সূরা মারইয়াম সকল তথ্য আল কোরআন ও হাদিসের আলোতে,পৃথিবীর জানা অজানা কিছু তথ্য আল মারইয়াম আলমল ও ফজিলত, সূরা মারইয়াম কতো বার পাঠ করলে কোন আলম ও ফজিলত, সূরা মারইয়াম নাযিলের কারন গুলো কি কি ,কুরআন ১৯ সূরা আল – মারইয়াম

আজকের বিষয়: সূরা মারইয়াম সকল তথ্য আল কোরআন ও হাদিসের আলোতে,পৃথিবীর জানা অজানা কিছু তথ্য আল মারইয়াম আলমল ও ফজিলত, সূরা মারইয়াম কতো বার পাঠ করলে কোন আলম ও ফজিলত, সূরা মারইয়াম নাযিলের কারন গুলো কি কি ,কুরআন ১৯ সূরা আল – মারইয়াম

পৃথিবীর ইতিহাসে সবচে সুন্দর ও সফল চরিত্রের অধিকারী ছিলেন নবী রাসূলগণ। তাদের চরিত্র মাধুর্যের সংস্পর্শে মানুষ পেয়েছে শান্তি ও মুক্তির পথ। তাদের সেই সুন্দর চরিত্রের বর্ণনা রয়েছে কোরআন ও হাদিসে। 

মহান আল্লাহ তাদের এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যে, তাদের ভেতরে মনুষ্য চরিত্রের সকল ভালো দিকগুলোর সমাবেশ ঘটিয়েছেন। একেক জন নবী ছিল আদর্শ ভদ্র, সভ্য ও মোহনীয় চরিত্রের স্থায়ী পিরামিড। তাদের ব্যবহারে শত্রুও অভিযোগ উঠাতে পারেনি, তাদের আচরণে সমাজের কেউ কষ্ট পায়নি। তাদের চলাফিরায় কোনো পথিক দুঃখবোধ করেনি। তাদের ক্রয়বিক্রয়ে কোনো ক্রেতা বিক্রেতাও সমালোচনা করতে পারেনি। তাদের হাসিতের কেউ বিদ্রুপের রেশ পায়নি। তাদের চলনে বলনে কথনে শয়নে স্বপনে কেউ আহত হয়নি।

তবে হ্যাঁ, অনেকে আহত হয়েছে; যাদের আহত হওয়াটাও সুন্দর চরিত্রের দাবি ছিল। নবীদের সেই চরিত্রগুলো কোরআনুল কারিমে মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্য সুন্দরভাবে বর্ণনা করে দিয়েছেন। সেই চরিত্রগুলো আমরা নম্বরওয়ারি বিন্যাস করেছি। সেই বিন্যাসের নাম দিয়েছি নবীচরিত। আজকে প্রথম পর্ব…

ذِكْرُ رَحْمَةِ رَبِّكَ عَبْدَهُ زَكَرِيَّا
তরজমা : কাফ, হা, ইয়া, আইন, সোয়াদ। এটা সেই রহমতের বর্ণনা, যা তোমার প্রতিপালক নিজ বান্দা যাকারিয়ার প্রতি করেছিলেন (সূরা: মারইয়াম, আয়াত: ২)।

১ নম্বর গুণ- সদাসর্বদা অন্তরে আল্লাহকে স্মরণ রাখা। 

ব্যাখ্যা : নবী রাসূলগণ আল্লাহর মেহেরবানিকে কখনো ভুলতেন না। আল্লাহর রহমত বরকতের রূপকাঠামো অন্তরে সদা সর্বদা হাজির রাখতেন। নবী রাসূলদের অন্যতম চরিত্র বৈশিষ্ট্য- অন্তর জিহ্বা কখনো আল্লাহর স্মরণ হতে ফারেগ হতো না। কখনো তাদের অন্তর আল্লাহর শোকর মুক্ত থাকতো না।  

২নম্বর গুণ- আল্লাহর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক রাখা, তার সম্পর্ককে প্রাধান্য দেয়া। 

ব্যাখ্যা : সমস্ত ভালো গুণাবলির দ্বারা নিজেকে সাজানো। আল্লাহর সামনে বিনয় দুর্বলতা অসহায়ত্ব প্রকাশ করা। এর দ্বারা বান্দার অন্তরে মাওলাপ্রেম বৃদ্ধি পায়। কেননা মাওলার প্রতি প্রবল দুর্বল হওয়া মেরাজ মনে করা হয়। আল্লাহর সঙ্গে সর্ম্পকের দরুন সে অনেক উপরে উঠে যায়। তাই, তাদের এ অবস্থা দেখে কেউ যেন তাদের কামালাতকে ভুল না বুঝে। 

إِذْ نَادَى رَبَّهُ نِدَاء خَفِيًّا
তরজমা : যখন নিজে প্রতিপালকের ডেকেছিল চুপিসারে (সূরা: মারইয়াম, আয়াত: ৩)।

৩ নম্বর গুণ – আল্লাহকে স্মরণ করার আদব।

ব্যাখ্যা : আল্লাহর দরবার কোনো সাধারণ বিষয় নয়। তাই, আবেদন পেশ করার সময়বহু বিষয়ের প্রতি নজর রাখতে হয়। চুপিচুপি ডরে ভয়ে আস্তে ধীরে দাবি দাওয়া পেশ করা। যাতে মাওলা নারাজ না হন।

قَالَ رَبِّ إِنِّي وَهَنَ الْعَظْمُ مِنِّي وَاشْتَعَلَ الرَّأْسُ شَيْبًا وَلَمْ أَكُن بِدُعَائِكَ رَبِّ شَقِيًّا
তরজমা : সে বলেছিল, হে আমার প্রতিপালক! আমার অস্থিরাজি পর্যন্ত জীর্ণ হয়ে গেছে, মাথায় বার্ধক্যজনিত শুভ্রতা প্রজ্জলিত হয়ে উঠেছে এবং হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করে কখনো ব্যর্থ হয় নি। (সূরা: মারইয়াম, আয়াত: আয়াত: ৪)। 

৪ নম্বর গুণ- বার্ধক্য আর দুর্বলতার কথা আল্লাহর দরবারে এভাবে প্রকাশ করা যেন নিজের অক্ষমতা ও অসহায়ত্ব প্রকাশ পায়। 

ব্যাখ্যা : নিজের শরীরের দুর্বলতা এবং বার্ধক্য আল্লাহর সামনে এভাবে বর্ণনা করা যেন বিনয় নম্রতা এবং অক্ষমতার চূড়ান্ত সীমা প্রকাশ পায়। দুর্বলতা অক্ষমতা দেখলে আল্লাহর রহমতে জোশ আসে।

৫ নম্বর গুণ- আল্লাহর রহমত হতে কখনো নিরাশ না হওয়া এবং প্রবলভাবে দোয়া কবুলের পূর্ণ আশা রাখা। 

ব্যাখ্যা- কখনো কখনো মানুষের দোয়া কবুল হতে বিলম্ব হতে থাকে তখন সে সীমাহীন পেরেশানিতে পড়ে যায়। ওই সময়েও আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ না হওয়া। আল্লাহর রহমত মাকবুল বান্দাদের নিকটবর্তি আর নৈরাশ্যতা কুফরির নিকটবর্তী। তাই দয়া কবুলে ব্যাপারে সদাসর্বদা দৃঢ় আশা রাখা এবং আগত বিপদ আপদে ধৈর্য ধারণ করা 

وَإِنِّي خِفْتُ الْمَوَالِيَ مِن وَرَائِي وَكَانَتِ امْرَأَتِي عَاقِرًا فَهَبْ لِي مِن لَّدُنكَ وَلِيًّا
তরজমা- আমি আমার পর চাচাতো ভাইদের ব্যাপারে শঙ্কাবোধ করছি এবং আমার স্ত্রী বন্ধ্যা। সুতরাং আপনি আপনার নিকট থেকে আমাকে এমন এক উত্তরাধিকারী দান করুন। (সূরা: মারইয়াম, আয়াত: ৫)। 

৬নম্বর গুণ- আল্লাহ থেকে তার নেয়ামত চাও।

ব্যাখ্যা : পৃথিবী জুড়ে আল্লাহর নেয়ামত রাজি সর্বদা বর্ষিত হতে থাকে কিন্তু আল্লাহর কাছে পছন্দ হচ্ছে- বান্দা তার প্রয়োজন পূরণার্থে আল্লাহর সামনে নিজের হাজত অসুবিধা পেশ করবে। আর তিনি তাদেরকে মালে দৌলত পূর্ণ করে দেবে। এই কারণে আল্লাহর বড়ত্বের কাছে সদাসর্বদা ভিক্ষার হাত প্রসারিত করা এবং তার দান দক্ষিণার আশা করা। এটাই ছিল আওয়ালিয়াদের চরিত্র। 

يَرِثُنِي وَيَرِثُ مِنْ آلِ يَعْقُوبَ وَاجْعَلْهُ رَبِّ رَضِيًّا
তরজমা : যে আমারো উত্তারাধিকারী হবে এবং ইয়াকুব (আ.) এরও উত্তারাধিকার লাভ করবে। হে আমার প্রতিপালক! তাকে এমন বানান যেন (আপনার নিজেরও) সন্তুষ্টপ্রাপ্ত হবে।  (সূরা: মারইয়াম, আয়াত: ৬)। 

৭নম্বর গুণ- আল্লাহর সন্তুষ্টিকে ‘জীবনের লক্ষ’ বানানোই জীবনের রূপ সৌন্দর্য ও পরিপূর্ণতার আলামত।

ব্যাখ্যা : আনুগত্য করা এবং বান্দার ইবাদতের মূল উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি। তার ইবাদত বন্দেগি। আর বন্দেগির পূর্ণতা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি। জীবনের চরিত্র মাধুর্য, আমালের সৌন্দর্য ও কামালাতের দ্বারা বান্দা আল্লাহর প্রিয় পাত্রে পরিণত হয়। এ কারণে আল্লাহর রেজা তবল করা, হাসিল করা, জীবনের মাকসাদ বানানো উচিৎ।  

قَالَ رَبِّ أَنَّى يَكُونُ لِي غُلامٌ وَكَانَتِ امْرَأَتِي عَاقِرًا وَقَدْ بَلَغْتُ مِنَ الْكِبَرِ عِتِيًّا
তরজমা- যাকারিয়া বলল- হে আমার প্রতিপালক! আমার কীভাবে পুত্র সন্তান জন্ম নিবে। যখন আমার স্ত্রী বন্ধ্যা এবং আমি এমন বার্ধক্যে উপনীত হয়েছি যে, আমার দেহ শুকিয়ে গেছে। (সূরা: মারইয়াম, আয়াত: ৮)। 

৮ নম্বর গুণ- আল্লাহর দান নেয়ামত, নিদর্শন এবং তার সৃষ্টিতে চিন্তা ফিকির করা। 

ব্যাখ্যা : অজানা বিষয়ের ওপর আল্লাহর সাহায্য। যেখানে প্রকাশ্য কোনো উপায় উপকরণ নেই, নেই বাহ্যিক কোনো সুরুত সেখানে তার সাহায্য। অসম্ভব বস্তুকে সম্ভব করে দেয়ার ওপর গভীর চিন্তা ভাবনা করা।

قَالَ كَذَلِكَ قَالَ رَبُّكَ هُوَ عَلَيَّ هَيِّنٌ وَقَدْ خَلَقْتُكَ مِن قَبْلُ وَلَمْ تَكُ شَيْئًا
তরজমা- তিনি বললেন, এভাবেই হবে। (এটাতো আশ্চার্যের কোনো বিষয় নয়) তোমার প্রতিপালক বলেছেন, এটাতো আমার পক্ষে সাধারণ ব্যাপার। তাছাড়া এর আগে আমি তোমাকেও সৃষ্টি করেছি; যখন তুমি কিছুই ছিলে না। (সূরা: মারইয়াম, : আয়াত: ৯)। 

৯ নম্বর গুণ- প্রথমে নিজের অস্তিত্বহীনতা অতঃপর অস্তিত্বে আসা’ এই বিষয়টি চিন্তা-ভাবনা করলে পরিষ্কার হয়ে যায় যে, সবকিছু আল্লাহর পক্ষ হতে এবং তিনিই করেন। 

ব্যাখ্যা : চিন্তা-ভাবনা করার দ্বারা অন্তরে একথা স্পষ্ট হয়ে যায় যে পৃথিবীর সব কাজ আল্লাহর হাত দ্বারা, তিনি সব বিষয়ের ওপর সক্ষমতা রাখেন। কোনো বস্তুকে অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্ব আনার বেলায় অন্য কারো যখন কারো কোনো সাধ্য না থাকে, তিনি শুধু ‘কুন’ বলেন, অতপর ফায়াকুন বস্তু অস্তিত্বে এসে যায়। এমন সত্তার জন্য কোনো বস্তুর ধ্বংস অধ্বংস কী কঠিন ব্যাপার? একারণে এ বিশ্বাস ও  চেতনা সমৃদ্ধ করে নেয়া যে আল্লাহর সব পারেন করেন বা করান।  

قَالَ رَبِّ اجْعَل لِّي آيَةً قَالَ آيَتُكَ أَلاَّ تُكَلِّمَ النَّاسَ ثَلاثَ لَيَالٍ سَوِيًّا
তরজমা- যাকারিয়া বলল হে আমার প্রতিপালক আমার জন্য কোনো নিদর্শন স্থির করে দিন, তিনি বললেন তোমার নিদর্শন হলো তুমি সুস্থ থাকা সত্তেও তিন রাত পর্যন্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারবে না। (সূরা: মারইয়াম, আয়াত: ১০)। 

১০ নম্বর গুণ- আল্লাহর নিদর্শনের পরিচয় লাভ করা। 

ব্যাখ্যা : অজানা বিষয় প্রকাশের পূর্বে কিছু আলামত ও নিদর্শন প্রকাশ পায়। যা ওই ঘটনার গুরুত্ব বহন করে। এর দ্বারা আল্লাহর বান্দাগণ আল্লাহর মারেফাত লাভ করে। যা তার ইয়াকিন ও তৌহিদকে শক্তিশালী করে তোলে।

আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে নাজরান নামক জায়গায় পাঠালেন। সে অঞ্চলের [খৃষ্টান] অধিবাসীরা আমাকে বললো, তোমরা কি পাঠ কর না : “হে হারূনের বোন”- [সূরা মারইয়াম ২৮]? অথচ মূসা ও ঈসা [আঃ]- এর মাঝখানে সময়ের যে ব্যবধান ছিল তাতো জানা কথা। তাহাদের এ প্রশ্নের কি জবাব যে আমি দিতে পারি তা আমি বুঝতে পারিনি। আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]- এর নিকট ফিরে এসে তাঁকে এ বিষয়ে জানালাম। তিনি বললেনঃ তুমি তাহাদেরকে এতটুকুও কি জানাতে পারলে না যে, তারা [বানী ইসরাঈল] নিজেদের নাম রাখতো তাহাদের পূর্ববর্তী নাবী-রাসূল ও মহান ব্যক্তিদের নামানুসারে।

হাসান : মুখতাসার তুহফাতুল ওয়াদুদ। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। আমরা এ হাদীস শুধু ইবনি ইদরীসের সূত্রেই জেনেছি।  সূরা মারিয়াম তাফসির – এই হাদিসটির তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৩১৫৬. আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] পাঠ করিলেন : “তাহাদেরকে সেদিনের ভয় দেখাও, যেদিন চূড়ান্ত ফায়সালা করা হইবে এবং পরিতাপ করা ব্যতীত আর কোন বিকল্প থাকিবে না”- [সূরা মারইয়াম ৩৯]। তিনি বললেনঃ [কিয়ামাত্বের দিন লোকদের সামনে] মৃত্যুকে হাযির করা হইবে, যেন তা সাদা ও কালো মিশ্রিত বর্ণের একটি মেষ। এটাকে জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝের প্রাচীরের সাথে দাঁড় করিয়ে বলা হইবে, হে জান্নাতের অধিবাসীগণ, শোন। তারা মাথা তুলবে। তারপর বলা হইবে, হে জাহান্নামের বাসিন্দারা শোন। তারাও মাথা তুলবে। তারপর বলা হইবে, তোমরা কি এটাকে চিনতে পেরেছ? তারা বলবে, হ্যাঁ, এটা মৃত্যু। তারপর এটাকে শুইয়ে যবেহ করা হইবে। আল্লাহ তাআলা যদি জান্নাতবাসীদের সেখানে চিরস্থায়ী জীবনের মীমাংসা না করিতেন, তাহলে তারা [এ দৃশ্য দেখে] আনন্দের আতিশয্যে মারা যেত। আল্লাহ তাআলা যদি জাহান্নামীদের সেখানে চিরস্থায়ী জীবনের মীমাংসা না করিতেন, তাহলে তারাও [এ দৃশ্য দেখে] অনুশোচনা ও অনুতাপ করিতে করিতে মারা যেত।

“আল্লাহ তাআলা যদি জান্নাতীদের সেখানে চিরস্থায়ী জীবনের ফায়সালা না করিতেন…” অংশ ব্যতীত হাদীসটি সহীহ। বোখারি, মুসলিম, দেখুন ২৫৫৮ নং হাদীস। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। সূরা মারিয়াম তাফসির – এই হাদিসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩১৫৭. ক্বাতাদাহ [রঃ]হইতে বর্ণীতঃ

আল্লাহ তাআলার বাণী : “আর আমরা তাকে উচ্চতর স্থানে উন্নীত করেছি”- [সূরা মারইয়াম ৫৭] প্রসঙ্গে তিনি [কাত্বাদাহ] বলেন, আমাদের নিকট আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] বর্ণনা করিয়াছেন, নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আমাকে যখন মিরাজে নিয়ে যাওয়া হয় আমি তখন ইদরীস [আঃ]- চতুর্থ আসমানে দেখেছি।

সহীহ : মুসলিম [১/১০০], দীর্ঘ বর্ণনা। আবু সাঈদ [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। সাঈদ ইবনি আবী আরূবা- হাম্মাম প্রমুখ-ক্বাতাদাহ হইতে, তিনি আনাস হইতে, তিনি মালিক ইবনি সাসাআহ [রাদি.]-এর সূত্রে নাবী [সাঃআঃ] হইতে মিরাজের হাদীসটি দীর্ঘ আকারে বর্ণনা করিয়াছেন। আমার মতে এটি তারই সংক্ষিপ্তরূপ।  সূরা মারিয়াম তাফসির – এই হাদিসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩১৫৮. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, জিবরীল [আঃ]-কে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ আপনি যে কতবার আমাদের সাথে সাক্ষাৎ করেন তার বেশি সাক্ষাৎ করিতে কিসে আপনাকে বাধা দেয়? রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয় [অনুবাদ] : “আপনার রবের নির্দেশ ব্যতীত আমরা অবতীর্ণ হই না। আমাদের যা কিছু সম্মুখে আছে, আমাদের পিছনে যা কিছু আছে এবং এ দুয়ের মাঝখানে যা কিছু আছে, সে সবের প্রভু তিনিই। আপনার প্রতিপালক কখনো ভুলে যান না” [সূরা মারইয়াম ৬৪]।

সহীহ : বোখারি [৪৭৩১]। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। হুসাইন ইবনি হুরাইস ওয়াকী হইতে তিনি আমর ইবনি যার হইতে এই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন।  সূরা মারিয়াম তাফসির – এই হাদিসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩১৫৯. সুদ্দী [রঃ]হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মুররা আল-হামদানীকে আমি প্রশ্ন করলাম, আল্লাহ তাআলার এ বাণী প্রসঙ্গে : “তোমাদের মাঝে এমন কোন ব্যক্তি নেই যে জাহান্নামের উপর দিয়ে অতিক্রম করিবে না”- [সূরা মারইয়াম ৭১]। তিনি আমাকে হাদীস বর্ণনা করে শুনান যে, আবদুল্লাহ ইবনি মাসঊদ [রাদি.] তাহাদেরকে হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন এবং বলেছেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আগুনের উপর দিয়ে লোকজন অতিক্রম করিবে এবং যার যার কৃতকর্ম মোতাবেক তা অতিক্রম করিতে থাকিবে। বিজলি চমকানোর মতো তাহাদের প্রথম দল দ্রুত অতিক্রম করে যাবে। পরবর্তী দলটি বাতাসের বেগে, তারপর দ্রুতগামী ঘোড়ার বেগে, তারপর উষ্ট্রারোহীর বেগে, তারপর মানুষের দৌড়ের গতিতে, তারপর হেটে চলার গতিতে অতিক্রম করিবে।

সহীহ : সহীহাহ [৩১১]। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। এ হাদীস সুদ্দীর সূত্রে শুবাহ [রঃ]বর্ণনা করিয়াছেন, কিন্তু এটাকে তিনি মারফূরূপে বর্ণনা করেননি।  সূরা মারিয়াম তাফসির – এই হাদিসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩১৬০. আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আল্লাহ তাআলার বাণী : “তোমাদের সকলকেই তার উপর দিয়ে পার হইতে হইবে”- [সূরা মারইয়াম ৭১] প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লোকেরা ক্বিয়ামাত দিবসে তার [পুলসিরাত] উপর দিয়ে পার হইবে। তারা এটা পার হইবে নিজ নিজ কৃতকর্ম মোতাবেগ [বিভিন্ন গতিবেগে]।

সহীহ : মাওকূফ তবে মারফূ এর মতই তার হুকুম। মুহাম্মাদ ইবনি বাশশার-আবদুর রহমান ইবনি মাহদী হইতে, তিনি শুবাহ হইতে, তিনি সুদ্দী [রঃ]হইতে উপরের হাদীসের মতো বর্ণনা করিয়াছেন। আবদুর রহমান বলেন, আমি শুবাহকে বললাম, উল্লিখিত হাদীসটি ইসরাঈল আমাকে সুদ্দীর সূত্রে, তিনি মুররার সূত্রে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনি মাসঊদ [রাদি.]-এর সূত্রে, তিনি নাবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। শুবাহ [রঃ]বলেন, আমি এ হাদীস সুদ্দীর নিকট মারফূভাবেই শুনিয়াছি। কিন্তু আমি ইচ্ছাকৃতভাবেই [মারফূ হিসেবে বর্ণনা করা] ত্যাগ করেছি।  সূরা মারিয়াম তাফসির – এই হাদিসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩১৬১. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কোন বান্দাকে যখন আল্লাহ তাআলা ভালোবাসেন তখন জিবরীলকে ডেকে বলেনঃ আমি অমুক ব্যক্তিকে ভালবাসি। অতএব তুমিও তাকে ভালবাস। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ আসমানবাসীদের মধ্যে জিবরীল তখন [এ কথা] ঘোষণা করেন। তারপর যমীনবাসীদের অন্তরে তার জন্য ভালবাসা অবতীর্ণ হয়। এটাই আল্লাহ তাআলার বাণীর মধ্যে ফুটে উঠেছেঃ “যারা ঈমান আনায়ন করেছে এবং উত্তম কার্য সম্পাদন করেছে খুব শীঘ্রই দয়াময় রহমান [লোকদের অন্তরে তাহাদের প্রতি] ভালবাসার উদ্রেক করবেন”।–[সূরা মারইয়াম ৯৬]। অপর দিকে যখন আল্লাহ তাআলা কাউকে ঘৃণা করেন তখন জিবরীলকে ডেকে বলেনঃ আমি অমুককে ঘৃণা করি। জিবরীল তখন আসমানবাসীদের মধ্যে এটা ঘোষণা করেন। তারপর যমীনের অধিবাসীদের মনে তার জন্যে ঘৃণা অবতীর্ণ হইতে থাকে।

সহীহঃ যঈফাহ [২২০৭] নং হাদীসের অধীনে। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি আবদুর রহমান ইবনি আবদুল্লাহ ইবনি দীনার [রঃ]তার বাবা হইতে, তিনি আবু সালিহ হইতে, তিনি আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে, তিনি নাবী [সাঃআঃ] হইতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণনা করিয়াছেন।  সূরা মারিয়াম তাফসির – এই হাদিসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩১৬২. মাসরূক [রঃ]হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, খাব্বার ইবনিল আরাত্তি [রাদি.]-কে আমি বলিতে শুনেছিঃ আমার একটি স্বত্ত্ব আস ইবনি ওয়ায়িল আস-সাহমীর যিম্মায় ছিল। এ ব্যাপারে তাগাদা দেয়ার উদ্দেশ্যে আমি তার নিকট আসলাম। সে বলল, যে পর্যন্ত তুমি মুহাম্মাদের নবুওয়াত অস্বীকার না করিবে, সে পর্যন্ত আমি তোমার স্বত্ত্ব ফিরিয়ে দিব না। আমি বললাম, তুমি মৃত্যুর পর ক্বিয়ামত দিবসে আবার জীবিত হয়ে না উঠা পর্যন্ত তা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। সে বলল, আমি মৃত্যুবরণ করব এবং আবার জীবিত হব? আমি বললাম, হ্যাঁ। সে বলল, তাহলে আমার ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিও সেখানে থাকিবে আর সেখানে তোমার পাওনাটা ফিরিয়ে দিব। এই কথার পরিপ্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হয়ঃ “তুমি কি সেই লোককে দেখেছ, যে আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছে এবং সে বলেছে, আমাকে তো ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে ধন্য করা হইবে”-[সূরা মারইয়াম ৭৭]।

সহীহঃ বোখারি [৪৭৩২], মুসলিম। হান্নাদ-আবু মুআবিয়াহ হইতে, তিনি আমাশ [রঃ]হইতে উপরের হাদীসের মতই বর্ণনা করিয়াছেন। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।  সূরা মারিয়াম তাফসির – এই হাদিসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদিস



আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ

নামকরণ

() আয়াত থেকে সূরাটির নাম গ্রহণ করা হয়েছে। এর মানে হচ্ছে, এমন সূরা যার মধ্যে হযরত মার্য়ামের কথা বলা হয়েছে।

নাযিলের সময়-কাল

হাবশায় হিজরাতের আগেই সূরাটি নাযিল হয়। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য হাদীস থেকে জানা যায়, মুসলিম মুহাজিরদরকে যখন হাবশায় শাসক নাজ্জাশীর দরবারে ডাকা হয় তখন হযরত জাফর দরবারে উপস্থিত হয়ে এ সূরাটি তেলওয়াত করেন।

ঐতিহাসিক পটভূমি

যে যুগে এ সূরাটি নাযিল হয় সে সময়কার অবস্থা সম্পর্কে সূরা কাহ্ফের ভূমিকায় আমি কিছুটা ইংগিত করেছি। কিন্তু এ সূরাটি এবং এ যুগের অন্যান্য সূরাগুলো বুঝার জন্য এতটুকু সংক্ষিপ্ত ইংগিত যথেষ্ট নয়। তাই আমি সে সময়ের অবস্থা একটু বেশী বিস্তারিত আকারে তুলে ধরছি।

কুরাইশ সরদাররা যখন ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করে, লোভ-লালসা দেখিয়ে এবং ভয়-ভীতি ও মিথ্যা অপবাদের ব্যাপক প্রচার করে ইসলামী আন্দোলনকে দমাতে পারলো না তখন তারা জুলুম-নিপীড়ন, মারপিট ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার অস্ত্র ব্যবহার করতে লাগলো। প্রত্যেক গোত্রের লোকেরা নিজ নিজ গোত্রের নওমুসলিমদেরকে কঠোরভাবে পাকড়াও করতে থাকলো। তাদেরকে বন্দী করে, তাদের ওপর নানাভাবে নিপীড়ন নির্যাতন চালিয়ে, তাদেরকে অনাহারে রেখে এমনকি কঠোর শারীরিক নির্যাতনের যাঁতাকালে নিষ্পেষিত করে ইসলাম ত্যাগ করার জন্য বাধ্য করার প্রচেষ্টা চালাতে থাকলো। এই নির্যাতনে ভয়ংকরভাবে পিষ্ট হলো বিশেষ করে গরীব লোকেরা এবং দাস ও দাসত্বের বন্ধনমুক্ত ভৃত্যরা। এসব মুক্তিপ্রাপ্ত গোলাম কুরাইশদের আশ্রিত ও অধীনস্থ ছিল। যেমন বেলাল (রা) আমের ইবনে ফুহাইরাহ (রা), উম্মে ‘উবাইস(রা), যিন্নীরাহ (রা) আম্মার ইবনে ইয়াসীর (রা)ও তাঁর পিতামাতা প্রমুখ সাহাবীগণ। এদেরকে মেরে মেরে আধমরা করা হলো। কক্ষে আবদ্ধ করে খাদ্য ও পানীয় থেকে বঞ্চিত করা হলো। মক্কার প্রখর রোদ্রে উত্তপ্ত বালুকারাশির ওপর তাদেরকে শুইয়ে দেয়া হতে থাকলো। বুকের ওপর প্রকাণ্ড পাথার চাপা অবস্থায় সেখানে তারা ঘন্টার পর ঘন্টা কাতরাতে থাকলো। যারা পেশাজীবী ছিল তাদেরকে দিয়ে কাজ করিয়ে পারিশ্রমিক দেবার ব্যাপারে পেরেশান করা হতে থাকলো। বুখারী ও মুসলিমে হযরত খাব্বাব ইবনে আরতের (রা) রেওয়াতে বলা হয়েছেঃ

“আমি মক্কায় কর্মকারের কাজ করতাম। আস ইবনে ওয়ায়েল আমার থেকে কাজ করিয়ে নিল। তারপর যখন আমি তার কাছে মজুরী আনতে গেলাম, সে বললো, যতক্ষণ তুমি মুহাম্মাদকে (সা) অস্বীকার করবে না ততক্ষণ আমি তোমার মজুরী দেবো না”।

এভাবে যারা ব্যবসা করতো তাদের ব্যবসা নষ্ট করার প্রচেষ্টা চালানো হতো। যারা সমাজে কিছু মানমর্যাদার অধিকারী ছিল তাদেরকে সর্বপ্রকারে অপমানিত ও হেয় করা হতো। এই যুগের অবস্থা বর্ণনা প্রসংগে হযরত খাব্বাব (রা) বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কা’বার ছায়ায় বসেছিলেন। আমি তাঁর কাছে গিয়ে বললাম “হে আল্লাহর রাসূল! এখন তো জুলুম সীমা ছড়িয়ে গেছে, আপনি আল্লাহর কাছে দোয়া করেন না?” একথা শুনে তাঁর পবিত্র চেহারা লাল হয়ে গেলো। তিনি বললেন, তোমাদের পূর্ববর্তী মু’মিনদের ওপর এর চেয়ে বেশী জুলুম নিপীড়ন হয়েছে। তাদের হাড়ের ওপর লোহার চিরুনী চালানো হতো। তাদেরকে মাথার ওপর করাত রেখে চিরে ফেলা হতো। তারপরও তারা নিজেদের দীন ত্যাগ করতো না। নিশ্চিতভাবে জেনে রাখো, আল্লাহ এ কাজটি সম্পন্ন করে ছাড়বেন, এমনকি এমন এক সময় আসবে যখন এক ব্যক্তি সান’আ থেকে হাদারামাউত পর্যন্ত নিশ্চিন্তে সফর করবে এবং তার আল্লাহ ছাড়া আর কারোর ভয় থাকবে না। কিন্তু তোমরা তাড়াহুড়া করছো”। (বুখারী)

এ অবস্থা যখন সহ্যের সীমা ছড়িয়ে গেলো তখন ৪৫ হস্তী বর্ষে (৫ নববী সন) নবী (সা) তাঁর সাহাবীদের বললেনঃ

———————————-

“তোমরা হাবশায় চলে গেলে ভালো হয়। সেখানে এমন একজন বাদশাহ আছেন যার রাজ্যে কারো প্রতি জুলুম হয় না। সেটি কল্যাণের দেশ। যতদিন পর্য়ন্ত না আল্লাহ তোমাদের এ বিপদ দূর করে দেন ততদিন তোমরা সেখানে অবস্থান করবে”।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ বক্তব্যের পর প্রথমে এগারো জন পুরুষ ও চারজন মহিলা হাবশার পথে রওয়ানা হন। কুরাইশের লোকেরা সমুদ্র উপকূল পর্যন্ত তাদের ধাওয়া করে যায়। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে শু’আইবা বন্দরে তাঁরা যথাসময়ে হাবশায় যাওয়ার নৌকা পেয়ে যান। এভাবে তারা গ্রেফতারীর হাত থেকে রক্ষা পান। তারপর কয়েক মাস পরে আরো কিছু লোক হিজরত করেন। এভাবে ৮৩ জন পুরুষ, ১১ জন মহিলা ও ৭ জন অ-কুরাইশী মুসলমান হাবশায় একত্র হয়ে যায়। এ সময় মক্কায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে মাত্র ৪০ জন মুসলমান থেকে গিয়েছিলেন।

এ হিজরতের ফলে মক্কার ঘরে ঘরে কান্নাকাটি শুরু হয়ে যায়। কারণ কুরাইশদের ছোট বড় পরিবারগুলোর মধ্যে এমন কোন পরিবারও ছিল না যার কোন একজন এ মুহাজিরদের দলভুক্ত ছিল না। কারোর ছেলে, কারোর জামাতা, কারোর মেয়ে, কারোর ভাই এবং কারোর বোন এই দলে ছিল। এই দলে ছিল আবু জেহেলের ভাই সালামাহ ইবনে হিশাম, তার চাচাত ভাই হিশাম ইবনে আবী হুযাইফা ও আইয়াশ ইবনে আবী রাবী’আহ এবং তার চাচাত বোন, হযরত উম্মে সালামাহ, আবু সুফিয়ানের মেয়ে উম্মে হাবীবাহ, উত্বার ছেলে ও কলিজা ভক্ষণকরিণী হিন্দার সহোদর ভাই আবু হুযাইফা এবং সোহাইল ইবনে আমেরের মেয়ে সাহলাহ। এভাবে অন্যান্য কুরাইশ সরদার ও ইসলামের সুপরিচিত শত্রুদের ছেলে মেয়েরা ইসলামের জন্য স্বগৃহ ও আত্মীয় স্বজনদের ত্যাগ করে বিদেশের পথে পাড়ি জমিয়েছিল। তাই এ ঘটনায় প্রভাবিত হয়নি এমন একি গৃহও ছিল না। এ ঘটনার ফলে অনেক লোকের ইসলাম বৈরিতা আগের চেয়ে বেড়ে যায়। আবার অনেককে এ ঘটনা এমনভাবে প্রভাবিত করে যার ফলে তারা মুসলমান হয়ে যায়। উদাহরণ স্বরূপ হযরত উমরের (রা) ইসলাম বৈরিতার ওপর এ ঘটনাটিই প্রথম আঘাত হানে। তাঁর একজন নিকট আত্মীয় লাইলা বিনতে হাশ্মাহ বর্ণনা করেনঃ আমি হিজরত করার জন্য নিজের জিনিসপত্র গোছগাছ করছিলাম এবং আমার স্বামী আমের ইবনে রাবী’আহ কোন কাজে বাইরে গিয়েছিলেন। এমন সময় উমর এলেন এবং দাঁড়িয়ে আমার ব্যস্ততা ও নিমগ্নতা দেখতে থাকলেন।। কিছুক্ষণ পর বললেন, “আবদুল্লাহর মা!চলে যাচ্ছো?” আমি বললাম, “আল্লাহর কসম! তোমরা আমাদের অনেক কষ্ট দিয়েছো। আল্লাহর পৃথিবী চারদিকে উন্মুক্ত, এখন আমরা এমন কোন জায়গায় চলে যাবো যেখানে আল্লাহ আমাদের শান্তি ও স্থিরতা দান করবেন”। একথা শুনে উমরের চেহারায় এমন কান্নার ভাব ফুটে উঠলো, যা আমি তার মধ্যে কখনো দেখিনি। তিনি কেবল এতটুকু বলেই চলে গেলেন যে, “আল্লাহ তোমাদের সহায় হোন”।

হিজরতের পরে কুরাইশ সরদাররা এক জোট হয়ে পরামর্শ করতে বসলো। তারা স্থির করলো, আবদুল্লাহ ইবনে আবী রাবী’আহ (আবু জাহেলের বৈপিত্রেয় ভাই) এবং আমর ইবনে আসকে মূল্যবান উপঢৌকন সহকারে হাবশায় পাঠানো হবে। এরা সেখানে গিয়ে এই মুসলমান মুহাজিরদেরকে মক্কায় ফেরত পাঠাবার জন্য হাবশার শাসনকর্তা নাজ্জাশীকে সম্মত করাবে। উম্মুল মু’মিনীর হযরত সালামা (রা) (নিজেই হাবশার মুহাজিরদের দলভূক্ত ছিলেন) এ ঘটনাটি বিস্তারিত আকারে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ কুরাইশদের এই দু’জন কুটনীতি বিশারদ দূত হয়ে আমাদের পিছনে পিছনে হাবশায় পৌঁছে গেলো। প্রথমে নাজ্জাশীর দরবারের সভাসদদের মধ্যে ব্যাপকহারে উপঢৌকন বিতরণ করলো। তাদেরকে এই মর্মে রাযী করালো যে, তারা সবাই মিলে একযোগে মুহাজিরদেরকে ফিরিয়ে দেবার জন্য নাজ্জাশীর ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। তারপর নাজ্জাশীর সাথে সাক্ষাত করলো এবং তাকে মহামূল্যবান নযরানা পেশ করার পর বললো, “আমাদের শহরের কয়েকজন অবিবেচক ছোকরা পালিয়ে আপনার এখানে চলে এসেছে। জাতির প্রধানগণ তাদেরকে ফিরিয়ে নেবার আবেদন জানাবার জন্য আপনার কাছে আমাদের পাঠিয়েছেন। এই ছেলেগুলো আমাদের ধর্ম থেকে বের হয়ে গেছে। এবং এরা আমাদের ধর্মেও প্রবেশ করেনি বরং তারা একটি অভিনব ধর্ম উদ্ভাবন করেছে”। তাদের কথা শেষ হবার সাথে সাথেই দরবারের চারদিক থেকে একযোগে আওয়াজ গুঞ্জরিত হলো “এ ধরনের লোকদেরকে অবশ্যই ফিরিয়ে দেয়া উচিত। এদের দোষ সম্পর্কে এদের জাতির লোকেরাই ভালো জানে। এদেরকে এখানে রাখা ঠিক নয়”। কিন্তু নাজ্জাশী রেগে গিয়ে বললেন, “এভাবে এদেরকে আমি ওদের হাতে সোপর্দ করে দেবো না। যারা অন্যদেশ ছেড়ে আমার দেশের প্রতি আস্থা স্থাপন করেছে এবং এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছে তাদের সাথে আমি বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারি না। প্রথমে আমি এদেরকে ডেকে এই মর্মে অনুসন্ধান করবো যে, ওরা এদের ব্যাপারে যা কিছু বলছে সে ব্যাপারে আসল সত্য ঘটনা কি”! অতপর নাজ্জাশী রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীদেরকে নিজের দরবারে ডেকে পাঠালেন।

নাজ্জাশীর বার্তা পেয়ে মুহাজিরগণ একত্র হলেন। বাদশাহর সামনে কি বক্তব্য রাখা হবে তা নিয়ে তারা পরামর্শ করলেন। শেষে সবাই একজোট হয়ে ফায়সালা করলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের যে শিক্ষা দিয়েছেন তাই হুবহু কোন প্রকার কমবেশী না করে তাঁর সামনে পেশ করবো, তাতে নাজ্জাশী আমাদের থাকতে দেন বা বের করে দেন তার পরোয়া করা হবে না। দরবারে পৌঁছার সাথে সাথেই নাজ্জাশী প্রশ্ন করলেন, “তোমরা এটা কি করলে, নিজেদের জাতির ধর্মও ত্যাগ করলে আবার আমার ধর্মেও প্রবেশ করলে না, অন্যদিকে দুনিয়ার অন্য কোনধর্মও গ্রহণ করলে না?” এর জবাবে মুহাজিরদের পক্ষ থেকে হযরত জা’ফর ইবনে আবু তালেব (রা) তাৎক্ষণিক একটি ভাষণ দিলেন। এ ভাষণে তিনি প্রথমে আরবীয় জাহেলীয়াতের ধর্মীয়, নৈতিক ও সামাজিক দুষ্কৃতির বর্ণনা দেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আবির্ভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি কি শিক্ষা দিয়ে চলেছেন তা ব্যক্ত করেন। তারপর কুরাইশরা নবীর (সা) আনুগত্য গ্রহণকারীদের ওপর যেসব জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছিল সেগুলো বর্ণনা করেন এবং সবশেষে একথা বলে নিজের বক্তব্যের উপসংহার টানেন যে, আপনার দেশে আমাদের ওপর কোন জুলুম হবে না এই আশায় আমরা অন্য দেশের পরিবর্তে আপনার দেশে এসেছি”। নাজ্জাশী এ ভাষণ শুনে বললেন, আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের নবীর ওপর যে কালাম নাযিল হয়েছে বলে তোমরা দাবী করেছো তা একটু আমাকে শুনাও তো দেখি। জবাবে হযরত জাফর সূরা মার্য়ামের গোড়ার দিকের হযরত ইয়াহ্ইয়া ও হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের সাথে সম্পর্কিত অংশটুকু শুনালেন। নাজ্জাশী তা শুনেছিলেন এবং কেঁদে চলছিলেন। কাঁদতে কাঁদতে তাঁর দাড়ি ভিজে গেলো। যখন হযরত জাফর তেলাওয়াত শেষ করলেন তখন তিনি বললেন, ”নিশ্চিতভাবেই এ কালাম এবং হযরত ঈসা (আ) যা কিছু এনেছিলেন উভয়ই একই উৎস থেকে উৎসারিত। আল্লাহর কসম! আমি তোমাদেরকে ওদের হাতে তুলে দেবো না”।

