রমজান মাসে স্বামী স্ত্রী মিলন বৈধ সময় কখন ও নিয়ম

Google Adsense Ads

রমজান মাসে স্বামী স্ত্রী মিলন বৈধ সময় কখন ও নিয়ম, রমজানে স্বামী-স্ত্রীর সহবাসে যে নিয়ম মানতে বলেছে ইসলাম,রমজান মাসে স্ত্রী সহবাসে বাধা নেই তবে মানতে হবে বিধান

যে সব কারণে রোযা নষ্ট হয় তা দুই শ্রেণীর; প্রথম শ্রেণীর কারণ রোযা নষ্ট করে এবং তাতে কাযা ওয়াজেব হয়। আর দ্বিতীয় শ্রেণীর কারণ রোযা নষ্ট করে এবং কাযার সাথে কাফ্ফারাও ওয়াজেব করে।

যে কারণে রোযা নষ্ট হয় এবং কাযার সাথে কাফ্ফারাও ওয়াজেব হয়; তা হলঃ-

১। স্ত্রী-সঙ্গমঃ

সঙ্গম বলতে স্ত্রী-যোনীতে স্বামীর লিঙ্গাগ্র প্রবেশ হলেই রোযা নষ্ট হয়ে যায়; তাতে বীর্যপাত হোক, আর নাই হোক। তদনুরূপ অবৈধভাবে পায়খানা-দ্বারে লিঙ্গাগ্র প্রবেশ করালেও রোযা বাতিল গণ্য হয়।

জ্ঞাতব্য যে, স্ত্রীর পায়খানাদ্বারে সঙ্গম করা মহাপাপ এবং এক প্রকার কুফরী।

বলা বাহুল্য রোযা অবস্থায় যখনই রোযাদার স্ত্রী-মিলন করবে, তখনই তার রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। সুতরাং এ মিলন যদি রমাযানের দিনে সংঘটিত হয় এবং রোযা রোযাদারের জন্য ফরয হয়, (অর্থাৎ রোযা কাযা করা তার জন্য বৈধ না হয়) তাহলে ঐ মিলনের ফলে যথাক্রমে ৫টি জিনিস সংঘটিত হবেঃ-

(ক) কাবীরা গোনাহ; আর তার ফলে তাকে তওবা করতে হবে।

(খ) তার রোযা বাতিল হয়ে যাবে।

(গ) তাকে ঐ দিনের অবশিষ্ট অংশ পানাহার ইত্যাদি থেকে বিরত থাকতে হবে।

(ঘ) ঐ দিনের রোযা (রমাযান পর) কাযা করতে হবে।

(ঙ) বৃহৎ কাফ্ফারা আদায় করতে হবে। আর তা হল, একটি ক্রীতদাসকে দাসত্ব থেকে মুক্তি দিতে হবে। তাতে সক্ষম না হলে, লাগাতার (একটানা) দুই মাস রোযা রাখতে হবে। আর তাতে সক্ষম না হলে, ৬০ জন মিসকীনকে খাদ্যদান করতে হবে।

এ ব্যাপারে মূল ভিত্তি হল, মহান আল্লাহর এই বাণী,

(أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ …) الآية

অর্থাৎ, রোযার রাতে তোমাদের জন্য স্ত্রী-সম্ভোগ হালাল করা হয়েছে। (কুরআনুল কারীম ২/১৮৭)

আর আবূ হুরাইরা কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে বসে ছিলাম। এমন সময় তাঁর নিকট এক ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমি ধ্বংসগ্রস্ত হয়ে পড়েছি।’ তিনি বললেন, ‘‘কোন জিনিস তোমাকে ধ্বংসগ্রস্ত করে ফেলল?’’ লোকটি বলল, ‘আমি রোযা অবস্থায় আমার স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করে ফেলেছি।’ এ কথা শুনে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন, ‘‘তুমি কি একটি ক্রীতদাস মুক্ত করতে পারবে?’’ লোকটি বলল, ‘জী না।’ তিনি বললেন, ‘‘তাহলে কি তুমি একটানা দুই মাস রোযা রাখতে পারবে?’’ সে বলল, ‘জী না।’ তিনি বললেন, ‘‘তাহলে কি তুমি ৬০ জন মিসকীনকে খাদ্যদান করতে পারবে?’’ লোকটি বলল, ‘জী না।’ —[1]

