থা করে দিয়েছি এবং তোমাদের জন্য তাতে রেখেছি জীবনোপকরণ। তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞ হও।

وَلَقَدْ خَلَقْنَاكُمْ ثُمَّ صَوَّرْنَاكُمْ ثُمَّ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا ثُمَّ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ لَمْ يَكُنْ مِنَ السَّاجِدِينَ(7.11)

আরবি উচ্চারণ ৭.১১। অলাক্বাদ্ খালাকনা-কুম্ ছুম্মা ছোয়াওর্য়্যানা-কুম্ ছুম্মা কুল্না-লিল্মালা – য়িকাতিস্ জুদূ লিআ-দামা ফাসাজ্বাদূ য় ইল্লা য় ইব্লীস্; লাম্ ইয়াকুম্ মিনাস্ সা-জ্বিদীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১১ আর অবশ্যই আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি। তারপর তোমাদের আকৃতি দিয়েছি। তারপর ফেরেশতাদেরকে বলেছি, ‘তোমরা আদমকে সিজদা কর’। অতঃপর তারা সিজদা করেছে, ইবলীস ছাড়া। সে সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

قَالَ مَا مَنَعَكَ أَلَّا تَسْجُدَ إِذْ أَمَرْتُكَ قَالَ أَنَا خَيْرٌ مِنْهُ خَلَقْتَنِي مِنْ نَارٍ وَخَلَقْتَهُ مِنْ طِينٍ(7.12)

আরবি উচ্চারণ ৭.১২। ক্বা-লা মা-মানা‘আকা আল্লা-তাস্জুদা ইয্ আর্মাতুক্; ক্বা-লা আনা-খাইরুম্ মিন্হু খালাক্বতানী মিন্ না-রিওঁ অখলাকতাহূ মিন্ ত্বীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১২ তিনি বললেন, ‘কিসে তোমাকে বাধা দিয়েছে যে, সিজদা করছ না, যখন আমি তোমাকে নির্দেশ দিয়েছি’? সে বলল, ‘আমি তার চেয়ে উত্তম। আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন, আর তাকে সৃষ্টি করেছেন কাদামাটি থেকে’।

قَالَ فَاهْبِطْ مِنْهَا فَمَا يَكُونُ لَكَ أَنْ تَتَكَبَّرَ فِيهَا فَاخْرُجْ إِنَّكَ مِنَ الصَّاغِرِينَ(7.13)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৩। ক্বা-লা ফাহ্বিত্ব মিন্হা-ফামা-ইয়াকূনু লাকা আন্ তাতাকাব্বারা ফীহা-ফাখ্রুজ ইন্নাকা মিনাছ্ ছোয়া-গিরীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৩ তিনি বললেন, ‘সুতরাং তুমি এখান থেকে নেমে যাও। তোমার এ অধিকার নেই যে, এখানে তুমি অহঙ্কার করবে। সুতরাং বের হও। নিশ্চয় তুমি লাঞ্ছিতদের অন্তর্ভুক্ত’।

قَالَ أَنْظِرْنِي إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ(7.14)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৪। ক্বা-লা আর্ন্জিনী য় ইলা-ইয়াওমি ইয়ুব্‘আছূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৪ সে বলল, ‘সেদিন পর্যন্ত আমাকে অবকাশ দিন, যেদিন তাদেরকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে’।

قَالَ إِنَّكَ مِنَ الْمُنْظَرِينَ(7.15)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৫। ক্বা-লা ইন্নাকা মিনাল্ মুন্জোয়ারীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৫ তিনি বললেন, ‘নিশ্চয় তুমি অবকাশপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত’।

قَالَ فَبِمَا أَغْوَيْتَنِي لَأَقْعُدَنَّ لَهُمْ صِرَاطَكَ الْمُسْتَقِيمَ (7.16)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৬। ক্বা-লা ফাবিমা য় আগ্ওয়াইতানী লাআক‘উদান্না লাহুম্ ছিরা-ত্বোয়াকাল্ মুস্তাক্বীম্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৬ সে বলল, ‘আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, সে কারণে অবশ্যই আমি তাদের জন্য আপনার সোজা পথে বসে থাকব।

ثُمَّ لَآتِيَنَّهُمْ مِنْ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ وَعَنْ أَيْمَانِهِمْ وَعَنْ شَمَائِلِهِمْ وَلَا تَجِدُ أَكْثَرَهُمْ شَاكِرِينَ(7.17)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৭। ছুম্মা লাআ-তিয়ান্নাহুম্ মিম্ বাইনি আইদীহিম্ অমিন্ খাল্ফিহিম্ অ‘আন্ আইমা-নিহিম্ অ আন্ শামা – য়িলিহিম্; অলা-তাজ্বিদু আক্ছারাহুম্ শা-কিরীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৭ ‘তারপর অবশ্যই তাদের নিকট উপস্থিত হব, তাদের সামনে থেকে ও তাদের পেছন থেকে এবং তাদের ডান দিক থেকে ও তাদের বাম দিক থেকে। আর আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না’।

قَالَ اخْرُجْ مِنْهَا مَذْءُومًا مَدْحُورًا لَمَنْ تَبِعَكَ مِنْهُمْ لَأَمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنْكُمْ أَجْمَعِينَ(18. 7)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৮। ক্বা-লাখ্ রুজ মিন্হা- মায্ঊমাম্ মাদ্হূরা-; লামান্ তাবি‘আকা মিন্হুম্ লাআম্লায়ান্না জ্বাহান্নামা মিন্কুম্ আজমা‘ঈন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৮ তিনি বললেন, ‘তুমি এখান থেকে বের হও লাঞ্ছিত বিতাড়িত অবস্থায়। অবশ্যই তাদের মধ্য থেকে যে তোমার অনুসরণ করবে, আমি তোমাদের সবাইকে দিয়ে জাহান্নাম ভরে দেবই’।

وَيَا آدَمُ اسْكُنْ أَنْتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ فَكُلَا مِنْ حَيْثُ شِئْتُمَا وَلَا تَقْرَبَا هَذِهِ الشَّجَرَةَ فَتَكُونَا مِنَ الظَّالِمِينَ(7.19)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৯। অ ইয়া য় আ-দামুস্কুন্ আন্তা অযাওজুকাল্ জ্বান্নাতা ফাকুলা-মিন্ হাইছূ শিতুমা অলা-তাকরবা- হা-যিহিশ্ শাজ্বারাতা ফাতাকূনা-মিনাজ্জোয়া-লিমীন্

বাংলা অনুবাদ ৭.১৯ ‘আর হে আদম, তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বাস কর। অতঃপর তোমরা আহার কর যেখান থেকে চাও এবং এই গাছটির নিকটবর্তী হয়ো না। তাহলে তোমরা উভয়ে যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে’।

فَوَسْوَسَ لَهُمَا الشَّيْطَانُ لِيُبْدِيَ لَهُمَا مَا وُورِيَ عَنْهُمَا مِنْ سَوْآتِهِمَا وَقَالَ وَقَالَ مَا نَهَاكُمَا رَبُّكُمَا عَنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ إِلَّا أَنْ تَكُونَا مَلَكَيْنِ أَوْ تَكُونَا مِنَ الْخَالِدِينَ(7.20)

আরবি উচ্চারণ ৭.২০। ফাঅস্অসা লাহুমাশ্ শাইত্বোয়া-নু লিইয়ুব্দিয়া লাহুমা- মা-ঊরিয়া ‘আন্ হুমা- মিন্ সাওআ-তিহিমা-অক্বা-লা মা- নাহা-কুমা- রব্বুকুমা-‘আন্ হা-যিহিশ্ শাজ্বারতি ইল্লা য় আন্ তাকূনা- মালাকাইনি আও তাকূনা-মিনাল্ খা-লিদীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.২০ অতঃপর শয়তান তাদেরকে প্ররোচনা দিল, যাতে সে তাদের জন্য প্রকাশ করে দেয় তাদের লজ্জাস্থান, যা তাদের থেকে গোপন করা হয়েছিল এবং সে বলল, ‘তোমাদের রব তোমাদেরকে কেবল এ জন্য এ গাছ থেকে নিষেধ করেছেন যে, (খেলে) তোমরা ফেরেশতা হয়ে যাবে অথবা তোমরা চিরস্থায়ীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে’।

وَقَاسَمَهُمَا إِنِّي لَكُمَا لَمِنَ النَّاصِحِينَ(7.21)

আরবি উচ্চারণ ৭.২১। অক্বা-সামাহুমা য় ইন্নী লাকুমা- লামিনান্ না-ছিহীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.২১ আর সে তাদের নিকট শপথ করল যে, ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের উভয়ের জন্য কল্যাণকামীদের একজন’।

فَدَلَّاهُمَا بِغُرُورٍ فَلَمَّا ذَاقَا الشَّجَرَةَ بَدَتْ لَهُمَا سَوْآتُهُمَا وَطَفِقَا يَخْصِفَانِ عَلَيْهِمَا مِنْ وَرَقِ الْجَنَّةِ وَنَادَاهُمَا رَبُّهُمَا أَلَمْ أَنْهَكُمَا عَنْ تِلْكُمَا الشَّجَرَةِ وَأَقُلْ لَكُمَا إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمَا عَدُوٌّ مُبِينٌ(22. 7)

আরবি উচ্চারণ ৭.২২। ফাদাল্লা-হুমা-বিগুরূরিন্ ফালাম্মা- যা-ক্বাশ্ শাজ্বারতা বাদাত্ লাহুমা- সাওআ-তুহুমা-অ ত্বোয়াফিক্বা-ইয়াখ্ছিফা-নি ‘আলাইহিমা- মিওঁ অরাক্বিল্ জান্নাহ্, অ না-দা-হুমা- রব্বুহুমা য় আলাম্ আন্হাকুমা- ‘আন্ তিল্কুমাশ্ শাজ্বারতি অআকুল্ লাকুমা য় ইন্নাশ্ শাইত্বোয়া-না লাকুমা-‘আদুওয়্যুম্ মুবীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.২২ অতঃপর সে তাদেরকে প্রতারণার মাধ্যমে পদস্খলিত করল। তাই তারা যখন গাছটির ফল আস্বাদন করল, তাদের সামনে তাদের লজ্জাস্থান প্রকাশিত হয়ে গেল। আর তারা জান্নাতের পাতা দিয়ে নিজদেরকে ঢাকতে লাগল এবং তাদের রব তাদেরকে ডাকলেন যে, ‘আমি কি তোমাদেরকে ঐ গাছটি থেকে নিষেধ করিনি এবং তোমাদেরকে বলিনি যে নিশ্চয় শয়তান তোমাদের জন্য স্পষ্ট শত্রু?

قَالَا رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ (7.23)

আরবি উচ্চারণ ৭.২৩। ক্ব-লা-রব্বানা- জোয়ালাম্না- আন্ফুসানা- অইল্লাম্ তার্গ্ফিলানা-অর্তাহাম্না-লানাকূনান্না মিনাল্ খা-সিরীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.২৩ তারা বলল, ‘হে আমাদের রব, আমরা নিজদের উপর যুল্ম করেছি। আর যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদেরকে রহম না করেন তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব’।

قَالَ اهْبِطُوا بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ وَلَكُمْ فِي الْأَرْضِ مُسْتَقَرٌّ وَمَتَاعٌ إِلَى حِينٍ(7.24)

আরবি উচ্চারণ ৭.২৪। ক্ব-লাহ্বিত্বুবা’দ্বুকুম্ লিবা’দ্বিন্ ‘আদুওয়্যুন্ অলাকুম্ ফিল্র্আদ্বি মুস্তার্ক্বারুওঁ অমাতা-‘উন্ ইলা-হীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.২৪ তিনি বললেন, ‘তোমরা নেমে যাও। তোমরা একে অপরের শত্র“ এবং যমীনে তোমাদের জন্য ক্ষণস্থায়ী আবাস ও ভোগ-উপকরণ রয়েছে’।

قَالَ فِيهَا تَحْيَوْنَ وَفِيهَا تَمُوتُونَ وَمِنْهَا تُخْرَجُونَ(7.25)

আরবি উচ্চারণ ৭.২৫। ক্ব-লা ফীহা-তাহ্ইয়াওনা অফীহা-তামূতূনা অমিন্হা-তুখ্রজুন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.২৫ তিনি বললেন, ‘তোমরা তাতে জীবন যাপন করবে এবং তাতে মারা যাবে। আর তা থেকে তোমাদেরকে বের করা হবে’।

يَا بَنِي آدَمَ قَدْ أَنْزَلْنَا عَلَيْكُمْ لِبَاسًا يُوَارِي سَوْآتِكُمْ وَرِيشًا وَلِبَاسُ التَّقْوَى ذَلِكَ خَيْرٌ ذَلِكَ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ لَعَلَّهُمْ يَذَّكَّرُونَ(7.26)

আরবি উচ্চারণ ৭.২৬। ইয়া-বানী য় আ-দামা ক্বাদ্ আন্যাল্না- ‘আলাইকুম্ লিবা-সাইঁ ইয়ুওয়া-রী সাও আ-তিকুম্ অরীশা-; অ লিবা-সুত্তাক্বাওয়া- যা-লিকা খার্ই; যা-লিকা মিন্ আ-ইয়া-তিল্লা-হি লা‘আল্লাহুম্ ইয়ায্যাক্কারূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.২৬ হে বনী আদম, আমি তো তোমাদের জন্য পোশাক অবতীর্ণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান ঢাকবে এবং যা সৌন্দর্যস্বরূপ। আর তাকওয়ার পোশাক, তা উত্তম। এগুলো আল্লাহর আয়াতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।

يَا بَنِي آدَمَ لَا يَفْتِنَنَّكُمُ الشَّيْطَانُ كَمَا أَخْرَجَ أَبَوَيْكُمْ مِنَ الْجَنَّةِ يَنْزِعُ عَنْهُمَا لِبَاسَهُمَا لِيُرِيَهُمَا سَوْآتِهِمَا إِنَّهُ يَرَاكُمْ هُوَ وَقَبِيلُهُ مِنْ حَيْثُ لَا تَرَوْنَهُمْ إِنَّا جَعَلْنَا الشَّيَاطِينَ أَوْلِيَاءَ لِلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ(7.27)

আরবি উচ্চারণ ৭.২৭। ইয়া-বানী য় আ-দামা লা- ইয়াফ্তিনান্নাকুমুশ্ শাইত্বোয়া-নু কামায় আখ্রজ্বা আবাওয়াইকুম্ মিনাল্ জ্বান্নাতি ইয়ান্যি‘উ ‘আন্হুমা-লিবা-সাহুমা-লিইয়ুরিয়াহুমা- সাওআ-তিহিমা-; ইন্নাহূ ইয়ার-কুম্ হুঅ অক্বাবীলুহূ মিন্ হাইছু লা- তারাওনাহুম্; ইন্না- জ্বা‘আল্নাশ্ শাইয়া-ত্বীনা আওলিয়া – য়া লিল্লাযীনা লা-ইয়ুমিনূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.২৭ হে বনী আদম, শয়তান যেন তোমাদেরকে বিভ্রান্ত না করে, যেভাবে সে তোমাদের পিতা-মাতাকে জান্নাত থেকে বের করেছিল; সে তাদের পোশাক টেনে নিচ্ছিল, যাতে সে তাদেরকে তাদের লজ্জাস্থান দেখাতে পারে। নিশ্চয় সে ও তার দলবল তোমাদেরকে দেখে যেখানে তোমরা তাদেরকে দেখ না। নিশ্চয় আমি শয়তানদেরকে তাদের জন্য অভিভাবক বানিয়েছি, যারা ঈমান গ্রহণ করে না।

وَإِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً قَالُوا وَجَدْنَا عَلَيْهَا آبَاءَنَا وَاللَّهُ أَمَرَنَا بِهَا قُلْ إِنَّ اللَّهَ لَا يَأْمُرُ بِالْفَحْشَاءِ أَتَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ(7.28)

আরবি উচ্চারণ ৭.২৮। অইযা- ফা‘আলূ ফা-হিশাতান্ ক্বা-লূ অজ্বাদ্না-‘আলাইহা য় আ-বা – য়ানা অল্লা-হু আমারানা- বিহা-;কুল ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়ামুরু বিল্ ফাহ্শা – ই; আতাকুলূনা ‘আলাল্লা-হি মা-লা- তা’লামূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.২৮ আর যখন তারা কোন অশ্লীল কাজ করে তখন বলে, ‘আমরা এতে আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে পেয়েছি এবং আল্লাহ আমাদেরকে এর নির্দেশ দিয়েছেন’। বল, ‘নিশ্চয় আল্লাহ অশ্লীল কাজের নির্দেশ দেন না। তোমরা কি আল্লাহর ব্যাপারে এমন কিছু বলছ, যা তোমরা জান না’?

قُلْ أَمَرَ رَبِّي بِالْقِسْطِ وَأَقِيمُوا وُجُوهَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ وَادْعُوهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ كَمَا بَدَأَكُمْ تَعُودُونَ(7.29)

আরবি উচ্চারণ ৭.২৯। কুল্ আমারা রব্বী বিল্কি¦স্্তি অ আক্বীমূ উজুহাকুম্ ‘ইন্দা কুল্লি মাস্জ্বিদিওঁ অদ্‘ঊহু মুখ্লিছীনা লাহুদ দীন্; কামা- বাদায়াকুম্ তা‘ঊদূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.২৯ বল, ‘আমার রব ন্যায়বিচারের নির্দেশ দিয়েছেন আর তোমরা প্রত্যেক সিজদার সময় তোমাদের চেহারা সোজা রাখবে এবং তাঁরই ইবাদাতের জন্য একনিষ্ঠ হয়ে তাঁকে ডাক’। যেভাবে তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, সেভাবে তোমরা প্রথমে ফিরে আসবে।

فَرِيقًا هَدَى وَفَرِيقًا حَقَّ عَلَيْهِمُ الضَّلَالَةُ إِنَّهُمُ اتَّخَذُوا الشَّيَاطِينَ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَيَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ مُهْتَدُونَ(7.30)

আরবি উচ্চারণ ৭.৩০। ফারীক্বান্ হাদা- অফারীক্বান্ হাকক্বা ‘আলাইহিমুদ¦ দোয়ালা-লাহ্; ইন্নাহুমুত্ তাখাযুশ্ শাইয়া-ত্বীনা আওলিয়া – য়া মিন্ দূনি ল্লা-হি অইয়াহ্সাবূনা আন্নামহুম্ মুহ্তাদূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৩০ এক দলকে তিনি হিদায়াত দিয়েছেন এবং আরেক দলের উপর পথভ্রষ্টতা সাব্যস্ত হয়েছে। নিশ্চয় তারা শয়তানদেরকে আল্লাহ ছাড়া অভিভাবকরূপে গ্রহণ করেছে। আর তারা মনে করে যে, নিশ্চয় তারা হিদায়াতপ্রাপ্ত।

يَا بَنِي آدَمَ خُذُوا زِينَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ وَكُلُوا وَاشْرَبُوا وَلَا تُسْرِفُوا إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ(7.31)

আরবি উচ্চারণ ৭.৩১। ইয়া -বানী য় আ-দামা খুযূ যীনাতাকুম্ ‘ইন্দা কুল্লি মাস্জ্বিদিওঁ অকুলূ অশ্রাবূ অলা-তুস্রিফূ ইন্নাহূ লাইয়ুহিব্বুল্ মুস্রিফীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৩১ হে বনী আদম, তোমরা প্রতি সালাতে তোমাদের বেশ-ভূষা গ্রহণ কর এবং খাও, পান কর ও অপচয় করো না। নিশ্চয় তিনি অপচয়কারীদেরকে পছন্দ করেন না।

قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ وَالطَّيِّبَاتِ مِنَ الرِّزْقِ قُلْ هِيَ لِلَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا خَالِصَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَذَلِكَ نُفَصِّلُ الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ (7.32)

আরবি উচ্চারণ ৭.৩২। কুল্ মান্ র্হারামা যীনাতাল্লা-হিল্লাতী য় আখরাজ্বা লি‘ইবা-দিহী অত্ত্বাইয়িবা-তি মির্না রিয্ক্ব; কুল্ হিয়া লিল্লাযীনা আ-মানূ ফিল্ হাইয়া- তিদ্দুন্য়া-খা-লিছোয়াতাইঁ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাহ্; কাযা-লিকা নুফাছছিলুল্ আ-ইয়া-তি লিক্বাওমিইঁ ইয়া’ লামূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৩২ বল, ‘কে হারাম করেছে আল্লাহর সৌন্দর্যোপকরণ, যা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন এবং পবিত্র রিয্ক’? বল, ‘তা দুনিয়ার জীবনে মুমিনদের জন্য, বিশেষভাবে কিয়ামত দিবসে’। এভাবে আমি আয়াতসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি এমন কওমের জন্য, যারা জানে।

قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالْإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَنْ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ(7.33)

আরবি উচ্চারণ ৭.৩৩। কুল্ ইন্নামা- র্হারামা রব্বিয়াল্ ফাওয়া-হিশা মা-জোয়াহারা মিন্হা-অমা-বাত্বোয়ানা অল্ইছ্মি অল্বাগ্ইয়া বিগাইরিল্ হাকক্বি অআন্ তুশ্রিকূ বিল্লা-হি মা-লাম্ ইয়ুনায্যিল্ বিহী সুল্ত্বোয়া-নাওঁ অআন্ তাকুলূ ‘আলাল্লা-হি মা-লা-তা’লামূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৩৩ বল, ‘আমার রব তো হারাম করেছেন অশ্লীল কাজÑ যা প্রকাশ পায় এবং যা গোপন থাকে, আর পাপ ও অন্যায়ভাবে সীমালঙ্ঘন এবং আল্লাহর সাথে তোমাদের শরীক করা, যে ব্যাপারে আল্লাহ কোন প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহর উাপরে এমন কিছু বলা যা তোমরা জান না’।

وَلِكُلِّ أُمَّةٍ أَجَلٌ فَإِذَا جَاءَ أَجَلُهُمْ لَا يَسْتَأْخِرُونَ سَاعَةً وَلَا يَسْتَقْدِمُونَ(7.34)

আরবি উচ্চারণ ৭.৩৪। অলিকুল্লি উম্মাতিন্ আজ্বালুন্ ফাইযা-জ্বা – য়া আজ্বালুহুম্ লা-ইয়াস্তা’ খিরূনা সা-‘আতাওঁ অলা- ইয়াস্তাকদিমূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৩৪ আর প্রত্যেক জাতির রয়েছে একটি নির্দিষ্ট সময়। অতঃপর যখন তাদের সময় আসবে, তখন তারা এক মুহূর্ত বিলম্ব করতে পারবে না এবং এগিয়েও আনতে পারবে না।

يَا بَنِي آدَمَ إِمَّا يَأْتِيَنَّكُمْ رُسُلٌ مِنْكُمْ يَقُصُّونَ عَلَيْكُمْ آيَاتِي فَمَنِ اتَّقَى وَأَصْلَحَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ (7.35)

আরবি উচ্চারণ ৭.৩৫। ইয়া-বানী য় আ-দামা ইম্মা- ইয়া তিয়ান্নাকুম্ রুসূলুম্ মিন্কুম্ ইয়াকুছ্ছূনা ‘আলাইকুম্ আ-ইয়া-তী ফামানিত্তাক্বা- অআছ্লাহা ফালা-খাওফুন্ ‘আলাইহিম্ অলা-হুম্ ইয়াহ্যানূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৩৫ হে বনী আদম, যদি তোমাদের নিকট তোমাদের মধ্য থেকে রাসূলগণ আসে যারা তোমাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ বর্ণনা করবে, তবে যারা তাকওয়া অবলম্বন করবে এবং (আমল) সংশোধন করবে, তাদের উপর কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।

وَالَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَاسْتَكْبَرُوا عَنْهَا أُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ(7.36)

আরবি উচ্চারণ ৭.৩৬। অল্লাযীনা কায্যাবূ বিআ-ইয়া-তিনা-অস্তাক্বারূ ‘আন্হা য় উলা – য়িকা আছ্হা-বুন্ না-রি হুম্ ফীহা-খা-লিদূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৩৬ আর যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে এবং তার ব্যাপারে অহঙ্কার করেছে, তারাই আগুনের অধিবাসী। তারা সেখানে হবে স্থায়ী।

فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا أَوْ كَذَّبَ بِآيَاتِهِ أُولَئِكَ يَنَالُهُمْ نَصِيبُهُمْ مِنَ الْكِتَابِ حَتَّى إِذَا جَاءَتْهُمْ رُسُلُنَا يَتَوَفَّوْنَهُمْ قَالُوا أَيْنَ مَا كُنْتُمْ تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ قَالُوا ضَلُّوا عَنَّا وَشَهِدُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ أَنَّهُمْ كَانُوا كَافِرِينَ(7.37)

আরবি উচ্চারণ ৭.৩৭। ফামান্ আজ্লামু মিম্মানিফ্ তারা-‘আলাল্লা-হি কাযিবান্ আও কায্য়াবা বিআ-ইয়া-তিহ্;উলা – য়িকা ইয়ানা-লুহুম্ নাছীবুহুম্ মিনাল্ কিতা-ব্; হাত্তা য় ইযা-জ্বা – য়াত্হুম্ রুসুলুনা-ইয়াতাঅফ্ফাওনাহুম্ ক্বা-লূ য় আইনা মা- কুন্তুম্ তাদ্‘ঊনা মিন দূনিল্লা-হ্;ক্বা-লূ দ্বোয়াল্লূ ‘আন্না-অশাহিদূ ‘আলায় আন্ফুসিহিম্ আন্নাহুম্ কা-নূ কা-ফিরীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৩৭ সুতরাং তার চেয়ে কে অধিক যালিম, যে আল্লাহর উপর মিথ্যা অপবাদ রটায় কিংবা তাঁর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে। তাদের ভাগ্যে লিখিত অংশ তাদের কাছে পৌঁছবে। অবশেষে যখন আমার ফেরেশতারা তাদের নিকট আসবে তাদের জান কবজ করতে, তখন তারা বলবে, ‘কোথায় তারা, আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে তোমরা ডাকতে’? তারা বলবে, ‘তারা আমাদের থেকে হারিয়ে গিয়েছে’ এবং তারা নিজদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে যে, নিশ্চয় তারা ছিল কাফির ।

قَالَ ادْخُلُوا فِي أُمَمٍ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِكُمْ مِنَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ فِي النَّارِ كُلَّمَا دَخَلَتْ أُمَّةٌ لَعَنَتْ أُخْتَهَا حَتَّى إِذَا ادَّارَكُوا فِيهَا جَمِيعًا قَالَتْ أُخْرَاهُمْ لِأُولَاهُمْ رَبَّنَا هَؤُلَاءِ أَضَلُّونَا فَآتِهِمْ عَذَابًا ضِعْفًا مِنَ النَّارِ قَالَ لِكُلٍّ ضِعْفٌ وَلَكِنْ لَا تَعْلَمُونَ(7.38)

আরবি উচ্চারণ ৭.৩৮। ক্বা-লাদ্ খুলূ ফী য় উমামিন্ ক্বাদ্ খালাত্ মিন্ ক্বাব্লিকুম্ মিনাল্ জ্বিন্নি অল্ ইন্সি ফিন্না-র; কুল্লামা- দাখালাত্ উম্মাতুল্ লা‘আনাত্ উখ্ত্াহা; হাত্তায় ইযাদ্দা-রাকূ ফীহা-জ্বামী‘আন্ ক্বা-লাত্ উখ্রা-হুম্ লিঊয় লা-হুম্ রব্বানা- হা য় উলা – য়ি অদ্বোয়াল্লূনা- ফাআ-তিহিম্ ‘আযা-বান্ দ্বি’ফাম্ মিনান্ না-র; ক্বা-লা লিকুল্লি দ্বি’ফুওঁ অলা-কিল্লা-তা’লামূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৩৮ তিনি বলবেন, ‘আগুনে প্রবেশ কর জিন ও মানুষের দলগুলোর সাথে, যারা তোমাদের পূর্বে গত হয়েছে’। যখনই একটি দল প্রবেশ করবে, তখন পূর্বের দলকে তারা লা‘নত করবে। অবশেষে যখন তারা সবাই তাতে একত্রিত হবে তখন তাদের পরবর্তী দলটি পূর্বের দল সম্পর্কে বলবে, ‘হে আমাদের রব, এরা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে। তাই আপনি তাদেরকে আগুনের দ্বিগুণ আযাব দিন’। তিনি বলবেন, ‘সবার জন্য দ্বিগুণ, কিন্তু তোমরা জান না’।

وَقَالَتْ أُولَاهُمْ لِأُخْرَاهُمْ فَمَا كَانَ لَكُمْ عَلَيْنَا مِنْ فَضْلٍ فَذُوقُوا الْعَذَابَ بِمَا كُنْتُمْ تَكْسِبُونَ(39. 7)

আরবি উচ্চারণ ৭.৩৯। অক্বা-লাত্ ঊলা-হুম্ লিউখ্রা-হুম্ ফামা-কা-না লাকুম্‘আলাইনা- মিন্ ফাদ্ব্লিন্ ফাযূকুল্ ‘আযা-বা বিমা-কুনতুম্ তাক্সিবূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৩৯ আর তাদের পূর্ববর্তী দল পরবর্তী দলকে বলবে, ‘তাহলে আমাদের উপর তোমাদের কোন শ্রেষ্ঠত্ব নেই। অতএব তোমরা যা অর্জন করেছিলে, তার কারণে তোমরা আযাব আস্বাদন কর’।

إِنَّ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَاسْتَكْبَرُوا عَنْهَا لَا تُفَتَّحُ لَهُمْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَلَا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى يَلِجَ الْجَمَلُ فِي سَمِّ الْخِيَاطِ وَكَذَلِكَ نَجْزِي الْمُجْرِمِينَ(7.40)

আরবি উচ্চারণ ৭.৪০। ইন্নাল্লাযীনা কায্যাবূ বিআ-ইয়া-তিনা- অস্তাক্বারূ ‘আন্হা- লা-তুফাত্তাহু লাহুম্ আব্ওয়া-বুস্ সামা – য়ি অলা- ইয়াদ্খুলূনাল্ জ্বান্নাতা হাত্তা-ইয়ালিজ্বাল্ জ্বামালু ফী সাম্মিল্ খিয়া-ত্ব; অকাযা-লিকা নাজযিল্ মুজরিমীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৪০ নিশ্চয় যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে এবং তার ব্যাপারে অহঙ্কার করেছে, তাদের জন্য আসমানের দরজাসমূহ খোলা হবে না এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না উট সূঁচের ছিদ্রতে প্রবেশ করে। আর এভাবেই আমি অপরাধীদেরকে প্রতিদান দেই।

لَهُمْ مِنْ جَهَنَّمَ مِهَادٌ وَمِنْ فَوْقِهِمْ غَوَاشٍ وَكَذَلِكَ نَجْزِي الظَّالِمِينَ(7.41)

আরবি উচ্চারণ ৭.৪১। লাহুম্ মিন্ জ্বাহান্নামা মিহা-দুঁও অমিন্ ফাওক্বিহিম্ গাওয়া-শ্; অকাযা-লিকা নাজযিজ্জোয়া-লিমীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৪১ তাদের জন্য থাকবে জাহান্নামের বিছানা এবং তাদের উপরে থাকবে (আগুনের) আচ্ছাদন। আর এভাবেই আমি যালিমদেরকে প্রতিদান দেই।

وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَا نُكَلِّفُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا أُولَئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ(7.42)

আরবি উচ্চারণ ৭.৪২। অল্লাযীনা আ-মানূ অ‘আমিলুছ্ ছোয়া-লিহা-তি লা- নুকাল্লিফু নাফ্সান্ ইল্লা-উস্‘আহা য় উলা-য়িকা আছ্হা-বুল্ জ্বান্নাতি হুম্ ফীহা- খা-লিদূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৪২ আর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে, আমি কোন ব্যক্তিকে তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব অর্পণ করি না। তারাই জান্নাতের অধিবাসী। তারা সেখানে হবে স্থায়ী।

وَنَزَعْنَا مَا فِي صُدُورِهِمْ مِنْ غِلٍّ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهِمُ الْأَنْهَارُ وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَانَا لِهَذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلَا أَنْ هَدَانَا اللَّهُ لَقَدْ جَاءَتْ رُسُلُ رَبِّنَا بِالْحَقِّ وَنُودُوا أَنْ تِلْكُمُ الْجَنَّةُ أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ(7.43)

আরবি উচ্চারণ ৭.৪৩। অনাযা’না- মা- ফী ছুদূরিহিম্ মিন্ গিল্লিন্ তাজরী মিন্ তাহ্তিহিমুল্ আন্হা-রু, অক-লুল্ হামদু লিল্লা-হিল্লাযী হাদা-না- লিহা-যা- অমা- কুন্না- লিনাহ্তাদিয়া লাওলা য় আন্ হাদা-নাল্লা-হু লাক্বাদ্ জ্বা-য়াত্ রুসুলু রব্বিনা- বিল্হাক; অনূ দূ য় আন্ তিল্কুমুল্ জ্বান্নাতু ঊরিছ্তুমূহা-বিমা-কুন্তুম্ তা’মালূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৪৩ আর তাদের অন্তরে যে ঈর্ষা ছিল, আমি তা বের করে নিয়েছি। তাদের নীচ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত হবে। আর তারা বলবে, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি এর জন্য আমাদেরকে হিদায়াত দিয়েছেন। আর আমরা হিদায়াত পাওয়ার ছিলাম না, যদি না আল্লাহ আমাদেরকে হিদায়াত দিতেন। অবশ্যই আমার রবের রাসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছেন’ এবং তাদেরকে ডাকা হবে যে, ‘ঐ হল জান্নাত, তোমরা যা আমল করেছ, তার বিনিময়ে তোমাদেরকে এর উত্তরাধিকারী করা হয়েছে’।

وَنَادَى أَصْحَابُ الْجَنَّةِ أَصْحَابَ النَّارِ أَنْ قَدْ وَجَدْنَا مَا وَعَدَنَا رَبُّنَا حَقًّا فَهَلْ وَجَدْتُمْ مَا وَعَدَ رَبُّكُمْ حَقًّا قَالُوا نَعَمْ فَأَذَّنَ مُؤَذِّنٌ بَيْنَهُمْ أَنْ لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الظَّالِمِينَ(7.44)

আরবি উচ্চারণ ৭.৪৪। অনা-দা য় আছ্হা-বুল্ জান্নাতি আছহা-বান্না-রি আন্ ক্বাদ্ অজ্বাদ্না- মা- অ‘আদানা-রব্বুনা- হাক্বক্বান্ ফাহাল্ অজ্বাত্তুম্ মা- অ‘আদা রব্বুকুম্ হাকক্বা-; ক্ব-লূ না‘আম্, ফাআয্যানা মুয়ায্যিনুম্ বাইনাহুম্ আল্লা’নাতুল্লা-হি ‘আলাজ্জোয়া-লিমীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৪৪ আর জান্নাতের অধিবাসীগণ আগুনের অধিবাসীদেরকে ডাকবে যে, ‘আমাদের রব আমাদেরকে যে ওয়াদা দিয়েছেন তা আমরা সত্য পেয়েছি। সুতরাং তোমাদের রব তোমাদেরকে যে ওয়াদা দিয়েছেন, তা কি তোমরা সত্যই পেয়েছ’? তারা বলবে, ‘হ্যাঁ’। অতঃপর এক ঘোষক তাদের মধ্যে ঘোষণা দেবে যে, আল্লাহর লা’নত যালিমদের উপর’।

الَّذِينَ يَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ وَيَبْغُونَهَا عِوَجًا وَهُمْ بِالْآخِرَةِ كَافِرُونَ(7.45)

আরবি উচ্চারণ ৭.৪৫। আল্লাযীনা ইয়াছুদ্দূনা ‘আন্ সাবীলিল্লা-হি অ ইয়াব্গূনাহা- ই’ওয়াজ্বান্ অহুম্ বিল্আ-খিরাতি কা-ফিরূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৪৫ ‘যারা আল্লাহর পথে বাধা প্রদান করত এবং তাতে বক্রতা সন্ধান করত এবং তারা ছিল আখিরাতকে অস্বীকারকারী’।

وَبَيْنَهُمَا حِجَابٌ وَعَلَى الْأَعْرَافِ رِجَالٌ يَعْرِفُونَ كُلًّا بِسِيمَاهُمْ وَنَادَوْا أَصْحَابَ الْجَنَّةِ أَنْ سَلَامٌ عَلَيْكُمْ لَمْ يَدْخُلُوهَا وَهُمْ يَطْمَعُونَ(7.46)

আরবি উচ্চারণ ৭.৪৬। অবাইনাহুমা- হিজ্বা-বুন্ অ ‘আলাল্ আ’রা-ফি রিজ্বা-লুঁই ইয়া’রিফূনা কুল্লাম্ বিসীমা-হুম অনা-দাও আছ্হা-বাল্ জ্বান্নাতি আন্ সালা-মুন্ ‘আলাইকুম লাম্ ইয়াদ্খুলূহা-অহুম্ ইয়াত্বমা‘ঊন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৪৬ আর তাদের মধ্যে থাকবে পর্দা এবং আ‘রাফের উপর থাকবে কিছু লোক, যারা প্রত্যেককে তাদের চি‎‎হ্ন দ্বারা চিনবে। আর তারা জান্নাতের অধিবাসীদেরকে ডাকবে যে, ‘তোমাদের উপর সালাম’। তারা (এখনো) তাতে প্রবেশ করেনি তবে তারা আশা করবে।

وَإِذَا صُرِفَتْ أَبْصَارُهُمْ تِلْقَاءَ أَصْحَابِ النَّارِ قَالُوا رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ(7.47)

আরবি উচ্চারণ ৭.৪৭। অ ইযা-ছুরিফাত্ আব্ছোয়া-রুহুম্ তিল্কা- য়া আছ্হা-বিন্ না-রি ক্ব-লূ রব্বানা- লা-তাজু‘আল্না- মা‘আল্ ক্বাওমিজ্জোয়া-লিমীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৪৭ আর যখন তাদের দৃষ্টিকে আগুনের অধিবাসীদের প্রতি ফেরানো হবে, তারা বলবে, ‘হে আমাদের রব, আমাদেরকে যালিম কওমের অন্তর্ভুক্ত করবেন না’।

وَنَادَى أَصْحَابُ الْأَعْرَافِ رِجَالًا يَعْرِفُونَهُمْ بِسِيمَاهُمْ قَالُوا مَا أَغْنَى عَنْكُمْ جَمْعُكُمْ وَمَا كُنْتُمْ تَسْتَكْبِرُونَ(7.48)

আরবি উচ্চারণ ৭.৪৮। অনা-দা য় আছ্হা-বুল্ ‘ আ’রা-ফি রিজ্বা-লাইঁ ইয়া’রিফূনাহুম্ বিসীমা-হুম্ ক্বা-লূ মা য় আগ্না- ‘আন্কুম্ জ্বাম্‘উকুম্ অমা-কুন্তুম্ তাস্তাক্রিবূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৪৮ আর আ‘রাফের অধিবাসীরা এমন লোকদেরকে ডাকবে, যাদেরকে তারা চিনবে তাদের চি‎েহ্নর মাধ্যমে, তারা বলবে, ‘তোমাদের দল এবং যে বড়াই তোমরা করতে তা তোমাদের উপকারে আসেনি’।

أَهَؤُلَاءِ الَّذِينَ أَقْسَمْتُمْ لَا يَنَالُهُمُ اللَّهُ بِرَحْمَةٍ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ لَا خَوْفٌ عَلَيْكُمْ وَلَا أَنْتُمْ تَحْزَنُونَ (7.49)

আরবি উচ্চারণ ৭.৪৯। আ হা য় উলা – য়িল্লাযীনা আকসাম্তুম্ লা-ইয়ানা-লুহুমুল্লা-হু বিরহ্মাহ্; উদ্খুলুল্ জ্বান্নাতা লা-খাওফুন্ ‘আলাইকুম্ অলা য় আন্তুম্ তাহ্যানূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৪৯ এরাই কি তারা যাদের ব্যাপারে তোমরা কসম করতে যে, আল্লাহ তাদেরকে রহমতে শামিল করবেন না? ‘তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর। তোমাদের উপর কোন ভয় নেই এবং তোমরা দুঃখিত হবে না’।

وَنَادَى أَصْحَابُ النَّارِ أَصْحَابَ الْجَنَّةِ أَنْ أَفِيضُوا عَلَيْنَا مِنَ الْمَاءِ أَوْ مِمَّا رَزَقَكُمُ اللَّهُ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَهُمَا عَلَى الْكَافِرِينَ(7.50)

আরবি উচ্চারণ ৭.৫০। অনা-দা য় আছ্হা-বুন্না-রি আছহা-বাল্ জ্বান্নাতি আন্ আফীদ্বূ ‘আলাইনা- মিনাল্ মা – য়ি আও মিম্মা- রাযাক্বাকুমুল্লা-হ্; ক্বা-লূ য় ইন্নাল্লা-হা র্হারামাহুমা- ‘আলাল্ কা-ফিরীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৫০ আর আগুনের অধিবাসীরা জান্নাতের অধিবাসীদেরকে ডেকে বলবে, ‘আমাদের উপর কিছু পানি অথবা তোমাদেরকে আল্লাহ যে রিয্ক দিয়েছেন, তা ঢেলে দাও’। তারা বলবে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তা কাফিরদের উপর হারাম করেছেন’।

الَّذِينَ اتَّخَذُوا دِينَهُمْ لَهْوًا وَلَعِبًا وَغَرَّتْهُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا فَالْيَوْمَ نَنْسَاهُمْ كَمَا نَسُوا لِقَاءَ يَوْمِهِمْ هَذَا وَمَا كَانُوا بِآيَاتِنَا يَجْحَدُونَ(7.51)

আরবি উচ্চারণ ৭.৫১। আল্লাযীনাত্ তাখাযূ দীনাহুম্ লাহ্ওয়াওঁ অলা‘ইবাওঁ অর্গারাত্হুমুল্ হাইয়া-তুদ্দুন্ইয়া – ফাল্ইয়াওমা নান্সা-হুম্ কামা-নাসূ লিক্বা – য়া ইয়াওমিহিম্ হা-যা- অমা কা-নূ বিআ-ইয়া-তিনা- ইয়াজহাদূন।

বাংলা অনুবাদ ৭.৫১ ‘যারা তাদের ধর্মকে গ্রহণ করেছে খেলা ও তামাশারূপে এবং তাদেরকে দুনিয়ার জীবন প্রতারিত করেছে’। সুতরাং আজ আমি তাদেরকে ভুলে যাব, যেমন তারা তাদের এই দিনের সাক্ষাতকে ভুলে গিয়েছিল। আর (যেভাবে) তারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করত।

وَلَقَدْ جِئْنَاهُمْ بِكِتَابٍ فَصَّلْنَاهُ عَلَى عِلْمٍ هُدًى وَرَحْمَةً لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ(7.52)

আরবি উচ্চারণ ৭.৫২। অলাক্বাদ্ জ্বি’না-হুম্ বিকিতা-বিন্ ফাছ্ছোয়াল্না-হু ‘আলা-‘ইল্মিন্ হুদাওঁ অরহ্মাতাল লিক্বাওমিইঁঁ ইয়ুমিনূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৫২ আর আমি তো তাদের নিকট এমন কিতাব নিয়ে এসেছি, যা আমি জেনেশুনে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি। তা হিদায়াত ও রহমতস্বরূপ এমন জাতির জন্য, যারা ঈমান রাখে।

هَلْ يَنْظُرُونَ إِلَّا تَأْوِيلَهُ يَوْمَ يَأْتِي تَأْوِيلُهُ يَقُولُ الَّذِينَ نَسُوهُ مِنْ قَبْلُ قَدْ جَاءَتْ رُسُلُ رَبِّنَا بِالْحَقِّ فَهَلْ لَنَا مِنْ شُفَعَاءَ فَيَشْفَعُوا لَنَا أَوْ نُرَدُّ فَنَعْمَلَ غَيْرَ الَّذِي كُنَّا نَعْمَلُ قَدْ خَسِرُوا أَنْفُسَهُمْ وَضَلَّ عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَفْتَرُونَ(7.53)

আরবি উচ্চারণ ৭.৫৩। হাল্ ইয়ান্জুরূনা ইল্লা- তাওয়ীলাহ্; ইয়াওমা ইয়াতী তাওয়ীলূহূ ইয়াকুলুল্লাযীনা নাসূহু মিন্ ক্বাব্লু ক্বাদ্ জ্বা – য়াত্ রুসুলু রব্বিনা- বিল্হাক; ফাহাল্ লানা-মিন্ শুফা‘আ – য়া ফাইয়াশ্ফা‘উ লানা য় আও নুরাদ্দু ফানা’মালা গাইরাল্লাযী কুন্না-না’মাল্; ক্বাদ্ খাসিরূ য় আন্ফুসাহুম্ অদ্বোয়াল্লা ‘আন্হুম্ মা-কা-নূ ইয়াফ্তারূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৫৩ তারা কি শুধু তার পরিণামের অপেক্ষা করছে? যেদিন তার পরিণাম প্রকাশ হবে, তখন পূর্বে যারা তাকে ভুলে ছিল, তারা বলবে, ‘আমাদের রবের রাসূলগণ তো সত্য নিয়ে এসেছিলেন। সুতরাং আমাদের জন্য কি সুপারিশকারীদের কেউ আছে, যে আমাদের জন্য সুপারিশ করবে, কিংবা আমাদের প্রত্যাবর্তন করানো হবে, অতঃপর আমরা যা করতাম তা ভিন্ন অন্য আমল করব’? তারা তো নিজদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং তারা যে মিথ্যা রটাত, তা তাদের থেকে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে।

إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومَ مُسَخَّرَاتٍ بِأَمْرِهِ أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ (7.54)

আরবি উচ্চারণ ৭.৫৪। ইন্না রব্বাকুমুল্লা-হুল্লাযী খালাক্বাস্ সামা-ওয়া-তি অল্ আরদ্বোয়া ফী সিত্তাতি আইয়্যা-মিন্ ছুম্মাস্ তাওয়া-‘আলাল্ ‘র্আশি ইয়ুগ্শিল্ লাইলান্ নাহা-রা ইয়াত্বলুবুহূ হাছীছাওঁ অশ্শাম্সা অল্ক্বামারা অন্নুজুমা মুসাখ্খারা-তিম্ বিআম্রিহ্; আলা-লাহুল্ খাল্ক্ব অল্ আর্ম; তাবা-রাকাল্লা-হু রব্বুল্ ‘আ-লামীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৫৪ নিশ্চয় তোমাদের রব আসমানসমূহ ও যমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আরশে উঠেছেন। তিনি রাত দ্বারা দিনকে ঢেকে দেন। প্রত্যেকটি একে অপরকে দ্রুত অনুসরণ করে। আর (সৃষ্টি করেছেন) সূর্য, চাঁদ ও তারকারাজী, যা তাঁর নির্দেশে নিয়োজিত। জেনে রাখ, সৃষ্টি ও নির্দেশ তাঁরই। আল্লাহ মহান, যিনি সকল সৃষ্টির রব।

ادْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ(7.55)

আরবি উচ্চারণ ৭.৫৫। উদ্‘উ রব্বাকুম তাদ্বোর্য়ারু‘আওঁ অখুফ্ইয়াহ্, ইন্নাহূ লা-ইয়ুহিব্বুল্ মু’তাদীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৫৫ তোমরা তোমাদের রবকে ডাক অনুনয় বিনয় করে ও চুপিসারে। নিশ্চয় তিনি পছন্দ করেন না সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে ।

وَلَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ بَعْدَ إِصْلَاحِهَا وَادْعُوهُ خَوْفًا وَطَمَعًا إِنَّ رَحْمَةَ اللَّهِ قَرِيبٌ مِنَ الْمُحْسِنِينَ(7.56)

আরবি উচ্চারণ ৭.৫৬। অলা- তুফসিদূ ফিল্ আরদ্বি বা’দা ইছ্লা-হিহা- অদ্‘ঊহু খাওফাওঁ অত্বোয়ামা‘আ-; ইন্না রহ্মাতাল্লা-হি ক্বারীবুম্ মিনাল্ মুহ্সিনীন্

বাংলা অনুবাদ ৭.৫৬ আর তোমরা যমীনে ফাসাদ করো না তার সংশোধনের পর এবং তাঁকে ডাক ভয় ও আশা নিয়ে। নিশ্চয় আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী।

وَهُوَ الَّذِي يُرْسِلُ الرِّيَاحَ بُشْرًا بَيْنَ يَدَيْ رَحْمَتِهِ حَتَّى إِذَا أَقَلَّتْ سَحَابًا ثِقَالًا سُقْنَاهُ لِبَلَدٍ مَيِّتٍ فَأَنْزَلْنَا بِهِ الْمَاءَ فَأَخْرَجْنَا بِهِ مِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ كَذَلِكَ نُخْرِجُ الْمَوْتَى لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ (7.57)

