Subscribe Now!
সর্বশেষ চাকরির খবর মিস করবেন না! Subscribe - এ ক্লিক করে দেখুন নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি।
My Ads
কালান্তিক মজুত পদ্ধতি কী?, কালান্তিক মজুদ পদ্ধতি বলতে কি বুঝায়
প্রথম অংশ: কালান্তিক মজুত পদ্ধতির ধারণা (Concept of Periodic Inventory System)
১. কালান্তিক মজুত পদ্ধতি কী?
হিসাববিজ্ঞানের ভাষায়, যে সনাতন ও সরল পদ্ধতিতে ব্যবসায়ের পণ্য ক্রয় এবং বিক্রয়ের সময় মজুত পণ্যের হিসাব তাৎক্ষণিকভাবে আপডেট বা লিপিবদ্ধ করা হয় না; বরং একটি নির্দিষ্ট হিসাবকাল শেষে (Periodically) গুদামের সমস্ত অবিক্রিত পণ্য সশরীরে বা হাতে গণনা (Physical Count) করে সমাপনী মজুত পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করা হয়, তাকে কালান্তিক মজুত পদ্ধতি (Periodic Inventory System) বলে।
এই পদ্ধতিতে সারা বছর ধরে কত টাকার পণ্য কেনা হলো তার জন্য ‘ক্রয় হিসাব’ ব্যবহার করা হয় এবং কত টাকার পণ্য বিক্রি হলো তা জানা গেলেও, বছর বা নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে গুদামে কত টাকার পণ্য অবিক্রিত আছে বা বিক্রিত পণ্যের ব্যয় (COGS) কত—তা জানা সম্ভব হয় না।
২. বাস্তব প্রয়োগ:
ছোট এবং মাঝারি আকারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, খুচরা দোকানদার বা যেসব প্রতিষ্ঠানে কম মূল্যের প্রচুর বৈচিত্র্যময় পণ্য কেনাবেচা হয় এবং যেখানে আধুনিক কম্পিউটার বা বারকোড ব্যবস্থা নেই, সেখানে এই পদ্ধতিটি বহুল ব্যবহৃত হয়।
দ্বিতীয় অংশ: কালান্তিক মজুত পদ্ধতির মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ (Core Characteristics)
পরীক্ষায় প্রশ্নের মান বাড়াতে এই পদ্ধতির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
- ক) নির্দিষ্ট সময় পর মূল্যায়ন: এই পদ্ধতিতে দৈনিক বা রিয়েল-টাইমে মজুতের পরিমাণ জানা যায় না। সপ্তাহ, মাস বা বছর শেষে একটি নির্দিষ্ট সময়ে মজুত মূল্যায়ন করা হয়।
- খ) সশরীরে গণনা বাধ্যতামূলক (Physical Inventory Count): আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করার পূর্বে গুদামে গিয়ে প্রতিটি পণ্য হাত দিয়ে গুণে, মেপে বা ওজন করে সমাপনী মজুতের মূল্য বের করতে হয়।
- গ) ‘ক্রয় হিসাব’ (Purchase Account)-এর ব্যবহার: অবিরত পদ্ধতির মতো এই পদ্ধতিতে পণ্য ক্রয়ের সময় ‘মজুত পণ্য’ হিসাবকে প্রভাবিত করা হয় না, বরং সাধারণ ‘ক্রয় হিসাব’ ডেবিট করা হয়।
- ঘ) বিক্রিত পণ্যের ব্যয় (COGS) নির্ণয়ের সমীকরণ: এই পদ্ধতিতে পণ্য বিক্রয়ের সাথে সাথে ব্যয় জানা যায় না। বছর শেষে সমাপনী মজুত পণ্য গণনার পর নিচের সূত্রের সাহায্যে বিক্রিত পণ্যের ব্যয় বের করতে হয়:$$\text{বিক্রিত পণ্যের ব্যয়} = \text{প্রারম্ভিক মজুত} + \text{নিট ক্রয়} – \text{সমাপনী মজুত}$$
তৃতীয় অংশ: কালান্তিক মজুত পদ্ধতির জাবেদা দাখিলা (Journal Entries)
১০ নম্বরের প্রশ্নে ফুল মার্কস নিশ্চিত করার জন্য এই পদ্ধতির মূল গাণিতিক জাবেদাগুলো ছক আকারে দেখানো আবশ্যক। কালান্তিক পদ্ধতিতে লেনদেন যেভাবে লিপিবদ্ধ হয়:
| লেনদেনের বিবরণ | জাবেদা দাখিলা (Journal Entries) |
| বাকিতে বা নগদে পণ্য ক্রয় করা হলে | ক্রয় হিসাব …………………………….. ডেবিট নগদান / প্রদেয় হিসাব ……………….. ক্রেডিট |
| ক্রয়কৃত পণ্য ফেরত দেওয়া হলে | নগদান / প্রদেয় হিসাব …………………… ডেবিট ক্রয় ফেরত হিসাব ………………………. ক্রেডিট |
| পণ্য বিক্রয় করা হলে (এক্ষেত্রে কেবল একটি জাবেদা হয়) | নগদান / প্রাপ্য হিসাব …………………….. ডেবিট বিক্রয় হিসাব …………………………….. ক্রেডিট (কোনো ব্যয়ের জাবেদা হয় না) |
| বিক্রিত পণ্য ফেরত আসলে (এক্ষেত্রেও কেবল একটি জাবেদা হয়) | বিক্রয় ফেরত হিসাব ………………………. ডেবিট নগদান / প্রাপ্য হিসাব …………………….. ক্রেডিট |
ছকের মাধ্যমে সংক্ষেপে মূল্যায়ন (পরীক্ষায় অতিরিক্ত নম্বরের জন্য)

আরি পড়ুন ›বাংলাদেশের সেবা খাতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জসমূহ বর্ণনা করবাংলাদেশের সেবা খাতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জসমূহ বর্ণনা কর,সেবা খাত (Service Sector) কী? বাংলাদেশের সেবা…
আরি পড়ুন ›ভর (MASS) ও ভার (WEIGHT) পার্থক্য, ভর (MASS) vs ভার (WEIGHT) পার্থক্য, ভর (MASS) ও ভার (WEIGHT) তুলনামূলক আলোচনা, ভার (WEIGHT) ও ভর (MASS) মধ্যে পার্থক্য, ভর (MASS) ও ভার (WEIGHT) কাকে বলে,তুলনা ভর (MASS): ভর (MASS) ও ভার (WEIGHT) আলোচনাভর (MASS) ও ভার (WEIGHT) পার্থক্য, ভর (MASS) vs ভার (WEIGHT) পার্থক্য, ভর (MASS)…
আরি পড়ুন ›বাজারজাতকরণ ব্যবস্থাপনা দর্শন কী?বাজারজাতকরণ ব্যবস্থাপনা দর্শন কী? ১. ভূমিকা ও মৌলিক ধারণা (Introduction & Core Concept) (ক)…
চতুর্থ অংশ: কালান্তিক মজুত পদ্ধতির সুবিধা ও অসুবিধা
সুবিধাসমূহ:
১. সহজ ও সরল: এই পদ্ধতিতে জটিল কোনো হিসাব বা সফটওয়্যারের প্রয়োজন হয় না, সাধারণ হিসাবরক্ষকই হিসাব রাখতে পারেন। ২. কম খরচ: কম্পিউটারাইজড সিস্টেম, বারকোড রিডার বা দামি সফটওয়্যার কিনতে হয় না বলে প্রাথমিক খরচ অত্যন্ত কম।
অসুবিধাসমূহ:
১. তাৎক্ষণিক তথ্যহীনতা: যেকোনো মুহূর্তে গুদামে কত টাকার পণ্য আছে বা চুরি হয়েছে কিনা তা জানা অসম্ভব। ২. পণ্য চুরির ঝুঁকি: বছর শেষে সশরীরে গণনার আগে পণ্য চুরি বা অপচয় হলে তা সহজে ধরা পড়ে না, যা ব্যবসায়ের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, কালান্তিক মজুত পদ্ধতিটি হিসাববিজ্ঞানের একটি প্রাচীন ও সহজ সরল পদ্ধতি। যদিও বড় বড় চেইন শপ বা আধুনিক কর্পোরেট ব্যবসায়ের জন্য এটি অনুপযুক্ত, তবুও ছোট ছোট খুচরা ব্যবসায়ী এবং সীমিত মূলধনের প্রতিষ্ঠানের জন্য এর উপযোগিতা এখনো অনেক বেশি। পরীক্ষা এবং বাস্তব জীবনের হিসাব উভয় ক্ষেত্রেই এই পদ্ধতির গাণিতিক ও নীতিগত ভিত্তি চমৎকারভাবে কাজ করে।
একাডেমিক শিক্ষা বিষয়ক লিখিত প্রশ্ন সমাধান পেতে ক্লিক করুন।
আর্টিকেলের শেষ কথাঃ কালান্তিক মজুত পদ্ধতি কী?, কালান্তিক মজুদ পদ্ধতি বলতে কি বুঝায়, কালান্তিক মজুত পদ্ধতি কী? এই পদ্ধতির মূল বৈশিষ্ট্য ও জাবেদা দাখিলাসমূহ আলোচনা করো।
বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস সর্বশেষ আপডেট পেতে Google News অনুসরণ করুন
আরো পড়ুন:
- বাজারজাতকরণের প্রকৃতি আলোচনা কর, বাজারজাতকরণের বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা কর
- মূল্যনির্ধারণ কৌশল বলতে কী বুঝ?
- বণ্টন প্রণালি দ্বন্দ্বের প্রতিকার সম্পর্কে আলোচনা কর।, তুমি কীভাবে প্রণালি দ্বন্দ্বের ব্যবস্থাপনা করবে ব্যাখ্যা কর।
- বণ্টন প্রণালি দ্বন্দ্ব বলতে কী বুঝ?, প্রণালি দ্বন্দ্ব বলতে কী বুঝায়?
- বাংলাদেশে খুচরা ব্যবসায়ের দক্ষতা বৃদ্ধির উপায়সমূহ উল্লেখ কর