‘আত্মকর্মসংস্থান’ সম্পর্কে একটি অনুচ্ছেদ লিখুন, অনুচ্ছেদ লিখুন আত্মকর্মসংস্থান, অনুচ্ছেদ আত্মকর্মসংস্থান , অনুচ্ছেদ আত্মকর্মসংস্থান অনুচ্ছেদ, আত্মকর্মসংস্থান অনুচ্ছেদ PDF Download,অনুচ্ছেদ নিয়োগ পরীক্ষায় আসা আত্মকর্মসংস্থান

বিষয়: ‘আত্মকর্মসংস্থান’ সম্পর্কে একটি অনুচ্ছেদ লিখুন, অনুচ্ছেদ লিখুন আত্মকর্মসংস্থান, অনুচ্ছেদ আত্মকর্মসংস্থান , অনুচ্ছেদ আত্মকর্মসংস্থান অনুচ্ছেদ, আত্মকর্মসংস্থান অনুচ্ছেদ PDF Download,অনুচ্ছেদ নিয়োগ পরীক্ষায় আসা আত্মকর্মসংস্থান, আত্মকর্মসংস্থান অনুচ্ছেদ বাংলা ২য় পত্র অনুচ্ছেদ, অনুচ্ছেদ আত্মকর্মসংস্থান (PDF Download)

‘আত্মকর্মসংস্থান’ সম্পর্কে একটি অনুচ্ছেদ লিখুন: ০১

জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা ও চাহিদার তুলনায় কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগের জন্য বেকার সমস্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশাল কর্মক্ষম বেকার জনগোষ্ঠীকে মজুরি ও বেতনভিত্তিক চাকরির মাধ্যমে কাজে লাগানো সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন আত্মকর্মসংস্থান। তথ্যপ্রযুক্তিতে নিজের দক্ষতা বাড়িয়ে সহজেই আত্মকর্মসংস্থান তৈরি করা যায়।

তথ্যপ্রযুক্তি বর্তমান সময়ে একটি জনপ্রিয় বিষয়। ইংরেজি Information Technology (IT) এর বাংলা প্রতিশব্দ হলো তথ্যপ্রযুক্তি। ইংরেজি Information শব্দটি ল্যাটিন শব্দমূল Informatio থেকে এসেছে। যার অর্থ- কাউকে কোনো কিছু অবগত করা, পথ দেখানো, শেখানো, আদান-প্রদান ইত্যাদি। আর Technology শব্দটির ব্যবহার বহুমাত্রিক। আধুনিক জীবনযাত্রায় ‘প্রযুক্তি’ হলো ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতির সমন্বয়ে গঠিত একটি মিশ্র পদ্ধতি যার মাধ্যমে জীবনযাত্রা পূর্বের তুলনায় আরও সহজ হয়ে ওঠে। সর্বোপরি, তথ্য আহরণ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ ও বিতরণের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাকে তথ্যপ্রযুক্তি বা Information Technology বলা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি শুধু জীবনযাত্রার মান উন্নতই করে না, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও রাখতে পারে। বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। শুধু চাকরিমুখী না থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গড়ে তোলা যায় আইটি ফার্ম, ই-কমার্স সাইট, অ্যাপভিত্তিক সেবাসহ নানা প্রতিষ্ঠান। এতে অর্থনৈতিকভাবে নিজে সাবলম্বী হবার পাশাপাশি বহু মানুষের কর্মক্ষেত্র তৈরি হয় এবং দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখা যায়।

প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসেই প্রযুক্তি শিক্ষা ও আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে ইন্টারনেটের সম্প্রসারণ করে। সরকারের সহযোগী হয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফ্টওয়ার এন্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)। তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারের মধ্য দিয়ে কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের অধীনে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ কমিউটার কাউন্সিল। এ প্রকল্পের আওতায় ৩৩,৫৬৪ জন আইট প্রশিক্ষিত দক্ষ জনবল তৈরি করা হয়। সরকার জেলা ভিত্তিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণের প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে জনগণকে স্মার্ট বাসের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ, ই-লার্নিং প্লাটফর্ম, ইনফো-লিডার তৈরি করা, আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্প, ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান ল্যাপটপ, মোবাইল গেম ও অ্যাপ্লিকেশন তৈরির প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। গ্রামের মানুষও যাতে প্রযুক্তিনির্ভর কাজে যুক্ত হতে পারে সে জন্য সরকার দেশব্যাপী ২৮টি হাইটেক পার্ক তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আইসিটি খাতে রপ্তানি বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর ফলে ফ্রিল্যান্সারদের কাজের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।

মাধ্যমিক স্তর থেকেই পাঠ্যসূচিতে ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গ্রামের ছোট শ্রেণিকক্ষেও আজ শিক্ষার্থীরা বই-খাতার পাশাপাশি কম্পিউটারে শিখতে শুরু করেছে। এর মধ্য দিয়ে তারা তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞান অর্জন করবে এবং ভবিষ্যতে দক্ষ জনবল হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারবে।


