যৌনাঙ্গে চুলকানির দশটি কারণ ও তার ঘরোয়া প্রতিকার,যোনি চুলকানি দূর করার ঔষধ, এই গরমে যৌনাঙ্গে চুলকানির দশটি কারণ ও তার ঘরোয়া প্রতিকার

যৌনাঙ্গে চুলকানির দশটি কারণ ও তার ঘরোয়া প্রতিকার,যোনি চুলকানি দূর করার ঔষধ, এই গরমে যৌনাঙ্গে চুলকানির দশটি কারণ ও তার ঘরোয়া প্রতিকার

গোপন সমস্যা স্বাস্থ্য
শেয়ার করুন:

আমরা যারা মেয়ে, আমাদের প্রতিদিন কতই না সমস্যার মোকাবেলা করতে হয়। ঘর থেকে শুরু করে শরীর সব দিক থেকে অনেক ঝামেলায় পড়তে হয়। আজকে মেয়েদের একটি অতি পরিচিত কিন্তু অতি বিব্রতকর একটি সমস্যা নিয়ে আলোচনা করব। আর তা হলো যৌনাঙ্গে ইচিং বা চুলকানি । এটি খুবই কমন একটি অসুখ।

মেয়েরা ৫ থেকে শুরু করে ৬০ বছর বয়সের যে কোন সময় এই সমস্যায় পড়তে পারে। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে প্রত্যেক ৪ জন মহিলার মধ্যে ৩ জনেরই জীবনের কোন না কোন সময় একবার হলেও এই সমস্যায় ভুগে থাকেন। তাই এর গুরুত্বও কম নয়। চলুন আজ এই অসুখটি সম্পর্কে জানি।

যৌনাঙ্গের এই চুলকানির (itching) সমস্যার ঘরোয়া প্রতিকার সম্ভব। যদি আপনার কোন সংক্রমণ হয়ে থাকে তবে মাঝে মাঝে গোপনাঙ্গ দই ব্যবহার করে পরিস্কার করা উচিৎ।

দই-এ উপস্থিত উপাদানগুলি, ঐ জায়গা থেকে ব্যাকটেরিয়া অপসারণে সক্ষম। একইভাবে, আরো কিছু ঘরোয়া প্রতিকার রয়েছে, যা নারী পুরষ উভয়ের ক্ষেত্রেই কার্যকরী। আসুন একবার দেখে নেওয়া যাক, কেন আপনার হাত বারবার চুলকাবার জন্য উদ্যত হয়। এই কারণগুলি জানা থাকলে, নিজে থেকেই আপনাকে, আমাদের দেওয়া ঘরোয়া প্রতিকারগুলিকে মেনে চলতে সাহায্য করবে।

এটি একটি প্যারাসাইট। এটির আক্রমণে যোনিতে চুলকানি হয়।

উপসর্গ

– হলুদ, সবুজ রঙের ও খুব তীব্র বাজে দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব হয়।

– তলপেটে ব্যথ্যা হয়।

– যোনিতে চুলকানি হয়।

৪. এছাড়াও যৌনাঙ্গে উকুন, খোসপাচড়া ও মাইকোপ্লাজমা জেনেটালিয়াম এর সংক্রমণ হলে যোনিতে চুলকানি হয়।

৫. কিছু সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ যেমন – সিফিলিস, গনোরিয়া, এইডস ইত্যাদির কারণে যৌনাঙ্গে ইচিং বা চুলকানি হতে পারে।

৬. বিভিন্ন বিরক্তিকর পদার্থ যেমন – বিভিন্ন ডিটারজেন্ট, কেমিক্যাল, সুগন্ধিযুক্ত সাবান, রঙ ওয়ালা টিশ্যু পেপার, ফেমিনিন হাইজেনিক স্প্রে, ডুশ ব্যবহার করলে যোনিতে চুলকানি হতে পারে।

৭. মেনোপোজের পর মহিলাদের ইস্ট্রোজেন নামক হরমোন কমে যায়। ফলে যোনি শুকিয়ে যায়। এর ফলে বিভিন্ন পরজীবীর সংক্রমণ হয়। ফলে যোনিতে ইচিং হয় ।

৮. ডায়াবেটিস, রেনাল ডিজিজ, একজিমা ও রক্তে কোন রোগ থাকলে ও অন্যান্য কোন রোগ থাকলেও যৌনাঙ্গে চুলকানি হয়।

