ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর থেকে নিয়োগ পরীক্ষায় আসা প্রশ্ন সমাধান, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর জীবনী A to Z সহ সকল প্রশ্ন সমাধান,ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর জানা ও অজানা সকল তথ্য

চলো আজকে জেনে নেওয়া যাক আমাদের দেশের আর এক রত্ন ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের বিষয়ে কিছু তথ্য। দেশের কুসংস্কার দূরীকরণে ইনার উদ্যোগ আমাদের দেশের উজ্বল ভবিষ্যত লিখনের অন্যতম এক কলম হয়ে উঠেছে। এছাড়াও অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে ইনার অবদান সীমাহীন। সেগুলোই আজ জেনে নেবো আমরা। 

প্রাথমিক জীবন :

জন্ম : 

  • ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর ২৬শে সেপ্টেম্বর ১৮২০ সালে বর্তমান পশ্চিম মেদিনীপুরের বীরসিংহ গ্রামের এর এক হিন্দু ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
  • ইনার আসল নাম ঈশ্বর চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। 

পিতা : বিদ্যাসাগরের পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়। 

মাতা : ভগবতী দেবী হলেন সেই সৌভাগ্যবান নারী যিনি এই মহাপুরুষকে গর্ভে ধারণ করেছিলেন। 

অনুপ্রেরণা : 

  • ৯ বছর বয়সে, ঈশ্বরচন্দ্র কলকাতায় যান এবং বুড়াবাজারে ভগবত চরণের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন, যেখানে ঠাকুরদাস (তাঁর বাবা) ইতিমধ্যে কয়েক বছর ধরে ছিলেন। 
  • ঈশ্বর ভাগবতের বৃহৎ পরিবারে খুব স্বাছন্দ্য বোধ করতেন এবং শীঘ্রই এই পরিবারের সাথে মিশে যান। 
  • ঈশ্বরের প্রতি ভগবতের কনিষ্ঠ কন্যা রাইমনির মাতৃসুলভ এবং স্নেহপূর্ণ অনুভূতি তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল এবং ভারতে নারীর মর্যাদা উন্নীত করার জন্য তার পরবর্তী বৈপ্লবিক কাজের উপর একটি শক্তিশালী প্রভাব ফেলেছিল।

শিক্ষা :

  • ঈশ্বরকে পাঁচ বছর বয়সে একটি গ্রামের পাঠশালায় (প্রাথমিক) পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু তিন বছর পরে, ১৮২৮ সালের ডিসেম্বরে, তাকে কলকাতায় আনা হয়, যেখানে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে একটি পাঠশালায় যোগ দেন। 
  • তার জ্ঞানের অন্বেষণ এতটাই তীব্র ছিল যে তিনি রাস্তার আলোর নিচে পড়াশোনা করতেন কারণ বাড়িতে গ্যাসের বাতি জ্বালানো তার দরিদ্র পরিবারের পক্ষে সম্ভব ছিল না।
  • পরে ১৮২৯ সালের জুন মাসে তিনি সংস্কৃত কলেজে ভর্তি হন।
  • কলকাতার সংস্কৃত কলেজে-এ দীর্ঘ বারো বছর অধ্যয়ন করার পর ১৮৪১ সালে সংস্কৃত ব্যাকরণ, সাহিত্য, দ্বান্দ্বিকতা [অলঙ্কার শাস্ত্র], বেদান্ত, স্মৃতি এবং জ্যোতির্বিদ্যায় যোগ্যতা অর্জন করে কলেজ থেকে উত্তীর্ণ হন।

কর্মজীবন :

  • প্রথমদিকে কলেজে পড়াশোনা চলাকালীন নিজের ও পরিবারের ভরণপোষণের জন্য ঈশ্বরচন্দ্র জোড়াসাঁকোতে শিক্ষকতার পার্ট টাইম জব নেন।
  • ১৮৩৯ সালে, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সফলভাবে তার সংস্কৃত আইন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ১৮৪১ সালে, ২১ বছর বয়সে, ঈশ্বরচন্দ্র ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে সংস্কৃত বিভাগের প্রধান হিসেবে যোগদান করেন।
  • পাঁচ বছর পর ১৮৪৬ সালে বিদ্যাসাগর ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ ছেড়ে সংস্কৃত কলেজে ‘সহকারী সচিব’ হিসেবে যোগ দেন। 
  • চাকরির প্রথম বছরেই, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থায় বেশ কিছু পরিবর্তনের সুপারিশ করেছিলেন। 
  • এই রিপোর্টের সুপারিশের ফলে ঈশ্বরচন্দ্র এবং কলেজ সেক্রেটারি রসোময় দত্তের মধ্যে মারাত্মক ঝগড়া হয়। 
  • ১৮৪৯ সালে, তিনি রসময় দত্তের পরামর্শের বিরুদ্ধে, সংস্কৃত কলেজ থেকে পদত্যাগ করেন এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে হেড ক্লার্ক হিসাবে পুনরায় যোগদান করেন।
  • পরবর্তীতে ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় বড়িশা উচ্চ বিদ্যালয় নামে একটি বিদ্যালয় খোলেন। 
  • তিনি শিক্ষা বিষয়ে তার মতামত অনুযায়ী এই বিদ্যালয়ের পরিচালনা শুরু করেন।

বিধবা বিবাহ প্রচলন :

  • বিদ্যাসাগর ভারতে, বিশেষ করে তার জন্মভূমি বাংলায় মহিলাদের মর্যাদা উন্নীত করার জন্য চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। 
  • তিনি সমাজকে একদম ভেতর থেকে পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন।
  • বিধবা মহিলারা আগে সমাজের পুরুষদের মনোযোগ এড়িয়ে চলার জন্য মাথা নেয়া করে দিতো ও সাদা সারি পরে থাকতো। 
  • বিধবা মহিলারা তৎকালীন সমাজ হইতে বঞ্চিত ছিল, তারা খুব দুঃখজনক ও শোচনীয় জীবনযাপন করতো, যা বিদ্যাসাগরকে আলোড়িত করেছিল। 
  • ১৮৫৪ সালে বিদ্যাসাগর বিধবা পুনর্বিবাহের জন্য তার প্রচার শুরু করেন।
  •  ১৯ শতক মহিলাদের জন্য একটি বিশেষ ভয়ঙ্কর সময় ছিল, বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের প্রাক-বয়ঃসন্ধিকালীন মেয়েদের জন্য, যাদের বয়স্ক পুরুষদের সাথে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হত। 
  • একবার তাদের স্বামী মারা গেলে, তাদের বাকি জীবন সাদা শাড়ি পরে কাটাতে হত, সমস্ত বৈষয়িক আরাম ত্যাগ করতে হত এবং একটি কলঙ্কিত এবং বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করতে হত।
  • ১৮৫৪ সালে, তিনি একটি প্রগতিশীল পত্রিকা তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় কুসংস্কারপূর্ণ সমাজের বিরুদ্ধে লিখতে শুরু করেন। 
  • পরের বছর, তিনি তৎকালীন সরকারের কাছে একটি পিটিশন দাখিল করেন, যাতে বিধবা পুনর্বিবাহের অনুমতির আইনের দাবি করেনা তিনি। 
  • যদিও তার প্রচারের জন্য বর্ধমানের মহারাজা মাহতাবচাঁদ বাহাদুরের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে সমর্থন এসেছিল, হিন্দু সমাজের মত শক্তিশালী রক্ষণশীল গোষ্ঠীগুলি তার এই উদ্যোগকে সমর্থন করেনি।
  • সমস্ত বাধা সত্ত্বেও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলে শেষে, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড ডালহৌসি ২৬শে জুলাই ১৮৫৬ সালে বিধবা নারীদের পুনর্বিবাহের জন্য বিধবা বিবাহ আইন পাস্ করেন। 

শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান :

  • বিদ্যাসাগর শিক্ষা ক্ষেত্রে বিরাট একটা পপরিবর্তন এনেছিল। 
  • তিনি বাংলায় সহজ উপায়ে সংস্কৃত ব্যাকরণ শেখার জন্য উপক্রমণিকা এবং ব্যাকরণ কৌমুদি নামে দুটি বই লিখেছিলেন। 
  • ১৮৫০ সালে বিদ্যাসাগর সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপক হিসাবে একটি শর্তে সংস্কৃত কলেজে ফিরে আসেন যে তাকে শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস করতে দেওয়া হোক। 
  • ১৮৫১ সালে তিনি এই কলেজের অধ্যক্ষ হন।
  • বিদ্যাসাগর সংস্কৃত কলেজের দরজা ব্রাহ্মণ ব্যতীত অন্যান্য বর্ণের(শুদ্র) ছাত্রদের জন্য উন্মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
  • তিনি কলেজে বাংলা শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য নর্মাল স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন যার ফলে কর্মজীবনের সুযোগের সম্ভাবনার পাশাপাশি একাডেমিক আগ্রহের পরিধি বিস্তৃত হয়। 
  • ১৮৫৩ সালে, বিদ্যাসাগর বীরসিংহ গ্রামে একটি অ্যাংলো সংস্কৃত বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
  • তিনি মেট্রপোপলিটন ইনস্টিটিউশন প্রতিষ্ঠা করেন যা পরবর্তীতে বিদ্যাসাগর কলেজ নামে পরিচিত হয়। 
  • এই কলেজটি সরকার থেকে কোন আর্থিক সাহায্য ছাড়াই ভারতীয়দের দ্বারা পরিচালিত হত।
  • বিদ্যাসাগরের অন্যতম অবদান ছিল নারীশিক্ষার ক্ষেত্রে। 
  • তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, দেশের নারীদের শিক্ষিত না করা পর্যন্ত তাদের উপর তৎকালীন সমাজের চাপিয়ে দেওয়া অসাম্য ও অবিচারের ভয়ানক বোঝা থেকে তাদের মুক্ত করা অসম্ভব।
  • মেয়েদের শিক্ষার জন্য আর্থিক সাহায্য প্রদানের জন্য একটি তহবিল “নারী শিক্ষা ভান্ডার” শুরু করেছিলেন তিনি। 
  • তিনি বাংলার মেয়েদের জন্য ১৩০০ জন ছাত্রীসহ ৩৫টি স্কুল খোলেন।
  • বিদ্যা অনুরাগী এই ব্যক্তি ঘরে ঘরে গিয়ে ছাত্রীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করতেন, বাবা-মাকে তাদের মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে অনুরোধ করতেন।
  • বাংলার বর্ণমালা পুনর্গঠনের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব তার।
  • তিনি সংস্কৃত ধ্বনি বাদ দিয়ে বাংলা বর্ণমালাকে ১২টি স্বরবর্ণ এবং ৪০টি ব্যঞ্জনবর্ণের একটি বর্ণমালায় সরলীকৃত করেন।
  • তাঁর ‘বর্ণ পরিচয়’ বইটি এখনও বাংলা বর্ণমালা শেখার জন্য পরিচিতিমূলক পাঠ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
  • এই ভাবেই জ্ঞানের সাগর বিদ্যাসাগর শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন ত্রুটির অবশান ঘটান ও এক পরিবর্তিত ও উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার প্রচলন করেন। 

সম্মান :

  • ঈশ্বরচন্দ্রের প্রবল জ্ঞানের জন্য তাকে “বিদ্যাসাগর” উপাধি দেওয়া হয়। 
  • কলকাতার একটি সেতুর নাম তার নামে “বিদ্যাসাগর সেতু” রাখা হয়। 
  • ইন্ডিয়ান পোস্ট ১৯৭০ এবং ১৯৯৮ সালে বিদ্যাসাগরের চিত্র সমন্বিত স্ট্যাম্প জারি করে।
  • ২০০৪ সালে, বিদ্যাসাগর BBC-র সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির জরিপে ৯ নম্বরে স্থান পান।

রচিত পুস্তকসমূহ :

  • শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
    • বর্ণপরিচয় 
    • ব্যাকরণ কৌমুদী 
    • ঋজুপাঠ 
    • সংস্কৃত ব্যাকরণ উপক্রমণিকা 
  • অনুবাদ গ্রন্থ:
    • হিন্দি থেকে বাংলা:
      • বেতাল পঞ্চবিংশতি 
    • সংস্কৃত থেকে বাংলা:
      • শকুন্তলা 
      • বামনাখ্যানম্
      • সীতার বনবাস 
      • মহাভারতের উপক্রমণিকা
    • ইংরেজি থেকে বাংলা:
      • বাঙ্গালার ইতিহাস 
      • জীবনচরিত 
  • মৌলিক গ্রন্থ :
    • সংস্কৃত ভাষা ও সংস্কৃত সাহিত্য বিষয়ক প্রস্তাব 
    • বহুবিবাহ রহিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব 
    • বিধবা বিবাহ চলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব 
    • প্রভাবতী সম্ভাষণ
    • জীবন-চরিত 
    • শব্দমঞ্জরী 
    • নিষ্কৃতি লাভের প্রয়াস 
    • ভূগোল খগোল বর্ণনম্
    • অতি অল্প হইল এবং ”আবার অতি অল্প হইল”
    • ব্রজবিলাস
    • রত্নপরীক্ষা
  • ইংরেজি গ্রন্থ :
    • সিলেকশনস্ ফ্রম গোল্ডস্মিথ
    • পোয়েটিক্যাল সিলেকশনস্
    • সিলেকশনস্ ফ্রম ইংলিশ লিটারেচার

মৃত্যু :

  • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালের ২৯ জুলাই সত্তর বছর বয়সে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। 
  • তার মৃত্যুর পর তার ছেলে তার বাড়িটি কলকাতার মল্লিক পরিবারের কাছে বিক্রি করে দেয়, যারা পরে বাড়িটি বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশনের কাছে বিক্রি করে দেয়। 
  • বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন মেয়েদের জন্য একটি স্কুল এবং একটি বিনামূল্যে হোমিওপ্যাথিক ক্লিনিক চালু করার জন্য পরবর্তীকালে প্রাঙ্গণটি ব্যবহার করে। 

মূল্যায়ন : 

