Subscribe Now!
সর্বশেষ চাকরির খবর মিস করবেন না! Subscribe - এ ক্লিক করে দেখুন নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি।
My Ads
সমাপনী দাখিলা ও বিপরীত দাখিলা কি? এদের মধ্যে পার্থক্য দেখাও।
প্রথম অংশ: সমাপনী দাখিলা ও বিপরীত দাখিলার ধারণা
১. সমাপনী দাখিলা (Closing Entries)
হিসাববিজ্ঞানের চলমান প্রতিষ্ঠান ধারণা অনুযায়ী ব্যবসায়ের জীবনকালকে নির্দিষ্ট সমকালের (যেমন: ১ বছর) ভিত্তিতে ভাগ করা হয়। একটি নির্দিষ্ট হিসাব বছরের নামিক হিসাব বা অস্থায়ী হিসাবসমূহের (যাবতীয় আয়, ব্যয় এবং উত্তোলন) জের পরবর্তী হিসাব বছরে স্থানান্তর না করে, চলতি বছরের শেষ দিনেই বন্ধ করে দেওয়ার জন্য যে জাবেদা দাখিলা দেওয়া হয়, তাকে সমাপনী দাখিলা বলে।
- উদ্দেশ্য: চলতি বছরের আয়-ব্যয় যেন পরবর্তী বছরের আয়-ব্যয়ের সাথে মিশে না যায় এবং পরবর্তী বছরের শুরুতে যেন নামিক হিসাবগুলোর উদ্বৃত্ত ‘শূন্য’ (০) হয়।
- যেসব হিসাব বন্ধ করা হয়: ১. আয় হিসাব, ২. ব্যয় হিসাব, ৩. আয় বিবরণী বা নিট লাভ/ক্ষতি এবং ৪. উত্তোলন হিসাব।
- উদাহরণ: বেতন হিসাব (ব্যয়) বন্ধ করার জন্য জাবেদা হবে:
আয় বিবরণী/সারসংক্ষেপ ডেবিট এবং বেতন হিসাব ক্রেডিট।
২. বিপরীত দাখিলা (Reversing Entries)
নতুন হিসাব বছরের প্রথম দিন (সাধারণত ১লা জানুয়ারি) বিগত হিসাব বছরের বকেয়া এবং অগ্রিম সংক্রান্ত সমন্বয় দাখিলাগুলোকে উল্টিয়ে বা বিপরীত করে দেওয়ার জন্য যে জাবেদা দাখিলা দেওয়া হয়, তাকে বিপরীত দাখিলা বলে। এটি হিসাব চক্রের একটি ঐচ্ছিক ধাপ।
- উদ্দেশ্য: নতুন বছরে অলিখিত বা বকেয়া লেনদেনগুলোর হিসাবরক্ষণ প্রক্রিয়াকে সহজ করা এবং দুবার হিসাবভুক্ত হওয়ার ভুল এড়ানো।
- যেসব হিসাবের ক্ষেত্রে দেওয়া হয়: মূলত বকেয়া খরচ, বকেয়া আয় এবং অগ্রিম আয়ের ক্ষেত্রে এটি দেওয়া হয়।
- উদাহরণ: গত বছরের শেষ দিনে বকেয়া বেতনের সমন্বয় জাবেদা ছিল:
বেতন হিসাব ডেবিট এবং প্রদেয় বেতন হিসাব ক্রেডিট। নতুন বছরের প্রথম দিনে এর বিপরীত দাখিলা হবে:প্রদেয় বেতন হিসাব ডেবিট এবং বেতন হিসাব ক্রেডিট।
দ্বিতীয় অংশ: সমাপনী দাখিলা ও বিপরীত দাখিলার মধ্যে পার্থক্য
আপাতদৃষ্টিতে দুটি দাখিলাই হিসাবের সমন্বয়ের সাথে জড়িত মনে হলেও এদের সময়কাল, উদ্দেশ্য এবং হিসাবের প্রকৃতির মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। নিচে সুনির্দিষ্ট বিষয়ের ভিত্তিতে এদের পার্থক্য দেখানো হলো:
| পার্থক্যের বিষয় | সমাপনী দাখিলা (Closing Entries) | বিপরীত দাখিলা (Reversing Entries) |
| ১. মূল উদ্দেশ্য | চলতি হিসাব বছরের সমস্ত অস্থায়ী বা নামিক হিসাবগুলোর জের সম্পূর্ণ বন্ধ করা এর মূল উদ্দেশ্য। | নতুন হিসাব বছরে বকেয়া ও অগ্রিম লেনদেনের হিসাবরক্ষণ প্রক্রিয়াকে সহজ ও নিখুঁত করা এর মূল উদ্দেশ্য। |
| ২. প্রদানের সময় | এটি সর্বদা হিসাব বছরের একেবারে শেষ দিনে (যেমন: ৩১শে ডিসেম্বর) দেওয়া হয়। | এটি সর্বদা নতুন হিসাব বছরের একেবারে প্রথম দিনে (যেমন: ১লা জানুয়ারি) দেওয়া হয়। |
| ৩. হিসাবের প্রকৃতি | এটি কেবল অস্থায়ী বা নামিক হিসাবের (আয়, ব্যয় ও উত্তোলন) ওপর প্রয়োগ করা হয়। | এটি সমন্বয় জাবেদার অন্তর্ভুক্ত সুনির্দিষ্ট চলতি সম্পদ ও চলতি দায়ের (বকেয়া ও অগ্রিম) ওপর প্রয়োগ করা হয়। |
| ৪. হিসাবের ওপর প্রভাব | এর ফলে সংশ্লিষ্ট হিসাবগুলোর জের চিরতরে বন্ধ হয়ে যায় এবং উদ্বৃত্ত ‘শূন্য’ হয়ে যায়। | এর ফলে হিসাব বন্ধ হয় না, বরং পরবর্তী হিসাব সংরক্ষণের পথ সুগম হয়। |
| ৫. হিসাব চক্রের অবস্থান | এটি হিসাব চক্রের একটি বাধ্যতামূলক এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। | এটি হিসাব চক্রের একটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক বা ইচ্ছাধীন ধাপ (বাধ্যতামূলক নয়)। |
| ৬. প্রস্তুতের ভিত্তি | এটি মূলত বিষদ আয় বিবরণী প্রস্তুত করার পর তার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়। | এটি পূর্ববর্তী বছরের শেষ দিনে প্রদত্ত ‘সমন্বয় দাখিলা’ (Adjusting Entries)-এর ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়। |
ছকের বাইরে অতিরিক্ত মূল্যায়ন (পরীক্ষায় বাড়তি নম্বরের জন্য)
হিসাব সমীকরণ ($A = L + OE$) এবং এই দুই দাখিলার সম্পর্ক:
- সমাপনী দাখিলা সরাসরি মালিকানা স্বত্ব ($OE$)-কে প্রভাবিত করে। কারণ আয়, ব্যয় ও উত্তোলন বন্ধ করার মাধ্যমে ব্যবসায়ের নিট লাভ বা ক্ষতি চূড়ান্তভাবে মূলধনের সাথে সমন্বয় করা হয়।
- বিপরীত দাখিলা মূলত সম্পদ ($A$) এবং দায় ($L$)-এর সাময়িক পুনর্বিন্যাস করে, যেন নতুন বছরের স্বাভাবিক লেনদেনগুলো করার সময় হিসাবরক্ষকের কোনো জটিলতা তৈরি না হয়।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, সমাপনী দাখিলা হলো একটি হিসাব বছরের সফল সমাপ্তি বা পর্দা টানার প্রক্রিয়া, যা আর্থিক ফলাফল নির্ধারণে আইনিভাবে বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে, বিপরীত দাখিলা হলো নতুন হিসাব বছরের কাজকে ঝামেলামুক্ত ও গতিশীল করার একটি আধুনিক হিসাবরক্ষণ কৌশল। হিসাববিজ্ঞানের শুদ্ধতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই দুই ধরনের দাখিলার গুরুত্ব অপরিসীম।
পরীক্ষার জন্য বিশেষ টিপস:
আরি পড়ুন ›জাবেদা তাৎপর্য বণনা কর, জাবেদা গুরুত্ব প্রয়োজনীয়তা আলোচনা কর, জাবেদা উদ্দেশ্য সমূহ আলোচনা করজাবেদা তাৎপর্য বণনা কর, জাবেদা গুরুত্ব প্রয়োজনীয়তা আলোচনা কর, জাবেদা উদ্দেশ্য সমূহ আলোচনা কর
আরি পড়ুন ›BCS গ্রন্থ সমালোচনা কবি,বাংলা গ্রন্থ সমালোচনা কবি, কবি কাব্যের সার্থকতা আলোচনা,বিসিএস লিখিত পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি কবি,কবি বিসিএস গ্রন্থ সমালোচনাBCS গ্রন্থ সমালোচনা কবি,বাংলা গ্রন্থ সমালোচনা কবি, কবি কাব্যের সার্থকতা আলোচনা,বিসিএস লিখিত পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক…
আরি পড়ুন ›হাইড্রোজেন কে দুষ্ট মৌল বলা হয় কেন? – ব্যাখা | ক্ষার ধাতুর সঙ্গে 1 নং শ্রেণিভুক্ত করার সপক্ষে যুক্তি | হ্যালোজেন মৌলগুলির সঙ্গে 17 নং শ্রেণিভুক্ত করার সপক্ষে যুক্তিহাইড্রোজেন কে দুষ্ট মৌল বলা হয় কেন? – ব্যাখা | ক্ষার ধাতুর সঙ্গে 1…
১০ নম্বরের এই বড় প্রশ্নে ভালো নম্বর পেতে হলে—
১. পার্থক্যের ছকে অন্তত ৬-৭টি পয়েন্ট স্পষ্ট বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে লিখবেন।
২. উত্তরটিকে আরও আকর্ষণীয় করতে ভূমিকার পর বা পার্থক্যের আগে দুটি দাখিলারই একটি করে কাল্পনিক জাবেদার নমুনা (Example) দেখালৈ পরীক্ষক খাতার ওপর অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন।
৩. সমাপনী দাখিলা যে ‘বাধ্যতামূলক’ আর বিপরীত দাখিলা যে ‘ঐচ্ছিক’—এই পয়েন্টটি অবশ্যই পার্থক্যের ছকে হাইলাইট করবেন।
একাডেমিক শিক্ষা বিষয়ক লিখিত প্রশ্ন সমাধান পেতে ক্লিক করুন।
আর্টিকেলের শেষ কথাঃ সমাপনী দাখিলা ও বিপরীত দাখিলা কি? এদের মধ্যে পার্থক্য দেখাও।
বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস সর্বশেষ আপডেট পেতে Google News অনুসরণ করুন
আরো পড়ুন:
আরি পড়ুন ›উপসর্গ কাকে বলে? এদের কাজ কী? কী কী ভাবে এদের প্রয়োগ করা হয়?,উপসর্গ কাকে বলে? উপসর্গ কয় প্রকার ও কী কী? উদাহরণসহ লেখ।,উপসর্গ কী? খাঁটি বাংলা উপসর্গ কয়টি?উপসর্গ কাকে বলে? এদের কাজ কী? কী কী ভাবে এদের প্রয়োগ করা হয়?,উপসর্গ কাকে…
আরি পড়ুন ›মুনাফা সর্বোচ্চ করনের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা গুলো আলোচনা করমুনাফা সর্বোচ্চ করনের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা গুলো আলোচনা কর মুনাফা সর্বোচ্চ করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা বা…
আরি পড়ুন ›১৯৪৭ সালে ভারত কেন বিভক্ত হয়? এটা কি অপরিহার্য ছিল?, কি ঘটনা ও অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত বিভক্ত হয়েছিল? এ বিভক্তি কি অপরিহার্য ছিল?১৯৪৭ সালে ভারত কেন বিভক্ত হয়? এটা কি অপরিহার্য ছিল?, কি ঘটনা ও অবস্থার…
- পণ্যের জীবনচক্রের বিভিন্ন স্তরে গৃহীত বাজারজাতকরণের কৌশলসমূহ বর্ণনা করা
- নতুন পণ্যের ক্ষেত্রে ক্রেতা বা ভোক্তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া বা গ্রহণ প্রক্রিয়া (Adoption Process) বিস্তারিত আলোচনা করো।
- মোড়কীকরণের তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর, মোড়কীকরণ কী? পণ্য বিপণনে মোড়কীকরণের গুরুত্ব বা তাৎপর্য আলোচনা করো।
- একটি প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী ব্র্যান্ড উন্নয়ন কৌশল আলোচনা কর
- সেবার বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর।, সেবার বৈশিষ্ট্যসমূহ ব্যাখ্যা কর।