বাংলাদেশে নারী শিল্পোদ্যোগ উন্নয়নের সম্ভাবনা সম্পর্কে লিখ, বাংলাদেশে নারী শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধাসমূহ বর্ণনা কর, বাংলাদেশে নারী শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধাগুলো তুলে ধর

প্রশ্ন সমাধান: বাংলাদেশে নারী শিল্পোদ্যোগ উন্নয়নের সম্ভাবনা সম্পর্কে লিখ, বাংলাদেশে নারী শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধাসমূহ বর্ণনা কর, বাংলাদেশে নারী শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধাগুলো তুলে ধর

বাংলাদেশে নারী উদ্যোক্তার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, যদি কোনো নারী ব্যক্তি মালিকানাধীন বা প্রোপাইটরী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে স্বত্বাধিকারী বা প্রোপাইটর হন কিংবা অংশীদারি প্রতিষ্ঠান বা জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে নিবন্ধিত প্রাইভেট কোম্পানির পরিচালক বা শেয়ার হোল্ডারগণের মধ্যে ন্যূনতম ৫১% (শতকরা একান্ন ভাগ) অংশের মালিক হন তাহলে তিনি নারী শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে পরিগণিত হবেন।

বাংলাদেশে নারী শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য প্রদত্ত সুযোগ- সুবিধাসমূহ : যে সকল মহিলা বা নারী নতুন কোনো পণ্য, সেবা বা উৎপাদন কৌশলের উদ্ভাবন, ঝুঁকি গ্রহণ ও অর্থ বিনিয়োগপূর্বক পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে কোনো প্রতিষ্ঠান স্থাপন বাংলাদেশে নারী উদ্যোক্তা বলতে যে কোনো একমালিকানা ব্যবসায় স্থাপন অথবা যে কোনো অংশীদারি লিমিটেড কোম্পানিতে কমপক্ষে শতকরা ৯ অংশের মালিকানা |

অর্জন করে অথবা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির পরিচালক হয়ে যে নারী বা মহিলা কোনো ব্যবসায় পরিচালনা করেন তাকে। মহিলা বা নারী শিল্পোদ্যোক্তা বলে। নিম্নে বাংলাদেশে নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপ বর্ণনা করা হলো :

১. মহিলা উদ্যোক্তাদের জন্য নির্ধারিত তহবিল : বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সকল বাণিজ্যিক ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে তাদের প্রদেয় মোট ঋণের একটি নির্দিষ্ট অংশ মহিলা উদ্যোক্তাদের মাঝে বাধ্যতামূলকভাবে বিতরণ করতে হয়। এতে একদিকে যেমন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত সুদৃঢ় হয়, অন্যদিকে উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ ও সামাজিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হয় ।

২. মহিলা উদ্যোক্তাদের ঋণ আবেদন বিবেচনায় অগ্রাধিকার প্রদান : ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ আবেদন গ্রহণ থেকে ঋণ অনুমোদন পর্যন্ত সর্বক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান, প্রয়োজনে এ ধরনের উদ্যোক্তাদের ঋণ আবেদন প্রস্তুতে সহায়তা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এতে অনেক স্বল্প শিক্ষিত ও শিক্ষাবঞ্চিত উদ্যোগী *মহিলা তাদের উদ্যোগমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে সহজেই সম্ভাব্য উৎস থেকে ঋণ সংগ্রহে সক্ষম হচ্ছে।

৩. মহিলা উদ্যোক্তা নির্ধারিত হেল্প ডেস্ক : যে কোনো প্রকল্প বাছাই, উন্নয়ন, ঋণ আবেদন প্রস্তুত, প্রয়োজনীয় ঋণ প্রাপ্তি ইত্যাদিসহ শিল্প কারখানা স্থাপন ও পরিচালনায় যথেষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন জনবলের প্রয়োজন আমাদের দেশে মহিলাগণের মধ্যে এরূপ দক্ষতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। তাই শিল্প কলকারখানা স্থাপন ও পরিচালনায় মহিলা উদ্যোক্তাগণকে প্রয়োজনীয় ধারণাগত, কারিগরি ও আর্থিক বিষয়ে প্রয়োজনীয় উপদেশ পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্য সরকার বাংলাদেশে ব্যাংকসহ শিল্প কলকারখানা অনুমোদন ও স্থাপনে সম্পৃক্ত অন্যান্য সকল সরকারি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাসমূহে প্রয়োজনীয় হেল্প ডেস্ক বা পরামর্শ কেন্দ্র স্থাপনের নির্দেশ প্রদান করেছে ।