৯. মাসিকের সময় , অস্বাস্থ্যকর প্যাড ও কাপড় ব্যবহার করলে।

১০. যৌনকর্মীদের এই রোগগুলো বেশি হয়। তাই অবাধ যৌন আচরণের কারণে হয়ে থাকে।

১১. যৌনাঙ্গ সবসময় গরম ও আর্দ্র রাখলে।

১২. অপরিষ্কার থাকলে।

যৌনাঙ্গে চুলকানি প্রতিকার
১. ছত্রাকের সংক্রমণ হলে, এন্টিফাংগাল ওষুধ যেমন – ketoconazole, miconazole, clotrimazole, tioconazole, fluconazole ইত্যাদি ওষুধ খেতে হয় ৩ থেকে ৫ দিন। তবে কিছু ওষুধ একদিনেও কাজ করে। তাই ডোজ ও কতদিন খাবেন তা জানতে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। এছাড়া lactobacillus acidophilus ট্যাবলেট খাওয়া যেতে পারে এর সাথে।

২. ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে এন্টিব্যায়োটিক ড্রাগস খেতে হয়। যে এন্টিবায়োটিকই খান না কেন তা কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ দিন খাবেন।

৩. প্যারাসাইটের সংক্রমণ হলে Metronidazole খেতে পারেন। এছাড়াও vaginal clindamycin cream (clencin) or tinidazole এইগুলো যোনিতে লাগাতে হয়।

৪. বেশি চুলকানি হলে Lidocaine নামক জেল আক্রান্ত স্থানে লাগাতে পারেন। এতে সাময়িক আরাম হবে। কিন্তু পুরা সেরে যাবেনা। তাই ডাক্তারকে দেখাবেন।

৫. চুলকানি কমানোর জন্য এন্টিহিস্টামিন যেমন – fexofenadine, loratadine খেতে পারেন।

যে কোনো প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে Google News <>YouTube : Like Page ইমেল : banglanewsexpress520@gmail.com

৬. এছাড়া প্রদাহ কমাতে steroid cream ব্যবহার করা যেতে পারে।

৭. মেনোপোজের পর চুলকানি হলে ইস্ট্রোজেন সাপোজেটরি যোনিপথে ব্যবহার করা যেতে পারে।

যৌনাঙ্গে চুলকানি প্রতিরোধ
বলা হয়ে থাকে যে কোন অসুখ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ করাই বেশি ভাল। সুতরাং এই রোগটি যাতে আপনার না হয় তাই আগেই সাবধান থাকুন ও নিচের কথাগুলো মেনে চলুন।

১. রঙীন ও বেশি সুগন্ধিযুক্ত টয়লেট টিস্যু ও সাবান যৌনাঙ্গে ব্যবহার করবেন না।

২. ফেমিনিন হাইজিন স্প্রে ও ডুশ ব্যবহার করবেন না।

৩. ভেজা কাপড় পরে বেশিক্ষণ থাকবেন না। গোসল বা ব্যায়ামের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভেজা কাপড়টি পাল্টে নিবেন। যারা সুইমিং পুলে সাঁতার কাটেন তাদের ক্লোরিনের কারণেও ইচিং হতে পারে , তাই সাবধান হন।

৪. আপনার যৌনাঙ্গ পরিষ্কার রাখুন সবসময়। আর প্রসাব বা পায়খানা করার সময় হাত দিয়ে সামনে থেকে পেছনে এই নিয়মে পরিষ্কার করতে হবে। খেয়াল রাখবেন পায়খানার রাস্তার জীবাণু যেন যোনিতে না লাগে।

৫. দই খান, এতে ল্যাকটোব্যাসিলাস নামক উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে।

৬. সুতির কাপড় দিয়ে তৈরি অন্তর্বাস বা পেন্টি পরুন। সিনথেটিক পেন্টি পরবেন না।

৭. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

৮. ওজন কমান।

৯. সহবাসের সময় কনডম ব্যবহার করুন।

যৌনাঙ্গে ইচিং বা চুলকানি প্রতিরোধে কনডম এর ব্যবহার – shajgoj.com

১০. যোনি আর্দ্র ও ভেজা রাখবেন না।

১১. মাসিকের সময় নোংরা কাপড় ব্যবহার করবেন না। পরিষ্কার প্যাড ব্যবহার করুন।

১২. সহবাসের পর যৌনাঙ্গ ভাল ভাবে পরিষ্কার করুন। ধুয়ে ফেলুন।

১৩. সহবাসের পর প্রসাব করুন।

১৪. একাধিক ব্যক্তির সাথে যৌন সহবাস পরিত্যাগ করুন।

১৫. নিয়মিত গোসল করুন।

এই অসুখটি হলে অবশ্যই একজন গাইনোকোলজিস্ট বা একজন ডার্মাটোলজিস্ট বা চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যান। অবহেলা করবেন না বা লজ্জা পাবেন না। কারণ এর ফলে পরবর্তীতে আরও খারাপ কিছু হতে পারে।
মানসিক চাপঃ মানসিক চাপ যৌনাঙ্গে চুলকানির (itching) সম্ভাবনা বাড়য়ে তোলে এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে এটি আরো খারাপ অবস্থার সৃষ্টি করে বা বারংবার যোনিতে চুলকানির (itching) সৃষ্টি করে।

