সূরা লুকমান সকল তথ্য আল কোরআন ও হাদিসের আলোতে,পৃথিবীর জানা অজানা কিছু তথ্য আল লুকমান আলমল ও ফজিলত, সূরা লুকমান কতো বার পাঠ করলে কোন আলম ও ফজিলত, সূরা লুকমান নাযিলের কারন গুলো কি কি ,কুরআন ৩১ সূরা আল – লুকমান

আজকের বিষয়: সূরা লুকমান সকল তথ্য আল কোরআন ও হাদিসের আলোতে,পৃথিবীর জানা অজানা কিছু তথ্য আল লুকমান আলমল ও ফজিলত, সূরা লুকমান কতো বার পাঠ করলে কোন আলম ও ফজিলত, সূরা লুকমান নাযিলের কারন গুলো কি কি ,কুরআন ৩১ সূরা আল – লুকমান

কুরআনের আলো অনুষ্ঠানের আজকের পর্বে সূরা লুকমানের ১৪ থেকে ১৬ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হবে। এই সূরার ১৪ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন:

  وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ وَهْنًا عَلَى وَهْنٍ وَفِصَالُهُ فِي عَامَيْنِ أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ إِلَيَّ الْمَصِيرُ (14)

“আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের জোর নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে। এবং তার দুধ ছাড়ানোর বয়স দু’বছর। (আমি তাকে এ নির্দেশ দিয়েছি যে) আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। (তোমাদের সবাইকে) অবশেষে আমারই নিকট ফিরে আসতে হবে।” (৩১:১৪)    

গত পর্ব থেকে সন্তানের প্রতি হযরত লুকমানের উপদেশাবলী বর্ণনা শুরু হয়েছে। হযরত লুকমান পিতার স্নেহ দিয়ে সন্তানকে উপদেশ দিতেন এবং তাকে শিরক থেকে বিরত থাকতে বলতেন। এই দুই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা প্রথমে সন্তানকে পিতামাতার মর্যাদা সম্পর্কে সম্যক ধারণা দিয়েছেন এবং এরপর সন্তান প্রতিপালনে পিতামাতার ভূমিকার কথা জানিয়েছেন।

এই আয়াতে আরো বলা হয়েছে, মহান আল্লাহ পিতা এবং মাতা দু’জনেরই সঙ্গে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ, এই দুনিয়াতে কোনো সন্তানের আগমনের পেছনে পিতা-মাতা দুজনেরই ভূমিকা থাকে। মায়ের গর্ভে সন্তানের ভ্রুণ সৃষ্টিতে পিতা-মাতা দু’জনেরই ভূমিকা থাকলেও এরপর নয় মাসের গর্ভধারণ এবং ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর শিশুকে দুই বছর দুধ খাওয়ানোর দায়িত্ব মাকে একাকেই পালন করতে হয়।

যখন একটি শিশু সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় থাকে তখন মা তাকে বুকের দুধ পান করিয়ে- প্রাণের সব মমতা ঢেলে দিয়ে সন্তানকে একটু একটু করে বড় করে তোলেন। নবজাতককে জন্ম দিতে এবং এরপর দুই বছর তাকে দুধ খাওয়াতে গিয়ে মায়ের অসহনীয় কষ্ট হয় এবং তিনি এজন্য দুর্বল ও ক্লান্ত হয়ে পড়েন। এ কারণে আয়াতের পরবর্তী অংশে বিশেষভাবে মায়ের পরিশ্রম ও কষ্টের কথা উল্লেখ করে সন্তানকে বলা হচ্ছে, মায়ের প্রতি বিশেষভাবে যত্নবান হবে। কাজেই, আমাদেরকে সার্বিকভাবে সব নেয়ামতের জন্য মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকতে হবে ঠিকই, সেইসঙ্গে পিতামাতার অনুগ্রহের কথাও ভুলে গেলে চলবে না। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনের আয়াতে সরাসরি পিতামাতার প্রতি যত্নবান ও তাদের প্রতি সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন।

এই আয়াতের শিক্ষণীয় কয়েকটি দিক হচ্ছে:

১. পিতামাতার প্রতি সম্মান দেখানো মানুষের মানবিক দায়িত্ব। কাজেই কোনো নও মুসলিম সন্তানের পিতামাতা যদি কাফেরও হয় তার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করতে হবে। কাফের পিতামাতার সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অনুমতি ইসলাম দেয়নি।

২. ইসলামে মায়ের মর্যাদা অতুলনীয়। সন্তানের জন্ম থেকে শুরু করে বেড়ে ওঠা পর্যন্ত মায়ের পরিশ্রম ও কষ্টের কথা বিবেচনা করে এই মর্যাদা তাকে দেয়া হয়েছে।

৩. তবে তারপরও আমাদের জীবনযাপনে পিতামাতার চেয়ে মহান আল্লাহর অবদান যে বেশি সেকথাও ভুলে গেলে চলবে না। পিতামাতার প্রতি কর্তব্য করতে গিয়ে সৃষ্টিকর্তার প্রতি যেন উদাসীন হয়ে না যাই সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।

সূরা লুকমানের ১৫ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন:

  وَإِنْ جَاهَدَاكَ عَلى أَنْ تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ إِلَيَّ ثُمَّ إِلَيَّ مَرْجِعُكُمْ فَأُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ (15)

“এবং পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার সাথে এমন বিষয়কে শরীক করতে পীড়াপীড়ি করে, যার জ্ঞান তোমার নেই; তবে তুমি তাদের কথা মানবে না কিন্তু দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে সহাবস্থান করবে। যে আমার অভিমুখী হয়, তার পথ অনুসরণ করবে। অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন আমারই দিকে এবং তোমরা যা করতে,আমি সে বিষয়ে তোমাদেরকে জানাবো।” (৩১:১৫)

আগের আয়াতের সূত্র ধরে এই আয়াতে সন্তানের প্রতি সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলা হচ্ছে, পিতামাতার প্রতি সদ্ভাবের অর্থ এই নয় যে সন্তান তার বিচারবুদ্ধিকেও পিতামাতার হাতে ন্যস্ত করবে। পিতামাতা যা নির্দেশ দেবে চোখ-কান বন্ধ রেখে তা মেনে নেয়া যাবে না।  যেসব অভিভাবক ভ্রান্ত মতবাদ অনুসরণ করে এবং আল্লাহর সঙ্গে অন্য ব্যক্তি বা বস্তুকে শরীক করে তারা তাদের সন্তানকেও একই পথ অনুসরণ করানোর চেষ্টা করবে- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিশ্বজগতের স্রষ্টা মহান আল্লাহ এটা পছন্দ করেন না। অভিভাবকের সঙ্গে সন্তানের হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ককে ব্যবহার করে পিতামাতা তাদের ভ্রান্ত ধারণা সন্তানের ওপর চাপিয়ে দেবেন- তা আল্লাহ চান না। এমনকি অভিভাবক যদি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে সন্তানকে বাড়ি থেকে বের করেও দেয় তারপরও তাদের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা যাবে না।

আয়াতের পরবর্তী অংশে বলা হচ্ছে, পিতামাতা মুশরিক হলে তাদের আকিদা বা বিশ্বাস গ্রহণ করা না গেলেও তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার চালিয়ে যেতে হবে। কোনো অবস্থাতেই পিতামাতার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার অধিকার ইসলাম দেয়নি। বরং তারা যতদিন বেঁচে থাকেন ততদিন তাদের প্রতি সম্মান জানাতে হবে এবং তাদের সঙ্গে উগ্রভাবে কথা বলা যাবে না। মুশরিক পিতামাতার বিচার করার দায়িত্ব মহান আল্লাহর। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। কাজেই তার দায়িত্ব যেন কোনো সন্তান নিজের কাঁধে তুলে না নেয়।

এই আয়াতের কয়েকটি শিক্ষণীয় দিক হচ্ছে:

১. পিতামাতার আনুগত্য শর্তসাপেক্ষ, চিরন্তন নয়। তাদের নির্দেশ ততক্ষণ পর্যন্ত মানা যাবে যতক্ষণ তা আল্লাহর নির্দেশের বিরুদ্ধে না যায়।

২. পূর্ব-পুরুষরা ভুল করে এসেছেন বলে আমাদেরকেও সে ভুল পথের অনুসরণ করতে হবে এমন কোনো কথা নেই বরং বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করে এবং ইসলামের দিকনির্দেশনার সঙ্গে তাকে মিলিয়ে দেখতে হবে। পূর্বপুরুষরা ভুল করে থাকলে তা পরিহার করে সঠিক পথ অনুসরণ করতে হবে।

৩. অমুসলিমদের সঙ্গে ততক্ষণ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করা যাবে যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের ভ্রান্ত বিশ্বাস আমাদের ওপর প্রভাব না ফেলে এবং আমরা তাদের বিশ্বাসকে অনুসরণ করতে শুরু না করি।

সূরা লুকমানের ১৬ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন:

  يَا بُنَيَّ إِنَّهَا إِنْ تَكُ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ فَتَكُنْ فِي صَخْرَةٍ أَوْ فِي السَّمَاوَاتِ أَوْ فِي الْأَرْضِ يَأْتِ بِهَا اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ لَطِيفٌ خَبِيرٌ (16)    

“হে আমার সন্তান! কোন বস্তু যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয় অতঃপর তা যদি পাথরের ভেতরত অথবা আকাশে কিংবা ভূ-গর্ভেও (লুকায়িত) থাকে, তবে আল্লাহ তা (কিয়ামতের দিন হিসাব নিকাশের জন্য) উপস্থিত করবেন। কারণ, আল্লাহ গুপ্ত বিষয় জানেন, সবকিছুর খবর রাখেন।” (৩১:১৬)

মানুষ সাধারণত নিজের কাজের হিসাবনিকাশ করার সময় বড় কাজগুলোকে বিবেচনা করে। ছোটখাটো বিষয়কে সে ভুলে যায় বা উপেক্ষা করে। অথচ ছোট ছোট কাজের পুনরাবৃত্তি মানুষকে  বড় কিছু করার অনুপ্রেরণা যোগায়। এই কথা ভালো এবং মন্দ দুই ধরনের কাজের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। মানুষের ভাগ্য নির্ধারণে ছোট ছোট কাজের গুরুত্ব  বড় কাজের তুলনায় কোনো অংশ কম নয়।

এই আয়াতে সন্তানের প্রতি হযরত লুকমানের বক্তব্য সরাসরি তুলে ধরে তার উচ্চারণে বান্দার কাজের হিসাব নেয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহর সক্ষমতার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, তোমার কাজ ছোট বা বড় কিংবা গোপন বা প্রকাশ্য যেরকমই হোক না কেন, তার হিসাব আল্লাহ নেবেন। এমনকি ক্ষুদ্রতম কাজ যদি পৃথিবীর গোপনতম স্থানেও করা হয় সে খবরও আল্লাহ জানেন। কিয়াতমের বিচারের দিনে মহান আল্লাহ সেসব কাজ প্রকাশ করে দেবেন এবং তার ভিত্তিতে বান্দাকে পুরস্কার অথবা শাস্তি দেবেন।

এই আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো:

১. কিয়ামতের বিচার দিবসের ব্যাপারে সন্তানকে হুঁশিয়ার করে দেয়া প্রতিটি পিতামাতার অবশ্য পালনীয় দায়িত্ব।

২. মহান আল্লাহ আমাদের ছোট-বড় সব কাজ সম্পর্কে জানেন। কিয়ামতের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস এবং সেদিন মহান আল্লাহর বিচার করার ক্ষমতার কথা স্মরণ করলে ভ্রান্ত পথে থাকা মানুষ সঠিক পথে ফিরে আসতে পারে।

৩. মানুষের আমল ধ্বংস হয়ে যায় না বরং কিয়ামত পর্যন্ত মানুষ তা সঙ্গে করে বয়ে নিয়ে চলে।

আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ

কুরআনের আলো অনুষ্ঠানের আজকের পর্বে সূরা লুকমানের ২৫ থেকে ২৮ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হবে। এই সূরার ২৫ ও ২৬ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন:

وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ قُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ (25) لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْغَنِيُّ الْحَمِيدُ (26)

“এবং আপনি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, নভোমণ্ডল ও ভূ-মণ্ডল কে সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ। বলুন, সকল প্রশংসাই আল্লাহর। কিন্তু তাদের অধিকাংশই জ্ঞান রাখে না।” (৩১:২৫)     

“নভোমণ্ডল ও ভূ-মণ্ডলে যা কিছু রয়েছে সবই আল্লাহর। নিঃসন্দেহে আল্লাহ অভাবমুক্ত, প্রশংসিত।” (৩১:২৬)

এই আয়াতে মূর্তিপূজারিসহ সব ধরনের মানুষের পক্ষ থেকে স্বীকার্য একটি বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে বলা হচ্ছে: তাদেরকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় এই বিশ্বজগত কে সৃষ্টি করেছেন? তাহলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে জবাব দেবে- আল্লাহ।  কারণ সব মানুষ প্রকৃতিগতভাবেই এ বিষয়টি উপলব্ধি করে যে, তারা নিজেরা নিজেদেরই সৃষ্টি করতে সক্ষম নয়। বিশ্বজগত এবং এর মাঝে থাকা উপাদানগুলো সৃষ্টির তো প্রশ্নই আসে না।  এমনকি মূর্তিপূজারি মুশরিকরাও স্বীকার করে যে, এই মূর্তিগুলো সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক নয় বরং একজন প্রভুই এই বিশ্বজগত পরিচালনা করছেন।

মুশরিকদের এই স্বীকারোক্তির জের ধরে পরের আয়াতে বলা হয়েছে, যেহেতু এক প্রভু এই জগতের স্রষ্টা  কাজেই আমাদের সেবায় নিয়োজিত এত কিছু সৃষ্টি করার জন্য এক স্রষ্টার প্রশংসা এবং তাঁর ইবাদত করতে হবে। অন্য কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা মূর্তির উপাসনা করা যাবে না।    

এই দুই আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো:

১. মুশরিকরা স্রষ্টা হিসেবে এক আল্লাহর অস্তিত্ব অস্বীকার করে না। তারা বরং মূর্তিকে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে এগুলোকে স্রষ্টার কাছে পৌঁছার উপকরণ মনে করে এবং তাদের কাছে শাফায়াত চায়।

২. মানুষের সহজাত প্রবৃত্তিই তাকে আল্লাহকে চিনতে সহায়তা করে। এমনকি মুশরিকরাও একজন প্রভুকে স্রষ্টা হিসেবে স্বীকার করে।

৩. অজ্ঞতার কারণেই মানুষ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভুল পথে পরিচালিত হয়। মানুষকে অজ্ঞতার হাত থেকে রক্ষা করে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতেই মহান আল্লাহ যুগে যুগে নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন।

এই সূরার ২৭ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন,

  وَلَوْ أَنَّمَا فِي الْأَرْضِ مِنْ شَجَرَةٍ أَقْلَامٌ وَالْبَحْرُ يَمُدُّهُ مِنْ بَعْدِهِ سَبْعَةُ أَبْحُرٍ مَا نَفِدَتْ كَلِمَاتُ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ (27)

“এবং পৃথিবীতে যত বৃক্ষ আছে, সবই যদি কলম হয় এবং সমুদ্রের সাথে আরও সাত সমুদ্র যুক্ত হয়ে কালি হয়, তবুও তাঁর বাক্যাবলী লিখে শেষ করা যাবে না। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” (৩১:২৭)      

এই আয়াতে সৃষ্টিজগত ও এর ভেতরে থাকা সব বস্তু ও প্রাণীজগতের বিশালতার প্রতি ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে, এই সৃষ্টিজগতের ব্যাপারে মানুষের জ্ঞান অত্যন্ত সীমিত। কাজেই পৃথিবীর সব গাছকে কলম এবং সাগরের সব পানিকে কালি হিসেবে ব্যবহার করা হলেও মহান আল্লাহর সৃষ্টিজগত সম্পর্কে লিখে শেষ করা যাবে না।

আমাদের জীবনে আমরা বাক্য বলতে কোনো বিষয়কে লেখা বুঝি। কিন্তু এই আয়াতে যে বাক্যাবলীর কথা বলা হয়েছে তার অর্থ মহান আল্লাহর নানারকম সৃষ্টি। এসব সৃষ্টির প্রত্যেকটি আল্লাহ তায়ালার অসীম ক্ষমতার নিদর্শন। সাধারণভাবে বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে লেখার জন্য কলম ও কাগজ ব্যবহার করেন। কিন্তু মহান আল্লাহর জ্ঞানের কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। ঠিক এ কারণে এই আয়াতে আলোচ্য উপমা ব্যবহার করা হয়েছে।  কাগজ-কলম দিয়ে আল্লাহর সৃষ্টিজগত, তাঁর দয়া ও নেয়ামতগুলো লেখা সম্ভব নয়।

এই আয়াতের দুটি শিক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে:

১. মানুষের পক্ষে যতখানি জানা সম্ভব হয়েছে তার চেয়ে মহান আল্লাহর সৃষ্টি অনেক বিশাল।  বিশ্বজগতকে আমাদের সংকীর্ণ ও সীমিত দৃষ্টি দিয়ে দেখা উচিত নয়। কারণ সেক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর সৃষ্টি সম্পর্কে আমরা ভ্রান্ত ধারণার শিকার হতে পারি।

২. বিশ্বজগতের সকল সৃষ্টি এক আল্লাহর অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে। এ অবস্থায় একাধিক কাল্পনিক স্রষ্টার কাছে সাহায্য চাওয়া কিংবা বহু স্রষ্টার মুখাপেক্ষী হওয়া ঠিক নয়।  আমাদের সকল চাওয়া থাকতে হবে এক আল্লাহর কাছে। 

সূরা লুকমানের ২৮ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন,

 مَا خَلْقُكُمْ وَلَا بَعْثُكُمْ إِلَّا كَنَفْسٍ وَاحِدَةٍ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ (28)

“তোমাদের (সবার) সৃষ্টি ও পুনরুত্থান (আল্লাহর কাছে) একটি মাত্র প্রাণী সৃষ্টি ও পুনরুত্থানের সমান ছাড়া আর কিছু নয়। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছু শোনেন, সবকিছু দেখেন।” (৩১:২৮)

আগের আয়াতগুলোতে মহান আল্লাহর সৃষ্টির বিশালতা বর্ণনা করার পর এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালার অসীম ক্ষমতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। বলা হচ্ছে: তাঁর কাছে একজন মানুষ সৃষ্টি এবং সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যত মানুষ এসেছে এবং আসবে তাদের সবাইকে সৃষ্টি একই সমান। আল্লাহর অসীম ক্ষমতার সামনে এক ও অসংখ্য সৃষ্টিতে কোনো তফাৎ নেই।  

শুধুমাত্র পৃথিবীতে মানুষকে সৃষ্টিই নয় সেইসঙ্গে কিয়ামতের দিন তাদের পুনরুত্থানও মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তায়ালার জন্য অতি সহজ। মানব সৃষ্টির শুরু থেকে কিয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ পর্যায়ক্রমে মারা গেছে এবং যাবে তাদের সবাইকে তিনি আবার একসঙ্গে জীবিত করবেন। আমাদের মতো নানা গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ মানুষের জন্য সংখ্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কঠিন কাজ সংখ্যায় কম হলে আমাদের জন্য সেটি করা অনেক সময় সহজ হয় কিন্তু সংখ্যা বা পরিমাণ বেড়ে গেলে কাজটি আমাদের জন্য করা দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে। কিন্তু মহান  আল্লাহর জন্য দুঃসাধ্য বলে কোনো কিছু নেই এবং সংখ্যায় অগণিত বা বিশাল পরিমাণ কোনো কিছু করা তার জন্য অতি সহজ।

আয়াতের পরের অংশে বলা হয়েছে: তিনি মানুষকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী হওয়ার কারণে তিনি আমাদের সব কৃতকর্মের খবর জানেন। ফলে সেই জ্ঞানের ভিত্তিতে তিনি পুনরুত্থান দিবসে আমাদের পুরস্কার বা শাস্তি দেবেন।

এই দুই আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো:

১. সময়, স্থান ও সংখ্যা মানুষের জন্য অর্থবহ বিষয় হলেও মহান আল্লাহর জ্ঞান ও ক্ষমতার কাছে এসব কিছু মূল্যহীন। তাঁর কাছে একজন মানুষ সৃষ্টি করা এবং এক কোটি মানুষ সৃষ্টি করার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। সব কিছুই আল্লাহর জন্য সহজ।

২. আমরা যদি উপলব্ধি করি যে, আল্লাহ আমাদের সব কথা শোনেন এবং সব কাজ দেখেন তাহলে আমরা আমাদের প্রতিটি কাজ অত্যন্ত সাবধানের সঙ্গে করব এবং বিপথে পরিচালিত হওয়া থেকে বিরত থাকব।

আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ

নামকরণঃ

এ সূরার দ্বিতীয় রুকুতে লুকমান হাকীমের উপদেশাবলী উদ্ধৃত করা হয়েছে। তিনি নিজের পুত্রকে এ উপদেশ দিয়েছিলেন। এই সুবাদে এ সূরার লুকমান নামকরণ করা হয়েছে।

নাযিলের সময়কালঃ

এ সূরার বিষয়বস্তু সম্পর্কে চিন্তা করলে পরিষ্কার বুঝা যায়, এটি এমন সময় নাযিল হয় যখন ইসলামের দাওয়াতের কণ্ঠরোধ এবং তার অগ্রগতির পথরোধ করার জন্য জুলুম-নিপীড়নের সূচনা হয়ে গিয়েছিল এবং এ জন্য বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করা হচ্ছিল। কিন্তু তখনও বিরোধিতা তোড়জোড় ষোলকলায় পূর্ণ হয়নি। ১৪ ও ১৫ আয়াত থেকে এর আভাস পাওয়া যায়। সেখানে নতুন ইসলাম গ্রহণকারী যুবকদের বলা হয়েছে , পিতা-মাতার অধিকার যথার্থই আল্লাহর পরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু তারা যদি তোমাদের ইসলাম গ্রহণ করার পথে বাধা দেয় এবং শিরকের দিকে ফিরে যেতে বাধ্য করে তাহলে তাদের কথা কখনোই মেনে নেবে না। একথাটাই সূরা আনকাবুতেও বলা হয়েছে। এ থেকে জানা যায় যে, দুটি সূরাই একই সময় নাযিল হয়। কিন্তু উভয় সূরার বর্ণনা রীতি ও বিষয়বস্তুর কথা চিন্তা করলে অনুমান করা যায় সূরা লোকমান প্রথমে নাযিল হয়। কারণ এর পশ্চাতভূমে কোন তীব্র আকারের বিরোধিতার চিহ্ন পাওয়া যায় না। বিপরীত পক্ষে সূরা আনকাবুত পড়লে মনে হবে তার নাযিলের সময় মুসলমানদের ওপর কঠোর জুলুম নিপীড়ন চলছিল।

বিষয়বস্তুও মূল বক্তব্যঃ

এ সূরায় লোকদের বুঝানো হয়েছে , শিরকের অসারতা ও অযৌক্তিকতা এবং তাওহীদের সত্যতা ও যৌক্তিকতা। এই সঙ্গে আহ্বান জানানো হয়েছে এই বলে যে, বাপ-দাদার অন্ধ অনুসরণ ত্যাগ করো, মুহাম্মদ (সা) সম্পর্কে উন্মুক্ত হৃদয়ে চিন্তা-ভাবনা করো এবং উন্মুক্ত দৃষ্টিতে দেখো, বিশ্ব- জগতের চারদিকে এবং নিজের মানবিক সত্তার মধ্যেই কেমন সব সুস্পষ্ট নিদর্শন এর সত্যতার সাক্ষ দিয়ে চলছে।

এ প্রসঙ্গে একথাও বলা হয়েছে, দুনিয়ায় বা আরবদেশে এই প্রথমবার মানুষের কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত একটি আওয়াজ উঠানো হয়নি। আগেও লোকেরা বুদ্ধি-জ্ঞানের অধিকারী ছিল এবং তারা একথাই বলতো যা আজ মুহাম্মদ (সা) বলছেন। তোমাদের নিজেদের দেশেই ছিলেন মহাজ্ঞানী লুকমান। তার জ্ঞান্তগরিমার কাহিনী তোমাদের এলাকায় বহুল প্রচলিত। তোমরা নিজেদের কথাবার্তায় তার প্রবাদ বাক্য ও জ্ঞানগর্ভ কথা উদ্বৃত্ত করে থাকো। তোমাদের কবি ও বাগ্মীগণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তার কথা বলেন। এখন তোমরা নিজেরাই দেখো তিনি কোন ধরনের আকীদা- বিশ্বাস ও কোন ধরনের নীতি-নৈতিকতার শিক্ষা দিতেন।



আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ

সুরা নং- ০৩১ : লুকমান
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

আরবি উচ্চারণ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

বাংলা অনুবাদ পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

الم31.1

আরবি উচ্চারণ ৩১.১। আলিফ্ লা-ম্ মী-ম্।

বাংলা অনুবাদ ৩১.১ আলিফ- লাম -মীম।

تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ الْحَكِيمِ31.2

আরবি উচ্চারণ ৩১.২। তিল্কা আ-ইয়া-তুল্ কিতা-বিল্ হাকীম্।

বাংলা অনুবাদ ৩১.২ এগুলো প্রজ্ঞাপূর্ণ কিতাবের আয়াত,
هُدًى وَرَحْمَةً لِلْمُحْسِنِينَ31.3

আরবি উচ্চারণ ৩১.৩। হুদাঁও অরহ্মাতাল্ লিল্মুহ্সিনীন্।

বাংলা অনুবাদ ৩১.৩ সৎকর্মশীলদের জন্য হিদায়াত ও রহমতস্বরূপ,

الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ بِالْآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ31.4

আরবি উচ্চারণ ৩১.৪। আল্লাযীনা ইয়ুক্বীমূনাছ্ ছলা-তা অ ইয়ুতূনায্ যাকা-তা অহুম্ বিল্ আ-খিরতি হুম্ ইয়ূক্বিনূন্।

বাংলা অনুবাদ ৩১.৪ যারা সালাত কায়েম করে এবং যাকাত দেয়, আর তারাই আখিরাতে দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে;

أُولَئِكَ عَلَى هُدًى مِنْ رَبِّهِمْ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ31.5

আরবি উচ্চারণ ৩১.৫। উলা-য়িকা ‘আলা-হুদাম্ র্মি রব্বিহিম অউলা-য়িকা হুমুল্ মুফ্লিহূন্।

বাংলা অনুবাদ ৩১.৫ তারাই তাদের রবের পক্ষ থেকে হিদায়াতের ওপর এবং তারাই সফলকাম।

وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُهِينٌ 31.6

আরবি উচ্চারণ ৩১.৬। অমিনান্না-সি মাইঁ ইয়াশ্তারী লাহ্ওয়াল্ হাদীছি লিইয়ুদ্বিল্লা ‘আন্ সাবীলিল্লা-হি বিগইরি ‘ইল্মিওঁ অইয়াত্তাখিযাহা- হুযুওয়া-; উলা-য়িকা লাহুম্ ‘আযা-বুম্ মুহীন্।

বাংলা অনুবাদ ৩১.৬ আর মানুষের মধ্য থেকে কেউ কেউ না জেনে আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য বেহুদা কথা খরিদ করে, আর তারা ঐগুলোকে হাসি-ঠাট্টা হিসেবে গ্রহণ করে; তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর আযাব।

وَإِذَا تُتْلَى عَلَيْهِ آيَاتُنَا وَلَّى مُسْتَكْبِرًا كَأَنْ لَمْ يَسْمَعْهَا كَأَنَّ فِي أُذُنَيْهِ وَقْرًا فَبَشِّرْهُ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ31.7

আরবি উচ্চারণ ৩১.৭। অইযা-তুত্লা ‘আলাইহি আ-ইয়াতুনা-অল্লা-মুস্তাক্বিরন্ কাআ ল্লাম্ ইয়াস্মা’হা-কাআন্না ফী য় উযুনাইহি অক্ব্ রান্ ফাবার্শ্শিহু বি‘আযা-বিন্ আলীম্।

বাংলা অনুবাদ ৩১.৭ আর তার কাছে যখন আমার আয়াতসমূহ পাঠ করা হয় তখন সে দম্ভভরে মুখ ফিরিয়ে নেয়, যেন সে শুনতে পায়নি, তার দু’কানে যেন বধিরতা; সুতরাং তাকে যন্ত্রণাদায়ক আযাবের সুসংবাদ দাও।

إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَهُمْ جَنَّاتُ النَّعِيمِ31.8

আরবি উচ্চারণ ৩১.৮। ইন্নাল্ লাযীনা আ-মানূ অ ‘আমিলুছ্ ছোয়া-লিহা-তি লাহুম্ জ্বান্না-তুন্ না‘ঈম্।

বাংলা অনুবাদ ৩১.৮ নিশ্চয় যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের জন্য রয়েছে নিআমতপূর্ণ জান্নাত;

خَالِدِينَ فِيهَا وَعْدَ اللَّهِ حَقًّا وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ31.9

আরবি উচ্চারণ ৩১.৯। খ-লিদ্বীনা ফীহা-; ওয়া’দাল্লা-হি হাক্ব্ক্ব-; অহুওয়াল্ ‘আযীযুল্ হাকীম্।

বাংলা অনুবাদ ৩১.৯ সেখানে তারা স্থায়ী হবে, আল্লাহর ওয়াদা যথার্থ। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

خَلَقَ السَّمَاوَاتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا وَأَلْقَى فِي الْأَرْضِ رَوَاسِيَ أَنْ تَمِيدَ بِكُمْ وَبَثَّ فِيهَا مِنْ كُلِّ دَابَّةٍ وَأَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَنْبَتْنَا فِيهَا مِنْ كُلِّ زَوْجٍ كَرِيمٍ 31.10

আরবি উচ্চারণ ৩১.১০। খলাক্বস্ সামা-ওয়া-তি বিগইরি ‘আমাদিন্ তারওনাহা-অআল্ক্ব-ফিল্ র্আদ্বি রওয়া-সিয়া আন্ তামীদা বিকুম্ অবাছ্ছা-ফীহা-মিন্ কুল্লি দা-ব্বাহ্; অআন্যাল্না- মিনাস্ সামা-য়ি মা-য়ান্ ফাআম্বাত্না-ফীহা-মিন্ কুল্লি যাওজ্বিন্ কারীম্।

বাংলা অনুবাদ ৩১.১০ তিনি খুঁটি ছাড়া আসমানসমূহ সৃষ্টি করেছেন, যা তোমরা দেখছ, আর যমীনে স্থাপন করেছেন সুদৃঢ় পাহাড়, যাতে তা তোমাদেরকে নিয়ে হেলে না পড়ে, আর তাতে ছড়িয়ে দিয়েছেন প্রত্যেক প্রকারের প্রাণী; আর আসমান থেকে আমি পানি পাঠাই। অতঃপর তাতে আমি জোড়ায় জোড়ায় কল্যাণকর উদ্ভিদ জন্মাই।

هَذَا خَلْقُ اللَّهِ فَأَرُونِي مَاذَا خَلَقَ الَّذِينَ مِنْ دُونِهِ بَلِ الظَّالِمُونَ فِي ضَلَالٍ مُبِينٍ31.11

আরবি উচ্চারণ ৩১.১১। হা-যা- খল্ক্ব ল্লা-হি ফাআরূনী মা-যা-খলাক্বল্লাযীনা মিন্ দূনিহ্; বালিজ্ জোয়া-লিমূনা ফী দ্বোয়ালা-লিম্ মুবীন্।

বাংলা অনুবাদ ৩১.১১ এ আল্লাহর সৃষ্টি; অতএব আমাকে দেখাও, তিনি ছাড়া আর যারা আছে তারা কী সৃষ্টি করেছে! বরং যালিমরা সুস্পষ্ট গোমরাহীতে রয়েছে।

وَلَقَدْ آتَيْنَا لُقْمَانَ الْحِكْمَةَ أَنِ اشْكُرْ لِلَّهِ وَمَنْ يَشْكُرْ فَإِنَّمَا يَشْكُرُ لِنَفْسِهِ وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ حَمِيدٌ31.12

আরবি উচ্চারণ ৩১.১২। অলাক্বদ্ আ-তাইনা-লুকমা-নাল্ হিক্মাতা আনিশ র্কু লিল্লা-হ্; অমাইঁইয়ার্শ্কু ফাইন্নামা ইয়াশ্কুরু লিনাফ্সিহী অ মান্ কাফারা ফাইন্না ল্লা-হা গনিয়্যুন্ হামীদ্।

বাংলা অনুবাদ ৩১.১২ আর আমি তো লুকমানকে হিকমাত দিয়েছিলাম (এবং বলেছিলাম) যে, ‘আল্লাহর শুকরিয়া আদায় কর। আর যে শুকরিয়া আদায় করে সে তো নিজের জন্যই শুকরিয়া আদায় করে এবং যে অকৃতজ্ঞ হয় (তার জেনে রাখা উচিত) আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, প্রশংসিত’।

وَإِذْ قَالَ لُقْمَانُ لِابْنِهِ وَهُوَ يَعِظُهُ يَا بُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ31.13

আরবি উচ্চারণ ৩১.১৩। অইয্ ক্ব-লা লুককমা-নু লিব্নিহী অ হুওয়া ইয়া‘ইজুহূ ইয়া-বুনাইয়্যা লা-তুশ্রিক্ বিল্লা-হ; ইন্নাশ্ র্শিকা লাজুল্মুন্ ‘আজীম্।

বাংলা অনুবাদ ৩১.১৩ আর স্মরণ কর, যখন লুকমান তার পুত্রকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছিল, ‘প্রিয় বৎস, আল্লাহর সাথে র্শিক করো না; নিশ্চয় র্শিক হল বড় যুল্ম’।

وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ وَهْنًا عَلَى وَهْنٍ وَفِصَالُهُ فِي عَامَيْنِ أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ إِلَيَّ الْمَصِيرُ 31.14

আরবি উচ্চারণ ৩১.১৪। অঅছ্ ছোয়াইনাল্ ইন্সা-না বিওয়া- লিদাইহি হামালাত্হু উম্মুহূ অহ্নান্ ‘আলা-অহ্নিঁও অফিছোয়া-লুহূ ফী ‘আ-মাইনি আনিশ্ র্কুলী অলি ওয়া-লি দাইক্; ইলাইয়্যাল্ মার্ছী।

বাংলা অনুবাদ ৩১.১৪ আর আমি মানুষকে তার মাতাপিতার ব্যাপারে (সদাচরণের) নির্দেশ দিয়েছি। তার মা কষ্টের পর কষ্ট ভোগ করে তাকে গর্ভে ধারণ করে। আর তার দুধ ছাড়ানো হয় দু’বছরে; সুতরাং আমার ও তোমার পিতা-মাতার শুকরিয়া আদায় কর। প্রত্যাবর্তন তো আমার কাছেই।

وَإِنْ جَاهَدَاكَ عَلى أَنْ تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ إِلَيَّ ثُمَّ إِلَيَّ مَرْجِعُكُمْ فَأُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ31.15

আরবি উচ্চারণ ৩১.১৫। অইন্ জ্বা-হাদা-কা ‘আলা য় আন্ তুশ্রিকা বীমা-লাইসা লাকা বিহী ‘ইল্মুন্ ফালা-তুত্বি’হুমা- অছোয়া-হিব্হুমা- ফিদ্দুন্ইয়া-মা’রূফাঁও অত্তাবি’ সাবীলা মান্ আনাবা ইলাইয়্যা ছুম্মা ইলাইয়্যা র্মাজ্বি‘উকুম্ ফাউনাব্বিয়ুকুম্ বিমা-কুন্তুম্ তা’মালূন্।

বাংলা অনুবাদ ৩১.১৫ আর যদি তারা তোমাকে আমার সাথে র্শিক করতে জোর চেষ্টা করে, যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তখন তাদের আনুগত্য করবে না এবং দুনিয়ায় তাদের সাথে বসবাস করবে সদ্ভাবে। আর অনুসরণ কর তার পথ, যে আমার অভিমুখী হয়। তারপর আমার কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন। তখন আমি তোমাদেরকে জানিয়ে দেব, যা তোমরা করতে।

يَا بُنَيَّ إِنَّهَا إِنْ تَكُ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ فَتَكُنْ فِي صَخْرَةٍ أَوْ فِي السَّمَاوَاتِ أَوْ فِي الْأَرْضِ يَأْتِ بِهَا اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ لَطِيفٌ خَبِيرٌ31.16

আরবি উচ্চারণ ৩১.১৬। ইয়া-বুনাইয়্যা ইন্নাহা য় ইন্ তাকু মিছ্ক্ব-লা হাব্বাতিম্ মিন্ র্খদালিন্ ফাতাকুন্ ফী ছোয়াখ্রতিন্ আও ফিস্ সামা-ওয়া-তি আও ফিল্ র্আদ্বি ইয়াতি বিহাল্লা-হ্; ইন্নাল্লা-হা লাত্বীফুন্ খর্বী।

বাংলা অনুবাদ ৩১.১৬ ‘হে আমার প্রিয় বৎস, নিশ্চয় তা (পাপ-পুণ্য) যদি সরিষা দানার পরিমাণ হয়, অতঃপর তা থাকে পাথরের মধ্যে কিংবা আসমানসমূহে বা যমীনের মধ্যে, আল্লাহ তাও নিয়ে আসবেন; নিশ্চয় আল্লাহ সূক্ষ্মদর্শী, সর্বজ্ঞ’।

يَا بُنَيَّ أَقِمِ الصَّلَاةَ وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَاصْبِرْ عَلَى مَا أَصَابَكَ إِنَّ ذَلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ 31.17

আরবি উচ্চারণ ৩১.১৭। ইয়া-বুনাইয়্যা আক্বিমিছ্ ছলা-তা অর্মু বিল্ মা’রূফি ওয়ান্হা ‘আনিল্ মুন্কারি অর্ছ্বি ‘আলা-মা য় আছোয়া-বাক্;ইন্না যা-লিকা মিন্ ‘আয্মিল্ উর্মূ।

বাংলা অনুবাদ ৩১.১৭ ‘হে আমার প্রিয় বৎস, সালাত কায়েম কর, সৎকাজের আদেশ দাও, অসৎকাজে নিষেধ কর এবং তোমার উপর যে বিপদ আসে তাতে ধৈর্য ধর। নিশ্চয় এগুলো অন্যতম দৃঢ় সংকল্পের কাজ’।

وَلَا تُصَعِّرْ خَدَّكَ لِلنَّاسِ وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ31.18

আরবি উচ্চারণ ৩১.১৮। অলা-তুছোয়া’র্ই খদ্দাকা লিন্না-সি অলা-তাম্শি ফিল্ র্আদ্বি মারহা-; ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়ুহিব্বু কুল্লা মুখ্তা-লিন্ ফার্খূ।

বাংলা অনুবাদ ৩১.১৮ ‘আর তুমি মানুষের দিক থেকে তোমার মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না। আর যমীনে দম্ভভরে চলাফেরা করো না; নিশ্চয় আল্লাহ কোন দাম্ভিক, অহঙ্কারীকে পছন্দ করেন না’।

وَاقْصِدْ فِي مَشْيِكَ وَاغْضُضْ مِنْ صَوْتِكَ إِنَّ أَنْكَرَ الْأَصْوَاتِ لَصَوْتُ الْحَمِيرِ31.19

আরবি উচ্চারণ ৩১.১৯। অক্ব্ ছিদ্ ফী মাশ্য়িকা অগ্দ্বুদ্ব্ মিন্ ছোয়াওতিক্; ইন্না আন্কারল্ আছ্ওয়া-তি লাছোয়াওতুল্ হার্মী।

বাংলা অনুবাদ ৩১.১৯ ‘আর তোমার চলার ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন কর, তোমার আওয়াজ নীচু কর; নিশ্চয় সবচাইতে নিকৃষ্ট আওয়াজ হল গাধার আওয়াজ’।

أَلَمْ تَرَوْا أَنَّ اللَّهَ سَخَّرَ لَكُمْ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَأَسْبَغَ عَلَيْكُمْ نِعَمَهُ ظَاهِرَةً وَبَاطِنَةً وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يُجَادِلُ فِي اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَلَا هُدًى وَلَا كِتَابٍ مُنِيرٍ31.20

আরবি উচ্চারণ ৩১.২০। আলাম্ তারাও আন্নাল্লা-হা সাখ্খর লাকুম্ মা-ফিস্ সামা-ওয়া-তি অমা-ফিল্ র্আদ্বি অআস্বাগ ‘আলাইকুম্ নি‘আমাহূ জোয়া-হিরতাঁও অবা-ত্বিনাহ্; অমিনান্ না-সি মাইঁ ইয়ুজ্বা-দিলু ফিল্লা-হি বিগইরি ‘ইল্মিঁও অলা-হুদাঁও অলা-কিতা-বিম্ মূর্নী।

বাংলা অনুবাদ ৩১.২০ তোমরা কি দেখ না, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য নিয়োজিত করেছেন আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে। আর তোমাদের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নিআমত ব্যাপক করে দিয়েছেন; মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহ সম্পর্কে তর্ক করে জ্ঞান, হিদায়াত ও আলো দানকারী কিতাব ছাড়া।

وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنْزَلَ اللَّهُ قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَا وَجَدْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا أَوَلَوْ كَانَ الشَّيْطَانُ يَدْعُوهُمْ إِلَى عَذَابِ السَّعِيرِ31.21

আরবি উচ্চারণ ৩১.২১। অইযা-ক্বীলা লাহুমুত্তাবি‘ঊ মা য় আন্যালাল্লা-হু ক্ব-লূ বাল্ নাত্তাবি‘উ মা-অজ্বাদ্না- ‘আলাইহি আ-বা-য়ানা-; আওয়ালাও কা-নাশ্ শাইত্বোয়া-নু ইয়াদ্‘ঊ হুম্ ইলা- ‘আযা-বিস্ সা‘র্ঈ।

বাংলা অনুবাদ ৩১.২১ আর যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তোমরা তার অনুসরণ কর’ তখন তারা বলে, ‘বরং আমরা তার অনুসরণ করব যার ওপর আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে পেয়েছি।’ শয়তান তাদেরকে প্রজ্বলিত আযাবের দিকে আহবান করলেও কি (তারা পিতৃপুরুষদেরকে অনুসরণ করবে)?

وَمَنْ يُسْلِمْ وَجْهَهُ إِلَى اللَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى وَإِلَى اللَّهِ عَاقِبَةُ الْأُمُورِ31.22

আরবি উচ্চারণ ৩১.২২। অমাইঁ ইয়ুস্লিম্ অজ্ব্ হাহূ য় ইলাল্লা-হি অহুওয়া মুহ্সিনুন্ ফাক্বদিস্ তাম্সাকা বিল্‘উরওয়াতিল্ উছ্ক্ব-; অইলাল্লা-হি ‘আ-ক্বিবাতুল্ উর্মূ।

বাংলা অনুবাদ ৩১.২২ আর যে ব্যক্তি একনিষ্ঠ ও বিশুদ্ধচিত্তে আল্লাহর কাছে নিজকে সমর্পণ করে, সে তো শক্ত রশি আঁকড়ে ধরে। আর সকল বিষয়ের পরিণাম আল্লাহরই কাছে।

وَمَنْ كَفَرَ فَلَا يَحْزُنْكَ كُفْرُهُ إِلَيْنَا مَرْجِعُهُمْ فَنُنَبِّئُهُمْ بِمَا عَمِلُوا إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ31.23

আরবি উচ্চারণ ৩১.২৩। অমান্ কাফার ফালা-ইয়াহ্যুন্কা কুফ্রুহ্; ইলাইনা-র্মাজ্বি‘ঊহুম্ ফানুনাব্বিয়ুহুম্ বিমা- ‘আমিলূ ; ইন্নাল্লা-হা ‘আলীমুম্ বিযা-তিছ্ ছুর্দূ।

বাংলা অনুবাদ ৩১.২৩ আর যে কুফরী করে, তার কুফরী যেন তোমাকে ব্যথিত না করে; আমার কাছেই তাদের প্রত্যাবর্তন। অতঃপর তারা যে আমল করত আমি তা তাদেরকে জানিয়ে দেব। নিশ্চয় আল্লাহ অন্তরসমূহে যা আছে তা সম্পর্কে সম্যক অবহিত।

نُمَتِّعُهُمْ قَلِيلًا ثُمَّ نَضْطَرُّهُمْ إِلَى عَذَابٍ غَلِيظٍ31.24

আরবি উচ্চারণ ৩১.২৪। নুমাত্তি‘উহুম্ ক্বলীলান্ ছুম্মা নাদ্ব্ত্বোর্য়ারু হুম্ ইলা-‘আযা-বিন্ গলীজ্।

বাংলা অনুবাদ ৩১.২৪ আমি তাদেরকে অল্প ভোগ করতে দেই, তারপর তাদেরকে কঠোর আযাব ভোগ করতে বাধ্য করব।

وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ قُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ 31.25

আরবি উচ্চারণ ৩১.২৫। অলায়িন্ সায়াল্তাহুম্ মান্ খলাক্বস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বোয়া লাইয়াক্বলুন্না ল্লা-হ্; ক্বলিল্ হাম্দু লিল্লা-হ্; বাল্ আক্ছারুহুম্ লা-ইয়া’লামূন্।

বাংলা অনুবাদ ৩১.২৫ আর যদি তুমি তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, ‘কে আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন?’ তারা অবশ্যই বলবে, ‘আল্লাহ।’ বল, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর; কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না’।

لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْغَنِيُّ الْحَمِيدُ31.26

আরবি উচ্চারণ ৩১.২৬। লিল্লা-হি মা-ফিস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্ব্; ইন্নাল্লা-হা হুওয়াল্ গনিয়্যুল্ হামীদ্।

বাংলা অনুবাদ ৩১.২৬ আসমানসমূহ ও যমীনে যা আছে তা আল্লাহর; নিশ্চয় আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, প্রশংসিত।

وَلَوْ أَنَّمَا فِي الْأَرْضِ مِنْ شَجَرَةٍ أَقْلَامٌ وَالْبَحْرُ يَمُدُّهُ مِنْ بَعْدِهِ سَبْعَةُ أَبْحُرٍ مَا نَفِدَتْ كَلِمَاتُ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ31.27

আরবি উচ্চারণ ৩১.২৭। অলাও আন্না মা-ফিল্ র্আদ্বি মিন্ শাজ্বারতিন্ আক্ব্ লা-মুঁও অল্ বাহ্রু ইয়ামুদ্দ ুহূ মিম্ বা’দিহী সাব্‘আতু আব্হুরিম মা-নাফিদাত্ কালিমা-তুল্লা-হ্; ইন্নাল্লা-হা ‘আযীযুন্ হাকীম্।

বাংলা অনুবাদ ৩১.২৭ আর যমীনে যত গাছ আছে তা যদি কলম হয়, আর সমুদ্র (হয় কালি), তার সাথে কালিতে পরিণত হয় আরো সাত সমুদ্র, তবুও আল্লাহর বাণীসমূহ শেষ হবে না। নিশ্চয় আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

مَا خَلْقُكُمْ وَلَا بَعْثُكُمْ إِلَّا كَنَفْسٍ وَاحِدَةٍ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ31.28

আরবি উচ্চারণ ৩১.২৮। মা- খল্ক্ব কুম্ অলা-বা’ছুকুম্ ইল্লা-কানাফ্সিওঁ ওয়া -হিদাহ্; ইন্নাল্লা -হা সামী উ’ম্ বার্ছী বাংলা অনুবাদ ৩১.২৮ তোমাদের সৃষ্টি ও তোমাদের পুনরুত্থান কেবল একটি প্রাণের (সৃষ্টি ও পুনরুত্থানের) মতই। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, দ্রষ্টা।

أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يُولِجُ اللَّيْلَ فِي النَّهَارِ وَيُولِجُ النَّهَارَ فِي اللَّيْلِ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِي إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى وَأَنَّ اللَّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ 31.29

আরবি উচ্চারণ ৩১.২৯। আলাম্তার আন্নাল্লা-হা ইয়ূলিজ্ব ল্ লাইলা ফিন্নাহা-রি অ ইয়ূলিজ্ব ন্ নাহা-রা ফিল্লাইলি অ সাখ্খরশ্ শাম্সা অল্ ক্বমার কুল্লুঁই ইয়াজ্ব রী য় ইলা য় আজ্বালিম্ মুসাম্মাঁও অআন্নাল্লা-হা-বিমা-তা’মালূনা খর্বী।

বাংলা অনুবাদ ৩১.২৯ তুমি কি দেখনি যে, আল্লাহ রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করান এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করান? আর তিনি সূর্য ও চাঁদকে নিয়োজিত করেছেন। প্রত্যেকেই চলছে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। আর নিশ্চয় তোমরা যা কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবহিত।

ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ الْبَاطِلُ وَأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ31.30

আরবি উচ্চারণ ৩১.৩০। যা-লিকা বিআন্নাল্লা-হা হুওয়াল্ হাক্ব্ক্ব অআন্না মা-ইয়াদ্‘ঊনা মিন্ দূনিহিল্ বা-ত্বিলু অআন্নাল্লা-হা হুওয়াল্ ‘আলিয়্যুল্ কার্বী।

বাংলা অনুবাদ ৩১.৩০ এগুলো প্রমাণ করে যে, নিশ্চয় আল্লাহই সত্য এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাকে ডাকে, তা মিথ্যা। আর নিশ্চয় আল্লাহই হলেন সর্বোচ্চ, সুমহান।

أَلَمْ تَرَ أَنَّ الْفُلْكَ تَجْرِي فِي الْبَحْرِ بِنِعْمَةِ اللَّهِ لِيُرِيَكُمْ مِنْ آيَاتِهِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِكُلِّ صَبَّارٍ شَكُورٍ31.31

আরবি উচ্চারণ ৩১.৩১। আলাম্ তার আন্নাল্ ফুল্কা তাজ্ব রী ফিল্ বাহ্রি বিনি’মাতিল্লা-হি লিইয়ুরিয়াকুম্ মিন্ আ-ইয়া-তিহ্; ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-ইয়া-তিল্ লিকুল্লি ছোয়াব্বা-রিন্ শার্কূ।

বাংলা অনুবাদ ৩১.৩১ তুমি কি দেখনি যে, নৌযানগুলো আল্লাহর অনুগ্রহে সমুদ্রে চলাচল করে, যাতে তিনি তাঁর কিছু নিদর্শন তোমাদের দেখাতে পারেন। নিশ্চয় এতে প্রত্যেক ধৈর্যশীল, কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে।

وَإِذَا غَشِيَهُمْ مَوْجٌ كَالظُّلَلِ دَعَوُا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ فَلَمَّا نَجَّاهُمْ إِلَى الْبَرِّ فَمِنْهُمْ مُقْتَصِدٌ وَمَا يَجْحَدُ بِآيَاتِنَا إِلَّا كُلُّ خَتَّارٍ كَفُورٍ 31.32

আরবি উচ্চারণ ৩১.৩২। অ ইযা-গশিয়াহুম্ মাওজ্ব ন্ কাজ্জুলালি দা‘আয়ুল্লা-হা মুখ্লিছীনা লাহুদ্দীনা ফালাম্মা- নাজ্জ্বা-হুম্ ইলাল্ র্বারি ফামিন্হুম্ মুক্ব তাছিদ্ অমা-ইয়াজ্ব হাদু বিআ-ইয়া-তিনা য় ইল্লা-কুল্ল খাত্তা-রিন্ কার্ফূ।

বাংলা অনুবাদ ৩১.৩২ আর যখন ঢেউ তাদেরকে ছায়ার মত আচ্ছন্ন করে নেয়, তখন তারা একনিষ্ঠ অবস্থায় আনুগত্যভরে আল্লাহকে ডাকে। অতঃপর যখন তিনি তাদেরকে উদ্ধার করে স্থলে পৌঁছে দেন, তখন তাদের কেউ কেউ (ঈমান ও কুফরীর) মধ্যপথে থাকে। আর বিশ্বাসঘাতক ও কাফির ব্যক্তি ছাড়া কেউ আমার নিদর্শনাবলী অস্বীকার করে না।

يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ وَاخْشَوْا يَوْمًا لَا يَجْزِي وَالِدٌ عَنْ وَلَدِهِ وَلَا مَوْلُودٌ هُوَ جَازٍ عَنْ وَالِدِهِ شَيْئًا إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ فَلَا تَغُرَّنَّكُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا وَلَا يَغُرَّنَّكُمْ بِاللَّهِ الْغَرُورُ31.33

আরবি উচ্চারণ ৩১.৩৩। ইয়া য় আইঁইয়্যুহান্ না-সুত্তাক্ব রব্বাকুম্ অখ্শাও ইয়াওমাল্ লা-ইয়াজ্ব্ যী ওয়া-লিদুন্ আঁও অলাদিহী অলা-মাওলূদুন্ হুয়া জ্বা-যিন্ আঁও ওয়া-লিদিহী শাইয়া-; ইন্না ওয়া’দাল্লা-হি হাক্ব ক্ব ফালা- তার্গুরন্নাকুমুল্ হাইয়া-তুদ্ দুন্ইয়া-অলা-ইয়ার্গুরন্নাকুম্ বিল্লা-হিল্ গর্রূ।

বাংলা অনুবাদ ৩১.৩৩ হে মানুষ, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর এবং সেই দিনকে ভয় কর যেদিন পিতা তার সন্তানের কোন উপকার করতে পারবে না এবং সন্তানও তার পিতার কোন উপকারে আসবে না। নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। সুতরাং দুনিয়ার জীবন যেন কিছুতেই তোমাদেরকে ধোকা দিতে না পারে এবং মহাপ্রতারক (শয়তান) যেন তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে ধোকায় ফেলতে না পারে।

إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوتُ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ 31.34

আরবি উচ্চারণ ৩১.৩৪। ইন্নাল্লা-হা ‘ইন্দাহূ ‘ইল্মুস্ সা-‘আতি অইয়ুনায্যিলুল্ গইছা অ ইয়া’লামূ মা-ফিল্ র্আহা-ম্; অমা-তাদ্রী নাফ্সুম্ মা-যা তাক্সিবু গদাহ্; অমা-তাদ্রী নাফ্সুম্ বিআইয়ি র্আদ্বিন্ তামূত্; ইন্নাল্লা-হা ‘আলীমুন্ খর্বী।

বাংলা অনুবাদ ৩১.৩৪ নিশ্চয় আল্লাহর নিকট কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে। আর তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং জরায়ূতে যা আছে, তা তিনি জানেন। আর কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন্ স্থানে সে মারা যাবে। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।



আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ

    প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে ইমেল : info@banglanewsexpress.com

    আমরা আছি নিচের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে ও

    Leave a Comment