আহ্বান গদ্যের মূল ভাব, ‘আহ্বান’ প্রবন্ধের মূল ভাব আলোচনা কর, আহ্বান প্রবন্ধের মূলভাব কী?, আহ্বান প্রবন্ধের সারমর্ম, মূল ভাব আলোচনা ‘আহ্বান’ প্রবন্ধের,এইচ এস সি বাংলা ১ম পত্র ‘আহ্বান’ প্রবন্ধের মূল ভাব

My Ads

বিষয়: আহ্বান গদ্যের মূল ভাব, ‘আহ্বান’ প্রবন্ধের মূল ভাব আলোচনা কর, আহ্বান প্রবন্ধের মূলভাব কী?, আহ্বান প্রবন্ধের সারমর্ম, মূল ভাব আলোচনা ‘আহ্বান’ প্রবন্ধের,এইচ এস সি বাংলা ১ম পত্র ‘আহ্বান’ প্রবন্ধের মূল ভাব

মূলবক্তব্য :
বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের একজন খ্যাতিমান লেখক। উপন্যাসের মতো বাংলা ছোটগল্পেও তিনি অনন্য, অসাধারণ। তাঁ ‘আহ্বান’ গল্পটি তাৎপর্যপূর্ণ ও অর্থবহ। গল্পটিতে নিঃসন্তান, অসহায় এক বৃদ্ধার মাতৃস্নেহের স্বরূপ এবং লেখকের মানবিক চেতনার সাবলীল প্রকাশ লক্ষ করা যায়। এ গল্পের নায়ক শহর থেকে নিজ গ্রামে বেড়াতে আসা লেখককে প্রথমত গ্রামে থাকার আহ্বান করা হয়। তবে কাহিনীর মূল তাৎপর্য এখানে নয়। গল্পের অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও জীবন্ত চরিত্র বুড়িকে সর্বদা গল্পের কথক তথা লেখকের প্রতি মমতা থাকতে দেখা গেছে। রক্তের সম্পর্কের এমনকি সম্প্রদয়ের  কেউ না হয়েও সে লেখককে খুব কাছের মানুষ, একেবারে আত্মার আত্মীয় মনে করেছে। আর এ কারণেই লেখক গ্রাম এলেই বুড়িকে তাঁর কাছে ছুটে যেতে দেখা যায়। আজ দুধ, কাল ফল এভাবে সামান্য সম্বলটুকুও সে লেখককে খেতে দিয়ে আনন্দ পায়।

আসলে বুড়ির নিজের কেউ না থাকায় এবং একমাত্র নাতজামাইয়ের কাছ থেকে অবহেলিত হওয়ায় সে লেখককেই নিজের ছেলে ভাবতে শুরু করে। সে বলে “গোপাল, যদি মরি, আমার কাফনের কাপড় তুই কিনে দিস।” এটি ছিল লেখকের কাছে বুড়ির একটি আত্মিক আহ্বান। শেষবার লেখক গ্রামে এসেই শুনতে পেলেন বুড়ি বেঁচে নেই। সে আগের দিন মারা গেছে এবং মৃত্যুর পূর্বে বারবার গোপালের নাম উচ্চারণ করেছে। তখন লেখকের মনে হলো- “ওর স্নেহাতুর আত্মা বহু দূর থেকে আমার আহ্বান করে এনেছে।” তাছাড়া লেখকের এ ভাবনাটি মোটেই অনর্থক নয়। কারণ গোপালের দেওয়া কাফনের কাপড় যেমন ছিল বুড়ির আত্মিক আহ্বান, তেমনি তার কবরে গোপালের মাটি পাওয়াটাও ছিল এ গল্পের একটি অনিবার্য আহ্বান। গল্পটিতে অসা¤প্রদায়িক চেতনার স্বত:স্ফূর্ত প্রকাশ ঘটেছে। জাতি ধর্মের উর্ধ্বে মানুষ হিসেবে মানুষের সাথে আত্মিক সম্পর্ক কতটা চিরন্তন হতে পারে, সেই দিকটি আলোচ্য গল্পে বিকাশ ও পরিণতি লাভ করেছে।


আরো ও সাজেশন:-

আহ্বান – বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়

 লেখক পরিচিতি :
নাম বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়।

জন্ম পরিচয়: জন্ম তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর, ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দ।
জন্মস্থান : মুরারিপুর (মাতুলালয়) চব্বিশ পরগনা।
পৈত্রিক নিবাস : ব্যারাকপুর, চব্বিশপরগণা।
পিতৃ ও মাতৃপরিচয় পিতার নাম : মহানন্দা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মাতার নাম : মৃণালিনী দেবী।

শিক্ষাজীবন মাধ্যমিক : এন্ট্রান্স (১৯১৪), বনগ্রাম স্কুল।
উচ্চ মাধ্যমিক : আই.এ.(১৯১৬), কলকাতা রিপন কলেজ।
উচ্চতর : বি.এ.(ডিস্টিংশনসহ), ১৯১৮, কলকাতা রিপন কলেজ।

কর্মজীবন/পেশা শিক্ষকতা : হুগলি জেলার জাঙ্গীপাড়া স্কুল, সোনারপুর হরিনাভি স্কুল, কলকাতা খেলাৎচন্দ্র মেমোরিয়াল
স্কুল, ব্যারাকপুরের নিকটবর্তী গোপালনগর স্কুল।
সাহিত্যকর্ম উপন্যাস : পথের পাঁচালী, অপরাজিত, আরণ্যক, ইছামতি, দৃষ্টিপ্রদীপ, আদর্শ হিন্দু হোটেল, দেবযান,
অশনি সংকেত ইত্যাদি।
ছোটগল্প : মেঘমল্লাহ, মৌরীফুল, যাত্রাবদল, কিন্নর দল ইত্যাদি।
আত্মজীবনীমূলক রচনা : তৃণাঙ্কুর।
পুরস্কার ও সম্মাননা ইছামতী উপন্যাসের জন্য রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ।
জীবনাবসান মৃত্যু তারিখ : ১ নভেম্বর, ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দ।

 উৎস পরিচিতি : ‘আহ্বান’ গল্পটি বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের রচনাবলি থেকে সংকলিত হয়েছে।



 সারমর্ম :
একটি উদার মানবিক সম্পর্কের গল্প। মানুষের স্নেহ মমতা প্রীতির যে বাঁধন তা ধনসম্পদে নয়, হৃদয়ের নিবিড় আন্তরিকতার স্পর্শেই গড়ে ওঠে। ধনী-দরিদ্রের শ্রেণিবিভাগ ও বৈষম্য, বিভিন্ন ধর্মেও মানুষের মধ্যে যে দূরত্ব সংস্কার ও গোঁড়ামির ফলে গড়ে উঠে তাও ঘুচে যেতে পারে। নিবিড় স্নেহ ও উদার হৃদয়ের আন্তরিকতা ও মানবীয় দৃষ্টির ফলে। দারিদ্র্য-পীড়িত গ্রামের মানুষের সহজ-সরল জীবনধারার প্রতিফলনও এই গল্পের অন্যতম উপজীব্য। এ গল্পে লেখক দুটি ভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও আর্থিক অবস্থানে বেড়ে ওঠা চরিত্রের মধ্যে সংকীর্ণতার ও সংস্কারমুক্ত মনোভঙ্গিও প্রকাশ ঘটিয়েছেন। গ্রামীণ লোকায়াত প্রান্তিক জীবনধারা শাস্ত্রী কঠোরতা থেকে যে অনেকটা মুক্ত সে সত্যও এ গল্পে উন্মোচিত হয়েছে।

প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে ইমেল : info@banglanewsexpress.com

My Ads

আমরা আছি নিচের সামাজিক মাধ্যম গুলোতে ও

My Ads

Leave a Comment

My Ads

My Ads