আরো ও সাজেশন:-

৪. মহিলা উদ্যোক্তাগণকে স্বল্প সুদ হারে ঋণ প্রদান : বাংলাদেশে মহিলা উদ্যোক্তাগণের অধিকাংশ উদ্যোগই ক্ষুদ্র ও মাঝারি ধরনের। এরূপ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা ব্যয় বেশি হয়ে থাকে। সঙ্গত কারণেই এ খাতে সুদের হার একটু বেশি হওয়ার কথা। তা সত্ত্বেও এরূপ মহিলা উদ্যোক্তাগণকে অন্যান্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তুলনায় স্বল্প সুদের হারে ঋণ দেয়ার সরকারি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে ব্যাংক রেট ৫% । এরূপ ৫% সুদের হারের সাথে পরিচালন ব্যয়ের একটি অংশ সংযুক্ত করে মহিলা উদ্যোক্তগণকে ঋণ মঞ্জুর করার নির্দেশনা জারী আছে।

৫. উদ্যোক্তা নির্বাচনে মহিলা চেম্বারের পরামর্শ গ্রহণ । মৌলিক উদ্যোক্তাগণকে বিভিন্ন ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা প্রদানের সরকারি ঘোষণার প্রেক্ষিতে যথার্থ উদ্যোক্তা, বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাগণের যথাযথ শনাক্তকরণ খুবই জরুরী।

৬. পৃথক ব্যবসায়িক কৌশল উদ্ভাবনের : মহিলা শিল্পোদ্যোক্তা উন্নয়নের জন্য পৃথক ব্যবসায় কৌশল উদ্ভাবনের তাগিদ প্রদান করা হয়েছে। এক্ষেত্রে গতানুগতিক ধারার পরিবর্তে নতুন চিন্তা চেতনা প্রসূত ভিন্নধর্মী ব্যবসায় কৌশল উদ্ভাবন করার উপর সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত গ্রামের ভূমিহীন নারীদের আত্মকর্মসংস্থানমূলক পেশার উপকরণ হিসেবে পল্লী ফোন প্যাকেজ প্রদান করার বিষয়টি উল্লেখ করা যায়। এতে গ্রাম্য ভূমিহীন মহিলা উদ্যোক্তাগণ ব্যবসায়ের নতুন কৌশল গ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

৭. ব্যক্তিগত জামানতের বিপরীতে ঋণ প্রদানের নির্দেশনা বাংলাদেশে মহিলা উদ্যোগ প্রসারে জামানতের অভাবকে একটি অন্যতম বাধা হিসেবে গণ্য করা হয়। কৃষিক্ষেত্রে যেরূপ বর্গাচাষীদের জামানতবিহীন ব্যাংক ঋণ প্রদান করা হয়, তদ্রূপ নারী উদ্যোক্তাদেরকে জামানতবিহীন ঋণ প্রদানে ব্যক্তিগত গ্যারান্টিকে জামানত হিসেবে বিবেচনা করে ২৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা প্রদনের বিষয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রয়োজনীয় সরকারি নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়াও মহিলা উদ্যোক্তাগণের প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য ও যন্ত্রাংশ বন্ধক রেখেও তার বিপরীতে ঋণ প্রদানের বিষয়ে নির্দেশনা জারী করা হয়েছে।

৮. প্রচার : বাংলাদেশে মহিলা উদ্যোক্তা উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে গৃহীত বিভিন্ন বাস্তব পদক্ষেপের পাশাপাশি মহিলা উদ্যোক্তাগণের উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে নানান ধরনের প্রচারণামূলক কর্মসূচি সম্প্রচার করা হচ্ছে। ফলে শিক্ষাবঞ্চিত, স্বল্প শিক্ষিত ও দুঃস্থ মহিলাগণ সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ে গৃহীত উদ্যোগ সহায়ক পদক্ষেপসমূহের বিষয়ে সচেতন হতে পারে এবং এরূপ সুযোগ-সুবিধাসমূহ গ্রহণ করে নিজেদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে সচেষ্ট হতে পারে ।

উপসংহার : উপরের আলোচনার আলোকে এটাই বলা যায় যে, নারীরা কর্মক্ষম হয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ে নিয়োজিত থাকার ধরুন নারীরা আজ শিল্পোদ্যোগী হয়েছে এবং নিজের ও রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক গতি ত্বরান্বিত করছে।

প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে ইমেল : info@banglanewsexpress.com

আমরা আছি নিচের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুলোতে ও

Leave a Comment