যে মহিলার উপর রোযা ফরয, সেই মহিলা সম্মত হয়ে রমাযানের দিনে স্বামী-সঙ্গম করলে তারও উপর কাফ্ফারা ওয়াজেব। অবশ্য তার ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও স্বামী যদি তার সাথে জোরপূর্বক সহবাস করতে চায়, তাহলে তার জন্য যথাসাধ্য তা প্রতিহত করা জরুরী। রুখতে না পারলে তার উপর কাফ্ফারা ওয়াজেব নয়।

এই জন্যই যে মহিলা জানে যে, তার স্বামীর কামশক্তি বেশী; সে তার কাছে প্রেম-হৃদয়ে কাছাকাছি হলে নিজের যৌন-পিপাসা দমন রাখতে পারে না, সেই মহিলার জন্য উচিৎ, রমাযানের দিনে তার কাছ থেকে দূরে থাকা এবং প্রসাধন ও সাজ-সজ্জা না করা। তদনুরূপ স্বামীর জন্যও উচিৎ, পদস্খলনের জায়গা থেকে দূরে থাকা এবং রোযা থাকা অবস্থায় স্ত্রীর কাছ না ঘেঁষা; যদি আশঙ্কা হয় যে, উগ্র যৌন-কামনায় সে তার মনকে কাবু রাখতে পারবে না। কারণ, এ কথা বিদিত যে, প্রত্যেক নিষিদ্ধ জিনিসই ঈপ্সিত।[2]

পক্ষান্তরে যদি রমাযানের রোযা কাযা রাখতে গিয়ে স্ত্রী-সঙ্গম করে ফেলে, তাহলে তার ফলে কাফ্ফারা নেই। আর তার জন্য ঐ দিনের বাকী অংশ পানাহার ইত্যাদি থেকে বিরত থাকাও জরুরী নয়। অবশ্য তার গোনাহ হবে। কারণ, সে ইচ্ছাকৃত একটি ওয়াজেব রোযা নষ্ট করে তাই।[3]

মুসাফির যদি সফরে থাকা অবস্থায় রোযা রেখে স্ত্রী-সহবাস করে ফেলে, তাহলে তার জন্য কেবল কাযা ওয়াজেব, কাফ্ফারা ওয়াজেব নয়। যেমন, ঐ দিনের বাকী অংশ পানাহার ইত্যাদি থেকে বিরত থাকাও তার জন্য জরুরী নয়। কেননা, সে মুসাফির। আর মুসাফিরের জন্য সফরে রোযা ভাঙ্গা (এবং পরে কাযা করা) বৈধ।

অনুরূপভাবে এমন রোগী, যার রোগের জন্য রোযা ভাঙ্গা বৈধ ছিল; কিন্তু কষ্ট করে সে রোযা রেখেছিল। সে যদি তার স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করে, যে সেই দিনেই মাসিক থেকে পবিত্রা হয়েছে, তাহলে তারও গোনাহ হবে না; অবশ্য কাযা ওয়াজেব।[4]

যে ব্যক্তি যে বৈধ ওযরের ফলে রোযা বন্ধ রেখেছিল, দিনের মধ্যে তার সেই ওযর দূর হয়ে যাওয়ার পর যদি স্ত্রী-সহবাস করে, তাহলে তার জন্য কাফ্ফারা ওয়াজেব নয়। যেমন, কোন মুসাফির যদি দিন থাকতে রোযা না রেখে ঘরে ফিরে দেখে যে, তার স্ত্রী সেই দিনেই (ফজরের পর) মাসিক থেকে পবিত্রা হয়েছে, তাহলে সঠিক মতে তাদের জন্য সঙ্গম বৈধ। এতে স্বামী-স্ত্রীর কোন প্রকার পাপ হবে না। যেহেতু ঐ দিন শরীয়তের অনুমতিক্রমে তাদের জন্য মান্য নয় এবং ঐ দিনে রোযা না রাখাও তাদের পক্ষে অনুমোদিত।[5]

যদি কোন ব্যক্তি সুস্থ অবস্থায় রোযা রেখে স্ত্রী-সহবাস করার পর দিন থাকতেই এমন অসুস্থ হয়ে পড়ে, যাতে তার জন্য রোযা ভাঙ্গা বৈধ, তাহলেও তার জন্য কাফ্ফারা ওয়াজেব; যদিও তার জন্য দিনের শেষভাগে (অসুস্থ হওয়ার পর) রোযা ভাঙ্গা বৈধ। কারণ, সহবাসের সময় সে তাতে অনুমতিপ্রাপ্ত ছিল না।