মেনোপোজঃ মেনোপোজ ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমিয়ে দেওয়ার একটা কারণ। এর ফলে যোনি প্রাচীর পাতলা করে দেয় ও লুব্রিকেশন কমিয়ে দেয়, যার পরিণতি হয় যৌনাঙ্গের চুলকানি।

শুষ্ক ত্বকঃ শুষ্ক ত্বক (skin) একটি সাধারণ সমস্যা। নমনীয় থাকার জন্য ত্বকের (skin) আর্দ্রতার প্রয়োজন এবং আপনার বয়স যত বাড়বে, ত্বকের (skin) আর্দ্রতা বজায় রাখা ততোটাই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

ইস্ট জনিত সংক্রমণঃ ইস্ট জনিত সংক্রমণ বা থ্রাস একটি সাধারণ সমস্যা। এই সংক্রমণ ক্য

ানডিডা আলবিকানস নামক ফাংগাল জীবের দ্বারা হয়ে থাকে। ইস্ট জনিত সংক্রমণের আনুসাঙ্গিকভাবে সাদা দই এর মতো স্রাবও দেখা যায়। এটি অ্যান্টিবায়োটিক, জন্মনিয়ন্ত্রক বড়ি, গর্ভাবস্থা, মাসিক, কন্ডোমের ব্যবহার, সহবাস, ডায়াবেটিস এবং দুর্বল ইমিউনিটি সিস্টেমের ফলে হয়ে থাকতে পারে।

রাসায়ানিক উত্তেজকঃ রাসায়ানিক উত্তেজক, যেমন কাপড় কাচার সাবান, কাপড় মোলায়ম করার রাসায়ানিক, মেয়েলি স্প্রে, সুবাসিত স্যানিটারি টাওয়েল, মলম, ক্রীম, ডুস নেওয়া বা গর্ভনিরোধক ফোম বা জেলও যৌনাঙ্গে চুলকানির (itching) কারণ হয়।

দই এর লেপঃ দই এর মধ্যে একটা পট্টিকে ঘণ্টা খানেক ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর এই দই এর লেপ লাগানো পট্টিটি যোনিতে ভালভাবে লাগিয়ে রাখতে হবে ও ১৫ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলতে হবে। এটি আরেকটি ঘরোয়া প্রতিকার।

সীডার ভিনিগারঃ গরম জলের সাথে ২ টেবিল চামচ সীডার ভিনিগার মিশিয়ে যৌনাঙ্গ ভালভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। পুরুষদের যৌনাঙ্গের চুলকানি (itching) থেকে নিস্তার পেতে সপ্তাহে দুইবার এই মিশ্রণের ব্যবহার করতে হবে।

ঠান্ডা ঠান্ডা বরফঃ চুলকানি (itching)থেকে তাৎক্ষনিক রেহাই এর জন্য বরফ বা বরফ-ঠান্ডা জলের সেঁক দিতে হবে। রাতের বেলা যখন এই চুলকানির তীব্রতা খুব বৃদ্ধি পায় তখন এই প্রতিকারটি খুবই কার্যকারী। নারী ও পুরুষ উভয়েরই ক্ষেত্রে এটি একটি দ্রুত প্রতিকার।

নুন জলে স্নানের বিস্ময়কর ফলঃ স্নানের জলে বা বাথ-টাবে ৪ টেবিল চামচ নুন মিশিয়ে নিতে হবে। ওই জলে কমপক্ষে আধা ঘন্টা নিজেকে ভিজিয়ে রেখে বসে থাকতে হবে। এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এই নোনা জল সংক্রমণকারী ব্যাকটেরিয়াগুলিকে বিনাশ করতে সক্ষম। এটিও যৌনাঙ্গের চুলকানি (itching)প্রতিরোধের একটি ঘরোয়া প্রতিকার।

এক টাব জলে তুলসী পাতাঃ টাবের জলে তুলসী পাতা দিন। আধা ঘন্টা পরে নিজেকে ওই জলে ভিজিয়ে নিন। তুলসীপাতায় উপস্থিত বৈশিষ্ঠগুলি, ক্রমবর্ধনশীল ব্যাকটেরিয়ার সাথে লড়ে। এই যৌনাঙ্গে চুলকানির (itching)প্রতিকারটি, নারী পুরুষ উভয়েই ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

সবার আগে আপডেট পেতে Follower ক্লিক করুন

যে কোনো প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে Google News <>YouTube : Like Page ইমেল : info@banglanewsexpress.com

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *