জনসংখ্যা সমস্যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করে মূল্যায়ন কর ।, বাংলাদেশের বাণ্যিজ্যিক ভূগোল (বাংলাদেশের জনসম্পদ)

জনসংখ্যা সমস্যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করে মূল্যায়ন কর ।, বাংলাদেশের বাণ্যিজ্যিক ভূগোল (বাংলাদেশের জনসম্পদ)

এইচ এস সি পরীক্ষা প্রস্তুতি শিক্ষা
শেয়ার করুন:
শ্রেণি: HSC ইন কমার্স -2021 বিষয়: বাণিজ্যিক ভূগোল এসাইনমেন্টের 2021
এসাইনমেন্টের ক্রমিক নংঃ 03
বিষয় কোডঃ 1717
বিভাগ: ভোকেশনাল

এসাইনমেন্ট শিরোনামঃ জনসংখ্যা সমস্যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করেমূল্যায়ন কর ।

শিখনফল/বিষয়বস্তু :

  • বাংলাদেশের বাণ্যিজ্যিক ভূগোল (বাংলাদেশের জনসম্পদ)

নির্দেশনা (সংকেত/ ধাপ/ পরিধি): 

  • জনসংখ্যা সমস্যার ধারণা ব্যাখ্যা করতে হবে
  • জনসংখ্যা সমস্যার কারণ ও তার প্রতিকার ব্যাখ্যা করতে হবে
  • অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারণা লিখতে হবে
  • জনসংখ্যা সমস্যার সাথে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে হবে।

এসাইনমেন্ট সম্পর্কে যে কোন প্রশ্ন আপনার মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে YouTube : Like Page ইমেল : assignment@banglanewsexpress.com

  • জনসংখ্যা সমস্যার ধারণা ব্যাখ্যা করতে হবে

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম প্রধান ঘনবসতিপূর্ণ রাষ্ট্র। জনসংখ্যার বিস্ফোরণ (চড়ঢ়ঁষধঃরড়হ ঊীঢ়ষড়ংরড়হ) বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করছে। বাংলাদেশে উন্নয়নের এমন কোন ক্ষেত্র নেই যেখানে জনসংখ্যাধিক্যের বিরূপ প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয় না। দেশের চরম দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, নিম্ন জীবন মান, উচ্চ বেকারত্ব, স্বাস্থ্যহীনতা, অপরাধ প্রবণতা, বাসস্থান সমস্যা, খাদ্য ঘাটতি, কৃষি জমির হ্রাস, পরিবেশ দূষণ প্রভৃতি সমস্যার মূলে রয়েছে অধিক জনসংখ্যা। বাংলাদেশের আর্থ- সামাজিক জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনসংখ্যা স্ফীতির যে ক্ষতিকর প্রভাব বিদ্যমান তা নিম্নে আলোচনা করা হলো :

খাদ্য ঘাটতি : বাংলাদেশে বর্তমানে খাদ্য সমস্যা অত্যন্ত প্রকট এবং এর প্রধান কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও খাদ্য উৎপাদনে অসামঞ্জস্য। ১৯৬১ সাল থেকে বাংলাদেশে ক্রমাগত খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও খাদ্য ঘাটতির ভয়াবহতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশি হওয়ায় খাদ্য উৎপাদন অধিক হলেও খাদ্য সমস্যা থেকেই যাচ্ছে। ১৯৬০ সালে খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ কোটি মেট্রিক টন আর খাদ্য ঘাটতি ছিল ৪ লাখ মেট্রিক টন। অন্যদিকে ২০০০-২০০১ সালে খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৬৭ লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন।

কিন্তু তা সত্ত্বেও জনসংখ্যা অধিক হওয়ার ফলে এ সময়ে খাদ্য আমদানির পরিমাণ ছিল ১৫.৫৪ লাখ মেট্রিক টন। এর জন্য একমাত্র জনসংখ্যাস্ফীতিই দায়ী। কারণ এ দেশের জনসংখ্যা যদি কম থাকত তবে উৎপাদিত খাদ্যশস্য দিয়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করার পর রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হতো। এছাড়া জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে মাথাপিছু ভূমির পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। এতে মাথাপিছু খাদ্য উৎপাদন এবং খাদ্য প্রাপ্তির সম্ভাব্যতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

  • জনসংখ্যা সমস্যার কারণ ও তার প্রতিকার ব্যাখ্যা করতে হবে
  • জনসংখ্যা সমস্যার কারণ

বাংলাদেশে জনসংখ্যা সমস্যার প্রকৃতি জনআধিক্য। স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালের আদমশুমারির তথ্যানুযায়ী তৎকালীন বাংলাদেশে জনসংখ্যা ছিল ৭,৬৩,৯৮,০০০ জন। কিন্তু ২০১১ সালের আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী তৎকালীন বাংলাদেশে জনসংখ্যা বেড়ে দাড়ায় ১৪,২৩,১৯,০০০ জন যা বাংলাদেশের সম্পদ ও ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি। সুতরাং বাংলাদেশের জনসংখ্যার আধিক্য একটি বড় সমস্যা। এদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির পশ্চাতে অর্থনৈতিক, সামাজিক, ভৌগোলিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক প্রভৃতি বিষয়ের ক্রিয়াশীলতা লক্ষ্য করা যায়। নিম্নে জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রত্যক্ষ কারণসমূহ উল্লেখ করা হলো:

১. উচ্চ জন্মহার: বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ উচ্চ জন্মহার। ২০১১ সালের আদমশুমারীর তথ্যানুযায়ী এদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির শতকরা হার ১.৩৪। এই উচ্চ জন্মহার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারকে অনেকাংশে বাড়িয়ে তুলেছে।

২. তুলনামূলক নিম্ন মৃত্যুহার: বর্তমানে জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা, সচেতনতা বৃদ্ধি প্রভৃতি কারণে মৃত্যুহার অনেকাংশে কমে এসেছে এবং জন্ম ও মৃত্যুহারের মধ্যে ব্যাপক তারতম্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। তুলনামূলক নিম্ন মৃত্যুহার জনসংখ্যার আধিক্য সৃষ্টি করছে।

৩. অধিক শিশু মৃত্যুহার: এদেশের শিশু মৃত্যুহার অধিক হওয়ার কারণে শিশু মৃত্যুর আশঙ্কা পিতামাতাকে অধিক সন্তান গ্রহণে আগ্রহী করে তোলে। অধিক সন্তান গ্রহণও জনসংখ্যাধিক্যের জন্য দায়ী।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

৪. বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ: বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহের বহুল প্রচলন রয়েছে। বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ প্রত্যক্ষভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে অবদান রাখে। টঘঋচঅÑএর তথ্যানুযায়ী এদেশের ৫০ ভাগেরও বেশি নারী ১৯ বছর বয়সের পূর্বেই প্রথম সন্তানের জন্ম দেয় এবং সমগ্র জীবনব্যাপী তাদের বহুবিধ সন্তান জন্মদানের সম্ভাবনা থাকে।

৫. উচ্চ প্রজনন ক্ষমতা: অনেকে মনে করেন ভৌগোলিক অবস্থান, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনপ্রণালী প্রভৃতি কারণে এদেশের নারীদের প্রজনন ক্ষমতা তুলনামূলক বেশি যা অধিক সন্তান জন্মদানে ভূমিকা রাখতে পারে।

৬. অনিয়ন্ত্রিত সন্তান জন্মদান: বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে অনিয়ন্ত্রিত সন্তান জন্মদান। সরকারি ও বেসরকারি ব্যাপক প্রচারণা সত্ত্বেও জন্ম নিরোধক ব্যবহারের ক্ষেত্রে শতভাগ সাফল্য অর্জিত হয়নি। বাংলাদেশে দারিদ্র্যের প্রভাবে সন্তান সন্মাদানের প্রবণতা অধিক। এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ র‌্যাগনার নার্কস দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রের মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরেছেন যা চিত্র তুলে ধরা হলো:

  • প্রতিকার

বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ একটি জটিল ব্যাপার। একক ও স্বল্পকালীন কর্মসূচির মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এজন্য ব্যাপক ও বহুমুখী কার্যক্রম গ্রহণ করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানের সম্ভাব্য উপায়সমূহ নিচে আলোচনা করা হলোÑ

১. জনসংখ্যা নীতি প্রণয়ন : বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি সমস্যার সমাধান স্বল্প সময়ে আশা করা যায় না। এজন্য দরকার সুনির্দিষ্ট নীতি এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ। সুতরাং জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজন জনসংখ্যা সমস্যা সংক্রান্ত বিভিন্ন গবেষণা তথ্যের আলোকে জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিত্তবিনোদন প্রভৃতি দিকের প্রতি সমভাবে গুরুত্ব প্রদানপূর্বক বাস্তবায়নযোগ্য করে জনসংখ্যা নীতি প্রণয়ন। বিদেশী সাহায্যনির্ভর এবং বাস্তবতা বিবর্জিত জনসংখ্যা নীতি প্রণয়ন করে এ দেশের জনসংখ্যা সমস্যার সমাধান আশা করা যাবে না।

২. পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির সম্প্রসারণ : দেশে আরো ব্যাপকভাবে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি বৃদ্ধি করতে হবে। আরো অধিক সংখ্যক ক্লিনিক সৃষ্টি, মাঠকর্মী ও ওষুধপত্রের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি জনগণের কাছে সহজসাধ্য হবে। তারা অধিক হারে এ পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারবে।

৩. গণসচেতনতা বৃদ্ধি : এ কথা অবশ্যই অনস্বীকার্য যে, জনসংখ্যার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে যতদিন জনগণ সম্পূর্ণভাবে সচেতন না হবে, ততদিন এ সমস্যার সমাধান হবে না। তাই বিভিন্ন সামাজিক শিক্ষা, কর্মসূচি, আলোচনা সভা, বেতার ও টেলিভিশন প্রোগ্রাম, নাটক, যাত্রা, থিয়েটার, জারি গান, কবিগান প্রভৃতির মাধ্যমে এ সমস্যার ভয়াবহতা সম্পর্কে জনগণকে সম্পূর্ণভাবে সচেতন করে তোলার জন্য ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা উচিত। তাছাড়া এ সকল প্রচেষ্টা জনগণের চিত্তবিনোদনের ক্ষেত্রে অবদান রাখবে।

৪. জনশিক্ষা কার্যক্রম : জনসংখ্যার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বাল্যকাল থেকেই সচেতন করার জন্য জনসংখ্যা শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা উচিত। এজন্য প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত পাঠ্যসূচিতে ‘জনসংখ্যা শিক্ষা’কে সম্পূর্ণ আলাদা এবং বাধ্যতামূলক পাঠ্য বিষয় হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা দরকার।

৫. জীবনমান উন্নয়ন : বাংলাদেশে জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানের অন্যতম উপায় হচ্ছে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করে দেশের দরিদ্র শ্রেণীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করা এবং এর দ্বারা তাদের মধ্যে সীমিত পরিবারের আকাক্সক্ষা সৃষ্টি করা। অন্যথায় তাদের অধিক সন্তান জন্মদানের প্রবণতা হ্রাস করা যাবে না।

৬. মহিলাদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ : বাংলাদেশের আর্থÑসামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অবস্থার প্রেক্ষাপটে সমাজে নারীদের মর্যাদা বৃদ্ধি ছাড়া জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। নারীশিক্ষা এবং নারীদের কর্মসংস্থান সন্তান ধারণ এবং জন্মনিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। সুতরাং নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করলে তা জনসংখ্যাস্ফীতি হ্রাসে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করবে।

৭. খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন : জনসংখ্যা হ্রাসের জন্য দরকার আমাদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করে প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস করা। এজন্য চিরাচরিত খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন এবং বিকল্প খাদ্য তালিকা প্রণয়ন করে তা প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে। তাছাড়া এলাকাভিত্তিক খাদ্যমেলা বা খাদ্য প্রদর্শনীর আয়োজন করে তাতে জনগণকে সম্পৃক্ত করে তাদের মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গিতে গঠনমূলক পরিবর্তন আনয়নের পদক্ষেপ নিতে হবে।

বাংলাদেশে জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানে নাগরিক দায়-দায়িত্ব জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধ করতে হবে এবং কাম্য জনসংখ্যা গড়ে তুলতে হবে। জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করতে হবেÑ এজন্য প্রয়োজন নাগরিক সচেতনতা। আমাদেরকে ভাবতে হবে যে, কেবল আমরা নই আমাদের বংশধরেরাও যেন খেতে ও পরে ভালো থাকতে পারে। বাংলাদেশে জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্রের দায় দায়িত্ব জনসংখ্যাধিক্য সমস্যা সমাধানের জন্য রাষ্ট্রকে সবচেয়ে বেশি দায়-দায়িত প¡ ালন করতে হবে। যেসব ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়িত্ব সর্বাধিক সেগুলো নিচে আলোচনা করা হলো :

১. নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সরকারকে বাধ্যতমূলক প্রাথমিক শিক্ষাসহ সর্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে হবে।

২. দারিদ্র্য দুরীকরণের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৩. অর্থনৈতিক উন্নয়ন তথা জাতীয় মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির জন্য সুপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

৪. পরিবার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সরকারি দায়িত্বের বিকল্প নেই।

৫. জনশক্তি বিদেশে রপ্তানির জন্য জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে।

৬. গঠনমূলক আইন পাস করতে হবে।

৭. সর্বোপরি বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

  • অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারণা লিখতে হবে

অর্থনৈতিক উন্নয়ন সেই প্রক্রিয়াকে বোঝায় সর্বসমেত শারিরীক অবস্থা, কুশল, এবং একাডেমিক স্তরের জনসংখ্যা উন্নত করে।

উন্নয়নকালে, কৃষি থেকে শিল্পে এবং পরে তা পরিষেবায় জনসংখ্যা স্থানান্তর হয়।

প্রত্যেক বার দোকান থেকে কেনাকাটা করার সময় এবং স্থানীয় বা রাষ্ট্র বিক্রয় ট্যাক্স দেওয়ার মাধ্যমে আপনি অর্থনৈতিক উন্নয়ন তহবিলে সাহায্য করতে পারেন। যেমন ধরুন নতুন জুতো কিনলেন বা কর প্রদান করলেন। তার কিছু শতাংশ অর্থ অর্থনৈতিক উন্নয়ন তহবিলে প্রোজেক্টের দিকে যায়।

অর্থনৈতিক উন্নয়ন কাকে বলে আলোচনায় সাধারণ অর্থে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হল জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন। উন্নত জীবনযাত্রার মান বলতে বোঝায় শিক্ষার উচ্চস্তর, শ্রমিকের আয়, স্বাস্থ্য ও জীবনযাপন।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

  • জনসংখ্যা সমস্যার সাথে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে হবে।

অর্থনৈতিক উন্নয়নে জনসংখ্যার গুরুত্ব অপরিসীম। জনসংখ্যা একদিকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি সহায়ক উপাদান; কেননা শ্রম ও সংগঠনের মত গুরুত্বপূর্ণ দুটি উৎপাদনের উপাদান সরবরাহ করে জনসংখ্যা।

অপরপক্ষে জনসংখ্যা প্রয়ােজনের তুলনায় অধিক হলে উন্নয়নের পথে গুরুতর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। কোন দেশে প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ থাকলেও যদি প্রয়ােজনীয় সংখ্যক জনসম্পদ না থাকে তবে সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার সম্ভব হবে না। ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ব্যাহত হয়। অন্যদিকে, যদি কোন দেশে প্রাকৃতিক সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে যে পরিমাণ জনশক্তি প্রয়ােজন সে পরিমাণেই থাকে, তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। মনে রাখতে হবে যে, মানুষই প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবন ধারণের জন্য প্রয়ােজনীয় দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদন করে।

এসব কাজে বহু লােকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। অপরদিকে, প্রাকৃতিক সম্পদের তুলনায় কোন দেশে জনসংখ্যার পরিমাণ অধিক হলে, জনসংখ্যা তখন দেশের জন্য দায় বা বােঝা হিসেবে বিবেচিত হয়। এমতাবস্থায় অপ্রতুল সম্পদের উপর চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে জনগণের মাথাপিছু গড় আয় বা উৎপাদন কম হয়, জীবনযাত্রার মান নেমে যায়, খাদ্য ঘাটতি দেখা দেয়, বেকার সমস্যার সৃষ্টি হয়। সব মিলিয়ে উন্নয়নের গতি মন্থর হয়।

জনসংখ্যা ও ভূমির পরিমাণের মধ্যে গুরুত্বপর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। কোন দেশের মােট ভূমির তলনায় জনসংখ্যা বেশি ভূমির উপর চাপ পড়ে। মাথাপিছু ভূমির পরিমাণ কম হয়, উৎপাদন ও সঞ্চয় হ্রাস পায় এবং ভােগ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, জনসংখ্যার তুলনায় ভূমিসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের পরিমাণ বেশি থাকলে মাথাপিছু উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, আয় ও সঞ্চয় বেড়ে যায়।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

বাংলাদেশ জনসংখ্যা সমস্যায় জর্জরিত। দেশের জন্মহার নিয়ন্ত্রণ করা অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিমে জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানের জন্য যে সব উপায় অবলম্বন করা যায় তা আলােচনা করা হল :

১। অর্থনৈতিক উন্নয়ন : জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানের অন্যতম প্রধান উপায় হল অর্থনৈতিক উন্নয়ন। দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোত্তম ও সুষ্ঠু ব্যবহার, দ্রুত শিল্পায়ন, কৃষির আধুনিকীকরণ, পরিবহন ও যােগাযােগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং একই সাথে মানব সম্পদের উন্নয়ন সাধন করে অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করতে হবে। উন্নত জীবনের ছোঁয়া পেলে জনসাধারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমানাের যৌক্তিকতা খুঁজে পাবে, পরিবার ছােট রাখতে উৎসাহী হবে এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির প্রসার হবে।

২। জনসংখ্যার পুনবণ্টন : বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল বা জেলাগুলাের মধ্যে জনসংখ্যার ঘনত্বের বেশ পার্থক্য আছে। যেমন, ঢাকা বা কুমিল্লা জেলার জনসংখ্যার ঘনত্ব অনেক বেশি। অথচ সে তুলনায় দেশের হাওড় অঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা বা উত্তরাঞ্চলের এলাকাগুলােতে এই ঘনত্ব অনেক কম। এমতাবস্থায়, জনসংখ্যার পুনর্বণ্টনের মাধ্যমে জনসংখ্যা সমস্যার কিছুটা সমাধান করা যেতে পারে।

৩। আন্তর্জাতিক স্থানান্তর : পৃথিবীর যে সব দেশ ঘনবসতিপূর্ণ সে সব দেশ থেকে কম ঘনবসতিপূর্ণ দেশে লােক পাঠানাে যেতে পারে। কানাডা, অষ্ট্রেলিয়াসহ পৃথিবীর বেশ কিছু দেশে জমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ প্রয়ােজনীয় সংখ্যক মানুষের অভাবে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। ঘনবসতিপূর্ণ দেশ থেকে এসব দেশে মানুষের স্থানান্তরের সুযােগ করে দেওয়া যেতে পারে। অতীতেও এরূপ ঘটেছে। কিন্তু বর্তমানে এ ব্যবস্থার সুযােগ সীমিত; অনেক দেশ আইন করে বিদেশীদের আগমনের উপর নিয়ন্ত্রণ আরােপ করেছে।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

৪৷ শিক্ষা বিস্তার : জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানের জন্য দেশে ব্যাপক শিক্ষা বিস্তারের প্রয়ােজন। উচ্চ জন্মহারের অসুবিধা, শিশু মৃত্যু প্রভৃতি বিষয় সম্পর্কে জনসাধারণের সম্যক উপলদ্ধি গড়ে তুলতে শিক্ষার প্রসার আবশ্যক। শিক্ষিত জনগণ জীবনযাত্রার মান উঁচু রাখার জন্য পরিবারের আয়তন সীমিত রাখে। তাই ছােট পরিবারের প্রতি আকৃষ্ট করে তুলতে শিক্ষা সুদূর প্রসারী অবদান রাখতে পারে।

৫। কর্মসংস্থানের বহুমুখীকরণ : বাংলাদেশে বিভিন্নমুখী কর্মসংস্থান, যেমন- কুটির শিল্প স্থাপন, হাঁস-মুরগি ও পশু পালন, মৎস্য চাষ, পােশাক তৈরি, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি সংযােজন শিল্প ইত্যাদি গড়ে তুলতে পারলে কর্মসংস্থান, বিশেষ করে মহিলাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। ফলে জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হ্রাস পাবে। এজন্য কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার আবশ্যক।

৬। আইন প্রণয়ন এবং যথাযথ বাস্তবায়ন : বাংলাদেশে সরকার ঘােষিত আইন কার্যকরী করে জনসংখ্যা সমস্যার সমাধান করা যায়। বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ রােধকল্পে বিয়ের ন্যূনতম বয়স পুরুষের জন্য ২১ বছর এবং মেয়েদের জন্য ১৮ বছর বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এর প্রয়ােগ খুবই কম। ব্যাপক প্রচার ও গণসচেতনতা বৃদ্ধি করে এ আইনের যথাযথ প্রয়ােগ নিশ্চিত করতে হবে।

৭। পরিবার পরিকল্পনা ও জন্মনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন : জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানের অন্যতম উপায় হল পরিকল্পিত পরিবার গড়ে তােলা। সুপরিকল্পিত উপায়ে পরিবারের সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ করাকে পরিবার পরিকল্পনা বলে। শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি করে ও সমাজের গোড়ামী দূর করে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি জনপ্রিয় করা এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার রােধ করা সম্ভব।

৮। মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি : মা ও শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি করে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমিয়ে আনা যায়। মা যদি পর পর অধিক সন্তান জন্ম দেয় তাহলে মা ও শিশু উভয়ই রােগাক্রান্ত হয়ে পড়ে। মা ও

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

এসাইনমেন্ট সম্পর্কে যে কোন প্রশ্ন আপনার মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে YouTube : Like Page ইমেল : assignment@banglanewsexpress.com

অন্য সকল ক্লাস এর অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর সমূহ :-

  • ২০২১ সালের SSC / দাখিলা পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ২০২১ সালের HSC / আলিম পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ভোকেশনাল: ৯ম/১০ শ্রেণি পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • HSC (বিএম-ভোকে- ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স) ১১শ ও ১২শ শ্রেণির অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ২০২২ সালের ১০ম শ্রেণীর পরীক্ষার্থীদের SSC ও দাখিল এসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ২০২২ সালের ১১ম -১২ম শ্রেণীর পরীক্ষার্থীদের HSC ও Alim এসাইনমেন্ট উত্তর লিংক

৬ষ্ঠ শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১ , ৭ম শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১ ,

৮ম শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১ , ৯ম শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় SSC এসাইনমেন্ট :

বিজ্ঞান ১ম ও ২য় বর্ষের এসাইনমেন্ট, ব্যবসায় ১ম ও ২য় বর্ষের এসাইনমেন্ট, মানবিক ১ম ও ২য় বর্ষের এসাইনমেন্ট

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় HSC এসাইনমেন্ট :

মানবিক ১ম ও ২য় বর্ষের এসাইনমেন্ট, বিজ্ঞান ১ম ও ২য় বর্ষের এসাইনমেন্ট , ব্যবসায় ১ম ও ২য় বর্ষের এসাইনমেন্ট

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *