My Ads
প্রশ্ন: অবচয় ধার্য কী? অবচয় ধার্যের প্রক্রিয়া বা পদ্ধতিসমূহ বর্ণনা করো।
প্রথম অংশ: অবচয় ধার্যের ধারণা (Concept of Depreciation)
১. অবচয় ধার্য কী?
সাধারণ অর্থে, ব্যবসায়ের ব্যবহৃত কোনো স্থায়ী সম্পত্তি (যেমন: যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র, দালানকোঠা ইত্যাদি) ক্রমাগত ব্যবহার, সময়ের আবর্তন, প্রাচীনত্ব বা বাজারমূল্যের পরিবর্তনের কারণে যে স্থায়ী মূল্য হ্রাস পায়, তাকে অবচয় (Depreciation) বলে।
আর হিসাববিজ্ঞানের ভাষায়, স্থায়ী সম্পত্তির এই কমে যাওয়া মূল্যকে সম্পত্তির আনুমানিক আয়ুষ্কালের (Useful Life) মধ্যে নিয়মতান্ত্রিকভাবে বণ্টন করে দেওয়া এবং তা চলতি বছরের আয় বিবরণীতে খরচ হিসেবে দেখানোর প্রক্রিয়াকে অবচয় ধার্য বলে। অবচয় কোনো নগদ খরচ নয়, এটি একটি অ-নগদ আন্তঃপ্রবাহ বা অস্পর্শনীয় খরচ।
২. অবচয় ধার্য করার মূল কারণ বা উদ্দেশ্য
- সঠিক লাভ-ক্ষতি নির্ণয়: ম্যাচিং প্রিন্সিপাল (Matching Principle) অনুযায়ী বছরের আয়ের বিপরীতে ওই আয় অর্জনের পেছনে ব্যবহৃত সম্পত্তির অবচয়কে খরচ হিসেবে দেখাতে হয়।
- সঠিক আর্থিক অবস্থা প্রদর্শন: আর্থিক অবস্থার বিবরণীতে সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য (বহিমূল্য বা Book Value) দেখানোর জন্য অবচয় বাদ দেওয়া জরুরি।
- সম্পত্তি প্রতিস্থাপন তহবিল গঠন: ভবিষ্যতে সম্পত্তিটি অকেজো হয়ে গেলে নতুন সম্পত্তি কেনার জন্য অবচয়ের মাধ্যমে একটি তহবিল তৈরি করা যায়।
দ্বিতীয় অংশ: অবচয় ধার্যের প্রক্রিয়া বা পদ্ধতিসমূহ (Depreciation Methods)
হিসাববিজ্ঞানে অবচয় ধার্য করার জন্য বেশ কয়েকটি প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি রয়েছে। তবে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সিলেবাস এবং বাস্তব ব্যবসায়ের ভিত্তিতে প্রধান ৪টি প্রক্রিয়া নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. সরলরৈখিক পদ্ধতি ২. ক্রমহ্রাসমান জের পদ্ধতি
৩. বর্ষসংখ্যা যোগফলের ৪. উৎপাদন একক পদ্ধতি
My Ads
১. সরলরৈখিক বা স্থির কিস্তি পদ্ধতি (Straight-Line Method)
এই পদ্ধতিতে সম্পত্তির আয়ুষ্কালের প্রতি বছর সমপরিমাণ বা সমান অংকের অবচয় ধার্য করা হয়। এটি অবচয় ধার্যের সবচেয়ে সহজ এবং বহুল ব্যবহৃত প্রক্রিয়া।
আরি পড়ুন ›বাংলাদেশের বাণিজ্য নীতি উদ্দেশ্যসমূহ কি?, বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য নীতি উদ্দেশ্যসমূহ আলোচনা কর,বাংলাদেশের বাণিজ্য নীতি কি?, দেশের বাণিজ্য নীতি কাকে বলে, বাংলাদেশের বাণিজ্যে উদ্দেশ্যবাংলাদেশের বাণিজ্য নীতি উদ্দেশ্যসমূহ কি?, বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য নীতি উদ্দেশ্যসমূহ আলোচনা কর,বাংলাদেশের বাণিজ্য নীতি…
আরি পড়ুন ›ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের পদ্ধতি আলোচনা করব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের পদ্ধতি আলোচনা কর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের পদ্ধতি মূলত কোম্পানির প্রকারভেদ (পাবলিক…
আরি পড়ুন ›বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান বর্ণনা কর, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও বৈশিষ্ট্য, বাংলাদেশের ভৌগোলিকঅবস্থান ও এর সুবিধাবলি বর্ণনা করুন?বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান বর্ণনা কর, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও বৈশিষ্ট্য, বাংলাদেশের ভৌগোলিকঅবস্থান ও এর…
- বৈশিষ্ট্য: প্রতি বছর অবচয়ের পরিমাণ স্থির থাকে। গ্রাফে দেখালে এটি একটি সোজা সরলরেখার মতো দেখায়।
- সূত্র:
My Ads

My Ads
- উদাহরণ: একটি মেশিনের মূল্য ১,০০,০০০ টাকা, ভগ্নাবশেষ মূল্য ১০,০০,০০০ টাকা এবং আয়ুষ্কাল ১০ বছর হলে, প্রতি বছরের অবচয় হবে = $(১,০০,০০০ – ১০,০০০) \div ১০ = ৯,০০০$ টাকা।
২. ক্রমহ্রাসমান জের পদ্ধতি (Diminishing/Reducing Balance Method)
এই পদ্ধতিতে প্রতি বছর সম্পত্তির প্রারম্ভিক বহিমূল্যের (Book Value) ওপর একটি নির্দিষ্ট হারে অবচয় ধার্য করা হয়।
- বৈশিষ্ট্য: সম্পত্তির মূল্য প্রতি বছর কমতে থাকে, তাই অবচয়ের পরিমাণও প্রতি বছর ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়। প্রথম বছর অবচয় সবচেয়ে বেশি হয় এবং শেষের বছরগুলোতে কম হয়। এই পদ্ধতিতে ভগ্নাবশেষ মূল্য সরাসরি বিয়োগ করা হয় না।
My Ads

৩. বর্ষসংখ্যা যোগফল পদ্ধতি (Sum-of-the-Years’-Digits Method)
এটি অবচয় ধার্যের একটি দ্রুত অবলোপন প্রক্রিয়া। এখানে সম্পত্তির আয়ুষ্কালের বছরগুলোর অংকের যোগফল বের করে একটি ভগ্নাংশ তৈরি করা হয় এবং তার ভিত্তিতে অবচয় হিসাব করা হয়।
- বৈশিষ্ট্য: এই পদ্ধতিতেও ক্রমহ্রাসমান জের পদ্ধতির মতো প্রথম বছরগুলোতে অবচয় বেশি এবং পরবর্তী বছরগুলোতে ক্রমান্বয়ে কম হতে থাকে।
My Ads

৪. উৎপাদন একক পদ্ধতি (Units-of-Production Method)
এই পদ্ধতিতে সময়ের ওপর ভিত্তি করে অবচয় ধার্য না করে, সম্পত্তিটি তার জীবদ্দশায় মোট কত একক পণ্য উৎপাদন করতে পারবে বা কত ঘণ্টা চলতে পারবে, তার ওপর ভিত্তি করে অবচয় ধার্য করা হয়।
- বৈশিষ্ট্য: যে বছর উৎপাদন বেশি হবে সে বছর অবচয় বেশি হবে, আর যে বছর উৎপাদন কম হবে সে বছর অবচয় কম হবে। খনি বা ভারী যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে এটি উপযুক্ত।
My Ads

উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, অবচয় ধার্য করা কোনো অনুমাননির্ভর কাজ নয়, এটি একটি নিয়মতান্ত্রিক হিসাবরক্ষণ প্রক্রিয়া। ব্যবসায়ের প্রকৃতি, সম্পত্তির ধরন এবং ব্যবহারের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে সঠিক পদ্ধতিটি নির্বাচন করতে হয়। সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণের মাধ্যমেই একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত লাভ এবং সঠিক আর্থিক চিত্র ফুটিয়ে তোলা সম্ভব।
পরীক্ষার জন্য বিশেষ টিপস: ১০ নম্বরের এই বড় প্রশ্নে ভালো নম্বর পাওয়ার মূল ট্রিক হলো: ১. প্রথম অংশের পর অবচয় ধার্যের পদ্ধতিগুলোর যে ডায়াগ্রাম বা ছকটি উপরে দেওয়া হয়েছে, সেটি পরীক্ষার খাতায় পেন্সিল দিয়ে সুন্দর করে আঁকবেন। ২. প্রতিটি পদ্ধতির বর্ণনার সাথে তার গাণিতিক সূত্রটি স্পষ্ট করে আলাদা লাইনে লিখবেন। শিক্ষকেরা খাতা দেখার সময় এই সূত্রগুলো সবচেয়ে বেশি খেয়াল করেন। ৩. পরীক্ষায় গাণিতিক সমস্যার জন্য সাধারণত ১ নম্বর (সরলরৈখিক) ও ২ নম্বর (ক্রমহ্রাসমান জের) পদ্ধতি দুটি সবচেয়ে বেশি আসে, তাই এই দুটির ওপর বেশি জোর দেবেন।
একাডেমিক শিক্ষা বিষয়ক লিখিত প্রশ্ন সমাধান পেতে ক্লিক করুন।
My Ads
আর্টিকেলের শেষ কথাঃ অবচয় ধার্য কি? অবচয় ধার্যের প্রক্রিয়া বর্ণনা কর
বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস সর্বশেষ আপডেট পেতে Google News অনুসরণ করুন
আরো পড়ুন:
- অবিরত মজুত প্রণালী কি এর সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ লিখ
- চলতি দায় কাকে বলে? চলতি দায়ের বৈশিষ্ট্যসমূহ লিখ
- সমন্বয় ও সমাপনী দাখিলার মধ্যে পার্থক্য আলোচনা কর
- হিসাববিজ্ঞানের নৈতিকতা বলতে কি বুঝ?,হিসাব বিজ্ঞানে নৈতিকতা কি?
- মূল্যবোধ ও জবাবদিহিতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে হিসাববিজ্ঞানের ভূমিকা ও কার্যাবলি আলোচনা কর।
My Ads