ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের গুরুত্ব,দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের ভূমিকা আলোচনা কর,ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের তাৎপর্য বণনা কর

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের গুরুত্ব,দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের ভূমিকা আলোচনা কর,ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের তাৎপর্য বণনা কর

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের গুরুত্ব,দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের ভূমিকা আলোচনা কর

ভূমিকা : মানব সভ্যতার আগি লগ্ন থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের উৎপত্তি, বর্তমানে সারা বিশ্বে বৃহদায়তন ব্যবসায়ের পাশাপাশি ক্ষুদ্রায়তন ব্যবসায়ের গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। আইনগত প্রতিবন্ধকতা না থাকায় বিশ্বের উন্নত ও অনুন্নত প্রতিটি দেশেই ক্ষুদ্র ব্যবসায় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপন দখল করে রেখেছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের গুরুত্ব অতুলনীয়। নিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের গুরুত্ব আলোচনা করা হলো :

১. সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার : দেশের প্রাকৃতিক ও অ- প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারে ক্ষুদ্র ব্যবসায় গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সম্পদগুলোর সংগ্রহ করে নতুন পণ্য বা সেবা সৃষ্টি করে থাকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়। এতে সম্পদসমূহ সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করে মানুষের চাহিদা পূরণ সম্ভব হয় । ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের গুরুত্ব,দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের ভূমিকা আলোচনা কর,ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের তাৎপর্য বণনা কর

২. শিল্পায়ন বর্তমানে সারা বিশ্বে বৃহদায়তন: ব্যবসায়গুলোর উন্নয়নে ক্ষুদ্র ব্যবসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের মাধ্যমে পণ্যদ্রব্য বা সেবা ভোক্তার নিকট পৌঁছানোর জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসায় বা শিল্প গ্রহণ করে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের মাধ্যমে দ্রব্য বা সেবা ভোক্তার নিকট সরবরাহ করে। আবার অনেক বৃহদায়তন ব্যবসায়ের কাঁচামালকে উৎস হিসেবে কাজ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায় বা শিল্প।

৩. কর্মসংস্থান সৃষ্টি : দেশের বেকার সমস্যা সমাধানে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের অবদান ব্যাপক। দেশের বেকার জনসংখ্যা বেকারত্ব দূরীকরণের জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসায় গড়ে তোলে। এতে যেমন নিজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় পাশাপাশি আরো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায় ।

৪. মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি : দেশের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এই ব্যবসায় এর মাধ্যমে উদ্যোক্তা যেমন নিজের আয়ের পথ সুগম করে, অন্যদিকে এ ব্যবসায় অন্যান্যদের নিয়োগ দানের মাধ্যমে তাদের আয়ের পথ তৈরি হয়ে থাকে। এভাবে সারা দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়গুলো জনগণের আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের মাথাপিছু বৃদ্ধিতে কার্যকর অবদান রাখে।
আয়
৬. ভোক্তার আর্থিক সুবিধা : ক্ষুদ্র ব্যবসায় ভোক্তাদের বিভিন্নভাবে আর্থিক সুবিধা প্রদান করে। ক্রেতাদের বাকিতে পণ্য সরবরাহ করার সুবিধা প্রদান করে থাকে। এতে ক্রেতা আর্থিকভাবে সুবিধা লাভ করে থাকে। প্রায় সময় সারা মাসব্যাপী ক্রেতাকে বাকিতে পণ্য ক্রয়ের সুযোগ দিয়ে থাকে। এতে ক্রেতা মাস শেষে মূল্য পরিশোধ করে ।

৭. নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের যোগান : নিত্যপ্রয়োজনীয় বসবাসরত মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের যোগান থাকে। ক্ষুদ্র ব্যবসায় গবেষণায় দেখা যায় বণ্টন প্রণালির সিংহভাগ ক্ষুদ্র ব্যবসায় সম্পাদন করে থাকে ।

৮. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন : দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ও ব্যবসায়ের গুরুত্ব অতুলনীয়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের উৎপাদিত পণ্য দেশীয় চাহিদা মিটানোর পাশাপাশি রপ্তানির মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যায়।

৯. অর্থনৈতিক উন্নয়ন : অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূলচালিকা শক্তি ব্যবসায় বাণিজ্য। তার মধ্যে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের আধিক্য সারা বিশ্বে লক্ষণীয়। যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের অবদান সর্বাধিক। ক্ষুদ্র ব্যবসায় জনগণের আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে যেমন তাদের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি করে, তেমনি উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কঠোর ভূমিকা পালন করে । ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের গুরুত্ব,দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের ভূমিকা আলোচনা কর,ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের তাৎপর্য বণনা কর

১০. শিল্পের বিকেন্দ্রীকরণ : কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন শিল্পের বিকেন্দ্রীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পের কোনো বিশেষ অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত না করে সকল অঞ্চলে স্থাপন করাই হলো শিল্পের বিকেন্দ্রীকরণ। এরূপ বিকেন্দ্রীকরণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের গুরুত্ব অতুলনীয়। বেশিরভাগ ক্ষুদ্র ব্যবসায় স্থানীয় কাঁচামাল ও চাহিদার উপর ভিত্তি করে অথবা বৃহদায়তন ব্যবসায়ের সহায়ক হিসেবে গড়ে ওঠে বলে শিল্পের বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত হয় ।

১১. মূলধনের কাম্য ব্যবহার : মূলধনের কাম্য ব্যবহার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের গুরুত্ব অপরিসীম। এ ব্যবসায়ের উদ্যোক্তাদের আয়ের বৃদ্ধির সাথে সঞ্চয় বৃদ্ধি পায় এবং এই সঞ্চয়গুলোকে বিনিয়োগ করে বিনিয়োজিত মূলধনের গতিশীলতা বৃদ্ধি করে। দেশের মোট মূলধনের সিংহভাগ ক্ষুদ্র ব্যবসায় বিনিয়োগ হয়ে থাকে, এভাবে দেশের কাম্য মূলধন ব্যবহার নিশ্চিত করে ।

১২. ব্যয় হ্রাস : ক্ষুদ্র ব্যবসায় উদ্যোক্তা নিজেই পরিচালনায় থাকে বলে ব্যবসায় ব্যয় হ্রাস সম্ভব হয়। এছাড়া স্থানীয় কাঁচামাল চাহিদার উপর ভিত্তি করে ক্ষুদ্র ব্যবসায় গড়ে ওঠে বলে স্থানীয় বাজার হতে কাঁচামাল সংগ্রহ করে এবং স্থানীয় বাজারেই উৎপাদিত পণ্য বিক্রয় করে থাকে। এতে করে ব্যয় কমাবে সম্ভৰ হয়। তাছাড়া ব্যয় হ্রাস পাওয়ার বাস দামে পণ্য দ্রব্য ক্রেতার নিকট বিক্রয় সম্ভব হয়।

১৩. প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে : প্রশিক্ষণ ক্ষেত্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ক্ষুদ্র ব্যবসায় ক্ষুদ্র ব্যবসায় দ্বারা দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করে বড় ব্যবসায় গঠনে অগ্রসর হয়। ক্ষুদ্র ব্যবসায় গঠন না করে কেউ বড় ব্যবসায় গঠন করতে পারেনি। তাই ক্ষুদ্র ব্যবসায়কে বৃহ ব্যবসায়ের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্র বলা হয় ।

১৪. পরিবর্তনে সহায়তা : কোনো দেশের অর্থনৈতিক পট পরিবর্তনে ব্যবসায় বাণিজ্যের যে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়। সেক্ষেত্রে ক্ষুদ্রায়তন ব্যবসারেয়র অতি তাড়াতাড়ি সাড়া প্রদান করে। বৃহদায়তন ব্যবসায়ের চেয়ে ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় দ্রুততার সাথে সাড়া প্রদান করতে পারে। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায় দ্রুত কার্যক্রমে পরিবর্তন এনে নতুন অর্থনৈতিক অবস্থার সাথে সাড়া প্রদান করে ।

১৫. মূলধন গঠন : ক্ষুদ্র ব্যবসায় মূলধন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের মাধ্যমে জনগণের আয় বৃদ্ধি পায়। আয় বৃদ্ধির ফলে সঞ্চয়ের হার বৃদ্ধি পায়। এই সঞ্চয় ক্ষুদ্র ব্যবসায় পুনঃবিনিয়োগ করে ব্যবসায়ের পরিধি বৃদ্ধি করা যায়।

উপসংহার : উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের আয়তন কর্মী মূলধন বাজার ও কার্য পরিবেশ স্বল্প পরিসরে হলেও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের গুরুত্ব অপরিসীম। ক্ষুদ্রায়তন ব্যবসায়ের কারণে সারা বিশ্বে আজ বৃহদায়তন ব্যবসায় গুলো সফলতা অর্জন করে আসছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের গুরুত্ব,দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের ভূমিকা আলোচনা কর,ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের তাৎপর্য বণনা কর

একাডেমিক শিক্ষা বিষয়ক লিখিত প্রশ্ন সমাধান পেতে ক্লিক করুন।

আর্টিকেলের শেষ কথাঃ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের গুরুত্ব,দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের ভূমিকা আলোচনা কর,ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের তাৎপর্য বণনা কর

Leave a Comment