আরোহের আকারগত ভিত্তি হিসেবে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়ম সম্পর্কেআপনার অভিমত ব্যক্ত করুন। hsc উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র ১১শ শ্রেণি ৫ম অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান/ উত্তর ২০২১

আরোহের আকারগত ভিত্তি হিসেবে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়ম সম্পর্কেআপনার অভিমত ব্যক্ত করুন। hsc উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র ১১শ শ্রেণি ৫ম অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান/ উত্তর ২০২১

Assignment এইচ এস সি ডিগ্রি ও উন্মুক্ত পরীক্ষা প্রস্তুতি শিক্ষা
শেয়ার করুন:
শ্রেণি: ১১শ/ hsc/ উন্মুক্ত-2021 বিষয়: যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র এসাইনমেন্টেরের উত্তর 2021
এসাইনমেন্টের ক্রমিক নংঃ 05 বিষয় কোডঃ 1860
বিভাগ: মানবিক শাখা
বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস// https://www.banglanewsexpress.com/

এসাইনমেন্ট শিরোনামঃ আরোহের আকারগত ভিত্তি হিসেবে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়ম সম্পর্কেআপনার অভিমত ব্যক্ত করুন।

এসাইনমেন্ট সম্পর্কে প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে Google News <>YouTube : Like Page ইমেল : assignment@banglanewsexpress.com

প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি (Law of Uniformity of Nature) ও আরােহ অনুমানে আমরা কতিপয় বিশেষ = ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। এই বিশেষ জ্ঞান হতে সার্বিক জ্ঞানে উপনীত হওয়ার ভিত্তি হচ্ছে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি। আমাদের চারপাশ, জীবজগত, জড়মন্ডল ও সকল প্রকার শক্তির সমষ্টিই হলাে প্রকৃতি। এ প্রকৃতিকে প্রত্যক্ষণ বা যাচাই করা যায়। প্রকৃতির মাঝে বিরাজমান ঘটনা প্রবাহের মধ্যে কিছু সাধারণ নিয়ম রয়েছে এবং প্রকৃতির প্রতিটি ঘটনায় এ নিয়ম অনুসৃত হয়। প্রকৃতির মধ্যে বিদ্যমান এ নিয়মই হলাে প্রকৃতির নিয়ম। প্রকৃতির ঐক্য বা প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি হলাে আরােহের আকারগত ভিত্তি। প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি বিজ্ঞানের অন্যতম মৌলিক নিয়ম বলে একে সংজ্ঞায়িত করা যায় না।

তবে যুক্তিবিদগণ বিভিন্ন ভাবে বর্ণনা করে নীতিটিকে বােঝাবার চেষ্টা করেছেন। যেমন:

১. প্রকৃতির রাজ্যে সম অবস্থায় একরূপ ঘটনা ঘটে

২. ভবিষ্যত অতীতকে অনুসরণ করবে

৩. প্রকৃতির রাজ্যে একতার নির্দেশনা বহাল থাকে।

৪. অবর্তমান বর্তমানের মতােই হবে।

৫. প্রকৃতিতে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে

৬. প্রকৃতিতে একটি অবস্থার পুনরাবৃত্তি ঘটলে ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে

৭. প্রকৃতি নিয়মের রাজ্য

৮. প্রকৃতি একই রকম।

৯. প্রকৃতিতে একই কারণ একই কার্য ঘটায়

১০. প্রকৃতি নিজের পুনরাবৃত্তি করে

১১. প্রকৃতিতে সমান্তরাল ঘটনা ঘটে

১২. প্রকৃতি একই অবস্থায় সমরূপ আচরণ করে। এসব বক্তব্যের তাৎপর্য হলাে প্রকৃতি সর্বত্রই অভিন্ন অবস্থায় একই আচরণ করে থাকে। প্রকৃতি নিয়মের উপাসক। এখানে জোরজবরদস্তি বা খামখেয়ালীর কোনাে সুযােগ নেই। যদি পরিস্থিতির কোনাে পরিবর্তন না হয় তাহলে প্রকৃতিতে সর্বত্র একই আচরণ দেখা যায়।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

যুক্তিবিদ জেমস্ ওয়েল্টন(James Welton)মনে করেন, সমগ্র প্রকৃতির মধ্যে একটি অন্তর্নিহিত ঐক্য বিভিন্ন শাখার বিভিন্ন রূপ নিয়ে প্রকাশিত হলেও এর লক্ষণ আসলে এক ও অদ্বিতীয়। যেমন- যে। স্থানে ভূমিকম্প হয়েছে, সেই একই অবস্থা যেসব স্থানে দেখা দিবে সেসব স্থানেও ভূমিকম্পের আবির্ভাব ঘটবে। প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতিটি ব্যাখ্যার জন্য আরাে দু’টি ধারণা ব্যাখ্যা করা প্রয়ােজন। প্রকৃতিতে বৈচিত্র বিদ্যমান ও প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতিটি মূলত: একরূপতা প্রকাশ করলেও এই একরূপতার পাশাপাশি প্রকৃতিতে বিভিন্নতা ও বৈচিত্র দেখা যায় বলে অনেকে এ নীতির সার্বজনীনতায় সন্দেহ পােষণ করে থাকেন। জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill)ও যুক্তিবিদ কাৰ্ভেৰ্থ রিড (Carveth Read)একরূপতার পাশাপাশি প্রকৃতিতে বিভিন্নতার অস্তিত্বের কথা বলেন। তাঁরা প্রকৃতির বিভিন্ন বৈচিত্রপূর্ণ ঘটনা। যেমন- রাজনীতি, ব্যবসা, বাতাস, জলবায়ু , ভূমিকম্প, তুফান, জলােচ্ছাস, গ্রহন ইত্যাদির উল্লেখ করে এ নিয়মের সার্বজনীনতায় সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। প্রকৃতি আমাদের সাথে বড় অদ্ভুত আচরণ করে। এর উত্তরে বলা যায়, প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির অর্থ এই নয় যে প্রকৃতিতে বৈচিত্র বলে কিছু নেই।

