কে ছিলেন বনলতা সেন আসলে

My Ads

আসলে বোধহয় জীবনানন্দ দাশ চাইতেন না তাঁর ভিতরের নির্জন স্থানটি কোনও ভাবে উপদ্রুত হোক, যেখানে আস্তে আস্তে জন্ম নিচ্ছে ‘ঝরা পালক’, ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’, ‘বনলতা সেন’, ‘মহাপৃথিবী’, ‘রূপসী বাংলা’র কবিতারা। কিন্তু সেই নির্জন ভূমিই প্রথম টাল খেল সিটি কলেজে। কর্মজীবনের পাশাপাশি সাহিত্য পত্রপত্রিকায় লেখার শুরু মোটামুটি এই সময়েই।

১৯২৭ সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঝরা পালক’ প্রকাশিত হল। শুরু বিতর্কেরও। তাঁর কবিতায় অশ্লীলতা আছে— এই অভিযোগে তাঁর সিটি কলেজের চাকরি যায়, এমন একটা বহুল প্রচারিত মত আছে।

‘‘আদৌ ব্যাপারটা তা নয়। কলেজে সরস্বতী পুজো নিয়ে একটা গোলমাল হয়েছিল। ছাত্ররা পুজো করতে চেয়েছিল। কিন্তু ব্রাহ্ম কলেজে কেন পুজো হবে, আপত্তি ছিল কলেজ কর্তৃপক্ষের,’’ বলছিলেন অমিতানন্দ।

সেই সময়েই জীবনানন্দকে কেউ জিজ্ঞেস করেছিলেন, তাঁর মত কী? পুজো হলে ক্ষতি কোথায়, এমনই নিরাসক্ত জবাব দিয়েছিলেন তিনি! ব্রাহ্ম হিসেবে চাকরি হওয়া সত্ত্বেও তিনি কেন কলেজের সপক্ষে কথা বলেননি, তাতেই অসন্তুষ্ট হন কর্তৃপক্ষ।

তার পর কলেজের ছাত্র সংখ্যা কমে গেলে অনেক জুনিয়র অধ্যাপকের সঙ্গে তাঁরও চাকরি গিয়েছিল, জানাচ্ছেন অমিতানন্দ। আসলে ব্রাহ্ম-আবহে বড় হয়ে ওঠা জীবনানন্দ প্রথম দিকে ব্রাহ্ম সমাজ নিয়ে কবিতা, প্রবন্ধ লিখলেও পরে আর সেই জগতের কাছে ফেরত যাননি। কারণ, তত ক্ষণে জীবনানন্দের মধ্যে জন্ম নিয়েছিল ধানসিড়ি নদী, নীল হাওয়ার সমুদ্র, শব্দহীন জ্যোৎস্নারা! আর জন্মেছিলেন বনলতা সেন।

কিন্তু কে এই বনলতা সেন? অমিতানন্দ জানালেন, ‘‘আমরা যেটুকু শুনেছি তিনি জীবনানন্দের এক খুড়তুতো বোন ছিলেন। তাঁর প্রতি দুর্বল ছিলেন উনি। কিন্তু সম্পর্ক গড়ার সাহস পাননি। তাঁর ছায়াতেই তিনি বনলতা সেন লিখেছিলেন বলে পরিবারের বড়দের মুখে যতটুকু শুনেছি।’’

আবার জীবনানন্দের ডায়রিতে ‘ওয়াই’ বর্ণ সংকেতে এক নারীর প্রসঙ্গ পাওয়া যায়। টীকায় সম্পাদক কবি-গবেষক ভূমেন্দ্র গুহ জানিয়েছিলেন, এই ‘ওয়াই’ জীবনানন্দের খুড়তুতো বোন বুলুর (কমলা দাশগুপ্তের) বান্ধবী।

বরিশালেই তাঁকে চিনতেন জীবনানন্দ। অন্তত ১৯৩১-৩২ পর্যন্ত তিনি অনেকখানি মন জুড়ে আছেন জীবনানন্দের। তিনিও বনলতা হতে পারেন। আসলে বনলতা কে, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সব সময়েই মুচকি হেসেছেন জীবনানন্দ। কোনও উত্তর দেননি।

“একরাত—একদিন করেছি মৃত্যুরে অবহেলা ।
একদিন—একরাত;—তারপর প্রেম গেছে চ’লে,—
সবাই চলিয়া যায়, —সকলের যেতে হয় ব’লে”

তথ্যসূত্র: জীবনানন্দের শ্রেষ্ঠ কবিতা, বেঙ্গল পাবলিশার্স (প্রা.) লিমিটেড

My Ads

Leave a Comment

My Ads

My Ads