আরো ও সাজেশন:-

‘আত্মকর্মসংস্থান’ সম্পর্কে একটি অনুচ্ছেদ লিখুন: ০২

সহজ ভাষায়, নিজেই নিজের কর্মসংস্থান করাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে। অন্যভাবে বলা যায়, নিজস্ব পুঁজি বা ঋণ করা স্বল্প সম্পদ, নিজস্ব চিন্তা, জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ন্যূনতম ঝুঁকি নিয়ে নিজ চেষ্টায় জীবিকা অর্জনের ব্যবস্থাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে। মজুরি বা বেতনভিত্তিক চাকরির বিকল্প পেশার অন্যতম উপায় আত্মকর্মসংস্থান। আত্মকর্মসংস্থান বলতে কোনো ব্যক্তির স্বীয় দক্ষতা বা গুণাবলির দ্বারা সেবা দানের বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করে জীবিকা নির্বাহ করাকে বোঝায়। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, একজন দর্জি কোনো প্রতিষ্ঠানে বেতনের বিনিময়ে উপার্জন না করে নিজেই কাপড় তৈরি করে বিক্রি করে এবং এ থেকে যে আয় হয় তা দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করে। এটিই আত্মকর্মসংস্থান। আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে ব্যক্তির নিজের যেমন কর্মসংস্থান হয়, তেমনি অনেক নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়।

আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি বৃহৎ ক্ষেত্র হলো আউটসোর্সিং। একটি প্রতিষ্ঠানের কাজ নিজেরা না করে তৃতীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের সাহায্যে করিয়ে নেওয়াকে আউটসোর্সিং বলা হয়। গতানুগতিক চাকরির বাইরে স্বাধীনভাবে কাজ করা হলো ফ্রিল্যান্সিং। একজন ফ্রিল্যান্সার কোনো দীর্ঘস্থায়ী চুক্তি ছাড়া কাজ করতে পারেন। কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি যেকোনো জায়গায় বসেই ফ্রিল্যান্সিং এর কাজগুলো করতে পারেন। হতে পারে তা ওয়েবসাইট তৈরি, থ্রিডি এনিমেশন, ছবি সম্পাদনা, ডাটা এন্ট্রি বা লেখালেখি করা।

ডাটা এন্ট্রি একটি উৎকৃষ্ট আয়ের মাধ্যম। ডাটা এন্ট্রি মূলত টাইপ করাকে বোঝায়। বর্তমানে ডাটা এন্ট্রি মূলত ফিডিএফ ফাইল দেখে কিছু টাইপ করাকে বোঝায়। এছাড়া ডাটা এন্ট্রির আরেক ধরনের কাজ হলো কোনো জায়গা থেকে ডাটা সংগ্রহ করে তা শ্রেণিবদ্ধ করা বা অডিও বা ভিডিও ফাইল দেখে ডকুমেন্ট তৈরি করা।

গ্রাফিক্স ডিজাইনিং হলো একটি ডিজাইন বা কোনো আকৃতিতে কাম্পিউটারের মাধ্যমে রূপ দেওয়া। সহজ ভাষায় বলতে গেলে কোনো বিজ্ঞাপন, ব্যানার, টি-শার্ট ডিজাইন, ফার্নিচার ডিজাইন, প্রোডাক্ট ডিজাইনের কাজগুলো কম্পিউটারের মাধ্যমে নিখুঁতভাবে ক্রিয়েটিভ আইডিয়া দিয়ে নিত্য নতুন ডিজাইন করার নামই গ্রাফিক্স ডিজাইনং। গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ জানা থাকলে একজন সহজেই নিজের কর্মক্ষেত্র তৈরি করে অর্থ উপার্জন করতে পারে।

‘আত্মকর্মসংস্থান’ সম্পর্কে একটি অনুচ্ছেদ লিখুন: ০৩

আত্মকর্মসংস্থান – ব্যক্তিগত ও জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা: লেখাপড়া শেষ করার পর আমরা অনেকেই বিভিন্ন চাকরি-বাকরির চেষ্টা করে থাকি। নিজের পছন্দমত চাকরি না পেলে আমরা হতাশ হয়ে পড়ি। কিন্তু দেশের সে পরিমাণ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না থাকায় দেশের বিপুল পরিমাণ শিক্ষিত মানুষ বেকার হয়ে পড়ে আছে। আজ আমরা আত্মকর্মসংস্থান – ব্যক্তিগত ও জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করবো;

দিনে দিনে মানুষেরমাঝে চাকুরির প্রতি নির্ভর না থাকার বিষয়টি উন্নতি ঘটছে। আমাদের দেশে শিক্ষিত তরুণরা এখন আর চাকরি বাকরির দিকে না তাকিয়ে নিজেরাই কোন কিছু করার চেষ্টা করছে।

উচ্চশিক্ষা শেষ করার পর অনেক তরুণ নিজের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে বা নিজের আশেপাশে নিজের বিবেক বিবেচনা ও বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ আয় করে পরিবার ও নিজের ভরণপোষণ করছে।

এর মাধ্যমে অনেকেই উন্নতির উচ্চশিখরে আহরণ করেছে।

আত্মকর্মসংস্থান:

নিজের বিবেক বুদ্ধি বিচার-বিশ্লেষণ ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আশপাশের বিভিন্ন উৎস ব্যবহার করে নিজের প্রচেষ্টায় জীবিকা অর্জনের ব্যবস্থাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে।

পৃথিবীতে যতগুলো দেশ আছে তার মধ্যে আত্মকর্মসংস্থান একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় পেশা।

দেশ বিদেশের অনেক শিক্ষিত বেকার এখন আর সরকারি বা বেসরকারি চাকরির দিকে না তাকিয়ে নিজেরাই নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে উপার্জনের চেষ্টা করে থাকে।

আত্মকর্মসংস্থান এর মাধ্যমে অনেক বেশি উপার্জন করা সম্ভব এবং অন্যের দাসত্ব মেনে না নিয়ে নিজের মতো করে বাঁচা সম্ভব। ‌

এখানে সকল প্রকাশ শিক্ষা বিষয় তথ্য ও সাজেশন পেতে আমাদের সাথে থাকুন ।

প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে ইমেল : info@banglanewsexpress.com

Leave a Comment