একটি ভাল মানের সিভি যেভাবে লিখবেন?, CV Writer, সিভি লেখার নিয়ম: কীভাবে ভালো সিভি বানাবেন?, সিভিতে যে ৮ স্কিল উল্লেখ করলে চাকরি হবেই, সিভি কি ? সিভিতে কী কী থাকবে?, কেন সিভি তৈরি করবো,চাকরির জন্য সিভি লেখার নিয়ম, সিভি ফরমেট ও নমুনা

প্রশ্ন সমাধান: একটি ভাল মানের সিভি যেভাবে লিখবেন?, CV Writer, সিভি লেখার নিয়ম: কীভাবে ভালো সিভি বানাবেন?, সিভিতে যে ৮ স্কিল উল্লেখ করলে চাকরি হবেই, সিভি কি ? সিভিতে কী কী থাকবে?, কেন সিভি তৈরি করবো,চাকরির জন্য সিভি লেখার নিয়ম, সিভি ফরমেট ও নমুনা

সিভি কি?

সিভি হচ্ছে একজন মানুষের সার্বিক জীবন বৃত্তান্ত। এতে প্রার্থীর পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের দক্ষতা, অর্জন, এবং গুণাবলী সম্পর্কে বিশদ বর্ণনা থাকে। যেকোন প্রতিষ্ঠান আপনাকে যাচায়-বাছাই করতে সিভি নিয়ে থাকে। একটি ভালো মানের সিভি আপনাকে আপনার কাংখিত জব পাওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। সিভিকে বলা হয় একজন প্রার্থীর প্রথম দর্শন। এই প্রথম দর্শনে যেন আকৃষ্ট করে তার জন্য একটি আধুনিক সিভি তৈরি প্রয়োজন। 

সময়ের সাথে সাথে যেমন চাহিদা পরিবর্তন হয়, তেমনিভাবে সিভির কাঠামো ও মানও পরিবর্তন হয়। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে তৈরি করতে হয় সিভি বা জীবন বৃত্তান্ত। তবে চাকরিভেদে সিভির ধরণ পরিবর্তন করতে হয়। এর জন্যে চাকরির ধরণ অনুযায়ী এটি তৈরি করে নিতে হয়। 

সিভি হতে হবে একদম স্বচ্ছ ও সংক্ষিপ্ত। এছাড়া নতুন চাকরি প্রার্থী এবং পুরাতন চাকরি প্রার্থীর সিভির ধরণ একটু ভিন্ন হয়। কারণ নতুনদের কাজের বিবরণ ও অভিজ্ঞতা কোনটাই থাকে না। তাই এই জায়গাগুলো খালিই থাকে। 

আমাদের দেশে অধিকাংশ সিভি লেখা হয় বিশেষ করে ইংরেজি ভাষায়। ইন্টারনেটে অনেক ওয়েবসাইট আছে, যেখানে সিভির বিভিন্ন সুন্দর সুন্দর ফরম্যাট দেওয়া থাকে। আচ্ছা যাইহোক, কথা না বাড়িয়ে চলুন জেনে নেওয়া যাক ইংরেজিতে যেভাবে আধুনিক সিভি লিখবেন।


আরো ও সাজেশন:-

সিভি নাকি রেজুমে (CV or Resume) ?

CV আর রেজুমে, এই দুইটি নিয়ে আমরা প্রায়শই বিপত্তিতে পড়ি। এই দুইটির মধ্যে সুনির্দিষ্ট পার্থক্য পরিষ্কার করে জানা থাকলে আর বিপাকে পড়তে হবে না আশা করি। এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার তথ্যমতে, Résumé মূলত ফরাসি শব্দ Résumer থেকে এসেছে, যা বুঝায় “to summarize,” অর্থাৎ সিভি আর রেজুমের মূল পার্থক্য এর সাইজে তথা আকারে। আবার ইন্ডাস্ট্রিভেদে শব্দ দুইটি দুই অর্থ প্রকাশ করে থাকে। যেমন, চাকরির ক্ষেত্রে রেজুমে ব্যবহৃত হয় বেশি, আবার অ্যাকাডেমিয়াতে CV শব্দটির চল বেশি।

যদিও উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতে- আমেরিকা, কানাডায় এই দুইটি অদল বদল করে ব্যবহৃত হয়। এখানে CV বলতে শর্ট সিভিকে বুঝায়, যা চাকরির জগতে, কর্পোরেট জগতেও সমানতালে ইউজ হয়। এমনটাই জানা যায়, ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার (ডেভিস) বরাতে। আমরা উদ্দিষ্ট নিবন্ধে CV বলতে কর্পোরেট জগতে চাকরির আবেদনের সময় যে CV তৈরি করতে হয়, সেটিকেই বোঝাব। সিভি আর রেজুমের পার্থক্য বিষয়ে আরও জানতে আমাদের এই ব্লগটি পড়ে ফেলুন!