এ নীতিতে বলা হয়েছে, একই অবস্থা বিরাজ করলে অথবা সমরূপ অবস্থা উপস্থিত থাকলে অতীতের মতাে আগামীতেও প্রকৃতি একই আচরণ করবে। প্রকৃতির নীতি এক নয়, বহু ও প্রকৃতির রাজ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক বিচ্ছিন্ন বিভিন্ন শাখার পর্যবেক্ষণ থেকে আবার কোনাে কোনাে যুক্তিবিদ প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতিটিতে বহুত্ব আরােপ করে থাকেন। যুক্তিবিদআলেকজান্ডার বেইন (Alexander Bain)বলেন, সমগ্র প্রকৃতি একই নিয়মে চলে বলে মনে হয় না। তাই তিনি বলেন, প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি এক নয়, বহু। গ্রহ-নক্ষত্রের গতি বিধি এক ধরনের নিয়মে ঘটে, উদ্ভিদ রাজ্যে চলে অন্য নিয়ম, আবার রাসায়নিক পদার্থের ক্ষেত্রে এক ধরনের নিয়ম বিদ্যমান, অন্যদিকে মনােজগত বা শরীরবিদ্যার রয়েছে ভিন্ন নিয়ম। অর্থাৎ প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি এক ও অভিন্ন নয়, প্রকতিতে বহু নিয়ম বিদ্যমান। যারা প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতিতে বহুত্ব আরােপ করতে চান তাদের বক্তব্য গ্রহণ করা যায় না। বিশেষ বিজ্ঞান বা বিশেষ জ্ঞানশাখা হিসেবে পদার্থবিদ্যা, রসায়নশাস্ত্র, উদ্ভিদবিদ্যা, নীতিশাস্ত্র, শিল্পকলা পারস্পরিক বিচ্ছিন্ন হলেও একই প্রকৃতি রাজ্যের সদস্য। অথ্যাৎ ভিন্ন ভিন্ন জ্ঞানশাখা প্রকৃতির ভিন্ন ভিন্ন দিক নিয়ে আলােচনা করে। এখানে প্রকৃতি একটি এবং একমাত্র নিয়মের মাধ্যমে নয় বরং এক ও অভিন্ন নীতির আলােকেই নিয়ন্ত্রিত হয়। এই অসুবিধার জন্য যুক্তিবিদ জেমস

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

ওয়েল্টন (James Welton) প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি কথাটির পরিবর্তে একে প্রকৃতির একত্ব নীতি বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, সমগ্র প্রকৃতির মধ্যে অন্তর্নিহিত ঐক্য বিদ্যমান। প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি আরােহের আকারগত ভিত্তি ও প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা’ এর অর্থ হলাে প্রকৃতিতে কতগুলাে এ নিয়মগুলােই প্রাকতিক ঘটনাবলিয় বৈষম্যের মাঝে ঐক্যসুত্র হিসেবে কাজ করে। আমরা প্রকৃতির এ ঐক্যসূত্র ও কার্যকারণ নিয়মের মাধ্যমে আরােহ অনুমানের সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করি। আবার আমরা প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়ম-এ দুটি প্রয়ােজনীয় চিরন্তন ও সার্বজনীন নিয়মে আস্থা রাখি বলেই আরােহ অনুমানের বৈধতায় ও যথার্থতায় বিশ্বাস করি।

আজ যে অবস্থায় যে কারণে যা ঘটলাে, চিরকাল সে অবস্থায় সে কারণ উপস্থিত থাকলে তাই ঘটবে। এ নীতির উপর আরােহ অনুমানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের বৈধতা বহুলাংশে নির্ভরশীল বলে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতিকে আরােহের আকারগত ভিত্তি বলা হয়। প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতিটি আরােহ অনুমানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ নীতির কারণেই আরােহের ক্ষেত্রে জ্ঞাত বিষয় থেকে অজ্ঞাত বিষয়ে উল্লম্ফন প্রদান করা যায়। এ নীতিটি কেবল বৈজ্ঞানিক আরােহের ক্ষেত্রেই নয়, অবৈজ্ঞানিক আরােহ ও সাদৃশ্যানুমানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির সাথে আরােহের সম্বন্ধ (Relation between the Law of Uniformity of Nature and Induction) ও আরােহ অনুমানে আমরা কতিপয় বাস্তব দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করে তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হিসেবে একটি সার্বিক সংশ্লেষক বাক্য স্থাপন করি। আমরা কয়েকজন মানুষকে মরতে দেখি এবং তা থেকে সামান্যীকরণ করি যে, সকল মানুষ মরণশীল। কিন্তু কয়েকজন মানুষের মৃত্যুর ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে সকল মানুষের মরণশীলতার সার্বিক সিদ্ধান্ত প্রতিপাদনের ভিত্তি কী? নিরীক্ষিত থেকে অনিরীক্ষিতে জানা থেকে অজানায়, কতিপয় থেকে সার্বিক ।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

ম্ভব হয় এজন্য যে আমরা বিশ্বাস করি ‘প্রকৃতি নিয়মের অধীন। যদি কয়েকজন মানুষের মৃত্যুর প্রত্যক্ষণ সত্যি হয় তাহলে সকল মানুষের ক্ষেত্রেই মরণশীলতা সত্য হবে- এটাই প্রকৃতির নিয়ম। প্রকৃতিতে মানুষ হিসেবে কেউ জন্ম নিলে তার মৃত্যু হবে- এটাই প্রকৃতির বিধি। জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) বলেন, প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির পূর্ব ধারণার ভিত্তিতেই প্রতিটি আরােহ অনুমানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতিই হলাে আরােহের রূপগত বা আকারগত ভিত্তি।

