BCS গ্রন্থ সমালোচনা পরার্থপরতার অর্থনীতি,বাংলা গ্রন্থ সমালোচনা পরার্থপরতার অর্থনীতি, পরার্থপরতার অর্থনীতি কাব্যের সার্থকতা আলোচনা,বিসিএস লিখিত পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি পরার্থপরতার অর্থনীতি,পরার্থপরতার অর্থনীতি বিসিএস গ্রন্থ সমালোচনা,পরার্থপরতার অর্থনীতি

আজকের গ্রন্থ সমালোচনা: BCS গ্রন্থ সমালোচনা পরার্থপরতার অর্থনীতি,বাংলা গ্রন্থ সমালোচনা পরার্থপরতার অর্থনীতি, পরার্থপরতার অর্থনীতি কাব্যের সার্থকতা আলোচনা,বিসিএস লিখিত পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি পরার্থপরতার অর্থনীতি,পরার্থপরতার অর্থনীতি বিসিএস গ্রন্থ সমালোচনা,পরার্থপরতার অর্থনীতি

গ্রন্থ সমালোচনা
বইঃ পরার্থপরতার অর্থনীতি
লেখকঃ আকবর আলি খান
প্রকাশকঃ ইউপিএল

কিছু মানুষ পৃথিবীতে এমন থাকেন যারা তাদের জীবনে এত কিছু করেন যে,অনেক লেখক তাদের জীবনী লেখতে ভয় পান।আকবর আলি খানও তাদের একজন।উনার সম্পর্কে বলতে গেলে তিনি ছিলেন একাধারে একজন অর্থনীতিবিদ, আমলা,অধ্যাপক ইত্যাদি।উনার সম্পর্কে বিস্তারিত জানার ইচ্ছা থাকলে গুগলে গিয়ে দেখে আসতে পারেন।কিন্তু তার চেয়েও ভালো হয় উনার কিছু বই পড়েন।

একটা বই,লেখক আকবর আলি খান যার নাম দিয়েছেন ‘পরার্থপরতার অর্থনীতি’;সহজে বললে পরোপকারীতার অর্থনীতি।কতগুলো রচনা উনার ব্যক্তিগত গবেষণা,বক্তব্য ও অভিজ্ঞতার ছাপ হিসেবে প্রবন্ধ রূপে বইটিতে জায়গা পেয়েছে।আকারে নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধগুলো তাৎপর্যের বিচারে অসামান্য।তাই একটা ছোট লেখায় সবগুলা রচনা নিয়ে আলোচনা করা অসম্ভব।এখানে আমি কেবল ‘শিক্ষা ও অর্থনৈতিক অসাম্য’ নামক রচনাটি নিয়ে আলোচনা করব।

এখানে মানুষের জীবনে শিক্ষার সাথে অর্থনীতির সম্পর্ক নিয়ে খবই চমৎকার আলোচনা করা হয়েছে।আজকের শিক্ষাকে তিনি বলছেন, বিপণনযোগ্য পণ্য এবং এর বাখ্যা করতে তিনি লম্বা ইতিহাসও টেনে এনেছেন।শিক্ষার লক্ষ্য ও আদর্শ নিয়ে প্রাচীন গ্রীসে তিন ধরণের মতবাদ প্রচলিত ছিল।


আরো ও সাজেশন:-

একদল দার্শনিক মনে করতেন, শিক্ষা অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার নয়,শিক্ষার লক্ষ্য হল জ্ঞান অর্জন করা।এই মতবাদের প্রবক্তা হলেন সক্রেটিস।তাঁর মতে,যেসব শিক্ষক অর্থ উপার্জনের জন্য পড়িয়ে থাকেন তারা জ্ঞানের জগতে বারবনিতা(এই শব্দের অর্থ জানা না থাকলে ডিকশনারির সাহায্য নিন)।শিক্ষার উদ্দেশ্য অর্থ কামাই নয়।তাই তারমতে পণ্ডিতদের জীবনে দারিদ্র্য হল অত্যন্ত প্রত্যাশিত।

অন্য একদল মনে করতেন, বিদ্যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আয় বাড়িয়ে দেয়।তাই অর্থের বিনিময়ে শিক্ষা প্রদান ন্যায়সংগত।এই দলের নেতা ছিলেন,প্রোটাগোরাস।তিনি শিক্ষার্থীদের পড়িয়ে চড়া মজুরী আদায় করতেন।

তৃতীয় মতবাদের প্রবক্তা ছিলেন এরিস্টিপাস।সক্রেটিস শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনকে দেহব্যবসার সাথে তুলনা করলেও এরিস্টিপাস তার সাথে একমত ছিলেন না।আবার প্রোটাগোরাসের সাথেও তিনি দ্বিমত পোষণ করে বলেন,বিদ্যার উদ্দেশ্য দারিদ্র্যও নয় ঐশ্বর্যও নয়।বিদ্যা আমাদের শিক্ষা দিবে কিভাবে এদের সমন্বয় করতে হবে।

প্রাচীন গ্রীসের মতো চীনেও অনুরূপ বিতর্ক লক্ষ্যনীয়।কনফুসিয়াস ও তার শিষ্যরা অর্থের বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের পড়াতেন।কনফুসিয়াস মনে করতেন,শিক্ষার উদ্দেশ্য হল,ভবিষ্যতের আমলাদের প্রশিক্ষণ প্রদান।যাতে তারা সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারে।আবার দার্শনিক লাও জু বিদ্যার সুফল নিয়ে সন্দিহান ছিলেন।তিনি মনে করতেন,জ্ঞানের প্রসারের সাথে সাথে বদমাশদের সংখ্যা বাড়ছে বৈ কমছে না।বিদ্যা জ্ঞান নয়,বিদ্যানরা দেশ চালালে সর্বনাশ হবে।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

একইভাবে প্রাচীন ভারতের শিক্ষা ব্যাবস্থা নিয়েও যথেষ্ট আলোচনা আছে।প্রাচীন ও মধ্যযুগে বিদ্যা ছিল উচ্চবিত্তের অতি স্বল্পসংখ্যক ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ।কিন্তু আধুনিক সময়ে শিক্ষার বিরাট বিস্ফোরণ ঘটেছে।আজকে শিক্ষার ব্যায় যেমন বেশি তেমনই এর মুনাফার হারের উপর নির্ভর করে বিশেষ শাখাসমুহের এর ব্যাপকতা অপরিসীম।

ঊনবিংশ শতাব্দীর সমাজতান্ত্রিক নেতারা ভেবেছিলেন,শিক্ষার প্রসারের সাথে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির মানুষ বের হবে এবং দরিদ্ররা শিক্ষা অর্জন করলে সামাজিক অসাম্য কমবে।কিন্তু এর কোনটাই হয় নি বরং রাষ্ট্রে সুবিধাভোগী এক বিশেষ শ্রেণীর উদ্ভবের ফলে সামাজিক অসাম্য আরো বৃদ্ধি পায়।জর্জ অরওয়েলের সমাজতন্ত্র নিয়ে একটা কথা এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ;
“All animals are equal but some animals are more equal than others.” (সকল জন্তুই হল সমান,তবে কোনো কোনো জন্তু অন্যদের তুলনায় অধিকতর সমান)

শিক্ষার সাথে সাথে মানুষের সাফল্যের হারও তুলনামূলক বাড়ছে।কিন্তু সাফল্যের সাথে বিপদের আশঙ্কাও বেড়েছে এবং ক্রমশ জ্ঞানভিত্তিক সমাজে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের ব্যবধানও বাড়ছে।এর পিছনে প্রধান দুইটি কারণও তিনি চিহ্নিত করেছেন।

১/অদক্ষ জনশক্তি
২/জ্ঞানের ফারাক

সবার শেষে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের এক্ষেত্রে করণীয় কি তা নিয়েও লেখক আলোচনা করেছেন।পোস্টের দৈর্ঘ্য বিবেচনা করে আমি আর সামনে যাচ্ছি না আপাদত।

একটু ভিন্ন আঙ্গিকে ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গির সাথে পরিচিত হতে চাইলে বইটি অবশ্যই পড়বেন।

ধন্যবাদ,ভাটেরা অনলাইন লাইব্রেরী ও তার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে এমন ভালো একটা বই পড়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য।


প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে ইমেল : info@banglanewsexpress.com

আমরা আছি নিচের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুলোতে ও

Leave a Comment