পরদিন আমর ইবনুল আস নাজ্জাশীকে বললো “ওদেরকে ডেকে একটু জিজ্ঞেস করে দেখুন, ঈসা ইবনে মার্য়ামের সম্পর্কে ওরা কি আকীদা পোষণ করে? তাঁর সম্পর্কে ওরা একটা মারাত্মক কথা বলে? নাজ্জাশী আবার মুহাজিরদেরকে ডেকে পাঠালেন। আমরের চালবাজীর কথা মুহাজিররা আগেই জানতে পেরেছিলেন। তারা আবার একত্র হয়ে পরামর্শ করলেন যে, নাজ্জাশী যদি ঈসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে প্রশ্ন করেন তাহলে তার কি জবাব দেয়া যাবে। পরিস্থিতি বড়ই নাজুক ছিল। এ জন্য সবাই পেরেশান ছিলেন। কিন্তু তবুও রসূলুল্লাহর (সা) সাহাবীগণ এই ফায়সালাই করলেন যে, যা হয় হোক, আমরা তো সেই কথাই বলবো যা আল্লাহ ও তাঁর রসূল শিখিয়েছেন। কাজেই যখন তারা দরবারে গেলেন এবং নাজ্জাশী আমর ইবনুল আসের প্রশ্ন তাদের সামনে রাখলেন তখন জা’ফর ইবনে আবু তালেব উঠে দাঁড়িয়ে নির্দ্ধিধায় বললেনঃ

———————-

“তিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল এবং তাঁর পক্ষ থেকে একটি রূহ ও একটি বাণী, যা আল্লাহ কুমারী মার্য়ামের নিকট পাঠান”।

একথা শুনে নাজ্জাশী মাটি থেকে একটি তৃণখন্ড তুলে নিয়ে বললেন, ”আল্লাহর কসম! তোমরা যা কিছু বললে হযরত ঈসা তার থেকে এই তৃণখণ্ডের চাইতেও বেশী কিছু ছিলেন না”। এরপর নাজ্জাশী কুরাইশদের পাঠানো সমস্ত উপঢৌকন এই বলে ফেরত দিয়ে দিলেন যে, ”আমি ঘুষ নিই না এবং মুহাজিরদেরকে বলে দিলেন, তোমরা পরম নিশ্চিন্তে বসবাস করতে থাকো”।

আলোচ্য বিষয় ও কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তু

এ ঐতিহাসিক পটভূমির প্রতি দৃষ্টি রেখে যখন আমরা এ সূরাটি দেখি তখন এর মধ্যে সর্ব প্রথম যে কথাটি সুস্পষ্ট হয়ে আমাদের সামনে আসে সেটি হচ্ছে এই যে, যদিও মুসলমানরা একটি মজলুম শরণার্থী দল হিসেবে নিজেদের স্বদেশভূমি ত্যাগ করে অন্যদেশে চলে যাচ্ছিল তবুও এ অবস্থায়ও আল্লাহ তাদেরকে দীনের ব্যাপারে সামান্যতম আপোস করার শিক্ষা দেননি। বরং চলার সময় পাথেয় স্বরূপ এ সূরাটি তাদের সাথে দেন, যাতে ঈসায়ীদের দেশে তারা ঈসা আলাইহিস সালামের একেবারে সঠিক মর্যাদা তুলে ধরেন এবং তাঁর আল্লাহর পুত্র হওয়ার ব্যাপারটা পরিস্কারভাবে অস্বীকার করেন।

প্রথম দু’ রুকূ’তে হযরত ইয়াহ্ইয়া (আ) ও হযরত ঈসা (আ) এর কাহিনী শুনাবার পর আবার তৃতীয় রুকূতে সমকালীন অবস্থার সাথে সামঞ্জস্য রেখে হযরত ইবরাহীমের (আ) কাহিনী শুনানো হয়েছে। কারণ এ একই ধরনের অবস্থায় তিনিও নিজের পিতা, পরিবার ও দেশবাসীর জুলুম নিপীড়নে অতিষ্ঠ হয়ে স্বদেশ ত্যাগ করেছিলেন। এ থেকে একদিকে মক্কার কাফেরদেরকে এ শিক্ষা দেয়া হয়েছে যে, আজ হিজরতকারী মুসলমানরা ইবরাহীমের পর্যায়ে রয়েছে এবং তোমরা রয়েছো সেই জালেমদের পর্যায়ে যারা তোমাদের পিতা ও নেতা ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে গৃহত্যাগী করেছিল। অন্যদিকে মুহাজিরদের এ সুখবর দেয়া হয়েছে যে, ইবরাহীম আলাইহিস সালাম যেমন স্বদেশ ত্যাগ করে ধ্বংস হয়ে যাননি বরং আরো অধিকতর মর্যাদাশীল হয়েছিলেন তেমনি শুভ পরিণাম তোমাদের জন্য অপেক্ষা করেছে।

এরপর চতুর্থ রুকূতে অন্যান্য নবীদের কথা আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে একথা বলাই উদ্দেশ্য যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে দীনের বার্তা বহন করে এনেছেন সকল নবীই সেই একই দীনের বার্তাবহ ছিলেন। কিন্তু নবীদের তিরোধানের পর তাঁদের উম্মতগণ বিকৃতির শিকার হতে থেকেছে। আজ বিভিন্ন উম্মতের মধ্যে যেসব গোমরাহী দেখা যাচ্ছে এগুলো সে বিকৃতিরই ফসল।

শেষ দু’ রুকূতে মক্কার কাফেরদের ভ্রষ্টতার কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে এবং কথা শেষ করতে গিয়ে মু’মিনদেরকে এই মর্মে সুসংবাদ দেয়া হয়েছে যে, সত্যের শত্রুদের যাবতীয় প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তোমরা জনগণের প্রিয় ভাজন হবেই।



সুরা নং- ০১৯ : সুরা মারইয়াম
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

আরবি উচ্চারণ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

বাংলা অনুবাদ পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)।

كهيعص19.1

আরবি উচ্চারণ ১৯.১। কা-ফ্ হা-ইয়া-‘আই-ন্ ছোয়া-দ্।

বাংলা অনুবাদ ১৯.১ কাফ-হা-ইয়া- ‘আঈন- সোয়াদ।

ذِكْرُ رَحْمَةِ رَبِّكَ عَبْدَهُ زَكَرِيَّا19.2

আরবি উচ্চারণ ১৯.২। যিক্রু রহমাতি রব্বিকা ‘আব্দাহূ যাকারিয়্যা-।
বাংলা অনুবাদ ১৯.২ এটা তোমার রবের রহমতের বিবরণ তাঁর বান্দা যাকারিয়্যার প্রতি।

إِذْ نَادَى رَبَّهُ نِدَاءً خَفِيًّا19.3

আরবি উচ্চারণ ১৯.৩। ইয্ না-দা- রব্বাহূ নিদা-য়ান্ খফিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৩ যখন সে তার রবকে গোপনে ডেকেছিল।

قَالَ رَبِّ إِنِّي وَهَنَ الْعَظْمُ مِنِّي وَاشْتَعَلَ الرَّأْسُ شَيْبًا وَلَمْ أَكُنْ بِدُعَائِكَ رَبِّ شَقِيًّا19.4

আরবি উচ্চারণ ১৯.৪। ক্ব-লা রব্বি ইন্নী অহানাল্ ‘আজ্মু মিন্নী অশ্তা‘আর্লা রাসু শাইবাঁও অলাম্ আকুম্ বিদু‘আ-য়িকা রব্বি শাক্বিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৪ সে বলেছিল, ‘হে আমার রব! আমার হাড়গুলো দুর্বল হয়ে গেছে এবং বার্ধক্যবশতঃ আমার মাথার চুলগুলো সাদা হয়ে গেছে। হে আমার রব, আপনার নিকট দো‘আ করে আমি কখনো ব্যর্থ হইনি’।

وَإِنِّي خِفْتُ الْمَوَالِيَ مِنْ وَرَائِي وَكَانَتِ امْرَأَتِي عَاقِرًا فَهَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ وَلِيًّا19.5

আরবি উচ্চারণ ১৯.৫। অইন্নী খিফ্তুল্ মাওয়া-লিয়া মিঁও অর-য়ী অকা-নাতিম্ রায়াতী ‘আ-ক্বিরন্ ফাহাব্লী মিল্লাদুন্কা অলিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৫ ‘আর আমার পরে স্বগোত্রীয়দের সম্পর্কে আমি আশংকাবোধ করছি। আমার স্ত্রী তো বন্ধ্যা, অতএব আপনি আমাকে আপনার পক্ষ থেকে একজন উত্তরাধিকারী দান করুন’।

يَرِثُنِي وَيَرِثُ مِنْ آلِ يَعْقُوبَ وَاجْعَلْهُ رَبِّ رَضِيًّا 19.6

আরবি উচ্চারণ ১৯.৬। ইয়ারিছুনী অইয়ারিছু মিন্ আ-লি ইয়া’কুবা-অজ্ব‘আল্হু রব্বি রদ্বিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৬ ‘যে আমার উত্তরাধিকারী হবে এবং ইয়াকূবের বংশের উত্তরাধিকারী হবে। হে আমার রব, আপনি তাকে পছন্দনীয় বানিয়ে দিন’।

يَا زَكَرِيَّا إِنَّا نُبَشِّرُكَ بِغُلَامٍ اسْمُهُ يَحْيَى لَمْ نَجْعَلْ لَهُ مِنْ قَبْلُ سَمِيًّا19.7

আরবি উচ্চারণ ১৯.৭। ইয়া-যাকারিয়্যা য় ইন্না-নুবাশ্শিরুকা বিগুলা-মিনিস্মুহূ ইয়াহ্ইয়া-লাম্ নাজ্ব‘আল্লাহূ মিন্ ক্বব্লু সামিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৭ (আল্লাহ বললেন) ‘হে যাকারিয়্যা, আমি তোমাকে একটি পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিচ্ছি, তার নাম ইয়াহইয়া। ইতিপূর্বে কাউকে আমি এ নাম দেইনি’।

قَالَ رَبِّ أَنَّى يَكُونُ لِي غُلَامٌ وَكَانَتِ امْرَأَتِي عَاقِرًا وَقَدْ بَلَغْتُ مِنَ الْكِبَرِ عِتِيًّا19.8

আরবি উচ্চারণ ১৯.৮। ক্ব-লা রব্বি আন্না-ইয়াকূনুলী গুলামুঁও অ কা-নাতিম্ রায়াতী ‘আ-ক্বিরঁও অক্বদ্ বালাগ্তু মিনাল্ কিবারি ইতিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৮ সে বলল, ‘হে আমার রব, কিভাবে আমার পুত্র সন্তান হবে, আমার স্ত্রী তো বন্ধ্যা, আর আমিও তো বার্ধক্যের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছি’।

قَالَ كَذَلِكَ قَالَ رَبُّكَ هُوَ عَلَيَّ هَيِّنٌ وَقَدْ خَلَقْتُكَ مِنْ قَبْلُ وَلَمْ تَكُ شَيْئًا19.9

আরবি উচ্চারণ ১৯.৯। ক্ব-লা কাযা-লিকা ক্বা-লা রাব্বুকা হুঅ ‘আলাইয়্যা হাইয়্যিনুঁও অ ক্বদ্ খলাক্ব ্তুকা মিন্ ক্বব্লু অলাম্ তাকু শাইয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৯ সে (ফেরেশতা) বলল, ‘এভাবেই’। তোমার রব বলেছেন, ‘এটা আমার জন্য সহজ। আমি তো ইতঃপূর্বে তোমাকে সৃষ্টি করেছি, তখন তুমি কিছুই ছিলে না’।

قَالَ رَبِّ اجْعَلْ لِي آيَةً قَالَ آيَتُكَ أَلَّا تُكَلِّمَ النَّاسَ ثَلَاثَ لَيَالٍ سَوِيًّا19.10

আরবি উচ্চারণ ১৯.১০। ক্ব -লা রব্বিজ্ব ‘আল্ লী য় আ-ইয়াহ্; ক্ব -লা আ-ইয়াতুকা আল্লা-তুকাল্লিমান্না-সা ছালা-ছা লাইয়া-লিন্ সাওয়্যিা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.১০ সে বলল, ‘হে আমার রব, আমার জন্য একটি নিদর্শন ঠিক করে দিন’। তিনি বললেন, ‘তোমার জন্য এটাই নিদর্শন যে, তুমি সুস্থ থেকেও তিন রাত কারো সাথে কথা বলবে না’।

فَخَرَجَ عَلَى قَوْمِهِ مِنَ الْمِحْرَابِ فَأَوْحَى إِلَيْهِمْ أَنْ سَبِّحُوا بُكْرَةً وَعَشِيًّا 19.11

আরবি উচ্চারণ ১৯.১১। ফাখরজ্বা ‘আলা-ক্বওমিহী মিনাল্ মিহ্রা-বি ফাআওহা য় ইলাইহিম্ আন্ সাব্বিহূ বুক্রাতাঁও অ‘আশিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.১১ অতঃপর সে মিহরাব হতে বেরিয়ে তার লোকদের সামনে আসল এবং ইশারায় তাদেরকে বলল যে, ‘তোমরা সকাল ও সন্ধ্যায় তাসবীহ পাঠ কর’।

يَا يَحْيَى خُذِ الْكِتَابَ بِقُوَّةٍ وَآتَيْنَاهُ الْحُكْمَ صَبِيًّا19.12

আরবি উচ্চারণ ১৯.১২। ইয়া-ইয়াহ্ইয়া-খুযিল্ কিতা-বা বিকুওয়্যাহ্; অ আ-তাইনা-হুল্ হুক্মা ছোয়াবিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.১২ ‘হে ইয়াহইয়া, তুমি কিতাবটিকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধর’। আমি তাকে শৈশবেই প্রজ্ঞা দান করেছি।

وَحَنَانًا مِنْ لَدُنَّا وَزَكَاةً وَكَانَ تَقِيًّا19.13

আরবি উচ্চারণ ১৯.১৩। অহানা-নাম্ মিল্লাদুন্না- অযাকা-হ্; অকা-না তাক্বিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.১৩ আর আমার পক্ষ থেকে তাকে স্নেহ-মমতা ও পবিত্রতা দান করেছি এবং সে মুত্তাকী ছিল।

وَبَرًّا بِوَالِدَيْهِ وَلَمْ يَكُنْ جَبَّارًا عَصِيًّا19.14

আরবি উচ্চারণ ১৯.১৪। অর্বারম্ বিওয়া-লিদাইহি অলাম্ ইয়াকুন্ জ্বাব্বা-রন্ ‘আছিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.১৪ আর সে ছিল তার পিতা-মাতার সাথে সদাচারী, আর ছিল না অহংকারী, অবাধ্য।

وَسَلَامٌ عَلَيْهِ يَوْمَ وُلِدَ وَيَوْمَ يَمُوتُ وَيَوْمَ يُبْعَثُ حَيًّا19.15

আরবি উচ্চারণ ১৯.১৫। অসালা-মুন্ ‘আলাইহি ইয়াওমা উলিদা অইয়াওমা ইয়ামূতু অইয়াওমা ইয়ুব্‘আছু হাইয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.১৫ আর তার উপর শান্তি, যেদিন সে জন্মেছে এবং যেদিন সে মারা যাবে আর যেদিন তাকে জীবিত অবস্থায় উঠানো হবে।

وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ مَرْيَمَ إِذِ انْتَبَذَتْ مِنْ أَهْلِهَا مَكَانًا شَرْقِيًّا19.16

আরবি উচ্চারণ ১৯.১৬। অর্য্কু ফিল্ কিতা-বি র্মাইয়া-ম্’ ইযিন্ তাবাযাত্ মিন্ আহ্লিহা-মাকা-নান্ র্শাক্বিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.১৬ আর স্মরণ কর এই কিতাবে মারইয়ামকে যখন সে তার পরিবারবর্গ থেকে পৃথক হয়ে পূর্ব দিকের কোন এক স্থানে চলে গেল।

فَاتَّخَذَتْ مِنْ دُونِهِمْ حِجَابًا فَأَرْسَلْنَا إِلَيْهَا رُوحَنَا فَتَمَثَّلَ لَهَا بَشَرًا سَوِيًّا19.17

আরবি উচ্চারণ ১৯.১৭। ফাত্তাখযাত্ মিন্ দূনিহিম্ হিজ্বা-বান্ ফার্আসাল্না য় ইলাইহা-রূহানা-ফাতামাছ্ছালা লাহা-বাশারন্ সাওয়িয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.১৭ আর সে তাদের নিকট থেকে (নিজকে) আড়াল করল। তখন আমি তার নিকট আমার রূহ (জিবরীল)কে প্রেরণ করলাম। অতঃপর সে তার সামনে পূর্ণ মানবের রূপ ধারণ করল।

قَالَتْ إِنِّي أَعُوذُ بِالرَّحْمَنِ مِنْكَ إِنْ كُنْتَ تَقِيًّا 19.18

আরবি উচ্চারণ ১৯.১৮। ক্ব-লাত্ ইন্নী য় আ‘ঊযু র্বিরহ্মা-নি মিন্কা ইন্ কুন্তা তাক্বিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.১৮ মারইয়াম বলল, ‘আমি তোমার থেকে পরম করুণাময়ের আশ্রয় চাচ্ছি, যদি তুমি মুত্তাকী হও’।

قَالَ إِنَّمَا أَنَا رَسُولُ رَبِّكِ لِأَهَبَ لَكِ غُلَامًا زَكِيًّا19.19

আরবি উচ্চারণ ১৯.১৯। ক্ব-লা ইন্নামা য় আনা রাসূলু রব্বিকি লিআহাবা লাকি গুলা-মান্ যাকিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.১৯ সে বলল, ‘আমি তো কেবল তোমার রবের বার্তাবাহক, তোমাকে একজন পবিত্র পুত্রসন্তান দান করার জন্য এসেছি’।

قَالَتْ أَنَّى يَكُونُ لِي غُلَامٌ وَلَمْ يَمْسَسْنِي بَشَرٌ وَلَمْ أَكُ بَغِيًّا19.20

আরবি উচ্চারণ ১৯.২০। ক্ব-লাত্ আন্না- ইয়াকূনুলী গুলা-মুঁও অলাম্ ইয়াম্সাস্নী বাশারুঁও অলাম্ আকু বাগিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.২০ মারইয়াম বলল, ‘কিভাবে আমার পুত্র সন্তান হবে? অথচ কোন মানুষ আমাকে স্পর্শ করেনি। আর আমি তো ব্যভিচারিণীও নই’।

قَالَ كَذَلِكِ قَالَ رَبُّكِ هُوَ عَلَيَّ هَيِّنٌ وَلِنَجْعَلَهُ آيَةً لِلنَّاسِ وَرَحْمَةً مِنَّا وَكَانَ أَمْرًا مَقْضِيًّا19.21

আরবি উচ্চারণ ১৯.২১। ক্ব-লা কাযা-লিকি ক্ব-লা রব্বুকি হুঅ ‘আলাইয়্যা হাইয়্যিনুন্ অলিনাজ্ব‘আলাহূ য় আ-ইয়াতাল্লিন্না-সি অরহ্মাতাম্ মিন্না-অকা-না আম্রম্ মাক্ব্দ্বিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.২১ সে বলল, ‘এভাবেই। তোমার রব বলেছেন, এটা আমার জন্য সহজ। আর যেন আমি তাকে করে দেই মানুষের জন্য নিদর্শন এবং আমার পক্ষ থেকে রহমত। আর এটি একটি সিদ্ধান্তকৃত বিষয়’।

فَحَمَلَتْهُ فَانْتَبَذَتْ بِهِ مَكَانًا قَصِيًّا19.22

আরবি উচ্চারণ ১৯.২২। ফাহামালাত্হু ফান্তাবাযাত্ বিহী মাকা-নান্ ক্বছিয়্যা।

বাংলা অনুবাদ ১৯.২২ তারপর সে তাকে গর্ভে ধারণ করল এবং তা নিয়ে দূরবর্তী একটি স্থানে চলে গেল।

فَأَجَاءَهَا الْمَخَاضُ إِلَى جِذْعِ النَّخْلَةِ قَالَتْ يَا لَيْتَنِي مِتُّ قَبْلَ هَذَا وَكُنْتُ نَسْيًا مَنْسِيًّا19.23

আরবি উচ্চারণ ১৯.২৩। ফাআজ্বা-য়া হাল্ মাখ-দ্বু ইলা-জ্বিয্ইন্নাখ্ লাতি ক্ব-লাত্ ইয়া-লাইতানী মিত্তু ক্বব্লা হা-যা-অকুন্তু নাস্ইয়াম্ মান্সিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.২৩ অতঃপর প্রসব-বেদনা তাকে খেজুর গাছের কাণ্ডের কাছে নিয়ে এলো। সে বলল, ‘হায়! এর আগেই যদি আমি মরে যেতাম এবং সম্পূর্ণরূপে বিস্মৃত হতাম’!

فَنَادَاهَا مِنْ تَحْتِهَا أَلَّا تَحْزَنِي قَدْ جَعَلَ رَبُّكِ تَحْتَكِ سَرِيًّا 19.24

আরবি উচ্চারণ ১৯.২৪। ফানা-দা হা- মিন্ তাহ্তিহা য় আল্লা-তাহ্যানী ক্বদ্ জ্বা‘আলা রব্বুকি তাহ্তাকি সারিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.২৪ তখন তার নিচ থেকে সে তাকে ডেকে বলল যে, ‘তুমি চিন্তা করো না। তোমার রব তোমার নিচে একটি ঝর্ণা সৃষ্টি করেছেন’।

وَهُزِّي إِلَيْكِ بِجِذْعِ النَّخْلَةِ تُسَاقِطْ عَلَيْكِ رُطَبًا جَنِيًّا19.25

আরবি উচ্চারণ ১৯.২৫। অহুয্যী য় ইলাইকি বিজ্বিয্ ইন্নাখ্লাতি তুসা-ক্বিত্ব ‘আলাইকি রুত্বোয়াবান্ জ্বানিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.২৫ ‘আর তুমি খেজুর গাছের কাণ্ড ধরে তোমার দিকে নাড়া দাও, তাহলে তা তোমার উপর তাজা-পাকা খেজুর ফেলবে’।

فَكُلِي وَاشْرَبِي وَقَرِّي عَيْنًا فَإِمَّا تَرَيِنَّ مِنَ الْبَشَرِ أَحَدًا فَقُولِي إِنِّي نَذَرْتُ لِلرَّحْمَنِ صَوْمًا فَلَنْ أُكَلِّمَ الْيَوْمَ إِنْسِيًّا19.26

আরবি উচ্চারণ ১৯.২৬। ফাকুলী অশ্রবী অর্ক্বরী ‘আইনান্ ফাইম্মা-তারয়িন্না মিনাল্ বাশারি আহাদান্ ফাকু লী য় ইন্নী নার্যাতু র্লিরাহ্মা-নি ছোয়াওমান্ ফালান্ উকাল্লিমাল্ ইয়াওমা ইন্সিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.২৬ ‘অতঃপর তুমি খাও, পান কর এবং চোখ জুড়াও। আর যদি তুমি কোন লোককে দেখতে পাও তাহলে বলে দিও, ‘আমি পরম করুণাময়ের জন্য চুপ থাকার মানত করেছি। অতএব আজ আমি কোন মানুষের সাথে কিছুতেই কথা বলব না’।

فَأَتَتْ بِهِ قَوْمَهَا تَحْمِلُهُ قَالُوا يَا مَرْيَمُ لَقَدْ جِئْتِ شَيْئًا فَرِيًّا19.27

আরবি উচ্চারণ ১৯.২৭। ফাআতাত্ বিহী ক্বওমাহা-তাহ্মিলুহূ , ক্ব-লূ ইয়া-র্মাইয়ামু লাক্বদ্ জ্বি’তি শাইয়ান্ ফারিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.২৭ তারপর সে তাকে কোলে নিয়ে নিজ কওমের নিকট আসল। তারা বলল, ‘হে মারইয়াম! তুমি তো এক অদ্ভূত বিষয় নিয়ে এসেছ’!

يَا أُخْتَ هَارُونَ مَا كَانَ أَبُوكِ امْرَأَ سَوْءٍ وَمَا كَانَتْ أُمُّكِ بَغِيًّا19.28

আরবি উচ্চারণ ১৯.২৮। ইয়া য় উখ্তা হা-রূনা মা-কা-না আবূ কিম্রায়া সাওয়িঁও অমা-কা-নাত্ উম্মুকি বাগিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.২৮ ‘হে হারূনের বোন! তোমার পিতা তো খারাপ লোক ছিল না। আর তোমার মা-ও ছিল না ব্যভিচারিণী’।

فَأَشَارَتْ إِلَيْهِ قَالُوا كَيْفَ نُكَلِّمُ مَنْ كَانَ فِي الْمَهْدِ صَبِيًّا 19.29

আরবি উচ্চারণ ১৯.২৯। ফাআশা-রত্ ইলাইহি; ক্ব-লূ কাইফা নুকাল্লিমু মান্ কা-না ফিল্ মাহ্দি ছোয়াবিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.২৯ তখন সে শিশুটির দিকে ইশারা করল। তারা বলল, ‘যে কোলের শিশু আমরা কিভাবে তার সাথে কথা বলব’?

قَالَ إِنِّي عَبْدُ اللَّهِ آتَانِيَ الْكِتَابَ وَجَعَلَنِي نَبِيًّا19.30

আরবি উচ্চারণ ১৯.৩০। ক্ব-লা ইন্নী ‘আবদুল্লা-হ্; আ-তা-নিয়াল্ কিতা-বা অজ্বা‘আলানী নাবিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৩০ শিশুটি বলল, ‘আমি তো আল্লাহর বান্দা; তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী বানিয়েছেন’।

وَجَعَلَنِي مُبَارَكًا أَيْنَ مَا كُنْتُ19.31 ‎وَأَوْصَانِي بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ مَا دُمْتُ حَيًّا31

আরবি উচ্চারণ ১৯.৩১। অ জ্বা‘আলানী মুবা-রকান্ আইনা মা-কুন্তু অআওছোয়া-নী বিছ্ছলা-তি অয্যাকা-তি মা-দুম্তু হাইয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৩১ ‘আর যেখানেই আমি থাকি না কেন তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন এবং যতদিন আমি জীবিত থাকি তিনি আমাকে সালাত ও যাকাত আদায় করতে আদেশ করেছেন’।

وَبَرًّا بِوَالِدَتِي وَلَمْ يَجْعَلْنِي جَبَّارًا شَقِيًّا19.32

আরবি উচ্চারণ ১৯.৩২। অর্বারম্ বিওয়া-লিদাতী অলাম্ ইয়াজ্ব্‘আল্নী জ্বাব্বা-রন্ শাক্বিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৩২ ‘আর আমাকে মায়ের প্রতি অনুগত করেছেন এবং তিনি আমাকে অহঙ্কারী, অবাধ্য করেননি’।

وَالسَّلَامُ عَلَيَ يَوْمَ وُلِدْتُ وَيَوْمَ أَمُوتُ وَيَوْمَ أُبْعَثُ حَيًّا19.33

আরবি উচ্চারণ ১৯.৩৩। অস্সালা-মু ‘আলাইয়্যা ইয়াওমা উলিত্তু অইয়াওমা আমূতু অইয়াওমা উব্‘আছূ হাইয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৩৩ ‘আর আমার উপর শান্তি, যেদিন আমি জন্মেছি এবং যেদিন আমি মারা যাব আর যেদিন আমাকে জীবিত অবস্থায় উঠানো হবে’।

ذَلِكَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ قَوْلَ الْحَقِّ الَّذِي فِيهِ يَمْتَرُونَ19.34

আরবি উচ্চারণ ১৯.৩৪। যা-লিকা ‘ঈসাব্নু র্মাইয়ামা ক্বওলাল্ হাক্ব ক্বিল্লাযী ফীহি ইয়াম্তারূন্।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৩৪ এই হচ্ছে মারইয়াম পুত্র ঈসা। এটাই সঠিক বক্তব্য, যে বিষয়ে লোকেরা সন্দেহ পোষণ করছে।

مَا كَانَ لِلَّهِ أَنْ يَتَّخِذَ مِنْ وَلَدٍ سُبْحَانَهُ إِذَا قَضَى أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُنْ فَيَكُونُّ 19.35

আরবি উচ্চারণ ১৯.৩৫। মা-কা-না লিল্লা-হি আইঁ ইয়াত্তাখিযা মিঁও অলাদিন্ সুব্হা-নাহ্; ইযা- ক্বদ্বোয়া য় আম্রন্ ফাইন্নামা- ইয়াকুলু লাহূ কুন্ ফাইয়াকূন্।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৩৫ সন্তান গ্রহণ করা আল্লাহর কাজ নয়। তিনি পবিত্র-মহান। তিনি যখন কোন বিষয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তখন তদুদ্দেশ্যে শুধু বলেন, ‘হও’, অমনি তা হয়ে যায়।

وَإِنَّ اللَّهَ رَبِّي وَرَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ هَذَا صِرَاطٌ مُسْتَقِيمٌ19.36

আরবি উচ্চারণ ১৯.৩৬। অইন্নাল্লা-হা রব্বী অরব্বুকুম্ ফা’বুদূহ্ হা-যা-ছির-তুম্ মুস্তাক্বীম্।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৩৬ আর নিশ্চয় আল্লাহ আমার রব এবং তোমাদের রব। সুতরাং তোমরা তাঁর ইবাদাত কর। এটাই সরল পথ।

فَاخْتَلَفَ الْأَحْزَابُ مِنْ بَيْنِهِمْ فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ مَشْهَدِ يَوْمٍ عَظِيمٍ19.37

আরবি উচ্চারণ ১৯.৩৭। ফাখ্ তালাফাল্ আহ্যা-বু মিম্ বাইনিহিম্ ফাওয়াইলুল্ লিল্লাযীনা কাফারূ মিম্ মাশ্হাদি ইয়াওমিন্ ‘আজীম্।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৩৭ এরপর তাদের মধ্য থেকে বিভিন্ন দল মতভেদ করল। কাজেই মহাদিবস প্রত্যক্ষকালে কাফিরদের ধ্বংস অনিবার্য।

أَسْمِعْ بِهِمْ وَأَبْصِرْ يَوْمَ يَأْتُونَنَا لَكِنِ الظَّالِمُونَ الْيَوْمَ فِي ضَلَالٍ مُبِينٍ19.38

আরবি উচ্চারণ ১৯.৩৮। আস্মি’ বিহিম্ অআর্ব্ছি ইয়াওমা ইয়াতূনানা- লা-কিনিজ্জোয়া- লিমূনাল্ ইয়াওমা ফী দ্বোয়ালা-লিম্ মুবীন্।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৩৮ যেদিন তারা আমার কাছে আসবে সেদিন তারা কতই না স্পষ্টভাবে শুনতে পাবে এবং দেখতে পাবে! কিন্তু যালিমরা আজ স্পষ্ট ভ্রষ্টতার মধ্যে রয়েছে।

وَأَنْذِرْهُمْ يَوْمَ الْحَسْرَةِ إِذْ قُضِيَ الْأَمْرُ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ وَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ19.39

আরবি উচ্চারণ ১৯.৩৯। ওয়াআর্ন্যিহুম্ ইয়াওমাল্ হাস্রতি ইয্ কুদ্বিয়াল্ আর্ম। অহুম্ ফী গাফ্লাতিঁও অহুম্ লা-ইয়ুমিনূন্।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৩৯ আর তাদেরকে সতর্ক করে দাও পরিতাপ দিবস সম্পর্কে যখন সব বিষয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে, অথচ তারা রয়েছে উদাসীনতায় বিভোর এবং তারা ঈমান আনছে না।

إِنَّا نَحْنُ نَرِثُ الْأَرْضَ وَمَنْ عَلَيْهَا وَإِلَيْنَا يُرْجَعُونَ19.40

আরবি উচ্চারণ ১৯.৪০। ইন্না-নাহ্নু নারিছুল্ র্আদ্বোয়া অ মান্ ‘আলাইহা-অইলাইনা-ইর্য়ুজ্বা‘ঊন্।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৪০ নিশ্চয় আমি যমীন ও এর উপরে যা রয়েছে তার চূড়ান্ত মালিক হব এবং আমারই নিকট তাদের ফিরিয়ে আনা হবে।

وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّهُ كَانَ صِدِّيقًا نَبِيًّا 19.41

আরবি উচ্চারণ ১৯.৪১। অর্য্কু ফিল্ কিতা-বি ইব্রা-হীম্; ইন্নাহূ কা-না ছিদ্দীকা ন্নাবিয়্যা।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৪১ আর স্মরণ কর এই কিতাবে ইবরাহীমকে। নিশ্চয় সে ছিল পরম সত্যবাদী, নবী।

إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ يَا أَبَتِ لِمَ تَعْبُدُ مَا لَا يَسْمَعُ وَلَا يُبْصِرُ وَلَا يُغْنِي عَنْكَ شَيْئًا19.42

আরবি উচ্চারণ ১৯.৪২। ইয্ ক্ব-লা লিআবীহি ইয়া য় আবাতি লিমা তা’বুদু মা-লা-ইয়াস্মা‘উঅলা-ইয়ুব্ছিরু অলা-ইয়ুগ্নী ‘আন্কা শাইয়া-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৪২ যখন সে তার পিতাকে বলল, ‘হে আমার পিতা, তুমি কেন তার ইবাদাত কর যে না শুনতে পায়, না দেখতে পায় এবং না তোমার কোন উপকারে আসতে পারে’?

يَا أَبَتِ إِنِّي قَدْ جَاءَنِي مِنَ الْعِلْمِ مَا لَمْ يَأْتِكَ فَاتَّبِعْنِي أَهْدِكَ صِرَاطًا سَوِيًّا19.43

আরবি উচ্চারণ ১৯.৪৩। ইয়া য় আবাতি ইন্নী ক্বদ্ জ্বা-য়ানী মিনাল্ ‘ইল্মি মা-লাম্ ইয়াতিকা ফাত্তাবি’নী য় আহ্দিকা ছিরা-ত্বোয়ান্ সাওয়িয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৪৩ ‘হে আমার পিতা! আমার কাছে এমন জ্ঞান এসেছে যা তোমার কাছে আসেনি, সুতরাং আমার অনুসরণ কর, তাহলে আমি তোমাকে সঠিক পথ দেখাব’।

يَا أَبَتِ لَا تَعْبُدِ الشَّيْطَانَ إِنَّ الشَّيْطَانَ كَانَ لِلرَّحْمَنِ عَصِيًّا19.44

আরবি উচ্চারণ ১৯.৪৪। ইয়া য় আবাতি লা-তা’বুদিশ্ শাইত্বোয়া-ন্; ইন্নাশ্ শাইত্বোয়া-না কা-না র্লিরহ্মা-নি ‘আছিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৪৪ ‘হে আমার পিতা, তুমি শয়তানের ইবাদাত করো না। নিশ্চয় শয়তান হল পরম করুণাময়ের অবাধ্য’।

يَا أَبَتِ إِنِّي أَخَافُ أَنْ يَمَسَّكَ عَذَابٌ مِنَ الرَّحْمَنِ فَتَكُونَ لِلشَّيْطَانِ وَلِيًّا19.45

আরবি উচ্চারণ ১৯.৪৫। ইয়া য় আবাতি ইন্নী য় আখ-ফু আইঁ ইয়ামাস্ সাকা ‘আযা-বুম্ মির্না রহমা-নি ফাতাকূনা লিশ্শাইত্বোয়া-নি অলিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৪৫ ‘হে আমার পিতা, আমি আশংকা করছি যে, পরম করুণাময়ের (পক্ষ থেকে) তোমাকে আযাব স্পর্শ করবে, ফলে তুমি শয়তানের সঙ্গী হয়ে যাবে।’

قَالَ أَرَاغِبٌ أَنْتَ عَنْ آلِهَتِي يَا إِبْرَاهِيمُ لَئِنْ لَمْ تَنْتَهِ لَأَرْجُمَنَّكَ وَاهْجُرْنِي مَلِيًّا 19.46

আরবি উচ্চারণ ১৯.৪৬। ক্ব-লা আর-গিবুন্ আন্তা ‘আন্ আ-লিহাতী ইয়া য় ইব্রা-হীমু লায়িল্লাম্ তান্তাহি লার্আজুমান্নাকা অহ্জ্বরুনী মালিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৪৬ সে বলল, ‘হে ইবরাহীম, তুমি কি আমার উপাস্যদের থেকে বিমুখ? যদি তুমি বিরত না হও, তবে অবশ্যই আমি তোমাকে পাথর মেরে হত্যা করব। আর তুমি চিরতরে আমাকে ছেড়ে যাও’।

قَالَ سَلَامٌ عَلَيْكَ سَأَسْتَغْفِرُ لَكَ رَبِّي إِنَّهُ كَانَ بِي حَفِيًّا19.47

আরবি উচ্চারণ ১৯.৪৭। ক্ব-লা সালা-মুন্ ‘আলাইকা সাআস্তাগ্ফিরু লাকা রব্বী; ইন্নাহূ কা-না বী হাফিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৪৭ ইবরাহীম বলল, ‘তোমার প্রতি সালাম। আমি আমার রবের কাছে তোমার জন্য ক্ষমা চাইব। নিশ্চয় তিনি আমার প্রতি বড়ই অনুগ্রহশীল’।

وَأَعْتَزِلُكُمْ وَمَا تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَأَدْعُو رَبِّي عَسَى أَلَّا أَكُونَ بِدُعَاءِ رَبِّي شَقِيًّا19.48

আরবি উচ্চারণ ১৯.৪৮। অ ‘আতাযিলুকুম্ অমা-তাদ্‘ঊনা মিন্ দূনিল্লা-হি অআদ্‘ঊ রব্বী ‘আসা য় আল্লা য় আকূ না বিদু‘আ-য়ি রব্বী শাক্বিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৪৮ ‘আর আমি তোমাদের ও আল্লাহ ছাড়া যাদের ইবাদাত তোমরা কর তাদের পরিত্যাগ করছি এবং আমি আমার রবের ইবাদাত করছি। আশা করি আমার রবের ইবাদাত করে আমি ব্যর্থ হব না’।

فَلَمَّا اعْتَزَلَهُمْ وَمَا يَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَهَبْنَا لَهُ إِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَكُلًّا جَعَلْنَا نَبِيًّا19.49

আরবি উচ্চারণ ১৯.৪৯। ফালাম্মা’ তাযালাহুম্ অমা-ইয়া’বুদূনা মিন্ দূনিল্লা-হি অহাব্না লাহূ য় ইস্হা-ক্ব অ ইয়া’কুব্্; অকুল্লান্ জ্বা‘আল্না-নাবিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৪৯ অতঃপর যখন সে তাদেরকে এবং আল্লাহ ছাড়া যাদের তারা ইবাদাত করত তাদের সবাইকে পরিত্যাগ করল, তখন আমি তাকে দান করলাম ইসহাক ও ইয়া‘কূব এবং তাদের প্রত্যেককে নবী করলাম।

وَوَهَبْنَا لَهُمْ مِنْ رَحْمَتِنَا وَجَعَلْنَا لَهُمْ لِسَانَ صِدْقٍ عَلِيًّا19.50

আরবি উচ্চারণ ১৯.৫০। অওয়াহাব্না-লাহুম্ র্মি রহমাতিনা-অজ্বা‘আল্না- লাহুম্ লিসা-না ছিদ্ক্বিন্ ‘আলিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৫০ আর আমি তাদেরকে আমার অনুগ্রহ দান করলাম আর তাদের সুনাম সুখ্যাতিকে সমুচ্চ করলাম।

وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ مُوسَى إِنَّهُ كَانَ مُخْلَصًا وَكَانَ رَسُولًا نَبِيًّا 19.51

আরবি উচ্চারণ ১৯.৫১। অর্য্কু ফিল্ কিতা-বি মূসা য় ইন্নাহূ কা-না মুখ্লাছোঁয়াও অকা-না রাসূলান্ নাবিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৫১ আর স্মরণ কর এই কিতাবে মূসাকে। অবশ্যই সে ছিল মনোনীত এবং সে ছিল রাসূল, নবী।

وَنَادَيْنَاهُ مِنْ جَانِبِ الطُّورِ الْأَيْمَنِ وَقَرَّبْنَاهُ نَجِيًّا19.52

আরবি উচ্চারণ ১৯.৫২। অনা-দাইনা-হু মিন্ জ্বা-নিবিত্বত্ব ূরিল্ আইমানি অর্ক্বারব্না-হু নাজ্বিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৫২ আমি তাকে তূর পর্বতের ডান দিক থেকে ডেকেছিলাম এবং অন্তরঙ্গ আলাপের উদ্দেশ্যে তাকে আমার নিকটবর্তী করেছিলাম।

وَوَهَبْنَا لَهُ مِنْ رَحْمَتِنَا أَخَاهُ هَارُونَ نَبِيًّا19.53

আরবি উচ্চারণ ১৯.৫৩। অ ওয়াহাব্না-লাহূ র্মি রহ্মাতিনা য় আখা-হু হা-রূনা নাবিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৫৩ আর আমি স্বীয় অনুগ্রহে তার জন্য তার ভাই হারূনকে নবীরূপে দান করলাম।

وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ إِسْمَاعِيلَ إِنَّهُ كَانَ صَادِقَ الْوَعْدِ وَكَانَ رَسُولًا نَبِيًّا19.54

আরবি উচ্চারণ ১৯.৫৪। অর্য্কু ফিল্ কিতা-বি ইস্মা‘ঈলা ইন্নাহূ কা-না ছোয়া-দিক্বল্ অ’দি অ কা-না রাসূলান্নাবিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৫৪ আর স্মরণ কর এই কিতাবে ইসমাঈলকে। সে ছিল সত্যিকারের ওয়াদা পালনকারী এবং সে ছিল রাসূল, নবী।

وَكَانَ يَأْمُرُ أَهْلَهُ بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَكَانَ عِنْدَ رَبِّهِ مَرْضِيًّا19.55

আরবি উচ্চারণ ১৯.৫৫। অকা-না ইয়ামুরু আহ্লাহূ বিছ্ছলা-তি অয্যাকা-তি অকা-না ‘ইন্দা রব্বিহী র্মাদ্বিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৫৫ আর সে তার পরিবার-পরিজনকে সালাত ও যাকাতের নির্দেশ দিত এবং সে ছিল তার রবের সন্তোষপ্রাপ্ত।

وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ إِدْرِيسَ إِنَّهُ كَانَ صِدِّيقًا نَبِيًّا19.56

আরবি উচ্চারণ ১৯.৫৬। অর্য্কু ফিল্ কিতা-বি ইদ্রীসা ইন্নাহূ কা-না ছিদ্দীক্বান্ নাবিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৫৬ আর স্মরণ কর এই কিতাবে ইদরীসকে। সে ছিল পরম সত্যনিষ্ঠ নবী।

وَرَفَعْنَاهُ مَكَانًا عَلِيًّا19.57

আরবি উচ্চারণ ১৯.৫৭। অ রফা’না-হু মাকা-নান্ ‘আলিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৫৭ আর আমি তাকে উচ্চ মর্যাদায় সমুন্নত করেছিলাম।

أُولَئِكَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ مِنْ ذُرِّيَّةِ آدَمَ وَمِمَّنْ حَمَلْنَا مَعَ نُوحٍ وَمِمَّنْ حَمَلْنَا مَعَ نُوحٍ وَمِنْ ذُرِّيَّةِ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْرَائِيلَ وَمِمَّنْ هَدَيْنَا وَاجْتَبَيْنَا إِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُ الرَّحْمَنِ خَرُّوا سُجَّدًا وَبُكِيًّا19.58

আরবি উচ্চারণ ১৯.৫৮। উলা-য়িকাল্লাযীনা আন্‘আমাল্লা-হু ‘আলাইহিম্ মিনান্নাবিয়্যীনা মিন্ র্যুরিয়্যাতি আ-দামা অ মিম্মান্ হামাল্না- মা‘আ নূহিঁও অমিন্ র্যুরিয়্যাতি ইব্রা-হীমা অইস্র-ঈলা-অ মিম্মান্ হাদাইনা- অজ্বতাবাইনা-; ইযা-তুত্লা- ‘আলাইহিম্ আ-ইয়া-র্তু রহ্মা-নি র্খরূ সুজ্জাদাঁও অবুকিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৫৮ এরাই সে সব নবী, আদম সন্তানের মধ্য থেকে যাদের উপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন এবং যাদের আমি নূহের সাথে নৌকায় আরোহণ করিয়েছিলাম। আর ইবরাহীম ও ইসরাঈলের বংশোদ্ভূত এবং যাদেরকে আমি পথ প্রদর্শন করেছিলাম ও মনোনীত করেছিলাম। যখন তাদের কাছে পরম করুণাময়ের আয়াতসমূহ পাঠ করা হত, তারা কাঁদতে কাঁদতে সিজদায় লুটিয়ে পড়ত।

فَخَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلَاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا19.59

আরবি উচ্চারণ ১৯.৫৯। ফাখলাফা মিম্ বা’দিহিম্ খল্ফুন্ আদ্বোয়া-উছ্ ছলা-তা অত্তাবা‘উশ্ শাহাওয়া-তিফাসাওফা ইয়াল্ক্বওনা গইয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৫৯ তাদের পরে আসল এমন এক অসৎ বংশধর যারা সালাত বিনষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করল। সুতরাং শীঘ্রই তারা জাহান্নামের শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে।

إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَأُولَئِكَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَلَا يُظْلَمُونَ شَيْئًا19.60

আরবি উচ্চারণ ১৯.৬০। ইল্লা- মান্ তা-বা অ আ-মানা অ ‘আমিলা ছোয়া-লিহান্ ফাউলা-য়িকা ইয়াদ্খুলূনাল্ জ্বান্নাতা অলা-ইয়ুজ্লামূনা শাইয়া-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৬০ তবে তারা নয় যারা তাওবা করেছে, ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে; তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি কোন যুলম করা হবে না।

جَنَّاتِ عَدْنٍ الَّتِي وَعَدَ الرَّحْمَنُ عِبَادَهُ بِالْغَيْبِ إِنَّهُ كَانَ وَعْدُهُ مَأْتِيًّا 19.61

আরবি উচ্চারণ ১৯.৬১। জ্বান্না-তি ‘আদ্নি নিল্লাতী অ‘আর্দা রাহ্মানু ‘ইবা-দাহূ বিল্গইব্; ইন্নাহূ কা-না অ’দুহূ মাতিয়্যা।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৬১ তা চিরস্থায়ী জান্নাত, যার ওয়াদা পরম করুণাময় তাঁর বান্দাদের দিয়েছেন গায়েবের সাথে। নিশ্চয় তাঁর ওয়াদাকৃত বিষয় অবশ্যম্ভাবী।

لَا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًا إِلَّا سَلَامًا وَلَهُمْ رِزْقُهُمْ فِيهَا بُكْرَةً وَعَشِيًّا19.62

আরবি উচ্চারণ ১৯.৬২। লা-ইয়াস্মা‘ঊনা ফীহা- লাগ্ওয়ান্ ইল্লা-সালা-মা-; অলাহুম্ রিয্ক্ব ুহুম্ ফীহা-বুক্রাতাঁও অ‘আশিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৬২ তারা সেখানে ‘শান্তি’ ছাড়া কোন অর্থহীন কথা শুনবে না এবং সেখানে সকাল-সন্ধ্যায় তাদের জন্য থাকবে তাদের রিয্ক।

تِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِي نُورِثُ مِنْ عِبَادِنَا مَنْ كَانَ تَقِيًّا19.63

আরবি উচ্চারণ ১৯.৬৩। তিল্কাল্ জ্বান্নাতুল্লাতী নূরুছু মিন্ ‘ইবা-দিনা- মান্ কা-না তাক্বিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৬৩ সেই জান্নাত, আমি যার উত্তরাধিকারী বানাব আমার বান্দাদের মধ্যে তাদেরকে যারা মুত্তাকী।

وَمَا نَتَنَزَّلُ إِلَّا بِأَمْرِ رَبِّكَ لَهُ مَا بَيْنَ أَيْدِينَا وَمَا خَلْفَنَا وَمَا بَيْنَ ذَلِكَ وَمَا كَانَ رَبُّكَ نَسِيًّا19.64

আরবি উচ্চারণ ১৯.৬৪। অমা-নাতানায্যালু ইল্লা-বিআম্রি রব্বিকা লাহূ মা-বাইনা আইদীনা-অমা-খল্ফানা-অমা-বাইনা যা-লিকা অমা কা-না রব্বুকা নাসিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৬৪ (জিবরীল বলল) ‘আর আমরা আপনার রবের নির্দেশ ছাড়া অবতরণ করি না। যা আমাদের সামনে আছে, আর যা আছে আমাদের পিছনে এবং যা রয়েছে এতদোভয়ের মধ্যে, সব তাঁরই মালিকানাধীন। আর আপনার রব ভুলে যান না।

رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا فَاعْبُدْهُ وَاصْطَبِرْ لِعِبَادَتِهِ هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِيًّا19.65

আরবি উচ্চারণ ১৯.৬৫। রব্বুস্ সামা-অ-তি অল্ র্আদ্বি অমা-বাইনাহুমা-ফা’বুদ্হু অছ্ত্বোয়ার্বি লি‘ইবা-দাতিহ্; হাল্ তা’লামু লাহূ সামিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৬৫ তিনি আসমানসমূহ, যমীন ও এতদোভয়ের মধ্যে যা আছে তার রব। সুতরাং তাঁর ইবাদাত কর এবং তাঁরই ইবাদাতে ধৈর্যশীল থাক। তুমি কি তাঁর সমতুল্য কাউকে জান?

وَيَقُولُ الْإِنْسَانُ أَئِذَا مَا مِتُّ لَسَوْفَ أُخْرَجُ حَيًّا 19.66

আরবি উচ্চারণ ১৯.৬৬। অ ইয়াকু লুল্ ইন্সা-নু আ ইযা-মা-মিত্তু লাসাওফা উখ্রাজু হাইয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৬৬ আর মানুষ বলে, ‘আমার মৃত্যু হলে আমাকে কি জীবিত অবস্থায় উত্থিত করা হবে?’

أَوَلَا يَذْكُرُ الْإِنْسَانُ أَنَّا خَلَقْنَاهُ مِنْ قَبْلُ وَلَمْ يَكُ شَيْئًا19.67

আরবি উচ্চারণ ১৯.৬৭। আওয়ালা- ইয়ায্কুরুল্ ইন্সা-নু আন্না-খলাক্ব না-হু মিন্ ক্বব্লু অলাম্ ইয়াকু শাইয়া-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৬৭ মানুষ কি স্মরণ করে না যে, আমি তাকে পূর্বে সৃষ্টি করেছি অথচ সে কিছুই ছিল না?

فَوَرَبِّكَ لَنَحْشُرَنَّهُمْ وَالشَّيَاطِينَ ثُمَّ لَنُحْضِرَنَّهُمْ حَوْلَ جَهَنَّمَ جِثِيًّا19.68

আরবি উচ্চারণ ১৯.৬৮। ফাওয়া রব্বিকা লানাহ্শুরন্নহুম্ অশ্শাইয়াত্বীনা ছুম্মা লানুহ্দ্বিরন্নাহুম্ হাওলা জ্বাহান্নামা জ্বিছিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৬৮ অতএব তোমার রবের কসম, আমি অবশ্যই তাদেরকে ও শয়তানদেরকে সমবেত করব, অতঃপর জাহান্নামের চারপাশে নতজানু অবস্থায় তাদেরকে হাযির করব।

ثُمَّ لَنَنْزِعَنَّ مِنْ كُلِّ شِيعَةٍ أَيُّهُمْ أَشَدُّ عَلَى الرَّحْمَنِ عِتِيًّا19.69

আরবি উচ্চারণ ১৯.৬৯। ছুম্মা লানান্যি‘আন্না মিন্ কুল্লি শী‘আতিন্ আইয়্যুহুম্ আশাদ্দু ‘আর্লা রহ্মা-নি ‘ই’তয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৬৯ তারপর প্রত্যেক দল থেকে পরম করুণাময়ের বিরুদ্ধে সর্বাধিক অবাধ্যকে আমি টেনে বের করবই।

ثُمَّ لَنَحْنُ أَعْلَمُ بِالَّذِينَ هُمْ أَوْلَى بِهَا صِلِيًّا19.70

আরবি উচ্চারণ ১৯.৭০। ছুম্মা লানাহ্নু আ’লামু বিল্লাযীনা হুম্ আওলা বিহা-ছিলিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৭০ উপরন্তু আমি সর্বাধিক ভাল জানি তাদের সম্পর্কে, যারা জাহান্নামে দগ্ধীভূত হবার অধিকতর যোগ্য।

وَإِنْ مِنْكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا كَانَ عَلَى رَبِّكَ حَتْمًا مَقْضِيًّا19.71

আরবি উচ্চারণ ১৯.৭১। অ ইম্মিন্কুম্ ইল্লা-ওয়া-রিদুহা-কা-না ‘আলা-রব্বিকা হাত্মাম্ মাক্ব ্দিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৭১ আর তোমাদের প্রত্যেককেই তা অতিক্রম করতে হবে, এটি তোমার রবের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

ثُمَّ نُنَجِّي الَّذِينَ اتَّقَوْا وَنَذَرُ الظَّالِمِينَ فِيهَا جِثِيًّا 19.72

আরবি উচ্চারণ ১৯.৭২। ছুম্মা নুনাজ্জ্বিল্লাযী নাত্তাক্বও অ নাযারুজ্ জোয়া-লিমীনা ফীহা-জ্বিছিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৭২ তারপর আমি এদেরকে মুক্তি দেব যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে। আর যালিমদেরকে আমি সেখানে রেখে দেব নতজানু অবস্থায়।

وَإِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُنَا بَيِّنَاتٍ قَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِلَّذِينَ آمَنُوا أَيُّ الْفَرِيقَيْنِ خَيْرٌ مَقَامًا وَأَحْسَنُ نَدِيًّا19.73

আরবি উচ্চারণ ১৯.৭৩। অইযা-তুত্লা-‘আলাইহিম্ আ-ইয়া-তুনা-বাইয়িনা-তিন্ ক্ব-লাল্লাযীনা কাফারূ লিল্লাযীনা আ-মানূ য় আইয়্যুল্ ফারীক্বইনি খইরুম্ মাক্ব-মাঁও অআহ্সানু নাদিয়্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৭৩ আর যখন তাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ সুস্পষ্টরূপে পাঠ করা হয়, তখন কাফিররা ঈমানদারদেরকে বলে, ‘দুই দলের মধ্যে কোন্টি মর্যাদায় শ্রেষ্ঠতর এবং মজলিস হিসেবে উত্তম?’

وَكَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُمْ مِنْ قَرْنٍ هُمْ أَحْسَنُ أَثَاثًا وَرِئْيًا19.74

আরবি উচ্চারণ ১৯.৭৪-আ কাম্ আহ্লাক্না-ক্বব্লাহুম্ মিন্ র্ক্বনিন্ হুম্ আহ্সানু আছা ছাঁও- অরিইয়া-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৭৪ আর তাদের পূর্বে আমি কত প্রজন্ম ধ্বংস করে দিয়েছি যারা সাজ- সরঞ্জাম ও বাহ্যদৃষ্টিতে শ্রেষ্ঠ ছিল!

قُلْ مَنْ كَانَ فِي الضَّلَالَةِ فَلْيَمْدُدْ لَهُ الرَّحْمَنُ مَدًّا حَتَّى إِذَا رَأَوْا مَا يُوعَدُونَ إِمَّا الْعَذَابَ وَإِمَّا السَّاعَةَ فَسَيَعْلَمُونَ مَنْ هُوَ شَرٌّ مَكَانًا وَأَضْعَفُ جُنْدًا19.75

আরবি উচ্চারণ ১৯.৭৫। কুল্ মান্ কা-না ফিদ্ব্ দ্বোয়ালা-লাতি ফাল্ ইয়াম্দুদ্ লার্হু রহ্মা-নু মাদ্দা-হাত্তা য় ইযা-রায়াও মা-ইয়ূ‘আদূনা ইম্মাল্ ‘আযা-বা অ ইম্মাস্ সা-‘আহ্; ফাসাইয়া’লামূনা মান্ হুওয়া র্শারুম্ মাকা-নাঁও অআদ্ব‘আফু জুন্দা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৭৫ বল, ‘যে বিভ্রান্তিতে রয়েছে তাকে পরম করুণাময় প্রচুর অবকাশ দেবেন, যতক্ষণ না তারা যে বিষয়ে তাদের প্রতিশ্র“তি দেয়া হয়েছে তা প্রত্যক্ষ করবে, চাই তা আযাব হোক অথবা কিয়ামত। তখন তারা জানতে পারবে কে মর্যাদায় নিকৃষ্ট ও দলবলে দুর্বল।

وَيَزِيدُ اللَّهُ الَّذِينَ اهْتَدَوْا هُدًى وَالْبَاقِيَاتُ الصَّالِحَاتُ خَيْرٌ عِنْدَ رَبِّكَ ثَوَابًا وَخَيْرٌ مَرَدًّا19.76

আরবি উচ্চারণ ১৯.৭৬। অইয়াযীদুল্লা-হু ল্লাযী নাহ্তাদাও হুদা-; অল্বা-ক্বিয়া-তুছ্ ছোয়া-লি হা-তু খইরুন্ ‘ইন্দা রব্বিকা ছাওয়া-বাঁও অ খাইরুম্ মারাদ্দা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৭৬ আর যারা সঠিক পথে চলে আল্লাহ তাদের হিদায়াত বৃদ্ধি করেন আর স্থায়ী সৎকর্মসমূহ তোমার রবের কাছে পুরস্কার প্রাপ্তির দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ এবং পরিণতি হিসেবেও শ্রেষ্ঠ।

أَفَرَأَيْتَ الَّذِي كَفَرَ بِآيَاتِنَا وَقَالَ لَأُوتَيَنَّ مَالًا وَوَلَدًا19.77

আরবি উচ্চারণ ১৯.৭৭। আফারয়াইতাল্ লাযী কাফার বিআ-ইয়া-তিনা-অক্ব-লা লাঊতাইয়ান্না মা-লাঁও অ অলাদা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৭৭ তুমি কি সেই ব্যক্তিকে দেখেছ যে আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে এবং বলে, ‘আমাকে অবশ্যই ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেয়া হবে।’

أَطَّلَعَ الْغَيْبَ أَمِ اتَّخَذَ عِنْدَ الرَّحْمَنِ عَهْدًا19.78

আরবি উচ্চারণ ১৯.৭৮। আত্ত্বোয়ালা‘আল্ গইবা আমিত্তাখযা ‘ইর্ন্দা রহ্মা-নি ‘আহ্দা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৭৮ সে কি গায়েব সম্পর্কে অবহিত হয়েছে, না পরম করুণাময়ের কাছ থেকে কোন প্রতিশ্র“তি গ্রহণ করেছে?

كَلَّا سَنَكْتُبُ مَا يَقُولُ وَنَمُدُّ لَهُ مِنَ الْعَذَابِ مَدًّا19.79

আরবি উচ্চারণ ১৯.৭৯। কাল্লা-; সানাক্তুবু মা-ইয়াকুলু অনামুদ্দু লাহূ মিনাল্ ‘আযা-বি মাদ্দা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৭৯ কখনো নয়, সে যা বলে আমি তা লিখে রাখব এবং তার আযাব বাড়াতেই থাকব।

وَنَرِثُهُ مَا يَقُولُ وَيَأْتِينَا فَرْدًا19.80

আরবি উচ্চারণ ১৯.৮০। অ নারিছুহূ মা-ইয়াকুলু অ ইয়াতীনা-র্ফাদা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৮০ আর সে যা বলে আমি তার অধিকারী হব এবং আমার কাছে সে একাকী আসবে।

وَاتَّخَذُوا مِنْ دُونِ اللَّهِ آلِهَةً لِيَكُونُوا لَهُمْ عِزًّا19.81

আরবি উচ্চারণ ১৯.৮১। অত্তাখাযূ মিন্ দূ নিল্লা-হি আ-লিহাতাল্ লিইয়াকূনূ লাহুম্ ই’য্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৮১ আর তারা আল্ল¬াহ ছাড়া বহু ‘ইলাহ’ গ্রহণ করেছে, যাতে ওরা তাদের সাহায্যকারী হতে পারে।

كَلَّا سَيَكْفُرُونَ بِعِبَادَتِهِمْ وَيَكُونُونَ عَلَيْهِمْ ضِدًّا 19.82

আরবি উচ্চারণ ১৯.৮২। কাল্লা-; সাইয়াক্ফুরূনা বি‘ইবা-দাতিহিম্ অইয়াকূনূনা ‘আলাইহিম্ দ্বিদ্দা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৮২ কখনো নয়, এরা তাদের ইবাদাতের কথা অস্বীকার করবে এবং তাদের বিপক্ষ হয়ে যাবে।

أَلَمْ تَرَ أَنَّا أَرْسَلْنَا الشَّيَاطِينَ عَلَى الْكَافِرِينَ تَؤُزُّهُمْ أَزًّا19.83

আরবি উচ্চারণ ১৯.৮৩। আলাম্তার আন্না য় র্আসাল্নাশ্ শাইয়া-ত্বীনা ‘আলাল্ কা-ফিরীনা তায়ুয্যুহুম্ আয্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৮৩ তুমি কি লক্ষ্য করনি যে, আমি কাফিরদের জন্য শয়তানদেরকে ছেড়ে দিয়েছি; ওরা তাদেরকে বিশেষভাবে প্ররোচিত করে?

فَلَا تَعْجَلْ عَلَيْهِمْ إِنَّمَا نَعُدُّ لَهُمْ عَدًّا19.84

আরবি উচ্চারণ ১৯.৮৪। ফালা-তা’জ্বাল্ ‘আলাইহিম্; ইন্নামা-না‘উদ্দু লাহুম্ ‘আদ্দা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৮৪ সুতরাং তাদের ব্যাপারে তুমি তাড়াহুড়া করো না; আমি তো কেবল তাদের জন্য নির্ধারিত কাল গণনা করছি,

يَوْمَ نَحْشُرُ الْمُتَّقِينَ إِلَى الرَّحْمَنِ وَفْدًا19.85

আরবি উচ্চারণ ১৯.৮৫। ইয়াওমা নাহ্শুরুল্ মুত্তাক্বীনা ইর্লা রহমা-নি অফ্দা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৮৫ যেদিন পরম করুণাময়ের নিকট মুত্তাকীদেরকে সম্মানিত মেহমানরূপে সমবেত করব,

وَنَسُوقُ الْمُجْرِمِينَ إِلَى جَهَنَّمَ وِرْدًا19.86

আরবি উচ্চারণ ১৯.৮৬। অ নাসূ কুল্ মুজ্বরিমীনা ইলা-জ্বাহান্নামা ওর্য়িদা-

বাংলা অনুবাদ ১৯.৮৬ আর অপরাধীদেরকে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাব।

لَا يَمْلِكُونَ الشَّفَاعَةَ إِلَّا مَنِ اتَّخَذَ عِنْدَ الرَّحْمَنِ عَهْدًا19.87

আরবি উচ্চারণ ১৯.৮৭। লা-ইয়াম্লিকূনাশ্ শাফা-‘আতা ইল্লা-মানিত্তাখযা ‘ইর্ন্দা রহমা- নি ‘আহ্দা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৮৭ যারা পরম করুণাময়ের কাছ থেকে প্রতিশ্র“তি নিয়েছে তারা ছাড়া অন্য কেউ সুপারিশ করার ক্ষমতা রাখবে না।

وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمَنُ وَلَدًا19.88

আরবি উচ্চারণ ১৯.৮৮। অ ক্ব-লুত্তাখর্যা রহ্মা-নু অলাদা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৮৮ আর তারা বলে, ‘পরম করুণাময় সন্তান গ্রহণ করেছেন।’

لَقَدْ جِئْتُمْ شَيْئًا إِدًّا19.89

আরবি উচ্চারণ ১৯.৮৯। লাক্বদ্ জ্বিতুম্ শাইয়ান্ ইদ্দা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৮৯ অবশ্যই তোমরা এক জঘন্য বিষয়ের অবতারণা করেছ।

تَكَادُ السَّمَاوَاتُ يَتَفَطَّرْنَ مِنْهُ وَتَنْشَقُّ الْأَرْضُ وَتَخِرُّ الْجِبَالُ هَدًّا 19.90

আরবি উচ্চারণ ১৯.৯০। তাকা-দুস্ সামা-ওয়া-তু ইয়াতাফাত্ত্বোর্য়ানা মিন্হু অতান্শাক্ব্ক্বুল্ র্আদ্বু অতার্খিরুল্ জ্বিবা-লু হাদ্দা।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৯০ এতে আসমানসমূহ ফেটে পড়ার, যমীন বিদীর্ণ হওয়ার এবং পাহাড়সমূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হবে।

أَنْ دَعَوْا لِلرَّحْمَنِ وَلَدًا19.91

আরবি উচ্চারণ ১৯.৯১। আন্ দা‘আও র্লিরহ্মা-নি অলাদা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৯১ কারণ তারা পরম করুণাময়ের সন্তান আছে বলে দাবী করে।

وَمَا يَنْبَغِي لِلرَّحْمَنِ أَنْ يَتَّخِذَ وَلَدًا19.92

আরবি উচ্চারণ ১৯.৯২। অমা-ইয়াম্বাগী র্লিরহ্মা-নি আইঁ ইয়াত্তাখিযা অলাদা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৯২ অথচ সন্তান গ্রহণ করা পরম করুণাময়ের জন্য শোভনীয় নয়।

إِنْ كُلُّ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ إِلَّا آتِي الرَّحْمَنِ عَبْدًا19.93

আরবি উচ্চারণ ১৯.৯৩। ইন্ কুল্লু মান্ ফিস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বি ইল্লা য় আ-র্তি রহ্মা-নি ‘আব্দা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৯৩ আসমান ও যমীনে এমন কেউ নেই, যে বান্দা হিসেবে পরম করুণাময়ের কাছে হাযির হবে না।

لَقَدْ أَحْصَاهُمْ وَعَدَّهُمْ عَدًّا19.94

আরবি উচ্চারণ ১৯.৯৪। লাক্বদ্ আহ্ছোয়া-হুম্ অ ‘আদ্দাহুম্ ‘আদ্দা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৯৪ তিনি তাদের সংখ্যা জানেন এবং তাদেরকে যথাযথভাবে গণনা করে রেখেছেন।

وَكُلُّهُمْ آتِيهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَرْدًا19.95

আরবি উচ্চারণ ১৯.৯৫। অ কুল্লুহুম্ আ-তীহি ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি র্ফাদা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৯৫ আর কিয়ামতের দিন তাদের সকলেই তাঁর কাছে আসবে একাকী।

إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ سَيَجْعَلُ لَهُمُالرَّحْمَنُ وُدًّا19.96

আরবি উচ্চারণ ১৯.৯৬। ইন্নাল্লাযীনা আ-মানূ অ ‘আমিলুছ্ ছোয়া-লিহা-তি সাইয়াজ্ব্‘আলু লাহুর্মু রহ্মা-নু উদ্দা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৯৬ নিশ্চয় যারা ঈমান আনে এবং সৎ কাজ করে পরম করুণাময় অবশ্যই তাদের জন্য (বান্দাদের হৃদয়ে) ভালবাসা সৃষ্টি করবেন।

فَإِنَّمَا يَسَّرْنَاهُ بِلِسَانِكَ لِتُبَشِّرَ بِهِ الْمُتَّقِينَ وَتُنْذِرَ بِهِ قَوْمًا لُدًّا 19.97

আরবি উচ্চারণ ১৯.৯৭। ফাইন্নামা-ইয়ার্স্সানা-হু বিলিসা-নিকা লিতুবাশ্শির বিহিল্ মুত্তাক্বীনা অতুন্যির বিহী ক্বওমাল্ লুদ্দা।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৯৭ আর আমি তো তোমার ভাষায় কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি, যাতে তুমি এর দ্বারা মুত্তাকীদেরকে সুসংবাদ দিতে পার এবং কলহপ্রিয় কওমকে তদ্বারা সতর্ক করতে পার।

وَكَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُمْ مِنْ قَرْنٍ هَلْ تُحِسُّ مِنْهُمْ مِنْ أَحَدٍ أَوْ تَسْمَعُ لَهُمْ رِكْزًا 19.98

আরবি উচ্চারণ ১৯.৯৮। অকাম্ আহ্লাক্না- ক্বব্লাহুম্ মিন্ র্ক্বন্; হাল্ তুহিস্সু মিন্হুম্ মিন্ আহাদিন আও তাস্মা‘উ লাহুম্ রিক্যা-।

বাংলা অনুবাদ ১৯.৯৮ আর তাদের পূর্বে কত প্রজন্মকে আমি ধ্বংস করেছি! তুমি কি তাদের কাউকে দেখতে পাও, কিংবা শুনতে পাও তাদের কোন ক্ষীণ আওয়াজ?

আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ

    প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে ইমেল : info@banglanewsexpress.com

    আমরা আছি নিচের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে ও

    Leave a Comment