ভাস (Paradox of Induction) ঃ কটাভাস শব্দের অর্থ হলাে আপাত-বিরােধ। অর্থাৎ কটাভাস হচ্ছে এমন। মতবাদ যা আপাতদৃষ্টিতে অসঙ্গত কিন্তু বাস্তবে সত্য। যে মতবাদ আপাত দৃষ্টিতে আরােহ অনুমানের ক্ষেত্রে স্ববিরােধী বলে মনে হয়, কিন্তু যথার্থ বিচারে অসঙ্গত বা স্ববিরােধী বলে প্রমাণিত হয় না, তাকে আরােহ অনুমানের আপাত অসঙ্গত মতবাদ বা কূটাভাস বলে।। প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি আরােহ অনুমানের একটি আকারগত ভিত্তি। প্রত্যেক আরােহ অনুমানের ক্ষেত্রে এ নীতিকে স্বীকার করে নিতে হয়। তা না হলে আরােহ অনুমান সম্ভব হয় না।

কারণ, এ নীতির ভিত্তিতেই বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্ত থেকে আরােহ অনুমানে সার্বিক সিদ্ধান্ত অনুমান করা হয়। এ কারণেই জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতিকে আরােহের অন্যতম রূপগত বা আকারগত ভিত্তি বলে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির উৎপত্তি প্রসঙ্গে জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) তাঁর পূর্ববতী মতবাদের সাথে সামঞ্জস্যহীনভাবে বলেন যে, নীতিটি নিজেই একটি আরােহ অনুমানের দৃষ্টান্ত। কারণ, তিনি মনে করেন যে, প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতিটির উৎপত্তি হয়েছে কতগুলাে অনুকুল দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতা থেকে। এক্ষেত্রে কোনাে প্রতিকূল দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতা গ্রহন করা হয় নি। আমরা ছােট বেলা থেকে দেখি আগুন দহন করে, পানি পিপাসা মিটায়, খাদ্য ক্ষুধা নিবারণ করে। এর বিপরীত কোনাে ঘটনা বা দৃষ্টান্ত আমরা দেখি না। এরূপ ঘটনা বারবার ঘটতে দেখে আমরা বিশ্বাস করতে শিখি যে, এ ঘটনাগুলাে একই অবস্থায় একইভাবে ঘটবে। এগুলাে হলাে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বিশেষ বিশেষ নিয়মানুবর্তিতার দৃষ্টান্ত। জন স্টুয়ার্ট মিল। (John Stuart Mill) বলেন যে,

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

আমরা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বিশেষ বিশেষ নিয়মানুবর্তিতা লক্ষ্য করে তা থেকে সাধারণ নিয়মানুবর্তিতা অনুমান করি। অর্থাৎ জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill)-এর মতে, নিয়মানুবর্তিতা নীতি হলাে বহু সংখ্যক বিশেষ বিশেষ নিয়মানুবর্তিতা নীতির দৃষ্টান্ত অপূর্ণ গণনামূলক আরােহের ভিত্তিতে সাধারণীকরণ বা সার্বিকীকরণ। তাহলে দেখা যায়, প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি আরােহ অনুমানের ফল। এখানে মিলের বক্তব্য এই দাঁড়ায় যে, আরােহের ভিত্তি একটি আরােহ। প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি সম্পর্কে মিলের এই পরস্পর বিরােধী বা স্ববিরােধী বক্তব্যকেই আরােহের আপাত অসঙ্গত মতবাদ বা আরােহের কূটাভাস বলে। বিশ্লেষণ : অনেক যুক্তিবিদ মিলের আপাত বিরােধী বা অসঙ্গত মতবাদকে ভ্রান্ত বলে বিবেচনা করেছেন। যেসব যুক্তিতে মিলের স্ববিরােধী মতবাদ অগ্রহনযােগ্য সেগুলাে হলাে : প্রথমত : মিলের যুক্তিটি চক্রক অনুপপত্তি দোষে দুষ্ট। তিনি যে বিষয়টি প্রমাণ করতে চেয়েছেন সেটিকে প্রথমেই তিনি সত্য বলে ধরে নিয়েছেন। তিনি প্রথমে বলেছেন যে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতিটি হচ্ছে আরােহের ভিত্তি এবং পরে বলেছেন। এ নিয়মটি হলাে আরােহের ফল অর্থাৎ আরােহের অনুমিত সিদ্ধান্ত। কিন্তু যদি প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি আরােহের ভিত্তি হয় তাহলে এ নীতিটি আরােহের সিদ্ধান্ত হতে পারে না। কারণ একই বিষয়ের পক্ষে কোনাে কিছুর ভিত্তি ও ফল উভয়ই হওয়া সম্ভব নয়।

দ্বিতীয়ত: বৈজ্ঞানিক আরােহের সিদ্ধান্ত সুনিশ্চিত কিন্তু অপূর্ণ গণনামূলক আরােহের সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য। প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতিই অপূর্ণ গণনামূলক আরােহের ফল বা সিদ্ধান্ত হলে নিয়মটি স্বভাবতই সম্ভাব্য হবে। আমরা জানি, প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি হবে বৈজ্ঞানিক আরােহের ভিত্তি। কিন্তু যা সম্ভাব্য তা কখনাে নিশ্চিত বিষয়ের ভিত্তি হতে পারে না। অথাৎ সম্ভাব্যতা নিশ্চিত বিষয়ের ভিত্তি হবে এটা যৌক্তিক নয়।

তৃতীয়ত: জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill)- এর এ পরস্পরবিরােধী বক্তব্যের আসল কারণ হলাে তাঁর অভিজ্ঞতাবাদী মতবাদ। অভিজ্ঞতাবাদ অনুসারে ইন্দ্রিয় জ্ঞান জনিত অভিজ্ঞতাই জ্ঞানের একমাত্র উৎস। তাই মিল মনে করেন যে, প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতিটি অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই অনুমিত হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতিটি একটি মৌলিক নিয়ম বা পরম নিয়ম। মৌলিক নিয়মগুলােকে প্রমাণ করা যায় না,

সত্য বলে মেনে নিতে হয়।জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) এ বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন অথবা তাঁর অভিজ্ঞতাবাদী মতবাদকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন যা যথার্থ নয়। সুতরাং প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতিটি আরােহের ভিত্তি, আরােহের ফল নয়।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