আরবি উচ্চারণ ৭.৫৭। অহুঅল্লাযী ইর্য়ুসির্লু রিয়া-হা বুশ্রাম্ বাইনা ইয়াদাই রহ্মাতিহ্; হাত্তা য় ইযা য় আক্বাল্লাত্ সাহা-বান্ ছিক্বা-লান্ সুকনা-হু লিবালাদিম্ মাইয়্যিতিন্ ফাআন্যাল্না- বিহিল মা – য়া ফাআখ্ রাজনা-বিহী মিন্ কুল্লিছ্ ছামারা-ত্; কাযা-লিকা নুখ্রিজুল মাওতা- লা‘আল্লাকুম্ তাযাক্কারূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৫৭ আর তিনিই তাঁর রহমতের পূর্বে সুসংবাদরূপে বাতাস প্রেরণ করেন। অবশেষে যখন তা ভারি মেঘ ধারণ করে, তখন আমি তাকে চালাই মৃত ভূমিতে, ফলে তার দ্বারা পানি অবতীর্ণ করি। অতঃপর তার মাধ্যমে বের করি প্রত্যেক প্রকারের ফল। এভাবেই আমি মৃতদেরকে বের করি, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।

وَالْبَلَدُ الطَّيِّبُ يَخْرُجُ نَبَاتُهُ بِإِذْنِ رَبِّهِ وَالَّذِي خَبُثَ لَا يَخْرُجُ إِلَّا نَكِدًا كَذَلِكَ نُصَرِّفُ الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَشْكُرُونَ(7.58)

আরবি উচ্চারণ ৭.৫৮। অল্ বালাদুত্ব ত্বোয়াইয়্যিবু ইয়াখ্রুজু নাবা-তুহূ বিইয্নি রব্বিহী অল্লাযী খাবুছা লা-ইয়াখ্রুজু ইল্লা- নাকিদা-; কাযা-লিকা নুছোর্য়ারিফুল্ আ-ইয়া-তি লিক্বাওমিইঁ ইয়াশ্কুরূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৫৮ আর উত্তম ভূমি- তার ফসল বের হয় তার রবের অনুমতিতে। আর যা নিকৃষ্ট, তাতে তো কমই উৎপন্ন হয়। এভাবেই আমি আয়াতসমূহ বিভিন্নভাবে বর্ণনা করি এমন কওমের জন্য, যারা কৃতজ্ঞ হয়।

لَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَى قَوْمِهِ فَقَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ(7.59)

আরবি উচ্চারণ ৭.৫৯। লাক্বাদ্ আরসাল্না- নূহান্ ইলা-ক্বাওমিহী ফাক্ব-লা ইয়া-ক্বাওমি’বুদুল্লা-হা মা-লাকুম্ মিন্ ইলা-হিন গাইরুহ্ ; ইন্নী য় আখা-ফু ‘আলাইকুম্ ‘আযা-বা ইয়াওমিন্ ‘আজীম্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৫৯ আমি তো নূহকে তার কওমের নিকট প্রেরণ করেছি। অতঃপর সে বলেছে, ‘হে আমার কওম, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর। তিনি ছাড়া তোমাদের কোন (সত্য) ইলাহ নেই। নিশ্চয় আমি তোমাদের মহাদিনের আযাবের ভয় করছি’।

قَالَ الْمَلَأُ مِنْ قَوْمِهِ إِنَّا لَنَرَاكَ فِي ضَلَالٍ مُبِينٍ(7.60)

আরবি উচ্চারণ ৭.৬০। ক্ব-লাল্ মালাউ মিন্ ক্বাওমিহী য় ইন্না-লানারা-কা ফী দ্বোয়ালা-লিম্ মুবীন্। বাংলা অনুবাদ ৭.৬০ তার কওম থেকে নেতৃবর্গ বলল, ‘নিশ্চয় আমরা তোমাকে স্পষ্ট ভ্রান্তিতে দেখতে পাচ্ছি’।

قَالَ يَا قَوْمِ لَيْسَ بِي ضَلَالَةٌ وَلَكِنِّي رَسُولٌ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ (7.61)

আরবি উচ্চারণ ৭.৬১। ক্ব-লা ইয়া-ক্বওমি লাইসা বী দ্বোয়ালা-লাতুওঁ অলা-কিন্নী রাসূলুম্ র্মি রব্বিল্ ‘আ-লামীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৬১ সে বলল, ‘হে আমার কওম, আমার মধ্যে কোন ভ্রান্তি নেই; কিন্তু আমি সকল সৃষ্টির রবের পক্ষ থেকে রাসূল’।

أُبَلِّغُكُمْ رِسَالَاتِ رَبِّي وَأَنْصَحُ لَكُمْ وَأَعْلَمُ مِنَ اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ(7.62)

আরবি উচ্চারণ ৭.৬২। উবাল্লিগুকুম্ রিসা-লা-তি রব্বী অ আন্ছোয়াহু লাকুম্ অআ’লামু মিনাল্লা-হি মা-লা-তা’-লামূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৬২ ‘আমি তোমাদের নিকট পৌঁছাচ্ছি আমার রবের রিসালাতসমূহ এবং তোমাদের কল্যাণ কামনা করছি। আর আমি আল্লাহর কাছ থেকে এমন কিছু জানি, যা তোমরা জান না’।

أَوَعَجِبْتُمْ أَنْ جَاءَكُمْ ذِكْرٌ مِنْ رَبِّكُمْ عَلَى رَجُلٍ مِنْكُمْ لِيُنْذِرَكُمْ وَلِتَتَّقُوا وَلَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ(7.63)

আরবি উচ্চারণ ৭.৬৩। আঅ ‘আজ্বিব্তুম্ আন্ জ্বা – য়াকুম্ যিক্রুম্ র্মি রব্বিকুম্ ‘আলা-রাজুলিম্ মিন্কুম্ লিইয়ুন্যিরাকুম্ অলিতাত্তাকু অলা‘আল্লাকুম্ র্তুহামূন।

বাংলা অনুবাদ ৭.৬৩ ‘তোমরা কি আশ্চর্য হচ্ছো যে, তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তির নিকট উপদেশ এসেছে, যাতে সে তোমাদেরকে সতর্ক করে, আর যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর এবং যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও’?

فَكَذَّبُوهُ فَأَنْجَيْنَاهُ وَالَّذِينَ مَعَهُ فِي الْفُلْكِ وَأَغْرَقْنَا الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمًا عَمِينَ(7.64)

আরবি উচ্চারণ ৭.৬৪। ফাকায্যাবূহু ফাআন্জ্বাইনা-হু অল্লাযীনা মা‘আহূ ফিল্ফুল্কি অআগ্রাকনাল্ লাযীনা কায্যাবূ বিআ-ইয়া-তিনা-; ইন্নাহুম্ কা-নূ ক্বাওমান্ ‘আমীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৬৪ অতঃপর তারা তাকে মিথ্যাবাদী বলল। ফলে আমি তাকে ও তার সাথে নৌকায় যারা ছিল তাদেরকে রক্ষা করলাম; আর যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছিল তাদেরকে আমি ডুবিয়ে দিলাম। নিশ্চয় তারা ছিল অন্ধ কওম।

وَإِلَى عَادٍ أَخَاهُمْ هُودًا قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ أَفَلَا تَتَّقُونَ (7.65)

আরবি উচ্চারণ ৭.৬৫। অইলা- ‘আ-দিন্ আখা-হুম্ হূদা-; ক্ব-লা ইয়া-ক্বওমি’বুদুল্লা-হা মা- লাকুম্ মিন্ ইলা-হিন্ গাইরুহ্; আফালা-তাত্তাকুন্ ।

বাংলা অনুবাদ ৭.৬৫ আর (প্রেরণ করলাম) আদ জাতির নিকট তাদের ভাই হূদকে। সে বলল, ‘হে আমার কওম, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর। তিনি ছাড়া তোমাদের কোন (সত্য) ইলাহ নেই। তোমরা কি তাকওয়া অবলম্বন করবে না’?

قَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ قَوْمِهِ إِنَّا لَنَرَاكَ فِي سَفَاهَةٍ وَإِنَّا لَنَظُنُّكَ مِنَ الْكَاذِبِينَ(7.66)

আরবি উচ্চারণ ৭.৬৬। ক্ব-লাল্ মালাউল্লাযীনা কাফারূ মিন্ কওমিহী য় ইন্না-লানারা-কা ফী সাফা-হাতিওঁ অইন্না-লানাজুন্ন ুকা মিনাল্ কা-যিবীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৬৬ তার কওমের কাফির নেতৃবৃন্দ বলল, ‘নিশ্চয় আমরা তোমাকে নির্বুদ্ধিতায় দেখতে পাচ্ছি এবং আমরা অবশ্যই তোমাকে মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত মনে করি’।

قَالَ يَا قَوْمِ لَيْسَ بِي سَفَاهَةٌ وَلَكِنِّي رَسُولٌ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ(7.67)

আরবি উচ্চারণ ৭.৬৭। ক্ব-লা ইয়া-ক্বওমি লাইসা বী সাফা-হাতুওঁ অলা-কিন্নী রাসূলুম্ র্মি রব্বিল্ ‘আ-লামীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৬৭ সে বলল, ‘হে আমার কওম, আমার মধ্যে কোন নির্বুদ্ধিতা নেই; কিন্তু আমি সকল সৃষ্টির রবের পক্ষ থেকে রাসূল’।

أُبَلِّغُكُمْ رِسَالَاتِ رَبِّي وَأَنَا لَكُمْ نَاصِحٌ أَمِينٌ(7.68)

আরবি উচ্চারণ ৭.৬৮। উবাল্লিগুকুম্ রিসা-লাতি রব্বী অ আনা লাকুম্ না-ছিহুন্ আমীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৬৮ ‘আমি তোমাদের নিকট আমার রবের রিসালাতসমূহ পৌঁছাচ্ছি, আর আমি তোমাদের জন্য কল্যাণকামী বিশ্বস্ত’।

أَوَعَجِبْتُمْ أَنْ جَاءَكُمْ ذِكْرٌ مِنْ رَبِّكُمْ عَلَى رَجُلٍ مِنْكُمْ لِيُنْذِرَكُمْ وَاذْكُرُوا إِذْ جَعَلَكُمْ خُلَفَاءَ مِنْ بَعْدِ قَوْمِ نُوحٍ وَزَادَكُمْ فِي الْخَلْقِ بَسْطَةً فَاذْكُرُوا آلَاءَ اللَّهِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ (7.69)

আরবি উচ্চারণ ৭.৬৯। আঅ‘আজ্বিব্তুম্ আন্ জ্বা – য়াকুম্ যিক্রুম্ র্মি রব্বিকুম্ ‘আলা-রাজুলিম্ মিন্কুম্ লিইয়ুন্যিরাকুম্; অয্কুরূ য় ইয্ জ্বা‘আলাকুম্ খুলাফা – য়া মিম্ বা’দ্বি ক্বওমি নূহিওঁ অযা-দাকুম্ ফিল্ খাল্ক্বি বাছ্ত্বোয়াতান্ ফায্কুরূ য় আ-লা – য়াল্লা-হি লা‘আল্লাকুম্ তুফ্লিহূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৬৯ ‘তোমরা কি আশ্চর্য হচ্ছো যে, তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তির নিকট উপদেশ এসেছে, যাতে সে তোমাদেরকে সতর্ক করে? আর তোমরা স্মরণ কর, যখন তিনি তোমাদেরকে নূহের কওমের পর স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন এবং সৃষ্টিতে তোমাদেরকে দৈহিক গঠন ও শক্তিতে সমৃদ্ধ করেছেন। সুতরাং তোমরা স্মরণ কর আল্লাহর নিআমতসমূহকে, যাতে তোমরা সফলকাম হও’।

قَالُوا أَجِئْتَنَا لِنَعْبُدَ اللَّهَ وَحْدَهُ وَنَذَرَ مَا كَانَ يَعْبُدُ آبَاؤُنَا فَأْتِنَا بِمَا تَعِدُنَا إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ(7.70)

আরবি উচ্চারণ ৭.৭০। ক্ব-লূ য় আজ্বিতানা-লিনা’বুদাল্লা-হা অহ্দাহূ অ নাযারা মা- কা-না ইয়া’বুদু আ-বা – উনা-; ফা’তিনা- বিমা- তা‘ইদুনা য় ইন্ কুন্তা মিনাছ্ ছোয়া-দিক্বীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৭০ তারা বলল, ‘তুমি কি আমাদের নিকট এজন্য এসেছ যে, আমরা এক আল্লাহর ইবাদাত করি এবং ত্যাগ করি আমাদের পিতৃপুরুষগণ যার ইবাদাত করত? সুতরাং তুমি আমাদেরকে যে ওয়াদা দিচ্ছ, তা আমাদের কাছে নিয়ে এসো, যদি তুমি সত্যবাদী হও’।

قَالَ قَدْ وَقَعَ عَلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ رِجْسٌ وَغَضَبٌ أَتُجَادِلُونَنِي فِي أَسْمَاءٍ سَمَّيْتُمُوهَا أَنْتُمْ وَآبَاؤُكُمْ مَا نَزَّلَ اللَّهُ بِهَا مِنْ سُلْطَانٍ فَانْتَظِرُوا إِنِّي مَعَكُمْ مِنَ الْمُنْتَظِرِينَ(7.71)

আরবি উচ্চারণ ৭.৭১। ক্ব-লা ক্বদ্ অক্বা‘আ ‘আলাইকুম্ র্মি রব্বিকুম্ রিজসুওঁ অগাদ্বোয়াব্; আতুজ্বা-দিলূনানী ফী য় আস্মা – য়িন্ সাম্মাইতুমূহা য় আন্তুম্ অ আ-বা – উকুম্ মা-নায্যালাল্লা-হু বিহা-মিন্ সুলত্বোয়া-ন্; ফান্তাজিরূ য় ইন্নী মা‘আকুম্ মিনাল্ মুন্তাজিরীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৭১ সে বলল, ‘নিশ্চয় তোমাদের উপর তোমাদের রবের পক্ষ থেকে আযাব ও ক্রোধ পতিত হয়েছে। তোমরা কি এমন নামসমূহের ব্যাপারে আমার সাথে বিবাদ করছ, যার নামকরণ করেছ তোমরা ও তোমাদের পিতৃপুরুষরা, যার ব্যাপারে আল্লাহ কোন প্রমাণ নাযিল করেননি? সুতরাং তোমরা অপেক্ষা কর। আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষা করছি’।

فَأَنْجَيْنَاهُ وَالَّذِينَ مَعَهُ بِرَحْمَةٍ مِنَّا وَقَطَعْنَا دَابِرَ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَمَا كَانُوا مُؤْمِنِينَ(7.72)

আরবি উচ্চারণ ৭.৭২। ফাআন্জ্বাইনা-হু অল্লাযীনা মা‘আহূ বিরহ্মাতিম্ মিন্না-অক্বাত্বোয়া’না- দা-বিরাল্লাযীনা কায্যাবূ বিআ-ইয়া-তিনা- অমা-কা-নূ মুমিনীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৭২ অতঃপর আমি তাকে ও তার সাথে যারা ছিল, তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে রহমত দ্বারা রক্ষা করেছি এবং তাদের মূল কেটে দিয়েছি, যারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছিল। আর তারা মুমিন ছিল না।

وَإِلَى ثَمُودَ أَخَاهُمْ صَالِحًا قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ قَدْ جَاءَتْكُمْ بَيِّنَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ هَذِهِ نَاقَةُ اللَّهِ لَكُمْ آيَةً فَذَرُوهَا تَأْكُلْ فِي أَرْضِ اللَّهِ وَلَا تَمَسُّوهَا بِسُوءٍ فَيَأْخُذَكُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ(7.73)

আরবি উচ্চারণ ৭.৭৩। অইলা-ছামূদা আখা-হুম্ ছোয়া-লিহা-। ক্ব-লা ইয়া-ক্বওমি’বুদু ল্লা-হা মা-লাকুম্ মিন্ ইলা-হিন্ গাইরুহ্; ক্বদ্ জ্বা – য়াত্কুম্ বাইয়্যিনাতুম্ র্মি রব্বিকুম্; হা-যিহী না-ক্বাতুল্লা-হি লাকুম্ আ-ইয়াতান্ ফাযারূহা-তাকুল্ ফী য় র্আদ্বিল্লা-হি অলা- তামাস্সূহা-বিস্সূ – য়িন্ ফাইয়াখুযাকুম্ ‘আযা-বুন্ আলীম্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৭৩ আর সামূদের নিকট (প্রেরণ করেছি) তাদের ভাই সালিহকে। সে বলল, ‘হে আমার কওম, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর। তিনি ছাড়া তোমাদের কোন (সত্য) ইলাহ নেই। নিশ্চয় তোমাদের নিকট তোমাদের রবের পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণ এসেছে। এটি আল্লাহর উষ্ট্রী, তোমাদের জন্য নিদর্শনস্বরূপ। সুতরাং তোমরা তাকে ছেড়ে দাও, সে আল্লাহর যমীনে আহার করুক। আর তোমরা তাকে মন্দ দ্বারা স্পর্শ করো না। তাহলে তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আযাব পাকড়াও করবে’।

وَاذْكُرُوا إِذْ جَعَلَكُمْ خُلَفَاءَ مِنْ بَعْدِ عَادٍ وَبَوَّأَكُمْ فِي الْأَرْضِ تَتَّخِذُونَ مِنْ سُهُولِهَا قُصُورًا وَتَنْحِتُونَ الْجِبَالَ بُيُوتًا فَاذْكُرُوا آلَاءَ اللَّهِ وَلَا تَعْثَوْا فِي الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ (7.74)

আরবি উচ্চারণ ৭.৭৪। অয্কুরূ য় ইয্ জ্বা‘আলাকুম্ খুলাফা – য়া মিম্ বা’দি ‘আ-দিওঁ অ বাওয়্যায়াকুম্ ফিল্ র্আদ্বি তাত্তাখিযূনা মিন্ সুহূলিহা-কুছূরাওঁ অতান্হিতূনাল্ জ্বিবা-লা বুইয়ূতান্ ফায্কুরূ য় আ-লা – য়াল্লা-হি অলা-তা’ছাও ফিল্ র্আদ্বি মুফ্সিদীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৭৪ আর স্মরণ কর, যখন আদ জাতির পর তিনি তোমাদেরকে স্থলাভিষিক্ত করলেন এবং তোমাদেরকে যমীনে আবাস দিলেন। তোমরা তার সমতল ভূমিতে প্রাসাদ নির্মাণ করছ এবং পাহাড় কেটে বাড়ি বানাচ্ছ। সুতরাং তোমরা আল্লাহর নিআমতসমূহকে স্মরণ কর এবং যমীনে ফাসাদকারীরূপে ঘুরে বেড়িয়ো না।

قَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا مِنْ قَوْمِهِ لِلَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا لِمَنْ آمَنَ مِنْهُمْ أَتَعْلَمُونَ أَنَّ صَالِحًا مُرْسَلٌ مِنْ رَبِّهِ قَالُوا إِنَّا بِمَا أُرْسِلَ بِهِ مُؤْمِنُونَ(7.75)

আরবি উচ্চারণ ৭.৭৫। ক্বা-লাল্ মালাউল্ লাযীনাস্ তাক্বারূ মিন্ ক্বওমিহী লিল্লাযীনাস্ তুদ্ব্‘ইফূ লিমান্ আ-মানা মিন্ হুম্ আতা’লামূনা আন্না ছোয়া-লিহাম্ র্মুসালুম্ র্মি রব্বিহ্; ক্বা-লূ য় ইন্না- বিমা য় র্উসিলা বিহী- মু’মিনূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৭৫ তার কওমের অহঙ্কারী নেতৃবৃন্দ তাদের সেই মুমিনদেরকে বলল যাদেরকে দুর্বল মনে করা হত, ‘তোমরা কি জান যে, সালিহ তার রবের পক্ষ থেকে প্রেরিত’? তারা বলল, ‘নিশ্চয় সে যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছে, আমরা তাতে বিশ্বাসী’।

قَالَ الَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا إِنَّا بِالَّذِي آمَنْتُمْ بِهِ كَافِرُونَ(7.76)

আরবি উচ্চারণ ৭.৭৬। ক্ব-লাল্লাযীনাস্ তাক্বারূ য় ইন্না- বিল্লাযী য় আ-মান্তুম্ বিহী ক্বা-ফিরূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৭৬ যারা অহঙ্কার করেছিল তারা বলল, ‘নিশ্চয় তোমরা যার প্রতি ঈমান এনেছ, আমরা তার প্রতি অস্বীকারকারী’।

فَعَقَرُوا النَّاقَةَ وَعَتَوْا عَنْ أَمْرِ رَبِّهِمْ وَقَالُوا يَا صَالِحُ ائْتِنَا بِمَا تَعِدُنَا إِنْ كُنْتَ مِنَ الْمُرْسَلِينَ(7.77)

আরবি উচ্চারণ ৭.৭৭। ফা‘আক্বারুন্ না-ক্বাতা অ‘আতাও ‘আন্ আম্রি রব্বিহিম্ অক্বা-লূ ইয়া-ছোয়া-লিহুতিনা-বিমা-তা‘ইদুনা য় ইন্ কুন্তা মিনাল্ র্মুসালীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৭৭ অতঃপর তারা উষ্ট্রীকে যবেহ করল এবং তাদের রবের আদেশ অমান্য করল। আর তারা বলল, ‘হে সালিহ, তুমি আমাদেরকে যে ওয়াদা দিয়েছ, তা আমাদের কাছে নিয়ে এসো, যদি তুমি রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাক’।

فَأَخَذَتْهُمُ الرَّجْفَةُ فَأَصْبَحُوا فِي دَارِهِمْ جَاثِمِينَ (7.78)

আরবি উচ্চারণ ৭.৭৮। ফাআখাযাত্হুর্মু রাজফাতু ফাআছ্বাহূ ফী দা-রিহিম্ জ্বা-ছিমীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৭৮ ফলে তাদেরকে ভূমিকম্প পাকড়াও করল, তাই সকালে তারা তাদের গৃহে উপুড় হয়ে মরে রইল।

فَتَوَلَّى عَنْهُمْ وَقَالَ يَا قَوْمِ لَقَدْ أَبْلَغْتُكُمْ رِسَالَةَ رَبِّي وَنَصَحْتُ لَكُمْ وَلَكِنْ لَا تُحِبُّونَ النَّاصِحِينَ(7.79)

আরবি উচ্চারণ ৭.৭৯। ফাতাঅল্লা ‘আন্হুম্ অক্ব-লা ইয়া-ক্বওমি লাক্বাদ্ আব্লাগ্তুকুম্ রিসা-লাতা রব্বী অনাছোয়াহ্তু লাকুম্ অলা-কিল্ লা-তুহিব্বূনান্ না-ছিহীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৭৯ অতঃপর সে তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল এবং বলল, ‘হে আমার কওম, আমি তো তোমাদের নিকট আমার রবের রিসালাত পৌঁছে দিয়েছি এবং তোমাদের জন্য কল্যাণ কামনা করেছি; কিন্তু তোমরা কল্যাণকামীদেরকে পছন্দ কর না’।

وَلُوطًا إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ أَتَأْتُونَ الْفَاحِشَةَ مَا سَبَقَكُمْ بِهَا مِنْ أَحَدٍ مِنَ الْعَالَمِينَ(7.80)

আরবি উচ্চারণ ৭.৮০। অলূত্বোয়ান্ ইয্ ক্ব-লা লিক্বাওমিহী য় আতাতূ নাল্ ফা-হিশাতা মা- সাবাক্বাকুম্ বিহা-মিন্ আহাদিম্ মিনাল্ ‘আ-লামীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৮০ আর (প্রেরণ করেছি) লূতকে। যখন সে তার কওমকে বলল, ‘তোমরা কি এমন অশ্লীল কাজ করছ, যা তোমাদের পূর্বে সৃষ্টিকুলের কেউ করেনি’?

إِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الرِّجَالَ شَهْوَةً مِنْ دُونِ النِّسَاءِ بَلْ أَنْتُمْ قَوْمٌ مُسْرِفُونَ(7.81)

আরবি উচ্চারণ ৭.৮১। ইন্নাকুম্ লাতা”তূর্না রিজ্বা-লা শাহ্অতাম্ মিন্ দূনিন্ নিসা – ই; বাল্ আন্তুম্ ক্বাওমুম্ মুস্রিফূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৮১ ‘তোমরা তো নারীদের ছাড়া পুরুষদের সাথে কামনা পূর্ণ করছ, বরং তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী কওম’।

وَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهِ إِلَّا أَنْ قَالُوا أَخْرِجُوهُمْ مِنْ قَرْيَتِكُمْ إِنَّهُمْ أُنَاسٌ يَتَطَهَّرُونَ (7.82)

আরবি উচ্চারণ ৭.৮২। অমা- কা-না জ্বাঅ-বা ক্বওমিহী য় ইল্লা য় আন্ ক্ব-লূ য় আখ্রিজুহুম্ মিন্ র্ক্বইয়াতিকুম্, ইন্নাহুম্ উনা-সুইঁ ইয়াতাত্বোয়াহ্হারূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৮২ আর তার কওমের উত্তর কেবল এই ছিল যে, তারা বলল, ‘তাদেরকে তোমরা তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও। নিশ্চয় তারা এমন লোক, যারা অতি পবিত্র হতে চায়’।

فَأَنْجَيْنَاهُ وَأَهْلَهُ إِلَّا امْرَأَتَهُ كَانَتْ مِنَ الْغَابِرِينَ(7.83)

আরবি উচ্চারণ ৭.৮৩। ফাআন্জ্বাইনা-হু অআহ্লাহূ য় ইল্লাম্রায়াতাহূ কা-নাত্ মিনাল্ গা-বিরীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৮৩ তাই আমি তাকে ও তার পরিবারকে রক্ষা করলাম তার স্ত্রী ছাড়া। সে ছিল পেছনে থেকে যাওয়া লোকদের অন্তর্ভুক্ত।

وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِمْ مَطَرًا فَانْظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُجْرِمِينَ(7.84)

আরবি উচ্চারণ ৭.৮৪। অআম্ত্বোর্য়ানা ‘আলাইহিম্ মাত্বোয়ারা-; ফার্ন্জু কাইফা কা-না ‘আ-ক্বিবাতুল্ মুজরিমীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৮৪ আর আমি তাদের উপর বর্ষণ করেছিলাম বৃষ্টি। সুতরাং দেখ, অপরাধীদের পরিণতি কিরূপ ছিল।

وَإِلَى مَدْيَنَ أَخَاهُمْ شُعَيْبًا قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ قَدْ جَاءَتْكُمْ بَيِّنَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ فَأَوْفُوا الْكَيْلَ وَالْمِيزَانَ وَلَا تَبْخَسُوا النَّاسَ أَشْيَاءَهُمْ وَلَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ بَعْدَ إِصْلَاحِهَا ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ (7.85)

আরবি উচ্চারণ ৭.৮৫। অইলা-মাদ্ইয়ানা আখা-হুম্ শু‘আইবা-ক্ব-লা ইয়া-ক্বওমি’বুদুল্লা- হা মা- লাকুম্ মিন্ ইলা-হিন্ গাইরুহ্; ক্বাদ্ জ্বা – য়াত্কুম্ বাইয়্যিনাতুম্ র্মি রব্বিকুম্ ফাআওফুল্ কাইলা অল্ মীযা-না অলা-তাব্খাসুন্না-সা আশ্ইয়া – য়াহুম্ অলা-তুফ্সিদূ ফিল্ আরদ্বি বা’দা ইছ্লা-হিহা-; যা-লিকুম্ খাইরুল্লাকুম্ ইন্ কুন্তুম্ মুমিনীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৮৫ আর মাদইয়ানে (প্রেরণ করেছিলাম) তাদের ভাই শু‘আইবকে। সে বলল, ‘হে আমার কওম, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর। তিনি ছাড়া তোমাদের কোন (সত্য) ইলাহ নেই। তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট স্পষ্ট প্রমাণ এসেছে। সুতরাং তোমরা পরিমাণে ও ওজনে পরিপূর্ণ দাও এবং মানুষকে তাদের পণ্যে কম দেবে না; আর তোমরা যমীনে ফাসাদ করবে না তা সংশোধনের পর। এগুলো তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা মুমিন হও’।

وَلَا تَقْعُدُوا بِكُلِّ صِرَاطٍ تُوعِدُونَ وَتَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِهِ وَتَبْغُونَهَا عِوَجًا وَاذْكُرُوا إِذْ كُنْتُمْ قَلِيلًا فَكَثَّرَكُمْ وَانْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُفْسِدِينَ(7.86)

আরবি উচ্চারণ ৭.৮৬। অলা-তাক‘উদূ বিকুল্লি ছিরা-ত্বিন্ তূ‘ইদূনা অতাছুদ্দূনা ‘আন্ সাবীলিল্লা-হি মান্্ আ-মানা বিহী অতাবগূনাহা-‘ইওয়াজ্বান্ অয্কুরূ য় ইয্ কুন্তুম্ ক্বলীলান্ ফাকাছ্ছারাকুম্ অন্জুরূ কাইফা কা-না ‘আ-ক্বিবাতুল্ মুফ্সিদীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৮৬ ‘আর যারা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে তাদেরকে ভয় দেখাতে, আল্লাহর পথ থেকে বাধা দিতে এবং তাতে বক্রতা অনুসন্ধান করতে তোমরা প্রতিটি পথে বসে থেকো না’। আর স্মরণ কর, যখন তোমরা ছিলে কম, অতঃপর তিনি তোমাদেরকে অধিক করেছেন এবং দেখ, কিরূপ হয়েছে ফাসাদকারীদের পরিণতি।

وَإِنْ كَانَ طَائِفَةٌ مِنْكُمْ آمَنُوا بِالَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ وَطَائِفَةٌ لَمْ يُؤْمِنُوا فَاصْبِرُوا حَتَّى يَحْكُمَ اللَّهُ بَيْنَنَا وَهُوَ خَيْرُ الْحَاكِمِينَ(7.87)

আরবি উচ্চারণ ৭.৮৭। অইন্ কা-না ত্বোয়া – য়িফাতুম্ মিন্কুম্ আ-মানূ বিল্লাযী য় র্উসিল্তু বিহী-অত্বোয়া – রিফাতুল্ লাম্ ইয়ুমিনূ ফাছ্বিরূ হাত্তা-ইয়াহ্কুমাল্লা-হু বাইনানা-অহুঅ খাইরুল্ হা-কিমীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৮৭ আমি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি, তার প্রতি যদি তোমাদের একটি দল ঈমান আনে আর অন্য দল ঈমান না আনে, তাহলে ধৈর্যধারণ কর, যতক্ষণ না আল্লাহ আমাদের মধ্যে ফয়সালা করেন। আর তিনি উত্তম ফয়সালাকারী।

قَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا مِنْ قَوْمِهِ لَنُخْرِجَنَّكَ يَا شُعَيْبُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَكَ مِنْ قَرْيَتِنَا وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَكَ مِنْ قَرْيَتِنَا أَوْ لَتَعُودُنَّ فِي مِلَّتِنَا قَالَ أَوَلَوْ كُنَّا كَارِهِينَ(7.88)

আরবি উচ্চারণ ৭.৮৮। ক্ব-লাল্ মালাউল্লাযীনাস্ তাক্বারূ মিন্ ক্বওমিহী লানুখ্রিজ্বান্নাকা ইয়া-শু‘আইবু অল্লাযীনা আ-মানূ মা‘আকা মিন্ র্ক্বইয়াতিনা য় আও লাতা‘উদুন্না ফী মিল্লাতিনা-; ক্ব-লা আঅ লাও কুন্না-কা-রিহীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৮৮ তার কওম থেকে যে নেতৃবৃন্দ অহঙ্কার করেছিল তারা বলল, ‘হে শু‘আইব, আমরা তোমাকে ও তোমার সাথে যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে অবশ্যই আমাদের জনপদ থেকে বের করে দেব অথবা তোমরা আমাদের ধর্মে ফিরে আসবে।’ সে বলল, ‘যদিও আমরা অপছন্দ করি তবুও?’

قَدِ افْتَرَيْنَا عَلَى اللَّهِ كَذِبًا إِنْ عُدْنَا فِي مِلَّتِكُمْ بَعْدَ إِذْ نَجَّانَا اللَّهُ مِنْهَا وَمَا يَكُونُ لَنَا أَنْ نَعُودَ فِيهَا إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ رَبُّنَا وَسِعَ رَبُّنَا كُلَّ شَيْءٍ عِلْمًا عَلَى اللَّهِ تَوَكَّلْنَا رَبَّنَا افْتَحْ بَيْنَنَا وَبَيْنَ قَوْمِنَا بِالْحَقِّ وَأَنْتَ خَيْرُ الْفَاتِحِينَ(7.89)

আরবি উচ্চারণ ৭.৮৯। ক্বদিফ্তারাইনা-‘আলাল্লা-হি কাযিবান্ ইন্ ‘উদ্না-ফী মিল্লাতিকুম্ বা’দা ইয্ নাজ্জ্বা-নাল্লা-হু মিন্হা-; অমা-ইয়াকূনূ লানা য় আন্না‘ঊদা ফী হা য় ইল্লা য় আইঁ ইয়াশা – য়াল্লা-হু রব্বুনা-; অসি‘আ রব্বুনা-কুল্লা শাইয়িন্ ‘ইল্মা-; ‘আলাল্লা-হি তাওয়াক্কাল্না-; রব্বানাফ্তাহ্ বাইনানা- অবাইনা ক্বওমিনা-বিল্হাকক্বি অআন্তা খাইরুল্ ফা-তিহীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৮৯ আমরা তো আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করলাম যদি আমরা তোমাদের ধর্মে ফিরে যাইÑ সেই ধর্ম থেকে আল্লাহ আমাদেরকে নাজাত দেয়ার পর। আর আমাদের জন্য উচিত হবে না তাতে ফিরে যাওয়া। তবে আমাদের রব আল্লাহ চাইলে (সেটা ভিন্ন কথা)। আমাদের রব জ্ঞান দ্বারা সব কিছু পরিব্যাপ্ত করে আছেন। আল্লাহরই উপর আমরা তাওয়াক্কুল করি। হে আমাদের রব, আমাদের ও আমাদের কওমের মধ্যে যথার্থ ফয়সালা করে দিন। আর আপনি শ্রেষ্ঠ ফয়সালাকারী।

وَقَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ قَوْمِهِ لَئِنِ اتَّبَعْتُمْ شُعَيْبًا إِنَّكُمْ إِذًا لَخَاسِرُونَ 7.90

আরবি উচ্চারণ ৭.৯০। অক্ব-লাল্ মালাউল্লাযীনা কাফারূ মিন্ ক্বওমিহী লায়িনিত্ তাবা’তুম্ শু‘আইবান্ ইন্নাকুম ইযাল্লাখা-সিরূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৯০ আর তার কওম থেকে যে নেতৃবৃন্দ কুফরী করেছিল তারা বলল, ‘যদি তোমরা শু‘আইবকে অনুসরণ কর তাহলে নিশ্চয় তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

فَأَخَذَتْهُمُ الرَّجْفَةُ فَأَصْبَحُوا فِي دَارِهِمْ جَاثِمِينَ(7.91)

আরবি উচ্চারণ ৭.৯১। ফাআখাযাত্হুর্মু রাজফাতু ফাআছ্বাহূ ফী দা-রিহীম জ্বা-ছিমীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৯১ অতঃপর ভূমিকম্প তাদের পাকড়াও করল। তারপর তারা তাদের গৃহে উপুড় হয়ে মরে রইল।

الَّذِينَ كَذَّبُوا شُعَيْبًا كَأَنْ لَمْ يَغْنَوْا فِيهَا الَّذِينَ كَذَّبُوا شُعَيْبًا كَانُوا هُمُ الْخَاسِرِينَ(7.92)

আরবি উচ্চারণ ৭.৯২। আল্লাযীনা কায্যাবূ শু‘আইবান্ কাআল লাম্ ইয়াগ্নাও ফীহা-আল্লাযীনা কায্যাবূ শু‘আইবান্ কা-নূ হুমুল খা-সিরীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৯২ যারা শু‘আইবকে মিথ্যাবাদী বলেছিল, মনে হয় যেন তারা সেখানে বসবাসই করেনি। যারা শু‘আইবকে মিথ্যাবাদী বলেছিল তারাই ছিল ক্ষতিগ্রস্ত।

فَتَوَلَّى عَنْهُمْ وَقَالَ يَا قَوْمِ لَقَدْ أَبْلَغْتُكُمْ رِسَالَاتِ رَبِّي وَنَصَحْتُ لَكُمْ فَكَيْفَ آسَى عَلَى قَوْمٍ كَافِرِينَ(7.93)

আরবি উচ্চারণ ৭.৯৩। ফাতাওয়াল্লা-‘আন্হুম্ অক্ব-লা ইয়া-ক্বওমি লাক্বদ্ আব্লাগ্তুকুম্ রিসা-লা-তি রব্বী অনাছোয়াহ্তু লাকুম্, ফাকাইফা আ-সা- ‘আলা-ক্বওমিন্ কা-ফিরীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৯৩ অতঃপর সে তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল এবং বলল, হে আমার কওম, আমি তো তোমাদের কাছে আমার রবের রিসালাতের দায়িত্ব পৌঁছে দিয়েছি এবং তোমাদের জন্য কল্যাণ কামনা করেছি। সুতরাং আমি কীভাবে কাফির জাতির ব্যাপারে দুঃখ করব!

وَمَا أَرْسَلْنَا فِي قَرْيَةٍ مِنْ نَبِيٍّ إِلَّا أَخَذْنَا أَهْلَهَا بِالْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ لَعَلَّهُمْ يَضَّرَّعُونَ (7.94)

আরবি উচ্চারণ ৭.৯৪। অমা য় র্আসাল্না- ফী র্ক্বইয়াতিম্ মিন্ নাবিয়্যিন ইল্লা য় আখায্না য়আহ্লাহা-বিল্বা’সা-য়ি অদ্ব দ্বোর্য়ারা-য়ি লা‘আল্লাহুম্ ইয়াদ্ব দ্বোর্য়ারা‘ঊন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৯৪ যে জনপদেই আমি নবী প্রেরণ করেছি, তার অধিবাসীকে আমি অর্থ-সংকট ও দুঃখ-কষ্ট দ্বারা পাকড়াও করেছি, যেন তারা অনুনয় বিনয় করে।

ثُمَّ بَدَّلْنَا مَكَانَ السَّيِّئَةِ الْحَسَنَةَ حَتَّى عَفَوْا وَقَالُوا قَدْ مَسَّ آبَاءَنَا الضَّرَّاءُ وَالسَّرَّاءُ فَأَخَذْنَاهُمْ بَغْتَةً وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ(7.95)

আরবি উচ্চারণ ৭.৯৫। ছুম্মা বাদ্দাল্না-মাকা-নাস্ সাইয়িয়াতিল্ হাসানাতা হাত্তা- ‘আফাও অক্ব-লূ ক্বদ্ মাস্সা আ-বা – য়ানাদ্ব্ দ্বোর্য়ারা – উ অর্স্সারা – উ ফাআখায্না-হুম্ বাগ্তাতাওঁ অহুম্ লা-ইয়াশ্‘উরূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৯৫ তারপর আমি মন্দ অবস্থাকে ভাল অবস্থা দ্বারা বদলে দিয়েছি। অবশেষে তারা প্রাচুর্য লাভ করেছে এবং বলেছে, ‘আমাদের বাপ-দাদাদেরকেও দুর্দশা ও আনন্দ স্পর্শ করেছে।’ অতঃপর আমি তাদেরকে হঠাৎ পাকড়াও করেছি এমনভাবে যে, তারা উপলব্ধিও করতে পারেনি।

وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَى آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكَاتٍ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَلَكِنْ كَذَّبُوا فَأَخَذْنَاهُمْ بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ(7.96)

আরবি উচ্চারণ ৭.৯৬। অলাও আন্না আহ্লাল্ কুর য় আ-মানূ অত্তাক্বও লাফাতাহ্না-‘আলাইহিম্ বারাকা-তিম্ মিনাস্ সামা – য়ি অল্র্আদ্বি অলা-কিন্ কায্যাবূ ফাআখায্না-হুম্ বিমা-কা-নূ ইয়াক্সিবূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৯৬ আর যদি জনপদসমূহের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত তাহলে আমি অবশ্যই আসমান ও যমীন থেকে বরকতসমূহ তাদের উপর খুলে দিতাম; কিন্তু তারা অস্বীকার করল। অতঃপর তারা যা অর্জন করত তার কারণে আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম।

أَفَأَمِنَ أَهْلُ الْقُرَى أَنْ يَأْتِيَهُمْ بَأْسُنَا بَيَاتًا وَهُمْ نَائِمُونَ(7.97)

আরবি উচ্চারণ ৭.৯৭। আফাআমিনা আহ্লুল্ কুরা য় আইঁ ইয়াতিয়াহুম্ বাসুনা বাইয়া-তাওঁ অহুম্ না – য়িমূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৯৭ জনপদগুলোর অধিবাসীরা কি রাতের বেলা তাদের কাছে আমার আযাব এসে যাওয়া থেকে নিরাপদ হয়ে গিয়েছে যখন তারা ঘুমিয়ে থাকবে?

أَوَأَمِنَ أَهْلُ الْقُرَى أَنْ يَأْتِيَهُمْ بَأْسُنَا ضُحًى وَهُمْ يَلْعَبُونَ(7.98)

আরবি উচ্চারণ ৭.৯৮। আওয়া আমিনা আহলুল্ কুর য় আইঁ ইয়া তিয়াহুম্ বাসুনা- দ্বুহাওঁ অহুম্ ইয়াল্‘আবূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৯৮ অথবা জনপদগুলোর অধিবাসীরা কি দ্বিপ্রহরে তাদের কাছে আমার আযাব এসে যাওয়া থেকে নিরাপদ হয়ে গিয়েছে যখন তারা খেলা-ধুলা করতে থাকবে?

أَفَأَمِنُوا مَكْرَ اللَّهِ فَلَا يَأْمَنُ مَكْرَ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْخَاسِرُونَ(7.99)

আরবি উচ্চারণ ৭.৯৯। আফাআমিনূ মাক্রল্লা-হি, ফালা-ইয়ামানু মাক্রল্লা-হি ইল্লাল্ ক্বওমুল্ খা-সিরূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.৯৯ তারা কি আল্লাহর কৌশল থেকে নিরাপদ হয়ে গিয়েছে? বস্তুত ক্ষতিগ্রস্ত কওম ছাড়া আল্লাহর কৌশল থেকে আর কেউ (নিজদেরকে) নিরাপদ মনে করে না।

أَوَلَمْ يَهْدِ لِلَّذِينَ يَرِثُونَ الْأَرْضَ مِنْ بَعْدِ أَهْلِهَا أَنْ لَوْ نَشَاءُ أَصَبْنَاهُمْ بِذُنُوبِهِمْ وَنَطْبَعُ عَلَى قُلُوبِهِمْ فَهُمْ لَا يَسْمَعُونَ(7.100)

আরবি উচ্চারণ ৭.১০০। আঅলাম্ ইয়াহ্দি লিল্লাযীনা ইয়ারিছুনাল্ র্আদ্বোয়া মিম্ বা’দ্বি আহ্লিহা য় আল্লাও নাশা – উ আছোয়াব্না-হুম্ বিযুনূবিহিম্ অনাত্ববা‘উ ‘আলা-কুলূবিহিম্ ফাহুম্ লা-ইয়াস্মা‘ঊন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১০০ যমীনের অধিবাসীদের (চলে যাবার) পর যারা তার উত্তরাধিকারী হয়, তাদের কি এই হিদায়াত হয়নি যে, আমি যদি চাই, তাদের পাপের কারণে তাদেরকে শাস্তি দিতে পারি? আর আমি মোহর মেরে দেই তাদের হৃদয়ে। অতঃপর তারা শোনে না।

تِلْكَ الْقُرَى نَقُصُّ عَلَيْكَ مِنْ أَنْبَائِهَا وَلَقَدْ جَاءَتْهُمْ رُسُلُهُمْ بِالْبَيِّنَاتِ فَمَا كَانُوا لِيُؤْمِنُوا بِمَا كَذَّبُوا مِنْ قَبْلُ كَذَلِكَ يَطْبَعُ اللَّهُ عَلَى قُلُوبِ الْكَافِرِينَ(7.101)

আরবি উচ্চারণ ৭.১০১। তিল্কাল্ কুরা- নাকুছ্ছু ‘আলাইকা মিন্ ‘আম্বা – য়িহা- অলাক্বদ্ জ্বা – য়াত্হুম্ রুসুলুহুম্ বিল্বাইয়্যিনা-তি ফামা-কা-নূ লিইয়ুমিনু বিমা-কায্যাবূ মিন্ ক্বব্ল্; কাযা-লিকা ইয়াত্ববা‘উল্লা-হু ‘আলা-কুলূবিল্ কা-ফিরীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১০১ এ হল সে সব জনপদ, যার কিছু কাহিনী আমি তোমার কাছে বর্ণনা করছি। আর তাদের কাছে তো স্পষ্ট প্রমাণাদিসহ তাদের রাসূলগণ এসেছিল। কিন্তু যা তারা পূর্বে অস্বীকার করেছিল তার প্রতি তারা ঈমান আনার ছিল না। এমনিভাবে আল্লাহ কাফিরদের অন্তরে মোহর মেরে দেন।

وَمَا وَجَدْنَا لِأَكْثَرِهِمْ مِنْ عَهْدٍ وَإِنْ وَجَدْنَا أَكْثَرَهُمْ لَفَاسِقِينَ (7.102)

আরবি উচ্চারণ ৭.১০২। অমা- অজ্বাদ্না- লিআক্ছারিহিম্ মিন্ ‘আহদিন্ অইওঁ ওয়াজ্বাদ্না য় আক্ছারাহুম্ লাফা-সিক্বীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১০২ আর তাদের অধিকাংশ লোককে আমি অঙ্গীকার রক্ষাকারী পাইনি। বরং তাদের অধিকাংশকে আমি ফাসিক-ই পেয়েছি।

ثُمَّ بَعَثْنَا مِنْ بَعْدِهِمْ مُوسَى بِآيَاتِنَا إِلَى فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِ فَظَلَمُوا بِهَا فَانْظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُفْسِدِينَ(7.103)

আরবি উচ্চারণ ৭.১০৩। ছুম্মা বা‘আছ্না-মিম্ বা’দিহিম্ মূসা-বিআ-ইয়া-তিনা য় ইলা-র্ফি‘আউনা অমালায়িহী ফাজোয়ালামূ বিহা-ফার্ন্জু কাইফা কা-না ‘আ-ক্বিবাতুল্ মুফ্সিদীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১০৩ অতঃপর তাদের পরে আমি মূসাকে আমার আয়াতসমূহ সহকারে ফির‘আউন ও তার সভাসদদের কাছে পাঠিয়েছি। অতঃপর তারা এর সাথে যুলম করেছে। সুতরাং লক্ষ্য কর, ফাসাদকারীদের পরিণাম কীরূপ হয়েছিল।

وَقَالَ مُوسَى يَا فِرْعَوْنُ إِنِّي رَسُولٌ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ(7.104)

আরবি উচ্চারণ ৭.১০৪। অক্ব-লা মূসা-ইয়া-র্ফি‘আউনু ইন্নী রসূলুম্ র্মি রব্বিল্ ‘আ-লামীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১০৪ মূসা বলল, ‘হে ফির‘আউন, আমি তো সকল সৃষ্টির রবের পক্ষ থেকে রাসূল।’

حَقِيقٌ عَلَى أَنْ لَا أَقُولَ عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحَقَّ قَدْ جِئْتُكُمْ بِبَيِّنَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ فَأَرْسِلْ مَعِيَ بَنِي إِسْرَائِيلَ(7.105)

আরবি উচ্চারণ ৭.১০৫। হাক্বীকুন্ ‘আলা য় আল্লা য় আকুলা ‘আলাল্লা-হি ইল্লাল্ হাক; ক্বাদ্ জ্বি” তুকুম্ বিবাইয়্যিনাতিম্ র্মি রব্বিকুম্ ফাআরসিল্ মা‘ই ইয়া বানী য় ইস্রা-ঈল্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১০৫ সমীচীন যে, আমি আল্লাহ সম্পর্কে সত্য ছাড়া বলব না। আমি তোমাদের রবের নিকট থেকে স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছি। সুতরাং তুমি বনী ইসরাঈলকে আমার সাথে পাঠিয়ে দাও।’

قَالَ إِنْ كُنْتَ جِئْتَ بِآيَةٍ فَأْتِ بِهَا إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ(7.106)

আরবি উচ্চারণ ৭.১০৬। ক্ব-লা ইন্ কুন্তা জিতা বিআ-ইয়াতিন্ ফাতি বিহা য় ইন্ কুন্তা মিনাছ্ ছোয়া-দ্বিকীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১০৬ সে বলল, ‘তুমি যদি কোন আয়াত নিয়ে আস তবে তা পেশ কর, যদি তুমি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও।’

فَأَلْقَى عَصَاهُ فَإِذَا هِيَ ثُعْبَانٌ مُبِينٌ (7.107)

আরবি উচ্চারণ ৭.১০৭। ফাআল্ক্বা-‘আছোয়া-হু ফাইযা-হিয়া ছু’বা-নুম্ মুবীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১০৭ তখন সে ছেড়ে দিল তার লাঠি। তৎক্ষণাৎ তা এক স্পষ্ট অজগর হয়ে গেল।

وَنَزَعَ يَدَهُ فَإِذَا هِيَ بَيْضَاءُ لِلنَّاظِرِينَ(7.108)

আরবি উচ্চারণ ৭.১০৮। অনাযা‘আ ইয়াদাহূ ফাইযা-হিয়া বাইদ্বোয়া-উ লিন্না-জিরীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১০৮ আর সে বের করল তার হাত, তৎক্ষণাৎ তা দর্শকদের কাছে ধবধবে সাদা (দেখাচ্ছিল)।

قَالَ الْمَلَأُ مِنْ قَوْمِ فِرْعَوْنَ إِنَّ هَذَا لَسَاحِرٌ عَلِيمٌ(7.109)

আরবি উচ্চারণ ৭.১০৯। ক্ব-লাল্ মালাউ মিন্ ক্বওমি র্ফি‘আউনা ইন্না হা-যা- লাসা-হিরুন্ ‘আলীম্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১০৯ ফির‘আউনের কওমের সভাসদরা বলল, ‘নিশ্চয় এ হল বিজ্ঞ যাদুকর।’

يُرِيدُ أَنْ يُخْرِجَكُمْ مِنْ أَرْضِكُمْ فَمَاذَا تَأْمُرُونَ(7.110)

আরবি উচ্চারণ ৭.১১০। ইয়ুরীদু আইঁ ইয়ুখ্রিজ্বাকুম্ মিন্ র্আদ্বিকুম্, ফামা-যা- তামুরূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১১০ ‘সে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বের করতে চায়, সুতরাং তোমরা কী নির্দেশ দেবে?’

قَالُوا أَرْجِهْ وَأَخَاهُ وَأَرْسِلْ فِي الْمَدَائِنِ حَاشِرِينَ(7.111)

আরবি উচ্চারণ ৭.১১১। ক্ব-লূ য় র্আজ্বিহ্ অআখা-হু অর্আসিল্ ফিল্ মাদা – য়িনি হা-শিরীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১১১ তারা বলল, ‘আপনি তাকে ও তার ভাইকে সুযোগ দিন এবং শহরগুলোতে সংগ্রহকারী পাঠিয়ে দিন।’

يَأْتُوكَ بِكُلِّ سَاحِرٍ عَلِيمٍ(7.112)

আরবি উচ্চারণ ৭.১১২। ইয়াতূকা বিকুল্লি সা-হিরিন্ ‘আলীম্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১১২ ‘তারা আপনার কাছে সকল বিজ্ঞ যাদুকরকে নিয়ে আসবে।’

وَجَاءَ السَّحَرَةُ فِرْعَوْنَ قَالُوا إِنَّ لَنَا لَأَجْرًا إِنْ كُنَّا نَحْنُ الْغَالِبِينَ(7.113)

আরবি উচ্চারণ ৭.১১৩। অজ্বা – য়াস সাহারাতু র্ফি‘আউনা ক্ব-লূ য় ইন্না লানা-লাআজরান্ ইন্ কুন্না নাহ্নুল্ গ-লিবীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১১৩ আর যাদুকররা ফির‘আউনের কাছে আসল। তারা বলল, ‘নিশ্চয় আমাদের জন্য পারিশ্রমিক আছে, যদি আমরা বিজয়ী হই?’

قَالَ نَعَمْ وَإِنَّكُمْ لَمِنَ الْمُقَرَّبِينَ(7.114)

আরবি উচ্চারণ ৭.১১৪। ক্ব-লা না‘আম্ অইন্নাকুম্ লামিনাল্ মুর্ক্বারবীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১১৪ সে বলল, ‘হ্যাঁ, আর অবশ্যই তোমরা আমার ঘনিষ্ঠ লোকদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’

قَالُوا يَا مُوسَى إِمَّا أَنْ تُلْقِيَ وَإِمَّا أَنْ نَكُونَ نَحْنُ الْمُلْقِينَ(7.115)

আরবি উচ্চারণ ৭.১১৫। ক্ব-লূ ইয়া-মূসা য় ইম্মা য় আন্ তুল্ক্বিয়া অইম্মা য় আন্ নাকূনা নাহ্নুল্ মুল্ক্বীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১১৫ তারা বলল, ‘হে মূসা, হয় তুমি নিক্ষেপ করবে, নয়তো আমরাই নিক্ষেপ করব।’

قَالَ أَلْقُوا فَلَمَّا أَلْقَوْا سَحَرُوا أَعْيُنَ النَّاسِ وَاسْتَرْهَبُوهُمْ وَجَاءُوا بِسِحْرٍ عَظِيمٍ(7.116)

আরবি উচ্চারণ ৭.১১৬। ক্ব-লা আল্ক্ব ফালাম্মা য় আল্ক্বও সাহারূ য় আ’ইয়ুনান্ না-সি অর্স্তাহাবূহুম্ অজ্বা – ঊ বিসিহ্রিন্ ‘আজ্বীম্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১১৬ সে বলল, ‘তোমরা নিক্ষেপ কর।’ অতঃপর যখন তারা নিক্ষেপ করল তখন তারা লোকদের চোখে যাদু করল এবং তাদেরকে ভীত করে তুলল। তারা বড় যাদু প্রদর্শন করল। وَأَوْحَيْنَا إِلَى مُوسَى أَنْ أَلْقِ عَصَاكَ فَإِذَا هِيَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُونَ(7.117)

আরবি উচ্চারণ ৭.১১৭। অআওহাইনা য় ইলা-মূসা য় আন্ আল্ক্বি ‘আছোয়া-কা, ফাইযা-হিয়া তাল্ক্বফু মা- ইয়া ফিকূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১১৭ আর আমি মূসার প্রতি ওহী পাঠালাম যে, ‘তুমি তোমার লাঠি ছেড়ে দাও’ তৎক্ষণাৎ সে গিলতে লাগল সেগুলিকে যে অলীক বস্তু তারা বানিয়েছিল।

فَوَقَعَ الْحَقُّ وَبَطَلَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ(7.118)

আরবি উচ্চারণ ৭.১১৮। ফাঅক্বা‘আল্ হাককু অবাত্বোয়ালা মা-কা-নূ ইয়া’মালূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১১৮ ফলে সত্য প্রকাশ হয়ে গেল এবং তারা যা কিছু করছিল তা বাতিল হয়ে গেল।

فَغُلِبُوا هُنَالِكَ وَانْقَلَبُوا صَاغِرِينَ(7.119)

আরবি উচ্চারণ ৭.১১৯। ফাগুলিবূ হুনা-লিকা অন্ক্বালাবূ ছোয়া-গিরীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১১৯ তাই সেখানে তারা পরাজিত হল এবং লাঞ্ছিত হয়ে গেল।

وَأُلْقِيَ السَّحَرَةُ سَاجِدِينَ(7.120)

আরবি উচ্চারণ ৭.১২০। অ উল্ক্বিয়াস্ সাহারাতু সা-জ্বিদীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১২০ আর যাদুকররা সিজদায় পড়ে গেল।

قَالُوا آمَنَّا بِرَبِّ الْعَالَمِينَ(7.121)

আরবি উচ্চারণ ৭.১২১। ক্বা-লূ য় আ-মান্না-বিরব্বিল্ ‘আ-লামীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১২১ তারা বলল, ‘আমরা সকল সৃষ্টির রবের প্রতি ঈমান আনলাম,

رَبِّ مُوسَى وَهَارُونَ(7.122)

আরবি উচ্চারণ ৭.১২২। রব্বি মূসা-অহারূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১২২ মূসা ও হারূনের রবের প্রতি।’

قَالَ فِرْعَوْنُ آمَنْتُمْ بِهِ قَبْلَ أَنْ آذَنَ لَكُمْ إِنَّ هَذَا لَمَكْرٌ مَكَرْتُمُوهُ فِي الْمَدِينَةِ لِتُخْرِجُوا مِنْهَا أَهْلَهَا فَسَوْفَ تَعْلَمُونَ(7.123)

আরবি উচ্চারণ ৭.১২৩। ক্বা-লা র্ফি‘আউনু আ-মান্তুম বিহী ক্বব্লা আন্ আ-যানা লাকুম্, ইন্না হা-যা-লামাক্রুম্ মার্কাতুমূহু ফিল্ মাদীনাতি লিতুখ্রিজু মিন্হা য় আহ্লাহা- ফাসাওফা তা’লামূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১২৩ ফির‘আউন বলল, ‘আমি তোমাদেরকে অনুমতি দেয়ার আগে তোমরা তার প্রতি ঈমান আনলে! নিশ্চয় এটা এমন এক চক্রান্ত যা তোমরা শহরে করেছ সেখান থেকে তার অধিবাসীদেরকে বের করার জন্য। সুতরাং তোমরা অচিরেই জানতে পারবে।’

لَأُقَطِّعَنَّ أَيْدِيَكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ مِنْ خِلَافٍ ثُمَّ لَأُصَلِّبَنَّكُمْ أَجْمَعِينَ(7.124)

আরবি উচ্চারণ ৭.১২৪। লাউক্বাত্ত্বি‘আন্না আইদিয়াকুম্ অর্আজুলাকুম্ মিন্ খিলা-ফিন্ ছুম্মা লাউছোয়াল্লিবান্নাকুম্ আজমা‘ঈন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১২৪ আমি অবশ্যই তোমাদের হাত ও পা বিপরীত দিক থেকে কেটে দেব। তারপর অবশ্যই তোমাদের সবাইকে শূলে চড়াব।’

قَالُوا إِنَّا إِلَى رَبِّنَا مُنْقَلِبُونَ(7.125)

আরবি উচ্চারণ ৭.১২৫। ক্ব-লূ য় ইন্না য় ইলা-রব্বিনা-মুন্ক্বলিবূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১২৫ তারা বলল, ‘নিশ্চয় আমরা আমাদের রবের কাছে প্রত্যাবর্তন করব।

وَمَا تَنْقِمُ مِنَّا إِلَّا أَنْ آمَنَّا بِآيَاتِ رَبِّنَا لَمَّا جَاءَتْنَا رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَتَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ(7.126)

আরবি উচ্চারণ ৭.১২৬। অমা-তানক্বিমু মিন্না য় ইল্লা য় আন্ আ-মান্না- বিআ-ইয়া-তি রব্বিনা-লাম্মা-জ্বা – য়াত্না-; রব্বানা য় আফ্রিগ্ ‘আলাইনা- ছব্বাওঁ অতাওয়াফ্ফানা-মুস্লিমীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১২৬ আর তুমি আমাদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করছ শুধু এ কারণে যে, আমরা আমাদের রবের আয়াতসমূহের প্রতি ঈমান এনেছি, যখন তা আমাদের কাছে এসেছে। হে আমাদের রব, আমাদেরকে পরিপূর্ণ ধৈর্য দান করুন এবং মুসলিম হিসাবে আমাদেরকে মৃত্যু দান করুন।’

وَقَالَ الْمَلَأُ مِنْ قَوْمِ فِرْعَوْنَ أَتَذَرُ مُوسَى وَقَوْمَهُ لِيُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَيَذَرَكَ وَآلِهَتَكَ قَالَ سَنُقَتِّلُ أَبْنَاءَهُمْ وَنَسْتَحْيِي نِسَاءَهُمْ وَإِنَّا فَوْقَهُمْ قَاهِرُونَ(7.127)

আরবি উচ্চারণ ৭.১২৭। অক্ব-লাল্ মালাউ মিন্ ক্বওমি ফির‘আউনা আতাযারু মূসা- অক্বওমাহূ লিইয়ুফ্সিদূ ফিল্ র্আদ্বি অইয়াযারাকা অআ-লিহাতাক্; ক্ব-লা সানুক্বত্তিলু আব্না-য়াহুম্ আনাস্তাহ্য়ী নিসা – আহুম্ অইন্না ফাওক্বাহুম্ ক্বা-হিরূ-ন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১২৭ আর ফির‘আউনের কওমের সভাসদগণ বলল, ‘আপনি কি মূসা ও তার কওমকে ছেড়ে দেবেন যাতে তারা যমীনে ফাসাদ করে এবং আপনাকে ও আপনার উপাস্যগুলোকে বর্জন করে?’ সে বলল, ‘আমরা অতিসত্বর তাদের ছেলেদেরকে হত্যা করব আর মেয়েদেরকে জীবিত রাখব। আর নিশ্চয় আমরা তাদের উপর ক্ষমতাবান।’

قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ اسْتَعِينُوا بِاللَّهِ وَاصْبِرُوا إِنَّ الْأَرْضَ لِلَّهِ يُورِثُهَا مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ(7.128)

আরবি উচ্চারণ ৭.১২৮। ক্ব-লা মূসা-লিক্বওমিহিস্ তা‘ঈনূ বিল্লা-হি অছ্বিরূ ইন্নাল্ আরদ্বোয়া লিল্লা-হি ইয়ূরিছুহা- মাইঁ ইয়াশা – উ মিন্ ‘ইবা-দিহ্; অল্ ‘আ-ক্বিবাতু লিল্মুত্তাক্বীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১২৮ মূসা তার কওমকে বলল, ‘আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও এবং ধৈর্য ধারণ কর। নিশ্চয় যমীন আল্লাহর। তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে তিনি চান তাকে তার উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেন। আর পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য।’

قَالُوا أُوذِينَا مِنْ قَبْلِ أَنْ تَأْتِيَنَا وَمِنْ بَعْدِ مَا جِئْتَنَا قَالَ عَسَى رَبُّكُمْ أَنْ يُهْلِكَ عَدُوَّكُمْ وَيَسْتَخْلِفَكُمْ فِي الْأَرْضِ فَيَنْظُرَ كَيْفَ تَعْمَلُونَ(7.129)

আরবি উচ্চারণ ৭.১২৯। ক্ব-লূ য় ঊযীনা- মিন্ ক্বব্লি আন্ তাতিয়ানা-অমিম্ বা’দি মা-জ্বিতানা-; ক্ব-লা ‘আসা- রব্বুকুম্ আঁই ইয়ুহ্লিকা ‘আদুওয়্যাকুম্ অইয়াস্তাখ্লিফাকুম্ ফিল্ র্আদ্বি ফাইয়ান্জুরা কাইফা তা’মালূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১২৯ তারা বলল, ‘তুমি আমাদের কাছে আসার পূর্বে আমাদেরকে কষ্ট দেয়া হয়েছে এবং তুমি আমাদের কাছে আসার পরেও।’ সে বলল, ‘আশা করা যায়, তোমাদের রব তোমাদের শত্র“কে ধ্বংস করবেন এবং যমীনে তোমাদেরকে স্থলাভিষিক্ত করবেন, অতঃপর তিনি দেখবেন তোমরা কীভাবে আমল কর।’

وَلَقَدْ أَخَذْنَا آلَ فِرْعَوْنَ بِالسِّنِينَ وَنَقْصٍ مِنَ الثَّمَرَاتِ لَعَلَّهُمْ يَذَّكَّرُونَ (7.130)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৩০। অলাক্বদ্ আখায্না য় আ-লা ফির‘আউনা বিস্সিনীনা অনাকছিম্ মিনাছ্ ছামার-তি লা‘আল্লাহুম্ ইয়ায্যাক্কারূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৩০ আর আমি পাকড়াও করেছি ফির‘আউনের অনুসারীদেরকে দুর্ভিক্ষ ও ফল- ফলাদির ক্ষয়-ক্ষতির মাধ্যমে, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।

فَإِذَا جَاءَتْهُمُ الْحَسَنَةُ قَالُوا لَنَا هَذِهِ وَإِنْ تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ يَطَّيَّرُوا بِمُوسَى وَمَنْ مَعَهُ أَلَا إِنَّمَا طَائِرُهُمْ عِنْدَ اللَّهِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ(7.131)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৩১। ফাইযা-জ্বা – য়াত্হুমুল্ হাসানাতু ক্ব-লূ লানা-হা-যিহী অইন্ তুছিব্হুম্ সাইয়িয়াতুইঁ ইয়াত্ত্বোইয়্যারূ বিমূসা- অমাম্ মা‘আহ্; আলা য় ইন্নামা- ত্বোয়া – য়িরুহুম্ ‘ইন্দাল্লা-হি অলা-কিন্না আক্ছারাহুম্ লা-ইয়া’লামূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৩১ অতঃপর যখন তাদের কাছে কল্যাণ আসত, তখন তারা বলত, ‘এটা আমাদের জন্য।’ আর যখন তাদের কাছে অকল্যাণ পৌঁছত তখন তারা মূসা ও তার সঙ্গীদেরকে অশুভলক্ষুণে মনে করত। তাদের কল্যাণ-অকল্যাণ তো আল্লাহর কাছে। কিন্তু তাদের অধিকাংশ জানে না।

وَقَالُوا مَهْمَا تَأْتِنَا بِهِ مِنْ آيَةٍ لِتَسْحَرَنَا بِهَا فَمَا نَحْنُ لَكَ بِمُؤْمِنِينَ(7.132)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৩২। অক্ব-লূ মাহ্মা-তাতিনা- বিহী মিন্ আ-ইয়াতিল্ লিতাস্হারানা-বিহা-ফামা-নাহ্নু লাকা বিমুমিনীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৩২ আর তারা বলল, ‘তুমি আমাদেরকে যাদু করার জন্য যে কোন নিদর্শন আমাদের কাছে নিয়ে আস না কেন আমরা তো তোমার প্রতি ঈমান আনব না।’

فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمُ الطُّوفَانَ وَالْجَرَادَ وَالْقُمَّلَ وَالضَّفَادِعَ وَالدَّمَ آيَاتٍ مُفَصَّلَاتٍ فَاسْتَكْبَرُوا وَكَانُوا قَوْمًا مُجْرِمِينَ(7.133)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৩৩। ফার্আসালনা- ‘আলাইহিমুত্তুফা-না অল্ জ্বার-দা অল্ কুম্মালা অদ্ব্দ্বোয়াফা-দি‘আ অদ্দামা আ-ইয়া-তিম্ মুফাছ্ছলা-তিন ফাস্তাক্বারূ অকা-নূ ক্বওমাম্ মুজরিমীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৩৩ সুতরাং আমি তাদের বিরুদ্ধে পাঠালাম তুফান, পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ ও রক্ত বিস্তারিত নিদর্শনাবলী হিসাবে। তার পরেও তারা অহঙ্কার করল। আর তারা ছিল এক অপরাধী কওম।

وَلَمَّا وَقَعَ عَلَيْهِمُ الرِّجْزُ قَالُوا يَا مُوسَى ادْعُ لَنَا رَبَّكَ بِمَا عَهِدَ عِنْدَكَ لَئِنْ كَشَفْتَ عَنَّا الرِّجْزَ لَنُؤْمِنَنَّ لَكَ وَلَنُرْسِلَنَّ مَعَكَ بَنِي إِسْرَائِيلَ(7.134)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৩৪। অলাম্মা-অক্বা‘আ ‘আলাইহির্মু রিজযু ক্ব-লূ ইয়া-মূসাদ্‘উ লানা- রব্বাকা বিমা-‘আহিদা ‘ইন্দাকা লায়িন্ কাশাফ্তা ‘আর্ন্না রিজযা লানুমিনান্না লাকা অলার্নুসিলান্না মা‘আকা বানী য় ইস্রা-ঈল্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৩৪ আর যখন তাদের উপর আযাব পতিত হল তখন তারা বলল, ‘হে মূসা আমাদের জন্য তুমি তোমার রবের কাছে দুআ কর তিনি যে ওয়াদা তোমার সাথে করেছেন সে অনুযায়ী। যদি তুমি আমাদের উপর থেকে আযাব সরিয়ে দাও তাহলে অবশ্যই আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনব এবং অবশ্যই তোমার সাথে বনী ইসরাঈলকে পাঠিয়ে দেব।’

فَلَمَّا كَشَفْنَا عَنْهُمُ الرِّجْزَ إِلَى أَجَلٍ هُمْ بَالِغُوهُ إِذَا هُمْ يَنْكُثُونَ(7.135)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৩৫। ফালাম্মা- কাশাফ্না- আন্হুর্মু রিজযা ইলা য় আজ্বালিন্ হুম্ বা-লিগূহু ইযা-হুম্ ইয়ান্কুছূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৩৫ অতঃপর যখনই আমি তাদের থেকে আযাব সরিয়ে নিলাম কিছু কালের জন্য যে পর্যন্ত তারা পৌঁছার ছিল, তখনই তারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করতে থাকল।

فَانْتَقَمْنَا مِنْهُمْ فَأَغْرَقْنَاهُمْ فِي الْيَمِّ بِأَنَّهُمْ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَكَانُوا عَنْهَا غَافِلِينَ(7.136)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৩৬। ফান্তাক্বাম্না- মিন্হুম্ ফাআগ্রাকনা-হুম ফিল্ইয়াম্মি বিআন্নাহুম্ কায্যাবূ বিআ-ইয়া-তিনা-অ কা-নূ-‘আন্হা গ-ফিলীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৩৬ অতঃপর আমি তাদের থেকে প্রতিশোধ নিলাম, ফলে তাদেরকে সমুদ্রে ডুবিয়ে দিলাম। কারণ তারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে এবং এ সম্পর্কে তারা ছিল গাফেল ।

وَأَوْرَثْنَا الْقَوْمَ الَّذِينَ كَانُوا يُسْتَضْعَفُونَ مَشَارِقَ الْأَرْضِ وَمَغَارِبَهَا الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا وَتَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ الْحُسْنَى عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ بِمَا صَبَرُوا وَدَمَّرْنَا مَا كَانَ يَصْنَعُ فِرْعَوْنُ وَقَوْمُهُ وَمَا كَانُوا يَعْرِشُونَ(7.137)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৩৭। অআওরাছ্নাল্ ক্বওমাল্লাযীনা কা-নূ ইয়ুস্তাদ্ব্‘আফূনা মাশা-রিক্বাল্ র্আদ্বি অ মাগ-রিবাহাল্ লাতী বা-রাক্না-ফীহা-; অতাম্মাত্ কালিমাতু রব্বিকাল্ হুস্না- ‘আলা- বানী য় ইস্রা – ঈলা বিমা-ছাবারূ; অদার্ম্মানা- মা-কা-না ইয়াছ্না‘উ র্ফি‘আউনু অক্বওমুহূ অমা- কা-নূ ইয়া’রিশূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৩৭ আর যে জাতিকে দুর্বল মনে করা হত আমি তাদেরকে যমীনের পূর্ব ও তার পশ্চিমের উত্তরাধিকারী বানালাম, যেখানে আমি বরকত দিয়েছি এবং বনী ইসরাঈলের উপর তোমার রবের উত্তম বাণী পরিপূর্ণ হল। কারণ তারা ধৈর্য ধারণ করেছে। আর ধ্বংস করে দিলাম যা কিছু তৈরি করেছিল ফির‘আউন ও তার কওম এবং তারা যা নির্মাণ করেছিল।

وَجَاوَزْنَا بِبَنِي إِسْرَائِيلَ الْبَحْرَ فَأَتَوْا عَلَى قَوْمٍ يَعْكُفُونَ عَلَى أَصْنَامٍ لَهُمْ قَالُوا يَا مُوسَى اجْعَلْ لَنَا إِلَهًا كَمَا لَهُمْ آلِهَةٌ قَالَ إِنَّكُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُونَ(7.138)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৩৮। অজ্বা-অয্না-বিবানী য় ইস্রা – ঈ লাল্ বাহ্রা ফাআতাও ‘আলা ক্বওমিইঁ ইয়া’কুফূনা ‘আলা য় আছ্না-মিল্ লাহুম্ ক্ব-লূ ইয়া-মূসাজ‘আল্ লানা য় ইলা-হান্ কামা- লাহুম্ আ-লিহাহ্; ক্ব-লা ইন্নাকুম্ ক্বওমুন্ তাজহালূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৩৮ আর বনী ইসরাঈলকে আমি সমুদ্র পার করিয়ে দিলাম। অতঃপর তারা আসল এমন এক কওমের কাছে যারা নিজদের মূর্তিগুলোর পূজায় রত ছিল। তারা বলল, ‘হে মূসা, তাদের যেমন উপাস্য আছে আমাদের জন্য তেমনি উপাস্য নির্ধারণ করে দাও। সে বলল, ‘নিশ্চয় তোমরা এমন এক কওম যারা মূর্খ’।

إِنَّ هَؤُلَاءِ مُتَبَّرٌ مَا هُمْ فِيهِ وَبَاطِلٌ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ(7.139)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৩৯। ইন্না হা য় উলা – য়ি মুতাব্বারুম্ মা-হুম ফীহি অবা-ত্বিলুম্ মা-কা-নূ ইয়া’মালূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৩৯ নিশ্চয় এরা যাতে আছে, তা ধ্বংসশীল এবং তারা যা করত তা বাতিল।

قَالَ أَغَيْرَ اللَّهِ أَبْغِيكُمْ إِلَهًا وَهُوَ فَضَّلَكُمْ عَلَى الْعَالَمِينَ (7.140)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৪০। ক্ব-লা আগইরল্লা-হি আব্গীকুম্ ইলা-হাওঁ অহুঅ ফাদ্ব্দ্বোয়ালাকুম্ ‘আলাল্ ‘আ-লামীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৪০ সে বলল, ‘আল্লাহ ছাড়া আমি কি তোমাদের জন্য অন্য ইলাহ সন্ধান করব অথচ তিনি তোমাদেরকে সকল সৃষ্টির উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন?’

وَإِذْ أَنْجَيْنَاكُمْ مِنْ آلِ فِرْعَوْنَ يَسُومُونَكُمْ سُوءَ الْعَذَابِ يُقَتِّلُونَ أَبْنَاءَكُمْ وَيَسْتَحْيُونَ نِسَاءَكُمْ وَفِي ذَلِكُمْ بَلَاءٌ مِنْ رَبِّكُمْ عَظِيمٌ(7.141)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৪১। অইয আন্জ্বাইনা-কুম্ মিন্ আ-লি র্ফি‘আউনা ইয়াসূমূনাকুম্ সু – য়াল্ ‘আযা-বি ইয়ুক্বত্তিলূনা আব্না – য়াকুম্ অ ইয়াস্তাহ্ইয়ূনা নিসা -য়াকুম; অ ফী যা-লিকুম্ বালা – উম্ র্মি রব্বিকুম্ ‘আজীম্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৪১ আর স্মরণ কর, যখন আমি ফির‘আউনের লোকদের থেকে তোমাদেরকে রক্ষা করলাম, যারা তোমাদের নিকৃষ্ট শাস্তি দিত। যারা তোমাদের ছেলেদের হত্যা করত এবং নারীদের জীবিত রাখত। এতে ছিল তোমাদের রবের পক্ষ থেকে এক মহাপরীক্ষা।

وَوَاعَدْنَا مُوسَى ثَلَاثِينَ لَيْلَةً وَأَتْمَمْنَاهَا بِعَشْرٍ فَتَمَّ مِيقَاتُ رَبِّهِ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً وَقَالَ مُوسَى لِأَخِيهِ هَارُونَ اخْلُفْنِي فِي قَوْمِي وَأَصْلِحْ وَلَا تَتَّبِعْ سَبِيلَ الْمُفْسِدِينَ(7.142)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৪২। অ অ‘আদ্না-মূসা-ছালা-ছীনা লাইলাতাওঁ অআত্মাম্না-হা-বি‘আশ্রিন্ ফাতাম্মা মীক্ব-তু রব্বিহী য় র্আবা‘ঈনা লাইলাতান্ অক্ব-লা মূসা-লিআখীহি হা-রূনাখ্ লুফ্নী ফী ক্বওমী অ আছ্লিহ্ অলা-তাত্তাবি’ সাবীলাল্ মুফ্সিদীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৪২ আর স্মরণ কর, ‘আমি মূসাকে ত্রিশ রাতের ওয়াদা দিয়েছিলাম এবং আরো দশ দ্বারা তা পূর্ণ করেছিলাম। সুতরাং তার রবের নির্ধারিত মেয়াদ চল্লিশ রাত পূর্ণ হল এবং মূসা তার ভাই হারূনকে বলল, ‘আমার কওমের মধ্যে তুমি আমার প্রতিনিধিত্ব কর, সংশোধন কর এবং ফাসাদকারীদের পথ অনুসরণ করো না’।

وَلَمَّا جَاءَ مُوسَى لِمِيقَاتِنَا وَكَلَّمَهُ رَبُّهُ قَالَ رَبِّ أَرِنِي أَنْظُرْ إِلَيْكَ قَالَ لَنْ تَرَانِي وَلَكِنِ انْظُرْ إِلَى الْجَبَلِ فَإِنِ اسْتَقَرَّ مَكَانَهُ فَسَوْفَ تَرَانِي فَلَمَّا تَجَلَّى رَبُّهُ لِلْجَبَلِ جَعَلَهُ دَكًّا وَخَرَّ مُوسَى صَعِقًا فَلَمَّا أَفَاقَ قَالَ سُبْحَانَكَ تُبْتُ إِلَيْكَ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُؤْمِنِينَ(7.143)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৪৩। অলাম্মা-জ্বা – য়া মূসা-লিমীক্ব-তিনা-অকাল্লামাহূ রব্বুহূ ক্ব-লা রব্বি আরিনী য় আর্ন্জু ইলাইক্; ক্ব-লা লান্ তারা-নী অলা-কিনিন্ জুর ইলাল্ জ্বাবালি ফায়িনিস্ তার্ক্বরা মাকা- নাহূ ফাসাওফা তারা-নী ’ফালাম্মা- তাজ্বাল্লা-রব্বুহূ লিল্জ্বাবালি জ্বা‘আলাহূ দাক্কাঁও অ র্খারা মূসা-ছোয়া‘ইক্বান্ ফালাম্মা য় আফা-ক্বা ক্ব-লা সুব্হা-নাকা তুব্তু ইলাইকা অ‘আনা আও ওয়ালুল্ মু”মিনীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৪৩ আর যখন আমার নির্ধারিত সময়ে মূসা এসে গেল এবং তার রব তার সাথে কথা বললেন। সে বলল, ‘হে আমার রব, আপনি আমাকে দেখা দিন, আমি আপনাকে দেখব।’ তিনি বললেন, তুমি আমাকে কখনো দেখবে না। বরং তুমি পাহাড়ের দিকে তাকাও, অতঃপর তা যদি নিজ স্থানে স্থির থাকে তবে তুমি অচিরেই আমাকে দেখবে। অতঃপর যখন তার রব পাহাড়ের উপর নূর প্রকাশ করলেন তখন তা তাকে চূর্ণ করে দিল এবং মূসা বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেল। অতঃপর যখন তার হুঁশ আসল তখন সে বলল, ‘আপনি পবিত্র মহান, আমি আপনার নিকট তাওবা করলাম এবং আমি মুমিনদের মধ্যে প্রথম।’

قَالَ يَا مُوسَى إِنِّي اصْطَفَيْتُكَ عَلَى النَّاسِ بِرِسَالَاتِي وَبِكَلَامِي فَخُذْ مَا آتَيْتُكَ وَكُنْ مِنَ الشَّاكِرِينَ(7.144)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৪৪। ক্ব-লা ইয়া-মূসা য় ইন্নিছ্ ত্বোয়াফাইতুকা ‘আলান্ না-সি বিরিসা-লা-তী অবিকালা-মী ফাখুয্ মা য় আ-তাইতুকা অকুম্ মিনাশ্ শা-কিরীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৪৪ তিনি বললেন, ‘হে মূসা, আমি আমার রিসালাত ও বাক্যালাপ দ্বারা তোমাকে মানুষের উপর বেছে নিয়েছি। সুতরাং যা কিছু আমি তোমাকে প্রদান করলাম তা গ্রহণ কর এবং শোকর আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হও।’

وَكَتَبْنَا لَهُ فِي الْأَلْوَاحِ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ مَوْعِظَةً وَتَفْصِيلًا لِكُلِّ شَيْءٍ فَخُذْهَا بِقُوَّةٍ وَأْمُرْ قَوْمَكَ يَأْخُذُوا بِأَحْسَنِهَا سَأُرِيكُمْ دَارَ الْفَاسِقِينَ(7.145)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৪৫। অকাতাব্না-লাহূ ফিল্ আল্ওয়া-হি মিন্ কুল্লি শাইয়িম্ মাও ‘ইজোয়াতাঁও অতাফ্ছীলাল্ লিকুল্লি শাইয়্যিন্ ফাখুয্হা-বিকুওআতিঁও অ”র্মু ক্বওমাকা ইয়াখুযূ বিআহ্সানিহা-; সাঊরীকুম্ দা-রল্ ফা-সিক্বীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৪৫ আর আমি তার জন্য ফলকসমূহে লিখে দিয়েছি প্রত্যেক বিষয়ের উপদেশ এবং প্রত্যেক বিষয়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা। সুতরাং তা শক্ত করে ধর এবং তোমার কওমকে নির্দেশ দাও, যেন তারা গ্রহণ করে এর উত্তম বিষয়গুলো। আমি অচিরেই তোমাদেরকে দেখাব ফাসিকদের আবাস।

سَأَصْرِفُ عَنْ آيَاتِيَ الَّذِينَ يَتَكَبَّرُونَ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَإِنْ يَرَوْا كُلَّ آيَةٍ لَا يُؤْمِنُوا بِهَا وَإِنْ يَرَوْا سَبِيلَ الرُّشْدِ لَا يَتَّخِذُوهُ سَبِيلًا وَإِنْ يَرَوْا سَبِيلَ الْغَيِّ يَتَّخِذُوهُ سَبِيلًا ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَكَانُوا عَنْهَا غَافِلِينَ(7.146)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৪৬। সাআস্রিফু ‘আন্ আ-ইয়া-তিয়াল্লাযীনা ইয়াতাকাব্বারূনা ফিল্ র্আদ্বি বিগইরিল্ হাক; অইঁ ইয়ারাও কুল্লা আ-ইয়াতিল্ লা-ইয়ু”মিনূ বিহা- অইঁ ইয়ারাও সাবীর্লা রুশ্দি লা-ইয়াত্তাখিযূহু সাবীলান্ অইঁ ইয়ারাও সাবীলাল্ গাইয়্যি ইয়াত্তাখিযূহু সাবীলা-; যা-লিকা বিআন্নাহুম্ কায্যাবূ বিআ-ইয়া-তিনা-অকা-নূ ‘আন্হা-গ-ফিলীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৪৬ যারা অন্যায়ভাবে যমীনে অহঙ্কার করে আমার আয়াতসমূহ থেকে তাদেরকে আমি অবশ্যই ফিরিয়ে রাখব। আর তারা সকল আয়াত দেখলেও তাতে ঈমান আনবে না এবং তারা সঠিক পথ দেখলেও তাকে পথ হিসাবে গ্রহণ করবে না। আর তারা ভ্রান্ত পথ দেখলে তা পথ হিসাবে গ্রহণ করবে। এটা এ জন্য যে, তারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে এবং সে সম্পর্কে তারা ছিল গাফেল।

وَالَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَلِقَاءِ الْآخِرَةِ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ هَلْ يُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ (7.147)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৪৭। অল্লাযীনা কায্যাবূ বিআ-ইয়া-তি-না অলিক্ব – য়িল্ আ-খিরাতি হাবিত্বোয়াত্ আ’মা-লুহুম্; হাল্ ইয়ুজযাওনা ইল্লা-মা-কা-নূ ইয়া’মালূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৪৭ আর যারা আমার আয়াতসমূহ ও আখিরাতের সাক্ষাতকে অস্বীকার করেছে তাদের কর্মসমূহ বিনষ্ট হয়ে গেছে। তারা যা করে তা ছাড়া কি তাদের প্রতিদান দেয়া হবে?

وَاتَّخَذَ قَوْمُ مُوسَى مِنْ بَعْدِهِ مِنْ حُلِيِّهِمْ عِجْلًا جَسَدًا لَهُ خُوَارٌ أَلَمْ يَرَوْا أَنَّهُ لَا يُكَلِّمُهُمْ وَلَا يَهْدِيهِمْ سَبِيلًا اتَّخَذُوهُ وَكَانُوا ظَالِمِينَ(7.148)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৪৮। অত্তাখাযা ক্বওমু মূসা-মিম্ বা’দিহী মিন্ হুলিয়্যিহিম্ ‘ইজলান্ জ্বাসাদাল্ লাহূ খুওয়ার্-; আলাম্ ইয়ারাও আন্নাহূ লাইয়ুকাল্লিমুহুম্ অলা-ইয়াহ্দীহিম্ সাবীলা-। ইত্তাখাযূহু অকা-নূ জোয়া-লিমীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৪৮ আর মূসার কওম তার (বের হওয়ার) পরে তাদের অলংকারাদি দিয়ে বানিয়ে নিল একটি গো বাছুর- দেহ, তার ছিল গরুর আওয়ায। তারা কি দেখল না যে, এটা তো তাদের সাথে কথা বলে না এবং তাদের পথ দেখায় না? তারা তাকে গ্রহণ করল এবং তারা ছিল যালিম।

وَلَمَّا سُقِطَ فِي أَيْدِيهِمْ وَرَأَوْا أَنَّهُمْ قَدْ ضَلُّوا قَالُوا لَئِنْ لَمْ يَرْحَمْنَا رَبُّنَا وَيَغْفِرْ لَنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ(7.149)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৪৯। অলাম্মা-সুক্বিত্বোয়া ফী য় আইদীহিম্ অরাআও আন্নাহুম্ ক্বদ্ দ্বোয়াল্লূ ক্ব-লূ লায়িল্লাম্ ইর্য়াহাম্না- রব্বুনা-অইয়ার্গ্ফি লানা- লানাকূনান্না মিনাল্ খা-সিরীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৪৯ আর যখন তারা অনুতপ্ত হল এবং দেখল যে, তারা তো পথভ্রষ্ট হয়েছে, তখন তারা বলল, ‘যদি আমাদের রব আমাদের প্রতি রহম না করেন এবং আমাদেরকে ক্ষমা না করেন তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব’।

وَلَمَّا رَجَعَ مُوسَى إِلَى قَوْمِهِ غَضْبَانَ أَسِفًا قَالَ بِئْسَمَا خَلَفْتُمُونِي مِنْ بَعْدِي أَعَجِلْتُمْ أَمْرَ رَبِّكُمْ وَأَلْقَى الْأَلْوَاحَ وَأَخَذَ بِرَأْسِ أَخِيهِ يَجُرُّهُ إِلَيْهِ قَالَ ابْنَ أُمَّ إِنَّ الْقَوْمَ اسْتَضْعَفُونِي وَكَادُوا يَقْتُلُونَنِي فَلَا تُشْمِتْ بِيَ الْأَعْدَاءَ وَلَا تَجْعَلْنِي مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ(7.150)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৫০। অলাম্মা রজ্বা‘আ মূসা য় ইলা- ক্বওমিহী গদ্ব্বা-না আসিফান্ ক্ব-লা-বি”সামা খালাফ্তুমূনী মিম্ বা’দী আ‘আজ্বিল্তুম্ আম্রা রব্বিকুম্ অআল্ক্বল্ আল্ওয়া-হা অআখাযা বিরা”সি আখীহি ইয়াজ্বর্ ুরুহূ য় ইলাইহ্; ক্ব-লাব্না উম্মা ইন্নাল্ ক্বওমাস্ তাদ্ব‘আফূনী অকা-দূ ইয়াকতুলূনানী ফালা-তুশ্মিত্ বিয়াল্ ‘আদা – য়া অলা-তাজআল্নী মা‘আল ক্বওমিজ্জোয়া-লিমীন্

বাংলা অনুবাদ ৭.১৫০ আর মূসা যখন নিজ কওমের কাছে ফিরে আসল রাগান্বিত বিক্ষুদ্ধ অবস্থায়, তখন বলল, ‘আমার পরে তোমরা আমার কত খারাপ প্রতিনিধিত্ব করেছ! তোমাদের রবের নির্দেশের পূর্বে তোমরা তাড়াহুড়া করলে?’ আর সে ফলকগুলো ফেলে দিল এবং স্বীয় ভাইয়ের মাথা ধরে নিজের দিকে টেনে আনতে লাগল। সে বলল, ‘হে আমার মায়ের পুত্র, এ জাতি আমাকে দুর্বল মনে করেছে এবং আমাকে হত্যা করতে উদ্যত হয়েছে, তাই তুমি আমার ব্যাপারে শত্র“দেরকে আনন্দিত করো না এবং আমাকে যালিম কওমের অন্তর্ভুক্ত করো না।

قَالَ رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِأَخِي وَأَدْخِلْنَا فِي رَحْمَتِكَ وَأَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ(7.151)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৫১। ক্ব-লা রব্বির্গ্ফিলী অলিআখী অআদ্খিল্না- ফী রহ্মাতিকা অ আন্তা র্আহার্মু র-হিমীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৫১ সে বলল, ‘আমার রব, ক্ষমা করুন আমাকে ও আমার ভাইকে এবং আপনার রহমতে আমাদের প্রবেশ করান। আর আপনিই রহমকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।

إِنَّ الَّذِينَ اتَّخَذُوا الْعِجْلَ سَيَنَالُهُمْ غَضَبٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَذِلَّةٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَكَذَلِكَ نَجْزِي الْمُفْتَرِينَ(7.152)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৫২। ইন্নাল্ লাযীনাত্ তাখাযুল্ ‘ইজলা সাইয়ানা-লুহুম্ গাদ্বোয়াবুম্ র্মি রব্বিহিম্ অযিল্লাতুন্ ফিল্ হা ইয়া-তিদ্ দুন্ইয়া-; অকাযা-লিকা নাজযিল্ মুফ্তারীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৫২ নিশ্চয় যারা গো বাছুরকে (উপাস্য হিসাবে) গ্রহণ করেছে, দুনিয়ার জীবনে তাদেরকে আক্রান্ত করবে তাদের রবের পক্ষ থেকে গযব ও লাঞ্ছনা। আর এভাবে আমি মিথ্যা রটনাকারীদের প্রতিফল দেই।

وَالَّذِينَ عَمِلُوا السَّيِّئَاتِ ثُمَّ تَابُوا مِنْ بَعْدِهَا وَآمَنُوا إِنَّ رَبَّكَ مِنْ بَعْدِهَا لَغَفُورٌ رَحِيمٌ (7.153)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৫৩। অল্লাযীনা ‘আমিলুস্ সাইয়িয়া-তি ছুম্মা তা-বূ মিম্ বা’দিহা- অআ-মানূ য় ইন্না রব্বাকা মিম্ বা’দিহা- লাগফূর্রু রহীম্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৫৩ আর যারা খারাপ কাজ করল, তারপর তাওবা করল এবং ঈমান আনল, নিশ্চয় তোমার রব এরপরও ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

وَلَمَّا سَكَتَ عَنْ مُوسَى الْغَضَبُ أَخَذَ الْأَلْوَاحَ وَفِي نُسْخَتِهَا هُدًى وَرَحْمَةٌ لِلَّذِينَ هُمْ لِرَبِّهِمْ يَرْهَبُونَ(7.154)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৫৪। অলাম্মা- সাকাতা ‘আম্ মূসাল্ গদ্বোয়াবু আখাযাল্ আল্ওয়া-হা অফী নুস্খাতিহা-হুদাঁও অরহ্মাতুল্ লিল্লাযীনা হুম্ লিরব্বিহিম্ ইর্য়াহাবূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৫৪ আর যখন মূসার ক্রোধ থেমে গেল তখন সে ফলকগুলো তুলে নিল। তার লেখাতে ছিল হিদায়াত ও রহমত, তাদের জন্য যারা নিজদের রবকেই ভয় করে।

وَاخْتَارَ مُوسَى قَوْمَهُ سَبْعِينَ رَجُلًا لِمِيقَاتِنَا فَلَمَّا أَخَذَتْهُمُ الرَّجْفَةُ قَالَ رَبِّ لَوْ شِئْتَ أَهْلَكْتَهُمْ مِنْ قَبْلُ وَإِيَّايَ أَتُهْلِكُنَا بِمَا فَعَلَ السُّفَهَاءُ مِنَّا إِنْ هِيَ إِلَّا فِتْنَتُكَ تُضِلُّ بِهَا مَنْ تَشَاءُ وَتَهْدِي مَنْ تَشَاءُ أَنْتَ وَلِيُّنَا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَأَنْتَ خَيْرُ الْغَافِرِينَ (7.155)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৫৫। অখ্তা-রা মূসা- ক্বওমাহূ সাব্’ঈনা রাজুলাল্ লিমীক্ব-তিনা- ফালাম্মা য় আখাযাত্হুর্মু রাজফাতু ক্ব-লা রব্বি লাও শি”তা আহ্লাক্তাহুম্ মিন্ ক্বব্লু অ ইয়্যা-ইয়া আতুহ্লিকুনা- বিমা-ফা‘আলাস্ সুফাহা – য়ু মিন্না- ইন্ হিয়া ইল্লা- ফিত্নাতুক্ ; তুদ্ধিল্লু বিহা-মান্ তাশা – য়ু অতাহ্দী মান্ তাশা – য়ু; আন্তা অলিয়্যুনা-ফার্গ্ফিলানা-র্অহাম্না- অআন্তা খাইরুল্ গ-ফিরীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৫৫ আর মূসা নিজ কওম থেকে সত্তর জন লোককে আমার নির্ধাারিত স্থানের জন্য নির্বাচন করল। অতঃপর যখন ভূমিকম্প তাদেরকে পাকড়াও করল তখন সে বলল, ‘হে আমার রব, আপনি চাইলে ইতঃপূর্বে এদের ধ্বংস করতে পারতেন এবং আমাকেও। আমাদের মধ্যে নির্বোধরা যা করেছে তার কারণে কি আমাদেরকে ধ্বংস করবেন? এটাতো আপনার পরীক্ষা ছাড়া কিছু না। এর মাধ্যমে যাকে চান আপনি পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে চান হিদায়াত দান করেন। আপনি আমাদের অভিভাবক। সুতরাং আমাদের ক্ষমা করে দিন এবং আপনি উত্তম ক্ষমাশীল।

وَاكْتُبْ لَنَا فِي هَذِهِ الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ إِنَّا هُدْنَا إِلَيْكَ قَالَ عَذَابِي أُصِيبُ بِهِ مَنْ أَشَاءُ وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ فَسَأَكْتُبُهَا لِلَّذِينَ يَتَّقُونَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَالَّذِينَ هُمْ بِآيَاتِنَا يُؤْمِنُونَ(7.156)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৫৬। অক্তুব্ লানা-ফী হা-যিহিদ্ দুন্ইয়া- হাসানাতাঁও অফিল্ আ-খারতি ইন্না-হুদ্না য় ইলাইক্; ক্ব-লা ‘আযা-বী য় উছীবু বিহী মান্ আশা – য়ু অরহ্মাতী অসি‘আত্ কুল্লা শাইয়িন্; ফাসাআক্তুবুহা- লিল্লাযীনা ইয়াত্তাকুনা অইয়ুতূনায্ যাকা-তা অল্লাযীনা হুম্ বিআ-ইয়া-তিনা ইয়ু”মিনূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৫৬ আর আমাদের জন্য এ দুনিয়াতে ও আখিরাতে কল্যাণ লিখে দিন। নিশ্চয় আমরা আপনার দিকে প্রত্যাবর্তন করেছি।’ তিনি বললেন, ‘আমি যাকে চাই তাকে আমার আযাব দেই। আর আমার রহমত সব বস্তুকে পরিব্যাপ্ত করেছে। সুতরাং আমি তা লিখে দেব তাদের জন্য যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যাকাত প্রদান করে। আর যারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি ঈমান আনে।

الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوبًا عِنْدَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ يَأْمُرُهُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَالْأَغْلَالَ الَّتِي كَانَتْ عَلَيْهِمْ فَالَّذِينَ آمَنُوا بِهِ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَاتَّبَعُوا النُّورَ الَّذِي أُنْزِلَ مَعَهُ أُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ(7.157)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৫৭। আল্লাযীনা ইয়াত্তাবিঊ’র্না রসূলান্ নাবিইয়্যাল্ উম্মিইয়্যাল্ লাযী ইয়াজ্বিদূনাহূ মাক্তূবান্ ‘ইন্দাহুম্ ফিত্তাওরা-তি অল্ ইনজ্বীল্ ইয়া”মুরুহুম্ বিল্মা’রূফি অইয়ান্হা-হুম্ ‘আনিল মুন্কারি অইয়ুহিল্লু লাহুমুত্ ত্বোয়াইয়্যিবা-তি অইয়ুর্হারিমু ‘আলাইহিমুল্ খাবা – য়িছা অইয়াদ্বোয়া‘উ ‘আন্হুম্ ইছ্রাহুম্ অল্ আগ্লা-লাল্লাতী কা-নাত্ ‘আলাইহিম্; ফাল্লাযীনা আ-মানূ বিহী অ‘আয্যারূহু অনাছোয়ারূহু অত্তাবা‘উন্ নূরাল্লাযী য় উন্যিলা মা‘আহূ য় উলা- য়িকা হুমুল্ মুফ্লিহূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৫৭ যারা অনুসরণ করে রাসূলের, যে উম্মী নবী; যার গুণাবলী তারা নিজদের কাছে তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়, যে তাদেরকে সৎ কাজের আদেশ দেয় ও বারণ করে অসৎ কাজ থেকে এবং তাদের জন্য পবিত্র বস্তু হালাল করে আর অপবিত্র বস্তু হারাম করে। আর তাদের থেকে বোঝা ও শৃংখল- যা তাদের উপরে ছিল- অপসারণ করে। সুতরাং যারা তার প্রতি ঈমান আনে, তাকে সম্মান করে, তাকে সাহায্য করে এবং তার সাথে যে নূর নাযিল করা হয়েছে তা অনুসরণ করে তারাই সফলকাম।

قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ يُحْيِي وَيُمِيتُ فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ الَّذِي يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَكَلِمَاتِهِ وَاتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ (7.158)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৫৮। কুল্ ইয়া য় আইয়্যুহান্না-সু ইন্নী রসূলু ল্লা-হি ইলাইকুম্ জ্বামী‘আনি ল্লাযী লাহূ মুল্কুস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বি লা য় ইলা-হা ইল্লা- হুঅ ইয়ুহ্য়ী অইয়ুমীতু ফাআ-মিনূ বিল্লা-হি অরসূলিহিন্ নাবিয়্যিল্ উম্মিয়্যিল্লাযী ইয়ু”মিনূ বিল্লা-হি অকালিমা-তিহী অত্তাবিঊ’হু লা‘আল্লাকুম্ তাহ্তাদূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৫৮ বল, ‘হে মানুষ, আমি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহর রাসূল, যার রয়েছে আসমানসমূহ ও যমীনের রাজত্ব। তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু দেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান আন ও তাঁর প্রেরিত উম্মী নবীর প্রতি, যে আল্লাহ ও তাঁর বাণীসমূহের প্রতি ঈমান রাখে। আর তোমরা তার অনুসরণ কর, আশা করা যায়, তোমরা হিদায়াত লাভ করবে।

وَمِنْ قَوْمِ مُوسَى أُمَّةٌ يَهْدُونَ بِالْحَقِّ وَبِهِ يَعْدِلُونَ(7.159)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৫৯। অমিন্ ক্বওমি মূসা য় উম্মাতুঁই ইয়াহ্দূনা বিলহাকক্বি অবিহী ইয়া’দিলূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৫৯ মূসার কওম থেকে এমন এক দল রয়েছে যারা সঠিকভাবে পথ প্রদর্শন করে এবং তা দ্বারা ইনসাফ করে।

وَقَطَّعْنَاهُمُ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ أَسْبَاطًا أُمَمًا وَأَوْحَيْنَا إِلَى مُوسَى إِذِ اسْتَسْقَاهُ قَوْمُهُ أَنِ اضْرِبْ بِعَصَاكَ الْحَجَرَ فَانْبَجَسَتْ مِنْهُ اثْنَتَا عَشْرَةَ عَيْنًا قَدْ عَلِمَ كُلُّ أُنَاسٍ مَشْرَبَهُمْ وَظَلَّلْنَا عَلَيْهِمُ الْغَمَامَ وَأَنْزَلْنَا عَلَيْهِمُ الْمَنَّ وَالسَّلْوَى كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ وَمَا ظَلَمُونَا وَلَكِنْ كَانُوا أَنْفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ (7.160)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৬০। অক্বাত্ত্বোয়া’না- হুমুছ্নাতাই ‘আশ্রাতা আস্বা-ত্বোয়ান্ উমামা-; অআওহাইনা য় ইলা-মূসা য় ইযিস্ তাস্ক্ব-হু ক্বওমুহূ য় আনিদ্ব্রিব্ বি‘আছোয়া-কাল্ হাজ্বারা ফাম্বাজ্বাসাত্ মিন্হুছ্ নাতা-‘আশ্রাতা ‘আইনা-;ক্বদ্ ‘আলিমা কুল্লু উনা-সিম্ মাশ্রাবাহুম্; অজোয়াল্লাল্না-‘আলাইহিমুল্ গমা-মা অআন্যাল্না-‘আলাইহিমুল্ মান্না অস্সাল্ওয়া-;কুলূ মিন্ ত্বোয়াইয়্যিবা-তি মা-রযাকনা-কুম; অমা-জোয়ালামূনা-অলা-কিন্ কা-নূ য় আন্ফুসাহুম্ ইয়াজ্লিমূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৬০ আর আমি তাদেরকে বিভক্ত করেছি বারোটি জাতি-গোত্রে। আমি মূসার কাছে ওহী পাঠালাম- যখন তার কওম তার কাছে পানি চাইল- যে, ‘তুমি তোমার লাঠি দিয়ে পাথরে আঘাত কর’। ফলে এ থেকে উৎসারিত হল বারোটি ঝর্ণা। প্রত্যেক গোত্র চিনে নিল নিজদের পানস্থান। আর আমি তাদের উপর মেঘের ছায়া দিয়েছিলাম এবং তাদের উপর নাযিল করেছিলাম মান্না ও সালওয়া । ‘তোমাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে পবিত্র বস্তু আহার কর’। আর তারা আমার প্রতি যুলম করেনি, কিন্তু তারা নিজদের উপরই যুলম করত।

وَإِذْ قِيلَ لَهُمُ اسْكُنُوا هَذِهِ الْقَرْيَةَ وَكُلُوا مِنْهَا حَيْثُ شِئْتُمْ وَقُولُوا حِطَّةٌ وَادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّدًا نَغْفِرْ لَكُمْ خَطِيئَاتِكُمْ سَنَزِيدُ الْمُحْسِنِينَ(7.161)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৬১। অইয্ ক্বীলা লাহুমুস্ কুনূ হা-যিহিল্ ক্বারইয়াতা অকুলূ মিন্হা-হাইছু শি”তুম্ অকূলূ হিত্ত্বোয়াতুঁও অদ্খুলুল্ বা-বা সুজ্জ্বাদান্ নার্গ্ফিলাকুম্ খাত্বী – য়া-তিকুম্ সানাযীদুল্ মুহ্সিনীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৬১ আর স্মরণ কর, যখন তাদেরকে বলা হল, ‘তোমরা এ জনপদে বসবাস কর এবং যেখানে চাও সেখান থেকে আহার কর এবং বল ‘হিত্তাহ’ । আর অবনত মস্তকে দরজায় প্রবেশ কর। আমি তোমাদের অপরাধগুলো ক্ষমা করে দেব। অবশ্যই আমি সৎকর্মশীলদেরকে বাড়িয়ে দেব।’

فَبَدَّلَ الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ قَوْلًا غَيْرَ الَّذِي قِيلَ لَهُمْ فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِجْزًا مِنَ السَّمَاءِ بِمَا كَانُوا يَظْلِمُونَ(7.162)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৬২। ফাবাদ্দালাল্লাযীনা জোয়ালামূ মিন্হুম্ ক্বওলান্ গইরাল্ লাযী ক্বীলা লাহুম্ ফাআরসাল্না-‘আলাইহিম্ রিজযাম্ মিনাস্ সামা-য়ি বিমা-কা-নূ ইয়াজ্লিমূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৬২ অতঃপর তাদের মধ্য থেকে যারা যুলম করেছিল, তাদেরকে যা বলা হয়েছিল তার পরিবর্তে তারা অন্য কথা বলল। ফলে আমি আসমান থেকে তাদের উপর শাস্তি পাঠালাম, কারণ তারা যুলম করত।

وَاسْأَلْهُمْ عَنِ الْقَرْيَةِ الَّتِي كَانَتْ حَاضِرَةَ الْبَحْرِ إِذْ يَعْدُونَ فِي السَّبْتِ إِذْ تَأْتِيهِمْ حِيتَانُهُمْ يَوْمَ سَبْتِهِمْ شُرَّعًا وَيَوْمَ لَا يَسْبِتُونَ لَا تَأْتِيهِمْ كَذَلِكَ نَبْلُوهُمْ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ(7.163)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৬৩। অস্য়াল্হুম্ ‘আনিল্ র্ক্বইয়াতিল্ লাতী কা-নাত্ হা-দ্বিরাতাল্ বাহ্র্। ইয্ ইয়া’দূনা ফিস্ সাব্তি ইয্ তা”তীহিম্ হীতা-নুহুম্ ইয়াওমা সাব্তিহিম্ র্শুরা‘আঁও অইয়াওমা লা-ইয়াস্বিতূনা লা-তা’তীহিম্্; কাযা-লিকা নাব্লূহুম্ বিমা-কা-নূ ইয়াফ্সুকুন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৬৩ আর তাদের কাছে জিজ্ঞেস কর সাগরের নিকটে অবস্থিত জনপদটি সম্পর্কে, যখন তারা শনিবারে সীমালংঘন করত। যখন তাদের কাছে শনিবারে তাদের মাছগুলো ভেসে আসত। আর যেদিন তারা শনিবার যাপন করত না, সেদিন তাদের কাছে আসত না। এভাবে আমি তাদেরকে পরীক্ষা করতাম। কারণ তারা পাপাচার করত।

وَإِذْ قَالَتْ أُمَّةٌ مِنْهُمْ لِمَ تَعِظُونَ قَوْمًا اللَّهُ مُهْلِكُهُمْ أَوْ مُعَذِّبُهُمْ عَذَابًا شَدِيدًا قَالُوا مَعْذِرَةً إِلَى رَبِّكُمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ(7.164)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৬৪। অইয্ ক্ব-লাত্ উম্মাতুম্ মিন্হুম্ লিমা তা‘ইজূনা ক্বওমা-নি ল্লা-হু মুহ্লিকুহুম্ আও মু‘আয্যিবুহুম্ ‘আযা-বান্ শাদী-দা-; ক্ব-লূ মা’যিরাতান্ ইলা-রব্বিকুম্ অলা‘আল্লাহুম্ ইয়াত্তাকুন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৬৪ আর স্মরণ কর, যখন তাদের একদল বলল, ‘তোমরা কেন উপদেশ দিচ্ছ এমন কওমকে, যাদেরকে আল্লাহ ধ্বংস করবেন অথবা কঠিন আযাব দেবেন’? তারা বলল, ‘তোমাদের রবের নিকট ওযর পেশ করার উদ্দেশ্যে। আর হয়তো তারা তাকওয়া অবলম্বন করবে’।

فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ أَنْجَيْنَا الَّذِينَ يَنْهَوْنَ عَنِ السُّوءِ وَأَخَذْنَا الَّذِينَ ظَلَمُوا بِعَذَابٍ بَئِيسٍ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ(7.165)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৬৫। ফালাম্মা- না-সূ মা- যুক্কিরূ বিহী য় আন্জ্বাইনাল্লাযীনা ইয়ান্হাওনা-‘আনিস্ সূ – য়ি আখায্নাল্লাযীনা জোয়ালামূ বি‘আযা-বিম্ বায়ীসিম্ বিমা-কা-নূ ইয়াফ্সুকুন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৬৫ অতঃপর যে উপদেশ তাদেরকে দেয়া হয়েছিল, যখন তারা তা ভুলে গেল তখন আমি মুক্তি দিলাম তাদেরকে যারা মন্দ হতে নিষেধ করে। আর যারা যুলম করেছে তাদেরকে কঠিন আযাব দ্বারা পাকড়াও করলাম। কারণ, তারা পাপাচার করত।

فَلَمَّا عَتَوْا عَنْ مَا نُهُوا عَنْهُ قُلْنَا لَهُمْ كُونُوا قِرَدَةً خَاسِئِينَ (7.166)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৬৬। ফাল্লাম্মা-‘আতাও ‘আম্মা-নুহূ ‘আন্হু কুল্না-লাহুম্ কূনূ ক্বিরাদাতান্ খা-সিঈন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৬৬ অতঃপর যা থেকে তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছিল তারা যখন তাতে হঠকারিতা করতে লাগল, তখন আমি তাদেরকে বললাম, ‘তোমরা নিকৃষ্ট বানর হয়ে যাও’।

وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكَ لَيَبْعَثَنَّ عَلَيْهِمْ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَنْ يَسُومُهُمْ سُوءَ الْعَذَابِ إِنَّ رَبَّكَ لَسَرِيعُ الْعِقَابِ وَإِنَّهُ لَغَفُورٌ رَحِيمٌ(7.167)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৬৭। অইয্ তায়ায্যানা রব্বুকা লাইয়াব্‘আছান্না ‘আলাইহিম্ ইলা- ইয়াওমিল্ ক্বিয়া-মাতি মাঁই ইয়াসূমুহুম্ সূ – য়াল্ ‘আযা-ব্; ইন্না রব্বিকা লাসারী‘উল্ ‘ইক্ব-বি অইন্নাহূ লাগাফূর্রু রহীম্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৬৭ আর যখন তোমার রব ঘোষণা দিলেন, অবশ্যই তিনি তাদের উপর কিয়ামতের দিন পর্যন্ত এমন লোকদেরকে পাঠাবেন, যারা তাদেরকে আস্বাদন করাবে নিকৃষ্ট আযাব। নিশ্চয় তোমার রব আযাব প্রদানে খুব দ্রুত এবং নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

وَقَطَّعْنَاهُمْ فِي الْأَرْضِ أُمَمًا مِنْهُمُ الصَّالِحُونَ وَمِنْهُمْ دُونَ ذَلِكَ وَبَلَوْنَاهُمْ بِالْحَسَنَاتِ وَالسَّيِّئَاتِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ(7.168)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৬৮। অক্বত্ত্বোয়া’না-হুম্ ফিল্ র্আদ্বি উমামান মিন্ হুমুছ্ ছোয়া-লিহূনা অমিনহুম্ দূনা যা-লিকা অবালাওনা-হুম্ বিল্হাসানা-তি অস্সাইয়্যিয়া- তি লা‘আল্লাহুম্ ইর্য়াজ্বি‘ঊন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৬৮ আর যমীনে আমি তাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতিতে। তাদের কেউ নেককার আর কেউ ভিন্ন রকম এবং আমি তাদেরকে পরীক্ষা করেছি ভাল ও মন্দ দ্বারা, হয়তো তারা ফিরে আসবে।

فَخَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ وَرِثُوا الْكِتَابَ يَأْخُذُونَ عَرَضَ هَذَا الْأَدْنَى وَيَقُولُونَ سَيُغْفَرُ لَنَا وَإِنْ يَأْتِهِمْ عَرَضٌ مِثْلُهُ يَأْخُذُوهُ أَلَمْ يُؤْخَذْ عَلَيْهِمْ مِيثَاقُ الْكِتَابِ أَنْ لَا يَقُولُوا عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحَقَّ وَدَرَسُوا مَا فِيهِ وَالدَّارُ الْآخِرَةُ خَيْرٌ لِلَّذِينَ يَتَّقُونَ أَفَلَا تَعْقِلُونَ(7.169)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৬৯। ফাখালাফা মিম্ বা’দ্বিহিম্ খাল্ফুঁও অরিছুল্ কিতা-বা ইয়াখুযূনা ‘আরাদ্বোয়া হা-যাল্ আদ্না-অইয়াকুলূনা সাইয়ুগ্ফারু লানা -অইঁ ইয়াতিহিম্ ‘আরাদ্বুম্ মিছ্লুহূ ইয়া”খুযূহ; আলাম্ ইয়ু”খায্ ‘আলাইহিম্ মীছাকুল্ কিতা-বি আল্লা-ইয়াকুলূ ‘আলাল্লা-হি ইল্লাল্ হাকক্বা অদারাসূ মা-ফীহ্; অদ্দা-রুল্ আ-খিরাতু খইরুল্ লিল্লাযীনা ইয়াত্তাকুন্; আফালা-তা’ক্বিলূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৬৯ অতঃপর তাদের পরে স্থলাভিষিক্ত হয়েছে এমন অযোগ্য বংশধর যারা কিতাবের উত্তরাধিকারী হয়েছে, তারা এ নগণ্যতর (দুনিয়ার) সামগ্রী গ্রহণ করে এবং বলে, ‘শীঘ্রই আমাদের ক্ষমা করে দেয়া হবে’। বস্তুত যদি তার অনুরূপ সামগ্রী (আবারও) তাদের নিকট আসে তবে তারা তা গ্রহণ করবে। তাদের কাছ থেকে কি কিতাবের অঙ্গীকার নেয়া হয়নি যে, তারা আল্লাহর ব্যাপারে সত্য ছাড়া বলবে না? আর তারা এতে যা আছে, তা পাঠ করেছে এবং আখিরাতের আবাস তাদের জন্য উত্তম, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে। তোমরা কি বুঝ না?

وَالَّذِينَ يُمَسِّكُونَ بِالْكِتَابِ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ إِنَّا لَا نُضِيعُ أَجْرَ الْمُصْلِحِينَ(7.170)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৭০। অল্লাযীনা ইয়ুমাস্সিকূনা বিল্কিতা-বি অ আক্ব-মুছ্ ছলা-হ; ইন্না-লা-নুদ্বীউ’ আজরাল্ মুছ্লিহীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৭০ আর যারা কিতাবকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে এবং সালাত কায়েম করে, নিশ্চয় আমি সৎকর্মশীলদের প্রতিদান বিনষ্ট’ করি না।

وَإِذْ نَتَقْنَا الْجَبَلَ فَوْقَهُمْ كَأَنَّهُ ظُلَّةٌ وَظَنُّوا أَنَّهُ وَاقِعٌ بِهِمْ خُذُوا مَا آتَيْنَاكُمْ بِقُوَّةٍ وَاذْكُرُوا مَا فِيهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ (7.171)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৭১। অইয্ নাতাকনাল্ জ্বাবালা ফাওক্বহুম্ কাআন্নাহূ জুল্লাতুঁও ওয়াজোয়ান্নূ য় আন্নাহূ অ কি‘উম্ বিহিম্ খুযূ মা য় আ-তাইনা-কুম্ বিকুও অতিঁও অয্কুরূ মা-ফীহি লা‘আল্লাকুম্ তাত্তাকুন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৭১ আর স্মরণ কর, যখন আমি তাদের উপর পাহাড় তুলে ধরলাম, যেন তা একটি মেঘ এবং তারা মনে করল যে, নিশ্চয় তা তাদের উপর পড়বে। ‘আমি তোমাদের যা দিয়েছি, তা শক্তভাবে ধর এবং তাতে যা আছে তা স্মরণ কর, যেন তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পার।’

وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنْ بَنِي آدَمَ مِنْ ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَأَشْهَدَهُمْ عَلَى أَنْفُسِهِمْ أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ قَالُوا بَلَى شَهِدْنَا أَنْ تَقُولُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّا كُنَّا عَنْ هَذَا غَافِلِينَ(7.172)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৭২। অইয্ আখাযা রব্বুকা মিম্ বানী য় আ-দামা মিন্ জুহূরিহিম্ র্যুরিয়্যাতাহুম্ অআশ্হাদাহুম্ ‘আলা য় আন্ফুসিহিম্, আলাস্তু বিরব্বিকুম; ক্ব-লূ বালা-; শাহিদ্না-আন্ তাকুলূ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি ইন্না-কুন্না-‘আন্ হা-যা- গ-ফিলীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৭২ আর স্মরণ কর, যখন তোমার রব বনী-আদমের পৃষ্ঠদেশ হতে তাদের বংশধরকে বের করলেন এবং তাদেরকে তাদের নিজদের উপর সাক্ষী করলেন যে, ‘আমি কি তোমাদের রব নই’? তারা বলল, ‘হ্যাঁ, আমরা সাক্ষ্য দিলাম।’ যাতে কিয়ামতের দিন তোমরা বলতে না পার যে, নিশ্চয় আমরা এ বিষয়ে অনবহিত ছিলাম।

أَوْ تَقُولُوا إِنَّمَا أَشْرَكَ آبَاؤُنَا مِنْ قَبْلُ وَكُنَّا ذُرِّيَّةً مِنْ بَعْدِهِمْ أَفَتُهْلِكُنَا بِمَا فَعَلَ الْمُبْطِلُونَ(7.173)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৭৩। আও তাকুলূ য় ইন্নামা য় আশ্রাকা আ-বা – য়ুনা-মিন্ ক্বাব্লু অকুন্না- যুররিয়্যাতাম্ মিম্ বা’দিহিম্ আফাতুহ্লিকুনা-বিমা-ফা‘আলাল্ মুব্ত্বিলূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৭৩ অথবা তোমরা যাতে বলতে না পার, ‘আমাদের পিতৃÑপুরুষরাই পূর্বে র্শিক করেছে, আর আমরা ছিলাম তাদের পরবর্তী বংশধর। সুতরাং বাতিলপন্থিরা যা করেছে, তার কারণে আপনি কি আমাদেরকে ধ্বংস করবেন’?

