প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জ নের জন্য বিভিন্ন উপাদানের সুসংগঠিতকরণ বিশ্লেষণ, ব্যবসায় সংগঠনের ধারণা, মৌলিক নীতিসমূহ প্রকারভেদ ব্যবসায়, বাণিজ্য ও শিল্পের মধ্যে সম্পর্ক বর্ণনা করতে পারবে

প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জ নের জন্য বিভিন্ন উপাদানের সুসংগঠিতকরণ বিশ্লেষণ, ব্যবসায় সংগঠনের ধারণা, মৌলিক নীতিসমূহ প্রকারভেদ ব্যবসায়, বাণিজ্য ও শিল্পের মধ্যে সম্পর্ক বর্ণনা করতে পারবে

এইচ এস সি পরীক্ষা প্রস্তুতি শিক্ষা
শেয়ার করুন:

অ্যাসাইনমেন্ট : প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জ নের জন্য বিভিন্ন উপাদানের সুসংগঠিতকরণ বিশ্লেষণ।

 শিখনফল/বিষয়বস্তু :  

  • ব্যবসায় সংগঠনের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারবে।
  • সংগঠনের মৌলিক নীতিসমূহ বর্ণনা করতে পারবে।
  • ব্যবসায় সংগঠনের প্রকারভেদ বর্ণ না করতে পারবে।
  • ব্যবসায়, বাণিজ্য ও শিল্পের মধ্যে সম্পর্ক বর্ণনা করতে পারবে।

নির্দেশনা (সংকেত/ ধাপ/ পরিধি): 

  • ব্যবসায় সংগঠনের ধারণা ব্যাখ্যা করতে হবে।
  • ব্যবসায় সংগঠনের মৌলিক নীতিসমূহ বর্ণনা করতে হবে।
  • ব্যবসায় সংগঠনের প্রকারভেদ ব্যাখ্যা করতে হবে। 
  • ব্যবসায়, বাণিজ্য ও শিল্পের মধ্যে সম্পর্ক বর্ণনা করতে হবে।

উত্তর সমূহ:

এসাইনমেন্ট সম্পর্কে যে কোন প্রশ্ন আপনার মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে লাইক পেজ : Like Page ইমেল : assignment@banglanewsexpress.com

ব্যবসায় সংগঠনের ধারণা ব্যাখ্যা

ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে প্রাপ্ত উৎপাদন উপকরণসমূহের একত্রিকরণের দ্বারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের কার্যাবলি ও দায়িত্ব-কর্তব্যের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপনের সুসামঞ্জস্যপূর্ণ সমন্বয় সাধনের প্রক্রিয়াকে ব্যবসায় সংগঠন বলে।

সংগঠন হচ্ছে ব্যবস্থাপনার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ। একটি বিশেষ লক্ষ্য অর্জনের জন্য কতিপয় ব্যক্তির মধ্যে আনুষ্ঠানিক যােগাযােগ সৃষ্টি, তাদের কার্যাবলি সনাক্ত করে এগুলাের শ্ৰেণীবদ্ধকরণ, প্রত্যেকের দায়িত্ব ও কর্তব্য বন্টন, তত্ত্বাবধান পরিসর নির্ধারণ এবং প্রয়ােজনীয় উপকরণের সমন্বয়সাধনকে সংগঠন বলে। একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থেকে শুরু করে সর্বনিম্ন স্তরের কর্মী পর্যন্ত প্রত্যেকের কাজ ও দায়িত্ব কি হবে, এদের ভেতরকার সম্পর্ক কতটুকু, দায়িত্ব ও ক্ষমতা থাকবে, কার কি পদ বা পদমর্যাদা হবে তা সবকিছুই নির্ধারণ করার জন্য ব্যবস্থাপনা সংগঠনের সৃষ্টি হয়েছে।

অর্থাৎ সংগঠন হচ্ছে
(১) প্রয়ােজনীয় কাজ চিহ্নিতকরণ ও শ্রেণীবিভাগ করা,
(২) কাজকে উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য প্রয়ােজনীয় ভাগে ভাগ করা,
(৩) প্রত্যেকটি ভাগকে একজন ব্যবস্থাপকের অধীনে তত্ত্বাবধান করার মত কর্তৃত্ব সহযােগে অর্পন করা ও
(৪) সংগঠন কাঠামাের মধ্যে সমান্তরাল ও খাড়াখাড়ি ভাবে সমন্বয়ের ব্যবস্থা করা।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

Organizing শব্দটি “Organizm” থেকে এসেছে। এর অন্তর্নিহিত অর্থ হচ্ছে কতগুলাে পৃথক অংশকে এমনভাবে সমন্বিত করা যার কারণে প্রত্যেকটি অংশের পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে সামগ্রিকভাবে কোন কিছুর সৃষ্টি হয়।

Organizing is the grouping of activities necessary to attain objectives, the assignment of each grouping to a manager with authority necessary to supervise it, and the provision for coordination horizontally and vertically in the enterprise structure

ব্যবসায় সংগঠনের মৌলিক নীতিসমূহ বর্ণনা

নীতি (Principles) হলাে পথ-নির্দেশিকা (guideline)| কোন কার্য সম্পাদনে কতকগুলি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করতে হয়। তা হলে উক্ত কার্যাদি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করা সম্ভব হয়। প্রতিষ্ঠানের সফলতা ও ব্যর্থতা অনেকাংশেই পথ-নির্দেশনার উপর নির্ভর করে। এগুলিকে সংগঠনের নীতিমালা বলে। এ প্রসঙ্গে E.F.L. Brech বলেন, “পদ্ধতিগতভাবে সংগঠন কাঠামাে গঠন করতে হলে সেখানে কতকগুলাে গ্রহণযােগ্য নীতি থাকতে হবে, অর্থাৎ কতকগুলাে স্বীকৃত মৌলিক উপাদান থাকতে হবে, যা প্রতিষ্ঠানের ফলপ্রসূতা নির্ধারণ করবে। কার্যক্ষেত্রে এগুলির অনুপস্থিতি ব্যবস্থাপনার বিচ্যুতি নির্দেশ করে।

(If there is to be a systematic approach to the formulation of organization structure, there ought to be a body of accepted principles, that is to say a set of agreed basic factors which will determine the effectiveness of an organization structure when at work in practice and the absence of which will, generally speaking, lead to deficiences in the working of management) নিচে সংগঠনের নীতিমালা সম্পর্কে আলােকপাত করা হলাে ঃ

১. উদ্দেশ্য নির্ধারণ (Determining Objectives) ঃ সংগঠনের প্রথম নীতি হলাে উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা।

কারণ উদ্দেশ্যের আলােকে ঠিক করা হয় যে, একটি সংগঠন কেমন হবে। উদাহরণস্বরূপ-একটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য এক নয় এবং এদের সংগঠনের ধরনও ভিন্ন প্রকৃতির হবে। তাই ব্যবস্থাপনাকে সংগঠন কাঠামাে নির্ধারণের পূর্বে প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, উদ্দেশ্যের আলােকেই সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে।

২. শ্রম বিভাজন (Division of Labour) ঃ সংগঠনে শ্রম বিভাজনের নীতি প্রয়ােগ করতে হবে। বিভিন্ন বিভাগ ও শাখায় বহু ধরনের নির্বাহী ও কর্মীরা কর্মরত থাকেন। এদের মধ্যে যে যে ধরনের কাজে আগ্রহী ও দক্ষ, তাকে সে-ধরনের কাজেই নিয়ােগ করতে হবে। এতে সকলেই সংশিgষ্ট কাজে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হবে। অফধস ঝসরঃয বলেছেন যে, “কর্মী ও যন্ত্রপাতির সর্বোচ্চ উৎপাদন নিশ্চিত করতে শ্রম বিভাগের প্রয়ােজন।”

”বড় কাজকে ছােট ছােট ভাগে ভাগ করে তা বিভিন্ন লােকের মধ্যে বন্টন করাকে শ্রম বিভাজন বলে।” (Division of labour means dividing large tasks in smaller packages of work to be distributed among several people)

৩. উত্তম যােগাযােগ ব্যবস্থা (Good Communication System) ঃ সংগঠন কাঠামাে ডিজাইন (design) করার সময় যােগাযােগ ব্যবস্থার কথা মনে রাখতে হবে। প্রতিষ্ঠানের বাইরে এবং অভ্যন্তরে অবাধ তথ্য প্রবাহের জন্য যােগাযােগ ব্যবস্থা উপযােগী করে গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি বিভাগের কাজের মধ্যে সুসমন্বয় গড়ে তুলতে হলে যােগাযােগের ধাপসমুহ কাম্য (optimun) পর্যায়ে রাখতে হবে। অর্থাৎ যােগাযােগের ধাপ কম বা বেশী হলে চলবে না। যােগাযােগের ধাপ কম হলে তথ্য প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হবে, আবার বেশী হলে সঠিক তথ্য বিচ্যুতি আকারে কর্মীদের নিকট পৌছাতে পারে। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির যুগে যােগাযােগ ব্যবস্থা সংগঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

৫. কাম্য তত্ত্বাবধান পরিসর ও নিয়ন্ত্রণ ঃ একজন সুপারভাইজার একসাথে সর্বোচ্চ কতজন কর্মীর কাজ ভালভাবে দেখাশুনা ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, সে পরিমাণকে কাম্য তত্ত্বাবধান পরিসর বলে। একটি সুষ্টু সংগঠন কাঠামো প্রণয়নের সময় কাম্য তত্ত্বাবধান পরিসর ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। তত্ত্বাবধান পরিধি বড় হলে একজন নির্বাহীর পক্ষে দক্ষতার সাথে তা পর্যবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধান করা সম্ভব হবে না। আবার, কাম্য পরিধির চেয়ে ছোট হলে সম্পদের অবচয় হবে। এতে দক্ষতার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হয় না। সুতরাং সংগঠন কাঠামো প্রনয়ণে নির্বাহীর যোগ্যতানুযায়ী তত্ত্বাবধান পরিসর নির্ধারণ করতে হবে।

৬. দক্ষতার নীতি ঃ যে প্রতিষ্ঠান যত দক্ষ, সে প্রতিষ্ঠান তত সফল। তাই সাংগঠনিক কাঠামো প্রণয়নে দক্ষতা অর্জনের দিকে সুনজর দিতে হবে।“সর্বনিু পরিমাণ সম্পদ ব্যবহার করে অভিষ্ট লক্ষ্য অর্জন করাই হলো দক্ষতা।” । সুতরাং সংগঠনকে সফল করতে হলে দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

৭. আদেশের ঐক্য ঃ আদেশের ঐক্য হলো এমন একটি পদ্ধতি যেখানে একই সাথে একজন কর্মী একজন নির্বাহীর নিকট থেকে আদেশ গ্রহণ করবে। এ প্রসঙ্গে ঐবহৎু ঋধুড়ষ বলেন, “একজন তত্ত্বাবধায়কের নিকট থেকে একজন কর্মী আদেশ গ্রহণ করবে।”। কারণ একজন কর্মী একাধিক নির্বাহীর নিকট থেকে আদেশ পেলে তাঁর পক্ষে তা শৃংখলার সাথে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তাই সংগঠন কাঠামোর সকল স্তরে যেন এ নীতি অনুসরণ করা হয়, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৮. কর্তৃত্ব ও দায়িত্বের সামঞ্জস্য বিধান: কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। কোন কর্মীকে কাজের কর্তৃত্ব দেয়ার সাথে দায়িত্ব এবং দায়িত্ব দেয়ার সাথে কর্তৃত্বও দিতে হবে। কারণ দায়িত্ব ছাড়া কর্তৃত্ব দিলে কর্তৃত্ব গ্রহনকারী মনোযোগের সাথে দায়িত্ব পালন করবে না। আবার, শুধু দায়িত্ব দিলে কর্তৃত্ব না দিলে কার্য সম্পাদন করা সম্ভব হবে না। এতে তাঁদের মধ্যে হতাশা দেখা দিবে। তাই সংগঠন কাঠামোয় কর্তৃত্ব ও দায়িত্বের সামঞ্জস্য বিধান নীতিটি মনে রাখা প্রয়োজন।

৯. পদ বিশ্লেষণ ও ক্ষমতার্পন : সংগঠন কাঠামো প্রণয়নের সময় বিভিন্ন পদ বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে যে কোন্ পদের জন্য কি ধরনের যোগ্যতাসম্পন্ন লোক প্রয়োজন, তাদের কাজের ধরণ কি হবে এবং সে মোতাবেক তাদেরকে কার্য সম্পাদনের ক্ষমতার্পন করতে হবে। ক্ষমতার্পন ব্যতীত শুধু কাজ করার দায়িত্ব দিলে হবে না। আবার, কাজ করার ক্ষমতার্পন করা হলে তা যেন পদের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়, সেদিকে তীক্ষè দৃষ্টি দিতে হবে।

০. সমন¦য় ও ভারসাম্য নীতি ঃ সংগঠনে বিদ্যমান বিভিন্ন বিভাগ ও শাখা প্রশাখার কার্যক্রমের মধ্যে সুসমন¦য় ও ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। অর্থাৎ কোন বিভাগের কাজ বেশী আবার কোন বিভাগের কাজ যেন কম না হয়। তাহলেই সংগঠনে শৃংখলা বজায় থাকবে।

১১. শৃংখলা ও নিয়মানুবর্তিতা ঃ সংগঠনে এমন নিয়ম-নীতি ও শৃঙখলা সৃষ্টি ও প্রচলন করতে হবে যেন প্রত্যেকে নিজ নিজ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে চালিয়ে যায় এবং অধস্তনরা উর্ধতনদের কথামত কাজ করে। কোন প্রকার অনিয়ম ও বিশৃংখলার স্থান যেন সংগঠনে না হয়।

১২. সহজ-সরল কাঠামো ঃ সংগঠন কাঠামো এমন হতে হবে যেন সকলের নিকট তা সহজেই বোধগম্য হয়। কাঠামোর মধ্যে উল্লেখিত কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব, জবাবদিহিতা ইত্যাদি সম্পর্কে কর্মীরা সহজে বুঝতে না পারলে জটিলতা দেখা দিবে।

১৩. উপদেষ্টার ব্যবহার ঃ প্রতিষ্ঠানে দু’ধরনের কর্মকর্তা থাকতে পারে সরলরৈখিক কর্মকর্তা ও উপদেষ্টা কর্মকর্তা। উপদেষ্টাগণ প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা। তাঁরা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন জটিল বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করে থাকে। এতে করে সরলরৈখিক কর্মকর্তাগণ অতি সহজেই কার্যসম্পাদন করতে পারেন। সুতরাং সংগঠন কাঠামোতে উপদেষ্টা ব্যবহারের সুযোগ রাখতে হবে।

১৪. নেতৃত্বের বিকাশ নীতি ঃ সংগঠন এমন হওয়া উচিত যাতে নিচের স্তরের নির্বাহীগণের উপরের স্তরে পদোন্নতি পেয়ে নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ থাকে। একই পদে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করলে নির্বাহীদের মধ্যে কাজের প্রতি অনীহা আসে এবং তারা হতাশায় ভোগে। তাই নির্বাহীগণ যাতে উপরের দিকে উঠতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

ব্যবসায় সংগঠনের প্রকারভেদ ব্যাখ্যা

মানুষের বিভিন্নমুখী চাহিদা পূরণের জন্য যুগে যুগে মালিকানা ও বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের কারণে বিভিন্ন প্রকারের ব্যবসায় সংগঠন গড়ে উঠেছে। মুনাফা অর্জনের সাধারণ উদ্দেশ্যের মধ্যে মিল থাকলেও প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য, আওতা, আয়তন ও কার্যক্ষেত্রের ভিত্তিতে এদের মধ্যে পার্থ্ক্য পরিলক্ষিত হয়। মালিকানার ভিত্তিতে ব্যবসায় সংগঠনগুলোকে নিম্নোক্তভাবে ভাগ করা যায় :

১. এক মালিকানা ব্যবসায়

২. অংশীদারি ব্যবসায়

৩. যৌথ মূলধনী ব্যবসায় বা কোম্পানী সংগঠন

৪. সমবায় সমিতি

৫. রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়

একমালিকানা ব্যবসায়ের ধারণা ( Concept of Sole Proprietorship Business)

সাধারণভাবে একজন ব্যক্তির মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়কে একমালিকানা ব্যবসায় বলে। একক মালিকানায় পৃথিবীতে সর্বপ্রথম ব্যবসায় কার্য্ক্রম শুরু হয়েছিল।এজন্য এটিকে সবচেয়ে প্রাচীনতম ব্যবসায় সংগঠন বলা যায়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বলা যায়,মুনাফা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে যখন কোনো ব্যক্তি নিজ দায়িত্বে মূলধন যোগাড় করে কোনো ব্যবসা গঠন ও পরিচালনা করে এবং উক্ত ব্যবসায়ে অর্জিত সকল লাভ নিজে ভোগ করে বা ক্ষতি হলে নিজেই তা বহন করে, তখন তাকে একমালিকানা ব্যবসায় বলে।একমালিকানা ব্যবসায় গঠন অত্যন্ত সহজ।

যে কোনো ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে স্বল্প অর্থ নিয়ে এ জাতীয় কারবার শুরু করতে পারেন এবং অধিক অর্থও বিনিয়োগ করতে পারেন। আইনের চোখে একমালিকানা ব্যবসায়ের তেমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।গ্রামে-গঞ্জে, হাট-বাজার বা রাস্তার পাশে কিংবা নিজ বাড়িতে যে কেউ ছোট-খাটো ব্যবসা শুরু করতে পারে।তবে শহরে বা পৌরসভা এলাকায় উদ্যোক্তাকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করে ব্যবসা আরম্ভ করতে হয়। আমাদের দেশের অধিকাংশ ব্যবসায় সংগঠন একমালিকানার ভিত্তিতে গঠিত। শুধু তাই নয়, ইউরোপ ও আমেরিকার প্রায় ৮০% ব্যবসায় এক মালিকানাভিত্তিক। আমাদের দেশের সাধারণ মুদি দোকান, চায়ের দোকান, সবজি দোকান, অধিকাংশ খুচরা দোকান একক মালিকানার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

অংশীদারি ব্যবসায়ের ধারণা ( Concept of Partnership Business)

ব্যবসায় জগতে একমালিকানা ব্যবসায় সবচেয়ে প্রাচীন ও জনপ্রিয় হলেও একক মালিকের মূলধনের স্বল্পতা, অসীম দায়, ব্যবসায়ের ক্ষুদ্র আওতা ইত্যাদি সীমাবদ্ধতার জন্য ব্যবসায়ের পরিধি আরো বৃদ্ধি ও ঝুঁকি কমিয়ে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ব্যবসায় করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

ফলে একাধিক ব্যক্তি মিলে নিজেদের পুঁজি ও সামর্থ্য একত্রিত করে যে নতুন ধরনের ব্যবসায় সংগঠন গড়ে উঠে তাকেই অংশীদারি ব্যবসায় বলে অভিহিত করা হয়। মূলত: একমালিকানা ব্যবসায়ের অসুবিধাগুলো দূর করার প্রয়োজনই অংশীদারি ব্যবসায় বলে অভিহিত করা হয়। মূলত একমালিকানা ব্যবসায়ের অসুবিধাগুলো দূর করার প্রয়োজনেই অংশীদারি ব্যবসায়ের উদ্ভব হয়।

যৌথ মূলধনী ব্যবসায়ের ধারণা (Concept of Joint Stock Companies)

একমালিকানা ব্যবসায়ের মাধ্যমে বিশ্বের বুকে ব্যবসায়ের যে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল কালক্রমে তা আর একমালিকানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি।একমালিকানা ব্যবসায়ের বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা বিশেষ করে মূলধনের স্বল্পতা ও একক পরিচালনা ও ক্ষুদ্র আয়তনের জন্য অংশীদারি ব্যবসায়ের উৎপত্তি হয়। কিন্তু অংশীদারি ব্যবসায়ও মূলধনের সীমাবদ্ধতা, আইনগত সীমাবদ্ধতা, স্থায়িত্বহীনতা ও অসীম দায়ের ভার থেকে মুক্ত হতে পারেনি।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি (Private Limited Company)

যে কোম্পানির সদস্যসংখ্যা সর্বনিম্ন ২জন এবং সর্বোচ্চ ৫০জনে সীমাবদ্ধ এবং যার শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযোগ্য নয় তাকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বলে। বাংলাদেশে প্রচলিত ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনে বলা হয়েছে, ‘প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বলতে এমন কোম্পানিকে বোঝায় যার সদস্য সংখ্যা ৫০জনে সীমাবদ্ধ। সদস্যদের শেয়ার হস্তান্তর অধিকার সীমিত এবং শেয়ার ও ঋণপত্র ক্রয়ের জন্য জনগণের নিকট আমন্ত্রণ জানানো নিষিদ্ধ’ অর্থাৎ কোম্পানীর সদস্যগণ শুধু নিজেরাই শেয়ার ক্রয় করতে পারেন। সদস্য সংখ্যা ও মূলধনের পরিমাণ সীমিত হওয়ার কারণে এ জাতীয় কোম্পানির আয়তন অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র হয়ে থাকে।আইন অনুযায়ী এ কোম্পানীর পরিচালকের সংখ্যা ন্যুনতম ২ হতে হবে। বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির সংখ্যা প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সমবায় সমিতির ধারণা (Concept of Cooperative Society)

সমবায়ের শাব্দিক অর্থ হলো সম্মিলিত উদ্যোগে বা প্রচেষ্টায় কাজ করা। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা ও চিন্তা থেকেই সমবায়ের উৎপত্তি। শিল্পবিপ্লব ও প্রযুক্তিনির্ভর বৃহদায়তন ব্যবসায় সংগঠনের বিকাশের ফলে পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থার ভিত যত মজবুত হতে থাকে, এর প্রভাবে সমাজের অর্থনৈতিক বৈষম্যও দেখা দিতে থাকে। স্বল্পবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে দূরাবস্থার সম্মুখীন হতে থাকে।

রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ের ধারণা (Concept of the State Enterprise)

সাধারণ অর্থে সরকার কর্তৃক গঠিত,পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়কে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় বলে।এরুপ ব্যবসায় রাষ্ট্র কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।আবার ব্যক্তিমালিকানাধীন যে কোনো ব্যবসায়কে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে জাতীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ে রুপান্তরিত করতে পারে।সাধারণত দেশে অধিক শিল্পায়ন,অধিক কর্ম্ সংস্থান সৃষ্টি, মুদ্রা ও ব্যাংকিং ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণ, প্রাকৃতিক সম্পদসহ সকল সম্পদের সুষম বণ্টন ও ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এবং বিশেষ কিছু জনকল্যাণমূলক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে।তাছাড়া দেশরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য অস্ত্র নির্মাণ শিল্পের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখার উদ্দেশ্যেও রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠা ও পরিচালিত হয়ে থাকে। বর্ত্ মানে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই রাষ্ট্রীয় পরিচালনায় বেশ কিছু ব্যবসায় পরিচালিত হয়ে থাকে।

ব্যবসায়, বাণিজ্য ও শিল্পের মধ্যে সম্পর্ক

ব্যবসায়ের ধারণা : সাধারণ অর্থে ব্যবসায় হল মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্য কমমূল্যে পণ্যসামগ্রী ক্রয় করে বেশী মূল্যে তা অন্যের নিকট বিক্রয় করা। কিন্তু প্রকৃত অর্থে, ব্যবসায় শুধুমাত্র পণ্য-দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর অর্থ আরও ব্যাপক ও বিস্তৃত। পণ্য সামগ্রী ও সেবা উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তা বা ব্যবহারকারীর কাছে পৌছে দেয়া পর্যন্ত যাবতীয় বৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডই ব্যবসায়। সুতরাং ব্যাপক অর্থে বলা যায়, বৈধ উপায়ে মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ করে তা দ্বারা ব্যবহারোপযোগী পণ্য-সামগ্রী ও সেবাক্রম উৎপাদন, উৎপাদিত পণ্যের বন্টন (গুদামজাতকরণ, পরিবহন, বীমা, ব্যাংকিং, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ইত্যাদি) এবং প্রত্যক্ষ সেবা সংক্রান্ত মানবীয় কার্যাবলীকে ব্যবসায় বলে।

ব্যবসায় প্রকৃতি প্রকৃতি হল কোন কিছুর স্বভাব বা সহজাত বৈশিষ্ট্য বা তার ধরন, চলন, বলন, রীতিনীতি প্রভৃতি। মানুষের বহুবিধ অভাব পূরনের লক্ষ্যে মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পণ্য ও সেবা কর্মের উৎপাদন, বন্টন, ক্রয়-বিক্রয়, প্রত্যক্ষ সেবাদান সম্পর্কিত পৌনঃ পুনিক কার্যাবলী ব্যবসায়ের সহজাত বৈশিষ্ট্য। নিুে ব্যবসায়ের কতগুলো সহজাত বৈশিষ্ট্য বা স্বভাব বর্ণনা করা হলো, যার দ্বারা ব্যবসায়ের প্রকৃতি ফুটে উঠবে ঃ

১. মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যেই ব্যবসায় পরিচালিত হয়, জনসেবার জন্য নহে।

২. প্রাকৃতিক সম্পদ সংগ্রহ এবং এর দ্বারা মানুষের ব্যবহারোপযোগী পণ্যদ্রব্য ও সেবা উৎপাদন ব্যবসায়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

৩. ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা ব্যবসায়ের আরেকটি স্বভাব। মুনাফা অর্জন প্রধান উদ্দেশ্য হলেও মুনাফা না হয়ে লোকসান হতে পারে, উৎপাদিত দ্রব্য বিক্রয় নাও হতে পারে, পরিবহন, গুদামজাতকরণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে পণ্যদ্রব্য নষ্ট বা চুরি হতে পারে। অর্থাৎ ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা ব্যবসায়ের প্রধান সাথী।

৪. অর্থনৈতিক কর্মকলাপের বা লেন-দেনের ধারাবাহিকতা বা পৌনঃ পুনিকতা ব্যবসায়ের আরেকটি অন্যতম সহজাত বৈশিষ্ট্য। হঠাৎ করে ২/১ টি লেনদেন হলে উহকে ব্যবসায় বলা যায় না। ব্যবসায়িক লেনদেন বা কর্মকান্ড অবশ্যই পৌনঃ পুনিক।

৫. ব্যবসায়ী বিক্রয়ের উদ্দেশ্যেই পণ্য বা সেবা উৎপাদন বা সংগ্রহ করে। তাই বিক্রয়ের অভিপ্রায় ব্যবসায়ের আরেকটি বৈশিষ্ট্য।

শিল্পের: যে প্রক্রিয়া বা কর্ম প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রকৃতি থেকে সম্পদ আহরণ এবং বিভিন্ন উপায়ে ও পর্যায়ে আহরিত সম্পদের আকার বা রূপগত উপযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের ব্যবহার উপযোগী পণ্য উৎপাদন করা হয় তাকে শিল্প বলে। শিল্প উৎপাদনের বাহন এবং ব্যবসায়ের উৎপাদনকারী শাখা। অর্থাৎ মানুষের প্রয়োজন পূরণের জন্য বিভিন্ন পণ্য বা সেবা সামগ্রী উৎপাদন করাই শিল্পের কাজ। অর্থনীতির ভাষায় উৎপাদন বলতে বিক্রয়যোগ্য উপযোগ সৃষ্টিকে বুঝায়। অর্থনীতিতে ধরে নেয়া হয় যে, মানুষ কোন কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না; প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদ সংগ্রহ ও এতে উপযোগ বা অভাব পূরণের সক্ষমতা সৃষ্টি করতে পারে মাত্র। তাই প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদ সংগ্রহ বা এর ব্যবহার করে বিক্রয়যোগ্য উপযোগ সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে শিল্প বলা হয়ে থাকে।

শিল্পের বৈশিষ্ট্য

পণ্য বা সেবা উৎপাদন প্রক্রিয়াকে সাধারণত শিল্প বলে। কিন্তু বাস্তবপক্ষে মানুষ কিছুই উৎপাদন করতে পারে না। কেবল প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদের রূপগত উপযোগ সৃষ্টি করতে পারে মাত্র। শিল্প কর্ম প্রচেষ্টার যে সকল বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয় তা নিম্নে আলোচিত হলোঃ

১। উৎপাদনকারী শাখাঃ শিল্প হলো ব্যবসায়ের উৎপাদনকারী শাখা। ক্রেতা বা ভোক্তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী উৎপাদন করাই শিল্পের কাজ। সব শ্রেণির মানুষ সাবান ব্যবহার করে। কাঁচামাল ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করে যেই প্রতিষ্ঠান সাবান উৎপন্ন করছে সেটাই সাবান প্রস্তুতকারী শিল্প।

২। রূপগত উপযোগ সৃষ্টিঃ শিল্প ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে মূলত রূপগত উপযোগ সৃষ্টি করে। বন থেকে কাঠ সংগ্রহ করে তা থেকে কাঠ চেরাই করা হচ্ছে। তা থেকে আসবাবপত্র তৈরী হচ্ছে। কাঠ চেরাইয়ের মাধ্যমে যেমনি কাঠের রূপ পরিবর্তন হয়েছে তেমনি আসবাবপত্র তৈরীর মাধ্যমেও কাঠের রূপে পরিবর্তন এসেছে।

৩। কেন্দ্রীভূত কার্যঃ ব্যবসায়ের উৎপাদনকারী এ শাখার কর্ম সাধারণত নির্দিষ্ট স্থানে কেন্দ্রীভূত থাকে। একটি ঔষধ কোম্পানীর বিক্রয় বা বাজারজাতকরণ কাজ দেশে বিদেশে বিস্তৃত হতে পারে কিন্তু এর উৎপাদন কার্য দেখা যাবে একটি নির্দিষ্ট স্থানে কেন্দ্রীভূত।

৪। পরিবর্তনশীলতাঃ শিল্প প্রাকৃতিক সম্পদ, অর্ধপ্রস্তুত পণ্য বা সম্পন্ন পণ্যকে মানুষের ব্যবহারের উপযোগী অন্যান্য পণ্যে রূপান্তরিত করে। কিন্তু শিল্প সর্বদা সম্পদের পরিবর্তনের সাথে নিজের কার্যবলীকে সম্পৃক্ত রাখে।

৫। স্থানান্তর যোগ্যতাঃ স্থানান্তর যোগ্যতা শিল্পের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এটি প্রাকৃতিক সম্পদ এবং উৎপাদিত পণ্য দ্রব্যকে এক রূপ হতে অন্য রূপে স্থানান্তর করে

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল  কপিরাইট: (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

বাণিজ্যের ধারণা: বাণিজ্য ব্যবসায়ের অন্যতম শাখা। সাধারণভাবে পণ্য উৎপাদনের পর থেকে বাণিজ্যের কার্যক্রম শুরু হয়। অর্থাৎ শিল্পে উৎপাদিত পণ্য ভোক্তার নিকট পৌছানো পর্যন্ত পথিমধ্যে যেসব বাধা বা প্রতিবন্ধকতা আসে তা দূরীকরণের যাবতীয় কার্যক্রমকে বাণিজ্য বলে। আবার কৃষকের নিকট হতে পাট সংগ্রহ করে শিল্প বা মিল মালিকের নিকট পরবর্তী অধিক উৎপাদনের জন্য সরবরাহ করাও বাণিজ্যের আওতাভুক্ত হবে। অতএব এক শিল্প হতে উৎপাদিত সামগ্রী পরবর্তী উৎপাদনের জন্য অন্য শিল্পে বা শিল্পে উৎপাদিত ভোগ্য পণ্য প্রকৃত ভোগকারীর নিকট পৌছানোর ক্ষেত্রে যে সকল কার্যাবলী সম্পাদন করতে হয় তার সমষ্টিকে বাণিজ্য বলে।

বাণিজ্যের বৈশিষ্ট্য: শিল্পে উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী পরবর্তী শিল্পে বা প্রকৃত ভোগকারীর নিকট পৌছানোর ক্ষেত্রে যে সকল কাজ সম্পাদিত হয় তার সমষ্টিকে বাণিজ্য বলে। নিম্নে এর বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচিত হলোঃ

বন্টনকারী শাখা ঃ বাণিজ্য ব্যবসায়ের বণ্টনকারী শাখা হিসাবে বিবেচিত। ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে শিল্প পণ্য উৎপাদন করে ভোগকারী বা ব্যবহারকারীদের জন্য। শিল্প এ কাজে বাণিজ্যিক কর্মকান্ড বা ক্রয় বিক্রয় ও এর সহায়ক কার্যাবলীর উপর নির্ভর করে। ইউনিলিভার তাদের কারখানায় প্রসাধনী সামগ্রী উৎপাদন করে। দেশের সকল অঞ্চলের গ্রাহকদের নিকট এ সকল পণ্য পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বাণিজ্যই তাদের মুখ্য অবলম্বন। আবার কাঁচামাল ও উপকরণ সংগ্রহেও তারা বাণিজ্যের উপর নির্ভরশীল।

বিকেন্দ্রীভুক্ত কাজ ঃ শিল্প থেকে পরবর্তী ব্যবহারকারী বা ভোগকারীদের নিকট পণ্য পৌঁছাতে বাণিজ্যিক কর্মকান্ড শহরের কেন্দ্র থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। শিল্পের কাজ যেভাবে শিল্পকেন্দ্রে কেন্দ্রীভূত থাকে এ ক্ষেত্রে তার সুযোগ নেই। বিআরবি তাদের কুষ্টিয়ায় প্রতিষ্ঠিত শিল্পে বিভিন্ন কেবল উৎপাদন করছে। কিন্তু তা বিক্রয় হচ্ছে দেশের সর্বত্র।

ব্যক্তিগত ও সহায়ক উপযোগ সৃষ্টি ঃ বাণিজ্য মূলত ব্যক্তিগত বা স্বত্বগত উপযোগ সৃষ্টি করে। অর্থাৎ উৎপাদনকারী ও ভোগকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান হওয়ায় উৎপাদনকারী থেকে তা ভোগকারীর মালিকানায় যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে। চলতি মূলধনের আধিক্য ঃ বাণিজ্যের প্রধান অঙ্গ হলো ক্রয়-বিক্রয়। আর এ কাজে চলতি মূলধনের বেশী প্রয়োজন পড়ে। শিল্প মালিককে ভূমি, দালান কোঠা, যন্ত্রপাতি ইত্যাদির পিছনে প্রচুর বিনিয়োগ করতে হয়। একজন ট্রের্ডাসকে তা করতে হয় না।

সহজে বিনিয়োগ স্থানান্তরের সুযোগ ঃ বাণিজ্যিক কর্মকান্ডের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে দ্রুত বিনিয়োগ স্থানান্তরের সুযোগ এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। “দোকান বিক্রয় হবে”, “ব্যবসায় পরিবর্তন হেতু মূল্য হ্রাস” ইত্যাদি ঘোষণা এর উদাহরণ।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল  কপিরাইট: (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

এসাইনমেন্ট সম্পর্কে যে কোন প্রশ্ন আপনার মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে লাইক পেজ : Like Page ইমেল : assignment@banglanewsexpress.com

  • ২০২১ সালের SSC পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ২০২১ সালের HSC পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ২০২১ সালের ৯ম/১০ শ্রেণি ভোকেশনাল পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ২০২১ সালের HSC (বিএম-ভোকে- ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স) ১১শ ও ১২শ শ্রেণির অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ২০২২ সালের ১০ম শ্রেণীর পরীক্ষার্থীদের SSC ও দাখিল এসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ২০২২ সালের ১১ম -১২ম শ্রেণীর পরীক্ষার্থীদের HSC ও Alim এসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ৬ষ্ঠ শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১ লিংক
  • ৭ম শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১ লিংক
  • ৮ম শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১ লিংক
  • ৯ম শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১ লিংক

এখানে সকল প্রকাশ শিক্ষা বিষয় তথ্য ও সাজেশন পেতে আমাদের সাথে থাকুন ।

আমাদের YouTube এবং Like Page

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *