মূল্যবোধ ও জবাবদিহিতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে হিসাববিজ্ঞানের ভূমিকা ও কার্যাবলি আলোচনা কর।

Subscribe Now!

সর্বশেষ চাকরির খবর মিস করবেন না! Subscribe - এ ক্লিক করে দেখুন নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি।

My Ads

মূল্যবোধ ও জবাবদিহিতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে হিসাববিজ্ঞানের ভূমিকা ও কার্যাবলি আলোচনা কর।

ভূমিকা

সনাতন ধারণায় হিসাববিজ্ঞানকে কেবল ব্যবসায়ের লাভ-ক্ষতি ও আর্থিক অবস্থা নির্ণয়ের মাধ্যম মনে করা হতো। কিন্তু আধুনিক যুগে হিসাববিজ্ঞানের পরিধি শুধু অংক বা সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বর্তমানে হিসাববিজ্ঞানকে একটি সামাজিক বিজ্ঞান এবং মানবিক চারিত্রিক গুণাবলী বিকাশের হাতিয়ার হিসেবে গণ্য করা হয়। একটি সমাজ ও রাষ্ট্রে সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও নৈতিকতা তথা “মূল্যবোধ” এবং কাজের প্রতি দায়িত্বশীলতা ও স্বচ্ছতা তথা “জবাবদিহিতা” সৃষ্টিতে হিসাববিজ্ঞান অত্যন্ত জোরালো ভূমিকা পালন করে। নিচে এর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো:

প্রথম অংশ: মূল্যবোধ সৃষ্টিতে হিসাববিজ্ঞানের ভূমিকা (Role in Creating Values)

মূল্যবোধ হলো মানুষের আচার-আচরণ পরিচালনাকারী কিছু নীতি, বিশ্বাস ও আদর্শ, যা ভালো-মন্দ বা ন্যায়-অন্যায় নির্ধারণে সাহায্য করে। হিসাববিজ্ঞান মানুষের মধ্যে যেভাবে মূল্যবোধ জাগ্রত করে:

১. সততা ও ন্যায়পরায়ণতা বিকাশ: হিসাববিজ্ঞানের মূল ভিত্তি হলো দু-তরফা দাখিলা পদ্ধতি, যেখানে প্রতিটি আর্থিক লেনদেনের পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা ভাউচার থাকতে হয়। এই নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থার কারণে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে অনৈতিক কাজ বর্জনের মানসিকতা তৈরি হয় এবং সততা বৃদ্ধি পায়।

২. জালিয়াতি ও কারচুপি রোধ: নিয়মিত হিসাবরক্ষণ এবং অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা (Internal Audit) ব্যবস্থার কারণে ব্যবসায়ের অর্থ আত্মসাৎ, চুরি বা হিসাবের খাতায় কারচুপি করার সুযোগ থাকে না। এটি মানুষের ভেতরের অসৎ প্রবণতাকে দূর করে নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করে।

৩. ঋণ পরিশোধের সচেতনতা: হিসাববিজ্ঞান সময়মতো পাওনাদার বা ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও তাগিদ দেয়। এর ফলে ব্যবসায়ের মধ্যে ‘ঋণ খেলাপি’ না হওয়ার এবং চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার ইতিবাচক মানসিকতা বা মূল্যবোধ তৈরি হয়।

৪. কর ফাঁকি না দেওয়ার মানসিকতা: হিসাববিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আয় ও বিক্রয়ের সঠিক চিত্র তুলে ধরে। এর ফলে রাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী সঠিক পরিমাণ আয়কর (Income Tax) ও ভ্যাট (VAT) পরিশোধের মানসিকতা তৈরি হয়, যা নাগরিক মূল্যবোধের একটি বড় অংশ।

৫. সামাজিক দায়িত্ব পালন (Corporate Social Responsibility – CSR): আধুনিক হিসাববিজ্ঞানের একটি শাখা হলো “সামাজিক হিসাববিজ্ঞান”। এটি প্রতিষ্ঠানকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে সমাজের প্রতি তাদের দায়িত্ব রয়েছে। যেমন— পরিবেশ দূষণ রোধ, চ্যারিটি বা জনকল্যাণমূলক কাজে অর্থ ব্যয় করা এবং তা হিসাবে প্রদর্শন করা।

আরো ও সাজেশন:-

Honors Suggestion Linksপ্রশ্ন সমাধান সমূহ
Degree Suggestion LinksBCS Exan Solution
HSC Suggestion Links2016 সাল থেকে সকল জব পরীক্ষার প্রশ্ন উত্তর
SSC ‍& JSC Suggestion Linksবিষয় ভিত্তিক জব পরিক্ষার সাজেশন
গণিত এর সমাথানBook PDF

দ্বিতীয় অংশ: জবাবদিহিতা সৃষ্টিতে হিসাববিজ্ঞানের ভূমিকা (Role in Creating Accountability)

নিজের অর্পিত দায়িত্ব বা কাজের জন্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট কৈফিয়ত বা ব্যাখ্যা দেওয়ার বাধ্যবাধকতাকে জবাবদিহিতা বলে। হিসাববিজ্ঞান তিন স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে:

১. প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কর্মচারীদের জবাবদিহিতা

ব্যবসায়ের ক্যাশিয়ার, স্টোরকিপার বা অন্যান্য কর্মচারীরা কে কত টাকা খরচ করছেন বা পণ্য রাখছেন, তা হিসাবের বইতে নিখুঁতভাবে লেখা থাকে। ফলে বছর শেষে বা নির্দিষ্ট সময় পর প্রত্যেকে নিজের কাজের জন্য ব্যবস্থাপনার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকেন।

২. মালিকের নিকট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা

আধুনিক বড় বড় কোম্পানিতে মালিক (শেয়ারহোল্ডারগণ) নিজে ব্যবসা পরিচালনা করেন না, তারা পরিচালক বা ব্যবস্থাপকদের হাতে দায়িত্ব দেন। হিসাববিজ্ঞান বছর শেষে “আর্থিক বিবরণী” প্রস্তুতের মাধ্যমে মালিকদের জানায় ব্যবস্থাপকেরা তাদের টাকা সঠিকভাবে খাটিয়েছেন কিনা। এর ফলে মালিকের নিকট ব্যবস্থাপনার জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।

৩. সরকারের নিকট প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা

প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রের আইন মেনে চলতে হয়। সরকার বা কর কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত লাভ ও সম্পদের হিসাব প্রদর্শন করতে হয়, যেন সরকার বুঝতে পারে প্রতিষ্ঠানটি আইনসম্মতভাবে ব্যবসা করছে কিনা। হিসাববিজ্ঞান এই রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা নিশ্চিতের একমাত্র মাধ্যম।

ছকের মাধ্যমে সংক্ষেপে উপস্থাপন (পরীক্ষায় অতিরিক্ত নম্বরের জন্য)

পরীক্ষার খাতায় উত্তরের মাঝামাঝি এই ছকটি দিলে খাতার মান অনেক উন্নত হবে:

ক্ষেত্রহিসাববিজ্ঞানের অবদান (এক কথায়)সামাজিক ফলাফল
মূল্যবোধ (Values)ভাউচার ও প্রমাণের ভিত্তিতে হিসাব রাখা।সততা বৃদ্ধি পায়, চুরি ও জালিয়াতি কমে।
সঠিক কর ও ভ্যাট নির্ধারণ।রাষ্ট্রীয় নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধা ও দেশপ্রেম বাড়ে।
জবাবদিহিতা (Accountability)আর্থিক বিবরণী ও অডিট রিপোর্ট প্রকাশ।মালিক, শেয়ারহোল্ডার ও জনগণের আস্থা অর্জন।
বাজেট ও প্রকৃত খরচের তুলনা।অপচয় রোধ ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, হিসাববিজ্ঞান কেবল ব্যবসায়ের লাভ-ক্ষতির খতিয়ানই নয়, বরং এটি সমাজ ও রাষ্ট্রকে সুন্দরভাবে পরিচালনার একটি অন্যতম চালিকাশক্তি। হিসাববিজ্ঞান যদি সমাজে সঠিক তথ্য সরবরাহ না করত, তবে চারদিকে অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি এবং অরাজকতা ছড়িয়ে পড়ত। তাই সমাজ ও ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলে উচ্চ নৈতিক মূল্যবোধ এবং স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত জবাবদিহিতা তরান্বিত করতে হিসাববিজ্ঞানের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

My Ads

পরীক্ষার জন্য বিশেষ টিপস:

১০ নম্বরের এই বড় প্রশ্নে ভালো নম্বর পাওয়ার মূল ট্রিক হলো:

১. উত্তরটিকে দুই ভাগে ভাগ করে লিখবেন— প্রথম অংশে মূল্যবোধ এবং দ্বিতীয় অংশে জবাবদিহিতা

২. জবাবদিহিতার স্তরের যে ডায়াগ্রাম বা ছকটি উপরে দেওয়া হয়েছে, তা পরীক্ষার খাতায় পেন্সিল দিয়ে সুন্দর করে আঁকবেন।

৩. প্রতিটি পয়েন্টের ভেতরে ছোট ছোট বাস্তব উদাহরণ (যেমন: কর ফাঁকি না দেওয়া, ভাউচার মেইনটেইন করা) দিলে পরীক্ষক বুঝতে পারবেন আপনার তাত্ত্বিক বেসিক অত্যন্ত চমৎকার।

My Ads

আর্টিকেলের শেষ কথাঃ মূল্যবোধ ও জবাবদিহিতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে হিসাববিজ্ঞানের ভূমিকা ও কার্যাবলি আলোচনা কর।

আরো পড়ুন:

Leave a Comment

My Ads