Google Adsense Ads
ইচ্ছার স্বাধীনতা বলতে কী বুঝ?, ইচ্ছার স্বাধীনতা কী, ইচ্ছা স্বাধীনতা কেন নৈতিকতার আবশ্যিক স্বীকার সত্য?
ইচ্ছার স্বাধীনতা নৈতিক বিচারের একটি স্বীকার্য সত্য বা মূল সত্য। নৈতিক বিচারে আত্মনিয়ন্ত্রণেরশক্তিকে স্বীকার করে নেয়া হয়।
ব্যক্তির ইচ্ছার ও কর্মের স্বাধীনতা আছে। ব্যক্তির স্বাধীন ইচ্ছা না থাকলে নৈতিক দায়িত্ব বা কর্তব্যবোধের কোনো প্রশ্নই উঠে না।
বিরোধের কামনার ক্ষেত্রে আমরা সরাসরি উপলব্ধি করতে পারি। যে কোনো দিক কাজ করারক্ষমতা আমাদের আছে।
একটি কাজ পরিত্যাগ করে, অন্য একটি কাজকে নির্বাচন করার ক্ষমতা আমাদের আছে। ঐচ্ছিক নৈতিক বিচারের বিষয়বস্তু। ঐচ্ছিক ক্রিয়ার মূলভিত্তি হলো কর্মকর্তার আত্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা।
কর্মকর্তা যদি তার স্বাধীন ইচ্ছা অনুসারে তার কর্তব্যকর্ম নির্ধারণ করতে না পারে, তবে কর্মের ফলাফলের জন্য তাকে দায়ী করা যায় না। স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে যে কর্ম সম্পাদন করে, সে কর্মের জন্য কর্মকর্তাকে দায়ী করা যায় এবং সে কর্মকেই ভালো কী মন্দ তা বলা যায়। তাই ইচ্ছারস্বাধীনতাকে নৈতিক বিচারের স্বীকার্য সত্য বলে গণ্য করা হয়।
ইচ্ছার স্বাধীনতা বিষয়ক মতবাদ সম্পর্কে আলোচনা
মানুষ স্বাধীন কি না তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। অনেকের মতে, পরস্পর বিরোধী বিষয়গুলো থেকে কোনো একটি বেছে নিতে আমরা স্বাধীন। আবার কেউ বলেন, এক্ষেত্রে আমাদের কোনো স্বাধীনতা নেই। কারো মতে, ইচ্ছা স্বাধীনও নয় পরাধীনও নয়, আমাদের ইচ্ছা আমাদের অধীন। ইচ্ছার স্বাধীনতা বিষয়ক মতবাদ চারটি। অন্যভাবে বলতে গেলে, ইচ্ছার স্বাধীনতা বিষয়ক মতবাদ চার প্রকার। যথা,
অদৃষ্টবাদনিয়ন্ত্ৰণবাদঅনিয়ন্ত্রণবাদআত্মনিয়ন্ত্রণবাদ
১. অদৃষ্টবাদ
প্রত্যেক ঘটনারই যে একটা কারণ রয়েছে, একথা অদৃষ্টবাদ অস্বীকার করে না। তবে কোনো ঘটনাকে পরিবর্তন করার ক্ষমতা মানুষের রয়েছে- এ কথাকে এ মতবাদ অস্বীকার করে। এ মতবাদের প্রধান শ্লোগানই হলো “যা ঘটতে যাচ্ছে, তা ঘটতে থাকবে”। “যা হওয়ার, তা হবে”।
অদৃষ্টবাদের এ শ্লোগানগুলো বিশ্লেষণধর্মী বক্তব্য হিসেবে উত্থাপিত হয় না, বরং এ বক্তব্যগুলো এটাই বুঝায় যে, আমরা যা কিছুই করি না কেন, ভবিষ্যৎ তার আপন ধারায় নির্দিষ্ট প্রকৃতিরই হবে।
অদৃষ্টবাদ অনুসারে মানুষের ইচ্ছার কোনো স্বাধীনতা নেই। এ মতবাদের মূলকথা এই যে, শুধু মানসিক ঘটনা কেন, প্রকৃতির এমন কোনো ঘটনা নেই, যা পূর্বনির্ধারিত নীতি বা শাশ্বত শক্তির নিয়ম মেনে না চলে।
ব্যক্তির আশা-আকাঙ্ক্ষা, সুখ, দুঃখ, চিন্তা আদর্শ সবকিছুই প্রকৃতির নির্ধারিত নিয়মকানুন বা অদৃষ্টের ফলমাত্র। মানুষ শতচেষ্টা করেও তার ভাগ্যকে পরিবর্তন করতে পারে না।
মূল ধারণা:
- বিকল্প বাছাইয়ের ক্ষমতা: একাধিক সম্ভাব্য কাজের মধ্যে থেকে নিজের ইচ্ছামত যেকোনো একটিকে বেছে নেওয়া।
- স্বাধীন সিদ্ধান্ত: কোনো প্রকার বাধ্যবাধকতা, প্রলোভন বা পূর্বনির্ধারণ ছাড়া নিজের বিচারবুদ্ধি দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
- নৈতিকতার ভিত্তি: স্বাধীন ইচ্ছা থাকলে মানুষ তার কাজের জন্য দায়ী থাকে, যা প্রশংসা, দোষ, ন্যায়-অন্যায় বিচারের কারণ হয়।
দার্শনিক দৃষ্টিকোণ:
- স্বাধীনতাবাদ (Libertarianism): বিশ্বাস করে যে মানুষ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং পূর্ববর্তী কারণ দ্বারা তার কাজ নির্ধারিত হয় না।
- নিয়তিবাদ (Determinism): মনে করে যে মহাবিশ্বের সবকিছু কার্যকারণ সূত্রে বাঁধা, তাই স্বাধীন ইচ্ছা একটি ভ্রম।
- সামঞ্জস্যবাদ (Compatibilism): মনে করে যে নিয়তিবাদ সত্য হলেও স্বাধীন ইচ্ছা থাকতে পারে, কারণ এটি বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণের অনুপস্থিতি বোঝায়, অভ্যন্তরীণ কারণের অনুপস্থিতি নয়।
উপসংহার : ইচ্ছার স্বাধীনতা বলতে কী বুঝ?, ইচ্ছার স্বাধীনতা কী, ইচ্ছা স্বাধীনতা কেন নৈতিকতার আবশ্যিক স্বীকার সত্য?
Google Adsense Ads
একাডেমিক শিক্ষা বিষয়ক লিখিত প্রশ্ন সমাধান পেতে ক্লিক করুন।
আর্টিকেলের শেষ কথাঃ ইচ্ছার স্বাধীনতা বলতে কী বুঝ?, ইচ্ছার স্বাধীনতা কী, ইচ্ছা স্বাধীনতা কেন নৈতিকতার আবশ্যিক স্বীকার সত্য?
বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস সর্বশেষ আপডেট পেতে Google News অনুসরণ করুন
আরো পড়ুন:
- IRP তত্ত্বের মধ্যে তুলনা কর, PPP তত্ত্বের মধ্যে তুলনা কর, IFE তত্ত্বের মধ্যে তুলনা কর
- ট্রান্সলেশন এক্সপোজার ও ইকোনমিক এক্সপোজার এর মধ্যে পার্থক্য আলোচনা করো
- ব্যবসায়ী অর্থের পদ্ধতি সমূহ আলোচনা কর,কিভাবে ব্যবসায় অর্থায়ন করতে হয়
- সুইফট কিভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লেনদেন কার্যক্রম সহযোগিতা করে
- আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের শর্তগুলি বিষয়বস্তু কি কি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের শর্তগুলি বিষয়বস্তু আলোচনা
Google Adsense Ads