Subscribe Now!
সর্বশেষ চাকরির খবর মিস করবেন না! Subscribe - এ ক্লিক করে দেখুন নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি।
My Ads
হরমুজ প্রণালী কি এবং কোথায় অবস্থিত, হরমুজ প্রণালি নিয়ে কেন এত আলোচনা,হরমুজ প্রনালী কি এবং কেন গুরুত্বপুর্ন, হরমুজ প্রণালী কোন দেশের দখলে
হরমুজ প্রণালী , একমাত্র সমুদ্রপথ যা তেল সমৃদ্ধ পারস্য উপসাগর (পশ্চিম) ওমান উপসাগর এবং আরব সাগর (দক্ষিণ-পূর্ব) এর সাথে সংযুক্ত করে। বিশ্বব্যাপী তেল এবংতরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি এই প্রণালী দিয়ে যায়, যা ইরান , ইরাক , কুয়েত , কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে রপ্তানি করা পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রাথমিক রুট হিসেবে কাজ করে (যদিও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেশিরভাগ রপ্তানি ওমান উপসাগরে অবস্থিত ফুজাইরাহ আমিরাতের মাধ্যমে স্থানান্তর করার ক্ষমতা রয়েছে )। রপ্তানি ভৌগোলিকভাবে কেন্দ্রীভূত – প্রায় চার-পঞ্চমাংশ এশিয়ার আমদানিকারক দেশগুলিতে যায় , বিশেষ করে চীন , ভারত , জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া – তবে পেট্রোলিয়াম পণ্যের দামের কম স্থিতিস্থাপকতার কারণে সরবরাহের পরিমাণ বিশ্বব্যাপী মূল্য নির্ধারণের উপর গভীর প্রভাব ফেলে। ভারত মহাসাগরকে প্রশান্ত মহাসাগরের সাথে সংযুক্তকারী মালাক্কা প্রণালীর পাশাপাশি , হরমুজ প্রণালী বিশ্ব অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল সংকোচন বিন্দুগুলির মধ্যে একটি।
ভূগোল এবং পরিবহন
এই প্রণালীটি ৩৫ থেকে ৬০ মাইল (৫৫ থেকে ৯৫ কিমি) প্রশস্ত এবং ইরানকে (উত্তর) আরব উপদ্বীপের (দক্ষিণে) ওমানের মুসান্দাম এক্সক্লেভ থেকে পৃথক করে । অর্থনৈতিক ও সামরিক উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ একটি ইরানি বন্দর বন্দর আব্বাস , এর উত্তর উপকূলরেখায় অবস্থিত, যার কাছে ইরানি দ্বীপপুঞ্জ কেশম (কিশম), হরমুজ , হেঙ্গাম (হেঞ্জাম) এবং লারাক অবস্থিত। সংযুক্ত আরব আমিরাতও প্রণালীর কাছে অবস্থিত, মুসান্দাম উপদ্বীপের উভয় পাশে প্রণালীর সবচেয়ে সংকীর্ণ বিন্দু থেকে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মাইল (৬৫ থেকে ৮০ কিমি) দূরে। যদিও প্রণালী থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত, মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর ১৯৯৫ সাল থেকে বাহরাইনে অবস্থান করছে এবং প্রণালীতে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করে।
তেল ট্যাঙ্কারগুলি প্রণালীর মধ্য দিয়ে অভ্যন্তরীণ এবং বহির্গামী শিপিং লেন দিয়ে যাতায়াত করে যা 2 মাইল (3 কিমি) প্রস্থ এবং একটি দুই মাইল বাফার জোন দ্বারা পৃথক করা হয়। শিপিং লেনগুলি বেশিরভাগই ওমানের আঞ্চলিক জলসীমায় এবং কিছুটা ইরানের আঞ্চলিক জলসীমায় অবস্থিত, তবে এগুলি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় এবং জাতিসংঘের সমুদ্র আইন সংক্রান্ত কনভেনশন (UNCLOS) অনুসারে । ইরান শিপিং লেনগুলির উত্তরে প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করে এবং ওমান দক্ষিণে প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করে। যদিও ইরানের জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার ক্ষমতা রয়েছে, তবে প্রণালীর বেশিরভাগ অংশ যথেষ্ট গভীর (200 থেকে 330 ফুট [60 থেকে 100 মিটার]) তেল ট্যাঙ্কার পরিচালনা করার জন্য এবং ইরানের দীর্ঘ সময়ের জন্য প্রণালীর সম্পূর্ণ প্রস্থ আটকে রাখার ক্ষমতা নেই।
ইরানের তিনটি সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন বিমান বাহিনীর হামলার যে অভূতপূর্ব নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তা নিশ্চিতভাবেই গোটা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাকে আরও গভীর ও পোক্ত করেছে।
বস্তুত, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবে ইরানের সাবেক রাজা বা শাহ রেজা পাহালভীর পতন এবং রাষ্ট্রক্ষমতায় ইসলামপন্থি শাসকগোষ্ঠী আসীন হওয়ার পর এই প্রথম ইরানে হামলা চালাল পশ্চিমের কোনো দেশ।
এখন ইরানের জবাব দেওয়ার পালা। আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়ে মার্কিন এই হামলার জবাব দিতে পারে ইরান।
হরমুজ প্রণালীর দৈর্ঘ্য ৩৩ কিলোমিটার এবং প্রস্থ স্থানভেদে সর্বোচ্চ ৩৯ কিলোমিটার থেকে সর্বনিম্ন তিন কিলোমিটার। এই প্রণালীর একপাশে ইরান, অপরপাশে ওমান। জলপথটি একই সঙ্গে পারস্য উপসাগরকে আরব সাগর ও ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং ইরানকে আরব উপদ্বীপ থেকে ইরানকে পৃথক করেছে।
বিশ্বের শীর্ষ গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথগুলোর একটি এই হরমুজ প্রণালী। প্রতিদিন এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বন্দরে পৌঁছায় ২ কোটি ব্যারেল তেল এবং তার সমপরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস। প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে যত তেল এবং তরলীকৃত গ্যাস সরবরাহ হয়, তার এক পঞ্চমাংশই যায় এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে।
জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজার পর্যবেক্ষক সংস্থা ভোরটেক্সা’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়েছে ১ কোটি ৭৮ লাখ থেকে ২ কোটি ৮ লাখ পরিশোধিত-অপরিশোধিত জ্বালানি তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস।
জ্বালানি তেল উত্তোলন ও বিপননকারী দেশগুলোর সংস্থা ওপেকের সদস্যরাষ্ট্র সৌদি আরব, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং ইরাক তাদের বেশিরভাগ তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে এশিয়ার দেশগুলোতে পাঠায়।
আরি পড়ুন ›ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ক্রমবিকাশে সিপাহি বিদ্রোহের প্রভাব আলোচনা কর, ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের সিপাহী বিদ্রোহ বা বিপ্লবভারতীয় জাতীয়তাবাদের ক্রমবিকাশে সিপাহি বিদ্রোহের প্রভাব আলোচনা কর, ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের সিপাহী বিদ্রোহ বা বিপ্লব
আরি পড়ুন ›১৯৭০ নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন কারন১৯৭০ নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন কারন স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস ক,খ ও গ বিভাগের সাজেশন…- আরি পড়ুন ›‘কর্ণফুলী টানেল ’ সম্পর্কে একটি অনুচ্ছেদ লিখুন, অনুচ্ছেদ লিখুন কর্ণফুলী টানেল, অনুচ্ছেদ কর্ণফুলী টানেল‘কর্ণফুলী টানেল ’ সম্পর্কে একটি অনুচ্ছেদ লিখুন, অনুচ্ছেদ লিখুন কর্ণফুলী টানেল, অনুচ্ছেদ কর্ণফুলী টানেল…
এই পথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্বে আছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ৫ম নৌবহর।
ইরান যদি হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, তাহলে বিশ্ববাজারে তার ব্যাপক প্রভাব পড়বে। প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে যে পরিমান তেল সরবরাহ হয়, হঠাৎ করে তার এক পঞ্চমাংশ কমে গেলে স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বাড়বে লাফিয়ে লাফিয়ে।
তবে ইরান যদি সত্যিই এমন করে, তাহলে তা হবে দেশটির জন্য এক প্রকার আত্মঘাতী পদক্ষেপ। কারণ জ্বালানি তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ইরানের তেলও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যায় এই জলপথ বেয়ে। তাছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো বর্তমানের ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে ইরানের পাশে আছে। যদি হরমুজ প্রণালী ইরান বন্ধ করে দেয়— তাহলে নিজেদের স্বার্থেই তারা সমর্থন প্রত্যাহার করে নেবে— এমন আশঙ্কা রয়েছে ব্যাপক।
My Ads
এবং শুধু ইরানের নিজের বা উপসাগরীয় অঞ্চলের আরব দেশগুলোই নয়— হরমুজ প্রনালী বন্ধ হয়ে গেলে বড় ক্ষতি হবে চীনেরও। কারণ, চীন ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। ইরানের মোট উৎপাদিত তেলের ৯০ শতাংশই যায় চীনে।
রোববার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল প্রেস টিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের পার্লামেন্ট মজলিশে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া বিষয়ক একটি বিল পাস হয়েছে; তবে সেখানে উল্লেখ আছে যে এ ইস্যুতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি রোববার জানিয়েছেন, ইরানে মার্কিন বাহিনীর বোমাবর্ষণের জন্য ‘গুরুতর পরিণতি’ ঘটবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মার্কো রুবিও জানিয়েছেন ইরানকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া থেকে বিরত রাখতে বেইজিংয়ের সহযোগিতা চেয়েছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে সোমবার তিনি বলেছেন, “যদি তারা সত্যিই হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়— তাহলে তা হবে একটি ভয়াবহ ভুল পদক্ষেপ এবং একই সঙ্গে তাদের নিজেদের জন্য অর্থনৈতিক আত্মহত্যা। কারণ এই প্রণালী দিয়ে তাদের তেলও পরিবহন করা হয়।”
My Ads
“আমি বেইজিংকে এ ইস্যুতে ইরানের সঙ্গে কথা বলার আহ্বান জানিয়েছি। কারণ তারা ইরানের তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।”
একাডেমিক শিক্ষা বিষয়ক লিখিত প্রশ্ন সমাধান পেতে ক্লিক করুন।
আর্টিকেলের শেষ কথাঃ হরমুজ প্রণালী কি এবং কোথায় অবস্থিত, হরমুজ প্রণালি নিয়ে কেন এত আলোচনা,হরমুজ প্রনালী কি এবং কেন গুরুত্বপুর্ন, হরমুজ প্রণালী কোন দেশের দখলে
বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস সর্বশেষ আপডেট পেতে Google News অনুসরণ করুন
আরো পড়ুন:
আরি পড়ুন ›দর্শনের প্রধান কাজ আলোচনা কর, দর্শনের প্রধান কাজগুলোর বর্ণনা করঘটনা ও তথ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ও নির্ভুল ধারণা থেকে জ্ঞান লাভ করা যায়, কিন্তু…
আরি পড়ুন ›আমাদের দেশে একজন ব্যক্তি গড়ে কত কিলো ক্যালরি খাদ্য গ্রহণ করছে?, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী ২০১২-১৩ অর্থবছরে কত লক্ষ মেট্রিক টন খাদ্য শস্যের উৎপাদন হয়েছিলো?,আমাদের দেশে একজন ব্যক্তি গড়ে কত কিলো ক্যালরি খাদ্য গ্রহণ করছে?, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর…
আরি পড়ুন ›কোম্পানি সচিবের কী?, কোম্পানি সচিবের বলতে কী বুঝ?কোম্পানি সচিবের কী?, কোম্পানি সচিবের বলতে কী বুঝ? কোম্পানির সচিব (Company Secretary) হলো একটি…