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

সিভি লেখার নিয়ম: কী কী থাকা জরুরী?

সিভি অবশ্যই ঠিক ফরম্যাটে লিখতে হবে। এ ব্যাপারে আমরা সিভি ফরমেট সেকশনে সবিস্তারে জানবো, তবে সংক্ষেপে বলতে- সাব সেকশনগুলো ঠিকভাবে লিখতে হবে। যেমন প্রথমে হেডার, সেখানে কন্টাক্ট ডিটেইলস, তারপর পার্সোনাল প্রোফাইল শুরু। সেখানে সিভির অবজেক্টিভ/সামারি, এরপর চাকরির পূর্ব অভিজ্ঞতা, পড়াশোনা, স্কিল এবং অন্যান্য বিষয়াদি ঠিকঠাকভাবে দিতে হবে। এর মধ্যেই পড়বে- সঠিক ফন্ট বাছাই করা, লে-আউট ঠিক রাখা, অযথা অনেক বেশি ছবি না দেওয়া, অতিরিক্ত তথ্য দেওয়ার বদলে সুনির্দিষ্ট এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য দেয়া ইত্যাদি।

  • অবজেক্টিভ (Objective)

সিভির অবজেক্টিভ/সামারি ঠিকঠাক মত লিখতে হবে। সামারি বা অবজেক্টিভ কী? এখানে আপনার ক্যারিয়ারে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী এ ব্যাপারে গুছিয়ে লিখুন, এটাই অবজেক্টিভ। আর আপনি যদি ইতোমধ্যেই অভিজ্ঞ হয়ে থাকেন, তবে সেই অভিজ্ঞতাটুকু সংক্ষেপে তুলে ধরাটা সামারি। কিন্তু এটা আবার এক লাইনে নামে মাত্র লিখে দিলেই হবে না, সাধারণত বলা হয় ১০০ শব্দে নাতিদীর্ঘ অথচ সারমর্মপূর্ণ প্যারাগ্রাফে লিখতে হবে।

  • কন্টাক্ট ইনফরমেশন (Contact Information)

কন্টাক্ট ইনফরমেশন সঠিকভাবে লিখতে হবে। পুরো নাম, প্রফেশনাল টাইটেল, ইমেইল, মোবাইল নাম্বার, লিঙ্কডইন এবং হোম অ্যাড্রেস দিতে হবে ঠিকভাবে। অনেকেই এখানে সামান্য ভুল করেন, সিকুয়েন্স ঠিক রাখেন না। এখানের সিকুয়েন্সটাও কিন্তু সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নামের আগেই যেমন লিঙ্কডইন আসবে না, তেমনি মোবাইল নাম্বারও কিন্তু লিঙ্কডইনের পরে যাবে না।

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা (Educational Qualification)

শিক্ষাগত যোগ্যতাও সিভিতে সুন্দর করে দিতে হবে। নিজের পড়াশুনার বিবরণ ঠিক না হলে সেই প্রার্থীকে কেই বা নিতে চাইবে বলুন! তবে সুখবর হলো এই অংশটা বাকিগুলোর থেকে সহজতর। ডিগ্রির সাল, তারপর ডিগ্রির নাম, বিষয় এবং প্রতিষ্ঠানের নাম। অনার্স করে থাকলে সেটিও দিতে পারেন (অপশনাল)।

একটু হ্যাক বলে নিই, যদি আপনার প্রথম চাকরির আবেদন করতে যান, আর একদম ফ্রেশার হয়ে থাকেন অর্থাৎ অন্য কোনো জব এক্সপেরিয়েন্স নেই, সেক্ষেত্রে পড়াশোনার অংশটাই সিভিতে শক্তপোক্ত করে দিতে পারেন। পড়াকালীন কোনো এক্সট্রা-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজ, এক্সট্রা ডিসিপ্লিন, কোর্স বা ক্লাবিং এর অভিজ্ঞতাগুলো যোগ করা যেতে পারে। এতে আপনার দক্ষতাগুলো এবং কাজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তারা ভালো ধারণা পাবে।

  • কাজের অভিজ্ঞতা (Work Experience)

প্রাসঙ্গিক চাকরি বা কাজের অভিজ্ঞতা এবং আপনার বিভিন্ন অ্যাচিভমেন্ট সিভিতে দিতে হবে। খুব ব্যতিক্রম ছাড়া এটাই সিভির সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, এখানে আপনার পূর্ববর্তী সকল কর্মস্থলের কাজের এবং অর্জনের বিবরণ দেবেন। কিন্তু থামুন, একটু ভাবুন; বাকি প্রতিযোগীরাও তো এমনটাই করবেন, তাহলে আপনাকে আলাদা করে তুলবে কীসে? উপস্থাপনা দ্বারা নিজেকে স্বতন্ত্র করে পরীক্ষকদের কাছে তুলে ধরতে হবে আপনারই।

সবসময় মেজারেবল অর্থাৎ পরিমাপ করা যায়, এমন অর্জনগুলো হাইলাইট করে তুলে ধরার চেষ্টা করবেন। আর কী করেছেন তার থেকে বেশি গুরুত্ব যেন পায় কতটা সুচারুভাবে কাজগুলো আপনি করেছেন, আর তার ইমপ্যাক্টটা কতটুকু ছিল। আর সেই নিরিখে বর্তমান কোম্পানিকে আপনি কী কী অফার করতে পারবেন। সবকিছু ব্যাটে বলে মিলে গেলেই না, ইন্টারভিউয়াররা বলে উঠবে এই লোককেই তো আমাদের চাই!  

  • স্কিল (Skill)

সিভিতে চাকরির পোস্টের সাথে প্রাসঙ্গিক স্কিলগুলো দিতে হবে। একবিংশ শতকে এসে নিশ্চয়ই এই স্কিল বিষয়টার গুরুত্ব নতুন করে বলে দিতে হবে না। তবে এই স্কিল সেকশনে যা মাথায় রাখতে হবে, তা হলো রিলেভেন্স বা প্রাসঙ্গিকতা। যেখানে অ্যাপ্লাই করছেন সেখানকার জবের সাথে যে দক্ষতাটা যায়, খাপ খায় সেটিই দিন।


Paragraph/Composition/Application/Email/Letter/Short Storiesউত্তর লিংক
ভাবসম্প্রসারণ/প্রবন্ধ, অনুচ্ছেদ/ রচনা/আবেদন পত্র/প্রতিবেদন/ চিঠি ও ইমেলউত্তর লিংক

নচেৎ আপনার একটা কোর্সেরা বা ইউডেমি সার্টিফিকেট থাকলেই যে সেটি ঢুকিয়ে দিতে হবে তা কিন্তু নয়। এজন্যই জব ডেসক্রিপশন পড়া এত জরুরি। সবথেকে ভালো হয়, একটা স্প্রেডশিটে নিজের সব স্কিলগুলো নোট ডাউন করে ফেলুন, এতে খুঁজে পেতে সুবিধা হবে, আর নির্বাচন করতেও।

  • রেফারেন্স (Reference)

রেফারেন্স হিসেবে কখনোই আত্মীয় স্বজনকে রাখবেন না। আপনার কোন শিক্ষক অথবা কর্মস্থলে আপনার সিনিয়র কাউকে রাখতে পারলে ভালো হয়। যাদেরকেই রাখুন না কেন অনুমতি নিয়ে নিন। সিভিতে কখনোই ভুল তথ্য দিবেন না।

সিভি লেখার নিয়ম: সিভি ফরমেট

পৃথিবীর সব সিভির ফরম্যাটে আপনাকে নাম, ঠিকানা, কন্টাক্ট, লিঙ্কডইন ইত্যাদি দিতে বলবে। আপনাকে ক্যারিয়ার অবজেক্টিভ লিখতে বলবে, আপনাকে আপনার কাজগুলো ফুটিয়ে তুলতে বলবে। আপনার একাডেমিক ও প্রফেশনাল অর্জনগুলো উল্লেখ করতে হবে। আপনি কি কি ট্রেনিং করেছেন সেসব লিখতে হবে। আপনার কম্পিউটার স্কিল, সফট স্কিল আপনি যদি কাজই না করেন, তাহলে যত রঙ্গিন ফরম্যাটেই আপনার CV দেন না কেন, আপনি কি ইন্টারভিউ কল পাওয়ার যোগ্য দাবিদার?