তদনুরূপ যে ব্যক্তি দিনের প্রথমাংশে সহবাস করার পর সফর করে তাহলে তার জন্যও কাফ্ফারা ওয়াজেব; যদিও সফর করার পরে ঐ দিনেই তার জন্য রোযা ভাঙ্গা বৈধ। কেননা, রোযা ভাঙ্গা বৈধ হওয়ার পূর্বেই সে (রমাযান) মাসের মর্যাদা ক্ষুন্ন করেছে।[6]

যদি কোন ব্যক্তি (কাফ্ফারা থেকে রেহাই পাওয়ার বাহানায়) প্রথমে কিছু খেয়ে অথবা পান করে তারপর স্ত্রী-সঙ্গম করে, তাহলে তার পাপ অধিক। যেহেতু সে রমাযানের মর্যাদাকে পানাহার ও সঙ্গমের মাধ্যমে ডবল করে নষ্ট করেছে। বৃহৎ কাফ্ফারা তার হক্কে অধিক কার্যকর। আর তার ঐ বাহানা ও ছলনা নিজের ঘাড়ে বোঝা স্বরূপ। তার জন্য খাঁটি তওবা ওয়াজেব।[7]

জ্ঞাতব্য যে, রমাযান মাসে দিনে রোযা অবস্থায় সঙ্গম ছাড়া অন্য কোন কারণে সেই ব্যক্তির জন্য কাফ্ফারা ওয়াজেব হয় না, যার জন্য রোযা রাখা ফরয। বলা বাহুল্য, নফল রোযা রেখে, কসমের কাফ্ফারার রোযা রেখে, কোন অসুবিধার ফলে ইহরাম অবস্থায় কোন নিষিদ্ধ কাজ করে ফেললে তার জরিমানার রোযা রেখে, তামাত্তু হজ্জ করতে গিয়ে কুরবানী দিতে না পেরে তার বিনিময়ে রোযা রেখে অথবা নযরের রোযা রেখে স্ত্রী-সহবাস করে ফেললে কাফ্ফারা ওয়াজেব নয়। যেমন সঙ্গম না করে (স্ত্রী-যোনীর বাইরে) বীর্যপাত করে ফেললেও কাফ্ফারা ওয়াজেব নয়।[8] অবশ্য কাযা তো ওয়াজেবই।

জ্ঞাতব্য যে, ব্যভিচার করে ফেললেও সহবাসের মতই কাফ্ফারা ওয়াজেব।[9] তাছাড়া ব্যভিচারের সাজা ও তওবা তো আছেই।

[1] (বুখারী ১৯৩৭, মুসলিম ১১১১নং)

[2] (দ্রঃ আশ্শারহুল মুমতে’ ৬/৪১৫, সাবঊনা মাসআলাহ ফিস্-সিয়াম ৭০নং, ফাইযুর রাহীমির রাহমান, ফী আহকামি অমাওয়াইযি রামাযান ৬১পৃঃ)

[3] (আশ্শারহুল মুমতে’ ৬/৪১৩, আহকামুন মিনাস সিয়াম, ক্যাসেট, ইবনে উষাইমীন)

[4] (আশ্শারহুল মুমতে’ ৬/৪১৩)

[5] (আশ্শারহুল মুমতে’ ৬/৪২১)

[6] (আশ্শারহুল মুমতে’ ৬/৪২২)

[7] (সাবঊনা মাসআলাহ ফিস্-সিয়াম ৪৭নং)

[8] (আশ্শারহুল মুমতে’ ৬/৪২২-৪২৩)

[9] (আল-ফাওয়াইদুল জালিয়্যাহ, ইবনে বায ১১৯পৃঃ)

ইসলামের প্রাথমিক যুগে ইফতারের পরে ঈশা পর্যন্ত পানাহার ও স্ত্রীর সাথে সহবাস বৈধ ছিল। যদি কেউ এর পূর্বে শূয়ে পড়তো। তবে নিদ্রা আসলে পানাহার ও স্ত্রী সম্ভোগ হারাম হয়ে যেত। এর ফলে সাহাবাগন কষ্ট অনুভব করছিলেন।

অতপর আল্লাহ আয়াত নাজিল করে মাগরিব থেকে সুভহে সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত পানাহার ও স্ত্রী সম্ভোগের আদেশ দান করেন।


রাসূল সা: বলেছেন, ইফতার তাড়াতাড়ি কর আর সেহরি বিলম্ব কর। হযরত আনাস (রা:) বলেন আমরা সেহরি খাওয়া মাত্রই নামাজে দাঁড়িয়ে যেতাম।

এখানে একটা বিষয় জ্গাতব্য যে যেহেতু আল্লাহতায়ালা রোজাদারের জন্য স্ত্রীর সহবাস ও পানাহারের সময় সুবেহসাদিক পর্যন্ত নির্ধারন করেছেন কাজেই সকালে যে ব্যাক্তি অপবিত্র অবস্হায় উঠলো সে পবিত্র হয়ে নামাজ আদায় করে রোজা পুরা করে নিল।

যদি গোসল করতে গিয়ে পানাহারের সময় শেষ হয়ে যায় তাহলে ওজু করে সেহরি পুরা করে গোসল করে নামাজ আদায় করে নিবে। কাজেই আপনারা রাতে সহবাস করতে পারেন তবে মনে রাখবেন ফজরের নামাজের পূর্বে অবশ্যই নিজেকে পবিত্র করে নিতে হবে।

অথবা

প্রশ্ন : আমরা রোজা রাখি। রোজার সময় যাঁরা বিবাহিত আছেন, তাঁদের জন্য স্ত্রীর সঙ্গে সহবাসের কোনো নিয়ম আছে কি না।

উত্তর : কোরআনের মধ্যে আল্লাহতায়ালা স্পষ্ট করেছেন, শুধু সুবহে সাদিক থেকে ইফতারের সময় পর্যন্ত আপনি সিয়াম পালন করবেন। এ সময় স্ত্রী সহবাস কেন, সব ধরনের মানবিক চাহিদা বা যৌন চাহিদা কোনোভাবেই আদায় করতে পারবে না। এগুলো সম্পূর্ণ হারাম, যেটি কামনা-বাসনার সঙ্গে সম্পৃক্ত। সেহেতু এ কাজগুলো করা যাবে না। বাকি সময় বা সন্ধ্যার পর থেকে আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী করতে পারবেন।

অথবা

রমজান মাসে স্ত্রী সহবাস নিয়ে ইসলামী বিধান। রোজায় যে জিনিসগুলো থেকে বিরত থাকতে হয় তার মধ্যে একটি হচ্ছে যৌন সম্পর্ক বা সহবাস। কেউ যদি এই কাজটি রোজার দিন করে বসে তবে রোজা ভেঙ্গে যাবে। এর প্রমাণ হচ্ছে সূরা বাকারাতে আল্লাহ্‌র বক্তব্যঃ “রোযার রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে”। [আল-বাকারাঃ ১৮৭] এই আয়াত থেকে প্রমাণিত হয় যে রোজার দিনে সহবাস হালাল করা হয়নি। কোনো স্বামী যদি জোর করে স্ত্রীর সাথে যৌনসম্পর্ক করেন সেক্ষেত্রে স্বামীর রোজা ভেঙ্গে গেলেও স্ত্রীর রোজা ভাঙবে না। এর কারণ আমরা আগে উল্লেখ করেছি। আল্লাহর রাসূল (সা.) ইবন ‘আব্বাস বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ করেছেনঃ “নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ আমার উম্মতের ওপর থেকে ত্রুটিবিচ্যুতি, ভুলে যাওয়া ও জোর করিয়ে করানো কাজকে মার্জনা করেছেন”।

[প্রসঙ্গত আজকাল যেহেতু খবর পাওয়া যাচ্ছে নারীরা জোর করে পুরুষদের বিয়ে করছেন, ভবিষ্যতে পুরুষদের জন্য অনুরূপ ফিকহি আলোচনা করতে হতে পারে।] যৌন সম্পর্ক বলতে শরিআর ভাষায় বোঝানো হচ্ছে পুরুষাঙ্গের (penis) সাথে স্ত্রী-অঙ্গের (vagina) মিলন। এক্ষেত্রে বীর্যপাত শর্ত নয়।

অর্থাৎ এই দুই অঙ্গ সংস্পর্শে আসলেই রোজা ভেঙ্গে যাবে, বীর্যপাতের ঘটনা না ঘটলেও। শায়খ সালেহ ইবন আল-‘উসায়মীন এই মতটিই ব্যক্ত করেছেন। যৌন মিলনের দ্বারা কেউ রোজা ভাঙলে সেই রোজা পরবর্তীতে কাযা করতে হবে এবং “ভারী কাফ্ফারা” দিতে হবে। সেই প্রসঙ্গ পরে আসছে। শারীরিক স্পর্শ বা চুম্বন স্বামী-স্ত্রীর মাঝে কামনাবসত শারীরিক স্পর্শ যেমন fondling বা foreplay অথবা স্রেফ চুমুর কারণে রোজা ভাঙবে না।

Google Adsense Ads

তবে এর ফলে যদি বীর্যপাত ঘটে সেক্ষেত্রে রোজা ভেঙ্গে যাবে। তাই রোজার সময় এগুলো পরিহার করাই উত্তম। চুম্বন যদি কামনাবশত না হয় সেক্ষেত্রে ক্ষতি নেই। স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বীর্যপাত ঘটানো যদি কেউ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নিজের বীর্যপাত (ejaculation) ঘটান সেক্ষেত্রে তার রোজা ভেঙ্গে যাবে। যেমন নিজে হস্তমৈথুনের (masturbation) মাধ্যমে অথবা স্ত্রী কর্তৃক হস্তমৈথুনের মাধ্যমে যদি বীর্যপাত ঘটে তাহলে রোজা ভাঙবে।

কোনো ব্যক্তি যদি যৌনউত্তেজক কোনো কিছু দেখে, শোনে বা পড়ে – এক্ষেত্রে বীর্যপাত ঘটলে তার রোজা ভাঙবে। এক্ষেত্রে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে করা কোনো কাজের ফলে বীর্যপাত ঘটলে রোজা ভাঙবে। এভাবে রোজা ভেঙ্গে গেলে কাযা করাই যথেষ্ট, যৌনমিলনের ক্ষেত্রে যে ভারী কাফ্‌ফারা দিতে হয় সেটি দিতে হবে না। স্বতঃপ্রণোদিতভাবে ঘটানো বীর্যপাতের ফলে যে রোজা ভাঙবে তার প্রমাণ হচ্ছে হাদীস কুদসীতে আল্লাহ বলছেনঃ “সে (বান্দা) আমার জন্যই খাদ্য, পানীয় ও কামনা-বাসনা পরিত্যাগ করে”। [বুখারী] যুক্তিসংগত কারণেই যে ব্যক্তি নিজে উদ্যোগ নিয়ে বীর্যপাত ঘটায় সে কামনা-বাসনা বা “শাহওয়াহ” পরিত্যাগ করল না। তবে বীর্যপাত যদি স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে না হয় সেক্ষেত্রে রোজা ভাঙবে না।

যেমন স্বপ্নদোষের (wet dream) ফলে রোজা ভাঙবে না। কোনো ব্যক্তির চিন্তায় যদি আচমকা কোনো যৌন ভাবনা এসে উদয় হয় বা কোনো যৌন উত্তেজক চিন্তা চলে আসে যা সে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মাথায় আনেনি এবং এর ফলে যদি বীর্যপাত ঘটে সেক্ষেত্রে রোজা ভাঙবে না। মাযী ও মানীর মাঝে পৃথকীকরণ বীর্যপাত প্রসঙ্গে আমাদের দুটি তরলকে আলাদা করতে হবে।

এদের একটি হচ্ছে মাযী (المذي)। মাযী হচ্ছে যেটিকে ইংরেজিতে বলা হয় pre-seminal fluid। এটি একটি স্বচ্ছ পিচ্ছিল পদার্থ যা চূড়ান্ত বীর্যপাতের আগে নিঃসরিত হয় ফোঁটায় ফোঁটায়। মাযী নিঃসরণের ফলে রোজা ভাঙে না (যদি না সেটা যৌনমিলনের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, যেক্ষেত্রে পুরুষাঙ্গের সাথে যোনির মিলনই যথেষ্ট রোজা ভাঙার জন্য)। শুধু মাযী নিঃসরণের ফলে যেহেতু রোজা ভাঙে না, কাযারও প্রশ্ন আসছে না।

যদিও ইমাম মালেকের একটি বর্ণনা অনুযায়ী তিনি মাযী নিঃসরণকে রোজা ভাঙার কারণ হিসেবে দেখেছেন, কিন্তু অধিকাংশ ‘উলামা একে রোজা ভাঙার কারণ হিসেবে দেখেন না। মানী হচ্ছে যাকে ইংরেজিতে বলা হয় semen বা বাংলায় বীর্য। মানী বের হয়ে আসে চূড়ান্ত বীর্যপাতের সময় দফায় দফায়। এটির সাদা থিকথিকে একটি পদার্থ। মানী বের হলেই কেবল রোজা ভাঙবে উপরেল্লিখিত কারণগুলোতে। এ ব্যাপারে কোনো ইখতিলাফ নেই। 

ধর্ম কম

রমজান মাসে স্বামী স্ত্রী মিলন বৈধ সময় কখন ও নিয়ম, রমজানে স্বামী-স্ত্রীর সহবাসে যে নিয়ম মানতে বলেছে ইসলাম,রমজান মাসে স্ত্রী সহবাসে বাধা নেই তবে মানতে হবে বিধান

People also ask

রমজান মাসে সহবাস করা যাবে কি?