যদিও এই জনপ্রিয় সমাজ সংস্কারক, লেখক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ এবং অনুবাদক আজ আমাদের মধ্যে শারীরিক ভাবে উপস্থিত নেই ; তাঁর প্রচলিত সংস্কার, আদর্শ, আধুনিক সামাজিক ভাবনাচিন্তার মধ্য দিয়ে সর্বদা বাঙালির স্মৃতিতে বিরাজ করবেন। 

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর জীবনী

Ishwar Chandra Vidyasagar Biography in Bengali

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর জীবনী – Ishwar Chandra Vidyasagar Biography in Bengali : মহান মহান জ্ঞানী মানুষরা সমাজের উপর প্রভাব রেখে গেছেন। এইরকমই এক ব্যক্তিত্বের মানুষ ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (Ishwar Chandra Vidyasagar)। যিনি খুব বিনয়ী ছিলন এবং নিজের জীবন দৃঢ়সংকল্প এবং উদ্দেশ্য পূরণের লক্ষে কাটিয়ে ছিলেন। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (Ishwar Chandra Vidyasagar) মহান সমাজ সংস্কারক, লেখক, শিক্ষক ও উদ্যোক্তা ছিলেন এবং সমাজ পরিবর্তনের জন্য কাজ করে গেছেন অবিরাম। ভারতে শিক্ষার প্রতি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের (Ishwar Chandra Vidyasagar) অবদান এবং নারীর অবস্থার পরিবর্তন জন্য তিনি চিরস্বরণীয়।

 করুণার সাগর পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী । ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর জীবনী – Ishwar Chandra Vidyasagar Biography in Bengali বা আত্মজীবনী বা জীবন রচনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কে ছিলেন ? Who is Ishwar Chandra Vidyasagar ? 

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (Ishwar Chandra Vidyasagar) উনবিংশ শতকের একজন বিশিষ্ট বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক ও গদ্যকার। ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়; ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা নামেও স্বাক্ষর করতেন। সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য সংস্কৃত কলেজ থেকে ১৮৩৯ সালে তিনি বিদ্যাসাগর উপাধি লাভ করেন। সংস্কৃত ছাড়াও বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় বিশেষ ব্যুৎপত্তি ছিল তার। তিনিই প্রথম বাংলা লিপি সংস্কার করে তাকে যুক্তিবহ ও সহজপাঠ্য করে তোলেন। বাংলা গদ্যের প্রথম সার্থক রূপকার হলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (Ishwar Chandra Vidyasagar)।

করুণার সাগর পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবনী – Ishwar Chandra Vidyasagar Biography in Bengali :

নাম (Name)ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বা ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় শর্মা (Ishwar Chandra Vidyasagar or Ishwar Chandra Bandyopadhyay or Sharma)
জন্ম (Birthday)২৬ সেপ্টেম্বর ১৮২০ (26 September 1820)
জন্মস্থান (Birthplace)পশ্চিমবাংলার মেদিনীপুর জেলায় বীরসিংহ গ্রাম
অভিভাবক (Parents)/ পিতা ও মাতাঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় (বাবা)ভগবতী দেবী (মা)
পেশা (Occupation)লেখক, দার্শনিক, পণ্ডিত, শিক্ষাবিদ, অনুবাদক, প্রকাশক, সংস্কারক, মানবহিতৈষী
দাম্পত্যসঙ্গী (Spouse)দিনময়ী দেবী 
সন্তান নারায়ণ চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
সাহিত্য আন্দোলনবাংলার নজাগরণ
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসংস্কৃত কলেজ (১৮২৮-১৮৩৯)
জাতীয়তাভারতীয় 
উল্লেখযোগ্য রচনাবলীবর্ণপরিচয় , কথামালা, বোধোদয়, আখ্যানমঞ্জরী ব্যাকরণ কৌমুদী, বেতাল পঞ্চবিংশতি, শকুন্তলা 
মৃত্যু (Death)২৯ জুলাই ১৮৯১ (29th July 1891)

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্ম – Ishwar Chandra Vidyasagar’s Birthday :

 পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ শে সেপ্টেম্বর । পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন । 

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পিতামাতা – Ishwar Chandra Vidyasagar’s Parents :

 পিতা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মাতা ভগবতী দেবী। দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও তারা নিজেদের শিক্ষা, সংস্কার, আন্তরিকতা, কঠোরতা, দয়ালুতা ও নিষ্ঠার জন্য প্রচুর খ্যাতি অর্জন করেছিলেন, যার কারণে তিনি অমর।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের শৈশবকাল – Ishwar Chandra Vidyasagar’s Childhood :

 ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রথমে গ্রাম্য পাঠশালায় এবং পরে কলকাতা সংস্কৃত কলেজে পড়াশুনা করেন । তার পিতা তখন ৮ টাকা বেতন পেতেন । এই আট টাকা বেতন থেকে তার জন্য ব্যয় হতাে ৪ টাকা । ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১২ বছর কাব্য , ব্যাকরণ , অলঙ্কার শাস্ত্র , বেদান্ত , স্মৃতি ন্যায় – জ্যোতিষ প্রভৃতি পাঠ করে অসাধারণ পান্ডিত্য অর্জন করেন ।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের শিক্ষাজীবন – Ishwar Chandra Vidyasagar’s Education Life :

  ১৮৩৯ সালে ল পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি বিদ্যাসাগর ’ উপাধি লাভ করেন । সাগর উপাধি তার জন্য যথার্থই ছিলাে । বিদ্যার সাগর , জ্ঞানের সাগর , দয়ার সাগর , করুণার সাগর , মানবতার সাগর , প্রগতিশীলতার সাগর , বিবেকের সাগর সব বিশেষণই তার ক্ষেত্রে যথাযথ ও সুপ্রযােজ্য । যদি বলা হতাে ব্যক্তিত্বের সাগর , বােধ করি তা – ও অপ্রযুক্ত হতাে না ।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পণ্ডিত উপাধি – Ishwar Chandra Vidyasagar’s ‘PANDIT’ Title :

 ১৮৪১ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে প্রধান পন্ডিতের পদ লাভ করেন । তাকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয় । 

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের গ্রন্থ সমূহ – Ishwar Chandra Vidyasagar’s Books :

বিদ্যাসাগর স্কুল বিভাগের শিক্ষার জন্য বহুবিধ গ্রন্থ রচনা করেন । যেমন বােধােদয় , বর্ণপরিচয় , কথামালা , চরিতাবলী , ঋজুপাঠ প্রভৃতি । বাংলাভাষায় বলসঞ্চার , সংস্কৃত বাহুল্য মুক্তির জন্য বেতাল পঞ্চবিংশতি , শকুন্তলা , সীতার বনবাস প্রভৃতি রচনা করেন । এছাড়াও রঘুবংশ , সর্বদর্শ সংগ্রহ , কুমারসম্ভব , কাদম্বরী , মেঘদূত , উত্তররামচরিত , অভিজ্ঞান শকুন্তলম প্রভৃতি গ্রন্থ সম্পাদনা করেন ।

সমাজ সংস্কারে বিদ্যাসাগরের ভূমিকা :

 সমাজ সংস্কারেও তার অনন্যসাধারণ ভূমিকা বাঙালী জীবনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে । তার একাগ্র ও অনলস প্রচেষ্টায় বিধবাবিবাহ আইন প্রণীত ও প্রচলিত হয় । হিন্দু বিধবা নারীদের কাছে তিনি এক মহামানব স্বরূপ । তিনি নিজ পুত্রকে দিয়ে প্রথম বিধবা বিবাহ করান । দুস্থ মহিলাদের সেবা – সহায়তা দিয়ে বাঁচানাের জন্য । তিনি হিন্দু ফ্যামিলি এ্যানুয়িটি ফান্ড ’ গঠন করেন স্ত্রীশিক্ষা প্রচলনের ব্যবস্থাও করেন ।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সংগ্রাম : 

 তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন । মাতৃভক্তির জন্যও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কিংবদন্তী হয়ে আছেন । তিনি চিরদিন কুসংস্কার , গোঁড়ামি আর ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে আপােসহীনভাবে লড়াই করে গেছেন । বাঙালী জাতি সর্বপ্রথম বড় হবার , যােগ্য হবার , মানবিক হবার , আধুনিক হবার , প্রগতিশীল হবার ও বিশ্বজনীন হবার সর্বপ্রথম দৃষ্টান্ত খুঁজে পেয়েছিলাে বিদ্যাসাগরের মধ্যে । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার সম্বন্ধে বলেছেন— “ তিনি । হিন্দু ছিলেন না , বাঙালী বা ব্রাহ্মণ ছিলেন না , ছিলেন ‘ মানুষ । এই মন্তব্যের তাৎপর্য অতলস্পশী । কারণ কারাে যথার্থ মানুষ হওয়া অতাে সহজ নয় । রবীন্দ্রনাথ আরাে বলেছেন — তাহার মহৎ চরিত্রের যে অক্ষয় বট তিনি বঙ্গভূমিতে রােপণ করিয়া গিয়াছেন , তাহার তলদেশ জাতির তীর্থস্থান হইয়াছে । 

 ডঃ সুকুমার সেন বলেছেন— “ বিদ্যাসাগরের আগে বাংলা গদ্যের চল ছিল , কিন্তু চাল ছিল না । 

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৃত্যু – Ishwar Chandra Vidyasagar’s Death :

 ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সম্বন্ধে মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন— “ আমি যে দরিদ্র বাঙালী বাহ্মণকে শ্রদ্ধা করি তিনি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর । এই মহামতি বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালের ২৯ শে জুলাই পরলােকগমন করেন । তখন তার বয়স হয়েছিলাে ৭১ বছর । 

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবনী (প্রশ্ন ও উত্তর) – Ishwar Chandra Vidyasagar’s Biography in Bengali (FAQ) :

  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্ম কবে হয়?

উ:- ২৬ সেপ্টম্বর ১৮২০ সালে । 

  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পিতা ও মাতার নাম কী?

উ:- ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, ভগবতী দেবী ছিলেন তার পিতা ও মাতা ।

  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম কী?

উ:- বর্ণপরিচয় , কথামালা , চরিতাবলী , ঋজুপাঠ প্রভৃতি ।

  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ‘পণ্ডিত’ উপাধি কত সালে পান?

উ:- ১৮৪১ সালে ।

  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের স্ত্রীর নাম কী?

উ:- দিনময়ী দেবী ।

  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?

উ:- পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।

  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম কী?

উ:- সংস্কৃত কলেজ ।

  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কবে জন্মগ্রহণ করেন?

উ:- ২৬ সেপ্টম্বর ১৮২০ সালে ।

  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কোন নামে সাক্ষর করতেন?

উ:- ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় বা ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা।

  1. সংস্কৃত কলেজ কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?

উ:- ১৮২৮ সালে ।

  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পুত্রের নাম কী?

উ:- নারায়ণ চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।

  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কবে মারা যান?

উ:- ২৯ জুলাই ১৮৯১ সালে ।

বিদ্যাসাগর, ঈশ্বরচন্দ্র (১৮২০-১৮৯১)  সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী। তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়। পাঁচ বছর বয়সে ঈশ্বরচন্দ্রকে গ্রামের পাঠশালায় পাঠানো হয়। ১৮২৮ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁকে কলকাতার একটি পাঠশালায় এবং ১৮২৯ সালের জুন মাসে সংস্কৃত কলেজে ভর্তি করানো হয়। তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রতিভাবান ছাত্র এবং ১৮৩৯ সালের মধ্যেই বিদ্যাসাগর উপাধি লাভ করেন। পরে তিনি দু-বছর ওই কলেজে ব্যাকরণ, সাহিত্য, অলঙ্কার, বেদান্ত, ন্যায়, তর্ক, জ্যোতির্বিজ্ঞান, হিন্দু আইন এবং ইংরেজি বিষয়ে অধ্যয়ন করেন। তাছাড়া প্রতি বছরই তিনি বৃত্তি এবং গ্রন্থ ও আর্থিক পুরস্কার পান।

১৮৪১ সালের ডিসেম্বর মাসে সংস্কৃত কলেজ ত্যাগ করার অল্প পরেই তিনি ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের বাংলা ভাষার প্রধান পন্ডিতের পদ লাভ করেন। ১৮৪৬ সালের এপ্রিল মাসে সংস্কৃত কলেজে সহকারী সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। উক্ত কলেজের শিক্ষকগণের রক্ষণশীল মনোভাবের কারণে ১৮৪৭ সালের জুলাই মাসে তিনি সংস্কৃত কলেজের কাজে ইস্তফা দেন এবং ১৮৪৯ সালের জানুয়ারি মাসে, ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের হেড রাইটার ও কোষাধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। ১৮৫০ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি সংস্কৃত কলেজের সাহিত্যের অধ্যাপক পদ লাভ করেন এবং পরের মাসে ওই কলেজের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

অধ্যক্ষ হিসেবে তিনি কলেজের অনেক সংস্কার করেন। এর আগে এ কলেজে পড়ার অধিকার ছিল কেবল ব্রাহ্মণ এবং বৈদ্য ছাত্রদের, কিন্তু তিনি সব শ্রেণির হিন্দুদের জন্যে কলেজের দ্বার উন্মুক্ত করেন। তিনি কলেজে পড়ার জন্যে নামেমাত্র বেতন চালু করেন এবং প্রতিপদ ও অষ্টমীর বদলে রবিবার সপ্তাহিক ছুটি চালু করেন। কলেজের ডিগ্রি নিয়ে যাতে ছাত্ররা ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের পদ লাভ করতে পারে, সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি সে প্রতিশ্রুতিও আদায় করেন। কিন্তু তিনি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার আনেন কলেজের পাঠ্যক্রমে। পূর্বে ব্যাকরণ এবং বীজগণিত ও গণিত শেখানো হতো সংস্কৃতে, কিন্তু তিনি সংস্কৃতের বদলে ব্যাকরণ বাংলার মাধ্যমে এবং গণিত ইংরেজির মাধ্যমে পড়ানোর নিয়ম চালু করেন। ইংরেজি ভাষা শেখাকে তিনি বাধ্যতামূলক করেন এবং ইংরেজি বিভাগকে উন্নত করেন। বাংলা শিক্ষার ওপরও তিনি জোর দেন। তবে তারচেয়ে ব্যাপক পরিবর্তন করেন দর্শন পাঠ্যক্রমে। তিনি সাংখ্য এবং বেদান্ত দর্শনকে ভ্রান্ত এবং প্রাচীনপন্থী বলে বিবেচনা করতেন। সে জন্যে, তিনি বার্কলের দর্শন এবং অনুরূপ পাশ্চাত্য দর্শন শিক্ষাদানের বিরোধিতা করেন এবং তার পরিবর্তে বেকনের দর্শন এবং জন স্টুয়ার্ট মিলের তর্কশাস্ত্র পড়ানোর সুপারিশ করেন। অনেকে তাঁর সমালোচনা করলেও, তাঁর এ সংস্কার ছিল সুদূরপ্রসারী এবং শিক্ষা পরিষদ তাঁর এ সংস্কারের প্রশংসা করে এবং পুরস্কারস্বরূপ ১৮৫৪ সালের জানুয়ারি মাসে তাঁর বেতন বৃদ্ধি করে।

