জীবে প্রেম করার মধ্য দিয়ে কিভাবে ঈশ্বরের সেবা করা যায় তা তােমার অথবা তােমার। পারিবারিক জীবনের জীব সেবার কোনাে অভিজ্ঞতা বর্ণনার মাধ্যমে উপস্থাপন কর।

জীবে প্রেম করার মধ্য দিয়ে কিভাবে ঈশ্বরের সেবা করা যায় তা তােমার অথবা তােমার। পারিবারিক জীবনের জীব সেবার কোনাে অভিজ্ঞতা বর্ণনার মাধ্যমে উপস্থাপন কর।

উত্তর :


ঈশ্বর সর্বশক্তিমান।তার মধ্যে রয়েছে | অসীম শক্তি।তিনি শাশ্বত,নিত্য ও অবিনশ্বর।তিনি সকল জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন।তাই জীব সেবা করলেই ঈশ্বরের সেবা করা হয়।

স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন

“বহুরূপে সম্মুখে তােমা ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর,
জীবে প্রেম করে যেইজন,সেইজন সেবিছে ঈশ্বর।”

জীব সেবার প্রয়ােজনীয়তা

প্রতিটি জীবের মধ্যেই ঈশ্বরের বাসাঈশ্বর আত্মারূপে জীবের মধ্যে অবস্থান করেন।জীবকে অবহেলা করা মানে ঈশ্বরকে অবহেলা করা।জীবের ক্ষতি করা মানে ঈশ্বরের ক্ষতি করা। তাই ঈশ্বরের সন্তুষ্টি ও তার কৃপা লাভের জন্য আমাদের তার সৃষ্ট প্রত্যেকটা জীবকেই ভালােবাসতে হবে।একজন প্রকৃত ভক্ত সর্বজীবে দয়া করে। শুধু ঈশ্বরের সন্তুষ্টিই নয় বরং মানুষ হিসেবেও আমাদের জীবের প্রতি একটা দায়িত্ব রয়েছে। জীব সেবার প্রয়ােজনীয়তা ব্যাপক তবে প্রয়ােজনীয়তা দেখে নয় বরং মানবিক গুণাবলি থেকেই আমাদের জীব সেবা করা উচিত।

জীবসেবায় আমার অভিজ্ঞতা

জীবের সেবা করলে ঈশ্বর সন্তুষ্ট হােন। ঈশ্বরের সন্তুষ্টি অর্জন করা একজন ভক্ত হিসেবে আমাদের প্রধান কর্তব্য। সেদিক দিয়ে আমার জীবসেবার অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে। তার মধ্যে একটি অভিজ্ঞতা সত্যিই আমাকে গর্বিত করেছে। ভােরে ঘুম থেকে উঠে হাঁটাহাঁটির অভ্যাস রয়েছে আমার। সেদিনও বরাবরের মতাে হাঁটতে বেরিয়েছি। হঠাৎ রাস্তার পাশের বনের ঝােপে কিছু একটার নড়াচড়ার আওয়াজ পেলাম। কৌতুহল বশত কাছে গেলাম দেখার জন্য। দেখতে পেলাম দুটো কুকুর ছানা ও পাশেই তাদের মা মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। মা কুকুরটার শরীরে মাংস প্রায় নাই বললেই চলে। হয়তাে অনেকদিন কিছু খায় নি তাই শেষে বাচ্চাদের রেখেই না ফেরার দেশে চলে যেতে হলাে। পিঠের মধ্যে একটা লাটিকাঘাতের গভীর চিহ্নও দেখতে পেলাম। কেউ খুব জোরে লাটি দিয়ে পিঠে আঘাত করেছে এটা স্পষ্ট।

যেই এই কাজটা করেছে মােটেও ভালাে করে নি। অন্যায় কাজ করেছে।কোনাে জীবকেই এভাবে আঘাত করা উচিত নয় কারন জীবের মধ্যেই ঈশ্বরের বাস। একদিকে জীব হত্যা আর অন্যদিকে হাজার ঈশ্বর আরাধনা করলেও ঈশ্বরের সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব নয়ামা কুকুরটার জন্য আমার খুব কষ্ট লাগলাে। ছানাগুলােও দূর্বলভাবে পাশে পড়ে রয়েছে।

মা ছাড়া ওদেরও এই প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে। থাকা সম্ভব নয়। ওরা যখন পৃথিবীর আলাে দেখেছে তাহলে সেই আলােতে বেঁচে থাকারও ওদের সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তাই আমি মনােবল দৃঢ় করে সিদ্ধান্তটা নিয়েই নিলাম। আমি কুকুর ছানা দুটিকে আমার সাথে করে বাড়িতে নিয়ে এলাম। আর ওদের মা কে ওই ঝােপের পাশেই মাটিতে গর্ত করে ঈশ্বরের নামে সমাহিত করলাম।

বাড়িতে আনার পর ছানা দুটোকে আমার ঘরেই রাখলাম। ওদের পূর্ণাঙ্গ যত্ন নিলাম আমি। যতটা সম্ভব পারা যায় ওদেরকে সময় দিলাম। ওদেরকে নিজের হাতে খাইয়েও দিতে লাগলাম। প্রতিমাসের টিকার কোর্স সম্পন্ন করলাম। ধীরে ধীরে ওরা বড় হতে লাগলাে। দৌড়াদৌড়ি,লাফালাফি এবং ডাকাডাকি করতে লাগলাে দিনের বেশিরভাগ সময়ই ওদের সাথে কেটে যেত আমার। আমি রাম-সাম বলে ডাকলেই ওরা দৌড়ে চলে আসতাে যেন আমিই ওদের মা-বাবা আর ওরা আমারই বাচ্চা।

এভাবে দিন যেতে লাগলাে। ওরাও আমার ও আমার পরিবারের ছত্রছায়ায় বড় হতে লাগলাে। এখন ওরা সম্পূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক দুটো কুকুর। একদম যেন দুই জমজ ভাই। আমাদের বাড়ি পাহারার দায়িত্ব ওরা নিজে থেকেই নিয়ে নিয়েছে। আমাকে দেখলেই কার আগে কে আমার কোলে এসে উঠবে সেটা নিয়ে দুজনেই বেশ ব্যাস্ত হয়ে পড়ে।

আমিও ওদেরকে বাঁচাতে পেরে খুব খুশি। সেদিন যদি আমি ওদের নিয়ে না আসতাম এবং পরিপূর্ণ যত্ন না করতাম তাহলে হয়তাে ওরা অবহেলায় মারাই যেত। কিন্তু ওদেরকে আমি বাঁচাতে পেরেছি এবং একইসাথে ওদের একটা আনন্দঘন পরিবেশও দিতে পেরেছি। সেজন্য আমি ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ।

আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত নিজের সাধ্যমতাে জীবের সেবা করা। যদি জীব সেবা নাও করতে পারি তাও আমাদের দ্বারা যেন কোনাে জীবের ক্ষতি না হয় সেদিকে সচেষ্ট থাকতে হবে। যখন এই পৃথিবীটা হয়ে উঠবে জীব প্রেমের ক্ষেত্র তখনই ঈশ্বর স্ব-ইচ্ছায় নেমে আসবেন এই ধরাধামে। তাই জীব হত্যা নয়,জীব প্রেমই করণীয়।

1 thought on “জীবে প্রেম করার মধ্য দিয়ে কিভাবে ঈশ্বরের সেবা করা যায় তা তােমার অথবা তােমার। পারিবারিক জীবনের জীব সেবার কোনাে অভিজ্ঞতা বর্ণনার মাধ্যমে উপস্থাপন কর।”

Leave a Comment