রমজান মাস রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এ মাসে দিনের বেলা রোজা রাখা ফরজ, আর রোজা রেখে স্ত্রী সহবাস করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যদি কেউ রোজা রাখা অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে স্ত্রী সহবাস করে, তাহলে তার রোজা ভেঙে যাবে এবং এর পরিবর্তে কাজা ও কাফফারা ওয়াজিব হবে।

দিনের বেলায় সহবাস করা যাবে কি?

“হ্যাঁ, দিনের বেলা সহবাস করা একদম স্বাভাবিক। ইসলামেও এতে কোনো নিষেধ নেই, যদি রোজা না থাকে। দিন বা রাত— সহবাসের বৈধতা নির্ভর করে সময় নয়, বরং শরীরের অবস্থা ও শরিয়তের নিয়মের ওপর।”

খাওয়ার পর সহবাস করলে কি হয়?

ভরাপেটে সহবাস করলে শরীরে কী হয় যখন পেট পুরো ভরা থাকে, তখন শরীরের রক্ত হজমে ব্যস্ত থাকে, ফলে যৌন অঙ্গে রক্তপ্রবাহ কমে যায়। এতে সহবাসে আগ্রহ ও শক্তি কমে যেতে পারে। তাই খাবার খাওয়ার অন্তত ১ ঘণ্টা পর সহবাস করাই ভালো।

স্ত্রী সহবাসে কত ফরজ?

উত্তর : স্বামী স্ত্রী একাধিকবার মিলন করলেও শেষে একবার গোসল করলেই সেটি যথেষ্ট হবে। আনাস রযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই গোসলেই তার সকল স্ত্রীর কাছে যেতেন (ছহীহ মুসলিম, হা/৩০৯)। তবে একাধিকবার মিলন করতে চাইলে দুই মিলনের মাঝে ওযূ করা মুস্তাহাব।

রোজা থাকা অবস্থায় সহবাস করা যায় কি?

রোজা‘ বলা হয়, ‘আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে ফজরের সময়ের শুরু থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাওয়া, পান করা এবং স্ত্রী-সহবাস ইত্যাদি থেকে বিরত থাকা

রমজান মাসে সহবাস করলে কি করবেন?

কেননা, রমজান মাসে দিনের বেলা রোজা অবস্থায় যদি কেউ সহবাসে লিপ্ত হয়— তাহলে তার ওপর নিম্নে উল্লিখিত বিষয়গুলো বর্তাবে। সেগুলো হলো- সে গুনাহগার হবে, তার সেদিনের রোজা নষ্ট হয়ে যাবে, সেদিনের বাকি অংশ পানাহার ও যৌনমিলন থেকে বিরত থাকতে হবে এবং সেদিনের রোজার কাজা করা ওয়াজিব হবে।

রোজা রেখে স্বামী-স্ত্রীকে চুমু খাওয়া যাবে কি?

এর উত্তরে ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, রোজা অবস্থায় স্ত্রীকে চুম দেয়া বা আলিঙ্গন করা ইসলামে জায়েজ। এতে রোজার কোনো অসুবিধা হয় না। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোজা অবস্থায় স্ত্রীকে চুম্বন করতেন, আলিঙ্গনও করতেন। তবে, গোসল ফরজ হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা থাকলে এমনটি করা মাকরুহ।

সহবাস করার পর গোসল না করে সেহেরি খেলে রোজা হবে কি?

রোজা রাখার উদ্দেশ্যে শেষ রাতে ঊষা উদয়ের আগে যে খাবার গ্রহণ করা হয়, তা সেহরি হিসেবে পরিচিত। রোজা রাখার নিয়তে সেহরি খাওয়া সুন্নত। তবে স্বপ্নদোষ বা স্বামী-স্ত্রী সহবাসের পর গোসল করা ফরজ।

Google Adsense Ads

Leave a Comment