১৮৫৪ সালে চার্লস উডের শিক্ষা সনদ গৃহীত হওয়ার পর সরকার গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। এ উদ্দেশে ১৮৫৫ সালের মে মাসে বিদ্যাসাগরকে সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ পদের অতিরিক্ত সহকারী স্কুল পরিদর্শকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে তিনি নদিয়া, বর্ধমান, হুগলি এবং মেদিনীপুর জেলায় স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। দুবছরের মধ্যে তিনি এ রকমের বিশটি স্কুল স্থাপন করেন। এছাড়া তিনি এসব স্কুলে পড়ানোর জন্যে, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য একটি নর্মাল স্কুল স্থাপন করেন। তিনি নিজ গ্রামে নিজ খরচে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

এসব বাংলা মডেল স্কুল ছাড়া, সরকার বালিকা বিদ্যালয় স্থাপনেরও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তখন রক্ষণশীল সমাজ মনে করতো যে, স্ত্রীশিক্ষা দেওয়া নিষিদ্ধ। সমাজের তীব্র বিরোধিতার মুখে এ ধরনের স্কুল প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে কিনা—সরকার সে সম্পর্কে নিশ্চিত ছিল না। অন্যদিকে, বিদ্যাসাগর ছিলেন স্ত্রীশিক্ষার বিশেষ সমর্থক। সরকার সেজন্যে এ কাজের দায়িত্ব দেয় তাঁর ওপর। তিনি বালিকা বিদ্যালয় খোলার বিষয়ে স্থানীয় লোকদের সমর্থনে বর্ধমানে একটি স্কুল স্থাপন করেন। পরে ১৮৫৭ সালের নভেম্বর থেকে ১৮৫৮ সালের মে মাসের মধ্যে আরও পঁয়ত্রিশটি স্কুল স্থাপন করতে সমর্থ হন।

কিন্তু শিক্ষা কর্তৃপক্ষের পরিচালকের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করার কারণে তিনি এ কাজ বেশিদিন চালিয়ে যেতে পারেননি। তাই তিনি সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ পদ এবং স্কুল পরিদর্শকের পদ-উভয় ত্যাগ করেন। এ রকমের উচ্চপদে বাঙালিদের মধ্যে সম্ভবত তিনিই অধিষ্ঠিত ছিলেন। পরে শিক্ষা সম্প্রসারণের কাজে, বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষা দেওয়ার কাজ সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করেন। এ সময়ে তিনি বেথুন সোসাইটির সঙ্গে যুক্ত হন। এই সোসাইটির কাজ ছিল স্ত্রীশিক্ষা বিস্তার এবং পরিবার ও সমাজে নারীদের মর্যাদা বৃদ্ধির। তিনি স্কুল স্থাপনের জন্যে ধনী জমিদারদেরও উৎসাহ প্রদান করেন।

ধনী পরিবারের ছেলেদের ইংরেজি শেখানোর উদ্দেশে ১৮৫৯ সালে কলকাতা মেট্রোপলিটান ইনস্টিটিউশন স্থাপিত হয়। কিন্তু দুবছরের মধ্যে এ স্কুল বন্ধের উপক্রম হলে বিদ্যাসাগর এ স্কুল পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৮৬৪ সালে তিনি এর নাম রাখেন হিন্দু মেট্রোপলিটান ইনস্টিটিউট। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি নিয়ে তিনি এ স্কুলে এন্ট্রেন্স পরীক্ষার জন্য ছাত্রদের শিক্ষা দিতে থাকেন এবং ক্রমান্বয়ে সাফল্য লাভ করেন। ১৮৭২ সালের গোড়ার দিকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এ বিদ্যালয়কে কলেজ এবং ১৮৭৯ সালে ডিগ্রি কলেজ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

সংস্কৃত কলেজের সংস্কার ও আধুনিকীকরণ এবং বাংলা ও বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন ছাড়া, শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো পাঠ্যপুস্তক রচনা ও প্রকাশ করা। বর্ণপরিচয় (১৮৫১) প্রকাশের আগ পর্যন্ত প্রথম শিক্ষার্থীদের জন্যে এ রকমের কোনো আদর্শ পাঠ্যপুস্তক ছিল না। তাঁর বর্ণপরিচয়ের মান এতো উন্নত ছিল যে, প্রকাশের পর থেকে অর্ধশতাব্দী পর্যন্ত এই গ্রন্থ বঙ্গদেশের সবার জন্যে পাঠ্য ছিলো। দেড়শো বছর পরেও এখনও এ গ্রন্থ মুদ্রিত হয়। বর্ণপরিচয়ের মতো সমান সাফল্য লাভ করেছিল বোধোদয় (১৮৫১), কথামালা (১৮৫৬), চরিতাবলী (১৮৫৬) এবং জীবনচরিত (১৮৫৯)। সংস্কৃত ব্যাকরণের উপক্রমণিকা ও (১৮৫১) বর্ণপরিচয়ের মতো অভিনব— এর আগে বাংলা ভাষায় কোনো সংস্কৃত ব্যাকরণ ছিল না। চার খন্ডে লেখা ব্যাকরণ-কৌমুদীও (১৮৫৩-৬৩) তাঁর ব্যাকরণ রচনার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক অবদান।

তাঁর পাঠ্যপুস্তকগুলি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় যে, তিনি কেবল লেখাপড়া শেখানোর কৌশল হিসেবে এগুলি লেখেননি, বরং ছাত্রদের নীতিবোধ উন্নত করা এবং আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদানও তাঁর লক্ষ্য ছিল। যেমন চরিতমালায় তিনি প্রাচীন ভারতের মুনি-ঋষিদের জীবনী লেখেননি, বরং ইউরোপের ষোলোজন বিখ্যাত ব্যক্তির পরিচিতি দিয়েছেন। তেমনি জীবনচরিতে তিনি কোপারনিকাস, গ্যালিলিও, নিউটন এবং হার্শেলের মতো বিজ্ঞানীদের এবং উইলিয়ম জোনসের মতো পন্ডিত ব্যক্তিদের সংক্ষিপ্ত জীবন পরিচিতি লিখেছেন। নীতিবোধেও একই দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় মেলে। এতে তিনি আনুষ্ঠানিক ধর্ম এবং আচার-অনুষ্ঠানের কোনো উল্লেখ করেননি, বরং যেসব নীতিবোধ সকল মানুষের থাকা উচিত, তার কথা লিখেছেন। কথামালায় তিনি নীতিমূলক গল্প সংগ্রহ করেছেন। আর তিন খন্ড আখ্যানমঞ্জরীতে সংগ্রহ করেছেন ইউরোপ-অ্যামেরিকার (এবং চারটি আরব দেশ ও পারস্যের) সত্যিকার এবং জনপ্রিয় গল্প। এসব গল্পের শিরোনাম—মাতৃভক্তি, পিতৃভক্তি, ভ্রাতৃস্নেহ, গুরুভক্তি, আতিথেয়তা, পরোপকার এবং সাধুতার পুরস্কার—থেকেই বোঝা যায় যে, তিনি কেবল ছাত্রদের নীতিবোধ উন্নত করতে চাননি, সেই সঙ্গে চেয়েছিলেন তাদের দৃষ্টিকে প্রসারিত করতে। তাঁর পাঠ্যপুস্তকগুলি দীর্ঘদিন বঙ্গদেশের সর্বত্র পাঠ্য ছিল। এগুলোর মাধ্যমে তিনি একই সঙ্গে প্রামাণ্য ভাষা ও বানান যেমন শিক্ষা দিতে পেরেছিলেন, তেমনি পেরেছিলেন নীতিবোধ উন্নত করতে।

তিনি কেবল পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে নয়, বরং তাঁর অন্যান্য রচনা দিয়েও বাংলা গদ্যের সংস্কার এবং তার মান উন্নত করতে সমর্থ হয়েছিলেন। ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের পন্ডিতগণ এবং রামমোহন রায় যে বাংলা গদ্যরীতি নির্মাণ করেছিলেন, তা ছিল আড়ষ্ট, কৃত্রিম এবং কোনোমতে ভাব প্রকাশের উপযোগী। তাঁর আগেকার গদ্যে তথ্য প্রকাশের মতো শব্দাবলী ছিল কিন্তু তাতে এমন সৌন্দর্য, সাবলীলতা এবং গতির স্বাচ্ছন্দ্য ছিল না, যাকে সাহিত্যিক গদ্য বলা যায় বা যা দিয়ে সাহিত্য রচনা করা যায়। ১৮৪৭ সালে বেতালপঞ্চবিংশতি প্রকাশের মাধ্যমে বিদ্যাসাগর তা পাল্টে দিলেন। বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যের শব্দ-সাযুজ্য আবিষ্কার, বাক্য-কাঠামো সংস্কার, কর্তা ও ক্রিয়াপদ এবং ক্রিয়া ও কর্মের মধ্যে যথাযথ অন্বয় স্থাপন করে বাংলা গদ্যকে মাধুর্য দান করেন। তাছাড়া, শ্বাস-যতি ও অর্থ-যতির সমন্বয় ঘটান এবং পাঠক যাতে তা সহজেই দেখতে পান, তার জন্যে ইংরেজি রীতির যতিচিহ্ন, বিশেষ করে কমা, ব্যবহার করেন। তাঁর আগে একমাত্র অক্ষয়কুমার দত্তই ইংরেজি যতিচিহ্ন সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করেছিলেন।

অবশ্য তিনি একই গদ্যরীতিতে তাঁর সব রচনা লেখেননি, তিনি পাঠ্যপুস্তক যে-রীতিতে লিখেছেন, সাহিত্য রচনা করেছেন তা থেকে ভিন্ন ভঙ্গিতে; আবার তাঁর বেনামী পুস্তকগুলির রীতি সম্পূর্ণ ভিন্ন রীতির—তা পরিপূর্ণ হাস্যরস এবং ব্যঙ্গবিদ্রূপে।

তাঁর প্রথম সাহিত্যগ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতিতেই বিদ্যাসাগর প্রমাণ দিয়েছেন, তিনি কেবল বেতালের গল্পগুলিকেই নতুন করে বলেছেন, অনুবাদ করেননি। গল্পগুলি বলতে গিয়ে তিনি তাদের সংস্কার এবং পরিবর্তন করেছেন এবং মূল বেতালের স্থূল রুচি ত্যাগ করে তাদের আধুনিক পাঠকদের কাছে পরিবেশনের উপযোগী করে তুলেছেন। একই কথা বলা যায় কালিদাসের রচনা অবলম্বনে রচিত শকুন্তলা (১৮৫৪) সম্পর্কে। তাছাড়া এ গ্রন্থে তিনি শকুন্তলা এবং তার দুই সখীকে রীতিমতো বাঙালি নারীর মতো করে নির্মাণ করেছেন। সীতার বনবাসের (১৮৬০) সীতাও নিতান্ত বাঙালি নারী হয়ে উঠেছেন। এমনকি তিনি যখন ভ্রান্তিবিলাস (১৮৬৯) নাম দিয়ে শেক্সপীয়রের কমেডি অব এরর্সের অনুবাদ করেছেন, তখন তাকে বাঙালি পরিবেশের উপযুক্ত করে রচনা করেছেন। তদুপরি তাঁর ভ্রান্তিবিলাস গল্প, নাটক নয়। তাঁর ভাষাভঙ্গি, সূক্ষ্ম হাস্যরস এবং শব্দের মারপ্যাঁচে এই দুটি গ্রন্থকেই অনুবাদ নয়, বরং মৌলিক গ্রন্থ বলে মনে হয়। তাঁর গদ্যে তিনি অনুপ্রাসসহ সঙ্গীতময় এবং বিষয়ের উপযোগী শব্দ ব্যবহার করেছেন। শ্বাসযতি ও অর্থযতির সমন্বয় ঘটানোর ফলে তাঁর গদ্যে এমন সৌন্দর্য এসেছে যা তাঁর পূর্ববতী লেখকরা আবিষ্কার করতে পারেননি।

তিনি ছিলেন আধুনিক মনোভাবাপন্ন। তিনি উপলব্ধি করেছেন, পুরোনো মূল্যবোধ এবং পরিবারের ভেতর থেকে পরিবর্তন আনতে না পারলে সমাজ এবং দেশের কখনো প্রকৃত উন্নতি হবে না। এ জন্যে তিনি বিধবা-বিবাহ চালু করা, বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ করা এবং স্ত্রীশিক্ষা বিস্তারের জন্যে আন্দোলন আরম্ভ করেছিলেন।

তাঁর সংস্কৃত কলেজ ছাড়ার কয়েক মাস পরে বালবিধবাদের পুনর্বিবাহের পক্ষে তাঁর প্রথম বেনামী লেখা প্রকাশিত হয় ১৮৪২ সালের এপ্রিল মাসে বেঙ্গল স্পেক্টেটর পত্রিকায়। আর এ বিষয়ে তাঁর প্রথম গ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৮৫৫ সালের জানুয়ারি মাসে, দ্বিতীয় গ্রন্থ অক্টোবর মাসে। এভাবে বিধবাবিবাহের পক্ষে শাস্ত্রীয় প্রমাণ দেওয়া ছাড়াও, বিধবাদের পুনর্বিবাহ প্রবর্তনের পক্ষে একটি আইন প্রণয়নের জন্যে তিনি সামাজিক আন্দোলন আরম্ভ করেন। এ মাসেরই ৪ তারিখে তিনি এর পক্ষে বহু স্বাক্ষরসংবলিত একটি আবেদনপত্র সরকারের কাছে পাঠান। পরে এরকমের আরও ২৪টি আবেদনপত্র সরকারের কাছে পাঠানো হয়। অনেকগুলি আবেদনপত্র আসে ভারতবর্ষের অন্যান্য অঞ্চল থেকে। এসব আবেদনপত্রে প্রায় পঁচিশ হাজার স্বাক্ষর ছিল। অপরপক্ষে, রক্ষণশীল সমাজ আইন প্রণয়নের বিরোধিতা করে সরকারের কাছে আঠাশটি আবেদনপত্র পাঠান। তাঁদের যুক্তি ছিল যে, এ রকমের আইন পাস করে দেশবাসীর ধর্মে হস্তক্ষেপ করা সরকারের পক্ষে উচিত হবে না। এতে স্বাক্ষর ছিল পঞ্চান্ন হাজারেরও বেশি। বিরোধীদের পক্ষেই পাল্লা ভারী ছিল, তা সত্ত্বেও ১৮৫৬ সালের জুলাই মাসে বিধবাবিবাহ আইন প্রণীত হয়।

বিদ্যাসাগর এবং তাঁর বন্ধুরা মিলে ১৮৫৬ সালের ডিসেম্বর মাসে রক্ষণশীল সমাজের বিক্ষোভ এবং প্রচন্ড বাধার মুখে ঘটা করে এক বিধবার বিবাহ দেন। পাত্র ছিল সংস্কৃত কলেজে বিদ্যাসাগরের একজন সহকর্মী। তাছাড়া নিজের একমাত্র পুত্রের সঙ্গে বিধবার বিবাহ দিতে তিনি কুণ্ঠিত হননি। বিধবাবিবাহ আইন প্রণয়নে সাফল্য লাভ করায় পরে কুলীনদের বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহ রোধ আইন পাস করার পক্ষে সরকারের কাছে আবেদন জানান।

তাঁর দয়া এবং মানবিকতার জন্যে তিনি করুণাসাগর নামে পরিচিতি পান (তাঁকে এ বিশেষণ প্রথমে দিয়েছেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত)। তিনি তাঁর দান এবং দয়ার জন্যে বিখ্যাত হয়েছিলেন। তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন একটি ঐতিহ্যিক এবং রক্ষণশীল পরিবারে এবং সমাজ সংস্কারের জন্যে তিনি যুক্তিও দিতেন হিন্দু শাস্ত্র থেকে; কিন্তু তিনি ছিলেন ধর্ম ও ঈশ্বর সম্পর্কে সন্দিহান মনের। তাঁর বোধোদয় গ্রন্থ যেমন তিনি শুরু করেছেন পদার্থের সংজ্ঞা দিয়ে। পরে সংজ্ঞা দিয়েছেন ঈশ্বরের, যাঁকে তিনি বলেছেন সর্বশক্তিমান, সর্বত্রবিরাজমান চৈতন্যস্বরূপ। পরে এ গ্রন্থে তিনি যা কিছু দেখা যায়, স্পর্শ করা যায়, অনুভব করা যায়, তেমন সব বিষয়ের সংজ্ঞা দিয়েছেন; কিন্তু ঈশ্বর বা কোনো অতিলৌকিক শক্তির নামও উল্লেখ করেননি।

সংস্কৃত কলেজে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করার সময় ১৮৫৫ সালে সরকার তাঁকে হুগলি, বর্ধমান, মেদিনীপুর ও নদীয়া জেলার বিশেষ স্কুল পরিদর্শকের (Special Inspector of Schools) অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পণ করে। তিনি এশিয়াটিক সোসাইটি (কলকাতা) ও বেথুন সোসাইটিসহ আরও কিছু সংগঠনের সম্মানিত সভ্য ছিলেন। ১৮৫৮ সালে যাঁরা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ফেলো নির্বাচিত হন তিনি ছিলেন তাঁদের অন্যতম। ১৮৭৭ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি ইম্পেরিয়াল অ্যাসেমব্লিজ-এ সম্মাননা-সনদ লাভ করেন এবং ১৮৮০ সালের জানুয়ারিতে সি.আই.ই (CIE) হন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান থেকে শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন লাভ করেন। তাঁর মৃত্যু ২৯ জুলাই, ১৮৯১।  [গোলাম মুরশিদ]

যা যা পড়তে পারেন

১ম থেকে ৪৩তম বিসিএস প্রশ্ন ও সমাধান লিংক

Professor Primary Assistant Teacher book লিংক

নিয়োগ পরীক্ষার নৈবিত্তিক ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান লিংক

ইংরেজি

ইংরেজি ব্যাকরণ

প্রশ্ন পরীক্ষায় আসার প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন পরীক্ষায় আসার প্রশ্ন ও উত্তর
Parts of Speech প্রশ্ন ও উত্তর লিংক Abbreviations or
Elaboration Terms
প্রশ্ন ও উত্তর লিংক
Articleপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক One word Substitutionsপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক
Appropriate Preposition প্রশ্ন ও উত্তর লিংক English literatureপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক
Prepositionপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক Sentence Correctionপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক
Right forms of verbপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক Translation /Vocabularyপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক
Voice প্রশ্ন ও উত্তর লিংক Spellingপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক
Narrationপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক Synonym-Antonymপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক
Phrase and Idioms প্রশ্ন ও উত্তর লিংক Word Meaningপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক
prefix and suffixপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক প্রায় ৩০০টি প্রশ্ন উত্তরসহ প্রশ্ন ও উত্তর লিংক

নিয়োগ পরীক্ষার নৈবিত্তিক ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান লিংক

বাংলা

বিগত ৩০ বছরে বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ নিয়োগ পরীক্ষায় আষার সকল MCQ নৈবিত্তিক প্রশ্ন সমাধান এক সাথে, নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলা থেকে আসা প্রশ্নগুলোর সমাধান প্রশ্ন ও উত্তর লিংক

বাংলা ব্যাকরণ

প্রশ্ন পরীক্ষায় আসার প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন পরীক্ষায় আসার প্রশ্ন ও উত্তর
সন্ধিপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক শেখ হাসিনাপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক
বিপরীত শব্দপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক
সমার্থক শব্দপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক জাতীর ৪ নেতাপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক
শুদ্ধ বানানপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক বিভিন্ন চুক্তি
বাংলাদেশের সাথে ভারতের সীমান্ত
প্রশ্ন ও উত্তর লিংক
এককথায় প্রকাশপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক মুক্তিযুদ্ধ সেক্টরপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক
তৎসম অর্ধতৎসম তদ্ভব
বিদেশী ও দেশি শব্দ
প্রশ্ন ও উত্তর লিংক রােহিঙ্গা সমস্যাপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক
উপসর্গপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক বাংলাদেশের জনপদপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক
সমাসপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক সংবিধানপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক
বাগধারা, প্রবাদ ও প্রবচনপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক মুক্তিযুদ্ধপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক
কারক-বিভক্তিপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক বাংলাদেশের ভৌগলিকপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক
যুক্ত বর্ণেরপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক কবি সাহিত্যিকের রচনা বা জন্ম মৃত্যুপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক
ধ্বনি, বর্ণপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক উপন্যাস/রচনাসমগ্রপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক
বাক্য (সরল, জটিল, যৌগিক) প্রশ্ন ও উত্তর লিংক ভাষা আন্দোলপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক
পদ নির্ণয়প্রশ্ন ও উত্তর লিংক বিখ্যাত স্থানপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক
দ্বিরুক্ত শব্দ/ দ্বন্দ্ব প্রশ্ন ও উত্তর লিংকস্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র প্রশ্ন ও উত্তর লিংকবাংলাদেশের কৃষ্টি
ও সংস্কৃতি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন
প্রশ্ন ও উত্তর লিংক

নিয়োগ পরীক্ষার নৈবিত্তিক ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান লিংক

গণিত

প্রশ্ন পরীক্ষায় আসার প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন পরীক্ষায় আসার প্রশ্ন ও উত্তর
দশমিকের (যোগ, বিয়োগ, গুণ*, ভাগ) প্রশ্ন ও উত্তর লিংক বীজগাণিতিক মান নির্ণয় প্রশ্ন ও উত্তর লিংক
শতকরা, লাভ-ক্ষতি, মুনাফাপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক উৎপাদক নির্ণয়, গড়, মধ্যক, প্রচুরক নির্ণয় প্রশ্ন ও উত্তর লিংক
ল.সা.গু, গ.সা.গু প্রশ্ন ও উত্তর লিংক ত্রিভুজক্ষেত্র, বর্গক্ষেত্র প্রশ্ন ও উত্তর লিংক
ঐকিক নিয়ম (কাজ, খাদ্য, সৈন্য)প্রশ্ন ও উত্তর লিংক আয়তক্ষেত্রের বেসিক
সূত্রের অংকসমূহ, সরলরেখা
প্রশ্ন ও উত্তর লিংক
অনুপাত:সমানুপাত প্রশ্ন ও উত্তর লিংক গাছের উচ্চতা/
মিনারের উচ্চতা
প্রশ্ন ও উত্তর লিংক
সংখ্যা পদ্ধতি প্রশ্ন ও উত্তর লিংক
মইয়ের দৈর্ঘ্য/সূর্যের উন্নতি
প্রশ্ন ও উত্তর লিংক
বিগত সালে প্রশ্ন প্রশ্ন ও উত্তর লিংক পরিমাপ ও পরিমান প্রশ্ন ও উত্তর লিংক

নিয়োগ পরীক্ষার নৈবিত্তিক ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান লিংক

কম্পিউটার

প্রশ্ন পরীক্ষায় আসার প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন পরীক্ষায় আসার প্রশ্ন ও উত্তর
তথ্য ও প্রযুক্তি লিখিত প্রশ্ন উত্তরপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক বাংলাদেশের তথ্য

যোগাযোগ প্রযুক্তি
প্রশ্ন ও উত্তর লিংক
কম্পিউটার প্রশ্ন ও উত্তর লিংক সেটেলাইট-১প্রশ্ন ও উত্তর লিংক
LAN, WAN
কম্পিউটার নেটওয়ার্ক
প্রশ্ন ও উত্তর লিংক কম্পিউটার সংক্ষিপ্ত
শব্দের পূর্ণরুপ
প্রশ্ন ও উত্তর লিংক
গুগলপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক বিভিন্ন দেশের ইন্টারনেট স্পীডপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক
৩জি,৪জি, ৫ জি প্রশ্ন ও উত্তর লিংক

নিয়োগ পরীক্ষার নৈবিত্তিক ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান লিংক

General Knowledge (GK) সাধারণ জ্ঞান বিজ্ঞান 

প্রশ্ন পরীক্ষায় আসার প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন পরীক্ষায় আসার প্রশ্ন ও উত্তর
ইতিহাস , সভ্যতা ও সংস্কৃতি প্রশ্ন ও উত্তর লিংক পুরস্কার ও সম্মাননাপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক
গভর্নর জেনারেল ও
ভাইসরয়দের তালিকা
প্রশ্ন ও উত্তর লিংক খেলাধুলাপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক
বাংলার শাসন আমল প্রশ্ন ও উত্তর লিংক জিন-কোষপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক
ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ুপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক বিভিন্ন রোগব্যাধিপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক
বিখ্যাত উক্তিপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক পরিমাপক যন্ত্রপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক
সংক্ষিপ্ত রূপ বা বিস্তারিত শর্তাবলীপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক রসায়নপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক
আন্তর্জাতিক সংস্থার সংক্ষিপ্ত নামপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক ভূগোলপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক
আন্তর্জাতিক দিবস ও জাতীয় দিবসপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক পদার্থ বিজ্ঞানপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক
বিভিন্ন দেশের আয়তন ও রাজধানী প্রশ্ন ও উত্তর লিংক জীববিজ্ঞানপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক
বিভিন্ন দেশের মুদ্রা নামপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক গাণিতিক পরিমাপের এককপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক
বাংলাদেশের আলােচিত ঘটনাবলীপ্রশ্ন ও উত্তর লিংকসাধারণ বিজ্ঞানপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক
সাম্প্রতিক সোস্যাল মিডিয়াপ্রশ্ন ও উত্তর লিংক

নিয়োগ পরীক্ষার নৈবিত্তিক ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান লিংক

লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন ও সমাধান

গণিত লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন ও সমাধানসমাধান / উত্তর লিংক আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী
লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন ও সমাধান
সমাধান / উত্তর লিংক
বাংলাদেশ লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন ও সমাধান সমাধান / উত্তর লিংক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন ও সমাধানসমাধান / উত্তর লিংক
ইংরেজি লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন ও সমাধান সমাধান / উত্তর লিংক মানসিক দক্ষতা লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন ও সমাধান সমাধান / উত্তর লিংক
বাংলা ১ম ও ২য় পত্র লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন ও সমাধানসমাধান / উত্তর লিংক
Paragraph & Composition উত্তর লিংক ভাবসম্প্রসারণ, রচনা উত্তর লিংক
আবেদন পত্র/ Application form উত্তর লিংক প্রবন্ধ, অনুচ্ছেদ রচনা উত্তর লিংক

প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে ইমেল : info@banglanewsexpress.com

আমরা আছি নিচের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুলোতে ও

সবার আগে Google News আপডেট পেতে Follower ক্লিক করুন

চাকুরি

    Leave a Comment