কার্যকারণ নীতি (Law of Causation) ও আরােহের আরেকটি আকারগত ভিত্তি হলাে কার্যকারণ নিয়ম।

আরােহের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য কার্যকারণ সিয়ম অনুসরণ করা হয়। কার্যকারণ নিয়মের মানে হলাে জগতে এমন কোনাে কাজ নেই যার পিছনে কোনাে কারণ নেই, এবং জগতে এমন কোনাে কারণ খুজে পাওয়া যায় না যার পরে কোনাে কাজ ঘটে না। অর্থাৎ জগতের প্রতিটি ঘটনার একটি কারণ রয়েছে। যা কিছু ঘটে তা কোনাে না কোনাে কারণবশত ঘটে। জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) বলেন, যে ঘটনার আরম্ভ আছে তার অবশ্যই একটা কারণ আছে।

জান্ডার বেইন (Alexander Bain)বলেন, যে ঘটনা ঘটে তা সকল ক্ষেত্রেই পূর্ববর্তী এমন একটি ঘটনার সাথে সম্পর্কিত থাকে যা ঘটলে ঘটনাটি ঘটে এবং না ঘটলে ঘটনাটি ঘটে না (Every event that happens definitetey connected with some prior event, which happening happens; which failing, it fails.) I 6770-GRICT পিপাসার্ত ব্যক্তি পানীয় পান করলে পিপাসা নিবৃত্ত হয়। কিন্তু পানীয় পান না করলে পিপাসা নিবৃত্ত হয় না। এখানে পানি পান করা হলাে কারণ এবং পিপাসা নিবৃত্ত হওয়া হলাে কার্য। নঞর্থকভাবে বলা যায়, কারণ ব্যতীত কোনাে কার্যই ঘটে না। নিছক শূন্য থেকে কেবল শূন্যই আসে (Ex-nihilo nihil fit)। শূন্য থেকে কোনাে কিছুই সৃষ্টি হতে পারে না (No change arises out of vacuity stillness.-Bain)। অর্থাৎ যেখানে কোনাে কারণ নেই সেখানে কোনাে কার্য থাকতে পারে না।

কারণ হলাে একটি মৌলিক নিয়ম। কার্য ও কারণের মধ্যকার অনিবার্য সম্পর্কই এর মৌলিকতার প্রমাণ। কার্য ও কারণের অনিবার্য সম্পর্কের মানে হলাে, যখন কোনাে কার্য ঘটবে তখন অবশ্যই তার পিছনে কারণ থাকবে। আবার, কোনাে কারণ ঘটলে তা থেকে অবশ্যই কোনাে কার্যের উৎপত্তি হবে।

নিম্নে কার্যকারণ সম্পর্কে বিভিন্ন মতবাদ তুলে ধরা হলাে : কার্যকারণ সম্পর্কে এরিস্টটলের মতবাদ (Aristotles View on Causation) ঃ এরিস্টটলের মতে, কারণ একটি জটিল ঘটনা। এটা মােটেই সরল নয়। কারণের স্বরূপ বিশ্লেষণের সময় তিনি একটি কার্যের উৎপত্তির পিছনে চার ধরনের কারণের কথা বলেন: উপাদান কারণ (material cause), আকারগত কারণ (formal cause) নিমিত্ত কারণ (efficient cause) ও পরিণতি কারণ (final cause)। একটি মূর্তি তৈরি করতে হলে উপাদান প্রয়ােজন, আকার প্রয়ােজন, শক্তিকৌশল-যন্ত্রপাতি সহযােগে নিমিত্ত প্রয়ােজন, এবং চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে আমরা একটি মূর্তি পাই। এরিস্টটল উপাদান ও আকারকে অভ্যন্তরীণ কারণ বলেছেন এবং নিমিত্ত ও পরিণতিকে বাহ্যিক কারণ বলেছেন। কারণ ও শর্ত (Cause and Condition) : আমাদের এ জগত পরিবর্তনশীল। প্রতি মুহুর্তে নতুন ঘটনা ঘটছে এবং বস্তুজগত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ পরিবর্তন কেন এবং কিভাবে হয় তার উত্তর খুঁজতে গিয়েই আমরা কারণের সন্ধান পাই। কারণ হচ্ছে এমন কিছু যার মধ্যে এমন শক্তি আছে যার প্রভাবে একটি বস্তুর পরিবর্তন হয় বা একটি ঘটনার উৎপত্তি হয়।

আবার, কারণ আকস্মিকভাবে তৈরি হয় না। কারণের অংশ বা উৎপাদক রয়েছে যাকে শর্ত বলা হয়। যখন কোনাে কার্য অনেকগুলাে পূর্বগামী ব্যাপার বা অবস্থার সমাবেশে ঘটে তখন এই ব্যাপারগুলােও হয় শর্ত। নিচে কারণ ও শর্তের সংজ্ঞা তুলে ধরা হলাে। কারণের সংজ্ঞা (Definition of Cause) ঃ দার্শনিক ডেভিড হিউম (David Hume) কারণের সংজ্ঞায় বলেন, যে বিষয়। অন্য কোনাে বিষয়কে অনুসরণ করে, যার উপস্থিতির ফলে অন্য বিষয়ের উপস্থিতি সম্পর্কে আমরা চিন্তা করি তাই হলাে কারণ। যেমন- আমরা দূরবর্তী কোনাে স্থানে ধোঁয়া দেখলে আগুনের কথা চিন্তা করি;

সুতরাং আগুন হলাে ধােয়ার কারণ। জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) তাঁর ‘A System of Logic’ গ্রন্থে বলেন, কোনাে ঘটনার কারণ হলাে সেই পূর্বগামী বিষয় বা বিষয় সমূহের সমষ্টি যাকে ঘটনাটি শর্তহীন ও অপরিবর্তনীয় ভাবে অনুসরণ করে।যুক্তিবিদআলেকজান্ডার বেইন (Alexander Bain) তাঁর Logic’ গ্রন্থে বলেন, কারণ হলাে কার্য সৃষ্টির জন্য প্রয়ােজনীয় শতাবলি ও পারিপার্শ্বিক ঘটনাবলির সমষ্টি। যেসব অপরিহার্য শর্তাবলি ও প্রয়ােজনীয় ঘটনাংশ বা উৎপাদক উপস্থিত থাকলে একটি কার্য ঘটে তাই হলাে কারণ। যুক্তিবিদ কাৰ্ভেৰ্থ রিড (Carveth Read) কারণের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, গুণগতভাবে কারণ হলাে কার্যের অব্যবহিত শর্ত নিরপেক্ষ ও অপরিবর্তনীয় পূর্ববর্তী ঘটনাবলির সমষ্টি। উপযুক্ত আলােচনার আলােকে আমরা কারণের সংজ্ঞায় বলতে পারি যে, কারণ হলাে এমন একটি বাস্তব পূর্ববর্তী ঘটনা যা কোনাে নির্দিষ্ট স্থানে, নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত থেকে শর্ত নিরপেক্ষ ও অপরিবর্তনীয়ভাবে একটি কার্য ঘটায়। যেমন- পানি উত্তপ্ত করা হলে তা বাষ্পে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে গুণগত দিক থেকে পানির উত্তপ্তকরণ হলাে কারণ, আর বাষ্প হলাে। কার্য। অন্যদিকে পরিমাণগত দিক থেকে যতটুকু পানি উত্তপ্ত করা হয় ঠিক ততটুকু বাষ্প পাওয়া যায়।

শর্তের সংজ্ঞা (Definition of Conditon) ঃ কারণের অপরিহার্য অংশ হলাে শর্ত। শর্তের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে যুক্তিবিদ কার্ভেথ রিড (Carveth Read) বলেন, “শর্ত হলাে কারণের এমন সব অপরিহার্য ও প্রয়ােজনীয় উপাদান যা শক্তি সঞ্চারন, শােষণ, রূপান্তর বা বিক্ষেপণ করে।” একথার অর্থ হলাে যা কিছু কার্য সংগঠনের জন্য কারণ সৃষ্টির ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বা পরােক্ষ ভূমিকা পালন করে তাই হলাে শর্ত। যেমন- কোনাে এলাকায় আন্দোলনের ফলে প্রশাসন নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং এলাকায় দুনীর্তি বৃদ্ধি পায়। এক্ষেত্রে এলাকার বিদ্যমান সমস্যা, সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের ব্যর্থতা, গণ আন্দোলন, গণআন্দোলনের ফলে প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তা ইত্যাদির ফলে এলাকার দুনীর্তি বৃদ্ধি পায়। এক্ষেত্রে এলাকার দুনীর্তি বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত প্রত্যেকটা ঘটনা হলাে শর্ত। আর এসব শর্তের সমষ্টিগত রূপই হলাে কারণ। শর্তের প্রকৃতি নির্ণয় করতে গিয়ে যুক্তিবিদগণ দুই প্রকার শর্তের কথা বলেন; যথা ক. সদর্থক শর্ত

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

খ. নঞর্থক শর্ত সদর্থক শর্ত : জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mil)-এরমতানুসারে, যেসব শর্ত উপস্থিত থাকলে একটি কার্য সংঘটিত হয় তাদের সদর্থক শর্ত বলে। নঞর্থক শর্ত : জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) বলেন, যে সব শর্ত অনুপস্থিত থাকলে একটি কার্য সংঘটিত হয় তাদের নঞর্থক শর্ত বলে। কারণ ও শর্তের পার্থক্য (Defferences between Cause and Condition) : কারণ ও শর্তের সংজ্ঞা ও উদাহরণ বিশ্লেষণ করলে এদের মধ্যে কতগুলাে পার্থক্য দেখা যায়। কারণ ও শর্তের মধ্যে কয়েকটি পার্থক্য নিচে তুলে ধরা হলাে:

১. কারণ হলাে এমন ঘটনা যা কার্য উৎপন্ন করে। আর শর্ত হলাে কার্য সংঘটনের জন্য দায়ী কারণের একেকটি অংশ।

২. কোনাে একটি কার্যকে বিশ্লেষণ করলে একটি মাত্র কারণ পাওয়া যায়। কিন্তু ঐ কার্যকে বিশ্লেষণ করলে একাধিক শর্ত পাওয়া যায়।

৩. কারণকে গুণগত ও পরিমাণগত এই দুই দিক থেকে বিচার করা যায়। কিন্তু শর্তকে সদর্থক ও নঞর্থক এই দুই দিক থেকে বিচার করা যায়।

৪. কারণ হলাে কার্যের অপরিবর্তনীয় পূর্ববর্তী ঘটনাবলির সমষ্টি। কিন্তু শর্ত হলাে কার্যের পরিবর্তনশীল পূর্ববর্তী ঘটনা।

৫. কারণ কার্যের অব্যবহিত পূর্ববর্তী ঘটনা । কিন্তু শর্ত কার্যের দূরবর্তী পূর্ববর্তী ঘটনা হতে পারে।

৬. পরিমাণগতভাবে কারণ কার্যের সমান। কিন্তু পরিমাণের দিক থেকে কোনাে একক শর্ত কার্যের সমান নয়।

৭. যে কোনাে কারণকে শর্ত হিসেবে বিবেচনা করা যায় । কিন্তু যে কোনাে শর্তকে সমগ্র কারণরূপে বিবেচনা করা যায় না।

৮. কারণ বিশ্লেষণ করলে কার্য পাওয়া যায়; কিন্তু কোনাে শর্তকে বিশ্লেষণ করলে কার্য পাওয়া যায় না।

কারণ ও শর্তের সম্পর্কঃ কারণ ও শর্তের সম্পর্ককে তিনভাবে বিশ্লেষণ করা যায়; যথা

ক. পর্যাপ্ত শর্ত হিসেবে কারণ।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

খ. আবশ্যিক শর্ত হিসেবে কারণ।

গ. পর্যাপ্ত ও আবশ্যিক শর্ত হিসেবে কারণ

ক. পর্যাপ্ত শর্ত হিসেবে কারণ (Cause as a Sufficient Condition) ও একটি কারণ তখনই পর্যাপ্ত শর্ত হয় যখন। কারণটি উপস্থিত থাকলে কার্যটি ঘটবেই। কিন্তু ঘটনাটিতে যে পর্যাপ্ত শর্তটি উপস্থিত থাকতে হবে এমন কোনাে কথা নেই। অথাৎ পর্যাপ্ত শর্ত উপস্থিত থাকলে ঘটনাটি ঘটবেই। কিন্তু পর্যাপ্ত শর্ত না থাকলেও ঘটনাটি ঘটতে পারে। এর মানে হলাে একই ঘটনার একধিক পর্যাপ্ত শর্ত থাকতে পারে।

যেমন- রুমের অন্ধকার দূর করার জন্য বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালানাে একটি শর্ত। কিন্তু কেরােসিনের কুপি জ্বালানাে, গ্যাস বার্নার জ্বালানাে, মােমবাতি জ্বালানাে, হারিকেন জ্বালানাে এক একটি পর্যাপ্ত শর্ত। কাজেই যে কোনাে একটি পর্যাপ্ত শর্ত উপস্থিত হলেই কার্যটি উৎপন্ন হয়।

খ. আবশ্যিক শর্ত হিসেবে কারণ (Cause as Necessary Condition) ঃ যে শর্তটি কার্যের উৎপত্তির জন্য আবশ্যিক বা অনিবার্য সে শর্তটিকে বলা হয় আবশ্যিক শর্ত। কোনাে একটি ঘটনার আবশ্যিক শর্ত হলাে এমন একটি অবস্থা যার অনুপস্থিতিতে ঘটনাটি ঘটতে পারে না। অর্থাৎ কোনাে ঘটনা ঘটলে তার আবশ্যিক শর্ত উপস্থিত থাকবেই।

যেমন- আগুন লার জন্য অক্সিজেনের উপস্থিতি একটি আবশ্যিক বা অপরিহার্য শর্ত। আগুন জ্বলার জন্য অক্সিজেনের উপস্থিতি একান্তভাবে আবশ্যক। কারণ অক্সিজেন না থাকলে আগুন জ্বলতে পারে না। উপযুক্ত আলােচনা থেকে আমরা বলতে পারি:

  • A একটি পর্যাপ্ত শর্ত B এর জন্য; A ঘটলে B ঘটবে। | * A, B এর জন্য একটি অপরিহার্য শর্ত: B ঘটতে হলে A এর উপস্থিতি অবশ্যই প্রয়ােজন। গ. আবশ্যিক ও পর্যাপ্ত শর্ত হিসেবে কারণ (Cause as Necessary and Sufficient Condition) ঃ আবশ্যিক ও পর্যাপ্ত শর্ত হিসেবে কারণকে গ্রহণ করলে আমরা দেখি যে, কারণ যেমন কার্যের অব্যবহিত ও অপরিবর্তনশীল পূর্ববতী ঘটনা তেমনি কার্য হলাে কারণের অব্যবহিত পরবর্তী ঘটনা। অর্থাৎ কারণকে আমরা পর্যাপ্ত ও আবশ্যিক শর্ত হিসেবে গ্রহণ করি বলেই কার্য থেকে কারণ এবং কারণ থেকে কার্য অনুমান করতে পারি। এক্ষেত্রে সকল আবশ্যিক শর্তের সমষ্টিই হবে পর্যাপ্ত শর্ত যা কার্যের একমাত্র কারণ বলে গণ্য হয়। এ অর্থে একটি কার্যের একটি মাত্র কারণ থাকতে পারে। যেমন- মৃত্যু হলাে একটি ঘটনা যার আবশ্যিক ও পর্যাপ্ত শর্ত হলাে হৃত্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়া।

কারণের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of Cause) ঃ যুক্তিবিদ কাৰ্ভেৰ্থ রিড (Carveth Read) তাঁর Logic: Deductive and Inductive বইয়ে কারণের দুই ধরনের বৈশিষ্ট্যের কথা বলেছেন; যথা-

১.গুনগত বৈশিষ্ট্য, এবং

২.পরিমাণগত বৈশিষ্ট্য কারণের গুনগত বৈশিষ্ট্য (Qualitative Marks of Cause) ঃ

১. কারণ একটি বাস্তব ঘটনা। কারণ এমন একটি বাস্তব ঘটনা যাকে অন্য কোনাে ঘটনা অনুসরণ করে এবং যার উপস্থিতি অন্য একটি ঘটনা ঘটায়।

২. কারণ কোনাে একটি নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত থাকে। যেকোন বাস্তব ঘটনার উপস্থিতি সম্পন্ন হয় কোনাে একটি নির্দিষ্ট সময়ে। কারণ একটি বাস্তব ঘটনা বলে তা কোনাে একটি নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত থাকে।

৩.কোনাে নির্দিষ্ট স্থানে উপস্থিত থাকে। কার্যও কারণ দুটি পূর্বাপর ঘটনা যার একটি অপরটিকে অনুসরণ করে। | একটি স্থিত ঘটনা অপর ঘটনাটিকে অনুসরণ করার জন্য উভয় ঘটনাকেই কোনাে নির্দিষ্ট স্থানে উপস্থিত থাকতে হয়।

৪. কারণ একটি প্রত্যক্ষণযােগ্য ঘটনা। কারণ নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট স্থানে উপস্থিত থাকে বলে তা ইন্দ্রিয় দ্বারা প্রত্যক্ষ করা যায়।

৫. বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে কারণ ও কার্যকে প্রাকৃতিক ব্যাপার (Natural Phenomena) বলে মনে করা হয়।

৬. কারণের একটি অনিবার্য বৈশিষ্ট্য হলাে কার্যের পূর্বে উপস্থিতি। কোনাে ঘটনাকে (Fi)অন্য একটি ঘটনার (F2) কারণ হতে হলে তাকে (Fi) পূবার্গামী হতেই হবে। তবে কারণ কার্যের অপরিবর্তনীয় পূর্ববর্তী ঘটনা। কোনাে ঘটনা (Fi) যদি অপরিবর্তনীয় রূপে অন্য একটা ঘটনাকে (F2) অনুসরণ করে তাহলে পূর্ববর্তী ঘটনাকে পরবর্তী ঘটনার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।

৭. কারণ কার্যের শর্ত নিরপেক্ষ পূর্ববর্তী ঘটনা। কারণ কার্যের অপরিবর্তনীয় পূর্ববর্তী ঘটনা হলেও তাকে অবশ্যই শর্ত নিরপেক্ষ হতে হবে; যে কোনাে পূর্ববর্তী ঘটনা কারণ হতে পারে না। যেমন- দিন রাতের অপরিবর্তনীয় পূর্ববর্তী ঘটনা । কিন্তু তা সত্ত্বেও দিন রাতের কারণ নয়। দিন ও রাতের মধ্যে সময়গত দিক থেকে পূর্বাপর সম্পর্ক থাকলেও উভয় হলাে পৃথিবীর আহ্নিক গতি ও নিজস্ব কক্ষপথে আবর্তনের ফলে সৃষ্ট দু’টি ঘটনা। এ ধরনের ঘটনা হলাে শর্ত সাপেক্ষ ঘটনা। এরূপ শর্ত সাপেক্ষ দুটি ঘটনা একই কারণের ফলে সৃষ্ট কার্য বলে এদের সহকার্য বলা হয়।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

৮. কোনাে অপরিবর্তনীয় শর্ত নিরপেক্ষ ঘটনা (Fi) অন্য একটি ঘটনার (F2) কারণ হতে পারে। তবে ঘটনাটিকে (Fi) অব্যবহিত পূর্ববর্তী ঘটনা হতে হয়। কোনাে দূরবর্তী (remote) ঘটনা অন্য ঘটনার কারণ হতে পারে না। ভূমিকম্পে ঘরের ছাদ ভেঙ্গে একটি লােকের উপর পড়ে যাওয়ায় তার মৃত্যু হলাে। এক্ষেত্রে ভূমিকম্প লােকটির মৃত্যুর দূরবর্তী পূর্ববর্তী ঘটনা এবং ছাদের পতন অব্যবহিত পূর্বগামী ঘটনা।

সুতরাং ভূমিকম্পকে লােকটির মৃত্যুর কারণ না বলে ছাদটির পতনকেই তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলে মনে করা উচিত। কিন্তু কোনাে ক্ষেত্রে অব্যবহিত পূর্ববর্তী ঘটনা বা ঘটনাবলি অনিরীক্ষিত রেখে কোনাে দূরবর্তী শর্তকে কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হলে দূরবর্তী শর্তকে কারণ হিসেবে গ্রহনজনিত অনুপপত্তি ঘটে।

৯. কারণ একটি যৌগিক ঘটনা। কারণ হলাে কার্যের অপরিবর্তনীয়, শর্ত নিরপেক্ষ ও অব্যবহিত পূর্ববর্তী ঘটনা।

জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) এর মতে, কারণ হলাে কার্যের পূর্ববর্তী সদর্থক ও নঞর্থক শর্তসমূহের সমষ্টি। সে অনুসারে বলা যায়, কারণ কোনাে সরল ঘটনা নয় বরং যৌগিক ঘটনা। কার্যের ক্ষেত্রে যেসব ঘটনা উপস্থিত ও অনুপস্থিত থাকার ফলে কার্য সংঘটিত হয় তাদের সমষ্টিকে কারণ বলে। কোনাে ক্ষেত্রে কারণকে কার্যের পূর্ববর্তী ঘটনাবলির সমষ্টি হিসেবে বিবেচনা করার পরিবর্তে কেবল একটি ঘটনাকে কারণ হিসেবে গ্রহণ করা হলে শর্তকে কারণ হিসেবে গ্রহণ কিংবা নঞর্থক শর্তকে অনিরীক্ষণজনিত অনুপপত্তি ঘটে।

কারণের পরিমাণগত বৈশিষ্ট্য (Quantitative Marks of Cause) ঃ পরিমাণগতভাবে কারণ ও কার্য সমান। অর্থাৎ কারণের বস্তু ও শক্তির পরিমাণ কার্যের বস্তু ও শক্তির পরিমাণের সমান। এরূপ পরিমাণগত সমতার বিষয়টি নিম্নোক্ত দু’টি

১. বস্তুর অবিনশ্বরতা নিয়ম : এ নিয়মানুসারে জগতে মােট বস্তুর পরিমাণ সকল সময় সমান থাকে। এর মানে হলাে, বিশ্বে। বস্তুর মােট পরিমাণ অবিনশ্বর বা সব সময় স্থায়ী ও অপরিবর্তিত থাকে। বস্তুর এ পরিমাণের হ্রাস-বৃদ্ধি হয় না। তবে বস্তু এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তিত হতে পারে। নির্দিষ্ট পরিমাণ অক্রিজেন হাইড্রোজেনের সাথে মেশালে পানি উৎপন্ন হবে। কিন্তু পানির ওজন এবং অক্রিজেন ও হাইড্রোজেনে মিলিত ওজনের ঠিক সমান। অর্থাৎ হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন গ্যাস দুটিকে পানিতে রূপান্তরিত করা হলে তাদের রূপের পরিবর্তন ঘটে, কিন্তু তাদের পরিমাণ সমান বা অপরিবর্তিত থাকে।

২. শক্তির অবিনশ্বরতা নিয়ম : এর মানে হলাে জগতে মােট শক্তির পরিমাণ অবিনশ্বর বা অপরিবর্তিত থাকে। জগতে মােট শক্তির পরিমাণ বাড়েও না, কমেও না। শুধু এক প্রকার শক্তি অন্য প্রকার শক্তিতে রূপান্তর হতে পারে। বিদ্যুতকে তাপে বা আলােক শক্তিতে রূপান্তর করা হলে শক্তির পরিমাণের কোনাে তারতম্য ঘটে না। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়ােজন যে, শক্তি দুটি রূপে বিদ্যমান থাকে; যথা- সুপ্ত শক্তি (Potential energy) ও গতি শক্তি (Kinetic energy)। সুপ্ত শক্তি গতি শক্তিতে এবং গতি শক্তি সুপ্ত শক্তিতে রূপান্তরিত হতে পারে। আরােহের সাথে কার্যকারণ নিয়মের সম্পর্ক (Relation between Induction and the Law of Causation)। আরােহ অনুমানের দুটি আকারগত ভিত্তির মধ্যে কার্যকারণ নিয়ম হলাে একটি।

আরােহ অনুমান প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের র নির্ভর করতে হয়।

কার্যকারণ নিয়মের উপরই আরােহ অনুমানের যথার্থতা নির্ভরশীল। দু’টি ঘটনার মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কার করে একটি সামান্য সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠাই হলাে আরােহ অনুমানের মূল লক্ষ্য। তবে কোনাে ঘটনার কারণ আবিষ্কারের পূর্বে আমাদের মেনে নিতে হয় যে, প্রকৃতির সকল ঘটনাই কার্যকারণ সূত্রে আবদ্ধ। অথাৎ যা কিছু ঘটে তার একটি কারণ আছে। কারণ ব্যতীত কোনাে কিছুই ঘটে না। তাই এ নিয়মের উপর আস্থাশীল হয়ে পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে আমরা দুটি ঘটনার মধ্যে একটি কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কার করি। এরপর একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। যেমন, বিভিন্ন দৃষ্টান্ত নিরীক্ষণের মাধ্যমে আমরা স্ত্রী এনােফিলিশ মশার কামড় ও ম্যালেরিয়া রােগের মধ্যে একটি কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কার করি। এরপর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি যে, স্ত্রী এনােফিলিশ মশার কামড় হলাে ম্যালেরিয়া রােগের কারণ। প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের সম্পর্ক ও (Relation between the Law of Uniformity of Nature and the Law of Causation) ঃ প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে যুক্তিবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

এ কারণে এ বিষয় সম্পর্কে তিনটি মতের সৃষ্টি হয়েছে। এগুলাে নিম্নে আলােচনা করা হলাে। প্রথমত: জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill), বেনজন ভেন (John Venn) ও অন্যান্যদের মতে,

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি হচ্ছে মৌলিক নিয়ম; কার্যকারণ নিয়ম তার একটি বিশেষ রূপ মাত্র। কার্যকারণ নিয়মটি প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির একটি বিশেষ রূপ। কারণ, কার্যকারণ নিয়ম দ্বারা এটাই বােঝায় না যে প্রত্যেক ঘটনারই একটা কারণ আছে, বরং এটাও বােঝায় যে, একই কারণ থেকে একই রূপ কার্য ঘটবে। এভাবে কার্যকারণ নিয়মটিকে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির অন্তর্ভূক্ত করা হয়। দ্বিতীয়ত:এইচ ডব্লিউ বি যােসেফ (H.W.B. Joseph), এস. এইচ. মেলােন (S.H. Mellone) প্রমুখ যুক্তিবিদের মতে, কার্যকারণ নিয়মটিই হচ্ছে মৌলিক এবং প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতিটা এর অন্তর্ভু |

প্রকৃতির সকল ঘটনাই কার্যকারণ সম্বন্ধে আবদ্ধ। কার্য ও কারণের মধ্যে একটি অনিবার্য সম্পর্ক রয়েছে। যেখানে কার্য থাকে সেখানে অবশ্যই সুনির্দিষ্ট কারণ থাকে এবং একই কারণ থেকে একই কার্যের উৎপত্তি হয়। এ নিয়ম মেনেই প্রকৃতিতে নিয়মের নীতি প্রতিষ্ঠা করা হয়। অর্থাৎ প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা সম্পর্কে আমাদের ধারণার মূলে রয়েছে কার্য ও কারণের অনিবার্য সম্পর্ক। তৃতীয়ত: বােসাঙ্কে (Bernard Bosanquet), খ্রিস্টফ ভন সিগওয়ার্ট (Christophvon Sigwart) ওযুক্তিবিদ জেমস্ ওয়েল্টন (JamesWelton) প্রমুখ দার্শনিকের মতে, কার্যকারণ নিয়ম ও প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি দু’টি সম্পূর্ণ আলাদা মৌলিক নিয়ম। তাঁদের মতে, কার্যকারণ নিয়ম আমাদের এটা বলে যে প্রত্যেক ঘটনারই একটি কারণ আছে। কার্যকারণ নিয়মের সাহায্যে আমরা দু’টি ঘটনার মধ্যে কার্যকারণ সম্বন্ধ আবিষ্কার ও প্রমাণ করার চেষ্টা করি। কিন্তু সামান্যীকরণের মাধ্যমে এরূপ একটি সম্বন্ধ স্থাপনের জন্য আমরা প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির উপর নির্ভর করি। কারণ, কার্য ও কার কৃতির নিয়ম মেনে চলে।

সবার আগে Assignment আপডেট পেতে Follower ক্লিক করুন

এসাইনমেন্ট সম্পর্কে প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে Google News <>YouTube : Like Page ইমেল : assignment@banglanewsexpress.com

অন্য সকল ক্লাস এর অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর সমূহ :-

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় SSC এসাইনমেন্ট :

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় HSC এসাইনমেন্ট :

  • ২০২১ সালের SSC / দাখিলা পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ২০২১ সালের HSC / আলিম পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ভোকেশনাল: ৯ম/১০ শ্রেণি পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ২০২২ সালের ভোকেশনাল ও দাখিল (১০ম শ্রেণির) অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • HSC (বিএম-ভোকে- ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স) ১১শ ও ১২শ শ্রেণির অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ২০২২ সালের ১০ম শ্রেণীর পরীক্ষার্থীদের SSC ও দাখিল এসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ২০২২ সালের ১১ম -১২ম শ্রেণীর পরীক্ষার্থীদের HSC ও Alim এসাইনমেন্ট উত্তর লিংক

৬ষ্ঠ শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১ , ৭ম শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১ ,

৮ম শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১ , ৯ম শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১

বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস// https://www.banglanewsexpress.com/

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *