ইনজেকশন নিলে রোজা ভাঙে,ইনজেকশন নিলে কি রোজা ভেঙে যাবে?

Google Adsense Ads

ইনজেকশন নিলে রোজা ভাঙে,ইনজেকশন নিলে কি রোজা ভেঙে যাবে?

রোজা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ফরজ বিধান।  ঈমান, নামাজের পর প্রত্যেক মুসলমানের ওপর রোজা ফরজ। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সা.-কে বলতে শুনেছি, ‘পাঁচটি জিনিসের ওপর ইসলামের বুনিয়াদ রাখা হয়েছে: সাক্ষ্য দেয়া আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ সা. আল্লাহর রাসূল; নামাজ কায়েম করা; জাকাত আদায় করা; হজ করা এবং রমজানের রোজা রাখা।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস ৮)

শরিয়তসম্মত কারণ ছাড়া যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত একটি রোজাও পরিত্যাগ করে, সে নিকৃষ্ট পাপী। এবং তাকে পরকালে কঠিন শাস্তি পেতে হবে। এ বিষয়ে এক হাদিসে হজরত আবু উমামা বাহিলি রা. বলেন—

আমি রাসূল সা.-কে বলতে শুনেছি, একবার আমি ঘুমিয়েছিলাম। এ সময় দুজন মানুষ এসে আমার দুই বাহু ধরে আমাকে দুর্গম পাহাড়ে নিয়ে গেল। সেখানে নিয়ে তারা আমাকে বলল, পাহাড়ে উঠুন। আমি বললাম, আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তারা বলল, আমরা আপনার জন্য সহজ করে দিচ্ছি। তাদের আশ্বাস পেয়ে আমি উঠতে লাগলাম এবং পাহাড়ের চূড়া পর্যন্ত গেলাম। সেখানে প্রচণ্ড চিৎকারে শব্দ শোনা যাচ্ছিল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এটা কীসের শব্দ? তারা বলল, এটা জাহান্নামিদের চিৎকার। এরপর তারা আমাকে এমন কিছু লোকের কাছে নিয়ে গেল, যাদের পায়ের টাকনুতে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের গাল ছিন্নভিন্ন এবং তা থেকে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এরা কারা? তারা বলল, এরা হচ্ছে এমন রোজাদার যারা রোজা পূর্ণ করার আগে ইফতার করত।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস, ৭৪৯১)

এজন্য শরিয়ত সম্মত কোনো কারণ ছাড়া রোজা ভাঙা যাবে না। রোজা ভাঙার কারণ নিয়ে অনেকের মাঝে সন্দেহ রয়েছে। ইনজেকশন নিলে রোজা ভাঙবে কিনা এ নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে। 

ইনজেকশন নিলে রোজা ভাঙে এ বিষয়ে ইসলামি আইন ও ফেকাহশাস্ত্রবিদদের মতে, রোজা অবস্থায় প্রয়োজনে সাধারণ ইনজেকশন গ্রহণ করা যায় এবং তাতে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। 

আরো পড়ুন:- রোজা ভঙ্গের কারণ ও রোজার মাকরুহ সমূহ পরিপূন আলোচনা

তাদের মতে, শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি ছাড়া অন্য যে কোনো কারণে ইনজেকশন নিলে রোজা নষ্ট হবে না। চাই তা মাংসে নেয়া হোক বা রগে। কারণ ইনজেকশনের সাহায্যে দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশকৃত ওষুধ মাংস বা রগের মাধ্যমেই প্রবেশ করানো হয়ে থাকে, যা অস্বাভাবিক প্রবেশপথ, তাই এটি রোজা ভঙ্গের গ্রহণযোগ্য কারণ নয়।

তবে গ্লুকোজ-জাতীয় ইনজেকশন যা খাদ্যের চাহিদা পূরণ করে রোজা অবস্থায় তা গ্রহণ করা মাকরুহ।

রোজা রেখে ইনজেকশন নেওয়া যাবে। এ কারণে রোজার ক্ষতি হবে না। একইভাবে রোজা রেখে ইনজেকশনের মাধ্যমে ইনসুলিন নিলেও রোজা নষ্ট হয় না।

কেউ যদি ‍ইনজেকশন বা ইনসুলিন নেওয়ার পর রোজা ভেঙে গেছে ভেবে অন্য কোনো খাবার খেয়ে ফেলে, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। তবে যেহেতু ভুল জেনে রোজা ভেঙে গেছে ভেবে খেয়েছে, তাই কাফফারা ওয়াজিব হবে না, শুধু কাজা ওয়াজিব হবে।

রমজানের রোজা ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। কোরআনে আল্লাহ বলেছেন,

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا کُتِبَ عَلَیۡکُمُ الصِّیَامُ کَمَا کُتِبَ عَلَی الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ لَعَلَّکُمۡ تَتَّقُوۡنَ

হে মুমিনগণ, তোমাদের উপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর। (সুরা বাকারা: ১৮৩)

তাই রোজার ব্যাপারে যত্নবান হওয়া, রোজার প্রয়োজনীয় মাসআলা মাসায়েল জানা আমাদের কর্তব্য যেন ভুল ধারণার কারণে আমরা রোজা ভেঙে না ফেলি।

Google Adsense Ads

যে সব কারণে রোজা ভেঙে যায়

১. কেউ যদি ইচ্ছা করে রমজান মাসের দিনের বেলা যৌনমিলন করে অথবা পানাহার করে, তবে তার রোজা ভেঙে যাবে। কাজা করতে হবে, কাফফারাও দিতে হবে।

২. মেয়েদের মাসিক ও সন্তান প্রসবের পরবর্তী ঋতুস্রাবের সময় রোজা রাখা নিষিদ্ধ। রোজাদার অবস্থায় মাসিক শুরু হলে অথবা সন্তানের জন্ম হলে রোজা ভেঙে যাবে। পরবর্তী সময়ে এই রোজা কাজা করে নিতে হবে।

৩. ইচ্ছা করে বমি করলে রোজা ভেঙে যাবে, বমি মুখে চলে আসর পর ইচ্ছাকৃত তা গিলে ফেললে রোজা ভেঙে যাবে, শুধু কাজা করতে হবে।

৪. রমজান মাসের দিনের বেলা ইসলাম ত্যাগ করলে বা মুরতাদ হয়ে গেলে তার রোজা ভেঙে যাবে। ইসলামে আবার ফিরে আসলে ওই রোজাটি কাজা করে নিতে হবে।

৫. কুলি করার সময় অনিচ্ছায় গলার ভেতর পানি প্রবেশ করলে, রাত অবশিষ্ট আছে মনে করে সুবহে সাদিকের পর পানাহার করলে, ইফতারের সময় হয়েছে ভেবে সূর্যাস্তের আগে ইফতার করলে, রোজা স্মরণ থাকা অবস্থায় অজুতে কুলি বা নাকে পানি দেওয়ার সময় ভেতরে পানি চলে গেলে রোজা ভেঙে যাবে, কাজা করে নিতে হবে।

৬. রোজা থাকার কথা ভুলে গিয়ে কোনো কিছু খেয়ে ফেললে রোজা ভাঙবে না। তবে ভুলবশত খাওয়ার পর রোজা ভেঙে গেছে ভেবে ইচ্ছা করে আরো কিছু খেলে রোজা ভেঙে যাবে।

৬. জিহ্বা দিয়ে দাঁতের ফাঁক থেকে একটি ছোলার সমান বা এর চেয়ে বড় কোনো কিছু বের করে খেয়ে ফেললে রোজা ভেঙে যাবে, পরে কাজা করে নিতে হবে।

ইনজেকশন নিলে রোজা ভাঙে,ইনজেকশন নিলে কি রোজা ভেঙে যাবে?,ইনজেকশন ও রক্ত নিলে রোজা ভেঙ্গে যাবে কি, রোজা রেখে ইনজেকশন নেওয়া যাবে কি?

Google Adsense Ads

Leave a Comment