ব্লগের এই অংশে আমরা সিভির ফরম্যাটিং সম্পর্কে খুব খুঁটিনাটি পর্যায়ে আলাপ সারবো। সরাসরি কথায় প্রবেশ করি, মার্জিন কম রাখুন। গুগল ডক বা মাইক্রোসফট ওয়ার্ড যেটাতেই CV লিখুন, খেয়াল করলে দেখবেন মার্জিন কিন্তু কাস্টমাইজেশন করে নেয়া যায়। যদি আপনার তথ্য বেশ ভালো পরিমাণে হয়, এবং মার্জিন দরকারের অতিরিক্ত বড় দেয়া থাকে বাই ডিফল্ট, সেক্ষেত্রে কমিয়ে ফেলুন। কারণ, আমরা সবাই জানি CV সচরাচর ২ পৃষ্ঠা হয়ে থাকে, এরপর প্রতি ১০ বছরের অভিজ্ঞতার দ্বারা ১ পৃষ্ঠা করে বাড়ে। তাই অযথা জায়গা খরচের মানে নেই।

ব্যক্তিগত কন্টাক্ট ডিটেইলস প্রয়োজনের অতিরিক্ত দেয়ার দরকার নেই। এতে জায়গা বেশি লাগে এবং কাজের জিনিস দেয়ার জায়গা থাকে না। এর উদাহরণ ধরুন, আপনার নিজের, বাসার, এবং অফিসের সেলফোন নম্বর দিলেন, বা একাধিক মেইল দিলেন যার দরকার নেই বলতে গেলে। একটা দেয়াই যথেষ্ট। সেকশনগুলো ভালো করে আলাদা করুন। দেখে যেন বোঝা যায়, এগুলো আলাদা আলাদা সাব-সেকশন। হেডিংগুলো একটু বড় দিন, সাধারণ লেখার তুলনায়। অবশ্যই ফ্ল্যাশি, স্পোর্টি ফন্ট অ্যাভয়েড করুন, সাদামাটা ফর্মাল ফন্ট ব্যবহার করুন, যেমন টাইমস নিউ রোমান, বা কন্সটানশিয়া বা এরিয়ালই রাখতে পারেন।

ফরম্যাট নয়, কাজগুলোকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলাটাই সিভির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশাল প্যারাগ্রাফের বদলে সংক্ষেপে মূলকথা লিখুন, সম্ভব হলে বুলেট পয়েন্টে। বুলেট পয়েন্ট ব্যবহার করুন পূর্বের জব অভিজ্ঞতার কথা বলার সময়। আগের চাকরির দায়িত্বগুলো পয়েন্ট করে করে লিখুন, গদ্য করে লেখার বদলে। এক পৃষ্ঠা থেকে অন্য পৃষ্ঠার ট্রানজিশন যাতে মসৃণ হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। কোনো পৃষ্ঠায় যে পয়েন্ট শুরু করেছেন, তা সেখানেই শেষ করুন। অর্ধেক লিখে বাকি অর্ধেকের জন্য পরের পৃষ্ঠায় যাবেন না। এগুলো দৃষ্টিকটু। আর ভুলেও বানান ভুল করা যাবে না, টাইপো একদম যেন না হয়। একটা বানান ভুল, আর আপনার চাকরি না পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে শতের কাছাকাছি চলে যাওয়া!

মনে রাখবেন, সিভির ফরম্যাট ভালো হলেই তা পড়ে দেখার চান্স বাড়ে। সেই সাথে বাড়ে ইন্টারভিউ কলে ডাক পাবার সম্ভাবনাও। তাই CV নিজ ডিভাইসে সেইভ করুন ডক ফাইল হিসেবে। কারণ প্রতি সেমিস্টারে (অথবা চাকরিজীবীদের জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কাজের সুবাদে কিছুদিন পরপর) তো আপডেট হবে সেটি। ফাইলের নামটা ঠিক করে লিখুন। “My CV.doc” এজাতীয় নাম বাদ দিতে হবে আজ থেকেই। এই নাম দেখলে স্বভাবতই রিক্রুটারদের আগ্রহ কমে যাবে আপনার প্রতি। নাম হবে “নিজের নাম” স্ল্যাশ বা আন্ডারস্কোর সিভি ডট পিডিএফ (Name_CV.pdf). আর হ্যাঁ, সিভিটা তাদের অবশ্যই পাঠাবেন পিডিএফ হিসেবে।

চাকরি খুঁজছেন? তাহলে সিভি তো লাগবেই। যদিও গতানুগতিক সিভি জমা দিয়ে এখন আর চাকরি হয় না। তথ্যবহুল, মার্জিত ও একটি স্মার্ট সিভি আপনাকে পৌঁছে দিতে পারে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে। তাই সিভিতে থাকা চাই ন্যূনতম আট স্কিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই আট স্কিল থাকলে আপনার সিভি প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করবে, নিশ্চিত থাকুন। 

তাহলে চলুন জেনে নিই, যে আট স্কিল আপনার সিভিতে থাকতেই হবে- 

১। অ্যাক্টিভ লিসেনিং: অনেকেই আছেন, যারা শোনার চেয়ে বকবক বেশি করেন। এমন ধরনের কর্মীদের সাধারণত অফিসের কেউই পছন্দ করেন না। তবে আপনার মধ্যে যদি ভালো শ্রোতা সুলভ গুণ থাকে সেটি সিভিতে উল্লেখ করতে হবে। বিষয়টি যেকোনো প্রতিষ্ঠানই ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করে।


২। কমিউনিকেশন : যোগাযোগ দক্ষতা একজন ব্যক্তিকে অনেক দূর এগিয়ে রাখে। এরমধ্যে দিয়ে একজন কর্মী বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, তথ্য আদান প্রদান করতে পারেন। বিশেষ করে যাদের একাধিক ভাষায় লিখিত যোগাযোগের দক্ষতা আছ, সেসব কর্মীদের প্রতিষ্ঠান ইতিবাচক ভাবে গ্রহণ করে। ফলে সিভিতে বিষয়টি উল্লেখ করতে পারেন।

৩। কম্পিউটার স্কিল : বর্তমান সময়ে কম্পিউটার চালনার দক্ষতা থাকা আবশ্যক। ২০২২ সালে দাঁড়িয়ে একজন কর্মী কম্পিউটার চালাতে জানবেন না, সেটা কোনো প্রতিষ্ঠানই চাইবে না। ফলে সিভিতে কম্পিউটার সংক্রান্ত খুঁটিনাটি যেসব বিষয়ে ধারণা আছে, তা উল্লেখ করতে হবে।

৪। কাস্টমার সার্ভিস : প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে কাস্টমার সার্ভিস। এ বিভাগের অধীনে সাধারণত কাস্টমারদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন, চিন্তা ও সেবা বিনিময় করা হয়। সুতরাং কোনো চাকরি প্রত্যাশীর সিভিতে এই দক্ষতার কথা উল্লেখ থাকলে স্বাভাবিক ভাবেই সেটা ইতিবাচক ভাবে গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন : ইন্টারভিউতে যেসব ভুল করবেন না

৫। লিডারশিপ স্কিল : নেতৃত্বের গুণাবলী আপনাকে অন্যদের থেকে আলাদা করবেই। বিশেষ করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই চাইবে, তাদের কর্মীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলী থাকুক। যাতে তারা চলমান মার্কেটে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে পারে। 

professional cv

৬। ম্যানেজমেন্ট স্কিল : ধরুন, কোনো একটি প্রতিষ্ঠান নতুন প্রজেক্ট শুরু করতে যাচ্ছে। আপনি সেখানে চাকরির জন্য আবেদন করলেন। স্বাভাকিভাবেই প্রতিষ্ঠানটি চাইবে, আপনার মধ্যে ম্যানেজমেন্ট স্কিল থাকুক। ফলে আপনি যদি আগে থেকেই সিভিতে এই বিষয়টি উল্লেখ করে দেন, তাহলে প্রতিষ্ঠানটি অবশ্যই ইতিবাচক ভাবে দেখবে।


৭। প্রবলেম-সলভিং স্কিল : সাম্প্রতিক সময়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলো সমস্যা সমাধানের বিষয়ে সরাসরি উল্লেখ করে দেয়। অর্থাৎ দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধানে পারদর্শী হলে প্রতিষ্ঠানগুলো আপনাকে ইতিবাচক ভাবে মূল্যায়ন করবে।

৮। টাইম ম্যানেজমেন্ট : প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই চায়, কর্মীদের মধ্যে সময় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ধারণা থাকুক। সময় সচেতনদের সব প্রতিষ্ঠানই চাইবে নিজেদের প্রতিষ্ঠানে যুক্ত করতে।

প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে ইমেল : info@banglanewsexpress.com

আমরা আছি নিচের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুলোতে ও

Leave a Comment