সূরা যুখরুফ সকল তথ্য আল কোরআন ও হাদিসের আলোতে,পৃথিবীর জানা অজানা কিছু তথ্য আল যুখরুফ আলমল ও ফজিলত, সূরা যুখরুফ কতো বার পাঠ করলে কোন আলম ও ফজিলত, সূরা যুখরুফ নাযিলের কারন গুলো কি কি ,কুরআন ৪৩ সূরা আল – যুখরুফ

আজকের বিষয়: সূরা যুখরুফ সকল তথ্য আল কোরআন ও হাদিসের আলোতে,পৃথিবীর জানা অজানা কিছু তথ্য আল যুখরুফ আলমল ও ফজিলত, সূরা যুখরুফ কতো বার পাঠ করলে কোন আলম ও ফজিলত, সূরা যুখরুফ নাযিলের কারন গুলো কি কি ,কুরআন ৪৩ সূরা আল – যুখরুফ

নামকরণ

সূরার ৮৫ আয়াতের ——আরবী—– শব্দ থেকে এর নাম গৃহীত হয়েছে, অর্থাৎ যে সূরার মধ্যে —আরবী–‘যুখরুফ’ এটা সেই সূরা।

নাযিল হওয়ার সময়-কাল

কোন নির্ভরযোগ্য বর্ণনা থেকে নাযিল হওয়ার সময়-কাল সম্পর্কে জানা যায়নি। তবে সূরার বিষয়বস্তু সম্পর্কে চিন্তা- ভাবনা করলে স্পষ্ট উপলব্ধি করা যায়, যে যুগে সূরা আল-মু’মিন, হা-মীম আস সাজদা ও আশ্‌ শূরা নাযিল হয়েছিলো এ সূরাটিও সেই যুগেই নাযিল হয়। মক্কার কাফেররা যে সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রাণ সংহার করতে বদ্ধ পরিকর হয়েছিলো সেই সময় যে সূরাগুলো নাযিল হয়েছিলে এ সূরাটিও তারই একটি বলে মনে হয়। সেই সময় মক্কার কাফেররা সভায় বসে বসে নবীকে (সা) কিভাবে হত্যা করা যায় তা নিয়ে পরামর্শ করতো । তাকে হত্যা করার জন্য একটি আক্রমন সংঘটিত হয়েছিলো ।৭৯ ও ৮০ আয়াতে এ পরিস্থিতির প্রতি ইংগিত রয়েছে।

বিষয়বস্তু ও মূল বক্তব্য

কুরাইশ ও আরববাসীরা যেসব জাহেলী আকীদা -বিশ্বাস ও কুসংস্কার আঁকড়ে ধরে চলছিলো এ সূরায় প্রবলভাবে তার সমালোচনা করা হয়েছে এবং অত্যন্ত মজবুত ও হৃদয়গ্রাহী পন্থায় ঐগুলোর অযৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়েছে যাতে সমাজের যেসব ব্যক্তির মধ্যে কিঞ্চিত যুক্তিবাদিতাও আছে তারা সবাই একথা চিন্তা করতে বাধ্য হয় যে, এসব কেমন ধরনের অজ্ঞতা যা আমাদের জাতি চরমভাবে আঁকড়ে ধরে বসে আছে আর যে ব্যক্তি এই আবর্ত থেকে আমাদের উদ্ধারের প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন আদাপানি খেয়ে তার বিরুদ্ধে লেগেছে।

বক্তব্যের সূচনা করা হয়েছে এভাবে যে, তোমরা চাচ্ছো তোমাদের দুষ্কর্মের ফলে এই কিতাব নাযিল হওয়া বন্ধ করে দেয়া হবে। কিন্তু আল্লাহ দুষ্কৃতিকারীদের কারণে কখনো নবী-রসূল প্রেরণ ও কিতাব নাযিল বন্ধ করেননি। বরং যে জালেমেরা তার হিদায়াতের পথ রোধ করে দাঁড়িয়েছিলো তাদেরকেই ধবংস করে দিয়েছেন। এখনো তিনি তাই করবেন। পরে আরো একটু অগ্রসর হয়ে আয়াত ৪১,৪৩ ও ৭৯, ৮০ তে এ বিষয়টির পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রাণ সংহার করতে বদ্ধপরিকর ছিল তাদের শুনিয়ে নবীকে (সা) বলা হয়েছে, তুমি জীবিত থাক বা না থাক এ জালেমদের আমি শাস্তি দেবই॥ তাছাড়া দুস্কৃতিকারীদেরকেও পরিষ্কার ভাষায় সাবধান করে দেয়া হয়েছে যে, তোমরা যদি আমর নবীর বিরুদ্ধে একটি পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাক তাহলে আমিও সে ক্ষেত্রে একটি চরম পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।

এরপর যে ধর্মকে তারা বুকে আঁকড়ে ধরে আছে তা-কি সে সম্পর্কে বলা হয়েছে এবং যেসব যুক্তি প্রমাণ দেখিয়ে তারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিরোধিতা করছে তা তুলে ধরা হয়েছে।

এরা নিজেরাও স্বীকার করে যে, আল্লাহই যমীন, আসমান এবং এদের নিজেদের ও এদের উপাস্যদের সৃষ্টিকর্তা। এরা একথাও জানে এবং বিশ্বাস করে যে, যে নিয়ামত রাজি থেকে তারা উপকৃত হচ্ছে তা সবই আল্লাহর দেয়া। তারপরও আল্লাহর সার্বভৌম কর্তৃত্বের ব্যাপারে আল্লাহর সাথে অন্যদের শরীক করার ব্যাপারে গোঁ ধরে থাকে।

বান্দাদেরকে আল্লাহর সন্তান বলে ঘোষনা করে তাও আবার মেয়ে সন্তান হিসেবে। অথচ নিজেদের জন্য মেয়ে সন্তানকে লজ্জা ও অপমান বলে মনে করে।

তারা ফেরেশতাদেরকে দেবী মনে করে নিয়েছে। নারীর আকৃতি দিয়ে তাদের মূর্তি নির্মান করে রেখেছে। তাদেরকে মেয়েদের কাপড় ও অলংকার পরিধান করায় এবং বলে, এরা সব আল্লাহর কন্যা সন্তান। তাদের ইবাদত করা হয়, তাদের উদ্দেশ্যে মানত করা হয় এবং তাদের কাছেই উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য দোয়া করা হয়। তারা একথা কি করে জানলো যে ফেরেশতারা নারী?

এসব অজ্ঞতার কারণে সমালোচনা করা হলে তাকদীরের বাহানা পেশ করে এবং বলে, আল্লাহ আমাদের এসব কাজ পছন্দ না করলে আমরা কি করে এসব মূর্তির পূজা করছি। অথচ আল্লাহর পছন্দ -অপছন্দ জানার মাধ্যম তাঁর কিতাব। পৃথিবীতে তাঁর ইচ্ছাধীনে যেসব কাজ হচ্ছে তা তার পছন্দ অপছন্দ অবহিত হওয়ার মাধ্যম নয়। তার ইচ্ছা বা অনুমোদনে শুধূ এক মূর্তি পূজাই নয়, চুরি, ব্যভিচার, ডাকাতি, খুন সব কিছুই হচ্ছে। পৃথিবীতে যত অন্যায় সংঘটিত হচ্ছে তার সবগুলোকেই কি এই যুক্তিতে বৈধ ও ন্যায় বলে আখ্যায়িত করা হবে?

যদি জিজ্ঞেস করা হয়, এই শিরকের সপক্ষে তোমাদের কাছে এই ভ্রান্ত যুক্তি-প্রমাণ ছাড়া কি আর কোন প্রমান আছে তখন জাবাব দেয়, বাপ-দাদার সময় থেকে তো এ কাজ এভাবেই হয়ে আসছে। এদের কাছে যেন কোন ধর্মের ন্যায় ও সত্য হওযার জন্য এই যুক্তি -প্রমানই যথেষ্ট। অথচ ইবরাহীম আলাইহিস সালাম-যার অধস্তন পুরুষ হওয়ার ওপরেই তাদের গর্ব ও মর্যাদার ভিত্তি-তার বাপ-দাদার ধর্মকে পদাঘাত করে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন এবং পূর্ব পুরুষদের এমন অন্ধ অনুসরণ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন যার সপক্ষে কোন যুক্তিসংগত দলিল-প্রমাণ ছিল না। এসব সত্ত্বেও যদি তাদেরকে পূর্ব পুরুষদের অন্ধ অনুসরণই করতে হয় তাহলেও তো সর্বাপেক্ষা মর্যাদাবান পূর্ব পুরুষ ইবরাহীম ও ইসমাঈল আলাইহিমুস সালামকে ছেড়ে এরা নিজেদের চরম জাহেল পূর্ব পুরুষদের বাছাই করলো কেন?

এদের যদি জিজ্ঞেস করা হয়, আল্লাহর সাথে অন্যারাও উপাসনা লাভের যোগ্য, কোন নবী বা আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত কোন একটি কিতাবও কি কখনো এ শিক্ষা দিয়েছে? এর জবাবে তারা খৃষ্টানদের হযরত ঈসা ইবনে মার্‌য়ামকে আল্লাহর বেটা হিসেবে মানার ও উপাসনা করাকে এ কাজের দলীল হিসেবে পেশ করে। অথচ কোন নবীর উম্মত শিরক করেছে বা করেনি প্রশ্ন সেটা ছিল না। প্রশ্ন ছিল কোন নবী শিরকের শিক্ষা দিয়েছেন কিনা? কবে ঈসা ইবনে মার্‌য়াম বলেছিলেন, আমি আল্লাহর পুত্র, তোমরা আমার উপাসনা করো। দুনিয়ার প্রত্যেক নবী যে শিক্ষা দিয়েছিলেন তার শিক্ষাও তাই ছিল। প্রত্যেক নবীর শিক্ষা ছিল আমাদের ও তোমাদের প্রত্যেকের রব আল্লাহ। তোমরা তারই ইবাদত করো।

মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রিসালত মেনে নিতে তাদের মনে দ্বিধা শুধু এ কারণে যে, তার কাছে ধন-সম্পদ এবং ক্ষমতা ও জাঁকজমক তো মোটেই নেই। তারা বলে, আল্লাহ যদি আমাদের এখানে কাউকে নবী মনোনীত করতে চাইতেন তাহলে আমাদের দুটি বড় শহরের (মক্কা ও তায়েফ) গন্য মান্য ব্যক্তিদের কাউকে মনোনীত করতেন। এই যুক্তিতে ফিরাউনও হযরত মূসাকে নগণ্য মনে করে বলেছিলো, আসমানের বাদশা যদি যমীনের বাদশার কাছে (আমার কাছে) কোন দূত পাঠাতেন তাহলে তাকে স্বর্ণের বালা পরিয়ে এবং তার আর্দালী হিসেবে একদল ফেরেশতা সহ পাঠাতেন । এ মিসকীন কোত্থেকে আমার সামনে এসে হাজির হয়েছে হয়েছে। আমিই মর্যাদার অধিকারী। কারণ, মিসরের বাদশাহী আমার এবং এই নীল নদ আমার আজ্ঞাধীনেই প্রবাহিত হচ্ছে। আমর তুলনায় এ ব্যক্তির এমন কি মর্যাদা আছে! এর না আছে ধন-সম্পদ না আছে ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব।

এভাবে কাফেরদের এক একটি অজ্ঞতাপ্রসূত কথার সমালোচনা করা এবং অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত ও সপ্রমাণ জবাব দেয়ার পর পরিস্কার বলা হয়েছে, না আল্লাহর কোন সন্তানাদি আছে, না আসমান ও যমীনের আল্লাহ আলাদা, না এমন কোন সুপারিশকারী আছে যে জেনে বুঝে গোমরাহীর পথ অনুসরণকারীদের আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারে।আল্লাহর সন্তানাদি থাকবে এমন অবস্থা থেকে তার সত্তা পবিত্র। তিনি একাই গোটা বিশ্ব জাহানের খোদা। আর কেউ তার খোদায়ীর গুণাবলী এবং ক্ষমতা ও ইখতিয়ারে শরীক নয়, বরং সবাই তার বান্দা। তার দরবারে শাফায়াত কেবল সেই ব্যক্তিই করতে পারে যে নিজে ন্যায় ও সত্যপন্থী এবং তাদের জন করতে পারে যারা পৃথিবীতে ন্যায় ও সত্যের পথ অবলম্বন করেছিলো।

আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ



আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

আরবি উচ্চারণ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

বাংলা অনুবাদ পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

حم43.1

আরবি উচ্চারণ ৪৩.১। হা-মী-ম্

বাংলা অনুবাদ ৪৩.১ হা-মীম।

وَالْكِتَابِ الْمُبِينِ43.2

আরবি উচ্চারণ ৪৩.২। অল্ কিতা-বিল্ মুবীন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.২ সুস্পষ্ট কিতাবের কসম!

إِنَّا جَعَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ43.3

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৩। ইন্না-জ্বা‘আল্না-হু কুরআ-নান্ ‘আরবিইয়্যাল্ লা‘আল্লাকুম্ তা’ক্বিলূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৩ নিশ্চয় আমি তো একে আরবী কুরআন বানিয়েছি, যাতে তোমরা বুঝতে পার।

وَإِنَّهُ فِي أُمِّ الْكِتَابِ لَدَيْنَا لَعَلِيٌّ حَكِيمٌ43.4

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৪। অইন্নাহূ ফী য় উম্মিল্ কিতা-বি লাদাইনা-লা‘আলিয়্যুন্ হাকীম্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৪ আর নিশ্চয় তা আমার কাছে উম্মুল কিতাবে সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন, প্রজ্ঞাপূর্ণ।

أَفَنَضْرِبُ عَنْكُمُ الذِّكْرَ صَفْحًا أَنْ كُنْتُمْ قَوْمًا مُسْرِفِينَ43.5

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৫। আফানাদ্ব্রিবু ‘আন্কুমুয্ যিক্রা ছোয়াফ্হান্ আন্ কুন্তুম্ ক্বওমাম্ মুস্রিফীন্। বাংলা অনুবাদ ৪৩.৫ তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী জাতি, এ কারণে কি আমি তোমাদের কাছ থেকে এ উপদেশবাণী সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করে নেব?

وَكَمْ أَرْسَلْنَا مِنْ نَبِيٍّ فِي الْأَوَّلِينَ43.6

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৬। অকাম্ র্আসাল্না- মিন্ নাবিয়্যিন্ ফিল্ আওয়্যালীন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৬ আর পূর্ববর্তীদের মধ্যে আমি বহু নবী পাঠিয়েছিলাম।

وَمَا يَأْتِيهِمْ مِنْ نَبِيٍّ إِلَّا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ43.7

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৭। অমা- ইয়াতীহিম্ মিন্ নাবিয়্যিন্ ইল্লা-কা-নূ বিহী ইয়াস্ তাহ্যিয়ূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৭ ফলে তাদের চেয়েও শক্তিতে প্রবলদেরকে আমি ধ্বংস করে দিয়েছিলাম। আর পূর্ববর্তীদের দৃষ্টান্ত অতীত হয়ে গেছে।

فَأَهْلَكْنَا أَشَدَّ مِنْهُمْ بَطْشًا وَمَضَى مَثَلُ الْأَوَّلِينَ 43.8

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৮। ফাআহ্লাক্না য় আশাদ্দা মিন্হুম্ বাতশাঁও অ মাদ্বোয়া-মাছালুল্ আওয়্যালীন্। বাংলা অনুবাদ ৪৩.৮ আর যখনই তাদের কাছে কোন নবী এসেছে তারা তাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করেছে।

وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ خَلَقَهُنَّ الْعَزِيزُ الْعَلِيمُ43.9

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৯। অলায়িন্ সায়াল্তাহুম্ মান্ খলাক্বস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদোয়া লাইয়াকুলুন্না খলাক্বহুন্নাল্ ‘আযীযুল্ ‘আলীম্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৯ আর তুমি যদি জিজ্ঞাসা কর, আসমানসমূহ ও যমীন কে সৃষ্টি করেছেন? তারা অবশ্যই বলবে, মহাপরাক্রমশালী সর্বজ্ঞই কেবল এগুলো সৃষ্টি করেছেন।

الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ مَهْدًا وَجَعَلَ لَكُمْ فِيهَا سُبُلًا لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ43.10

আরবি উচ্চারণ ৪৩.১০। আল্লাযী জ্বা‘আলা লাকুমুল্ র্আদ্বোয়া মাহ্দাঁও অজ্বা‘আলা লাকুম্ ফীহা-সুবুলাল্ লা‘আল্লাকুম্ তাহ্তাদূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.১০ যিনি যমীনকে তোমাদের জন্য শয্যা বানিয়েছেন এবং তাতে তোমাদের জন্য বানিয়েছেন চলার পথ, যাতে তোমরা সঠিক পথ পেতে পার।

وَالَّذِي نَزَّلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً بِقَدَرٍ فَأَنْشَرْنَا بِهِ بَلْدَةً مَيْتًا كَذَلِكَ تُخْرَجُونَ43.11

আরবি উচ্চারণ ৪৩.১১। অল্লাযী নায্যালা মিনাস্ সামা-য়ি মা-য়াম্ বিক্বদারিন্ ফাআর্ন্শানা বিহী বাল্দাতাম্ মাইতান্ কাযা-লিকা তুখ্রাজুন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.১১ আর যিনি আসমান থেকে পরিমিতভাবে পানি বর্ষণ করেন। অতঃপর আমি তা দ্বারা মৃত জনপদকে সঞ্জীবিত করি। এভাবেই তোমাদেরকে বের করা হবে।

وَالَّذِي خَلَقَ الْأَزْوَاجَ كُلَّهَا وَجَعَلَ لَكُمْ مِنَ الْفُلْكِ وَالْأَنْعَامِ مَا تَرْكَبُونَ43.12

আরবি উচ্চারণ ৪৩.১২। অল্লাযী খলাক্বল্ আয্ওয়া-জ্বা কুল্লাহা-অজ্বা‘আলা লাকুম্ মিনাল্ ফুল্কি অল্ আন্আ-মি মা-র্তাকাবূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.১২ আর যিনি সব কিছুই জোড়া জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি তোমাদের জন্য নৌযান ও গৃহপালিত জন্তু সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা আরোহণ কর,

لِتَسْتَوُوا عَلَى ظُهُورِهِ ثُمَّ تَذْكُرُوا نِعْمَةَ رَبِّكُمْ إِذَا اسْتَوَيْتُمْ عَلَيْهِ وَتَقُولُوا وَتَقُولُوا سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ43.13

আরবি উচ্চারণ ৪৩.১৩। লি তাস্তাওয়ূ আলা-জুহূরিহী ছুম্মা তায্কুরূ নি’মাতা রব্বিকুম্ ইযাস্ তাওয়াইতুম্ ‘আলাইহি অ তাকু লূ সুব্হা-নাল্লাযী সাখ্খর লানা- হা-যা- অমা-কুন্না লাহূ মুক্বরিনীন্।



বাংলা অনুবাদ ৪৩.১৩ যাতে তোমরা এর পিঠে স্থির থাকতে পার তারপর তোমাদের রবের অনুগ্রহ স্মরণ করবে, যখন তোমরা এর উপর স্থির হয়ে বসবে আর বলবে, ‘পবিত্র-মহান সেই সত্তা যিনি এগুলোকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন। আর আমরা এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম ছিলাম না’।

وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ43.14

আরবি উচ্চারণ ৪৩.১৪। অইন্না য় ইলা-রব্বিনা-লামুন্ক্বলিবূন।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.১৪ আর নিশ্চয় আমরা আমাদের রবের কাছেই প্রত্যাবর্তনকারী।

وَجَعَلُوا لَهُ مِنْ عِبَادِهِ جُزْءًا إِنَّ الْإِنْسَانَ لَكَفُورٌ مُبِينٌ43.15

আরবি উচ্চারণ ৪৩.১৫। অজ্বা‘আলূ লাহূ মিন্ ইবা-দিহী জুয্য়া-; ইন্নাল্ ইন্সা-না লাকাফূরুম্ মুবীন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.১৫ আর তারা তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে তাঁর অংশ সাব্যস্ত করেছে। নিশ্চয়ই মানুষ স্পষ্ট অকৃতজ্ঞ।

أَمِ اتَّخَذَ مِمَّا يَخْلُقُ بَنَاتٍ وَأَصْفَاكُمْ بِالْبَنِينَ43.16

আরবি উচ্চারণ ৪৩.১৬। আমিত তাখাযা মিম্মা-ইয়াখ্লুকু বানা-তিঁও অআছ্ফা-কুম্ বিল্বানীন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.১৬ তিনি কি যা সৃষ্টি করেছেন তা থেকে কন্যা সন্তান গ্রহণ করেছেন, আর তোমাদের জন্য বিশিষ্ট করেছেন পুত্র সন্তান দ্বারা?

وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُمْ بِمَا ضَرَبَ لِلرَّحْمَنِ مَثَلًا ظَلَّ وَجْهُهُ مُسْوَدًّا وَهُوَ كَظِيمٌ43.17

আরবি উচ্চারণ ৪৩.১৭। অইযা-বুশ্শির আহাদুহুম্ বিমা-দ্বোয়ারাবা র্লিরহমা-নি মাছালান্ জোয়াল্লা-অজ্ব্ ্হুহূ মুস্ওয়াদ্দাঁও অ হুওয়া কাজীম্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.১৭ আর যখন তাদের কাউকে সুসংবাদ দেয়া হয়, যা রহমানের প্রতি তারা দৃষ্টান্ত পেশ করে, তখন তার মুখমণ্ডল মলিন হয়ে যায়। এমতাবস্থায় যে, সে দুঃসহ যাতনাপিষ্ট।

أَوَمَنْ يُنَشَّأُ فِي الْحِلْيَةِ وَهُوَ فِي الْخِصَامِ غَيْرُ مُبِينٍ43.18

আরবি উচ্চারণ ৪৩.১৮। আওয়া মাইঁ ইয়ুনাশ্শায়ূ ফিল্ হিল্ইয়াতি অহুওয়া ফিল্ খিছোয়া-মি গইরু মুবীন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.১৮ আর যে অলংকারে লালিত পালিত হয়; এবং বিতর্ককালে সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদানে অক্ষম।

وَجَعَلُوا الْمَلَائِكَةَ الَّذِينَ هُمْ عِبَادُ الرَّحْمَنِ إِنَاثًا أَشَهِدُوا خَلْقَهُمْ سَتُكْتَبُ شَهَادَتُهُمْ وَيُسْأَلُونَ43.19

আরবি উচ্চারণ ৪৩.১৯। অজ্বা ‘আলূল্ মালা-য়িকাতাল্ লাযীনা হুম্ ‘ইবা-র্দু রহ্মা-নি ইনা-ছা-; আশাহিদূ খল্ক্বহুম্; সাতুক্তাবু শাহা-দাতুহুম্ অ ইয়ুস্য়ালূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.১৯ আর তারা গণ্য করেছে রহমানের বান্দা ফেরেশতাদেরকে নারী। তারা কি তাদের সৃষ্টি প্রত্যক্ষ করেছে? তাদের সাক্ষ্য অবশ্যই লিখে রাখা হবে এবং তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

وَقَالُوا لَوْ شَاءَ الرَّحْمَنُ مَا عَبَدْنَاهُمْ مَا لَهُمْ بِذَلِكَ مِنْ عِلْمٍ إِنْ هُمْ إِلَّا يَخْرُصُونَ43.20

আরবি উচ্চারণ ৪৩.২০। অ ক্ব-লূ লাও শা-র্য়া রহ্মা-নু মা-‘আবাদ্না-হুম্; মা-লাহুম্ বিযা-লিকা মিন্ ই’ল্মিন্ ইন্হুম্ ইল্লা-ইয়াখ্রুছূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.২০ তারা আর বলে, ‘পরম করুণাময় আল্লাহ ইচ্ছা করলে আমরা এদের ইবাদাত করতাম না’, এ বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞান নেই। তারা শুধু মনগড়া কথা বলছে।

أَمْ آتَيْنَاهُمْ كِتَابًا مِنْ قَبْلِهِ فَهُمْ بِهِ مُسْتَمْسِكُونَ43.21

আরবি উচ্চারণ ৪৩.২১। আম্ আ-তাইনা-হুম্ কিতা-বাম্ মিন্ ক্ববিলহী ফাহুম্ বিহী মুস্তাম্সিকূন্। বাংলা অনুবাদ ৪৩.২১ আমি কি তাদেরকে কুরআনের পূর্বে কোন কিতাব দিয়েছি, অতঃপর তারা তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করে আছে?

بَلْ قَالُوا إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَى أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَى آثَارِهِمْ مُهْتَدُونَ43.22

আরবি উচ্চারণ ৪৩.২২। বাল্ ক্ব- লূ য় ইন্না-অজ্বাদ্না য় আ-বা-য়ানা- ‘আলা য় উম্মাতিঁও অইন্না ‘আলা য় আ-ছা-রিহিম্ মুহ্তাদূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.২২ বরং তারা বলে, ‘আমরা নিশ্চয় আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে এক মতাদর্শের উপর পেয়েছি, আর নিশ্চয় আমরা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণে হিদায়াতপ্রাপ্ত হব’।

وَكَذَلِكَ مَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ فِي قَرْيَةٍ مِنْ نَذِيرٍ إِلَّا قَالَ مُتْرَفُوهَا إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَى أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَى آثَارِهِمْ مُقْتَدُونَ 43.23

আরবি উচ্চারণ ৪৩.২৩। অকাযা-লিকা মা য় র্আসাল্না- মিন্ ক্বব্লিকা ফী র্ক্বইয়াতিম্ মিন্ নাযীরিন্ ইল্লা- ক্ব-লা মুত্রাফূ হা য় ইন্না অজ্বাদ্না য় আবা-য়ানা- ‘আলা য় উম্মাতিঁও অইন্না আলা য় আ-ছা-রিহিম্ মুক্ব তাদূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.২৩ আর এভাবেই তোমাদের পূর্বে যখনই আমি কোন জনপদে সতর্ককারী পাঠিয়েছি, তখনই সেখানকার বিলাসপ্রিয়রা বলেছে, ‘নিশ্চয় আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে এক মতাদর্শের উপর পেয়েছি এবং নিশ্চয় আমরা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করব’।

قَالَ أَوَلَوْ جِئْتُكُمْ بِأَهْدَى مِمَّا وَجَدْتُمْ عَلَيْهِ آبَاءَكُمْ قَالُوا إِنَّا بِمَا أُرْسِلْتُمْ بِهِ كَافِرُونَ43.24

আরবি উচ্চারণ ৪৩.২৪। ক্ব-লা আওয়ালাও জ্বিতুকুম্ বিআহ্দা- মিম্মা-অজ্বাদ্তুম্ ‘আলাইহি আ-বা-য়া কুম্; ক্ব-লূ য় ইন্না- বিমা য় র্উসিল্তুম্ বিহী কা-ফিরূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.২৪ তখন সে (সতর্ককারী) বলেছে, ‘তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষদেরকে যে মতাদর্শে পেয়েছ, আমি যদি তোমাদের কাছে তার চেয়ে উৎকৃষ্ট পথে নিয়ে আসি তবুও কি’? (তোমরা তাদের অনুসরণ করবে?) তারা বলেছে, ‘নিশ্চয় তোমাদেরকে যা দিয়ে পাঠানো হয়েছে আমরা তার অস্বীকারকারী’।

فَانْتَقَمْنَا مِنْهُمْ فَانْظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ43.25

আরবি উচ্চারণ ৪৩.২৫। ফান্তাক্বম্না-মিন্হুম্ ফার্ন্জু কাইফা কা-না ‘আ-ক্বিবাতুল্ মুকায্যিবীন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.২৫ ফলে আমি তাদের থেকে প্রতিশোধ নিলাম। অতএব দেখ, মিথ্যারোপকারীদের পরিণতি কেমন হয়েছিল?

وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِ إِنَّنِي بَرَاءٌ مِمَّا تَعْبُدُونَ43.26

আরবি উচ্চারণ ৪৩.২৬। অ ইয্ ক্ব-লা ইব্রা-হীমু লিআবীহি অক্বওমিহী য় ইন্নানী বারা-য়ুম্ মিম্মা- তা’বুদূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.২৬ আর স্মরণ কর, যখন ইবরাহীম স্বীয় পিতা ও তার কওমকে বলেছিল, ‘তোমরা যেগুলোর ইবাদাত কর, নিশ্চয় আমি তাদের থেকে সম্পর্কমুক্ত’।

إِلَّا الَّذِي فَطَرَنِي فَإِنَّهُ سَيَهْدِينِ43.27

আরবি উচ্চারণ ৪৩.২৭। ইল্লাল্লাযী ফাত্বোয়ারনী ফাইন্নাহূ সাইয়াহ্দীন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.২৭ ‘তবে (তিনি ছাড়া) যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর নিশ্চয় তিনি আমাকে শীঘ্রই হিদায়াত দিবেন।’

وَجَعَلَهَا كَلِمَةً بَاقِيَةً فِي عَقِبِهِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ43.28

আরবি উচ্চারণ ৪৩.২৮। অজ্বা‘আলাহা-কালিমাতাম্ বা-ক্বিয়াতান্ ফী ‘আক্বিবিহী লা‘আল্লাহুম্ ইর্য়াজ্বি‘ঊন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.২৮ আর এটিকে সে তার উত্তরসূরীদের মধ্যে এক চিরন্তন বাণী বানিয়ে রেখে গেল, যাতে তারা প্রত্যাবার্তন করতে পারে।

بَلْ مَتَّعْتُ هَؤُلَاءِ وَآبَاءَهُمْ حَتَّى جَاءَهُمُ الْحَقُّ وَرَسُولٌ مُبِينٌ 43.29

আরবি উচ্চারণ ৪৩.২৯। বাল্ মাত্তা’তু হা য় য়ুলা-য়ি অআ-বা-য়াহুম্ হাত্তা- জ্বা-য়াহুমুল্ হাক্ব কু অরসূলুম্ মুবীন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.২৯ বরং তাদের কাছে সত্য ও স্পষ্ট বর্ণনাকারী রাসূল আগমন না করা পর্যন্ত আমি তাদের এবং তাদের পিতৃপুরুষদের ভোগ করার সুযোগ দিয়েছিলাম।

وَلَمَّا جَاءَهُمُ الْحَقُّ قَالُوا هَذَا سِحْرٌ وَإِنَّا بِهِ كَافِرُونَ43.30

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৩০। অলাম্মা- জ্বা-য়াহুমুল্ হাক্ব্ কু ক্ব-লূ হা-যা- সিহ্রুঁও অইন্না- বিহী কা-ফিরূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৩০ অথচ যখন সত্য তাদের কাছে আসল তখন তারা বলল, ‘এতো যাদু এবং নিশ্চয় আমরা তা অস্বীকার করছি।’

وَقَالُوا لَوْلَا نُزِّلَ هَذَا الْقُرْآنُ عَلَى رَجُلٍ مِنَ الْقَرْيَتَيْنِ عَظِيمٍ43.31

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৩১। অক্ব-লূ লাওলা-নুয্যিলা হা-যাল্ কুরআ-নু ‘আলা-রাজুলিম্ মিনাল্ র্ক্বইয়াতাইনি ‘আজীম্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৩১ আর তারা বলল, ‘এ কুরআন কেন দুই জনপদের মধ্যকার কোন মহান ব্যক্তির উপর নাযিল করা হল না’?।

أَهُمْ يَقْسِمُونَ رَحْمَةَ رَبِّكَ نَحْنُ قَسَمْنَا بَيْنَهُمْ مَعِيشَتَهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَرَفَعْنَا بَعْضَهُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجَاتٍ لِيَتَّخِذَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا سُخْرِيًّا وَرَحْمَةُ رَبِّكَ خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُونَ43.32

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৩২। আহুম্ ইয়াক্ব সিমূনা রহ্মাতা রব্বিক্; নাহ্নু ক্বসাম্না-বাইনাহুম্ মা‘ঈশাতাহুম্ ফিল্ হা-ইয়া-তিদ্ দুন্ইয়া-অরাফা’না-বা’দ্বোয়াহুম্ ফাওক্ব বা’দ্বিন্ দারজ্বা-তিল্ লিইয়াত্তাখিযা বা’দ্বুহুম্ বা’দ্বোয়ান্ সুখ্রিয়্যা-; অরহ্মাতু রব্বিকা খইরুম্ মিম্মা-ইয়াজ্ব মাঊ’ন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৩২ তারা কি তোমার রবের রহমত ভাগ-বণ্টন করে? আমিই দুনিয়ার জীবনে তাদের মধ্যে তাদের জীবিকা বণ্টন করে দেই এবং তাদের একজনকে অপর জনের উপর মর্যাদায় উন্নীত করি যাতে একে অপরকে অধিনস্থ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। আর তারা যা সঞ্চয় করে তোমার রবের রহমত তা অপেক্ষা উৎকৃষ্ট।

وَلَوْلَا أَنْ يَكُونَ النَّاسُ أُمَّةً وَاحِدَةً لَجَعَلْنَا لِمَنْ يَكْفُرُ بِالرَّحْمَنِ لِبُيُوتِهِمْ سُقُفًا لَجَعَلْنَا لِمَنْ يَكْفُرُ بِالرَّحْمَنِ لِبُيُوتِهِمْ سُقُفًا مِنْ فَضَّةٍ وَمَعَارِجَ عَلَيْهَا يَظْهَرُونَ43.33

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৩৩। অলাওলা য় আইঁ ইয়াকূনান্ না-সু উম্মাতাঁও ওয়া-হিদাতাল্ লাজ্বা‘আল্না-লিমাইঁ ইয়াক্ফুরু র্বিরহ্মা-নি লিবুইয়ূ তিহিম্ সুকুফাম্ মিন্ ফিদ্বোয়াতিঁও অমা‘আ রিজ্বা ‘আলাইহা-ইয়াজ্হারূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৩৩ যদি সব মানুষ একই জাতিতে পরিণত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা না থাকত, তবে যারা পরম করুণাময়ের প্রতি কুফরী করে আমি তাদের গৃহসমূহের জন্য রৌপ্যনির্মিত ছাদ ও ঊর্ধ্বে আরোহণের সিঁড়ি তৈরী করে দিতাম।

وَلِبُيُوتِهِمْ أَبْوَابًا وَسُرُرًا عَلَيْهَا يَتَّكِئُونَ43.34

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৩৪। অলিবুইয়ূতিহিম্ আব্ওয়া-বাঁও অসুরুরন্ ‘আলাইহা-ইয়াত্তাকিয়ূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৩৪ আর তাদের গৃহসমূহের জন্য দরজা ও পালঙ্ক, যাতে তারা হেলান দেয়।

وَزُخْرُفًا وَإِنْ كُلُّ ذَلِكَ لَمَّا مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةُ عِنْدَ رَبِّكَ لِلْمُتَّقِينَ43.35

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৩৫। অযুখ্রুফা-; যা-লিকা লাম্মা-মাতা-উ’ল্ হা-ইয়া-তিদ দুন্ইয়া-;অল্ আ-খিরাতু ই’ন্দা রব্বিকলিল্মুত্তাক্বীন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৩৫ আর তাদের জন্য স্বর্ণনির্মিত এর সব কয়টিই দুনিয়ার জীবনের ভোগ-সামগ্রী। আর আখিরাত তো তোমার রবের কাছে মুত্তাকীদের জন্য ।

وَمَنْ يَعْشُ عَنْ ذِكْرِ الرَّحْمَنِ نُقَيِّضْ لَهُ شَيْطَانًا فَهُوَ لَهُ قَرِينٌ43.36

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৩৬। অমাইঁ ইয়াশু‘আন্ যির্ক্রি রহ্মা-নি নুক্বয়্যিদ্ব্ লাহূ শাইত্বোয়া-নান্ ফাহুওয়া লাহূ ক্বরীন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৩৬ আর যে পরম করুণাময়ের যিকির থেকে বিমুখ থাকে আমি তার জন্য এক শয়তানকে নিয়োজিত করি, ফলে সে হয়ে যায় তার সঙ্গী।

وَإِنَّهُمْ لَيَصُدُّونَهُمْ عَنِ السَّبِيلِ وَيَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ مُهْتَدُونَ 43.37

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৩৭। অ ইন্নাহুম্ লাইয়াছুদ্দুনা হুম্ ‘আনিস্ সাবীলি অইয়াহ্সাবূনা আন্নাহুম্ মুহ্তাদূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৩৭ আর নিশ্চয় তারাই (শয়তান) মানুষদেরকে আল্লাহর পথ থেকে বাধা দেয়। অথচ মানুষ মনে করে তারা হিদায়াতপ্রাপ্ত।

حَتَّى إِذَا جَاءَنَا قَالَ يَا لَيْتَ بَيْنِي وَبَيْنَكَ بُعْدَ الْمَشْرِقَيْنِ فَبِئْسَ الْقَرِينُ43.38

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৩৮। হাত্তা য় ইযা-জ্বা-য়ানা ক্ব-লা ইয়া-লাইতা বাইনী অবাইনাকা বু’দাল্ মাশ্রিক্বইনি ফাবিসাল্ ক্বরীন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৩৮ অবশেষে যখন সে আমার নিকট আসবে তখন সে [তার শয়তান সংগীকে উদ্দেশ্য করে] বলবে, ‘হায়, আমার ও তোমার মধ্যে যদি পূর্ব-পশ্চিমের ব্যবধান থাকত’ সুতরাং কতইনা নিকৃষ্ট সে সঙ্গী!

وَلَنْ يَنْفَعَكُمُ الْيَوْمَ إِذْ ظَلَمْتُمْ أَنَّكُمْ فِي الْعَذَابِ مُشْتَرِكُونَ43.39

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৩৯। অলাইঁ ইয়ান্ফা‘আকুমুল্ ইয়াওমা ইয্ জোয়ালাম্তুম্ আন্নাকুম্ ফিল্ ‘আযা-বি মুশ্তারিকূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৩৯ আর আজ তা [তোমাদের এই অনুতাপ] তোমাদের কোন উপকারেই আসবে না। যেহেতু তোমরা যুলম করেছিলে। নিশ্চয় তোমরা আযাবে পরস্পর অংশীদার হয়ে থাকবে।

أَفَأَنْتَ تُسْمِعُ الصُّمَّ أَوْ تَهْدِي الْعُمْيَ وَمَنْ كَانَ فِي ضَلَالٍ مُبِينٍ43.40

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৪০। আফাআন্তা তুস্মি‘উছ্ ছুম্মা আও তাহ্দিল্ উ’ম্ইয়া অমান্ কা-না ফী দ্বোয়ালা-লিম্ মুবীন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৪০ তুমি কি বধিরকে শুনাতে পারবে অথবা হিদায়াত করতে পারবে অন্ধকে এবং তাকে যে স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় রয়েছে?

فَإِمَّا نَذْهَبَنَّ بِكَ فَإِنَّا مِنْهُمْ مُنْتَقِمُونَ43.41

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৪১। ফাইম্মা- নায্হাবান্না বিকা ফাইন্না-মিন্হুম্ মুন্তাক্বিমূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৪১ অতঃপর যদি আমি তোমাকে নিয়ে যাই, তবে নিশ্চয় আমি তাদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করব।

أَوْ نُرِيَنَّكَ الَّذِي وَعَدْنَاهُمْ فَإِنَّا عَلَيْهِمْ مُقْتَدِرُونَ43.42

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৪২। আও নুরিইয়ান্নাকা ল্লাযী অ‘আদ্না-হুম্ ফাইন্না ‘আলাইহিম্ মুক্বতাদিরূন্। বাংলা অনুবাদ ৪৩.৪২ অথবা আমি তাদের যে শাস্তির ওয়াদা দিয়েছি তা যদি তোমাকে প্রত্যক্ষ করাই, তবে নিশ্চয় আমি তাদের উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান থাকব।

فَاسْتَمْسِكْ بِالَّذِي أُوحِيَ إِلَيْكَ إِنَّكَ عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ43.43

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৪৩। ফাস্তাম্সিক্ বিল্লাযী য় ঊহিয়া ইলাইকা ইন্নাকা ‘আলা-ছির-ত্বিম্ মুস্্তাক্বীম্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৪৩ অতএব তোমার প্রতি যা ওহী করা হয়েছে তাকে তুমি সুদৃঢ়ভাবে ধারণ কর। নিশ্চয় তুমি সরল পথের উপর রয়েছ।

وَإِنَّهُ لَذِكْرٌ لَكَ وَلِقَوْمِكَ وَسَوْفَ تُسْأَلُونَ 43.44

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৪৪। অ ইন্নাহূ লাযিক্রুল লাকা অলিক্বওমিকা অসাওফা তুস্য়ালূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৪৪ নিশ্চয় এ কুরআন তোমার জন্য এবং তোমার কওমের জন্য উপদেশ। আর অচিরেই তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে।

وَاسْأَلْ مَنْ أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رُسُلِنَا أَجَعَلْنَا مِنْ دُونِ الرَّحْمَنِ آلِهَةً يُعْبَدُونَ43.45

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৪৫। অসয়াল্ মান্ র্আসাল্না মিন্ ক্বব্লিকা র্মি রুসূলিনা য় আজ্বা‘আল্না-মিন্ দূর্নি রহ্মা-নি আ-লিহাতাঁই ইয়ু’বাদূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৪৫ আর তোমার পূর্বে আমি রাসূলগণ থেকে যাদের প্রেরণ করেছিলাম তুমি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করে দেখ, আমি কি রহমানের পরিবর্তে অন্য কোন উপাস্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম, যাদের ইবাদাত করা যাবে?

وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا مُوسَى بِآيَاتِنَا إِلَى فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِ فَقَالَ إِنِّي رَسُولُ رَبِّ الْعَالَمِينَ43.46

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৪৬। অলাক্বদ্ র্আসালনা- মূসা-বিআ-ইয়া-তিনা য় ইলা-র্ফি‘আউনা অমালায়িহী ফাক্ব-লা ইন্নী রাসূলু রব্বিল্ ‘আ-লামীন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৪৬ আর অবশ্যই আমি মূূসাকে আমার নিদর্শনাবলী দিয়ে ফির‘আউন ও তার নেতৃবর্গের নিকট প্রেরণ করেছিলাম। সে বলেছিল, ‘নিশ্চয় আমি সৃষ্টিকুলের রবের একজন রাসূল’।

فَلَمَّا جَاءَهُمْ بِآيَاتِنَا إِذَا هُمْ مِنْهَا يَضْحَكُونَ43.47

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৪৭। ফালাম্মা- জ্বা-য়াহুম্ বি আ-ইয়া-তিনা য় ইযা-হুম্ মিন্হা-ইয়াদ্ব্হাকূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৪৭ অতঃপর যখন সে আমার নিদর্শনাবলী নিয়ে তাদের কাছে আসল, তখন তারা তা নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করতে লাগল।

وَمَا نُرِيهِمْ مِنْ آيَةٍ إِلَّا هِيَ أَكْبَرُ مِنْ أُخْتِهَا وَأَخَذْنَاهُمْ بِالْعَذَابِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ43.48

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৪৮। অমা-নুরীহিম্ মিন্ আ-ইয়াতিন্ ইল্লা-হিয়া আক্বারু মিন্ উখ্তিহা-অআখায্না-হুম্ বিল্ ‘আযা-বি লা‘আল্লাহুম্ ইর্য়াজ্বি‘ঊন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৪৮ আমি তাদের যে নিদর্শনই দেখাইনা কেন তা ছিল তার অনুরূপ নিদর্শন অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর। আর আমি তাদেরকে আযাবের মাধ্যমে পাকড়াও করলাম, যাতে তারা ফিরে আসে।

وَقَالُوا يَا أَيُّهَا السَّاحِرُ ادْعُ لَنَا رَبَّكَ بِمَا عَهِدَ عِنْدَكَ إِنَّنَا لَمُهْتَدُونَ 43.49

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৪৯। অক্বা-লূ ইয়া য় আইয়ুহাস্ সা-হিরুদ্‘উ লানা- রব্বাকা বিমা-‘আহিদা ‘ইন্দাকা ইন্নানা-লামুহ্তাদূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৪৯ আর তারা বলল, ‘হে যাদুকর, তোমার রবের কাছে তুমি আমাদের জন্য তাই প্রার্থনা কর, যার ওয়াদা তিনি তোমার সাথে করেছেন। নিশ্চয় আমরা হিদায়াতের পথে আসব।’

فَلَمَّا كَشَفْنَا عَنْهُمُ الْعَذَابَ إِذَا هُمْ يَنْكُثُونَ43.50

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৫০। ফালাম্মা-কাশাফ্না- ‘আন্ হুমুল্ ‘আযা-বা ইযা-হুম্ ইয়ান্কুছূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৫০ অতঃপর যখন আমি তাদের থেকে আযাব সরিয়ে নিলাম, তখনই তারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করে বসল।

وَنَادَى فِرْعَوْنُ فِي قَوْمِهِ قَالَ يَا قَوْمِ أَلَيْسَ لِي مُلْكُ مِصْرَ وَهَذِهِ الْأَنْهَارُ تَجْرِي مِنْ تَحْتِي أَفَلَا تُبْصِرُونَ43.51

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৫১। অনা-দা- র্ফি‘আউনু ফী কওমিহী ক্ব-লা ইয়া-ক্বওমি আলাইসা লী মুল্কু মিছ্র-অহা-যিহিল্ আন্হা-রু তাজ্ব রী মিন্ তাহ্তী আফালা-তুব্ছিরূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৫১ আর ফির‘আউন তার কওমের মধ্যে ঘোষণা দিয়ে বলল, ‘হে আমার কওম, মিসরের রাজত্ব কি আমার নয়? আর এ সব নদ-নদী কি আমার পাদদেশ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে না, তোমরা কি দেখছ না’?

أَمْ أَنَا خَيْرٌ مِنْ هَذَا الَّذِي هُوَ مَهِينٌ وَلَا يَكَادُ يُبِينُ43.52

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৫২। আম্ আনা খইরুম্ মিন্হা-যাল্লাযী হুওয়া মাহী নুঁও অলা- ইয়াকা-দু ইয়ুবীন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৫২ ‘আমি কি এই ব্যক্তি থেকে শ্রেষ্ঠ নই, যে হীন এবং স্পষ্ট বর্ণনা করতে প্রায় অক্ষম’?

فَلَوْلَا أُلْقِيَ عَلَيْهِ أَسْوِرَةٌ مِنْ ذَهَبٍ أَوْ جَاءَ مَعَهُ الْمَلَائِكَةُ مُقْتَرِنِينَ43.53

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৫৩। ফালাওলা য় উল্ক্বিয়া ‘আলাইহি আস্ওয়িরাতুম্ মিন্ যাহাবিন্ আও জ্বা-য়া মা‘আহুল্ মালা-য়িকাতু মুক্ব তারিনীন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৫৩ ‘তবে তাকে কেন স্বর্ণবলয় প্রদান করা হল না অথবা দলবদ্ধভাবে ফেরেশতাগণ তার সাথে কেন আসল না?’

فَاسْتَخَفَّ قَوْمَهُ فَأَطَاعُوهُ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمًا فَاسِقِينَ43.54

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৫৪। ফাস্তাখাফ্ফা ক্বওমাহূ ফাআত্বোয়া-ঊ’হ্; ইন্নাহুম্ কা-নূ ক্বওমান্ ফা-সিক্বীন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৫৪ এভাবেই সে তার কওমকে বোকা বানালো, ফলে তারা তার আনুগত্য করল। নিশ্চয় তারা ছিল এক ফাসিক কওম।

فَلَمَّا آسَفُونَا انْتَقَمْنَا مِنْهُمْ فَأَغْرَقْنَاهُمْ أَجْمَعِينَ 43.55

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৫৫। ফালাম্মা য় আ-সাফূনান্ তাক্বম্না-মিন্হুম্ ফাআগ্রক্ব না-হুম্ আজ্ব্ মা‘ঈন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৫৫ তারপর যখন তারা আমাকে ক্রোধান্বিত করল, তখন আমি তাদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করলাম এবং তাদের সকলকে নিমজ্জিত করে দিলাম।

فَجَعَلْنَاهُمْ سَلَفًا وَمَثَلًا لِلْآخِرِينَ43.56

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৫৬। ফাজ্বা‘আল্না-হুম্ সালাফাঁও অমাছালাল্ লিল্আ-খিরীন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৫৬ ফলে আমি তাদেরকে পরবর্তীদের জন্য অতীত ইতিহাস ও দৃষ্টান্ত বানালাম।

وَلَمَّا ضُرِبَ ابْنُ مَرْيَمَ مَثَلًا إِذَا قَوْمُكَ مِنْهُ يَصِدُّونَ43.57

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৫৭। অলাম্মা-দ্বুরিবাব্নু মারইয়ামা-মাছালান ইযা- ক্বওমুকা মিন্হু ইয়াছিদ্দূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৫৭ আর যখনই মারইয়াম পুত্রকে দৃষ্টান্তস্বরূপ পেশ করা হয়, তখন তোমার কওম শোরগোল শুরু করে দেয়।

وَقَالُوا أَآلِهَتُنَا خَيْرٌ أَمْ هُوَ مَا ضَرَبُوهُ لَكَ إِلَّا جَدَلًا بَلْ هُمْ قَوْمٌ خَصِمُونَ43.58

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৫৮। অ ক্ব-লূ য় আ আ-লিহাতুনা-খইরুন্ আম্ হুঅ;মা-দ্বোয়ারাবূহু লাকা ইল্লা-জ্বাদালা বাল্ হুম্ ক্বাওমুন্ খাছিমূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৫৮ আর তারা বলে, ‘আমাদের উপাস্যরা শ্রেষ্ঠ নাকি ঈসা’? তারা কেবল কূটতর্কের খাতিরেই তাকে তোমার সামনে পেশ করে। বরং এরাই এক ঝগড়াটে সম্প্রদায়।

إِنْ هُوَ إِلَّا عَبْدٌ أَنْعَمْنَا عَلَيْهِ وَجَعَلْنَاهُ مَثَلًا لِبَنِي إِسْرَائِيلَ43.59

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৫৯। ইন্হুওয়া ইল্লা-‘আব্দুন্ আন্‘আম্না- ‘আলাইহি অ জ্বা‘আল্না-হু মাছালাল্ লিবানী য় ইসরা-ঈল্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৫৯ সে কেবল আমার এক বান্দা। আমি তার উপর অনুগ্রহ করেছিলাম এবং বনী ইসরাঈলের জন্য তাকে দৃষ্টান্ত বানিয়েছিলাম।

وَلَوْ نَشَاءُ لَجَعَلْنَا مِنْكُمْ مَلَائِكَةً فِي الْأَرْضِ يَخْلُفُونَ43.60

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৬০। অলাও নাশা-য়ু লাজ্বা‘আল্না- মিন্কুম্ মালা-য়িকাতান্ ফিল্ র্আদ্বি ইয়াখ্লুফূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৬০ আর যদি আমি চাইতাম, তবে আমি তোমাদের পরিবর্তে ফেরেশতা সৃষ্টি করে পাঠাতাম যারা যমীনে তোমাদের উত্তরাধিকার হত।

وَإِنَّهُ لَعِلْمٌ لِلسَّاعَةِ فَلَا تَمْتَرُنَّ بِهَا وَاتَّبِعُونِ هَذَا صِرَاطٌ مُسْتَقِيمٌ 43.61

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৬১। অ ইন্নাহূ লাই’ল্মু লিস্সা-‘আতি ফালা-তাম্তারুন্না বিহা-অত্তাবি‘ঊন্; হা-যা- ছির-তুম্ মুস্তাক্বীম্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৬১ আর নিশ্চয় সে (ঈসা) হবে কিয়ামতের এক সুনিশ্চিত আলামত। সুতরাং তোমরা কিয়ামত সম্পর্কে সংশয় পোষণ করো না। তোমরা আমারই অনুসরণ কর। এটিই সরল পথ।

وَلَا يَصُدَّنَّكُمُ الشَّيْطَانُ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ43.62

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৬২। অলা-ইয়াছুদ্দান্না কুমুশ্ শাইত্বোয়া-নু ইন্নাহূ লাকুম্ ‘আদুওউম্ মুবীন। বাংলা অনুবাদ ৪৩.৬২ শয়তান যেন তোমাদের কিছুতেই বাধা দিতে না পারে। নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।

وَلَمَّا جَاءَ عِيسَى بِالْبَيِّنَاتِ قَالَ قَدْ جِئْتُكُمْ بِالْحِكْمَةِ وَلِأُبَيِّنَ لَكُمْ بَعْضَ الَّذِي تَخْتَلِفُونَ فِيهِ فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ43.63

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৬৩। অলাম্মা-জ্বা-য়া ‘ঈসা-বিল্ বাইয়্যিনা-তি ক্ব-লা ক্বদ্ জ্বি’তুকুম্ বিল্ হিক্মাতি অলিউবায়্যিনা লাকুম্ বা’দ্বোয়াল্লাযী তাখ্তালিফূনা ফীহি ফাত্তাকু ল লা-হা অআত্বী‘ঊন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৬৩ আর যখন ঈসা সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে আসল, তখন সে বলল, ‘আমি অবশ্যই তোমাদের কাছে হিকমত নিয়ে এসেছি এবং এসেছি তোমরা যে কতক বিষয়ে মতবিরোধে লিপ্ত তা স্পষ্ট করে দিতে। অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর’।

إِنَّ اللَّهَ هُوَ رَبِّي وَرَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ هَذَا صِرَاطٌ مُسْتَقِيمٌ43.64

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৬৪। ইন্নাল্লা-হা হুওয়া রব্বী অরব্বুকুম্ ফা’বুদূহ্; হা-যা-ছির-তুম্ মুস্তাক্বীম্। বাংলা অনুবাদ ৪৩.৬৪ ‘নিশ্চয় আল্লাহ, তিনিই আমার রব ও তোমাদের রব। অতএব তাঁর ইবাদাত কর; এটিই সরল পথ’।

فَاخْتَلَفَ الْأَحْزَابُ مِنْ بَيْنِهِمْ فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْ عَذَابِ يَوْمٍ أَلِيمٍ43.65

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৬৫। ফাখ্তালাফাল্ আহ্যা-বু মিম্ বাইনিহিম্ ফাওয়াইলুল্ লিল্লাযীনা জোয়ালামূ মিন্ ‘আযা-বি ইয়াওমিন্ আলীম্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৬৫ অতঃপর তাদের মধ্যকার কতগুলি দল মতভেদ করেছিল। সুতরাং যালিমদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক দিনের আযাবের দুর্ভোগ!

هَلْ يَنْظُرُونَ إِلَّا السَّاعَةَ أَنْ تَأْتِيَهُمْ بَغْتَةً وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ43.66

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৬৬। হাল্ ইয়ান্জুরূনা ইল্লাস্ সা-‘আতা আন্ তাতিয়াহুম্ বাগ্তাতাঁও অহুম্ লা-ইয়াশ্‘ঊরূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৬৬ তারা তো তাদের অজ্ঞাতসারে অকস্মাৎ কিয়ামত আসার অপেক্ষা করছে।

الْأَخِلَّاءُ يَوْمَئِذٍ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ إِلَّا الْمُتَّقِينَ 43.67

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৬৭। আল্ আখিল্লা-য়ু ইয়াওমায়িযিম্ বা’দ্বুহুম্ লিবা’দ্বিন্ ‘আদুওউন্ ইল্লাল্ মুত্তাক্বীন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৬৭ সেদিন বন্ধুরা একে অন্যের শত্রু হবে, মুত্তাকীরা ছাড়া।

يَا عِبَادِ لَا خَوْفٌ عَلَيْكُمُ الْيَوْمَ وَلَا أَنْتُمْ تَحْزَنُونَ43.68

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৬৮। ইয়া-‘ইবা-দি লা-খওফুন্ ‘আলাইকুমুল্ ইয়াওমা অলা য় আন্তুম্ তাহ্যানূন্। বাংলা অনুবাদ ৪৩.৬৮ হে আমার বান্দাগণ, আজ তোমাদের কোন ভয় নেই এবং তোমরা চিন্তিতও হবে না।

الَّذِينَ آمَنُوا بِآيَاتِنَا وَكَانُوا مُسْلِمِينَ43.69

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৬৯। আল্লাযীনা- আ-মানূ বিআ-ইয়া-তিনা অ কা-নূ মুস্লিমীন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৬৯ যারা আমার আয়াতে ঈমান এনেছিল এবং যারা ছিল মুসলিম।

ادْخُلُوا الْجَنَّةَ أَنْتُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ تُحْبَرُونَ43.70

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৭০। উদ্খুলুল্ জ্বান্নাতা আন্তুম্ অআয্ওয়া জুকুম্ তুহ্বারূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৭০ তোমরা সস্ত্রীক সানন্দে জান্নাতে প্রবেশ কর।

يُطَافُ عَلَيْهِمْ بِصِحَافٍ مِنْ ذَهَبٍ وَأَكْوَابٍ وَفِيهَا مَا تَشْتَهِيهِ الْأَنْفُسُ وَتَلَذُّ الْأَعْيُنُ وَأَنْتُمْ فِيهَا خَالِدُونَ43.71

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৭১। ইয়ুত্বোয়া-ফু ‘আলাইহিম্ বিছিহা-ফিম্ মিন্ যাহাবিঁও আক্ওয়া-বিন্ অফীহা-মা-তাশ্তাহীহিল্ আন্ফুসু অতালায্যুল্ আ’ইয়ুনু অআন্তুম্ ফীহা-খ-লিদূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৭১ স্বর্ণখচিত থালা ও পানপাত্র নিয়ে তাদেরকে প্রদক্ষিণ করা হবে, সেখানে মন যা চায় আর যাতে চোখ তৃপ্ত হয় তা-ই থাকবে এবং সেখানে তোমরা হবে স্থায়ী।

وَتِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِي أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ43.72

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৭২। অতিল্কাল্ জ্বান্নাতুল্লাতী য় ঊরিছ্তুমূহা-বিমা-কুন্তুম্ তা’মালূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৭২ আর এটিই জান্নাত, নিজদের আমলের ফলস্বরূপ তোমাদেরকে এর অধিকারী করা হয়েছে।

لَكُمْ فِيهَا فَاكِهَةٌ كَثِيرَةٌ مِنْهَا تَأْكُلُونَ43.73

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৭৩। লাকুম্ ফীহা-ফা-কিহাতুন্ কাছীরতুম্ মিন্হা-তাকুলূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৭৩ সেখানে তোমাদের জন্য রয়েছে অনেক ফলমূল, যা থেকে তোমরা খাবে।

إِنَّ الْمُجْرِمِينَ فِي عَذَابِ جَهَنَّمَ خَالِدُونَ 43.74

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৭৪। ইন্নাল্ মুজ্ব রিমীনা ফী ‘আযা-বি জ্বাহান্নামা খ-লিদূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৭৪ নিশ্চয় অপরাধীরা জাহান্নামের আযাবে স্থায়ী হবে;

لَا يُفَتَّرُ عَنْهُمْ وَهُمْ فِيهِ مُبْلِسُونَ43.75

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৭৫। লা-ইয়ুফাত্তারু ‘আন্হুম্ অহুম্ ফীহি মুব্লিসূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৭৫ তাদের থেকে আযাব কমানো হবে না এবং তাতে তারা হতাশ হয়ে পড়বে।

وَمَا ظَلَمْنَاهُمْ وَلَكِنْ كَانُوا هُمُ الظَّالِمِينَ43.76

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৭৬। অমা-জোয়ালাম্না-হুম্ অলা-কিন্ কা-নূ হুমুজ্ জোয়া-লিমীন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৭৬ আর আমি তাদের উপর যুলম করিনি; কিন্তু তারাই ছিল যালিম।

وَنَادَوْا يَامَالِكُ لِيَقْضِ عَلَيْنَا رَبُّكَ قَالَ إِنَّكُمْ مَاكِثُونَ43.77

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৭৭। অনা-দাও ইয়া-মা-লিকু লিইয়াকদ্বি ‘আলাইনা-রব্বুক্; ক্ব-লা ইন্নাকুম্ মা-কিছূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৭৭ তারা চিৎকার করে বলবে, ‘হে মালিক, তোমার রব যেন আমাদেরকে শেষ করে দেন’। সে বলবে, ‘নিশ্চয় তোমরা অবস্থানকারী’।

لَقَدْ جِئْنَاكُمْ بِالْحَقِّ وَلَكِنَّ أَكْثَرَكُمْ لِلْحَقِّ كَارِهُونَ43.78

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৭৮। লাক্বদ্ জ্বিনা-কুম্ বিল্হাকক্বি অলা-কিন্না-আক্ছারকুম্ লিল্হাক্ব্ক্বি ক্ব-রিহূ ন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৭৮ ‘অবশ্যই তোমাদের কাছে আমি সত্য নিয়ে এসেছিলাম; কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই ছিলে সত্য অপছন্দকারী ।

أَمْ أَبْرَمُوا أَمْرًا فَإِنَّا مُبْرِمُونَ43.79

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৭৯। আম্ আব্রমূ য় আম্রান্ ফাইন্না-মুব্রিমূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৭৯ নাকি তারা কোন ব্যাপারে পাকা সিদ্ধান্ত নিয়েছে? নিশ্চয় আমি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তকারী।

أَمْ يَحْسَبُونَ أَنَّا لَا نَسْمَعُ سِرَّهُمْ وَنَجْوَاهُمْ بَلَى وَرُسُلُنَا لَدَيْهِمْ يَكْتُبُونَ43.80

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৮০। আম্ ইয়াহ্সাবূনা আন্না-লা-নাস্মাউ’ র্সিরাহুম্ অনাজ্ব্ ওয়া-হুম্; বালা-অরুসূলুনা- লাদাইহিম্ ইয়াক্তুবূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৮০ না কি তারা মনে করে, আমি তাদের গোপনীয় বিষয় ও নিভৃত সলাপরামর্শ শুনতে পাই না? অবশ্যই হ্যাঁ, আর আমার ফেরেশতাগণ তাদের কাছে থেকে লিখছে।

قُلْ إِنْ كَانَ لِلرَّحْمَنِ وَلَدٌ فَأَنَا أَوَّلُ الْعَابِدِينَ 43.81

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৮১। কুল্ ইন্ কা-না র্লিরহ্মা-নি অলাদুন্ ফাআনা আওয়্যালুল্ ‘আ-বিদীন্। বাংলা অনুবাদ ৪৩.৮১ বল, ‘রহমানের যদি সন্তান থাকত তবে আমি প্রথম তাঁর ইবাদাতকারী হতাম।

سُبْحَانَ رَبِّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبِّ الْعَرْشِ عَمَّا يَصِفُونَ43.82

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৮২। সুব্হা-না রব্বিস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বি রব্বিল্ ‘আরশি ‘আম্মা- ইয়াছিফূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৮২ তারা যা আরোপ করে, আসমানসমূহ ও যমীনের রব এবং আরশের রব তা থেকে পবিত্র-মহান।

فَذَرْهُمْ يَخُوضُوا وَيَلْعَبُوا حَتَّى يُلَاقُوا يَوْمَهُمُ الَّذِي يُوعَدُونَ43.83

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৮৩। ফার্যাহুম্ ইয়াখূদ্বু অ ইয়াল্‘আবূ হাত্তা- ইয়ুলা-ক্বূ ইয়াওমা হুমুল্ লাযী ইয়ূ‘আদূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৮৩ অতএব তাদেরকে ছেড়ে দাও, তারা মগ্ন থাকুক বেহুদা কথায় আর খেল-তামাশায় মত্ত থাকুক যতক্ষণ না সেদিনের সাথে তারা সাক্ষাৎ করে যার প্রতিশ্রুতি তাদেরকে দেয়া হয়েছে।

وَهُوَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ إِلَهٌ وَفِي الْأَرْضِ إِلَهٌ وَهُوَ الْحَكِيمُ الْعَلِيمُ43.84

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৮৪। অহুওয়াল্ লাযী ফিস্ সামা-য়ি ইলা-হুঁও অফীল্ র্আদ্বি ইলা-হ্; অহুওয়াল্ হাকীমুল্ ‘আলীম্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৮৪ আর তিনিই আসমানে ইলাহ এবং তিনিই যমীনে ইলাহ; আর তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।

وَتَبَارَكَ الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَعِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ43.85

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৮৫। অ তাবা-রাকাল্লাযী লাহূ মুল্কুস্ সামা-ওয়া-তিঅল্ র্আদ্বি অমা-বাইনা হুমা-অই’ন্দাহূ ই’ল্মুস্ সা-‘আতি অ ইলাইহি র্তুজ্বা‘ঊন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৮৫ আর তিনি বরকতময়, যার কর্তৃত্বে রয়েছে আসমানসমূহ, যমীন ও এ দু’য়ের মধ্যবর্তী সবকিছু আর কিয়ামতের জ্ঞান কেবল তাঁরই আছে এবং তাঁরই নিকট তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে।

وَلَا يَمْلِكُ الَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ الشَّفَاعَةَ إِلَّا مَنْ شَهِدَ بِالْحَقِّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ 43.86

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৮৬। অলা-ইয়াম্লিকুল্ লাযীনা ইয়াদ্ঊ’না মিন্ দূনিহিশ্ শাফা- ‘আতা ইল্লা-মান্ শাহিদা বিল্ হাকক্বি অহুম্ ইয়া’লামূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৮৬ আর তিনি ছাড়া যাদেরকে তারা আহবান করে তারা সুপারিশের মালিক হবে না; তবে তারা ছাড়া যারা জেনে-শুনে সত্য সাক্ষ্য দেয় ।

وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَهُمْ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ فَأَنَّى يُؤْفَكُونَ43.87

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৮৭। অলায়িন্ সায়াল্তাহুম্ মান্ খলাক্বহুম্ লাইয়াকুলু ন্নাল্লা-হু ফাআন্না-ইয়ুফাকূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৮৭ আর তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, কে তাদেরকে সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে, ‘আল্লাহ।’ তবু তারা কীভাবে বিমুখ হয়?

وَقِيلِهِ يَا رَبِّ إِنَّ هَؤُلَاءِ قَوْمٌ لَا يُؤْمِنُونَ43.88

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৮৮। অ ক্বীলিহী ইয়া-রব্বি ইন্না হা য় য়ুলা-য়ি ক্বওমুল্লা-ইয়ুমিনূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৮৮ আর তার (রাসূলের) বাণী ‘হে আমার রব, নিশ্চয় এরা এমন কওম যারা ঈমান আনবে না।’

فَاصْفَحْ عَنْهُمْ وَقُلْ سَلَامٌ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ 43.89

আরবি উচ্চারণ ৪৩.৮৯। ফাছ্ফাহ্ ‘আন্হুম্ অকুল্ সালা-ম্; ফাসাওফা ইয়া’লামূন্।

বাংলা অনুবাদ ৪৩.৮৯ অতএব তুমি তাদেরকে এড়িয়ে চল এবং বল, ‘সালাম’; তবে তারা শীঘ্রই জানতে পারবে। গ্রন্থনা : মাওলানা মিরাজ রহমান

আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ

    প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে ইমেল : info@banglanewsexpress.com

    আমরা আছি নিচের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে ও

    Leave a Comment