وَكَذَلِكَ نُفَصِّلُ الْآيَاتِ وَلَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ(7.174)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৭৪। অকাযা-লিকা নুফাছ্ছিলুল্ আ-ইয়া-তি অলা‘আল্লাহুম্ ইয়ারজ্বিঊ’ন।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৭৪ আর এভাবেই আমি আয়াতসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি, যাতে তারা ফিরে আসে।

وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ الَّذِي آتَيْنَاهُ آيَاتِنَا فَانْسَلَخَ مِنْهَا فَأَتْبَعَهُ الشَّيْطَانُ فَكَانَ مِنَ الْغَاوِينَ (7.175)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৭৫। অত্লু ‘আলাইহিম্ নাবায়াল্লাযী য় আ-তাইনা-হু আ-ইয়া-তিনা-ফান্সালাখা মিন্হা-ফাআত্বা‘আহুশ্ শাইত্বোয়া-নু ফাকা-না মিনাল্ গা-ওয়ীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৭৫ আর তুমি তাদের উপর সে ব্যক্তির সংবাদ পাঠ কর, যাকে আমি আমার আয়াতসমূহ দিয়েছিলাম। অতঃপর সে তা হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল এবং শয়তান তার পেছনে লেগেছিল। ফলে সে বিপথগামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছিল।

وَلَوْ شِئْنَا لَرَفَعْنَاهُ بِهَا وَلَكِنَّهُ أَخْلَدَ إِلَى الْأَرْضِ وَاتَّبَعَ هَوَاهُ فَمَثَلُهُ كَمَثَلِ الْكَلْبِ إِنْ تَحْمِلْ عَلَيْهِ يَلْهَثْ أَوْ تَتْرُكْهُ يَلْهَثْ ذَلِكَ مَثَلُ الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا فَاقْصُصِ الْقَصَصَ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ(7.176)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৭৬। অলাও শিনা লারাফা’না-হু বিহা-অলা-কিন্নাহূ য় আখ্লাদা ইলাল্ আরদ্বি অত্তাবা‘আ হাওয়া-হু ফামাছালুহূ কামাছালিল্ কাল্বি ইন্ তাহ্মিল্ ‘আলাইহি ইয়াল্হাছ্ আও তাত্রুক্হু ইয়াল্হাছ্; যা-লিকা মাছালুল্ ক্বাওমিল্লাযীনা কাযযাবূ বিআ-ইয়া-তিনা-ফাক্ছুছিল্ ক্বাছোয়াছোয়া লা‘আল্লাহুম্ ইয়াতাফাক্কারূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৭৬ আর আমি ইচ্ছা করলে উক্ত নিদর্শনাবলীর মাধ্যমে তাকে অবশ্যই উচ্চ মর্যাদা দিতাম, কিন্তু সে পৃথিবীর প্রতি ঝুঁকে পড়েছে এবং নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে। সুতরাং তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে কুকুরের মত। যদি তার উপর বোঝা চাপিয়ে দাও তাহলে সে জিহ্বা বের করে হাঁপাবে অথবা যদি তাকে ছেড়ে দাও তাহলেও সে জিহ্বা বের করে হাঁপাবে। এটি হচ্ছে সে কওমের দৃষ্টান্ত যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে। অতএব তুমি কাহিনী বর্ণনা কর, যাতে তারা চিন্তা করে।

سَاءَ مَثَلًا الْقَوْمُ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَأَنْفُسَهُمْ كَانُوا يَظْلِمُونَ(7.177)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৭৭। সা – য়া মাছালা-নিল্ ক্বাওমুল্লাযীনা কায্যাবূ বিআ-ইয়া-তিনা-অআন্ফুসাহুম্ কা-নূ ইয়াজ্লিমূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৭৭ উপমা হিসাবে খুবই মন্দ সে কওম যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে এবং তারা নিজদের প্রতিই যুলম করত।

مَنْ يَهْدِ اللَّهُ فَهُوَ الْمُهْتَدِي وَمَنْ يُضْلِلْ فَأُولَئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ(7.178)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৭৮। মাইঁ ইয়াহ্দি ল্লা-হু ফাহুঅল্ মুহ্তাদী অমাঁই ইয়্যুদ্ব্লিল্ ফায়ুলা – য়িকা হুমুল্ খ-সিরূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৭৮ যাকে আল্লাহ হিদায়াত করেন সেÑই হিদায়াতপ্রাপ্ত আর যাদেরকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।

وَلَقَدْ ذَرَأْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيرًا مِنَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ لَهُمْ قُلُوبٌ لَا يَفْقَهُونَ بِهَا لَهُمْ قُلُوبٌ لَا يَفْقَهُونَ بِهَا وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لَا يُبْصِرُونَ بِهَا وَلَهُمْ آذَانٌ لَا يَسْمَعُونَ بِهَا أُولَئِكَ كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ أُولَئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ(7.179) আরবি উচ্চারণ ৭.১৭৯। অলাক্বদ্যারা”না-লিজ্বাহান্নামা কাছীরাম্ মিনাল্ জ্বিন্নি অল্ইন্সি লাহুম্ কুলূবুল্ লা-ইয়াফ্ক্বহূনা বিহা-অলাহুম্ আ’ইয়ুনুল্ লা-ইয়ুব্ছিরূনা বিহা- অলাহুম্ আ-যা-নুল্ লা-ইয়াস্মা‘ঊনা বিহা-; উলা – য়িকা কাল্আন্‘আ-মি বাল্ হুম্ আদ্বোয়াল্; উলা – য়িকা হুমুল্ গ-ফিলূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৭৯ আর অবশ্যই আমি সৃষ্টি করেছি জাহান্নামের জন্য বহু জিন ও মানুষকে। তাদের রয়েছে অন্তর, তা দ্বারা তারা বুঝে না; তাদের রয়েছে চোখ, তা দ্বারা তারা দেখে না এবং তাদের রয়েছে কান, তা দ্বারা তারা শুনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তারা অধিক পথভ্রষ্ট। তারাই হচ্ছে গাফেল।

وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ(7.180)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৮০। অলিল্লা-হিল্ আস্মা – য়ুল্ হুস্না- ফাদ্‘ঊহু বিহা-অযারুল্লাযীনা ইয়ুল্হিদূনা ফী য় আস্মা – য়িহ্; সাইয়ুজযাওনা মা- কা-নূ ইয়া’মালূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৮০ আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামের মাধ্যমে ডাক। আর তাদেরকে বর্জন কর যারা তাঁর নামে বিকৃতি ঘটায়। তারা যা করত অচিরেই তাদেরকে তার প্রতিফল দেয়া হবে।

وَمِمَّنْ خَلَقْنَا أُمَّةٌ يَهْدُونَ بِالْحَقِّ وَبِهِ يَعْدِلُونَ(7.181)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৮১। অমিম্মান্ খলাকনা য় উম্মাতুঁই ইয়াহ্দূনা বিল্হাকক্বি অবিহী ইয়া’দিলূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৮১ আর যাদেরকে আমি সৃষ্টি করেছি তাদের মধ্যে এমন একদল আছে যারা যথাযথভাবে পথ দেখায় এবং তদ্বারা ইনসাফ করে।

وَالَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا سَنَسْتَدْرِجُهُمْ مِنْ حَيْثُ لَا يَعْلَمُونَ(7.182)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৮২। অল্লাযীনা কায্যাবূ বিআ-য়া-তিনা সানাস্তাদ্রিজুহুম্ মিন্ হাইছু লা-ইয়া’লামূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৮২ আর যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে, অচিরেই আমি তাদেরকে ধীরে ধীরে এমনভাবে পাকড়াও করব যে, তারা জানতেও পারবে না।

وَأُمْلِي لَهُمْ إِنَّ كَيْدِي مَتِينٌ (7.183)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৮৩। অউম্লী লাহুম্ ইন্না কাইদী মাতীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৮৩ আর আমি তাদেরকে অবকাশ দিচ্ছি। নিশ্চয় আমার কৌশল শক্তিশালী।

أَوَلَمْ يَتَفَكَّرُوا مَا بِصَاحِبِهِمْ مِنْ جِنَّةٍ إِنْ هُوَ إِلَّا نَذِيرٌ مُبِينٌ(7.184)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৮৪। আওয়ালাম্ ইয়াতাফাক্কারূ মা-বিছোয়া-হিবিহিম্ মিন্ জ্বিন্নাহ্; ইন্ হুঅ ইল্লা- নাযীরুম্ মুবীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৮৪ তারা কি চিন্তা করেনি যে, তাদের সঙ্গীর মধ্যে কোন মস্তিষ্ক বিকৃতি নেই; সে তো স্পষ্ট সতর্ককারী।

أَوَلَمْ يَنْظُرُوا فِي مَلَكُوتِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا خَلَقَ اللَّهُ مِنْ شَيْءٍ وَأَنْ عَسَى أَنْ يَكُونَ قَدِ اقْتَرَبَ أَجَلُهُمْ فَبِأَيِّ حَدِيثٍ بَعْدَهُ يُؤْمِنُونَ(7.185)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৮৫। আওয়ালাম্ ইয়ান্জুরূ ফী মালাকূতিস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বি অমা-খলাক্বাল্লা-হু মিন্ শাইয়িঁও অআন্ ‘আসা য় আঁই ইয়াকূনা ক্বাদিক তারাবা আজ্বালুহুম্ ফাবিআইয়্যি হাদীছিম্ বা’দাহূ ইউমিনূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৮৫ তারা কি দৃষ্টিপাত করেনি আসমানসমূহ ও যমীনের রাজত্বে এবং আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তার প্রতি? আর (এর প্রতি যে) হয়তো তাদের নির্দিষ্ট সময় নিকটে এসে গিয়েছে? সুতরাং তারা এরপর আর কোন্ কথার প্রতি ঈমান আনবে?

مَنْ يُضْلِلِ اللَّهُ فَلَا هَادِيَ لَهُ وَيَذَرُهُمْ فِي طُغْيَانِهِمْ يَعْمَهُونَ(7.186)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৮৬। মাইঁ ইয়ুদ্ব্লিলিল্লা-হু ফালা-হা-দিয়া-লাহ্; অ ইয়াযারুহুম্ ফী ত্ব ুগ্ইয়া-নি হম্ ইয়া’মাহূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৮৬ আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার কোন হিদায়াতকারী নেই এবং তিনি তাদেরকে তাদের অবাধ্যতায় ছেড়ে দেন, তারা দিশেহারা হয়ে ঘুরে বেড়ায়।

يَسْأَلُونَكَ عَنِ السَّاعَةِ أَيَّانَ مُرْسَاهَا قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ رَبِّي لَا يُجَلِّيهَا لِوَقْتِهَا إِلَّا هُوَ ثَقُلَتْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَا تَأْتِيكُمْ إِلَّا بَغْتَةً يَسْأَلُونَكَ كَأَنَّكَ حَفِيٌّ عَنْهَا قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ اللَّهِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ(7.187)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৮৭। ইয়াস্য়ালূনাকা ‘আনিস্ সা-আ’তি আইইয়া-না র্মুসা-হা-; কুল্ ইন্নামা- ‘ইলমুহা-‘ইন্দা রব্বী লা-ইউজ্বাল্লীহা- লিওয়াকতিহা য় ইল্লা- হুঅ ছাকুলাত্ ফিস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্ব্; লা-তা”তীকুম্ ইল্লা-বাগ্তাহ্; ইয়াস্য়ালূনাকা কাআন্নাকা হাফিইয়ুন্ ‘আন্হা-; কুল্ ইন্নামা-‘ইল্মুহা-‘ইন্দাল্লা-হি অলা-কিন্না আক্ছারান্ না-সি লা-ইয়া’লামূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৮৭ তারা তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করে, ‘তা কখন ঘটবে’? তুমি বল, ‘এর জ্ঞান তো রয়েছে আমার রবের নিকট। তিনিই এর নির্ধারিত সময়ে তা প্রকাশ করবেন। আসমানসমূহ ও যমীনের উপর তা (কিয়ামত) কঠিন হবে। তা তোমাদের নিকট হঠাৎ এসে পড়বে। তারা তোমাকে প্রশ্ন করছে যেন তুমি এ সম্পর্কে বিশেষভাবে অবহিত। বল, ‘এ বিষয়ের জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকট আছে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না’।

قُلْ لَا أَمْلِكُ لِنَفْسِي نَفْعًا وَلَا ضَرًّا إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ وَلَوْ كُنْتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لَاسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوءُ إِنْ أَنَا إِلَّا نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ(7.188)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৮৮। কুল্ লা য় আম্লিকু লিনাফ্সী নাফ্‘আঁও অলা-দ্বোর্য়ারান্ ইল্লা-মা-শা – য়াল্লা-হ্; অলাও কুন্তু আ’লামুল্ গইবা লাস্তার্ক্ছাতু মিনাল্ খার্ই; অমা- মাস্সানিয়াস্ সূ – য়ু ইন্ আনা-ইল্লা-নাযীরুঁও অবাশীরুল্ লিক্বওমিইঁ ইয়ুমিনূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৮৮ বল, ‘আমি আমার নিজের কোন উপকার ও ক্ষতির ক্ষমতা রাখি না, তবে আল্লাহ যা চান। আর আমি যদি গায়েব জানতাম তাহলে অধিক কল্যাণ লাভ করতাম এবং আমাকে কোন ক্ষতি স্পর্শ করত না। আমিতো একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা এমন কওমের জন্য, যারা বিশ্বাস করে’।

هُوَ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَجَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا لِيَسْكُنَ إِلَيْهَا فَلَمَّا تَغَشَّاهَا حَمَلَتْ حَمْلًا خَفِيفًا فَمَرَّتْ بِهِ فَلَمَّا أَثْقَلَتْ دَعَوَا اللَّهَ رَبَّهُمَا لَئِنْ آتَيْتَنَا صَالِحًا لَنَكُونَنَّ مِنَ الشَّاكِرِينَ(7.189)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৮৯। হুঅ ল্লাযী খালাক্বাকুম্ মিন্ নাফ্সিঁও ওয়া- হিদাতিঁও অজা‘আলা মিন্হা- যাওজ্বাহা- লিইয়াস্কুনা ইলাইহা-ফালাম্মা- তাগাশ্শা-হা-হামালাত্ হাম্লান্ খাফীফান্ ফার্মারাত বিহী ফালাম্মা য় আছ্ক্বলাদ্ দা‘আঅল্লা-হা রব্বাহুমা- লায়িন্ আ-তাইতানা-ছোয়া-লিহাল্ লানাকূনান্না মিনশ্ শা -কিরীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৮৯ তিনিই সে সত্তা যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক ব্যক্তি থেকে এবং তার থেকে বানিয়েছেন তার সঙ্গিনীকে, যাতে সে তার নিকট প্রশান্তি লাভ করে। অতঃপর যখন সে তার সঙ্গিনীর সাথে মিলিত হল, তখন সে হালকা গর্ভ ধারণ করল এবং তা নিয়ে চলাফেরা করতে থাকল। অতঃপর যখন সে ভারী হল, তখন উভয়ে তাদের রব আল্লাহকে ডাকল, ‘যদি আপনি আমাদেরকে সুসন্তান দান করেন তবে অবশ্যই আমরা কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হব’।

فَلَمَّا آتَاهُمَا صَالِحًا جَعَلَا لَهُ شُرَكَاءَ فِيمَا آتَاهُمَا فَتَعَالَى اللَّهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ(7.190)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৯০। ফালাম্মা য় আ-তা-হুমা-। ছোয়া-লিহান্ জ্বা‘আলা- লাহূ শুরাকা – য়া ফীমা য় আ-তা-হুমা-ফাতা‘আলাল্লা-হু ‘আম্মা-ইয়ুশ্রিকূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৯০ অতঃপর যখন তিনি তাদেরকে এক সুসন্তান দান করলেন, তখন তাদেরকে তিনি যা প্রদান করেছেন সে বিষয়ে তারা তাঁর বহু শরীক নির্ধারণ করল। বস্তুত আল্লাহ তারা যাদের শরীক করে তাদের থেকে অনেক ঊর্ধ্বে।

أَيُشْرِكُونَ مَا لَا يَخْلُقُ شَيْئًا وَهُمْ يُخْلَقُونَ(7.191)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৯১। আইয়ুশ্রিকূনা মা-লা- ইয়াখ্লুকু শাইয়াঁও অহুম্ ইয়ুখ্লাকুন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৯১ তারা কি এমন কিছুকে শরীক করে, যারা কোন কিছু সৃষ্টি করে না, বরং তাদেরকেই সৃষ্টি করা হয়?

وَلَا يَسْتَطِيعُونَ لَهُمْ نَصْرًا وَلَا أَنْفُسَهُمْ يَنْصُرُونَ(7.192)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৯২। অলা-ইয়াস্তাত্বীঊ’না লাহুম্, নাছ্রাঁও অলা য় আন্ফুসাহুম্ ইয়ান্ছুরূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৯২ আর তারা তাদেরকে কোন সাহায্য করতে পারে না এবং তারা নিজদেরকেও সাহায্য করতে পারে না।

وَإِنْ تَدْعُوهُمْ إِلَى الْهُدَى لَا يَتَّبِعُوكُمْ سَوَاءٌ عَلَيْكُمْ أَدَعَوْتُمُوهُمْ أَمْ أَنْتُمْ صَامِتُونَ (7.193)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৯৩। অইন্ তাদ্‘ঊহুম্ ইলাল্ হুদা- লা ইয়াত্তাবি‘ঊকুম্; সাত্তয়া – য়ুন্ ‘আলাইকুম্ আদ্‘আওতুমূহুম আম্ আন্তুম্ ছোয়া-মিতূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৯৩ আর তোমরা যদি তাদেরকে হিদায়াতের দিকে আহ্বান কর, তারা তোমাদের অনুসরণ করবে না। তোমরা তাদেরকে ডাক অথবা তোমরা চুপ থাক, তা তোমাদের নিকট সমান।

إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ عِبَادٌ أَمْثَالُكُمْ فَادْعُوهُمْ فَلْيَسْتَجِيبُوا لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ(7.194)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৯৪। ইন্না ল্লাযীনা তাদ্‘ঊনা মিন্ দূনিল্লা-হি ‘ইবা-দুন্ আম্ছা-লুকুম্ ফাদ্‘ঊহুম্ ফাল্ ইয়াস্তাজ্বীবূ লাকুম্ ইন্ কুন্তুম্ ছোয়া-দিক্বীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৯৪ আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে তোমরা ডাক তারা তোমাদের মত বান্দা। সুতরাং তোমরা তাদেরকে ডাক। অতঃপর তারা যেন তোমাদের ডাকে সাড়া দেয়, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।

أَلَهُمْ أَرْجُلٌ يَمْشُونَ بِهَا أَمْ لَهُمْ أَيْدٍ يَبْطِشُونَ بِهَا أَمْ لَهُمْ أَعْيُنٌ يُبْصِرُونَ بِهَا أَمْ لَهُمْ آذَانٌ يَسْمَعُونَ بِهَا قُلِ ادْعُوا شُرَكَاءَكُمْ ثُمَّ كِيدُونِ فَلَا تُنْظِرُونِ(7.195)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৯৫। আলাহুম্ র্আজুলুঁই ইয়াম্শূনা বিহা য় আম্ লাহুম্ আইদিঁই ইয়াব্ত্বিশূনা বিহা য় আম্ লাহুম্ আ’ইয়ুনুঁই ইয়ুব্ছিরূনা বিহা য় আম্ লাহুম্ আ -যা-নুঁই ইয়াস্মা‘ঊনা বিহা-; কুলিদ্‘ঊ শুরাকা – য়াকুম্ ছুম্মা কীদূনি ফালা-তুন্জিরূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৯৫ তাদের কি পা আছে যার সাহায্যে তারা চলে? বা তাদের কি হাত আছে যা দ্বারা তারা ধরে? বা তাদের কি চক্ষু আছে যার মাধ্যমে তারা দেখে? অথবা তাদের কি কান আছে যা দ্বারা তারা শুনে? বল, ‘তোমরা তোমাদের শরীকদের ডাক। তারপর আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কর এবং আমাকে অবকাশ দিয়ো না’।

إِنَّ وَلِيِّيَ اللَّهُ الَّذِي نَزَّلَ الْكِتَابَ وَهُوَ يَتَوَلَّى الصَّالِحِينَ(7.196)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৯৬। ইন্না অলিয়্যিয়া ল্লা-হু ল্লাযী নায্যালাল্ কিতা-বা অহুঅ ইয়াতাওয়াল্লাছ্ ছোয়া-লিহীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৯৬ ‘নিশ্চয় আমার অভিভাবক আল্লাহ, যিনি কিতাব নাযিল করেছেন। আর তিনি নেককারদের দেখাশোনা করেন’।

وَالَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ لَا يَسْتَطِيعُونَ نَصْرَكُمْ وَلَا أَنْفُسَهُمْ يَنْصُرُونَ (7.197)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৯৭। অল্লাযীনা তাদ্‘ঊনা মিন্ দূনিহী লা- ইয়াস্তাত্বী‘ঊনা নাছ্রাকুম্ অলা য় আন্ফুসাহুম্ ইয়ান্ছুরূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৯৭ আর তাঁকে ছাড়া তোমরা যাদেরকে ডাক তারা তোমাদেরকে সাহায্য করতে পারে না এবং তারা নিজদেরকেও সাহায্য করতে পারে না।

وَإِنْ تَدْعُوهُمْ إِلَى الْهُدَى لَا يَسْمَعُوا وَتَرَاهُمْ يَنْظُرُونَ إِلَيْكَ وَهُمْ لَا يُبْصِرُونَ(7.198)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৯৮। অইন্ তাদ্‘ঊহুম্ ইলাল্ হুদা-লা-ইয়াস্মা‘ঊ; অতা-রাহুম্ ইয়ান্জুরূনা ইলাইকা অহুম্ লা- ইয়ুব্ছিরূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৯৮ তুমি যদি তাদেরকে হিদায়াতের দিকে আহ্বান কর, তারা শুনবে না। আর তুমি তাদেরকে দেখবে যে, তারা তোমার দিকে তাকিয়ে আছে, অথচ তারা দেখছে না।

خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الْجَاهِلِينَ(7.199)

আরবি উচ্চারণ ৭.১৯৯। খুযিল্ ‘আফ্ওয়া ওয়া”র্মু বিল্‘র্উফি অ‘আরিদ্ব্ ‘আনিল্ জ্বা-হিলীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.১৯৯ তুমি ক্ষমা প্রদর্শন কর এবং ভালো কাজের আদেশ দাও। আর মূর্খদের থেকে বিমুখ থাক।

وَإِمَّا يَنْزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَانِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ إِنَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ(7.200)

আরবি উচ্চারণ ৭.২০০। অইম্মা-ইয়ান্যাগান্নাকা মিনাশ্ শাইত্বোয়া-নি নায্গুন্ ফাস্তাই’য্ বিল্লা-হ্;ইন্নাহূ সামী‘ঊন্ ‘আলীম্।

বাংলা অনুবাদ ৭.২০০ আর যদি শয়তানের পক্ষ হতে কোন প্ররোচনা তোমাকে প্ররোচিত করে, তবে তুমি আল্লাহর আশ্রয় চাও। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

إِنَّ الَّذِينَ اتَّقَوْا إِذَا مَسَّهُمْ طَائِفٌ مِنَ الشَّيْطَانِ تَذَكَّرُوا فَإِذَا هُمْ مُبْصِرُونَ(7.201)

আরবি উচ্চারণ ৭.২০১। ইন্নাল্লাযীনাত্ তাক্বাও ইযা-মাস্সাহুম্ ত্বোয়া – য়িফুম্ মিনাশ্ শাইত্বো-নি তাযাক্কারূ ফাইযা-হুম্ মুব্ছিরূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.২০১ নিশ্চয় যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে যখন তাদেরকে শয়তানের পক্ষ থেকে কোন কুমন্ত্রণা স্পর্শ করে তখন তারা আল্লাহকে স্মরণ করে। তখনই তাদের দৃষ্টি খুলে যায়।

وَإِخْوَانُهُمْ يَمُدُّونَهُمْ فِي الْغَيِّ ثُمَّ لَا يُقْصِرُونَ(7.202)

আরবি উচ্চারণ ৭.২০২। অইখওয়া-নুহুম্ ইয়ামুদ্দূনাহুম্ ফিল্ গইয়্যি ছুম্মা লা- ইয়ুকছিরূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.২০২ আর শয়তানের ভাইয়েরা ভ্রষ্টতায় তাদেরকে সহযোগিতা করে। অতঃপর তারা ত্র“টি করে না।

وَإِذَا لَمْ تَأْتِهِمْ بِآيَةٍ قَالُوا لَوْلَا اجْتَبَيْتَهَا قُلْ إِنَّمَا أَتَّبِعُ مَا يُوحَى إِلَيَّ مِنْ رَبِّي هَذَا بَصَائِرُ مِنْ رَبِّكُمْ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ(7.203)

আরবি উচ্চারণ ৭.২০৩। অইযা-লাম্ তা”তিহিম্ বিআ-ইয়াতিন্ ক্ব-লূ লাওলাজতাবাইতাহা-; কুল্ ইন্নামা য় আত্তাবিউ’ মা-ইয়ূহা য় ইলাইয়্যা র্মি রব্বী হা-যা-বাছোয়া – য়িরু র্মি রব্বিকুম্ অহুদাঁও অ রহ্মাতুল্ লিকওমিঁই ইয়ু”মিনূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.২০৩ আর যখন তুমি তাদের নিকট কোন আয়াত নিয়ে না আস, তখন তারা বলে, ‘তুমি কেন নিজেই তা বানিয়ে নাও না?’ বল, ‘আমিতো তারই অনুসরণ করি, যা আমার কাছে আমার রবের পক্ষ থেকে ওহীরূপে প্রেরণ করা হয়। এটি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণ। আর তা হিদায়াত ও রহমত সে কওমের জন্য যারা ঈমান আনে’।

وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنْصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ(7.204)

আরবি উচ্চারণ ৭.২০৪। অইযা-কুরিয়াল্ ক্বর্আ-নু ফাস্তামি‘ঊ লাহূ অ ‘আন্ছিতূ লা‘আল্লাকুম্ র্তুহামূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.২০৪ আর যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তা মনোযোগ দিয়ে শোন এবং চুপ থাক, যাতে তোমরা রহমত লাভ কর।

وَاذْكُرْ رَبَّكَ فِي نَفْسِكَ تَضَرُّعًا وَخِيفَةً وَدُونَ الْجَهْرِ مِنَ الْقَوْلِ بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ وَلَا تَكُنْ مِنَ الْغَافِلِينَ(7.205)

আরবি উচ্চারণ ৭.২০৫। অর্য্কু রব্বাকা ফী নাফ্সিকা তাদ্বোর্য়ারুআঁও অখীফাতাঁও অদূনাল্ জ্বাহ্রি মিনাল্ ক্বওলি বিল্গুদুওয়্যি অল্ আ-ছোয়া-লি অলা-তাকুম্ মিনাল্ গ-ফিলীন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.২০৫ আর তুমি নিজ মনে আপন রবকে স্মরণ কর সকাল-সন্ধ্যায় অনুনয়Ñবিনয় ও ভীতি সহকারে এবং অনুচ্চ স্বরে । আর গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।

إِنَّ الَّذِينَ عِنْدَ رَبِّكَ لَا يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِهِ وَيُسَبِّحُونَهُ وَلَهُ يَسْجُدُونَ (7.206)

আরবি উচ্চারণ ৭.২০৬। ইন্নাল্লাযীনা ‘ইন্দা রব্বিকা লা-ইয়াস্তাক্বিরূনা ‘আন্ ‘ইবা-দাতিহী অইয়ুসাব্বিহূনাহূ অলাহূ ইয়াস্জুদূন্।

বাংলা অনুবাদ ৭.২০৬ নিশ্চয় যারা তোমার রবের নিকট আছে তারা তাঁর ইবাদাতের ব্যাপারে অহঙ্কার করে না এবং তার তাসবীহ পাঠ করে, আর তাঁর জন্যই সিজদা করে। (সিজদা)

আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ

    প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে ইমেল : info@banglanewsexpress.com

    আমরা আছি নিচের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে ও

    Leave a Comment