মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ উল্লেখযোগ্য বিষয়, মানি লন্ডারিং কী?, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা ২০১২, মানি লন্ডারিং পাবলিক প্রসিকিউটরদের সীমাবদ্ধতা

প্রশ্ন সমাধান: মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ উল্লেখযোগ্য বিষয়, মানি লন্ডারিং কী?, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা ২০১২, মানি লন্ডারিং পাবলিক প্রসিকিউটরদের সীমাবদ্ধতা,

 মানি লন্ডারিং কী?

অবৈধ অর্থ বা সম্পত্তিকে বৈধ রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়াই হচ্ছে মানি লন্ডারিং। বিভিন্ন দেশ বিভিন্নভাবে মানি লন্ডারিংকে সংজ্ঞায়িত করেছে। বাংলাদেশে অনেকভাবে মানি লন্ডারিং হয়ে থাকে, যেমন বাণিজ্য কারসাজি, হুন্ডি, অনলাইন জুয়া। ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড সহজলভ্য হওয়ায় জুয়ার আগ্রহ বাড়ছে দিন দিন। ফেসবুক পেজ, গ্রুপ, ওয়েবসাইট ও মোবাইলভিত্তিক এনক্রিপ্টেড অ্যাপ দিয়ে চলছে এই জুয়ার সাইটগুলো। বৈধ পথে রেমিট্যান্স বাড়াতে হুন্ডির দৌরাত্ম্য ঠেকাতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংককে অনেক ছাড় দিতে হবে। কারণ, হুন্ডির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসছে। এমনও দেখা গেছে, এলসি না খুলে হুন্ডির মাধ্যম পণ্য আমদানির ফলে সরকার প্রচুর রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। হুন্ডি ব্যবসা চাঙা হওয়া মানেই বৈধ পথে রেমিট্যান্স কমে যাওয়া।

 মূলত আমদানির ক্ষেত্রে ‘ওভার ইনভয়েসিং’ এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে ‘আন্ডার ইনভয়েসিং’ হয়। পণ্য রদবদল, ভার্চ্যুয়াল মুদ্রার মাধ্যমে অর্থ লেনদেন, নিবন্ধিত এবং অনিবন্ধিত মানি চেঞ্জারের মাধ্যমে রপ্তানি আয় দেশে ফেরত না পাঠিয়ে সেটা দিয়ে বিদেশে বাড়ি করা, রপ্তানি উন্নয়ন ফান্ডের অর্থ বিভিন্ন কারসাজির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা মানি লন্ডারিংয়ের অন্তর্ভুক্ত। ব্যাংকের সঙ্গে মিলে ও ব্যাংক কর্মকর্তার সঙ্গে কারসাজি করে মোটা অঙ্কের রপ্তানি বিল দেখিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা হাতিয়ে নেওয়া হয়। বাস্তবে হয়তো এর বিপরীতে কোনো পণ্যই রপ্তানি হয়নি। 

নানা উপায়ে বাণিজ্য কারসাজির মাধ্যমে অর্থ পাচার হয়ে থাকে। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দেশি-বিদেশি আমদানি-রপ্তানি প্রতিষ্ঠানের বড় কর্মকর্তা, প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, এমনকি ব্যাংকও জড়িত থাকে। এসব নানামুখী অপরাধের ধরন অনেক ক্ষেত্রে একজন পুলিশ কর্মকর্তার জন্য তদন্তের সময় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। সে ক্ষেত্রে একজন পাবলিক প্রসিকিউটরের দিকনির্দেশনা তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এসব ক্ষেত্রে আইনের সঠিক ব্যবহার না হলে তদন্তটি দীর্ঘায়িত এবং আইনি জটিলতার সম্মুখীন হতে পারে। দক্ষ প্রসিকিউটরের আইনি পরামর্শ নিয়ে সিআইডির একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নির্ভুলভাবে একটি মামলার তদন্ত করতে পারে। 

পাবলিক প্রসিকিউটরদের সীমাবদ্ধতা

সরকারের হয়ে যেসব আইনজীবী মামলা পরিচালনা করে থাকেন, তাঁদের পাবলিক প্রসিকিউটর বলা হয়। একজন পাবলিক প্রসিকিউটর অনেক ধরনের মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন। যেমন হত্যা মামলা, ডাকাতি মামলা, অস্ত্র মামলা, মাদক মামলা ইত্যাদি। কাজেই মানি লন্ডারিংয়ের মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে যে সময় ব্যয় করা উচিত, তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যৌক্তিক কারণেই তা সম্ভব হয় না। উপরন্তু মানি লন্ডারিং মামলার ধরনগুলো ভিন্ন। বর্তমানে অনলাইন জুয়া মানি লন্ডারিং তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বেড়েছে হুন্ডির ধরন। ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি নজরদারি অনেক বাড়াতে হচ্ছে। সন্দেহজনক লেনদেন এর পরিধি অনেক বেড়েছে।

