hsc (bou) ১১শ শ্রেণির ৩য় অ্যাসাইনমেন্ট পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র এর সহজ উত্তর, গণতন্ত্রের সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে একটি সারণি প্রস্তুত করুন। আপনি কি মনে করেন গণতন্ত্র একটি আদর্শ শাসন ব্যবস্থা? আপনার বক্তব্যের স্বপক্ষে যুক্তি দিন।

hsc (bou) ১১শ শ্রেণির ৩য় অ্যাসাইনমেন্ট পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র এর সহজ উত্তর, গণতন্ত্রের সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে একটি সারণি প্রস্তুত করুন। আপনি কি মনে করেন গণতন্ত্র একটি আদর্শ শাসন ব্যবস্থা? আপনার বক্তব্যের স্বপক্ষে যুক্তি দিন।

Assignment এইচ এস সি ডিগ্রি ও উন্মুক্ত পরীক্ষা প্রস্তুতি শিক্ষা
শেয়ার করুন:
শ্রেণি: ১১শ/ hsc/ উন্মুক্ত-2021 বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র এসাইনমেন্টেরের উত্তর 2021
এসাইনমেন্টের ক্রমিক নংঃ 03 বিষয় কোডঃ 1857
বিভাগ: মানবিক শাখা
বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস// https://www.banglanewsexpress.com/

এসাইনমেন্ট শিরোনামঃ গণতন্ত্রের সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে একটি সারণি প্রস্তুত করুন। আপনি কি মনে করেন গণতন্ত্র একটি আদর্শ শাসন ব্যবস্থা? আপনার বক্তব্যের স্বপক্ষে যুক্তি দিন।

এসাইনমেন্ট সম্পর্কে প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে Google News <>YouTube : Like Page ইমেল : assignment@banglanewsexpress.com

গণতন্ত্রের সুবিধাসমূহ

বর্তমান সময়ে গণতন্ত্র সর্বোৎকৃষ্ট শাসনব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়। গণতন্ত্রের গুণ বা সপক্ষে সাধারণত নিম্নলিখিত যুক্তিগুলো প্রদর্শন করা হয় ঃ

১। সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতা ঃ ‘সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতা’ এই তিনটি আদর্শের ওপর ভিত্তি করে গণতন্ত্রের ইমারত দাঁড়িয়ে থাকে। গণতন্ত্রে সকলেই সমান, সমানাধিকার নীতিটি শুধু তত্ত্বগতভাবে নয়, বাস্তবেও গৃহীত হতে দেখা যায়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ধনী-দরিদ্র, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই আইনের চোখে সমান এবং সকলেই আইন কর্তৃক সমভাবে সংরক্ষিত হওয়ার সুযোগ পায়।

২। দেশপ্রেম জাগরিত হয় ঃ গণতন্ত্র জনগণের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করতে পারে। কারণ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় প্রত্যেকেই অংশগ্রহণ করতে পারে এবং সকলের স্বার্থ সমভাবে রক্ষিত হয়।

৩। সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও সার্বিক কল্যাণ সাধন সম্ভব ঃ জেরেমি বেন্থাম -এর মতে শাসক ও শাসিতের স্বার্থের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করে সর্বাধিক জনগণের সর্বাধিক মঙ্গল সাধন করাটাই হল সুশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ। শাসিতকে শাসকের পদে উন্নীত করা সম্ভব হলে এ সমস্যার সমাধান করা সহজ হয়। একমাত্র গণতন্ত্রেই শাসিত শাসকের পদে অধিষ্ঠিত হতে পারে এবং এর মাধ্যমে সর্বাধিক জনকল্যাণ সাধিত হতে পারে।

৪। স্থায়িত্ব ঃ অনেকের মতে, স্থায়িত্ব হল গণতন্ত্রের অন্যতম উল্লেখযোগ্য গুণ। জনগণের সম্মতির উপর এরূপ শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত বলে সরকারের প্রতি জনগণ অকুণ্ঠ সমর্থন ও সহযোগিতা প্রদর্শন করে।

৫। সরকারের স্বৈরাচারিতা রোধ করে ঃ গণতন্ত্র জনমত পরিচালিত শাসনব্যবস্থা বলে সরকার জনমতের ভয়ে সাধারণত স্বৈরাচারী হতে পারে না।

৬। বিপ্লবের সম্ভাবনা কম ঃ জনগণের হাতে সরকার পরিবর্তনের ক্ষমতা থাকায় জনগণের অসন্তোষ পুঞ্জীভূত হয়ে রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের আকার ধারণ করতে পারে না।

৭। রাজনৈতিক চেতনা বৃদ্ধির সহায়ক ঃ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় ধনী-দরিদ্র, অভিজাত-অভাজন, স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক এবং সুস্থ বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শাসনকার্য পরিচালনায় অংশগ্রহণ করতে পারে।

৮। দায়িত্বশীলতা ঃ গণতন্ত্রকে বলা হয় দায়িত্বশীল সরকার। শাসিতের সম্মতিতে যেহেতু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত এবং শাসনকার্য পরিচালিত হয় তাই গণতন্ত্র জনগণের নিকট দায়িত্বশীল থাকে। এখানে সরকার মন্ত্রিপরিষদ শাসিত কিংবা রাষ্ট্রপতি শাসিত হোক না কেন জনগণের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

৯। আইনের শাসন ঃ সুশাসনের অন্যতম উপদান হল আইনের শাসন (জঁষব ড়ভ ষধ)ি। আইনের শাসন নীতিটি হল জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের আইনের সমান অধিকার লাভ করা। আইনের শাসন যদি মেনে চলা না হয় তাহলে সে রাষ্ট্রের শান্তি-স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়ে যায়।

পরিশেষে বলা যায় যে, গণতন্ত্রে সকল জনগণের অংশগ্রহণ থাকে বিধায় এ ব্যবস্থার অধীনে তাদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত হয়। এখানে ব্যক্তির মর্যাদা বৃদ্ধি পায়, গণতন্ত্রের মাধ্যমে মানুষ রাজনৈতিক শিক্ষা লাভ করে। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শাসন ক্ষমতা পরিচালনা করে বিধায় নানাবিধ সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বেশিরভাগ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গণতন্ত্রকেই সর্বোৎকৃষ্ট শাসন ব্যবস্থা মনে করেন।

গণতন্ত্রের সীমাবদ্ধতা

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার পক্ষে নানা প্রকার যুক্তি-তর্কের অবতারণা করা হলেও বিরুদ্ধবাদিগণ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে এর সমালোচনা করেন। নিম্নে গণতন্ত্রের কয়েকটি সীমাবদ্ধতা আলোচনা করা হল ঃ

১। অদক্ষদের শাসন ঃ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত হয়। কিন্তু অনেক দেশে জনগণের বিপুল অংশ নানাবিধ অজ্ঞতা, অজ্ঞানতা, কুসংস্কারগ্রস্ত থাকে। এ ধরনের জনসমাজের মধ্য থেকে উঠে আসা জনপ্রতিনিধিদের অনেকের মধ্যেও, এসব দুর্বলতা বিরাজ করে।

২। স্থায়িত্বের অভাব ঃ হেনরী মেইনের মতে, স্থায়িত্বের অভাব গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান ত্রুটি। অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে, জনগণ কর্তৃক পরিচালিত শাসনব্যবস্থায় পরস্পর বিরোধী স্বার্থের দ্বন্দ্ব থাকার ফলে শাসনকার্য যথাযথভাবে পরিচালনা করা সরকারের পক্ষে সম্ভব হয় না।

৩। আমলাদের প্রাধান্য বৃদ্ধি ঃ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধিবর্গ সরকার গঠন করলেও শাসনকার্য পরিচালনার জন্য যে বিশেষ জ্ঞানের প্রয়োজন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাঁদের সে জ্ঞান থাকে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আমলাদের ওপর তাঁদের অত্যধিক পরিমাণে নির্ভর করতে হয়। কিন্তু আমলাদের প্রাধান্য বৃদ্ধির অর্থই হল দীর্ঘসূত্রতা এবং জনস্বার্থ উপেক্ষিত হওয়া।

৪। সৎ ও যোগ্য ব্যক্তির স্থান নেই ঃ অনেকের মতে, গণতন্ত্রে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের স্থান নেই। এরূপ শাসনব্যবস্থায় দলীয় রাজনীতির প্রাধান্য থাকায় সৎ ও যোগ্য অথচ রাজনীতি-বিমুখ ব্যক্তিরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সম্মত হন না।

৫। দলীয় শাসনের কুফল ঃ দল প্রথা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অপরিহার্য অঙ্গ। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের দ্বন্দ্ব অনেক সময় সংঘর্ষে রূপান্তরিত হয়ে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করে।

৬। পুঁজিবাদকে প্রশ্রয় দেয় ঃ অনেকে গণতন্ত্রকে ‘পুঁজিবাদীদের দুর্গ’ বলে অভিহিত করেন। তাঁদের মতে, পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে গণতন্ত্র রাজনৈতিক এবং কিছু পরিমাণে সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠার কথা চিন্তা করলেও অর্থনৈতিক সাম্যের উপর যথেষ্ট গুরুত্ব আরোপ করে না।

৭। সংখ্যালঘুর স্বার্থ উপেক্ষিত হয় ঃ অনেকের মতে, গণতন্ত্র সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন হওয়ার কারণে সংখ্যালঘিষ্ঠরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে আইনসভায় প্রতিনিধি প্রেরণ করতে পারে না। এভাবে তাদের স্বার্থ ক্রমাগত উপেক্ষিত হয়।

৮। ব্যয়বহুল ঃ অনেকে গণতন্ত্রকে ব্যয়বহুল শাসনব্যবস্থা বলে সমালোচনা করেন। জনমত গঠন, নির্বাচন অনুষ্ঠান, প্রচারকার্য প্রভৃতির পেছনে গণতন্ত্রে বিপুল পরিমাণ অর্থের অপচয় হয়।

৯। জরুরি অবস্থার পক্ষে অনুপযোগী ঃ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে প্রতিটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে বহি:শত্রুর আক্রমণ, কিংবা বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনায় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের পক্ষে তা অনেক সময় অনুপযোগী বলে বিবেচিত হয়।

১০। রক্ষণশীল শাসনব্যবস্থা ঃ জনপ্রিয়তা ধরে রাখায় অনেক মনোযোগ দিতে হয় বিধায় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধিরা গতানুগতিকতার উর্ধ্বে উঠতে পারে না।

১১। দীর্ঘসূত্রিতা ঃ অনেকে মনে করেন যে, গণতন্ত্রে কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় সরকার বিভিন্ন বিভাগের সাথে পরামর্শ করে থাকে। এ পরামর্শ বা মতামত থেকে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে অনেক সময় ব্যয় হয়।

পরিশেষে বলা যায় যে, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে যেসব যুক্তির অবতারণা করা হয় তাদের অনেকগুলো ভিত্তিহীন এবং কল্পনাপ্রসূত বলে মনে করা হয়। লর্ড ব্রাইসের মতে, গণতন্ত্র হয়তো বিশ্বমানবের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ জাগরিত করতে পারেনি, হয়তো শ্রেষ্ঠ শিক্ষিত মনকে রাষ্ট্রের কার্যে নিয়োগ করতে সমর্থ হয়নি, হয়তো রাজনীতিকে ত্রুটি মুক্ত করতেও ব্যর্থ হয়েছে, তথাপি একথা সত্য যে, অন্যান্য শাসনব্যবস্থার তুলনায় আজকের গণতন্ত্র নিজেকে অনেকটাই সাধারন মানুষের মনের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

আদর্শ শাসন ব্যবস্থা হিসাবে গণতন্ত্র

প্রাচীনকাল থেকেই রাষ্ট্র পরিচালনায় বিভিন্ন ধরনের শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তিত রয়েছে। নানা ধরনের শাসন ব্যবস্থার মধ্যে গণতন্ত্র অন্যতম। বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার পতনের পর থেকে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা সারা বিশ্বে অন্যান্য শাসন ব্যবস্থা থেকে বেশি জনপ্রিয়। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা হচ্ছে জনগণের সম্মতিভিত্তিক জনকল্যাণমুখী একটি শাসন ব্যবস্থা। আধুনিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থার মূল চালিকা শক্তিই হচ্ছে গণতন্ত্র।

নিম্নে আদর্শ শাসন ব্যবস্থা হিসেবে গণতন্ত্রের স্বরূপ উল্লেখ করা হল ঃ

১। সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন প্রতিষ্ঠিত ঃ গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে যে রাজনৈতিক দল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করে তারাই গণতন্ত্রে সরকার গঠন করে। নির্বাচকমন্ডলী ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে রাজনৈতিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করে।

২। মৌলিক অধিকার স্বীকৃত ঃ গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় জনগণের মৌলিক অধিকার স্বীকৃত ও সংরক্ষিত। জনগণ যদি মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয় তাহলে রাষ্ট্র আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

৩। আইনের শাসন ঃ আইনের শাসন বলতে আইনের প্রাধান্যকে বোঝায়। অর্থাৎ আইন সকলের জন্য সমান। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র জনগণের আইনের অধিকার নিশ্চিত করে। রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিনষ্ট হয় জনগণের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হয়। সবচেয়ে বড় কথা, আইনের শাসনের অভাবে মানুষ ন্যায়বিচার বঞ্চিত হয়।

৪। স্বচ্ছতা ঃ গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে স্বচ্ছতা বিরাজ করে। স্বচ্ছতা বলতে বুঝায়, সরকার যা করছে জনগণ তা জানতে পারে। রাষ্ট্র কর্তৃক যে সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড করা হয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যে সকল চুক্তি সম্পাদন করা হয়, সে সকল বিষয় সম্পর্কে জনগণের কাছে স্বচ্ছতা থাকা দরকার; যেটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সম্ভব।

৫। জবাবদিহিতা ঃ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব তাদের কর্মকান্ডের জন্য জনগণের নিকট জবাবদিহি করে থাকেন। রাজনৈতিক নেতৃত্বের জবাবদিহিতার সংস্কৃতির ধারাবাহিকতাতে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আমলাতন্ত্রসহ অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা চালু থাকে।

৬। নির্বাচন ব্যবস্থা ঃ গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান দিক হল নির্বাচন ব্যবস্থা। এখানে নির্বাচনের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল সরকার গঠন করে। নির্বাচনে পরাজিত পক্ষ বিরোধী দল হিসেবে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে। শক্তিশালী বিরোধী দল থাকলে সরকার স্বৈরচারী হতে পারে না।

৭। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ঃ জনমত প্রকাশের প্রধান বাহন হচ্ছে গণমাধ্যম। গণমাধ্যম স্বাধীন না হলে সরকারের ভালোমন্দ দু’টি দিক জনগণ জানতে পারবে না। জনগণের বিভিন্ন চাহিদা ও অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশ করতে পারে।

৮। জনগণের শাসন ঃ গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাকে জনগণের শাসন বলে অভিহিত করা হয়। এ ধরনের শাসন ব্যবস্থায় নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের মতামত শাসন ব্যবস্থায় প্রতিফলিত হয়। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শাসনকার্য পরিচালনা করে বিধায় গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাকে জনগণের শাসন বলা হয়।

৯। সক্রিয় অংশগ্রহণ ঃ গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের যেমন অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে, তেমনি প্রত্যেক নাগরিকেরও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের অধিকার রয়েছে। এই সুযোগ অন্য কোন ধরনের ব্যবস্থাতে অবারিত থাকে না।

১০। সাংবিধানিক প্রাধান্য ঃ সংবিধানের প্রাধ্যান্য বলতে বুঝায় সংবিধানের উর্ধ্বে আর কোন আইন নেই। সংবিধানকে অমান্য করার এখতিয়ার সরকারের নেই। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় সংবিধানের প্রাধান্যকে স্বীকার করা হয়। এর ফলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকারের স্বেচ্ছাচারী হবার সুযোগ সীমিত।

১১। রাজনৈতিক শিক্ষার বিস্তার ঃ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনগণের রাজনৈতিক শিক্ষার বিস্তার ঘটে। এখানে সরকারি দল ও বিরোধী দল রাজনীতি সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয় জনসাধারণের সম্মুখে উপস্থাপন করে। আইন সভার বির্তক, জনসভা, মিছিল-স্লোগান, টেলিভিশন টকশোসহ নানাবিধ মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক শিক্ষার বিস্তার ঘটে।

১২। ক্ষমতা হস্তান্তরের পদ্ধতি ঃ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ক্ষমতা হস্তান্তরের পদ্ধতি অত্যন্ত সহজ। এ ধরনের রাষ্ট্রে গণবিপ্লব বা অভ্যুত্থানের সুযোগ নেই। সরকারের জনপ্রিয়তা হ্রাস পেলে নির্বাচনের সময় তারা জনগণের ভোট কম পাবে। গণতন্ত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয় সরকার গঠনের জন্য।

সবশেষে বলা যায়, আইনের শাসন, ব্যক্তিস্বাধীনতা, শাসন ক্ষমতায় অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত থাকার কারণে, অনেকেই রাজতন্ত্র, একনায়কতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র বা মৌলবাদী শাসনব্যবস্থার তুলনায় গণতন্ত্রকে অনেক উন্নতর মতাদর্শ হিসাবে চিহ্নিত করে থাকেন।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

সবার আগে Assignment আপডেট পেতে Follower ক্লিক করুন

এসাইনমেন্ট সম্পর্কে প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে Google News <>YouTube : Like Page ইমেল : assignment@banglanewsexpress.com

অন্য সকল ক্লাস এর অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর সমূহ :-

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় SSC এসাইনমেন্ট :

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় HSC এসাইনমেন্ট :

  • ২০২১ সালের SSC / দাখিলা পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ২০২১ সালের HSC / আলিম পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ভোকেশনাল: ৯ম/১০ শ্রেণি পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ২০২২ সালের ভোকেশনাল ও দাখিল (১০ম শ্রেণির) অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • HSC (বিএম-ভোকে- ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স) ১১শ ও ১২শ শ্রেণির অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ২০২২ সালের ১০ম শ্রেণীর পরীক্ষার্থীদের SSC ও দাখিল এসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ২০২২ সালের ১১ম -১২ম শ্রেণীর পরীক্ষার্থীদের HSC ও Alim এসাইনমেন্ট উত্তর লিংক

৬ষ্ঠ শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১ , ৭ম শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১ ,

৮ম শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১ , ৯ম শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১

বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস// https://www.banglanewsexpress.com/

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *