Google Adsense Ads
এলএসডি বা লাইসেরজিন এসিড ডাইথ্যালামাইড একটি এসিড বা সিনথেটিক ড্রাগ
বিজ্ঞানীরা মানব কল্যাণে অনেক ড্রাগ আবিষ্কার করেছেন। এগুলোর মধ্যে কিছু ড্রাগ বদলে দিয়েছে মানব ইতিহাস। প্রতিরোধ করেছে ভয়াবহ সকল রোগ।
কোনো কোনো ড্রাগ আবার হয়ে উঠেছে মানবজাতির জন্য অভিশাপস্বরুপ। আবার কিছু কিছু ড্রাগ মানবজাতির জন্য উন্মুক্ত করেছে নতুন এক জগৎ। এমনি একটি ড্রাগ এলএসডি। অনেকেই হলিউডের সিনেমায় এবং পশ্চিমা উপন্যাসে এল এস ডি এর নাম শুনে থাকবেন!
এই ড্রাগটি অন্যান্য ড্রাগের মত ক্ষতিকর না হলেও এতে আসক্ত হওয়ার প্রবণতাও কম। কিন্তু এই ড্রাগ মস্তিষ্কে এমন এক প্রভাব সৃষ্টি করে যা হ্যালুসিনেশনে সাহায্য করে।
ফলে যারা এই ড্রাগ ইউজ করে তারা বিভিন্ন রকম রঙ এবং আকৃতির জিনিস দেখে যার অস্তিত্ব এই পৃথিবীতে নেই। এছাড়াও এই ড্রাগ মানব মস্তিস্কের এমন সব স্নায়ুর কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় যা অনেক সময় অতীত স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।
এমনকি এই ড্রাগ মানুষকে তার জন্মকালীন স্মৃতিও মনে করাতে সক্ষম। তো কী এই এলএসডি?
কীভাবে তৈরি করা হয়েছিল এই ড্রাগ?
কেনই বা একে নিষিদ্ধ করা হয়?
এলএসডি বা লাইসেরজিন এসিড ডাইথ্যালামাইড একটি এসিড বা সিনথেটিক ড্রাগ।
১৯৩৮ সালে সুইচ বিজ্ঞানী এলবার্ট হফম্যান তার ল্যাবে এমন একটি ঔষধ তৈরির প্রচেষ্টায় ছিলেন যা বাচ্চা জন্মকালীন সময়ে মূত্র সংকোচনজনিত সমস্যার সমাধান করবে।
এজন্য তিনি এরগট নামের একটি ফাঙ্গাস নিয়ে কাজ করেন এবং এলএসডি আবিষ্কার করেন। দূর্ঘটনাবশত একদিন এই ড্রাগ তার জিহ্বার সংস্পর্শে আসে এবং তিনি হ্যালুসিনেট করতে শুরু করে।
পরবর্তীতে তিনি এই ড্রাগ নিয়ে অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা চালান। যে কাজের জন্য হফম্যান এই ড্রাগ তৈরি করেন তা করতে এই ড্রাগ ব্যর্থ হলে হফম্যান ১৯৪৩ সালে এই ড্রাগটির সঠিক ব্যবহার জানতে জুরিখে একটি ফার্মাসিটিক্যাল ল্যাবে পাঠন।
ল্যাবে ড্রাগটি বিভিন্ন প্রাণীর উপর এর প্রভাব পরীক্ষার পর বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন এই এলএসডি মানসিক ভারসাম্যহীনতার সমাধান হতে পারে। পরবর্তীতে, ১৯৪৭ সালে এলএসডি জুরিখের একটি মানসিক হাসপাতালে সরবারহ করা হয় এবং সিজিওফর্নিয়া এবং অন্যান্য মানসিক রোগে আক্রান্ত রোগীদের উপর পরীক্ষা করে।
কিন্তু এলএসডি এসকল সমস্যা সমাধানেও ব্যর্থ হয়। অনেকে ধারণা করতে থাকে, পঞ্চাশের দশকে জনপ্রিয় সাইকোথেরাপিতে এই ড্রাগটি যুগান্তকারী হতে পারে। তাই একে বিভিন্ন থেরাপিস্টের কাছে সরবারহ করা শুরু হয়। এভাবেই এই ড্রাগটি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায় এবং থেরপিস্টদের হাত ধরে সাধারণ মানুষের নাগালে আসে যা পুরো যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।
এলএসডি এর হ্যালুসিনেশন তৈরি করার প্রবণতা থেকে অনেক মানুষই এই ড্রাগটি ব্যবহার শুরু করে। এমনকি ষাটের দশকে এই ড্রাগ থেকে নতুন একটি সাইকেডেলিক কালচার তৈরি হয়। জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী ও ব্যান্ড মেম্বাররা এই ড্রাগ ব্যবহার শুরু করে। জনপ্রিয় বৃটিশ ব্যান্ড পিংক ফ্লয়েডের বেশিরভাগ গানের লিরিক এবং সুরও এই ড্রাগ ব্যবহার করেই তৈরি।
এছাড়াও অ্যাপল এর প্রতিষ্ঠাতা স্টীভ জবসও এই ড্রাগ ব্যবহার করতেন। ডি এন এ স্ট্রাকচার ব্যখ্যা করার জন্য নোবেল প্রাইজপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ক্রীক এর মতে, এই ড্রাগ সেবনের ফলে তার রিসার্চে অনেকটা সাহায্য করেছিল। ধারণা করা হয় যদি এই ড্রাগ সঠিক উপায়ে ব্যবহার করা যায় তবে এই ড্রাগ উম্নুক্ত করে দিতে পারে মানব মস্তিস্কের অনেক অব্যবহৃত অংশ। যা সমাধান করতে পারে কঠিন সব সমস্যা।
এমনকি এলএসডি এর চমকপ্রদ প্রভাব অনুভব করে সিআইএ এবং ইউ এস মিলিটারি এর ব্যবহার নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাতে থাকে। সিআইএ প্রথমে একে লাই ডিটেক্টর ড্রাগ হিসেবে ব্যবহার শুরু করে। কিন্তু ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে, একে সৈন্যদের উপরেও পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু এর অতিরিক্ত হ্যালুসিনেট করার প্রবনতার কারণে এই ড্রাগের ব্যবহার সি আই এ নিষিদ্ধ করে। ১৯৬৮ সালে পুরো বিশ্বব্যাপী এই ড্রাগ নিষিদ্ধ হয়। নিষিদ্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এবং গ্রেট বৃটেনের প্রায় ১০ শতাংশ জনসংখ্যা এই ড্রাগ ব্যবহার করেছিল। বর্তমানেও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে রিক্রিয়েশনাল ড্রাগ হিসেবে এলএসডি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
Google Adsense Ads
- AnkitaDave, Ankita Dave Viral Collection, Ankita Dave Videos

- কম্পিউটার কি বোর্ডের ১০০টি শর্টকাট ব্যবহার

- কম্পিউটারের কিছু Shortcut Keys System, কম্পিউটার কি-বোর্ডের ১০০টি শর্টকাট ব্যবহার, ৫০ টি কম্পিউটার কীবোর্ড শর্টকাট কোড এবং টেকনিক

- এঞ্জেল নুজহাত পম পম ভাইরাল ভিডিও, Tiktokar Angel Nujhat Viral Video

- Angelnujhat, Angel nujhat Viral Collection

- এঞ্জেল নুজহাত ভাইরাল ভিডিও লিংক

Google Adsense Ads