সূরা আর-রাদ সকল তথ্য আল কোরআন ও হাদিসের আলোতে,পৃথিবীর জানা অজানা কিছু তথ্য আল আর-রাদ আলমল ও ফজিলত, সূরা আর-রাদ কতো বার পাঠ করলে কোন আলম ও ফজিলত, সূরা আর-রাদ নাযিলের কারন গুলো কি কি ,কুরআন ১৩ সূরা আল – আর-রাদ

আজকের বিষয়: সূরা আর-রাদ সকল তথ্য আল কোরআন ও হাদিসের আলোতে,পৃথিবীর জানা অজানা কিছু তথ্য আল আর-রাদ আলমল ও ফজিলত, সূরা আর-রাদ কতো বার পাঠ করলে কোন আলম ও ফজিলত, সূরা আর-রাদ নাযিলের কারন গুলো কি কি ,কুরআন ১৩ সূরা আল – আর-রাদ

সূরা রাদ বাংলা অনুবাদ
সর্বমোট আয়াত-৪৩

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি মহান আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু

المر ۚ تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ ۗ وَالَّذِي أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ الْحَقُّ وَلَـٰكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يُؤْمِنُونَ

বাংলা অর্থ:
১। আলীফ, লাম-মীম-রা। এইগুলি এক বড় কিতাবের আয়াতসমূহ; আর যাহাকিছু আপনার প্রতি আপনার রব্বের তরফ হইতে অবতীর্ণ করা হয় উহা সম্পূর্ণ সত্য, কিন্তু অধিকাংশ লোকই ঈমান আনে না।

اللَّهُ الَّذِي رَفَعَ السَّمَاوَاتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا ۖ ثُمَّ اسْتَوَىٰ عَلَى الْعَرْشِ ۖ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ ۖ كُلٌّ يَجْرِي لِأَجَلٍ مُّسَمًّى ۚ يُدَبِّرُ الْأَمْرَ يُفَصِّلُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُم بِلِقَاءِ رَبِّكُمْ تُوقِنُونَ

আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ

বাংলা অর্থ:
২। আল্লাহ এমন যে তিনি আসমানসমূহকে খুঁটি ব্যতীত ঊধ্বস্থিত করিয়াছেন, যেমন তোমরা উহাদিগকে দেখিতেছ, অত:পর আরশের উপর প্রতিষ্ঠিত হইলেন, এবং সূর্য ও চন্দ্রকে কার্যে রত করিলেন; প্রত্যেক এক নির্দিষ্ট সময়ে চলিতে থাকে; তিনিই সকল কাজের পরিচালনা করেন, প্রমানসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেন, যাহাতে তোমরা নিজেদের প্রতিপালকের নিকট উপস্থিত হওয়া বিশ্বাস কর।

وَهُوَ الَّذِي مَدَّ الْأَرْضَ وَجَعَلَ فِيهَا رَوَاسِيَ وَأَنْهَارًا ۖ وَمِن كُلِّ الثَّمَرَاتِ جَعَلَ فِيهَا زَوْجَيْنِ اثْنَيْنِ ۖ يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ ۚ إِنَّ فِي ذَ‌ٰلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ

বাংলা অর্থ:
৩। আর তিনি এমন যে, তিনি পৃথিবীকে প্রসারিত করিয়াছেন এবং তাহাতে পর্বতমালা ও নহর সমূহ সৃষ্টি করিয়াছেন; এবং তাহাতে প্রত্যেক প্রকারের ফল হইতে দুই দুই প্রকার সৃষ্টি করিয়াছেন, (টক ও মিষ্টি , ছোট ও বড়) তিনি রাত্রি দ্বারা দিনকে ঢাকিয়া দেন; এই সমস্ত বিষয়ে চিন্তাশীল লোকদের জন্য (তওহীদের) নিদর্শনসমূহ রহিয়াছে।

সূরা রাদ বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। “প্রতিষ্ঠিত হইলেন” বলিতে আমরা যেই অর্থ বুঝিয়া থাকি, তিনি সেই অর্থে প্রতিষ্ঠিত নহেন; বরং খোদার পক্ষে যেইভাবে শোভনীয় সেই ভাবেই আরশের উপর প্রতিষ্ঠিত আছেন। (ব: কো:)
২। বস্তুত: তাহাই হয় সূর্য স্বীয় রাশিচক্র এক বৎসরে এবং চন্দ্র এক মাসে অতিক্রম করে। কেবল চন্দ্র-সূর্যের গতি নিয়ন্ত্রণই নহে, সৌর জগতের সবকিছুর তত্ত্বাবধানও তিনি করিয়া থাকেন। (ব: কো:)
৩। কেননা, আল্লাহ তা‘আলা যখন আসমান, চন্দ্র, সূর্য ইত্যাদির ন্যায় বৃহদাকার বস্তু সৃষ্টি করিতে পারিয়াছেন, তখন মৃতকে পুনজীবন দান করা তাঁহার পক্ষে নি:সন্দেহে অসম্ভব নহে। তৎসঙ্গে সর্বজন সমর্থিত সত্যবাদী হযরত (দ:) ইহার সংবাদ দিতেছেন। অতএব, সেই সম্ভাব্য বিষয়টিও ধ্রুব সত্য। (ব: কো:)
৪। যেমন একটি মিষ্ট, অপরটি টক, একটি এক রঙ্গের অপরটি অন্য রঙ্গের ইত্যাদি। (ব: কো:)

وَفِي الْأَرْضِ قِطَعٌ مُّتَجَاوِرَاتٌ وَجَنَّاتٌ مِّنْ أَعْنَابٍ وَزَرْعٌ وَنَخِيلٌ صِنْوَانٌ وَغَيْرُ صِنْوَانٍ يُسْقَىٰ بِمَاءٍ وَاحِدٍ وَنُفَضِّلُ بَعْضَهَا عَلَىٰ بَعْضٍ فِي الْأُكُلِ ۚ إِنَّ فِي ذَ‌ٰلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَعْقِلُونَ

বাংলা অর্থ:
৪। আর ভূপৃষ্ঠে রহিয়াছে বিভিন্ন প্রকার পাশাপাশি ভূখন্ডসমূহ এবং আঙ্গুরের বাগানসমূহ এবং কৃষিক্ষেত্রসমূহ রহিয়াছে, আর খেজুর গাছ রহিয়াছে, যাহার কতিপয় তো এমন যে, এক গুঁড়ি হইতে দুই বা ততোধিক গাছ উৎপন্ন হয়, এবং কতিপয় এইরূপ হয় না, সকলকে এই পানি সিঞ্চন করা হয়। অথচ আমি ফলগুলির মধ্যে একটিকে অপরটির উপর শ্রেষ্টত্ব প্রদান করি; এই সমস্ত বিষয়ে নিদর্শন সমূহ রহিয়াছে বুদ্ধিমান লোকদের জন্য।

وَإِن تَعْجَبْ فَعَجَبٌ قَوْلُهُمْ أَإِذَا كُنَّا تُرَابًا أَإِنَّا لَفِي خَلْقٍ جَدِيدٍ ۗ أُولَـٰئِكَ الَّذِينَ كَفَرُوا بِرَبِّهِمْ ۖ وَأُولَـٰئِكَ الْأَغْلَالُ فِي أَعْنَاقِهِمْ ۖ وَأُولَـٰئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ

বাংলা অর্থ:
৫। আর যদি আপনি আশ্চর্য মনে করেন, তবে আশ্চর্যজনকই তাহাদের এই উক্তিগুলি-যখন আমরা মাটিতে মিশিয়া যাইব তখন কি আবার নুতনভাবে সৃষ্ট হইব? তাহারা সেই লোক যাহারা নিজেদের প্রতিপালকের সহিত কুফর করিয়াছে আর এমন লোকদের স্কন্ধে বেড়ি পরান হইবে, এবং এইরূপ লোকেরাই হইবে জাহান্নামের অধিবাসী, তাহারা উহাতে চিরকাল থাকিবে।

وَيَسْتَعْجِلُونَكَ بِالسَّيِّئَةِ قَبْلَ الْحَسَنَةِ وَقَدْ خَلَتْ مِن قَبْلِهِمُ الْمَثُلَاتُ ۗ وَإِنَّ رَبَّكَ لَذُو مَغْفِرَةٍ لِّلنَّاسِ عَلَىٰ ظُلْمِهِمْ ۖ وَإِنَّ رَبَّكَ لَشَدِيدُ الْعِقَابِ

বাংলা অর্থ:
৬। আর ইহারা সুখ- শান্তি পূর্বে অশান্তির জন্য আপনাকে পীড়াপীড়ি করে, অথচ তাহাদের পূর্বে আযাবের বহু দৃষ্টান্ত অতীত হইয়াছে; আর একথাও স্থির নিশ্চিত যে, আপনার প্রতিপালক মানুষের অপরাধসমূহ ক্ষমা করিয়া দেন , তাহাদের অন্যায়চার সত্ত্বেও এবং এই কথাও স্থির নিশ্চিত যে, আপনার রব্ব কঠিন শাস্তি প্রদান করেন।

وَيَقُولُ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْلَا أُنزِلَ عَلَيْهِ آيَةٌ مِّن رَّبِّهِ ۗ إِنَّمَا أَنتَ مُنذِرٌ ۖ وَلِكُلِّ قَوْمٍ هَادٍ

বাংলা অর্থ:
৭। এবং এই কাফেররা ইহা (-ও) বলে যে, তাহার প্রতি তাহার রব্বের তরফ হইতে বিশেষ মু’জেযা নাযিল করা হইল না কেন? আপনি কেবল ভয় প্রদর্শক, আর প্রত্যেক কাওমের জন্য এক একজন পথপ্রদর্শক হইয়া থাকেন।

সূরা রাদ বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। অর্থাৎ যমীনের বিভিন্ন অঞ্চলগুলি পরস্পর মিলিত হওয়া সত্ত্বেও উহাদের প্রাকৃতিক অবস্থা ও গুণাগুণ বিভিন্ন হওয়া নিশ্চয়ই বিস্ময়কর ব্যাপার। (ব: কো:)
২। “সেনওয়ান” (দুই কান্ড) উপমা হিসাবেই বলা হইয়াছে। ইহার প্রকৃত অর্থ অনেক কান্ড বিশিষ্ট; কেননা, বহু খেজুর বৃক্ষে দুইয়ের অধিক কান্ড ও দেখা গিয়াছে । তবে সাধারণত; দুইয়ের বেশি হয় না বলিয়াই দুই কান্ড বলা হইয়াছে ।(ব: কো:)
৩। কেননা, হাশর-নশর অমান্য করাতে প্রকারান্তরে কুদরতের প্রতিই অবিশ্বাস করা হয়। দ্বিতীয়ত: হাশর–- নশর অমান্য করার ফলস্বরূপ তাহারা যেই নুবুওয়াত অবিশ্বাস করিতেছে তাহাতে প্রকারান্তরে খোদার একটি বিশেষ গুণকে অস্বীকার করা হইতেছে। খোদা সত্যের সহায়ক; কিন্তু তাহারা বলিতেছে, তিনি মিথ্যাবাদীর সহায়তা করিয়া সত্যকে ধামাচাপা দিতেছেন। (ব: কো:)

اللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَحْمِلُ كُلُّ أُنثَىٰ وَمَا تَغِيضُ الْأَرْحَامُ وَمَا تَزْدَادُ ۖ وَكُلُّ شَيْءٍ عِندَهُ بِمِقْدَارٍ

বাংলা অর্থ:
৮। আল্লাহ তা‘আলা সমস্তই জানেন, যাহাকিছু প্রত্যেক স্ত্রীলোক গর্ভে ধারণ করিয়া থাকে এবং যাহাকিছু জরায়ুতে কম ও বেশী হইয়া থাকে; আর সমস্ত বস্তু আল্লাহর নিকট রহিয়াছে এক নির্দিষ্ট পরিমাণে।

عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ الْكَبِيرُ الْمُتَعَالِ

বাংলা অর্থ:
৯। তিনি অদৃশ্য ও দৃশ্য সকল বস্তু সম্বন্ধে অবগত আছেন সুমহান, সমুন্নত।

سَوَاءٌ مِّنكُم مَّنْ أَسَرَّ الْقَوْلَ وَمَن جَهَرَ بِهِ وَمَنْ هُوَ مُسْتَخْفٍ بِاللَّيْلِ وَسَارِبٌ بِالنَّهَارِ

বাংলা অর্থ:
১০। এই সবই সমান- তোমাদের মধ্যকার যে কেহ কোন কথা চুপে চুপে বলে এবং যে উচ্চ স্বরে বলে, আর যে ব্যক্তি রাত্রিকালে কোথাও আত্মগোপন করে এবং যেদিনের বেলায় চলাফেরা করে।

لَهُ مُعَقِّبَاتٌ مِّن بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ يَحْفَظُونَهُ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّىٰ يُغَيِّرُوا مَا بِأَنفُسِهِمْ ۗ وَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِقَوْمٍ سُوءًا فَلَا مَرَدَّ لَهُ ۚ وَمَا لَهُم مِّن دُونِهِ مِن وَالٍ

বাংলা অর্থ:
১১। প্রত্যেক মানুষের জন্য কতিপয় ফেরেশতা রহিয়াছে, যাহাদের বদলি হইতে থাকে, কতিপয় তাহার সম্মুখে এবং কতিপয় তাহার পিছনে, যাহারা আল্লাহর আদেশে তাহার হেফাযত করে; নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত তাহারা নিজেরা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন না করে; আর যখন আল্লাহ তা’আলা কোন জাতির উপর বিপদ নিপতিত করার সিদ্ধান্ত করেন তখন উহা সরিবার কোন উপায় নাই, এবং আল্লাহ ব্যতীত আর কেহ তাহাদের জন্য সহায় হয় না ।

هُوَ الَّذِي يُرِيكُمُ الْبَرْقَ خَوْفًا وَطَمَعًا وَيُنشِئُ السَّحَابَ الثِّقَالَ

বাংলা অর্থ:
১২। তিনি এমন যে, তোমাদিগকে বিদ্যুৎ প্রদর্শন করেন, যাহাতে আশংকাও হয় এবং আশাও হয়, এবং তিনি মেঘমালাকে উচ্চে উঠান যাহা পানিতে পরিপূর্ণ থাকে।

সূরা রাদ বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। এই আয়াতে “হাদী” শব্দটি নবী ও নায়েবে নবীর ব্যাপক অর্থে গৃহীত হইয়াছে । কাজেই সকল দেশে নবীর আগমন নিশ্চিতরূপে প্রামণিত হয় না। সুতরাং পাক-ভারতে কোন উপদেষ্টা আসিয়া থাকিলে তাহার নবী হওয়া অনিবার্য নহে। হওয়াও বিচিত্র নহে। (ব: কো:)
২। ইহাতে কেহ যেন ধারণা না করেন যে, ফেরেশতাগণ যখন আমাদের হেফাযত করিতেছেন তখন আর চিন্ত কি? কুফরই করি, মহা পাপই করি, আমাদের প্রতি আযাব আসিবে না। এইরূপ ধারণা ভুল। (ব: কো:)
৩। অর্থাৎ মানুষ নিজের কর্মদোষে আল্লাহর তরফ হইতে বিপদ ভোগের যোগ্য হয়। তখন তিনি ব্যতীত তাহাদের সাহায্যকারী থাকে না। এমনকি তখন নেগাহবান ফেরেশতারাও নেগাহবানী ত্যাগ করে। (ব: কো:)
৪। “রা‘দ” শব্দটি মালায়িকা শব্দের নিকট আসাতে বুঝা যায়, ইহা এক ফেরেশতার নাম। তিরমিযী শরীফের এক মারফূ হাদীসেও বর্ণিত আছে রাদ এক ফেরেশতা । বিদ্যুৎ সেই রাদ ফেরেশতার হাতের অগ্নিময় চাবুকের চমকানী। মেঘের গর্জন রাদ ফেরেশতারই গর্জন। বৈজ্ঞানিকগণ মেঘ গর্জনের যেই তথ্য আবিষ্কার করিয়াছে, তাহা এই গর্জনের বাহ্য কারণ। আর হাদীসে যাহা বর্ণিত হইয়াছে, তাহা উহার আসল কারণ। হয়ত বিদ্যুৎ বৈজ্ঞানিকদের বর্ণিত অর্থেই ফেরেশতাদের করায়ত্তে থাকিতে পারে এবং উহা হইতে উৎপন্ন শব্দের উৎসস্থান ফেরেশতার গর্জন। যেমন মানুষের মুখে উচ্চরিত শব্দগুলির বাহ্যিক কারণ জিহবা চালনার ফলে বায়ুস্তর ভেদ করিয়া উহার ক্ষীণ আঘাত স্রোতার কর্ণ কুহরস্থ ঝিল্লিকে স্পর্শ করে। কিন্তু ইহার আসল কারণ মানুষের প্রাণ। (ব: কো:)

وَيُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ وَالْمَلَائِكَةُ مِنْ خِيفَتِهِ وَيُرْسِلُ الصَّوَاعِقَ فَيُصِيبُ بِهَا مَن يَشَاءُ وَهُمْ يُجَادِلُونَ فِي اللَّهِ وَهُوَ شَدِيدُ الْمِحَالِ

বাংলা অর্থ:
১৩। এবং রা‘দ (ফেরেশতা) তাঁহার প্রশংসার সহিত পবিত্রতা বর্ণনা করে এবং (অন্যান্য) ফেরেশতাগণও তাঁহার ভয়ে, আর তিনি প্রেরণ করেন বিদ্যুৎসমূহ, অত:পর নিক্ষেপ করেন যাহার উপর ইচ্ছা, আর উহারা আল্লাহ সম্বন্ধে বিতর্ক করে, অথচ তিনি হইতেছেন অত্যন্ত ক্ষমতাবান;

لَهُ دَعْوَةُ الْحَقِّ ۖ وَالَّذِينَ يَدْعُونَ مِن دُونِهِ لَا يَسْتَجِيبُونَ لَهُم بِشَيْءٍ إِلَّا كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ إِلَى الْمَاءِ لِيَبْلُغَ فَاهُ وَمَا هُوَ بِبَالِغِهِ ۚ وَمَا دُعَاءُ الْكَافِرِينَ إِلَّا فِي ضَلَالٍ

বাংলা অর্থ:
১৪। সত্য ডাক তাঁহারই জন্য নির্দিষ্ট রহিয়াছে; এবং ইহারা আল্লাহ ব্যতীত অপর যাহাদিগকে আহবান করে তাহারা উহাদের আবেদন ইহার চেয়ে অধিক গ্রহণ করিতে পারে না সেই (পিপাসাতুর) ব্যক্তির আবেদনের ন্যায় যেই ব্যক্তি স্বীয় হস্তদ্বয় প্রসারিত করিয়া দেয় পানির দিকে, যেন উহা তাহার মুখে আসিয়া পৌছে, অথচ উহা (নিজে নিজে) তাহার মুখে আসিয়া পৌছিবে না; আর (দেবতাদের নিকট) কাফেরদের আবেদন তো নিষ্ফল ।

وَلِلَّهِ يَسْجُدُ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا وَظِلَالُهُم بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ

বাংলা অর্থ:
১৫। আর সকলেই আল্লাহরই সম্মুখে মস্তক অবনত করিয়া আছে যাহারা আসমানসমুহে এবং যমীনে আছে, (কতক) স্বেচ্ছায় এবং (কতক) অনিচ্ছায় এবং তাহাদের ছায়াও (মস্তকাবনত করে) প্রাতে এবং সন্ধ্যায় ।

قُلْ مَن رَّبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ قُلِ اللَّهُ ۚ قُلْ أَفَاتَّخَذْتُم مِّن دُونِهِ أَوْلِيَاءَ لَا يَمْلِكُونَ لِأَنفُسِهِمْ نَفْعًا وَلَا ضَرًّا ۚ قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الْأَعْمَىٰ وَالْبَصِيرُ أَمْ هَلْ تَسْتَوِي الظُّلُمَاتُ وَالنُّورُ ۗ أَمْ جَعَلُوا لِلَّهِ شُرَكَاءَ خَلَقُوا كَخَلْقِهِ فَتَشَابَهَ الْخَلْقُ عَلَيْهِمْ ۚ قُلِ اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ

বাংলা অর্থ:
১৬। আপনি বলুন, আমসানসমুহ এবং পৃথিবীর প্রতিপালক কে? আপনিই বলিয়া দিন যে, আল্লাহ; আপনি বলুন, তবুও কি তোমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্য সাহায্যকারী বির্ধারণ করিয়া লইয়াছ যাহারা নিজেদেরই কোন উপকারও অপকারের ক্ষমতা রাখে না? আপনি ইহাও বলুন যে, অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান হইতে পারে? অথবা অন্ধকার এবং আলোক কি কখনও সমান হইতে পারে? নাকি তাহারা আল্লাহর এমন শরীরক সাব্যস্ত করিয়া লইয়াছে যে, তাহারাও আল্লাহর সৃষ্টির অনুরূপ (কোনকিছু) সৃষ্টি করিয়াছে, অত:পর তাহাদের নিকট (উভয়) সৃষ্টি করা এক রকম মনে হইয়াছে। আপনি বলিয়া দিন যে, আল্লাহই হইতেছেন সকল বস্তুর সৃষ্টিকর্তা এবং তিনিই একক, মহা পরাক্রান্ত।

أَنزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَسَالَتْ أَوْدِيَةٌ بِقَدَرِهَا فَاحْتَمَلَ السَّيْلُ زَبَدًا رَّابِيًا ۚ وَمِمَّا يُوقِدُونَ عَلَيْهِ فِي النَّارِ ابْتِغَاءَ حِلْيَةٍ أَوْ مَتَاعٍ زَبَدٌ مِّثْلُهُ ۚ كَذَ‌ٰلِكَ يَضْرِبُ اللَّهُ الْحَقَّ وَالْبَاطِلَ ۚ فَأَمَّا الزَّبَدُ فَيَذْهَبُ جُفَاءً ۖ وَأَمَّا مَا يَنفَعُ النَّاسَ فَيَمْكُثُ فِي الْأَرْضِ ۚ كَذَ‌ٰلِكَ يَضْرِبُ اللَّهُ الْأَمْثَالَ

বাংলা অর্থ:
১৭। আল্লাহ তাআলা আসমান হইতে পানি বর্ষণ করিলেন, তৎপর নালাসমূহ নিজেদের পরিমাণ অনুযায়ী প্রবাহিত হইতে লাগিল অত:পর ঐ স্রোত ভাসাইয়া নিল আবর্জনাগুলি যাহা উহার উপর ভাসমান ছিল; আর যে সমস্ত পদার্থকে অলঙ্কার অথব আসবাব প্রস্তুত করিবার উদ্দেশ্যে অগ্নির মধ্যে উত্তপ্ত করিয়া থাকে তাহাতেও এই রকমই আবর্জনা (উপর উঠিয়া) থাকে; এই ভাবেই আল্লাহ তা‘আলা হ্ক্ব এবং বাতেলের দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেন; বস্তুত: যাহা আবর্জনা উহা তো ফেলিয়া দেওয়া হয়, আর যাহাকিছু মানুষের প্রয়োজনীয় তাহা ভূপৃষ্ঠে থাকিয়া যায়; আল্লাহ তা‘আলা এইভাবেই উপমাসমূহ বর্ণনা করিয়া থাকেন।

সূরা রাদ বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। এই উপমাদ্বয়ের দুই প্রকারের পদার্থ প্রকাশ পাইল, এক প্রকার কাজের আর এক প্রকার অকেজো। আবর্জনা বহকারী পানি এবং অগ্নির উত্তাপে গলিত ধাতব দ্রব্য হইল কাজের জিনিস, আর স্রোতে প্রবাহিত পানির উপর ভাসমান আবর্জনা এবং গলিত ধাতু হইতে নির্গত আবর্জনা হইল অকেজো । এই দৃষ্টান্ত দ্বয়ের সারমর্ম এই যে, ক্ষণকালের জন্য খাঁটি জিনিসের উপর অপদার্থ গুলি দৃষ্ট হইলেও তাহা পরিত্যক্ত ও বিদুরিত হয়; কিন্তু খাঁটি জিনিস সাদরে রক্ষিত হয়। তদ্রুপ বাতিল ও অলীক বিষয় ক্ষণেকের তরে হক্ব বিষয়ের উপর দৃষ্ট হইলেও পরিণামে হক্বই বহাল থাকে এবং বাতির পরাভূত ও নিশ্চিহ্ন হইয়া যায় । (ব:কো: জালালাইন)

لِلَّذِينَ اسْتَجَابُوا لِرَبِّهِمُ الْحُسْنَىٰ ۚ وَالَّذِينَ لَمْ يَسْتَجِيبُوا لَهُ لَوْ أَنَّ لَهُم مَّا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا وَمِثْلَهُ مَعَهُ لَافْتَدَوْا بِهِ ۚ أُولَـٰئِكَ لَهُمْ سُوءُ الْحِسَابِ وَمَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ ۖ وَبِئْسَ الْمِهَادُ

বাংলা অর্থ:
১৮। যাহারা স্বীয় প্রতিপালকের আদেশ মান্য করিয়াছে, তাহাদের জন্য উত্তম বিনিময় রহিয়াছে; আর যাহারা তাঁহার আদেশ মানে নাই, (পরলোক) তাহাদের নিকট যদি সমগ্র দুনিয়ার দ্রব্যসমূহ থাকে এবং উহার সঙ্গে উহারই সমান আরও (ধন- সম্পদ) থাকে, তবে (আযাব হইতে) নিজেদের মুক্তির জন্য সমস্তই দিতে চাহিবে; এই লোকদের কঠিন হিসাব হইব, এবং তাহাদের (চিরস্থায়ী) নিবাস ইহবে জাহান্নাম; আর উহা অতি নিকৃষ্ট নিবাস।

أَفَمَن يَعْلَمُ أَنَّمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ الْحَقُّ كَمَنْ هُوَ أَعْمَىٰ ۚ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُولُو الْأَلْبَابِ

বাংলা অর্থ:
১৯। যেই ব্যক্তি এই বিশ্বাস রাখে যে, যাহাকিছু আপনার প্রতিপালকের পক্ষ হইতে আপনার প্রতি নাযিল হইয়াছে, উহা সত্য, এইরূপ ব্যক্তি কি তাহার মত হইতে পারে যে অন্ধ? বস্তুত: উপদেশ তো বুদ্ধিমান লোকেরাই গ্রহণ করে।

الَّذِينَ يُوفُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَلَا يَنقُضُونَ الْمِيثَاقَ

বাংলা অর্থ:
২০। এই রূপ লোকেরা এমন যে, তাহারা আল্লাহ তা‘আলার সহিত যাহাকিছু অঙ্গীকার করিয়াছে তাহা পূর্ণ করে এবং অঙ্গীকার ভঙ্গ করে না।

وَالَّذِينَ يَصِلُونَ مَا أَمَرَ اللَّهُ بِهِ أَن يُوصَلَ وَيَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ وَيَخَافُونَ سُوءَ الْحِسَابِ

বাংলা অর্থ:
২১। আর তাহারা এমন যে, আল্লাহ যেই সম্পর্কসমূহ বহাল রাখিবার আদেশ করিয়াছেন উহাদিগকে বহাল রাখে এবং নিজ প্রতিপালককে ভয় করে এবং কঠিন আযাবের আশংকা করে;

وَالَّذِينَ صَبَرُوا ابْتِغَاءَ وَجْهِ رَبِّهِمْ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَأَنفَقُوا مِمَّا رَزَقْنَاهُمْ سِرًّا وَعَلَانِيَةً وَيَدْرَءُونَ بِالْحَسَنَةِ السَّيِّئَةَ أُولَـٰئِكَ لَهُمْ عُقْبَى الدَّارِ

বাংলা অর্থ:
২২। আর ইহারা এমন যে, নিজেদের প্রতিপালকের সন্তুষ্টির অন্বেসণে দৃঢ় থাকে এবং নামাযের পাবন্দী করে, আর যাহাকিছু আমি তাহাদিগকে জীবিকা দিয়াছি উহা হইতে গোপনে এবং প্রকাশ্যেও ব্যয় করে এবং অসদ্ব্যবহারকে সদ্ব্যবহার দ্বারা বিদুরিত করে, পরকালের শুভ পরিণাম সেই সকল লোকদের জন্যই রহিয়াছে।

جَنَّاتُ عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا وَمَن صَلَحَ مِنْ آبَائِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ ۖ وَالْمَلَائِكَةُ يَدْخُلُونَ عَلَيْهِم مِّن كُلِّ بَابٍ

বাংলা অর্থ:
২৩। অর্থাৎ স্থায়ী বসবাসের বাগানসমূহ, যাহাতে তাহারাও প্রবেশ করিবে, আর যাহার যোগ্য হইবে তাহাদের মাতাপিতার মধ্যে এবং স্ত্রীদের মধ্যে এবং সন্তানাদির মধ্যে তাহারাও প্রবেশ করিবে এবং ফেরেশতাগণ তাহাদের নিকট আগমন করিতে থাকিবে প্রত্যেক দ্বার দিয়া।

সূরা রাদ বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। ‘আহদ’ বলিতে আল্লাহ পাকের সেই সমস্ত আদেশ ও নিষেধাবলী পালনের অঙ্গীকার উদ্দেশ্যে যাহা তিনি আসমানী কিতাব দ্বারা নবীদের মারফতে মানুষ হইতে গ্রহণ করিয়াছেন। আর ‘মীসাক’ বলিতে সেই অঙ্গীকার উদ্দেশ্যে যাহা তিনি আলমে আরওয়াহে আদম-সন্তান হইতে গ্রহন করিয়াছেন। (ফ: ব:)
২। অর্থাৎ ঐ সমস্ত বিষয়ের সম্পর্ক বহাল রাখা যাহার সম্পর্ক রাখিতে আল্লাহ তা‘আলা নির্দেশ দিয়াছেন। বান্দার হক্বসমূহ ও সমস্ত আসমানী কিতাব এবং নবীদের প্রতি ঈমান রাখা ইহার অন্তগত। (ফ: ব:)
৩। আর ভয় বলিতে সেই ভয় উদ্দেশ্যে, যাহা ওয়াজিব কাজ করিতে উদ্বুদ্ধ করে এবং হারাম কাজ হইতে বিবৃত্ত রাখে । (ফ: ব:)
৪। অর্থাৎ খোদার সান্নিধ্যপ্রাপ্ত নেক বান্দাগণের কল্যাণে তাহাদের মুমিন পিতা-মাতা এবং স্ত্রী-পুত্রগণকেও তাহাদের শ্রেনীতে স্থান দেওয়া হইবে। (ব: কো:)

سَلَامٌ عَلَيْكُم بِمَا صَبَرْتُمْ ۚ فَنِعْمَ عُقْبَى الدَّارِ

বাংলা অর্থ:
২৪। তোমরা শান্তির সহিত বসবাস করিবে, উহার কল্যাণে যে, তোমরা দৃঢ়পদ ছিলে, সুতরাং ঐ জগতে তোমাদের পরিণাম অতিশয় শুভ।

وَالَّذِينَ يَنقُضُونَ عَهْدَ اللَّهِ مِن بَعْدِ مِيثَاقِهِ وَيَقْطَعُونَ مَا أَمَرَ اللَّهُ بِهِ أَن يُوصَلَ وَيُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ ۙ أُولَـٰئِكَ لَهُمُ اللَّعْنَةُ وَلَهُمْ سُوءُ الدَّارِ

বাংলা অর্থ:
২৫। আর যাহারা আল্লাহ তা‘আলার অঙ্গীকার সমূহকে উহা দৃঢ় করার পর ভঙ্গ করে এবং আল্লাহ তা‘আলা যেই সম্পর্ক সমূহ বহাল রাখিবার আদেশ করিয়াছেন, তাহা ছিন্ন করে এবং দুনিয়ায় ফেতনা ফ্যাসাদ করে, এমন লোকদের উপর লা‘নত হইবে এবং পরকালে তাহাদের জন্য অশুভ পরিণাম হইবে।

اللَّهُ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَن يَشَاءُ وَيَقْدِرُ ۚ وَفَرِحُوا بِالْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا فِي الْآخِرَةِ إِلَّا مَتَاعٌ

বাংলা অর্থ:
২৬। আল্লাহ তা‘আলা যাহাকে ইচ্ছা প্রচুর জীবিকা দান করেন এবং (যাহাকে ইচ্ছা ) সঙ্কীর্ণ করিয়া দেন; আর ইহারা পার্থিব জীবনের উপর গর্ব করে; অথচ এই পার্থিব জীবন আখেরাতের তুলনায় অতি তুচ্ছ সামগ্যী ভিন্ন আর কিছুই নহে।

وَيَقُولُ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْلَا أُنزِلَ عَلَيْهِ آيَةٌ مِّن رَّبِّهِ ۗ قُلْ إِنَّ اللَّهَ يُضِلُّ مَن يَشَاءُ وَيَهْدِي إِلَيْهِ مَنْ أَنَابَ

বাংলা অর্থ:
২৭। আর এই কাফেররা বলে, তাহার প্রতি তাহার প্রতিপালকের পক্ষ হইতে কোন (ফরমায়েশী) মু’জেযা কেন নাযিল করা হইল না? আপনি বলিয়া দিন, বাস্তবিকই আল্লাহ যাহাকে ইচ্ছা বিপথগামী করিয়া দেন এবং যে ব্যক্তি তাহার দিকে নিবিষ্ট হয়, তাহাকে নিজের দিকে পথ দেখান।

الَّذِينَ آمَنُوا وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُم بِذِكْرِ اللَّهِ ۗ أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ

বাংলা অর্থ:
২৮। ইহারা হইতেছে ঐ সমস্ত লোক যাহারা ঈমান আনিয়াছে এবং আল্লাহর যিকিরে তাহাদের অন্ত:করণ তৃপ্ত হয়; উত্তমরূপে বুঝিয়া লও যে, আল্লাহর যিকিরেই অন্তরসমূহে শান্তি লাভ হইয়া থাকে।

সূরা রাদ বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। উপরে একটি আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা নেকারদের প্রতি নিজের সন্তুষ্টি প্রকাশ করিয়াছেন এবং তাহাদের জন্য জান্নাতের ওয়াদা করিয়াছেন। আর বদকারদের প্রতি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করিয়াছেন এবং তাহাদের বাসস্থান দোযখ নিধারণ করিয়াছেন। এই স্থলে একটি প্রশ্ন হইতে পারে যে, পৃথিবীতে দেখা যায়, অনেক বদলোক সুখে শান্তিতে বাস করিতেছে এবং অনেক নেক লোক কষ্টে জীবন যাপন করিতেছে, ইহার কারণ কি? এই সন্দেহ অপনোদন করিয়া আল্লাহ এই খানে বলিয়াছেন, দুনিয়ার সুখ স্বাচ্ছন্দ্য ও দু:খ কষ্ট নেক আমল ও বদ আমলের উপর নির্ভরশীল নহে; বরং নেক আমল ও বদ আমলের জন্য পরজগতে বিশেষ বিশেষ পুরস্কার এবং শাস্তি বিধারিত রহিয়াছে । নশ্বর দুনিয়ার দুঃখ কষ্ট সুখ স্বাচ্ছন্দ্য অস্থায়ী। (ই: কা:)

الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ طُوبَىٰ لَهُمْ وَحُسْنُ مَآبٍ

বাংলা অর্থ:
২৯। যাহারা ঈমান আনিয়াছে এবং নেককাজ করিয়াছে, তাহাদের জন্য রহিয়াছে শান্তিময় জীবন এবং শুভ পরিণাম।

كَذَ‌ٰلِكَ أَرْسَلْنَاكَ فِي أُمَّةٍ قَدْ خَلَتْ مِن قَبْلِهَا أُمَمٌ لِّتَتْلُوَ عَلَيْهِمُ الَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَهُمْ يَكْفُرُونَ بِالرَّحْمَـٰنِ ۚ قُلْ هُوَ رَبِّي لَا إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ مَتَابِ

বাংলা অর্থ:
৩০। এইরূপেই আমি আপনাকে এমন উম্মতের মধ্যে রাসুলরূপে প্রেরণ করিয়াছি যাহাদের পূর্বে আরও বহু উম্মত অতীত হইয়া গিয়াছে, যেন আপনি তাহাদিগকে সেই কিতাব পড়িয়া শুনান যাহা আমি আপনার নিকট ওহীর মাধ্যমে পাঠাইয়াছি, আর তাহারা এমন মহান দয়ালু নাফরমানী করিতেছে; আপনি বলিয়া দিন যে, তিনি আমার প্রতিপালক তিনি ভিন্ন আর কেহ এবাদতের যোগ্য নাই, আমি তাহারই উপর ভরসা করিয়াছি এবং তাহারই নিকট আমাকে যাইতে হইবে।

وَلَوْ أَنَّ قُرْآنًا سُيِّرَتْ بِهِ الْجِبَالُ أَوْ قُطِّعَتْ بِهِ الْأَرْضُ أَوْ كُلِّمَ بِهِ الْمَوْتَىٰ ۗ بَل لِّلَّهِ الْأَمْرُ جَمِيعًا ۗ أَفَلَمْ يَيْأَسِ الَّذِينَ آمَنُوا أَن لَّوْ يَشَاءُ اللَّهُ لَهَدَى النَّاسَ جَمِيعًا ۗ وَلَا يَزَالُ الَّذِينَ كَفَرُوا تُصِيبُهُم بِمَا صَنَعُوا قَارِعَةٌ أَوْ تَحُلُّ قَرِيبًا مِّن دَارِهِمْ حَتَّىٰ يَأْتِيَ وَعْدُ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ لَا يُخْلِفُ الْمِيعَادَ

বাংলা অর্থ:
৩১। আর যদি এমন কোন কোরআন হইত, যাহা দ্বারা পর্বতমালা স্থানান্তরিত করা যাইত অথবা উহার সাহায্যে ভূপৃষ্ঠে দ্রুত অতিক্রম করা যাইত অথবা উহার সাহায্যে মৃতদের সহিত বাক্যালাপ কর যাইত, তবুও তাহার ঈমান আনত না; বরং সমস্ত ক্ষমতা আল্লাহরই জন্য রহিয়াছে এতদসত্ত্বেও কি ঈমানদারদের এই কথার প্রতি মন স্থির হইল না যে, আল্লাহ যদি চাহিতেন তবে সমস্ত মানুষকে হেদায়ত করিয়া দিতেন; আর এই কাফেররা তো সর্বদা এইকয় অবস্থায় থাকে যে, তাহাদের কার্যকলাপের দরুন তাহাদের উপর (ইহাকালে) কোন না কোন আকস্মিক বিপদ পতিত হইতে থাকে অথবা তাহাদের জনপদের নিকট (বিপদ) পতিত হইতে থাকে, শেষ পর্যন্ত আল্লাহর ওয়াদা (আখেরাতের আযাব) আসিয়া পড়িবে; কখনও আল্লাহ তাআলা ওয়াদা খেলাফ করেন না।

وَلَقَدِ اسْتُهْزِئَ بِرُسُلٍ مِّن قَبْلِكَ فَأَمْلَيْتُ لِلَّذِينَ كَفَرُوا ثُمَّ أَخَذْتُهُمْ ۖ فَكَيْفَ كَانَ عِقَابِ

বাংলা অর্থ:
৩২। এবং অনেক রাসূলগণের সহিত বিদ্রুপ করা হইয়াছে যাহারা আপনার পূর্বে অতীত হইয়াছেন, অনন্তর আমি অবকাশ দিতে থাকি সেই কাফেরদিগকে, অত:পর আমি তাহাদিগকে পাকড়াও করিলাম । সুতরাং আমার শাস্তি কিরূপ (ভীষণ)ছিল।

সূরা রাদ বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। পূর্ববতী নবীগণকে যেমন তাহাদের উম্মত দের প্রতি পেরণ করিয়াছিলাম, তদ্রুপ আপনাকেও এই উম্মতের প্রতি রসূল করিয়া পাঠাইয়াছি । (ব: কো:)
২। যাহাকে আল্লাহ ঈমান আনিতে তাওফীক দেন, সে-ই-ঈমান আনে। আর তাহার চিরাচরিত নিয়ম, তিনি সত্যান্বেষী কে তাওফীক দান করেন এবং বিদ্বেষপরপায়ণকে বঞ্চিত রাখেন। কাফেরেরা তো নূতন নূতন মু’জেযাহর ফরমাইশ করিত। এই দিকে কোন কোন মুসলমানও এই সমস্ত ফরমাইশী মু‘জেযাহ প্রকাশ পাওয়ার কামনা করিত। তাহাদের ধারণা ছিল, হয়ত মু‘জেযাহ দেখিলে কাফেরেরা ঈমান আনিতেও পারে। তাহাদের ধারণার অসারতা প্রকাশ করার জন্য আল্লাহ বলেন, বিদ্বেষপরায়ণ লোকেরা ঈমান আনয়নের পাত্র নহে। ইহাও জানান হইল যে, ঈমান আনা না আনা খোদার ইচ্ছাধীন ইহাতে মু‘জেযাহর কোন ক্ষমতা নাই । (ব: কো:)

أَفَمَنْ هُوَ قَائِمٌ عَلَىٰ كُلِّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ ۗ وَجَعَلُوا لِلَّهِ شُرَكَاءَ قُلْ سَمُّوهُمْ ۚ أَمْ تُنَبِّئُونَهُ بِمَا لَا يَعْلَمُ فِي الْأَرْضِ أَم بِظَاهِرٍ مِّنَ الْقَوْلِ ۗ بَلْ زُيِّنَ لِلَّذِينَ كَفَرُوا مَكْرُهُمْ وَصُدُّوا عَنِ السَّبِيلِ ۗ وَمَن يُضْلِلِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ هَادٍ

বাংলা অর্থ:
৩৩। যিনি প্রত্যেক ব্যক্তির কার্যাবলী সর্ম্পকে অবহিত থাকেন, তবুও কি তিনি এবং তাহাদের শরীকরা সাব্যস্ত করিয়াছে আপনি বলুন তাহাদের নাম তো বল; তোমরা কি আল্লাহ কে এমন কথার সংবাদ দিতেছ যে, ভূপৃষ্ঠে উহার খবর আল্লাহর নাই? অথবা কেবল বাহ্যিক শব্দ হিসাবে উহাদিগকে শরীক বলিতেছ? বরং সেই কাফেরদের নিকট নিজেদের ভ্রমাত্মক বাক্যবলী পছন্দনীয় বলিয়া মনে হয় এবং ইহারা সৎপথ হইতে বঞ্চিত রহিয়াছে; আর যাহাকে আল্লাহ তাআলা গোমরাবহীতে রাখেন তাহাকে পথে আনিবার কেহই নাই।

لَّهُمْ عَذَابٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ۖ وَلَعَذَابُ الْآخِرَةِ أَشَقُّ ۖ وَمَا لَهُم مِّنَ اللَّهِ مِن وَاقٍ

বাংলা অর্থ:
৩৪। তাহাদের জন্য পার্থিব জীবনে (-ও) আযাব রহিয়াছে এবং আখেরাতের আযাব বহু হইতেও বহু গুণে কঠিন, আর আল্লাহ তা’আলা হইতে তাহাদের কোন রক্ষাকারী হইবে না।

مَّثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ ۖ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ۖ أُكُلُهَا دَائِمٌ وَظِلُّهَا ۚ تِلْكَ عُقْبَى الَّذِينَ اتَّقَوا ۖ وَّعُقْبَى الْكَافِرِينَ النَّارُ

বাংলা অর্থ:
৩৫। ধর্মপরায়ণ লোকদের প্রতি যেই বেহেশতের অঙ্গীকার করা হইয়াছে; উহা এইরূপ যে, উহার নিম্নদেশ দিয়া নহরসমূহ বহিতে থাকিবে; উহা ফল এবং উহা ছায়া চিরস্থায়ী থাকিবে; ইহাই হইবে ধর্মপরায়নদের পরিণাম, আর কাফেরদের পরিণাম হইবে দোযখ।

সূরা রাদ বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। অর্থাৎ তোমরা যাহাদিগকে আল্লাহর শরীক সাব্যস্ত করিতেছ, বল তো তাহারা কে? কী তাহাদের অবস্থা? (ব: কো:)
২। এখন জিজ্ঞাসা করি, তোমরা কি উহাদিগকে বাস্তবিক অংশীদার ভাবিতেছ? নাকি অলীক কল্পনাপ্রসূত শব্দের বাহ্য অর্থে শরীক বলিতেছ। যদি কল্পিত শরীক বলিয়া থাক, তবে তো প্রকারান্তরে তোমরা নিজেরাই স্বীকার করিতেছ যে, ইহারা শরীক নহে। রহিল বাস্তব অংশীদার ভাবিবার কথা, তাহা তো প্রমাণিত হইয়াছে যে, খোদার কোন শরীক নাই। যুক্তি দ্বারা ও তাহাদের দাবি অসার বলিয়া প্রমাণিত হইয়াছে। (ব: কো:)
৩। বেহেশতের মেওয়া বেহেশতীরা খাইতেই উহার স্থান আবার পূর্ণ হইয়া যাইবে, কাজেই উহার শেষ নাই। আর বেহেশতে সূর্য না থাকিলেও উহাতে একঅপূর্ব স্নিগ্ধ আলো স্থায়ীভাবে বিরাজ করিবে। (ব: কো:)

وَالَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَفْرَحُونَ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ ۖ وَمِنَ الْأَحْزَابِ مَن يُنكِرُ بَعْضَهُ ۚ قُلْ إِنَّمَا أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ اللَّهَ وَلَا أُشْرِكَ بِهِ ۚ إِلَيْهِ أَدْعُو وَإِلَيْهِ مَآبِ

বাংলা অর্থ:
৩৬। আর যাহাদিগকে আমি কিতাব প্রদান করিয়াছি, তাহারা উহার (কোরআনের) প্রতি আনন্দিত হইয়াছে যাহা আপনার প্রতি নাযিল করা হইয়াছে, আর তাহাদের দলে কতিপয় এমন লোক রহিয়াছে যাহারা উহার কিছু অংশকে অস্বীকার করে আপনি বলুন আমার প্রতি কেবল এই আদেশ হইয়াছে যে, আমি যেন আল্লাহর এবাদত করি এবং কাহাকেও তাহার অংশী সাব্যস্ত না করি আমি আল্লাহরই দিকে আহবান করি, আর তাঁহারই দিকে আমাকে যাইতে হইবে।

وَكَذَ‌ٰلِكَ أَنزَلْنَاهُ حُكْمًا عَرَبِيًّا ۚ وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءَهُم بَعْدَمَا جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ مَا لَكَ مِنَ اللَّهِ مِن وَلِيٍّ وَلَا وَاقٍ

বাংলা অর্থ:
৩৭। আর এইরূপেই আমি ইহাকে অবতীণ করিয়াছি একটি বিশেষ বিধানরূপেই আরবী ভাষায় আর যদি আপনি তাহাদের প্রবৃত্তিজাত কল্পনাসমূহের অনুসরণ করিতে থাকেন আপনার নিকট জ্ঞান পৌছিবার পর, তবে আল্লাহর মুকাবেলায় আপনার না কোন সহায় হইবে, আর না কোন রক্ষাকারী ।

وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًا مِّن قَبْلِكَ وَجَعَلْنَا لَهُمْ أَزْوَاجًا وَذُرِّيَّةً ۚ وَمَا كَانَ لِرَسُولٍ أَن يَأْتِيَ بِآيَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ ۗ لِكُلِّ أَجَلٍ كِتَابٌ

বাংলা অর্থ:
৩৮। আর নিশ্চয়ই আমি আপনার পূর্বেও বহু পয়গম্বর প্রেরণ করিয়াছি এবং আমি তাহাদিগকে স্ত্রী এবং সন্তানাদিও দিয়াছি; আর ইহা কোন রাসূলের ক্ষমতাধীন নহে যে, একটি আয়াতও আল্লাহর আদেশ ব্যতীত আনিতে পারে; প্রত্যেক কালের জন্য বিশেষ আহকাম হয়।

يَمْحُو اللَّهُ مَا يَشَاءُ وَيُثْبِتُ ۖ وَعِندَهُ أُمُّ الْكِتَابِ

বাংলা অর্থ:
৩৯। আল্লাহ যেই হুকুমকে ইচ্ছা রহিত করেন এবং যাহাকে ইচ্ছা বহাল রাখেন, এবং মূল কিতাব তাহারই নিকট রহিয়াছে।

وَإِن مَّا نُرِيَنَّكَ بَعْضَ الَّذِي نَعِدُهُمْ أَوْ نَتَوَفَّيَنَّكَ فَإِنَّمَا عَلَيْكَ الْبَلَاغُ وَعَلَيْنَا الْحِسَابُ

বাংলা অর্থ:
৪০। আর আমি তাহাদের সহিত যাহার ওয়াদা করিতেছি, যদি উহার কিছুও আপনাকে দেখাইয়া দেই, কিংবা (তৎপূর্বে) আপনার মৃত্যু ঘটাই বস্তুত: আপনার যিম্মায় তো কেবল (হুকুম) পৌছানো, আর হিসাব লওয়া আমার কাজ।

সূরা রাদ বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। অর্থাৎ আপনি তাহাদিগকে বলিয়া দিন, আহকাম দ্বিবিধত, মৌলিক ও শাখাগত । মৌলিক বিষয়ে তোমাদের মতভেদ থাকিলে তাহা ভুল। কেননা, সমস্ত শরীঅতের মৌলিক বিষয় এক। আমি সেই মৌলিক বিষয়ের অনুসরণ করিতেই আদিষ্ট হইয়াছি। অর্থাৎ তাওহীদ, রিসালত ও পুনরুস্থল, এই তিনটি বিষয়ই ধর্মের মৌলিক বিষয়। ইহুদী, নাছারারা অবশ্য মোটামুটি ভাবে এই তিনটি বিষয় স্বীকার করে। (ব:কো:)
২। আরবী ভাষায় উল্লেখ দ্বারা বুঝা যায়, হুযূর (দ:) আরব দেশে আবিভূত হইয়াছিলেন বলিয়া কোরআন আরবীতে নাযিল হইয়াছে । প্রত্যেক নবীর প্রতি তদীয় ভাষাতেই কিতাব নাযিল হইয়াছে। (ব:কো:)
৩। ইহুদী নাছারারা হুযূরের প্রতি আক্রমণাত্নক উক্তিতে তাহার বহু বিবাহের উল্লেখ করিত আল্লাহ তা‘আলা এই আয়াাতে উহার জবাব দিতেছেন। (ব:কো:)

أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّا نَأْتِي الْأَرْضَ نَنقُصُهَا مِنْ أَطْرَافِهَا ۚ وَاللَّهُ يَحْكُمُ لَا مُعَقِّبَ لِحُكْمِهِ ۚ وَهُوَ سَرِيعُ الْحِسَابِ

বাংলা অর্থ:
৪১। তাহারা কি ইহা দেখে না যে, ভূমি-কে অনবরত চতুর্দিক হইতে কমাইয়া আনিতেছি; আর আল্লাহ্ আদেশ করেন, তাঁহার হুকুম টলাইবর কেহই নাই; এবং তিনি অতি ত্বরিত হিসা গ্রহণকারী।

وَقَدْ مَكَرَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ فَلِلَّهِ الْمَكْرُ جَمِيعًا ۖ يَعْلَمُ مَا تَكْسِبُ كُلُّ نَفْسٍ ۗ وَسَيَعْلَمُ الْكُفَّارُ لِمَنْ عُقْبَى الدَّارِ

বাংলা অর্থ:
৪২। আর তাহাদের পূর্ববতী লোকেরা (-ও) তদবীর করিয়াছিল, বস্তুত আসল তদবীর তো আল্ল্হারই; তিনি সকল বিষয় অবগত থাকেন প্রত্যেক ব্যক্তি যাহাকিছু করে আর এই কাফেররা অতি শীঘ্র জানিতে পারিবে যে, পরকালে শুভ পরিণাম কাহার জন্য রহিয়াছে।

وَيَقُولُ الَّذِينَ كَفَرُوا لَسْتَ مُرْسَلًا ۚ قُلْ كَفَىٰ بِاللَّهِ شَهِيدًا بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ وَمَنْ عِندَهُ عِلْمُ الْكِتَابِ

বাংলা অর্থ:
৪৩। আর এই কাফেররা এইরূপ বলিতেছে যে, আপনি রাসূল নহেন; আপনি বলিয়া দিন, আমার ও তোমাদের মধ্যস্থলে আল্লাহ তা’আলাই সাক্ষী হিসাবে যথেষ্ট, আর সেই ব্যক্তিই ও যাহার নিকট কিতাবের জ্ঞান আছে।

সূরা রাদ বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। এই কাফেরেরা যে কেবল হযরতের নির্যাতন এবং ইসলামের বিরুদ্ধাচরনের কাজে অনবরত লাগিয়া রহিয়াছে ইহাতে কোনই ফলোদয় হইবে না। কেননা, ইহাদের পূর্ববতী কাফেরেরাও সত্যের ও মধ্যপন্থীদের বিরুদ্ধাচরণে বহু তদবীর করিয়াছিল, কিন্তু তাহাদের কোন তদবীরই ফলপ্রসূ হয় নাই। আসল তদবীর তো আল্লাহরই হাতে আল্লাহর বিরুদ্ধে কোন তদবীর কার্যকারী হইবরা নহে। কাজেই এই কাফেরদের কুমতলব আল্লাহ তা’আলাই পূর্ণ হইতে দিবেন না । (ব:কো: )
২। আল্লাহ তা’আলা এই খানে হুযূরকে নুবুওয়াতের দুইটি দলীল বলিয়া দিলেন। একটি এই যে আল্লাহ আমাকে নুবুওয়াতের প্রমাণস্বরূপ মু’জেযাহ দান করিয়াছেন আর একটি এই যে, পূর্ববতী আসমানী কিতাবসমূহে আমার আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী রহিয়াছে । (ব: কো:)

নামকরণঃ

তের নম্বর আয়াতের (আরবী) বাক্যাংশের “আর্‌ রা’দ” শব্দটিকে এ সূরার নাম হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এ নামকরণের মানে এ নয় যে, এ সূরায় রা’দ অর্থাৎ মেঘগর্জনের বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বরং এটা শুধু আলামত হিসেবে একথা প্রকাশ করে যে, এ সূরায় “রাদ” উল্লেখিত হয়েছে বা “রা’দ”-এর কথা বলা হয়েছে।

নাযিলের সময়-কালঃ

৪ ও ৬ রুকূ’র বিষয়বস্তু সাক্ষ দিচ্ছে, এ সূরাটিও সূরা ইউনূস, হূদ ও আ’রাফের সমসময়ে নাযিল হয়। অর্থাৎ সক্কায় অবস্থানের শেষ যুগে। বর্ণনাভংগী থেকে পরিষ্কার প্রতীয়মান হচ্ছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাওয়াত শুরু করার পর দীর্ঘকাল অতিবাহিত হয়ে গেছে। বিরোধী পক্ষ তাঁকে লাঞ্ছিত করার এবং তাঁর মিশনকে ব্যর্থ করে দেবার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে থাকে। মুমিনরা বারবার এ আকাংখা পোষণ করতে থাকে, হায়! যদি কোন প্রকার অলৌকিক কান্ড-কারখানার মাধ্যমে এ লোকগুলোকে সত্য সরল পথে আনা যায়। অন্যদিকে আল্লাহ মুসলমানদেরকে এ মর্মে বুঝাচ্ছেন যে, ঈমানের পথ দেখাবার এ পদ্ধতি আমার এখানে প্রচলিত নেই আর যদি ইসলামের শত্রুদের রশি ঢিলে করে দেয়া হয়ে থাকে তাহলে এটা এমন কোন ব্যাপার নয় যার ফলে তোমরা ভয় পেয়ে যাবে। তারপর ৩১ আয়াত থেকে জানা যায়, বার বার কাফেরদের হঠকারিতার এমন প্রকাশ ঘটেছে যারপর ন্যায়সংগতভাবে একথা বলা যায় যে, যদি কবর থেকে মৃত ব্যক্তিরাও উঠে আসেন তাহলেও এরা মেনে নেবে না বরং এ ঘটনার কোন না কোন ব্যাখ্যা করে নেবে। এসব কথা থেকে অনুমান করা যায় যে, এ সূরাটি মক্কার শেষ যুগে নাযিল হয়ে থাকবে।

কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তুঃ

সূরার মূল বক্তব্য প্রথম আয়াতেই বলে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা কিছু পেশ করছেন তাই সত্য কিন্তু এ লোকেরা তা মেনে নিচ্ছে না, এটা এদের ভুল। এ বক্তব্যই সমগ্র ভাষণটির কেন্দ্রীয় বিষয়। এ প্রসংগে বার বার বিভিন্ন পদ্ধতিতে তাওহীদ, রিসালাত ও পরকালের সত্যতা প্রমাণ করা হয়েছে। এগুলোর প্রতি ঈমান আনার নৈতিক ও আধ্যাত্মিক ফায়দা বুঝানো হয়েছে। এগুলো অস্বীকার করার ক্ষতি জানিয়ে দেয়া হয়েছে। এ সংগে একথা মনের মধ্যে গেঁথে দেয়া হয়েছে যে, কুফরী আসলে পুরোপুরি একটি নির্বুদ্ধিতা ও মূর্খতা ছাড়া আর কিছুই নয়। তারপর এ সমগ্র বর্ণনাটির উদ্দেশ্য শুধুমাত্র বুদ্ধি-বিবেককে দীক্ষিত করা নয় বরং মনকে ঈমানের দিকে আকৃষ্ট করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য। তাই নিছক বুদ্ধিবৃত্তিক দলীল-প্রমাণ পেশ করেই শেষ করে দেয়া হয়নি, এসংগে এক একটি দলীল এ এক একটি প্রমাণ পেশ করার পর থেমে গিয়ে নানা প্রকার ভীতি প্রদর্শন, উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি এবং স্নেহপূর্ণ ও সহানুভূতিশীল উপদেশ প্রদানের মাধ্যমে অজ্ঞ লোকদের নিজেদের বিভ্রান্তিকর হঠকারিতা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

ভাষণের মাঝখানে বিভিন্ন জায়গায় বিরোধীদের আপত্তিসমূহের উল্লেখ না করেই তার জবাব দেয়া হয়েছে। মুহাম্মাদ (সাঃ) এর দাওয়াতের ব্যাপারে লোকদের মনে যেসব সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিল অথবা বিরোধীদের পক্ষ থেকে সৃষ্টি করা হচ্ছিল সেগুলো দূর করা হয়েছে। এ সংগে মুমিনরা কয়েক বছরের দীর্ঘ ও কঠিন সংগ্রামের কারণে ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত হয়ে পড়ছিল এবং অস্থির চিত্তে অদৃশ্য সাহায্যের প্রতীক্ষা করছিল, তাই তাদেরকে সান্ত্বনা দেয়া হয়েছে।

আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ

সুরা নং- ০১৩ : আর-রাদ

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

আরবি উচ্চারণ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

বাংলা অনুবাদ পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)।

المر تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ وَالَّذِي أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ الْحَقُّ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يُؤْمِنُونَ13.1

আরবি উচ্চারণ ১৩. ১। আলিফ্ লা-ম্ মী-ম্ র-; তিল্কা আ-ইয়াতুল কিতাব্; অল্লাযী য় উন্যিলা ইলাইকা র্মি রব্বিকাল্ হাক্বক্বু অলা-কিন্না আক্ছারন্না-সি লা-ইয়ুমিনূ ন্।

বাংলা অনুবাদ ১৩.১ আলিফ- লাম- মীম- রা; এগুলো কিতাবের আয়াত, আর তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার উপর যা কিছু নাযিল হয়েছে তা সত্য, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ ঈমান আনে না।

اللَّهُ الَّذِي رَفَعَ السَّمَاوَاتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِي لِأَجَلٍ مُسَمًّى يُدَبِّرُ الْأَمْرَ يُفَصِّلُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُمْ بِلِقَاءِ رَبِّكُمْ تُوقِنُونَ 13.2

আরবি উচ্চারণ ১৩. ২। আল্লা-হুল্লাযী রফা‘আস্ সামা-ওয়া-তি বিগইরি ‘আমাদিন্ তারাওনাহা- ছুম্মাস্ তাওয়া-‘আলাল্ ‘আরশি অসাখ্খরাশ্ শাম্সা অল্ ক্বর্মা; কুল্লুঁই ইয়াজুরী লিআজ্বালিম্ মুসাম্মা; ইয়ুদাব্বিরুল্ আম্র ইয়ুফাছ্ছিলুল্ আ-ইয়া-তি লা‘আল্লাকুম্ বিলিক্ব-য়ি রব্বিকুম্ তূক্বিনূন্।

বাংলা অনুবাদ ১৩.২ আল্লাহ, যিনি খুঁটি ছাড়া আসমানসমূহ উঁচু করেছেন যা তোমরা দেখছ। অতঃপর তিনি আরশে উঠেছেন এবং সূর্য ও চাঁদকে নিয়োজিত করেছেন। এর প্রত্যেকটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চলবে। তিনি সবকিছু পরিচালনা করেন। আয়াতসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করেন, যাতে তোমাদের রবের সাক্ষাতের ব্যাপারে তোমরা দৃঢ়বিশ্বাসী হতে পার।

وَهُوَ الَّذِي مَدَّ الْأَرْضَ وَجَعَلَ فِيهَا رَوَاسِيَ وَأَنْهَارًا وَمِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ جَعَلَ فِيهَا زَوْجَيْنِ اثْنَيْنِ يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ13.3

আরবি উচ্চারণ ১৩. ৩। অ হুঅল্লাযী মাদ্দাল্ র্আদ্বোয়া অজ্বা‘আলা ফীহা- রওয়া-সিয়া অ আন্হা-র-; অমিন্ কুল্লিছ্ ছামার-তি জ্বা‘আলা ফীহা-যাওজ্বাইনিছ্ নাইনি ইয়ুগ্শিল্ লাইলান্নাহার্-; ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-ইয়া-তিল লিক্বওমিঁ ইয়াতাফাক্কারূন্।

বাংলা অনুবাদ ১৩.৩ আর তিনিই যমীনকে বিস্তৃত করেছেন এবং তাতে সুদৃঢ় পর্বতমালা ও নদ-নদী স্থাপন করেছেন। আর প্রত্যেক প্রকারের ফল তিনি জোড়া জোড়া করে সৃষ্টি করেছেন। তিনি রাত দ্বারা দিনকে ঢেকে দেন। নিশ্চয় যে কওম চিন্তাভাবনা করে তাদের জন্য এতে নিদর্শনাবলী রয়েছে।

وَفِي الْأَرْضِ قِطَعٌ مُتَجَاوِرَاتٌ وَجَنَّاتٌ مِنْ أَعْنَابٍ وَزَرْعٌ وَنَخِيلٌ صِنْوَانٌ وَغَيْرُ صِنْوَانٍ يُسْقَى بِمَاءٍ وَاحِدٍ وَنُفَضِّلُ بَعْضَهَا عَلَى بَعْضٍ فِي الْأُكُلِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ13.4

আরবি উচ্চারণ ১৩. ৪। অফিল্ র্আদ্বি ক্বিত্বোয়া‘ঊম্ মুতাজ্বা-ওয়ির-তুঁও অজ্বান্নাতুম্ মিন্ আ’না-বিঁও ওয়া যার‘ঊওঁ অনাখীলুন্ ছিন্ওয়া-নুওঁ অ গইরু ছিনওয়া-নিইঁ ইউস্ক্ব-বিমা-ইঁও অ-হিদিন্ অনুফাদ্দি¦লু বা’দ্বোয়াহা-‘আলা-বা’দ্বিন্ ফিল্ উকুল্; ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-ইয়া-তিল্লিক্বওমিঁই ইয়া’ক্বিলূন্।

বাংলা অনুবাদ ১৩.৪ আর যমীনে আছে পরস্পর পাশাপাশি ভূখণ্ড, আঙ্গুর-বাগান, শস্যক্ষেত, খেজুর গাছ, যেগুলোর মধ্যে কিছু একই মূল থেকে উদগত আর কিছু ভিন্ন ভিন্ন মূল থেকে উদগত, যেগুলো একই পানি দ্বারা সেচ করা হয়, আর আমি খাওয়ার ক্ষেত্রে একটিকে অপরটির তুলনায় উৎকৃষ্ট করে দেই, এতে নিদর্শন রয়েছে ঐ কওমের জন্য যারা বুঝে।

وَإِنْ تَعْجَبْ فَعَجَبٌ قَوْلُهُمْ أَئِذَا كُنَّا تُرَابًا أَئِنَّا لَفِي خَلْقٍ جَدِيدٍ أُولَئِكَ الَّذِينَ كَفَرُوا بِرَبِّهِمْ وَأُولَئِكَ الْأَغْلَالُ فِي أَعْنَاقِهِمْ وَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ13.5

আরবি উচ্চারণ ১৩. ৫। অ ইন্ তা’জ্বাব ফা‘আজ্বাবুন্ ক্বওলুহুম্ আ ইযা-কুন্না-তুর-বান্ আ ইন্না-লাফী খল্ক্বিন্ জ্বাদীদ্; উলা-য়িকাল্লাযীনা কাফারূ বিরব্বীহিম্ অউলা-য়িকাল্ আগ্লা-লু ফী য় আ’না-ক্বিহিম্, অউলা-য়িকা আছ্হা-বু ন্না-রি হুম্ ফীহা-খা-লিদূন্।

বাংলা অনুবাদ ১৩.৫ আর যদি তুমি আশ্চর্য বোধ কর, তাহলে আশ্চর্যজনক হল তাদের এ বক্তব্য, ‘আমরা যখন মাটি হয়ে যাব, তখন কি আমরা নতুন সৃষ্টিতে পরিণত হব’? এরাই তারা, যারা তাদের রবের সাথে কুফরী করেছে, আর ওদের গলায় থাকবে শিকল এবং ওরা অগ্নিবাসী, তারা সেখানে স্থায়ী হবে।

وَيَسْتَعْجِلُونَكَ بِالسَّيِّئَةِ قَبْلَ الْحَسَنَةِ وَقَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِمُ الْمَثُلَاتُ وَإِنَّ رَبَّكَ لَذُو مَغْفِرَةٍ لِلنَّاسِ عَلَى ظُلْمِهِمْ وَإِنَّ رَبَّكَ لَشَدِيدُ الْعِقَابِ13.6

আরবি উচ্চারণ ১৩. ৬। অ ইয়াস্তা’জ্বিলূনাকা বিস্সাইয়িয়াতি ক্বব্লাল্ হাসানাতি অক্বদ খলাত্ মিন্ ক্বব্লিহিমুল্ মাছুলা-ত্;অ ইন্না রব্বাকা লাযূ মাগ্ফিরাতি ল্লিন্না-সি ‘আলা-জুল্মিহিম্ অইন্না রব্বাকা লাশাদীদুল্ ই’ক্বা-ব্।

বাংলা অনুবাদ ১৩.৬ আর তারা তোমার কাছে ভালোর পূর্বে মন্দের জন্য তাড়াহুড়া করে, অথচ তাদের পূর্বে অনেক (অনুরূপ লোকদের) আযাব গত হয়েছে। আর নিশ্চয় তোমার রব মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল তাদের যুলম সত্ত্বেও এবং নিশ্চয় তোমার রব কঠিন আযাবদাতা।

وَيَقُولُ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْلَا أُنْزِلَ عَلَيْهِ آيَةٌ مِنْ رَبِّهِ إِنَّمَا أَنْتَ مُنْذِرٌ وَلِكُلِّ قَوْمٍ هَادٍ 13.7

আরবি উচ্চারণ ১৩. ৭। অইয়াক্বুলুল্লাযীনা কাফারূ লাওলা য় উন্যিলা ‘আলাইহি আ-ইয়াতুম্ র্মি রব্বিহ্; ইন্নামা য় আন্তা মুন্যিরুঁও অলিকুল্লি ক্বওমিন্ হা-দ্।

বাংলা অনুবাদ ১৩.৭ আর যারা কুফরী করেছে, তারা বলে, ‘তার উপর তার রবের পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন নাযিল হয় না কেন’? তুমি তো কেবল সতর্ককারী, আর প্রত্যেক কওমের জন্য রয়েছে। হিদায়াতকারী।

اللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَحْمِلُ كُلُّ أُنْثَى وَمَا تَغِيضُ الْأَرْحَامُ وَمَا تَزْدَادُ وَكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَهُ بِمِقْدَارٍ13.8

আরবি উচ্চারণ ১৩. ৮। আল্লা-হু ইয়া’লামু মা-তাহ্মিলু কুল্লু উন্ছা-অমা-তাগীদ্বুল্ র্আহা-মু অমা-তায্দা-দ্; অ কুল্লু শাইয়িন্ ‘ইন্দাহূ বিমিক্বদার্-।

বাংলা অনুবাদ ১৩.৮ আল্লাহ জানেন যা প্রতিটি নারী গর্ভে ধারণ করে এবং গর্ভাশয়ে যা কমে ও বাড়ে। আর তাঁর নিকট প্রতিটি বস্তু নির্দিষ্ট পরিমাণে রয়েছে।

عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ الْكَبِيرُ الْمُتَعَالِ13.9

আরবি উচ্চারণ ১৩. ৯। ‘আ-লিমুল্ গইবি অশ্শাহাদাতিল্ কাবীরুল্ মুতা‘আল্।

বাংলা অনুবাদ ১৩.৯ তিনি গায়েব ও প্রকাশ্যের জ্ঞানী, মহান, সর্বোচ্চ।

سَوَاءٌ مِنْكُمْ مَنْ أَسَرَّ الْقَوْلَ وَمَنْ جَهَرَ بِهِ وَمَنْ هُوَ مُسْتَخْفٍ بِاللَّيْلِ وَسَارِبٌ بِالنَّهَارِ13.10

আরবি উচ্চারণ ১৩. ১০। সাওয়া-য়ুম্ মিন্কুম্ মান্ আর্সারল্ ক্বওলা অমান্ জ্বাহারা বিহী অমান্ হুঅ মুস্তাখ্ফিম্ বিল্লাইলি অসা-রিবুম্ বিন্নাহার্-।

বাংলা অনুবাদ ১৩.১০ তোমাদের মধ্যে কেউ কথা গোপন রাখুক বা প্রকাশ করুক। আর রাতে লুকিয়ে করুক বা দিনে প্রকাশ্যে করুক, সবই তাঁর নিকট সমান।

لَهُ مُعَقِّبَاتٌ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ يَحْفَظُونَهُ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّى يُغَيِّرُوا مَا بِأَنْفُسِهِمْ وَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِقَوْمٍ سُوءًا فَلَا مَرَدَّ لَهُ وَمَا لَهُمْ مِنْ دُونِهِ مِنْ وَالٍ 13.11

আরবি উচ্চারণ ১৩. ১১। লাহূ মুআ’ক্ব্ক্বিবা-তুম্ মিম্ বাইনি ইয়াদাইহি অ মিন্ খল্ফিহী ইয়াহ্ফাজূনাহূ মিন্ আম্রিল্লা-হ্; ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়ুগইয়্যিরু মা-বিক্বওমিন্ হাত্তা-ইয়ুগ্ইয়্যিরূ মা-বিআন্ফুসিহিম্; অ ইযা য় আরা-দাল্লা-হু বিক্বওমিন্ সূ য় য়ান্ ফালা-মারদ্দা লাহূ অমা-লাহুম্ মিন্ দূনিহী মিওঁ ওয়া-ল্।

বাংলা অনুবাদ ১৩.১১ মানুষের জন্য রয়েছে, সামনে ও পেছনে, একের পর এক আগমনকারী প্রহরী, যারা আল্লাহর নির্দেশে তাকে হেফাযত করে। নিশ্চয় আল্লাহ কোন কওমের অবস্থা ততক্ষণ পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে। আর যখন আল্লাহ কোন জাতির মন্দ চান, তখন তা প্রতিহত করা যায় না এবং তাদের জন্য তিনি ছাড়া কোন অভিভাবক নেই।

13.12 هُوَ الَّذِي يُرِيكُمُ الْبَرْقَ خَوْفًا وَطَمَعًا وَيُنْشِئُ السَّحَابَ الثِّقَالَ

আরবি উচ্চারণ ১৩. ১২। হুঅল্লাযী ইয়ুরীকুমুল্ র্বাক্ব খওফাঁও ওয়া ত্বমা‘আঁও অ ইয়ুন্শিয়ুস্ সাহা-বাছ্ ছিক্ব-ল্।

বাংলা অনুবাদ ১৩.১২ তিনিই ভয় ও আশা সঞ্চার করার জন্য তোমাদেরকে বিজলী দেখান এবং তিনি ভারী মেঘমালা সৃষ্টি করেন।

وَيُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ وَالْمَلَائِكَةُ مِنْ خِيفَتِهِ وَيُرْسِلُ الصَّوَاعِقَ فَيُصِيبُ بِهَا مَنْ يَشَاءُ وَهُمْ يُجَادِلُونَ فِي اللَّهِ وَهُوَ شَدِيدُ الْمِحَالِ13.13

আরবি উচ্চারণ ১৩. ১৩। অ ইয়ুসাব্বির্হু র’দু বিহাম্দিহী অল্মালা-য়িকাতু মিন্ খীফাতিহী অইর্য়ুসিলুস্ ছোয়াওয়া-‘ইক্বা ফাইয়ুছীবু বিহা-মাইঁ ইয়াশা-য়ু অ হুম্ ইয়ুজ্বা-দিলূনা ফিল্লা-হি অ হুঅ শাদীদুল্ মিহা-ল্।

বাংলা অনুবাদ ১৩.১৩ আর বজ্র তার প্রশংসায় তাসবীহ পাঠ করে এবং ফেরেশতারাও তার ভয়ে। আর তিনি গর্জনকারী বজ্র পাঠান। অতঃপর যাকে ইচ্ছা তা দ্বারা আঘাত করেন এবং তারা আল্লাহ সম্বন্ধে ঝগড়া করতে থাকে। আর তিনি শক্তিতে প্রবল, শাস্তিতে কঠোর।

لَهُ دَعْوَةُ الْحَقِّ وَالَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ لَا يَسْتَجِيبُونَ لَهُمْ بِشَيْءٍ إِلَّا كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ إِلَى الْمَاءِ لِيَبْلُغَ فَاهُ وَمَا هُوَ بِبَالِغِهِ وَمَا دُعَاءُ الْكَافِرِينَ إِلَّا فِي ضَلَالٍ 13.14

আরবি উচ্চারণ ১৩. ১৪। লাহূ দা’অতুল্ হাক্ব; অল্লাযীনা ইয়াদ্‘ঊনা মিন্ দূনিহী লা-ইয়াস্তাজ্বীবূনা লাহুম্ বিশাইয়িন্ ইল্লা-কাবা-সিত্বি কাফ্ফাইহি ইলাল্ মা-য়ি লিয়াব্লুগ ফা-হু অমা-হুওয়া বিবা-লিগিহ্; অমা-দু‘আ-য়ুল্ কা-ফিরীনা ইল্লা-ফী দ্বোয়ালা-ল্।

বাংলা অনুবাদ ১৩.১৪ সত্যের আহ্বান তাঁরই, আর যারা তাকে ছাড়া অন্যদেরকে ডাকে, তারা তাদের ডাকে সামান্যও সাড়া দিতে পারে না, বরং (তাদের দৃষ্টান্ত) ঐ ব্যক্তির মত, যে পানির দিকে তার দু’হাত বাড়িয়ে দেয় যেন তা তার মুখে পৌঁছে অথচ তা তার কাছে পৌঁছবার নয়। আর কাফেরদের ডাক তো শুধু ভ্রষ্টতায় পর্যবসিত হয়।

وَلِلَّهِ يَسْجُدُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا وَظِلَالُهُمْ بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ13.15

আরবি উচ্চারণ ১৩. ১৫। অ লিল্লা-হি ইয়াস্জদু মান্ ফিস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বি ত্বোয়াওআঁও অর্কাহাঁও অ জিলা-লুহুম্ বিল্ গুদুওয়্যি অল্ আ-ছোয়া-ল্।

বাংলা অনুবাদ ১৩.১৫ আর আল্লাহর জন্যই আসমানসমূহ ও যমীনের সবকিছু অনুগত ও বাধ্য হয়ে সিজদা করে এবং সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের ছায়াগুলোও।

قُلْ مَنْ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ قُلِ اللَّهُ قُلْ أَفَاتَّخَذْتُمْ مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ لَا يَمْلِكُونَ لِأَنْفُسِهِمْ نَفْعًا وَلَا ضَرًّا قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الْأَعْمَى وَالْبَصِيرُ أَمْ هَلْ تَسْتَوِي الظُّلُمَاتُ وَالنُّورُ أَمْ جَعَلُوا لِلَّهِ شُرَكَاءَ خَلَقُوا كَخَلْقِهِ فَتَشَابَهَ الْخَلْقُ عَلَيْهِمْ قُلِ اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ13.16

আরবি উচ্চারণ ১৩. ১৬। ক্বুল্ র্মা রব্বুস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্ব্; ক্বুলিল্লা-হ্; ক্বুল্ আফাত্তাখায্তুম্ মিন্ দূনিহী য় আউলিয়া-য়া লা-ইয়াম্লিকূনা লিআন্ফুসিহিম্ নাফ্ ‘আও অলা- দ্বোর্য়ার-;ক্বুল্ হাল্ ইয়াস্তাওয়িল্ আ’মা-অল্ বাছীরু আম্ হাল্ তাস্তাওয়িজ্ জুলুমা-তু অন্নূরু আম্ জ্বা‘আলূ লিল্লা-হি শুরাকা-য়া খলাক্বুকাখল্ক্বিহী ফাতাশা-বাহাল্ খল্ক্ব ‘আইহিম্ ক্বুলিল্লা-হু খ-লিক্বু কুল্লি শাইয়িঁও অহুঅল্ ওয়া-হিদুল্ ক্বর্হ্হা।

বাংলা অনুবাদ ১৩.১৬ বল, ‘আসমানসমূহ ও যমীনের রব কে’? বল, ‘আল্লাহ’। তুমি বল, ‘তোমরা কি তাঁকে ছাড়া এমন কিছুকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করেছ, যারা তাদের নিজদের কোন উপকার অথবা অপকারের মালিক না’? বল, ‘অন্ধ ও দৃষ্টিমান ব্যক্তি কি সমান হতে পারে? নাকি অন্ধকার ও আলো সমান হতে পারে? নাকি তারা আল্লাহর জন্য এমন কতগুলো শরীক নির্ধারণ করেছে, যেগুলো তাঁর সৃষ্টির তুল্য কিছু সৃষ্টি করেছে, ফলে তাদের নিকট সৃষ্টির বিষয়টি একরকম মনে হয়েছে’? বল, ‘আল্লাহই সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা এবং তিনি এক, পরাক্রমশালী’।

أَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَسَالَتْ أَوْدِيَةٌ بِقَدَرِهَا فَسَالَتْ أَوْدِيَةٌ بِقَدَرِهَا فَاحْتَمَلَ السَّيْلُ زَبَدًا رَابِيًا وَمِمَّا يُوقِدُونَ عَلَيْهِ فِي النَّارِ ابْتِغَاءَ حِلْيَةٍ أَوْ مَتَاعٍ زَبَدٌ مِثْلُهُ كَذَلِكَ يَضْرِبُ اللَّهُ الْحَقَّ وَالْبَاطِلَ فَأَمَّا الزَّبَدُ فَيَذْهَبُ جُفَاءً وَأَمَّا مَا يَنْفَعُ النَّاسَ فَيَمْكُثُ فِي الْأَرْضِ كَذَلِكَ يَضْرِبُ اللَّهُ الْأَمْثَالَ13.17

আরবি উচ্চারণ ১৩. ১৭। আন্যালা মিনাস্সামা-য়ি মা-য়ান, ফাসা-লাত্ আও দিয়াতুম্ বি ক্বদারিহা- ফাহতামালাস্ সাইলু যাবার্দা র-বিয়া-; অমিম্মা-ইয়ূক্বিদূনা ‘আলাইহি ফিন্না-রিব্ তিগ-য়া হিল্ইয়াতিন্ আও মাতা-‘ইন্ যাবাদুম্ মিছ্লুহূ কাযা-লিকা ইয়াদ্রিবুল্লা-হুল্ হাক্বক্ব অল্ বা-ত্বিল্; ফাআম্মায্ যাবাদু ফাইয়ায্হাবু জ্বুফা-য়ান্ অআম্মা-মা-ইয়ান্ফা‘উন্না-সা ফাইয়াম্কুছু ফিল্ র্আদ্ব্; কাযা-লিকা ইয়াদ্ব রিবুল্লা-হুল্ আম্ছা-ল্।

বাংলা অনুবাদ ১৩.১৭ তিনি আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন, এতে উপত্যকাগুলো তাদের পরিমাণ অনুসারে প্লাবিত হয়, ফলে প্লাবন উপরস্থিত ফেনা বহন করে নিয়ে যায়। আর অলংকার ও তৈজসপত্র তৈরীর উদ্দেশ্যে তারা আগুনে যা কিছু উত্তপ্ত করে তাতেও অনুরূপ ফেনা হয়। এমনিভাবে আল্লাহ হক ও বাতিলের দৃষ্টান্ত দেন। অতঃপর ফেনাগুলো নিঃশেষ হয়ে যায়, আর যা মানুষের উপকার করে, তা যমীনে থেকে যায়। এমনিভাবেই আল্লাহ দৃষ্টান্তসমূহ পেশ করে থাকেন।

لِلَّذِينَ اسْتَجَابُوا لِرَبِّهِمُ الْحُسْنَى وَالَّذِينَ لَمْ يَسْتَجِيبُوا لَهُ لَوْ أَنَّ لَهُمْ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا وَمِثْلَهُ مَعَهُ لَافْتَدَوْا بِهِ أُولَئِكَ لَهُمْ سُوءُ الْحِسَابِ وَمَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ الْمِهَادُ13.18

আরবি উচ্চারণ ১৩. ১৮। লিল্লাযী নাস্ তাজ্বা-বূ লিরব্বী হিমুল্ হুস্না-; অল্লাযীনা লাম্ ইাস্তাজ্বীবূ লাহূ লাও আন্না লাহুম্ মা-ফিল্ র্আদ্বি জ্বামীআঁও অমিছ্লাহূ মা‘আহূ লাফ্তাদাঁও বিহ্; উলা-য়িকা লাহুম্ সূ-য়ুল্ হিসা-ব্; অমাওয়া-হুম্ জ্বাহান্নাম্; অবিসাল্ মিহা-দ্।

বাংলা অনুবাদ ১৩.১৮ যারা তাদের রবের ডাকে সাড়া দেয়, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান। আর যারা তাঁর ডাকে সাড়া দেয়নি, যদি তারা যমীনে যা আছে তার সবকিছু ও এর সমপরিমাণের মালিক হয়ে যায়, তাহলে তারা তা মুক্তিপণস্বরূপ অবশ্যই দিয়ে দিত। তাদের জন্য রয়েছে মন্দ হিসাব এবং তাদের আবাস জাহান্নাম, আর তা নিকৃষ্টতম শয্যাস্থল।

أَفَمَنْ يَعْلَمُ أَنَّمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ الْحَقُّ كَمَنْ هُوَ أَعْمَى إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُولُو الْأَلْبَابِ13.19

আরবি উচ্চারণ ১৩. ১৯। আফা মাইঁ ইয়া’লামু আন্নামা য় উন্যিলা ইলাইকা র্মি রব্বিকাল্ হাক্ব্কু কামান্ হুঅ আ’মা-; ইন্নামা-ইয়াতাযাক্কারু উলুল্ আল্বা-ব্।

বাংলা অনুবাদ ১৩.১৯ যে ব্যক্তি জানে তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে, তা সত্য, সে কি তার মত, যে অন্ধ? বুদ্ধিমানরাই শুধু উপদেশ গ্রহণ করে।

الَّذِينَ يُوفُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَلَا يَنْقُضُونَ الْمِيثَاقَ13.20

আরবি উচ্চারণ ১৩. ২০। আল্লাযীনা ইয়ূফূনা বিআ’হ্দিল্লা-হি অলা-ইয়ান্কদ্বনাল্ মীছা-ক্ব।

বাংলা অনুবাদ ১৩.২০ যারা আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ করে এবং প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করে না।

وَالَّذِينَ يَصِلُونَ مَا أَمَرَ اللَّهُ بِهِ أَنْ يُوصَلَ وَيَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ وَيَخَافُونَ سُوءَ الْحِسَابِ 13.21

আরবি উচ্চারণ ১৩. ২১। অল্লাযীনা ইয়াছিলূনা মা য় আমারাল্লা-হু বিহী য় আইঁ ইয়ূছলা অ ইয়াখ্ শাওনা রব্বাহুম্ অ ইয়াখা-ফূনা সু-য়াল্ হিসা-ব্।

বাংলা অনুবাদ ১৩.২১ আর আল্লাহ যে সম্পর্ক অটুট রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, যারা তা অটুট রাখে এবং তাদের রবকে ভয় করে, আর মন্দ হিসাবের আশঙ্কা করে।

وَالَّذِينَ صَبَرُوا ابْتِغَاءَ وَجْهِ رَبِّهِمْ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَأَنْفَقُوا مِمَّا رَزَقْنَاهُمْ سِرًّا وَعَلَانِيَةً وَيَدْرَءُونَ بِالْحَسَنَةِ السَّيِّئَةَ أُولَئِكَ لَهُمْ عُقْبَى الدَّارِ13.22

আরবি উচ্চারণ ১৩. ২২। অ ল্লাযীনা ছোয়াবারুব্ তিগা-য়া অজ্ব হি রব্বিহিম্ অ আক্ব-মুছ্ ছলা-তা অআন্ফাক্বু মিম্মা- রযাক্বনা-হুম্ র্সিরাঁও অ‘আলা-নিয়াতাঁও অইয়াদ্রয়ূনা বিল্ হাসানাতিস্ সাইয়িয়াতা উলা-য়িকা লাহুম্ ‘উক্ববাদ্দার্-।

বাংলা অনুবাদ ১৩.২২ যারা তাদের রবের সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে সবর করে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদের যে রিয্ক প্রদান করেছি, তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে এবং ভাল কাজের মাধ্যমে মন্দকে দূর করে, তাদের জন্যই রয়েছে আখিরাতের শুভ পরিণাম।

جَنَّاتُ عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا وَمَنْ صَلَحَ مِنْ آبَائِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ وَالْمَلَائِكَةُ يَدْخُلُونَ عَلَيْهِمْ مِنْ كُلِّ بَابٍ13.23

আরবি উচ্চারণ ১৩. ২৩। জান্না-তু ‘আদ্নিই ইয়াদ্খুলূনাহা-অমান্ ছোয়ালাহা মিন্আ-বা-য়িহিম্ অ আয্ওয়া-জ্বিহিম্ অ র্যুরিয়্যা-তিহিম্ অল্ মালা-য়িকাতু ইয়াদ্খুলূনা ‘আলাইহিম্ মিন্ কুল্লি বা-ব্।

বাংলা অনুবাদ ১৩.২৩ স্থায়ী জান্নাতসমূহ, যাতে তারা এবং তাদের পিতৃপুরুষগণ, তাদের স্ত্রীগণ ও তাদের সন্তানদের মধ্যে যারা সৎ ছিল তারা প্রবেশ করবে। আর ফেরেশতারা প্রতিটি দরজা দিয়ে তাদের নিকট প্রবেশ করবে।

سَلَامٌ عَلَيْكُمْ بِمَا صَبَرْتُمْ فَنِعْمَ عُقْبَى الدَّارِ13.24

আরবি উচ্চারণ ১৩. ২৪। সালা-মুন্ ‘আলাইকুম্ বিমা-ছোয়ার্বাতুম্ ফানি’মা ‘উক্ববাদ্দার্-।

বাংলা অনুবাদ ১৩.২৪ (আর বলবে) ‘শান্তি তোমাদের উপর, কারণ তোমরা সবর করেছ, আর আখিরাতের এ পরিণাম কতই না উত্তম’।

وَالَّذِينَ يَنْقُضُونَ عَهْدَ اللَّهِ مِنْ بَعْدِ مِيثَاقِهِ وَيَقْطَعُونَ مَا أَمَرَ اللَّهُ بِهِ أَنْ يُوصَلَ وَيُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ وَيُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ أُولَئِكَ لَهُمُ اللَّعْنَةُ وَلَهُمْ سُوءُ الدَّارِ13.25

আরবি উচ্চারণ ১৩. ২৫। অল্লাযীনা ইয়ান্কুদ্বুনা ‘আহ্দাল্লা-হি মিম্ বা’দি মীছা-ক্বিহী অইয়াক্বত‘¡ঊনা মা য় আমারল্লা-হু বিহী য় আঁই ইয়ূছলা অ ইয়ুফ্সিদূনা ফিল্ র্আদ্বি উলা-য়িকা লাহুমুল্লা’নাতু অলাহুম্ সূ-য়ুদ্দার্-।

বাংলা অনুবাদ ১৩.২৫ আর যারা আল্লাহর সাথে দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করে এবং আল্লাহ যে সম্পর্ক অটুট রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তা ছিন্ন করে এবং যমীনে ফাসাদ সৃষ্টি করে, তাদের জন্যই লা‘নত আর তাদের জন্যই রয়েছ আখিরাতের মন্দ আবাস।

اللَّهُ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَقْدِرُ وَفَرِحُوا بِالْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا فِي الْآخِرَةِ إِلَّا مَتَاعٌ13.26

আরবি উচ্চারণ ১৩. ২৬। আল্লা-হু ইয়াবসুত্বর্ রিয্ক্ব লিমাইঁ ইয়াশা-য়ু অইয়াক্বর্ দি; অফারিহূ বিল্ হাইয়া-তিদ্ দুন্ইয়া-অমাল্ হাইয়া-তুদ্দুন্ইয়া-ফিল্ আ-খিরতি ইল্লা-মাতা’।

বাংলা অনুবাদ ১৩.২৬ আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা করেন রিযক বাড়িয়ে দেন এবং সঙ্কুচিত করেন। আর তারা দুনিয়ার জীবন নিয়ে উৎফুল্লতায় আছে, অথচ আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবন খুবই নগণ্য।

وَيَقُولُ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْلَا أُنْزِلَ عَلَيْهِ آيَةٌ مِنْ رَبِّهِ قُلْ إِنَّ اللَّهَ يُضِلُّ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي إِلَيْهِ مَنْ أَنَابَ13.27

আরবি উচ্চারণ ১৩. ২৭। অইয়াক্বুলুল্লাযীনা কাফারূ লাওলা য় উন্যিলা ‘আলাইহি আ-ইয়াতুম্ র্মি রব্বিহ্; ক্বুল্ ইন্নাল্লা-হা ইয়ুদিল্লু মাইঁ ইয়াশা-য়ু অইয়াহ্দী য় ইলাইহি মান্ আনা-ব্।

বাংলা অনুবাদ ১৩.২৭ আর যারা কুফরী করেছে, তারা বলে, ‘তার নিকট তার রবের পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন কেন নাযিল হয় না’? বল, ‘নিশ্চয় আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যে তাঁর অভিমুখী হয়, তাকে তিনি তাঁর দিকে পথ দেখান’।

الَّذِينَ آمَنُوا وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُمْ بِذِكْرِ اللَّهِ أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ 13.28

আরবি উচ্চারণ ১৩. ২৮। আল্লাযীনা আ-মানূ অতাত্বমায়িন্ন ক্বুলূবুহুম্ বিযিক্রিল্লা-হ্; আলা-বিযিক্রিল্লা-হি তাত্ব মায়িন্ন ল্ ক্বুলূব্।

বাংলা অনুবাদ ১৩.২৮ ‘যারা ঈমান আনে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের অন্তর প্রশান্ত হয়; জেনে রাখ, আল্লাহর স্মরণ দ্বারাই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়’।

الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ طُوبَى لَهُمْ وَحُسْنُ مَآبٍ13.29

আরবি উচ্চারণ ১৩.২৯। আল্লাযীনা আ-মানূ অ ‘আমিলুছ্ ছোয়া-লিহাতি ত্বু বা-লাহুম্ অহুসনু মাআ-ব্।

বাংলা অনুবাদ ১৩.২৯ ‘যারা ঈমান আনে এবং নেক আমল করে, তাদের জন্য রয়েছে স্বাচ্ছন্দ ও সুন্দর প্রত্যাবর্তনস্থল’।

كَذَلِكَ أَرْسَلْنَاكَ فِي أُمَّةٍ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهَا أُمَمٌ لِتَتْلُوَ عَلَيْهِمُ الَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَهُمْ يَكْفُرُونَ بِالرَّحْمَنِ قُلْ هُوَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ مَتَابِ13.30

আরবি উচ্চারণ ১৩. ৩০। কাযা-লিকা র্আসাল্না-কা ফী য় উম্মাতিন্ ক্বদ্ খলাত্ মিন্ ক্বব্লিহা য় উমামুল্ লিতাত্লুওয়া- ‘আলাইহিমুল্লাযী য় আওহাইনা য় ইলাইকা অহুম্ ইয়াক্ফুরূনা র্বিরহ্মা-ন্; ক্বুল্ হুঅ রব্বী লা য় ইলা-হা ইল্লা- হুঅ ‘আলাইহি তাওয়াক্কাল্তু অ ইলাইহি মাতা-ব্।

বাংলা অনুবাদ ১৩.৩০ এমনিভাবে আমি তোমাকে পাঠিয়েছি এমন এক জাতির নিকট, যার পূর্বে অনেক জাতি গত হয়েছে, যেন আমি তোমার প্রতি যে ওহী প্রেরণ করেছি, তা তাদের নিকট তিলাওয়াত কর। অথচ তারা রহমানকে অস্বীকার করে। বল, ‘তিনি আমার রব, তিনি ছাড়া আর কোন (সত্য) ইলাহ নেই, তাঁরই উপর আমি তাওয়াক্কুল করেছি এবং তাঁরই দিকে আমার প্রত্যাবর্তন’।

وَلَوْ أَنَّ قُرْآنًا سُيِّرَتْ بِهِ الْجِبَالُ أَوْ قُطِّعَتْ بِهِ الْأَرْضُ أَوْ كُلِّمَ بِهِ الْمَوْتَى بَلْ لِلَّهِ الْأَمْرُ جَمِيعًا أَفَلَمْ يَيْأَسِ الَّذِينَ آمَنُوا أَنْ لَوْ يَشَاءُ اللَّهُ لَهَدَى النَّاسَ جَمِيعًا وَلَا يَزَالُ الَّذِينَ كَفَرُوا تُصِيبُهُمْ بِمَا صَنَعُوا قَارِعَةٌ أَوْ تَحُلُّ قَرِيبًا مِنْ دَارِهِمْ حَتَّى يَأْتِيَ وَعْدُ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ لَا يُخْلِفُ الْمِيعَادَ13.31

আরবি উচ্চারণ ১৩. ৩১। অলাও আন্না ক্বর্আ-নান্ সুইয়্যিরাত্ বিহিল্ জ্বিবালু আও ক্বুত্ত্বিআ’ত্ বিহিল্ র্আদ্বু আও কুল্লিমা বিহিল্ মাওতা-; বাল্ লিল্লা-হিল্ আম্রু জ্বামী‘আ- আফালাম্ ইয়াইয়াসিল্লাযীনা আ-মানূ য় আল্লাও ইয়াশা-য়ুল্লা-হু লাহাদান না-সা জ্বামীআ’-; অলা-ইয়াযা-লুল্লাযীনা কাফারূ তুছীবুহুম্ বিমা-ছোয়ানা‘ঊক্ব-রি‘আতুন্ আও তাহুল্ল ক্বরীবাম্ মিন্ দা-রিহিম্ হাত্তা-ইয়াতিয়া ওয়া’দুল্লা-হ্; ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়ুখ্লিফুল্ মী‘আ-দ্।

বাংলা অনুবাদ ১৩.৩১ আর যদি এমন কোন কুরআন হত, যার দ্বারা পাহাড়সমূহকে চলমান করা যেত অথবা যমীনকে টুকরো-টুকরো করা যেত অথবা তার দ্বারা মৃতকে কথা বলানো যেত (তবে সেটা এই কুরআনই হত, আর তারা ঈমান আনত না।) বরং সব সিদ্ধান্ত আল্লাহরই। যারা ঈমান এনেছে, তারা কি (ওদের ঈমানের ব্যাপারে) নিরাশ হয়নি এবং তারা জানে যে, আল্লাহ ইচ্ছা করলে সমগ্র মানুষকে হিদায়াত দান করতেন? আর যারা কুফরী করে, তাদের কর্মের দরুন সর্বদা তাদের বিপদ ঘটতে থাকবে অথবা তাদের আবাসের আশপাশে বিপদ আপতিত হতে থাকবে, অবশেষে আসবে আল্লাহর ওয়াদা। নিশ্চয় আল্লাহ প্রতিশ্র“তির ব্যতিক্রম করেন না।

وَلَقَدِ اسْتُهْزِئَ بِرُسُلٍ مِنْ قَبْلِكَ فَأَمْلَيْتُ لِلَّذِينَ كَفَرُوا ثُمَّ أَخَذْتُهُمْ فَكَيْفَ كَانَ عِقَابِ13.32

আরবি উচ্চারণ ১৩. ৩২। অ লাক্বদিস্ তুহ্যিয়া বিরুসুলিম্ মিন্ ক্বব্লিকা ফাআম্লাইতু লিল্লাযীনা কাফারূ ছুম্মা আখায্তুহুম্ ফাকাইফা কা-না ই’ক্ব -ব্।

বাংলা অনুবাদ ১৩.৩২ আর অবশ্যই তোমার পূর্বে রাসূলদের নিয়ে উপহাস করা হয়েছে। অতঃপর যারা কুফরী করেছে, আমি তাদেরকে অবকাশ দিয়েছি, তারপর আমি তাদেরকে পাকড়াও করেছি। অতএব, কেমন ছিল আমার আযাব!

أَفَمَنْ هُوَ قَائِمٌ عَلَى كُلِّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ وَجَعَلُوا لِلَّهِ شُرَكَاءَ قُلْ سَمُّوهُمْ أَمْ تُنَبِّئُونَهُ بِمَا لَا يَعْلَمُ فِي الْأَرْضِ أَمْ بِظَاهِرٍ مِنَ الْقَوْلِ بَلْ زُيِّنَ لِلَّذِينَ كَفَرُوا مَكْرُهُمْ وَصُدُّوا عَنِ السَّبِيلِ وَمَنْ يُضْلِلِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ هَادٍ13.33

আরবি উচ্চারণ ১৩. ৩৩। আফামান্ হুঅ ক্ব-য়িমুন্ ‘আলা-কুল্লি নাফ্সিম্ বিমা-ক্বসাবাত্ অজ্বা‘আলূ লিল্লা-হি শুরাকা-য়া ক্বুল্ সাম্ম হুম্; আম্ তুনাব্বিয়ূনাহূ বিমা-লা-ইয়া’লামু ফিল্ র্আদ্বি আম্ বিজোয়া-হিরিম্ মিনাল্ ক্বওল্; বাল্ যুইয়্যিনা লিল্লাযীনা কাফারূ মাক্রুহুম্ অছুদ্দূ ‘আনিস্ সাবীল্; অমাইঁ ইয়ুদ্লিলিল্লা-হু ফামা-লাহূ মিন্ হা-দ্।

বাংলা অনুবাদ ১৩.৩৩ তবে কি প্রতিটি নাফ্স যা উপার্জন করে যিনি তার দায়িত্বশীল (তিনিই ইবাদাতের অধিক উপযুক্ত, নাকি এই শরীকগুলো?) এতদসত্ত্বেও তারা আল্লাহর সাথে অনেক শরীক সাব্যস্ত করেছে। বল, ‘তোমরা এদের পরিচয় দাও’। নাকি তোমরা তাকে যমীনের এমন কিছু জানাবে যে ব্যাপারে তিনি জানেন না? নাকি তোমরা ভাসাভাসা কথা বলছ? বরং যারা কুফরী করেছে তাদের নিকট তাদের ষড়যন্ত্রকে শোভিত করা হয়েছে এবং তারা সরল পথ হতে বাধা প্রদান করেছে। আর আল্লাহ যাকে পথহারা করেন, তার কোন হিদায়াতকারী নেই।

لَهُمْ عَذَابٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَلَعَذَابُ الْآخِرَةِ أَشَقُّ وَمَا لَهُمْ مِنَ اللَّهِ مِنْ وَاقٍ13.34

আরবি উচ্চারণ ১৩. ৩৪। লাহুম্ ‘আযা-বুন্ ফিল্ হাইয়া-তিদ্ দুনইয়া-অলা ‘আযা-বুল্ আ-খিরতি আশাক্বক্বু অমা-লাহুম্ মিনাল্লা-হি মিঁও ওয়া-ক্ব।

বাংলা অনুবাদ ১৩.৩৪ তাদের জন্যই রয়েছে দুনিয়ার জীবনে আযাব, আর আখিরাতের আযাব তো আরো কঠিন। আল্লাহর আযাব থেকে তাদের কোন রক্ষাকারী নেই।

مَثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ أُكُلُهَا دَائِمٌ وَظِلُّهَا تِلْكَ عُقْبَى الَّذِينَ اتَّقَوْا وَعُقْبَى الْكَافِرِينَ النَّارُ13.35

আরবি উচ্চারণ ১৩. ৩৫। মাছালুল্ জান্নাতি ল্লাতী উ‘ইদাল্ মুত্তাক্বুন্; তাজ্ব রী মিন্ তাহ্তিহাল্ আনহার্-; উকুলুহা-দা-য়িমুওঁ অজিল্লুহা-; তিল্কা ‘উক্ববাল্ লাযীনাত্তাক্বও অ‘উক্ববাল্ কা-ফিরীনান্ নার্-।

বাংলা অনুবাদ ১৩.৩৫ মুত্তাকীদের যে জান্নাতের প্রতিশ্র“তি দেয়া হয়েছে, সেটির দৃষ্টান্ত এরূপ, তার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত। তার খাদ্যসামগ্রী ও তার ছায়া সার্বক্ষণিক। যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে, এটি তাদের শুভ পরিণাম আর কাফিরদের পরিণাম আগুন।

وَالَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَفْرَحُونَ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ وَمِنَ الْأَحْزَابِ مَنْ يُنْكِرُ بَعْضَهُ قُلْ إِنَّمَا أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ اللَّهَ وَلَا أُشْرِكَ بِهِ إِلَيْهِ أَدْعُو وَإِلَيْهِ مَآبِ 13.36

আরবি উচ্চারণ ১৩.৩৬। অল্লাযীনা আ-তাইনা-হুমুল্ কিতা-বা ইয়াফ্রাহূনা বিমা য় উন্যিলা ইলাইকা অ মিনাল্ আহ্যা-বি মাইঁ ইয়ুন্কিরু বা’দ্বোয়াহ্; ক্বুল্ ইন্নামা য় উর্মিতু আন্ আ’বুদাল্লা-হা অলা য় উশ্রিকা বিহী ইলাইহি আদ্‘ঊঅইলাইহি মাআ-ব্।

বাংলা অনুবাদ ১৩.৩৬ আর আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছি, তোমার উপর যা নাযিল হয়, তাতে তারা উৎফুল্ল হয়। আর দলগুলোর মধ্যে কেউ কেউ এর কিছু অংশকে অস্বীকার করে। বল, ‘আমাকে কেবল আদেশ দেয়া হয়েছে, যেন আমি আল্লাহর ইবাদাত করি এবং তাঁর সাথে শরীক না করি। আমি তাঁরই দিকে দাওয়াত দেই এবং তাঁরই নিকট আমার প্রত্যাবর্তনস্থল’।

وَكَذَلِكَ أَنْزَلْنَاهُ حُكْمًا عَرَبِيًّا وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءَهُمْ بَعْدَمَا جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ مَا لَكَ مِنَ اللَّهِ مِنْ وَلِيٍّ وَلَا وَاقٍ13.37

আরবি উচ্চারণ ১৩. ৩৭। অ কাযা-লিকা আন্যাল্না-হু হুক্মান্ ‘আরাবিয়্যা-; অ লায়িনিত্তাবা’তা আহ্ওয়া য় হুম্ বা’দা মা-জ্বা-কা মিনাল্ ‘ইল্মি মা-লাকা মিনাল্লা-হি মিঁও অলিয়্যিঁও অলা-ওয়া-ক্ব।

বাংলা অনুবাদ ১৩.৩৭ আর এভাবেই আমি কুরআনকে বিধানস্বরূপ আরবীতে নাযিল করেছি। তোমার নিকট জ্ঞান পৌঁছার পরও যদি তুমি তাদের খেয়াল খুশির অনুসরণ কর, তবে আল্লাহ ছাড়া তোমার কোন অভিভাবক ও রক্ষাকারী নেই।

وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًا مِنْ قَبْلِكَ وَجَعَلْنَا لَهُمْ أَزْوَاجًا وَذُرِّيَّةً وَمَا كَانَ لِرَسُولٍ أَنْ يَأْتِيَ بِآيَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ لِكُلِّ أَجَلٍ كِتَابٌ13.38

আরবি উচ্চারণ ১৩.৩৮। অ লাক্বদ্ র্আসালনা- রুসুলাম্ মিন্ ক্বব্লিকা অজ্বা‘আল্না-লাহুম্ আয্ওয়া-জ্বাঁও অর্যুরিয়্যাহ্;অমা-কা-না লি রসূলিন্ আইঁ ইয়াতিয়া বিআ-ইয়াতিন্ ইল্লা-বিইয্নিল্লা-হ্; লিকুল্লি আজ্বালিন্ কিতা-ব্।

বাংলা অনুবাদ ১৩.৩৮ আর অবশ্যই তোমার পূর্বে আমি রাসূলদের প্রেরণ করেছি এবং তাদেরকে দিয়েছি স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি। আর কোন রাসূলের জন্য এটা সম্ভব নয় যে, আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোন নিদর্শন নিয়ে আসবে। প্রতিটি সুনির্দিষ্ট সময়ের জন্য রয়েছে লিপিবদ্ধ বিধান।

يَمْحُوا اللَّهُ مَا يَشَاءُ وَيُثْبِتُ وَعِنْدَهُ أُمُّ الْكِتَابِ13.39

আরবি উচ্চারণ ১৩. ৩৯। ইয়াম্হুল্লা-হু মা-ইয়াশা-য়ু অ ইয়ুছ্বিতু অ ‘ইন্দাহূ য় উম্মুল কিতা-ব্।

বাংলা অনুবাদ ১৩.৩৯ আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন মিটিয়ে দেন এবং যা ইচ্ছা করেন স্থির রাখেন, আর তাঁর কাছেই রয়েছে মূল কিতাব।

وَإِنْ مَا نُرِيَنَّكَ بَعْضَ الَّذِي نَعِدُهُمْ أَوْ نَتَوَفَّيَنَّكَ فَإِنَّمَا عَلَيْكَ الْبَلَاغُ وَعَلَيْنَا الْحِسَابُ 13.40

আরবি উচ্চারণ ১৩. ৪০। অ ইঁম্মা-নুরিইয়ান্নাকা বা’দ্বোয়াল্লাযী না‘ইদুহুম্ আও নাতাওয়াফ্ফাইয়ান্নাকা ফাইন্নামা-‘আলাইকাল্ বালা-গু অ‘আলাইনাল্ হিসা-ব্।

বাংলা অনুবাদ ১৩.৪০ আর যে প্রতিশ্রুতি আমি তাদেরকে দিচ্ছি, যদি তার কিছু তোমাকে দেখাই অথবা তোমার মৃত্যু ঘটাই (তাতে কিছুই আসে যায় না)। তবে তোমার কর্তব্য কেবল পৌঁছে দেয়া, আর আমার দায়িত্ব হিসাব নেয়া।

أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّا نَأْتِي الْأَرْضَ نَنْقُصُهَا مِنْ أَطْرَافِهَا وَاللَّهُ يَحْكُمُ لَا مُعَقِّبَ لِحُكْمِهِ وَهُوَ سَرِيعُ الْحِسَابِ13.41

আরবি উচ্চারণ ১৩. ৪১। আঅলাম্ ইয়ারাও আন্না- নাতিল্ র্আদ্বোয়া নান্ক্ব ুছুহা-মিন্ আত্ব ্র-ফিহা-; অল্লা-হু ইয়াহ্কুমু লা-মু‘আক্বক্বিবা লিহুক্মিহ্; অ হুঅ সারীউল্ হিসা-ব্।

বাংলা অনুবাদ ১৩.৪১ তারা কি দেখে না, আমি যমীনকে চতুর্দিক থেকে সংকীর্ণ করে আনছি। আর আল্লাহই হুকুম করেন এবং তাঁর হুকুম প্রত্যাখ্যান করার কেউ নেই এবং তিনিই দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।

وَقَدْ مَكَرَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَلِلَّهِ الْمَكْرُ جَمِيعًا يَعْلَمُ مَا تَكْسِبُ كُلُّ نَفْسٍ وَسَيَعْلَمُ الْكُفَّارُ لِمَنْ عُقْبَى الدَّارِ13.42

আরবি উচ্চারণ ১৩. ৪২। অ ক্বদ্ মাকারল্লাযীনা মিন্ ক্বব্লিহিম্ ফালিল্লা-হিল্ মাক্রু জ্বামী‘আ ইয়া’লামু মা- তাক্সিবু কুল্লু নাফ্স্; অ সাইয়া’লামুল্ কুফ্ফা-রু লিমান্ ‘উক্ববা দ্দার্-।

বাংলা অনুবাদ ১৩.৪২ আর তাদের পূর্ববর্তীরাও ষড়যন্ত্র করেছিল, অথচ সকল ষড়যন্ত্র আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে। প্রতিটি ব্যক্তি যা অর্জন করে, তিনি তা জানেন। আর কাফিররা অচিরেই জানবে আখিরাতের শুভপরিণতি কাদের জন্য।

وَيَقُولُ الَّذِينَ كَفَرُوا لَسْتَ مُرْسَلًا قُلْ كَفَى بِاللَّهِ شَهِيدًا بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ وَمَنْ عِنْدَهُ عِلْمُ الْكِتَابِ 13.43

আরবি উচ্চারণ ১৩. ৪৩। অইয়াক্বুলু ল্লাযীনা কাফারূ লাস্তা র্মুসালা ক্বুল্ কাফা-বিল্লা-হি শাহীদাম্ বাইনী-অবাইনাকুম্ অমান্ ‘ইন্দাহূ ‘ইল্মুল্ কিতা-ব্।

বাংলা অনুবাদ ১৩.৪৩ আর যারা কুফরী করে, তারা বলে, ‘তুমি রাসূল নও’। বল, ‘আল্লাহ আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট এবং যার নিকট কিতাবের জ্ঞান আছে সেও।

আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ

    প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে ইমেল : info@banglanewsexpress.com

    আমরা আছি নিচের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে ও

    Leave a Comment