বিচারিক আদালতই শেষ নয়, মানি লন্ডারিংয়ের মামলা পরে হাইকোর্ট বিভাগ এবং আপিল বিভাগে যায়। মানি লন্ডারিং মামলায় যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে, তাঁরা আর্থিকভাবে শক্তিশালী এবং অনেক ক্ষেত্রে সামাজিকভাবে মর্যাদাবান ব্যক্তি হন। তাঁরা উচ্চ আদালতে মামলার কার্যক্রমকে চ্যালেঞ্জ করেন। এটাকে আইনগতভাবে মোকাবিলার জন্য প্রয়োজন নিজস্ব প্রসিকিউশন ইউনিট। বিষয়গুলো আশা করি সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক মহল অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে ভেবে দেখবে এবং ত্বরিত সিদ্ধান্ত নেবে। 


আরো ও সাজেশন:-

মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ উল্লেখযোগ্য বিষয়

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

ধারাসমূহ

১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন
২ । সংজ্ঞা
৩। আইনের প্রাধান্য
৪ । মানিলন্ডারিং অপরাধ ও দণ্ড
৫। অবরুদ্ধকরণ বা ক্রোক আদেশ লংঘনের দণ্ড
৬। তথ্য প্রকাশের দণ্ড
৭। তদন্তে বাধা বা অসহযোগিতা, প্রতিবেদন প্রেরণে ব্যর্থতা বা তথ্য সরবরাহে বাধা দেওয়ার দণ্ড
৮। মিথ্যা তথ্য প্রদানের দণ্ড
৯। অপরাধের তদন্ত ও বিচার
১০। স্পেশাল জজ এর বিশেষ এখতিয়ার
১১। অপরাধের আমলযোগ্যতা, অ-আপোষযোগ্যতা ও অ-জামিনযোগ্যতা
১২। দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুমোদনের অপরিহার্যতা
১৩। জামিন সংক্রান্ত বিধান
১৪ । সম্পত্তির অবরুদ্ধকরণ (Freezing) বা ক্রোক (Attachment) আদেশ
১৫। অবরুদ্ধকৃত বা ক্রোককৃত সম্পত্তি ফেরত প্রদান
১৬। সম্পত্তির অবরুদ্ধকরণ বা ক্রোক আদেশের বিরুদ্ধে আপীল
১৭। সম্পত্তির বাজেয়াপ্তকরণ
১৮ । বাজেয়াপ্তকৃত সম্পত্তি ফেরত প্রদান
১৯। বাজেয়াপ্তকরণ আদেশের বিরুদ্ধে আপীল
২০। বাজেয়াপ্তকৃত সম্পত্তির নিষ্পত্তিকরণ প্রক্রিয়া
২১ । অবরুদ্ধকৃত, ক্রোককৃত বা বাজেয়াপ্তকৃত সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ব্যবস্থাপক বা তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ
২২। আপীল
২৩। মানিলন্ডারিং অপরাধ দমন ও প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতা ও দায়িত্ব
২৪ । বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU) প্রতিষ্ঠা
২৫ । মানিলন্ডারিং অপরাধ প্রতিরোধে রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থার দায়-দায়িত্ব
২৬। বিদেশী রাষ্ট্রের সহিত চুক্তি
২৭। সত্ত্বা কর্তৃক অপরাধ সংঘটন
২৮ । সরল বিশ্বাসে কৃতকার্য রক্ষণ
২৯। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
৩০ । আইনের ইংরেজী অনুবাদ প্রকাশ
৩১ । রহিতকরণ ও হেফাজত


রচনা ,প্রবন্ধ উত্তর লিংক ভাবসম্প্রসারণ উত্তর লিংক
আবেদন পত্র ও Application উত্তর লিংক অনুচ্ছেদ রচনা উত্তর লিংক
চিঠি Letter উত্তর লিংক প্রতিবেদন উত্তর লিংক
ইমেলEmail উত্তর লিংক সারাংশ ও সারমর্ম উত্তর লিংক
Paragraphউত্তর লিংক Compositionউত্তর লিংক
CVউত্তর লিংক Seen, Unseenউত্তর লিংক
Essayউত্তর লিংক Completing Storyউত্তর লিংক
Dialog/সংলাপউত্তর লিংক Short Stories/Poems/খুদেগল্পউত্তর লিংক
অনুবাদউত্তর লিংক Sentence Writingউত্তর লিংক

প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে ইমেল : info@banglanewsexpress.com

আমরা আছি নিচের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুলোতে ও

Leave a Comment