সূরা বনী ইসরাঈল সকল তথ্য আল কোরআন ও হাদিসের আলোতে,পৃথিবীর জানা অজানা কিছু তথ্য আল বনী ইসরাঈল আলমল ও ফজিলত, সূরা বনী ইসরাঈল কতো বার পাঠ করলে কোন আলম ও ফজিলত, সূরা বনী ইসরাঈল নাযিলের কারন গুলো কি কি ,কুরআন ১৭ সূরা আল – বনী ইসরাঈল

আজকের বিষয়: সূরা বনী ইসরাঈল সকল তথ্য আল কোরআন ও হাদিসের আলোতে,পৃথিবীর জানা অজানা কিছু তথ্য আল বনী ইসরাঈল আলমল ও ফজিলত, সূরা বনী ইসরাঈল কতো বার পাঠ করলে কোন আলম ও ফজিলত, সূরা বনী ইসরাঈল নাযিলের কারন গুলো কি কি ,কুরআন ১৭ সূরা আল – বনী ইসরাঈল

পবিত্র সেই সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রজনীতে ভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত, যার আশপাশ আমি বরকতময় করেছি, যাতে আমি তাকে আমার (কুদরতের) কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দিতে পারি। নিশ্চয়ই তিনি (আল্লাহ) সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। [সূরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ১ (প্রথম পর্ব)]

তাফসির: এটি সূরা বনি ইসরাঈলের প্রথম আয়াত। এ সূরায় মোট ১১১ আয়াত ও ১২টি রুকু রয়েছে।সূরাটি মহানবী (সা.)-এর মক্কার জীবনের একেবারে শেষের দিকে অবতীর্ণ হয়েছে। সূরাটি মহান আল্লাহর তাসবিহ তথা পবিত্রতা বর্ণনার মাধ্যমে শুরু হয়েছে এবং আল্লাহর হামদ তথা প্রশংসার মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে। ইমাম বুখারি (রহ.) আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে সূরা বনি ইসরাঈল, সূরা কাহাফ, সূরা মারিয়াম, সূরা ত্ব-হা ও সূরা আম্বিয়া প্রথম দিকে অবতীর্ণ সূরা।

আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অভ্যাস ছিল, প্রতি রাতে তিনি সূরা বনি ইসরাঈল ও সূরা জুমার পাঠ করতেন। ’ (আহমাদ, তিরমিজি ও নাসাঈ)

এ সূরার দুটি নাম রয়েছে। উপমহাদেশে এটি সূরা বনি ইসরাঈল নামে পরিচিত, তবে আরব বিশ্বে সূরাটি ‘আল ইসরা’ নামে সমধিক প্রসিদ্ধ। এ সূরার চার নম্বর আয়াতের অংশবিশেষ থেকে ‘বনি ইসরাঈল’ নামটি গৃৃহীত হয়েছে। বনি ইসরাঈল অর্থ ইসরাঈলের বংশধর। হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর অন্য নাম ইসরাঈল। বনি ইসরাঈল এ সূরার আলোচ্য বিষয় নয়, বরং এ নামটিও কোরআনের বেশির ভাগ সূরার মতো অংশবিশেষের দিকে তাকিয়ে রাখা হয়েছে। এ সূরার চার নম্বর আয়াতে বনি ইসরাঈল শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এরপর বনি ইসরাঈল সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হয়েছে। তাই এ সূরার নাম সূরা বনি ইসরাঈল রাখা হয়েছে।

এ সূরার আরেকটি নাম হলো ‘আল ইসরা’। এর অর্থ নৈশ ভ্রমণ। যেহেতু এ সূরার সূচনায়ই মহানবী (সা.)-এর ঐতিহাসিক রাত্রিকালীন ঊর্ধ্ব জগৎ ভ্রমণ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, তাই এ সূরা ‘আল ইসরা’ নামেও পরিচিতি লাভ করেছে।

হাদিস ও সিরাতের বেশির ভাগ কিতাবের বর্ণনা অনুযায়ী হিজরতের এক বছর আগে মিরাজ সংঘটিত হয়েছিল। মিরাজ থেকে ফিরে আসার পরই এ সূরা অবতীর্ণ হয়। ড. আল্লামা ওহবা জুহাইলি (রহ.) লিখেছেন, কয়েকটি দিক থেকে এ সূরার সঙ্গে আগের সূরার সংযোগ আছে।


প্রথমত, আগের সূরার নাম ছিল সূরা নাহল। সূরা নাহলের শেষের দিকে জুমাবার নিয়ে বনি ইসরাঈলের মতবিরোধের কথা বর্ণনা করা হয়েছিল আর আলোচ্য সূরা বনি ইসরাঈলে বনি ইসরাঈলের শরিয়তের সংক্ষিপ্ত রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, সূরা নাহলের শেষের কয়েকটি আয়াতে অবিশ্বাসীদের পক্ষ থেকে নির্যাতিত হওয়ার বিপরীতে মহানবী (সা.)-কে ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল আর সূরা বনি ইসরাঈলে মহানবী (সা.)-এর বিশেষ মর্যাদা ও অনন্য বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। এর মাধ্যমে এদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে অবিশ্বাসীরা মহানবী (সা.)-এর মর্যাদা উপলব্ধি করতে পারেনি; কিন্তু আল্লাহর কাছে তিনি অনন্য মর্যাদার অধিকারী। তৃতীয়ত, সূরা নাহলে বলা হয়েছে যে কোরআন আল্লাহর প্রেরিত গ্রন্থ আর সুরা বনি ইসরাঈলে কোরআনময় সমাজ গঠনের রূপরেখা বর্ণনা করা হয়েছে। এভাবেই উভয় সূরার মধ্যে সংযোগ স্থাপিত হয়েছে।

আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ

নামকরণ:

চার নম্বর আয়াতের অংশ বিশেষ (আরবী ————————————) থেকে বনী ইসরাঈল নাম গৃহীত হয়েছে । বনী ইসরাঈল এই সূরার আলোচ্য বিষয় নয় । বরং এ নামটিও কুরআনের অধিকাংশ সূরার মতো প্রতীক হিসেবেই রাখা হয়েছে ।

নাযিলের সময় কাল

প্রথম আয়াতটিই একথা ব্যক্ত করে দেয় যে, মি’রাজের সময় এ সূরাটি নাযিল হয় । হাদীস ও সীরাতের অধিকাংশ কিতাবের বর্ণনা অনুসারে হিজরাতের এক বছর আগে মি’রাজ সংঘটিত হয়েছিল । তাই এ সূরাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মক্কায় অবস্থানের শেষ যুগে অবতীর্ণ সূরাগুলোর অন্তরভুক্ত ।

পটভূমি

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাওহীদের আওয়াজ বুলন্দ করার পর তখন ১২ বছর অতীত হয়ে গিয়েছিল । তাঁর পথ রুখে দেবার জন্য তাঁর বিরোধীরা সব রকমের চেষ্টা করে দেখছিল । তাতে সকল প্রকার বাধা বিপত্তির দেয়াল টপকে তাঁর আওয়াজ আরবের সমস্ত এলাকায় পৌঁছে গিয়েছিল । আরবের এমন কোন গোত্র ছিল না যার দু’চারজন লোক তাঁর দাওয়াতে প্রভাবিত হয়নি । মক্কাতেই আন্তরিকতা সম্পন্ন লোকদের এমন একটি ছোট্ট দল তৈরী হয়ে গিয়েছিল যারা এ সত্যের দাওয়াতের সাফল্যের জন্য প্রত্যেকটি বিপদ ও বাধা বিপত্তির মোকাবিলা করতে প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিল । মদীনায় শক্তিশালী আওস ও কাযরাজ গোত্র দু’টির বিপুল সংখ্যক লোক তার সমর্থকে পরিণত হয়েছিল এখন তাঁর মক্কা থেকে মদীনায় স্থানান্তরিত হয়ে বিক্ষিপ্ত মুসলমানদেরকে এক জায়গায় একত্র করে ইসলামের মূলনীতিসমূহের ভিত্তিতে একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার সময় ঘনিয়ে এসেছিল এবং অতিশীঘ্রই তিনি এ সুযোগ লাভ করতে যাচ্ছিলেন ।

এহেন অবস্থায় মি’রাজ সংঘটিত হয় । মি’রাজ থেকে ফেরার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়াবাসীকে এ পয়গাম শুনান ।

বিষয়বস্তু ও আলোচ্য বিষয়

এ সূরায় সতর্ক করা, বুঝানো ও শিক্ষা দেয়া এ তিনটি কাজই একটি আনুপাতিক হারে একত্র করে দেয়া হয়েছে ।

সতর্ক করা হয়েছে মক্কা কাফেরদেরকে । তাদেরকে বলা হয়েছে, বনী ইসরাঈল ও অন্য জাতিদের পরিণাম থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো । আল্লাহর দেয়া যে অবকাশ খতম হবার সময় কাছে এসে গেছে তা শেষ হবার আগেই নিজেদেরকে সামলে নাও । মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও কুরআনের মাধ্যমে যে দাওয়াত পেশ করা হচ্ছে তা গ্রহণ করো । অন্যথায় তোমাদের ধ্বংস করে দেয়া হবে এবং তোমাদের জায়গায় অন্য লোকদেরকে দুনিয়ায় আবাদ করা হবে । তাছাড়া হিজরাতের পর যে বনী ইসরাঈলের উদ্দেশ্যে শীঘ্রই অহী নাযিল হতে যাচ্ছিল পরোক্ষভাবে তাদেরকে এভাবে সতর্ক করা হয়েছে যে, প্রথমে যে শাস্তি তোমরা পেয়েছো তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো এবং এখন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াত লাভের পর তোমরা যে সুযোগ পাচ্ছো তার সদ্ব্যবহার করো । এ শেষ সুযোগটিও যদি তোমরা হারিয়ে ফেলো এবং এরপর নিজেদের পূর্বতন কর্মনীতির পুনরাবৃত্তি করো তাহলে ভয়াবহ পরিণামের সম্মুখীন হবে ।

মানুষের সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য এবং কল্যাণ ও অকল্যাণের ভিত্তি আসলে কোন কোন জিনিসের ওপর রাখা হয়েছে, তা অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী পদ্ধতিতে বুঝানো হয়েছে । তাওহীদ, পরকাল, নবুওয়াত ও কুরআনের সত্যতার প্রমাণ পেশ করা হয়েছে । মক্কার কাফেরদের পক্ষ থেকে এ মৌলিক সত্যগুলোর ব্যাপারে যেসব সন্দেহ – সংশয় পেশ করা হচ্ছিল সেগুলো দূর করা হয়েছে । দলীল – প্রমাণ পেশ করার সাথে সাথে মাঝে মাঝে অস্বীকারকারীদের অজ্ঞতার জন্য তাদেরকে ধমকানো ও ভয় দেখানো হয়েছে ।

শিক্ষা দেবার পর্যায়ে নৈতিকতা ও সভ্যতা – সংস্কৃতির এমনসব বড় বড় মূলনীতির বর্ণনা করা হয়েছে যেগুলোর ওপর জীবনের সমগ্র ব্যবস্থাটি প্রতিষ্ঠিত করাই ছিল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাওয়াতের প্রধান্য লক্ষ্য । এটিকে ইসলামের ঘোষণাপত্র বলা যেতে পারে । ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার এক বছর আগে আরববাসীদের সামনে এটি পেশ করা হয়েছিল । এতে সুস্পষ্টভাবে বলে দেয়া হয়েছে যে, এটি একটি নীল নকশা এবং এ নীল নকশার ভিত্তিতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের দেশের মানুষের এবং তারপর সমগ্র বিশ্ববাসীর জীবন গড়ে তুলতে চান ।

এসব কথার সাথে সাথেই আবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হেদায়াত করা হয়েছে যে, সমস্যা ও সংকটের প্রবল ঘূর্ণবর্তে মুজবুতভাবে নিজের অবস্থানের ওপর টিকে থাকো এবং কুফরীর সাথে আপোশ করার চিন্তাই মাথায় এনো না । তাছাড়া মুসলমানরা যাদের মন কখনো কখনো কাফেরদের জুলুম, নিপীড়ন, কূটতর্ক এবং লাগাতার মিথ্যাচার ও মিথ্যা দোষারোপের ফলে বিরক্তিতে ভরে উঠতো, তাদেরকে ধৈর্য ও নিশ্চিন্ততার সাথে অবস্থার মোকাবিলা করতে থাকার এবং প্রচার ও সংশোধনের কাজে নিজেদের আবেগ – অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার উপদেশ দেয়া হয়েছে । এ ব্যাপারে আত্মসংশোধন ও আতসংযমের জন্য তাদেরকে নামাযের ব্যবস্থাপত্র দেয়া যেসব উন্নত গুণাবলীতে বিভূষিত হওয়া উচিত তেমনি ধরনের গুণাবলীতে ভূষিত করবে । হাদীস থেকে জানা যায়, এ প্রথম পাঁচ ওয়াক্ত নামায মুসলমানদের ওপর নিয়মিতভাবে ফরয করা হয় ।

আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ

সুরা নং- ০১৭ : বনি ইসরাইল
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

আরবি উচ্চারণ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

বাংলা অনুবাদ পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)।

سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا إِنَّه هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ17.1

আরবি উচ্চারণ ১৭.১। সুবহা-নাল্লাযী য় আস্র- বি‘আব্দিহী লাইলাম্ মিনাল্ মাস্জ্বিদিল্ হার-মি ইলাল্ মাস্জ্বিদিল্ আক্ব্ছোয়াল্লাযী বা-রক্না হাওলাহূ লিনুরিয়াহূ মিন্ আ-ইয়া-তিনা; ইন্নাহূ হুঅস্ সামী‘ঊল্ বার্ছী।

বাংলা অনুবাদ ১৭.১ পবিত্র মহান সে সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে নিয়ে গিয়েছেন আল মাসজিদুল হারাম থেকে আল মাসজিদুল আকসা পর্যন্ত, যার আশপাশে আমি বরকত দিয়েছি, যেন আমি তাকে আমার কিছু নিদর্শন দেখাতে পারি। তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।

وَآتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ وَجَعَلْنَاهُ هُدًى لِبَنِي إِسْرَائِيلَ أَلَّا تَتَّخِذُوا مِنْ دُونِي وَكِيلًا17.2 ‎

আরবি উচ্চারণ ১৭.২। অ আ-তাইনা- মূসাল্ কিতা-বা অজ্বা‘আল্না-হু হুদাল্লিবানী য় ইস্রা-ঈলা আল্লা-তাত্তাখিযূ মিন্ দূনী অকীলা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.২ আর আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছি এবং তা বনী ইসরাঈলের জন্য পথনির্দেশ বানিয়েছি। যেন তোমরা আমাকে ছাড়া কোন কর্মবিধায়ক না বানাও।

ذُرِّيَّةَ مَنْ حَمَلْنَا مَعَ نُوحٍ إِنَّهُ كَانَ عَبْدًا شَكُورًا 17.3

আরবি উচ্চারণ ১৭.৩। র্যুরিয়্যাতা মান্ হামাল্না-মা‘আ নূহ্; ইন্নাহূ কা-না ‘আব্দান্ শাকূর-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৩ সে তাদের বংশধর, যাদেরকে আমি নূহের সাথে আরোহণ করিয়েছিলাম, নিশ্চয় সে ছিল কৃতজ্ঞ বান্দা।

وَقَضَيْنَا إِلَى بَنِي إسْرائِيلَ فِي الْكِتَابِ لَتُفْسِدُنَّ فِي الْأَرْضِ مَرَّتَيْنِ وَلَتَعْلُنَّ عُلُوًّا كَبِيرًا17.4

আরবি উচ্চারণ ১৭.৪। অ ক্বাদ্বোয়াইনা য় ইলা-বানী য় ইস্র-ঈলা ফিল্ কিতা-বি লাতুফ্সিদুন্না ফিল্ আরদ্ব্ র্মারাতাইনি অ লাতা’লুন্না উলুঅন্ কাবীর -।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৪ আর আমি বনী ইসরাঈলকে কিতাবে সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলাম যে, তোমরা যমীনে দু’বার অবশ্যই ফাসাদ করবে এবং ঔদ্ধত্য দেখাবে মারাত্মকভাবে।

فَإِذَا جَاءَ وَعْدُ أُولَاهُمَا بَعَثْنَا عَلَيْكُمْ عِبَادًا لَنَا أُولِي بَأْسٍ شَدِيدٍ فَجَاسُوا خِلَالَ الدِّيَارِ وَكَانَ وَعْدًا مَفْعُولًا17.5

আরবি উচ্চারণ ১৭.৫। ফাইযা- জ্বা-য়া ওয়া’দু উলা-হুমা-বা‘আছ্না- ‘আলাইকুম্ ‘ইবাদাল্ লানা য় উলী বাসিন্ শাদীদিন্ ফাজ্বা-সূ খিলালাদ্দিয়ার্-; অকা-না অ’দাম্ মাফ্‘ঊলা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৫ অতঃপর যখন এ দু’য়ের প্রথম ওয়াদা আসল, তখন আমি তোমাদের উপর আমার কিছু বান্দা পাঠালাম, যারা কঠোর যুদ্ধবাজ। অতঃপর তারা ঘরে ঘরে ঢুকে ধ্বংসযজ্ঞ চালাল। আর এ ওয়াদা পূর্ণ হওয়ারই ছিল।

ثُمَّ رَدَدْنَا لَكُمُ الْكَرَّةَ عَلَيْهِمْ وَأَمْدَدْنَاكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَجَعَلْنَاكُمْ أَكْثَرَ نَفِيرًا17.6

আরবি উচ্চারণ ১৭.৬। ছুম্মা রদাদ্না-লাকুমুল্ র্কারতা ‘আলাইহিম্ অআম্দাদ্না-কুম্ বিআম্ওয়া- লিঁও অবানীনা অজ্বা‘আল্না-কুম্ আক্ছার নাফীর-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৬ তারপর আমি তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের জন্য পালা ঘুরিয়ে দিলাম, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে তোমাদেরকে মদদ করলাম এবং জনবলে তোমাদেরকে সংখ্যাধিক্যে পরিণত করলাম।

إِنْ أَحْسَنْتُمْ أَحْسَنْتُمْ لِأَنْفُسِكُمْ وَإِنْ أَسَأْتُمْ فَلَهَا فَإِذَا جَاءَ وَعْدُ الْآخِرَةِ لِيَسُوءُوا وُجُوهَكُمْ وَلِيَدْخُلُوا الْمَسْجِدَ كَمَا دَخَلُوهُ أَوَّلَ مَرَّةٍ وَلِيُتَبِّرُوا مَا عَلَوْا تَتْبِيرًا17.7

আরবি উচ্চারণ ১৭.৭। ইন্ আহ্সান্তুম্ আহ্সান্তুম্ লিআন্ফুসিকুম্ অ ইন্ আসা’তুম্ ফালাহা-; ফা ইযা-জ্বা-য়া ওয়া’দুল্ আ-খিরতি লিয়াসূ-য়ু উজুহাকুম্ অলিইয়াদ্খুলুল্ মাস্জ্বিদা কামা-দাখালূহু আউঅলা র্মারাতিঁও অলিইয়ুতাব্বিরূ মা-‘আলাও তাত্বীরা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৭ তোমরা যদি ভাল কর, তবে নিজদের জন্যই ভাল করবে এবং যদি মন্দ কর তবে তা নিজদের জন্যই। এরপর যখন পরবর্তী ওয়াদা এল, (তখন অন্য বান্দাদের প্রেরণ করলাম) যাতে তারা তোমাদের চেহারাসমূহ মলিন করে দেয়, আর যেন মসজিদে ঢুকে পড়ে যেমন ঢুকে পড়েছিল প্রথমবার এবং যাতে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয় যা ওদের কর্তৃত্বে ছিল।

عَسَى رَبُّكُمْ أَنْ يَرْحَمَكُمْ وَإِنْ عُدْتُمْ عُدْنَا وَجَعَلْنَا جَهَنَّمَ لِلْكَافِرِينَ حَصِيرًا17.8

আরবি উচ্চারণ ১৭.৮। ‘আসা রব্বুকুম্ আইঁ ইর্য়াহামাকুম্ অ ইন্ ‘ঊত্তুম্ ‘ঊদ্না-। অ জ্বা‘আল্না- জ্বাহান্নামা লিল্ কা-ফিরীনা হাছীর-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৮ আশা করা যায় তোমাদের রব তোমাদের উপর রহম করবেন। কিন্তু তোমরা যদি পুনরায় কর, তাহলে আমিও পুনরায় করব। আর আমি জাহান্নামকে করেছি কাফিরদের জন্য কয়েদখানা।

إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ وَيُبَشِّرُ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا كَبِيرًا17.9

আরবি উচ্চারণ ১৭.৯। ইন্না হাযা-ল্ ক্বরুআ-না ইয়াহ্দী লিল্লাতী হিয়া আক্ব অমু অ ইয়ুবাশ্শিরুল্ মুমিনী নাল্লা যীনা ইয়া’মালূনাছ্ ছোয়া-লিহা-তি আন্না লাহুম্ আজরান্ কাবীরা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৯ নিশ্চয় এ কুরআন এমন একটি পথ দেখায় যা সবচেয়ে সরল এবং যে মুমিনগণ নেক আমল করে তাদেরকে সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার।

وَأَنَّ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ أَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا 17.10

আরবি উচ্চারণ ১৭.১০। অ আন্নাল্ লাযীনা লা-ইয়ুমিনূনা বিল্আ-খিরতি আ’তাদ্না-লাহুম্ ‘আযা-বান্ আলীমা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.১০ আর যারা আখিরাতে ঈমান রাখে না আমি তাদের জন্য প্রস্তুত করেছি যন্ত্রণাদায়ক আযাব।

وَيَدْعُ الْإِنْسَانُ بِالشَّرِّ دُعَاءَهُ بِالْخَيْرِ وَكَانَ الْإِنْسَانُ عَجُولًا17.11

আরবি উচ্চারণ ১৭.১১। অ ইয়াদ্‘ঊল্ ইন্সা-নু বির্শ্শারি দু‘আ-য়াহূ বিল্ খর্ই; অকা-নাল্ ইন্সা-নু ‘আজুলা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.১১ আর মানুষ অকল্যাণের দোআ করে, যেমন তার দোআ হয় কল্যাণের জন্য। আর মানুষ তো তাড়াহুড়াপ্রবণ।

وَجَعَلْنَا اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ آيَتَيْنِ فَمَحَوْنَا آيَةَ اللَّيْلِ وَجَعَلْنَا آيَةَ النَّهَارِ مُبْصِرَةً لِتَبْتَغُوا فَضْلًا مِنْ رَبِّكُمْ وَلِتَعْلَمُوا عَدَدَ السِّنِينَ وَالْحِسَابَ وَكُلَّ شَيْءٍ فَصَّلْنَاهُ تَفْصِيلًا17.12

আরবি উচ্চারণ ১৭.১২। অ জ্বা‘আল্নাল্ লাইলা অন্নাহা-রা আ-ইয়াতাইনি ফামাহাওনা য় আ-ইয়াতাল্লাইলি অ জ্বা‘আল্না য় আ-ইয়াতান্নাহা-রি মুব্ছিরাতাল্লিতাব্ তাগু ফাদ্ব্লাম্ র্মি রব্বিকুম্ অ লিতা’লামূ ‘আদাদাস্ সিনীনা অল্হিসা-ব্; অকুল্লা শাইয়্যিন্ ফাছ্ছোয়াল্না-হু তাফ্ছীলা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.১২ আর আমি রাত ও দিনকে করেছি দু’টো নিদর্শন। অতঃপর মুছে দিয়েছি রাতের নিদর্শন এবং দিনের নিদর্শনকে করেছি আলোকময়, যাতে তোমরা তোমাদের রবের অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার এবং যাতে তোমরা বর্ষসংখ্যা ও হিসাব জানতে পার। আর আমি প্রত্যেক বিষয় বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি।

وَكُلَّ إِنْسَانٍ أَلْزَمْنَاهُ طَائِرَهُ فِي عُنُقِهِ وَنُخْرِجُ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كِتَابًا يَلْقَاهُ مَنْشُورًا17.13

আরবি উচ্চারণ ১৭.১৩। অকুল্লা ইন্সা-নিন্ আল্যাম্না-হু ত্বোয়া-য়িরাহূ ফী উনুক্বিহ্; অনুখ্রিজু লাহূ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি কিতাবাঁই ইয়াল্ক্ব-হু মান্শূর-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.১৩ আর আমি প্রত্যেক মানুষের কর্মকে তার ঘাড়ে সংযুক্ত করে দিয়েছি এবং কিয়ামতের দিন তার জন্য আমি বের করব একটি কিতাব, যা সে পাবে উন্মুক্ত।

اقْرَأْ كِتَابَكَ كَفَى بِنَفْسِكَ الْيَوْمَ عَلَيْكَ حَسِيبًا 17.14

আরবি উচ্চারণ ১৭.১৪। ইক্বর’ কিতা-বাক্; কাফা-বিনাফ্সিকাল্ ইয়াওমা ‘আলাইকা হাসীবা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.১৪ পাঠ কর তোমার কিতাব, আজ তুমি নিজেই তোমার হিসাব-নিকাশকারী হিসেবে যথেষ্ট।

مَنِ اهْتَدَى فَإِنَّمَا يَهْتَدِي لِنَفْسِهِ وَمَنْ ضَلَّ فَإِنَّمَا يَضِلُّ عَلَيْهَا وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّى نَبْعَثَ رَسُولًا17.15

আরবি উচ্চারণ ১৭.১৫। মানিহ্তাদা- ফাইন্নামা- ইয়াহ্তাদী লিনাফ্সিহী অ মান্ দ্বোয়াল্লা ফাইন্নামা-ইয়াদ্বিল্লু ‘আলাইহা-; অলা-তাযিরু ওয়া-যিরাতুঁও ওয়িয্র উখ্র-;ওমা-কুন্না মু‘আয্যিবীনা হাত্তা-নাব‘আছা রসূলা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.১৫ যে হিদায়াত গ্রহণ করে, সে তো নিজের জন্যই হিদায়াত গ্রহণ করে এবং যে পথভ্রষ্ট হয় সে নিজের (স্বার্থের) বিরুদ্ধেই পথভ্রষ্ট হয়। আর কোন বহনকারী অপরের (পাপের) বোঝা বহন করবে না। আর রাসূল প্রেরণ না করা পর্যন্ত আমি আযাবদাতা নই।

وَإِذَا أَرَدْنَا أَنْ نُهْلِكَ قَرْيَةً أَمَرْنَا مُتْرَفِيهَا فَفَسَقُوا فِيهَا فَحَقَّ عَلَيْهَا الْقَوْلُ فَدَمَّرْنَاهَا تَدْمِيرًا17.16

আরবি উচ্চারণ ১৭.১৬। অইযা য় আরদ্না য় আন্ নুহ্লিকা র্ক্বাইয়াতান্ আর্মানা- মুত্রাফীহা-ফাফাসাকু ফীহা-ফাহাক্বক্বা ‘আলাইহাল্ ক্বওলু ফাদার্ম্মানাহা-তাদ্মীর-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.১৬ আর যখন আমি কোন জনপদ ধ্বংস করার ইচ্ছা করি, তখন তার সম্পদশালীদেরকে (সৎকাজের) আদেশ করি। অতঃপর তারা তাতে সীমালঙ্ঘন করে। তখন তাদের উপর নির্দেশটি সাব্যস্ত হয়ে যায় এবং আমি তা সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত করি।

وَكَمْ أَهْلَكْنَا مِنَ الْقُرُونِ مِنْ بَعْدِ نُوحٍ وَكَفَى بِرَبِّكَ بِذُنُوبِ عِبَادِهِ خَبِيرًا بَصِيرًا17.17

আরবি উচ্চারণ ১৭.১৭। অকাম্ আহ্লাক্না- মিনাল্ কুরূ নি মিম্ বা’দি নূহ্; অকাফা- বিরব্বিকা বিযুনূবি ‘ইবাদিহী খবীরম্ বাছীর-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.১৭ আর নূহের পর আমি কত প্রজন্ম ধ্বংস করেছি! তোমার রব তাঁর বান্দাদের পাপের ব্যাপারে পূর্ণ অবহিত ও সর্বদ্রষ্টা হিসেবে যথেষ্ট।

مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْعَاجِلَةَ عَجَّلْنَا لَهُ فِيهَا مَا نَشَاءُ لِمَنْ نُرِيدُ ثُمَّ جَعَلْنَا لَهُ جَهَنَّمَ ثُمَّ جَعَلْنَا لَهُ جَهَنَّمَ يَصْلَاهَا مَذْمُومًا مَدْحُورًا17.18

আরবি উচ্চারণ ১৭.১৮। মান্ কা-না ইয়ুরীদুল্ ‘আ-জ্বিলাতা ‘আজ্জ্বাল্না- লাহূ ফীহা- মা-নাশা-য়ু লিমান্ নুরীদু ছুম্মা জ্বা‘আল্না- লাহূ জ্বাহান্নামা ইয়াছ্লা-হা-মায্মূমাম্ মাদ্হূর-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.১৮ যে দুনিয়া চায় আমি সেখানে তাকে দ্রুত দিয়ে দেই, যা আমি চাই, যার জন্য চাই। তারপর তার জন্য নির্ধারণ করি জাহান্নাম, সেখানে সে প্রবেশ করবে নিন্দিত, বিতাড়িত অবস্থায়।

وَمَنْ أَرَادَ الْآخِرَةَ وَسَعَى لَهَا سَعْيَهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَأُولَئِكَ كَانَ سَعْيُهُمْ مَشْكُورًا17.19

আরবি উচ্চারণ ১৭.১৯। অমান্ আর-দাল্ আ-খিরতা অসা‘আ-লাহা-সা’ইয়াহা-অ হুঅ মুমিনুন্ ফাউলা-য়িকা কা-না সা’ইয়ুহুম্ মাশ্কূরা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.১৯ আর যে আখিরাত চায় এবং তার জন্য যথাযথ চেষ্টা করে মুমিন অবস্থায়, তাদের চেষ্টা হবে পুরস্কারযোগ্য।

كُلًّا نُمِدُّ هَؤُلَاءِ وَهَؤُلَاءِ مِنْ عَطَاءِ رَبِّكَ وَمَا كَانَ عَطَاءُ رَبِّكَ مَحْظُورًا17.20

আরবি উচ্চারণ ১৭.২০। কুল্লান্নুমিদ্দুহা য় উলা-য়ি অহা য় উলা-য়ি মিন্ ‘আত্বোয়া-য়ি রব্বিক্; অমা-কা-না ‘আত্বোয়া-য়ু রব্বিকা মাহ্জূর-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.২০ এদের ও ওদের প্রত্যেককে আমি তোমার রবের দান থেকে সাহায্য করি, আর তোমার রবের দান বন্ধ হওয়ার নয়।

انْظُرْ كَيْفَ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَلَلْآخِرَةُ أَكْبَرُ دَرَجَاتٍ وَأَكْبَرُ تَفْضِيلًا17.21

আরবি উচ্চারণ ১৭.২১। উর্ন্জু কাইফা ফাদ্ব্দ্বোয়াল্না-বা’দ্বোয়াহুম্ ‘আলা-বা’দ্ব্; অলাল্ আ-খিরতু আক্বারু দারজ্বা-তিঁও অআক্বারু তাফ্দ্বীলা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.২১ ভেবে দেখ, আমি তাদের কতককে কতকের উপর কিভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি। আর আখিরাত নিশ্চয়ই মর্যাদায় মহান এবং শ্রেষ্ঠত্বে বৃহত্তর।

لَا تَجْعَلْ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ فَتَقْعُدَ مَذْمُومًا مَخْذُولًا 17.22

আরবি উচ্চারণ ১৭.২২। লা- তাজ্ব্‘আল্ মা‘আল্লা-হি ইলা-হান্ আ-খরা ফাতাক্ব‘ঊদা মায্মূমাম্ মাখ্যূলা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.২২ আল্লাহর সাথে অপর কোন ইলাহ নির্ধারণ করো না। তাহলে তুমি নিন্দিত ও লাঞ্ছিত হয়ে বসে পড়বে।

وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا17.23

আরবি উচ্চারণ ১৭.২৩। অক্বদ্বোয়া- রব্বুকা আল্লা- তা’বুদূ য় ইল্লা য় ইয়্যা-হু অবিল্ওয়া-লিদাইনি ইহ্সা-না-; ইম্মা-ইয়াব্লুগন্না ‘ইন্দাকাল্ কিবার আহাদুহুমা য় আও কিলা-হুমা-ফালা-তাকুল্ লাহুমা য় উফ্ফিঁও অলা-তার্ন্হাহুমা- অকুল্ লাহুমা-ক্বওলান্ কারীমা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.২৩ আর তোমার রব আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদাত করবে না এবং পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করবে। তাদের একজন অথবা উভয়েই যদি তোমার নিকট বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে ‘উফ’ বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না। আর তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বল।

وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ وَقُلْ رَبِّي ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا17.24

আরবি উচ্চারণ ১৭.২৪। অখ্ফিদ্ব লাহুমা-জ্বানাহায্ যুল্লি মির্না রহমাতি অ ক্বর্ রর্ব্বি হাম্হুমা-কামা-রব্বাইয়া-নী ছোয়াগীর।

বাংলা অনুবাদ ১৭.২৪ আর তাদের উভয়ের জন্য দয়াপরবশ হয়ে বিনয়ের ডানা নত করে দাও এবং বল, ‘হে আমার রব, তাদের প্রতি দয়া করুন যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে লালন-পালন করেছেন’।

رَبُّكُمْ أَعْلَمُ بِمَا فِي نُفُوسِكُمْ إِنْ تَكُونُوا صَالِحِينَ فَإِنَّهُ كَانَ لِلْأَوَّابِينَ غَفُورًا17.25

আরবি উচ্চারণ ১৭.২৫। রব্বুকুম্ আ’লামু বিমা-ফী নুফূসিকুম্; ইন্ তাকূনূ ছোয়া-লিহীনা ফাইন্নাহূ কা-না লিল্আওঅ-বীনা গফূরা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.২৫ তোমাদের অন্তরে যা আছে, সে সম্পর্কে তোমাদের রবই অধিক জ্ঞাত। যদি তোমরা নেককার হও তবে তিনি তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তনকারীদের প্রতি অধিক ক্ষমাশীল।

وَآتِ ذَا الْقُرْبَى حَقَّهُ وَالْمِسْكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَلَا تُبَذِّرْ تَبْذِيرًا 17.26

আরবি উচ্চারণ ১৭.২৬। অ আ-তি যাল্ ক্বর্ বা হাক্বক্বহূ অল্মিস্কীনা অব্নাস্ সাবীলি অলা-তুবার্য্যি তাব্যীর-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.২৬ আর আত্মীয়কে তার হক দিয়ে দাও এবং মিসকীন ও মুসাফিরকেও। আর কোনভাবেই অপব্যয় করো না।

إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِرَبِّهِ كَفُورًا17.27

আরবি উচ্চারণ ১৭.২৭। ইন্নাল্ মুবায্যিরীনা কানূ য় ইখ্ওয়া-নাশ্ শাইয়াত্বীন্; অ কা-নাশ্ শাইত্বোয়া-নু লিরব্বিহী কাফূর-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.২৭ নিশ্চয় অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। আর শয়তান তার রবের প্রতি খুবই অকৃতজ্ঞ।

وَإِمَّا تُعْرِضَنَّ عَنْهُمُ ابْتِغَاءَ رَحْمَةٍ مِنْ رَبِّكَ تَرْجُوهَا فَقُلْ لَهُمْ قَوْلًا مَيْسُورًا17.28

আরবি উচ্চারণ ১৭.২৮। অইম্মা-তু’রিদ্বোয়ান্না ‘আন্হুমুব্ তিগ-য়া রহ্মাতিম্ র্মি রব্বিকা র্তাজুহা- ফাকুল্ লাহুম্ ক্বওলাম্ মাইসূর-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.২৮ আর যদি তুমি তাদের থেকে বিমুখ থাকতেই চাও তোমার রবের পক্ষ থেকে রহমতের প্রত্যাশায় যা তুমি চাচ্ছ, তাহলে তাদের সাথে নম্র কথা বলবে।

وَلَا تَجْعَلْ يَدَكَ مَغْلُولَةً إِلَى عُنُقِكَ وَلَا تَبْسُطْهَا كُلَّ الْبَسْطِ فَتَقْعُدَ مَلُومًا مَحْسُورًا17.29

আরবি উচ্চারণ ১৭.২৯। অলা-তাজ্ব্‘আল্ ইয়াদাকা মাগ্লূলাতান্ ইলা- ‘ঊনুক্বিকা অলা-তাব্সুতুহা-কুল্লাল্ বাস্ত্বি ফাতাক্ব‘ঊদা মালূমাম্ মাহ্সূর-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.২৯ আর তুমি তোমার হাত তোমার ঘাড়ে আবদ্ধ রেখো না এবং তা পুরোপুরি প্রসারিত করো না , তাহলে তুমি নিন্দিত ও নিঃস্ব হয়ে বসে পড়বে।

إِنَّ رَبَّكَ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَقْدِرُ إِنَّهُ كَانَ بِعِبَادِهِ خَبِيرًا بَصِيرًا17.30

আরবি উচ্চারণ ১৭.৩০। ইন্না রব্বাকা ইয়াব্সুত্বরু রিয্কা লিমাইঁ ইয়াশা-য়ু অইয়াকুদি; ইন্নাহূ কা-না বি‘ইবাদিহী খবীরম্ বাছীর-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৩০ নিশ্চয় তোমার রব যাকে ইচ্ছা তার জন্য রিয্ক প্রশস্ত করে দেন এবং সীমিত করে দেন। তিনি অবশ্যই তাঁর বান্দাদের সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞাত, পূর্ণ দ্রষ্টা।

وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ خَشْيَةَ إِمْلَاقٍ نَحْنُ نَرْزُقُهُمْ وَإِيَّاكُمْ إِنَّ قَتْلَهُمْ كَانَ خِطْئًا كَبِيرًا 17.31

আরবি উচ্চারণ ১৭.৩১। অলা-তাক্বতুলূ য় আওলা-দাকুম্ খাশ্ইয়াতা ইম্লা-ক্ব; নাহ্নু র্নাযুকুহুম্ অ ইয়্যা-কুম্; ইন্না ক্বত্লাহুম্ কা-না খিতুয়ান্ কাবীর-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৩১ অভাব-অনটনের ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করো না। আমিই তাদেরকে রিয্ক দেই এবং তোমাদেরকেও। নিশ্চয় তাদেরকে হত্যা করা মহাপাপ।

وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا17.32

আরবি উচ্চারণ ১৭.৩২। অলা-তাক্ব রাবুয্ যিনা য় ইন্নাহূ কা-না ফা-হিশাহ্; অসা-য়া সাবীলা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৩২ আর তোমরা ব্যভিচারের কাছে যেয়ো না, নিশ্চয় তা অশ্লীল কাজ ও মন্দ পথ।

وَلَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَمَنْ قُتِلَ مَظْلُومًا فَقَدْ جَعَلْنَا لِوَلِيِّهِ سُلْطَانًا فَلَا يُسْرِفْ فِي الْقَتْلِ إِنَّهُ كَانَ مَنْصُورًا17.33

আরবি উচ্চারণ ১৭.৩৩। অলা-তাক্বতুলুন্নাফ্সা ল্লাতী র্হারমাল্লা-হু ইল্লা-বিল্হাক্ব; অমান্ কুতিলা মাজ্লূমান্ ফাক্বদ্ জ্বা‘আল্না-লিঅলিয়্যিহী সুল্ত্বোয়া-নান্ ফালা-ইয়ুস্রিফ্ ফিল্ ক্বত্ল্; ইন্নাহূ কা-না মান্ছূরা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৩৩ আর তোমরা সেই নাফ্সকে হত্যা করো না, যা আল্লাহ হারাম করেছেন, সঙ্গত কারণ ছাড়া। যে অন্যায়ভাবে নিহত হয় আমি অবশ্যই তার অভিভাবককে ক্ষমতা দিয়েছি। সুতরাং হত্যার ব্যাপারে সে সীমালঙ্ঘন করবে না; নিশ্চয় সে হবে সাহায্যপ্রাপ্ত।

وَلَا تَقْرَبُوا مَالَ الْيَتِيمِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ حَتَّى يَبْلُغَ أَشُدَّهُ وَأَوْفُوا بِالْعَهْدِ إِنَّ الْعَهْدَ كَانَ مَسْئُولًا17.34

আরবি উচ্চারণ ১৭.৩৪। অলা-তাক্বরাবূ মা-লাল্ ইয়াতীমি ইল্লা-বিল্লাতী হিয়া আহসানু হাত্তা-ইয়াব্লুগা আশুদ্দাহূ অআওফূ বিল্ ‘আহ্দি ইন্নাল্ ‘আহ্দা কা-না মাস্ঊলা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৩৪ আর তোমরা ইয়াতীমের সম্পদের কাছে যেয়ো না সুন্দরতম পন্থা ছাড়া, যতক্ষণ না সে বয়সের পূর্ণতায় উপনীত হয়। আর অঙ্গীকার পূর্ণ কর, নিশ্চয় অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

وَأَوْفُوا الْكَيْلَ إِذَا كِلْتُمْ وَزِنُوا بِالْقِسْطَاسِ الْمُسْتَقِيمِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا17.35

আরবি উচ্চারণ ১৭.৩৫। অআওফুল্ কাইলা ইযা কিল্তুম্ অযিনূ বিল্কিস্ত্বোয়া- সিল্ মুস্তাক্বীম্; যা-লিকা খাইরুঁও অ আহ্সানু তাওয়ীলা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৩৫ আর মাপে পরিপূর্ণ দাও যখন তোমরা পরিমাপ কর এবং সঠিক দাঁড়িপাল্লায় ওযন কর। এটা কল্যাণকর ও পরিণামে সুন্দরতম।

وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا17.36

আরবি উচ্চারণ ১৭.৩৬। অলা-তাক্বফু মা-লাইসা লাকা বিহী ‘ইল্ম্; ইন্নাস্ সাম্‘আ অল্ বাছোয়ারা অল্ ফুওয়া-দা কুল্লু উলা-য়িকা কা-না ‘আন্হু মাস্উলা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৩৬ আর যে বিষয় তোমার জানা নাই তার অনুসরণ করো না। নিশ্চয় কান, চোখ ও অন্তকরণ- এদের প্রতিটির ব্যাপারে সে জিজ্ঞাসিত হবে।

وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا إِنَّكَ لَنْ تَخْرِقَ الْأَرْضَ وَلَنْ تَبْلُغَ الْجِبَالَ طُولًا17.37

আরবি উচ্চারণ ১৭.৩৭। অলা-তাম্শি ফিল্ র্আদ্বি মারহান্ ইন্নাকা লান্ তাখ্রিক্বাল্ র্আদ্বোয়া অ লান্ তাব্লুগাল্ জ্বিবা-লা তুলা।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৩৭ আর যমীনে বড়াই করে চলো না; তুমি তো কখনো যমীনকে ফাটল ধরাতে পারবে না এবং উচ্চতায় কখনো পাহাড় সমান পৌঁছতে পারবে না।

كُلُّ ذَلِكَ كَانَ سَيِّئُهُ عِنْدَ رَبِّكَ مَكْرُوهًا17.38

আরবি উচ্চারণ ১৭.৩৮। কুল্লু যা-লিকা কা-না সাইয়িয়ুহূ ‘ইন্দা রব্বিকা মাক্রূহা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৩৮ এ সবের যা মন্দ তা তোমার রবের নিকট অপছন্দনীয়।

ذَلِكَ مِمَّا أَوْحَى إِلَيْكَ رَبُّكَ مِنَ الْحِكْمَةِ وَلَا تَجْعَلْ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ فَتُلْقَى فِي جَهَنَّمَ مَلُومًا مَدْحُورًا17.39

আরবি উচ্চারণ ১৭.৩৯। যা-লিকা মিম্মা য় আওহা য় ইলাইকা রব্বুকা মিনাল্ হিক্মাহ্; অলা-তাজ‘আল্ মা‘আল্ লা-হি ইলা-হান্ আ-খরা ফাতুল্ক্বা-ফী জ্বাহান্নামা মালূমাম্ মাদ্হূর-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৩৯ এগুলো সেই হিকমতভুক্ত, যা তোমার রব তোমার নিকট ওহীরূপে পাঠিয়েছেন। আর তুমি আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য নির্ধারণ করো না, তাহলে তুমি জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে নিন্দিত ও বিতাড়িত হয়ে।

أَفَأَصْفَاكُمْ رَبُّكُمْ بِالْبَنِينَ وَاتَّخَذَ مِنَ الْمَلَائِكَةِ إِنَاثًا إِنَّكُمْ لَتَقُولُونَ قَوْلًا عَظِيمًا 17.40

আরবি উচ্চারণ ১৭.৪০। আফাআছ্ফা-কুম্ রব্বুকুম্ বিল্বানীনা অত্তাখাযা মিনাল্ মালা-য়িকাতি ইনা-ছা-; ইন্নাকুম্ লাতাকুলূনা ক্বওলান্ ‘আজীমা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৪০ তোমাদের রব কি পুত্র সন্তানের জন্য তোমাদেরকে বাছাই করেছেন এবং তিনি ফেরেশতাদের থেকে কন্যা গ্রহণ করেছেন? নিশ্চয় তোমরা সাংঘাতিক কথা বলে থাক।

وَلَقَدْ صَرَّفْنَا فِي هَذَا الْقُرْآنِ لِيَذَّكَّرُوا وَمَا يَزِيدُهُمْ إِلَّا نُفُورًا17.41

আরবি উচ্চারণ ১৭.৪১। অলাক্বদ্ ছোর্য়ারফ্না ফী হা-যাল্ ক্বরুআনি লিইয়ায্যাক্কারূ-; অমা ইয়াযীদুহুম্ ইল্লা-নুফূর-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৪১ আর অবশ্যই আমি এ কুরআনে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে; কিন্তু তা কেবল তাদের বিমুখতাই বৃদ্ধি করে।

قُلْ لَوْ كَانَ مَعَهُ آلِهَةٌ كَمَا يَقُولُونَ إِذًا لَابْتَغَوْا إِلَى ذِي الْعَرْشِ سَبِيلًا17.42

আরবি উচ্চারণ ১৭.৪২। ক্বুল্ লাও কা-না মা‘আহু য় আ-লিহাতুন্ কামা-ইয়াকুলূনা ইযাল্ লাব্তাগও ইলা-যিল্‘র্আশি সাবীলা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৪২ বল, ‘তাঁর সাথে যদি আরো উপাস্য থাকত, যেমন তারা বলে, তবে তারা আরশের অধিপতি পর্যন্ত পৌঁছার পথ তালাশ করত’।

سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يَقُولُونَ عُلُوًّا كَبِيرًا17.43

আরবি উচ্চারণ ১৭.৪৩। সুব্হা-নাহূ অ তা‘আ-লা ‘আম্মা ইয়াকুলূনা ‘উলুঁওঅন্ কাবীর-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৪৩ তিনি পবিত্র মহান এবং তারা যা বলে তা থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে।

تُسَبِّحُ لَهُ السَّمَاوَاتُ السَّبْعُ وَالْأَرْضُ وَمَنْ فِيهِنَّ وَإِنْ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا يُسَبِّحُ بِحَمْدِهِ وَلَكِنْ لَا تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ إِنَّهُ كَانَ حَلِيمًا غَفُورًا 17.44

আরবি উচ্চারণ ১৭.৪৪। তুসাব্বিহু লাহুস্ সামা-ওয়া-তুস্ সাব্‘উ অল্র্আদ্বু অমান্ ফীহিন্; অইম্ মিন্ শাইয়িন্ ইল্লা-ইয়ুসাব্বিহু বিহাম্দিহী অলা-কিল্লা-তাফ্ক্বহূনা তাস্বীহাহুম্ ইন্নাহূ কা-না হালীমান্ গফূরা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৪৪ সাত আসমান ও যমীন এবং এগুলোর মধ্যে যা কিছু আছে সব কিছু তাঁর তাসবীহ পাঠ করে এবং এমন কিছু নেই যা তাঁর প্রসংশায় তাসবীহ পাঠ করে না; কিন্তু তাদের তাসবীহ তোমরা বুঝ না। নিশ্চয় তিনি সহনশীল, ক্ষমাপরায়ণ।

وَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْآنَ جَعَلْنَا بَيْنَكَ وَبَيْنَ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ حِجَابًا مَسْتُورًا17.45

আরবি উচ্চারণ ১৭.৪৫। অ ইযা- ক্বরতাল্ ক্বরুআ-না জ্বা‘আল্না-বাইনাকা অবাইনাল্লাযীনা লা-ইয়ুমিনূনা বিল্আ-খিরতি হিজ্বা-বাম্ মাস্তূর-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৪৫ আর তুমি যখন কুরআন পড় তখন তোমার ও যারা আখিরাতে ঈমান আনে না তাদের মধ্যে আমি এক অদৃশ্য পর্দা দিয়ে দেই।

وَجَعَلْنَا عَلَى قُلُوبِهِمْ أَكِنَّةً أَنْ يَفْقَهُوهُ وَفِي آذَانِهِمْ وَقْرًا وَإِذَا ذَكَرْتَ رَبَّكَ فِي الْقُرْآنِ وَحْدَهُ وَلَّوْا عَلَى أَدْبَارِهِمْ نُفُورًا17.46

আরবি উচ্চারণ ১৭.৪৬। অ জ্বা‘আল্না- ‘আলা- কুলূবিহিম্ আকিন্নাতান্ আইঁ ইয়াফ্ক্বহূহু অফী য় আ-যা-নিহিম্ অক্বর; অ ইযা-যার্কাতা রব্বাকা ফিল্ ক্বরুআ-নি অহ্দাহূ অল্লাও ‘আলা য় আদ্বা-রিহিম্ নুফূর-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৪৬ আর আমি তাদের অন্তরের উপর ঢাকনা রেখে দিয়েছি, যাতে তারা তা বুঝতে না পারে এবং তাদের কানে দিয়েছি বধিরতা। আর যখন তুমি কুরআনে তোমার রব এক হওয়ার কথা উল্লেখ কর, তখন তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পালায়।

نَحْنُ أَعْلَمُ بِمَا يَسْتَمِعُونَ بِهِ إِذْ يَسْتَمِعُونَ إِلَيْكَ وَإِذْ هُمْ نَجْوَى إِذْ يَقُولُ الظَّالِمُونَ إِنْ تَتَّبِعُونَ إِلَّا رَجُلًا مَسْحُورًا 17.47

আরবি উচ্চারণ ১৭.৪৭। নাহ্নু আ’লামু বিমা-ইয়াস্তামি‘ঊনা বিহী য় ইয্ ইয়াস্তামি‘ঊনা ইলাইকা অইয্ হুম্ নাজওয়া য় ইয্ ইয়াকুলুজ্ জোয়া-লিমূনা ইন্ তাত্তাবি‘ঊনা ইল্লা-রজুলাম্ মাসহূর-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৪৭ যখন তারা তোমার প্রতি কান পেতে শুনে, তখন আমি জানি কেন তারা কান পাতে এবং যখন গোপন আলোচনায় মিলিত হয়ে যালিমরা বলে, ‘তোমরা তো কেবল এক যাদুগ্রস্ত লোকের অনুসরণ করছ’।

انْظُرْ كَيْفَ ضَرَبُوا لَكَ الْأَمْثَالَ فَضَلُّوا فَلَا يَسْتَطِيعُونَ سَبِيلًا17.48

আরবি উচ্চারণ ১৭.৪৮। উর্ন্জু কাইফা দোয়ারবূ লাকাল্ আম্ছা-লা ফাদ্বোয়াল্লু ফালা-ইয়াস্তাত্বী‘ঊনা সাবীলা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৪৮ দেখ, তারা তোমার জন্য কেমন সব উপমা দিচ্ছে ! ফলে তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে, সুতরাং তারা পথ পাবে না।

وَقَالُوا أَئِذَا كُنَّا عِظَامًا وَرُفَاتًا أَئِنَّا لَمَبْعُوثُونَ خَلْقًا جَدِيدًا17.49

আরবি উচ্চারণ ১৭.৪৯। অ ক্ব-লূ য় আ ইযা-কুন্না-ই’জোয়া মাঁও অ রুফা-তান্ আইন্না-লা মাব্‘ঊছূনা খল্ক্বন্ জ্বাদীদা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৪৯ আর তারা বলে, ‘যখন আমরা হাড্ডি ও ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে যাব, তখন কি আমরা নতুন সৃষ্টিরূপে পুনরুজ্জীবিত হব’?

قُلْ كُونُوا حِجَارَةً أَوْ حَدِيدًا17.50

আরবি উচ্চারণ ১৭.৫০। কুল্ কূনূ হিজ্বা-রতান্ আও হাদীদা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৫০ বল, ‘তোমরা পাথর হয়ে যাও কিংবা লোহা’,

أَوْ خَلْقًا مِمَّا يَكْبُرُ فِي صُدُورِكُمْ فَسَيَقُولُونَ مَنْ يُعِيدُنَا قُلِ الَّذِي فَطَرَكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ فَسَيُنْغِضُونَ إِلَيْكَ رُءُوسَهُمْ وَيَقُولُونَ مَتَى هُوَ قُلْ عَسَى أَنْ يَكُونَ قَرِيبًا17.51

আরবি উচ্চারণ ১৭.৫১। আও খল্ক্বম্ মিম্মা-ইয়াক্বুরু ফী ছুদূরিকুম্ ফাসাইয়াকুলূনা মাইঁয়ু‘ঈদুনা- কুলিল্লাযী ফাত্বোয়ারকুম্ আউঅলা র্মারতিন্ ফাসাইয়ুন্গিদ্বুনা ইলাইকা রুয়ূসাহুম্ অইয়াকুলূনা মাতা-হূয়া; কুল্ ‘আসা য় আইঁ ইয়াকূনা ক্বরীবা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৫১ ‘অথবা এমন কোন সৃষ্টি, যা তোমাদের অন্তরে বড় মনে হয়।’ তবুও তারা বলবে, ‘কে আমাদের পুনরায় (সৃষ্টি) করবে?’ বল, ‘যিনি তোমাদের প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন।’ অতঃপর তারা তোমার সামনে মাথা নাড়বে এবং বলবে, ‘কবে এটা?’ বল, ‘আশা করা যায় যে, তা নিকটেই হবে।’

يَوْمَ يَدْعُوكُمْ فَتَسْتَجِيبُونَ بِحَمْدِهِ وَتَظُنُّونَ إِنْ لَبِثْتُمْ إِلَّا قَلِيلًا 17.52

আরবি উচ্চারণ ১৭.৫২। ইয়াওমা ইয়াদ্‘ঊকুম্ ফাতাস্তাজ্বীবূনা বিহাম্দিহী অতাজুন্নুনা ইল্লাবিছ্তুম্ ইল্লা-ক্বলীলা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৫২ ‘যেদিন তিনি তোমাদেরকে ডাকবেন, তখন তাঁর প্রশংসার সাথে তোমরা সাড়া দেবে। আর তোমরা ধারণা করবে, অল্প সময়ই তোমরা অবস্থান করেছিলে’।

وَقُلْ لِعِبَادِي يَقُولُوا الَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ الشَّيْطَانَ يَنْزَغُ بَيْنَهُمْ إِنَّ الشَّيْطَانَ كَانَ لِلْإِنْسَانِ عَدُوًّا مُبِينًا17.53

আরবি উচ্চারণ ১৭.৫৩। অ কুল্ লি‘ইবা-দী ইয়াকু লুল্ লাতী হিয়া আহ্সান্; ইন্নাশ্ শাইতোয়া-না ইয়ান্যাগু বাইনাহুম্ ইন্নাশ্ শাইত্বোয়া-না কা-না লিল্ইন্সা-নি ‘আদুওঅম্ মুবীনা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৫৩ আর আমার বান্দাদেরকে বল, তারা যেন এমন কথা বলে, যা অতি সুন্দর। নিশ্চয় শয়তান তাদের মধ্যে বৈরিতা সৃষ্টি করে; নিশ্চয় শয়তান মানুষের স্পষ্ট শত্র“।

رَبُّكُمْ أَعْلَمُ بِكُمْ إِنْ يَشَأْ يَرْحَمْكُمْ أَوْ إِنْ يَشَأْ يُعَذِّبْكُمْ وَمَا أَرْسَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ وَكِيلًا17.54

আরবি উচ্চারণ ১৭.৫৪। রব্বুকুম্ আ’লামু বিকুম্ ইঁইয়াশা ইর্য়াহাম্কুম্ আও ইঁইয়াশা ইয়ু‘আয্যিব্কুম্ অমা-র্আসাল্না-কা ‘আলাইহিম্ অকীলা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৫৪ তোমাদের রব তোমাদের সম্পর্কে অধিক অবগত। তিনি যদি চান তোমাদের প্রতি রহম করবেন অথবা যদি চান তবে তোমাদেরকে শাস্তি দেবেন; আমি তোমাকে তাদের কর্মবিধায়ক করে প্রেরণ করিনি।

وَرَبُّكَ أَعْلَمُ بِمَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَقَدْ فَضَّلْنَا بَعْضَ النَّبِيِّينَ عَلَى بَعْضٍ وَآتَيْنَا دَاوُدَ زَبُورًا17.55

আরবি উচ্চারণ ১৭.৫৫। অরব্বুকা আ’লামু বিমান্ ফিস্ সামা-ওয়া-তি অল্র্আদ্ব্; অলাক্বদ ফাদ্ব্দ্বোয়াল্না-বা’দ্বোয়ান্ নাবিয়্যীনা ‘আলা-বা’দ্বিঁও অআ-তাইনা-দা-য়ূদা যাবূর-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৫৫ আর তোমার রব অধিক অবগত তাদের সম্পর্কে যারা আসমানসমূহ ও যমীনে রয়েছে। আর আমি তো কতক নবীকে কতকের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি এবং দাঊদকে দিয়েছি যাবূর।

قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُمْ مِنْ دُونِهِ فَلَا يَمْلِكُونَ كَشْفَ الضُّرِّ عَنْكُمْ وَلَا تَحْوِيلًا 17.56

আরবি উচ্চারণ ১৭.৫৬। কুলিদ্‘ঊ ল্লাযীনা যা‘আম্তুম্ মিন্ দূনিহী ফালা-ইয়াম্লিকূনা কাশ্ফাদ্ব্ র্দ্বুরি ‘আন্কুম্ অলা-তাহ্ওয়ীলা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৫৬ বল, ‘তাদেরকে ডাক, আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদেরকে (উপাস্য) মনে কর। তারা তো তোমাদের দুঃখ-দুর্দশা দূর করার ও পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে না’।

أُولَئِكَ الَّذِينَ يَدْعُونَ يَبْتَغُونَ إِلَى رَبِّهِمُ الْوَسِيلَةَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ وَيَرْجُونَ رَحْمَتَهُ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُ إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ كَانَ مَحْذُورًا17.57

আরবি উচ্চারণ ১৭.৫৭। উলা-য়িকা ল্লাযীনা ইয়াদ্‘ঊনা ইয়াব্তাগূনা ইলা-রব্বিহিমুল্ অসীলাতা আইয়্যুহুম্ আক্বরাবু অ ইর্য়াজুনা রহ্মাতাহূ অ ইয়াখ-ফূনা ‘আযা-বাহ্; ইন্না ‘আযা-বা রব্বিকা কা-না মাহ্যূরা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৫৭ তারা যাদেরকে ডাকে, তারা নিজেরাই তো তাদের রবের কাছে নৈকট্যের মাধ্যমে অনুসন্ধান করে যে, তাদের মধ্যে কে তাঁর নিকটতর? আর তারা তাঁর রহমতের আশা করে এবং তাঁর আযাবকে ভয় করে। নিশ্চয় তোমার রবের আযাব ভীতিকর।

وَإِنْ مِنْ قَرْيَةٍ إِلَّا نَحْنُ مُهْلِكُوهَا قَبْلَ يَوْمِ الْقِيَامَةِ أَوْ مُعَذِّبُوهَا عَذَابًا شَدِيدًا كَانَ ذَلِكَ فِي الْكِتَابِ مَسْطُورًا17.58

আরবি উচ্চারণ ১৭.৫৮। অ ইম্মিন্ র্ক্বইয়াতিন্ ইল্লা-নাহ্নু মুহ্লিকূহা- ক্বব্লা ইয়াওমিল্ ক্বিয়া-মাতি আও মু‘আয্যিবূহা- ‘আযা-বান্ শাদীদা-; কা-না যা-লিকা ফিল্ কিতা-বি মাস্ত্বর-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৫৮ আর এমন কোন জনপদ নেই, যা আমি কিয়ামতের দিনের পূর্বে ধ্বংস করব না অথবা যাকে কঠোর আযাব দেব না; এটা তো কিতাবে লিখিত আছে।

وَمَا مَنَعَنَا أَنْ نُرْسِلَ بِالْآيَاتِ إِلَّا أَنْ كَذَّبَ بِهَا الْأَوَّلُونَ وَآتَيْنَا ثَمُودَ النَّاقَةَ مُبْصِرَةً فَظَلَمُوا بِهَا وَمَا نُرْسِلُ بِالْآيَاتِ إِلَّا تَخْوِيفًا 17.59

আরবি উচ্চারণ ১৭.৫৯। অমা-মানা‘আনা য় আন্ নুরসিলা বিল্আ-ইয়া-তি ইল্লা য় আন্ কায্যাবা বিহাল্ আউওয়ালূন্; অআ-তাইনা- ছামূদা-ন্না-ক্বতা মুব্ছিরতান্ ফাজোয়ালামূ বিহা-; অমা- র্নুসিলু বিল্আ-ইয়া-তি ইল্লা-তাখ্ওয়ীফা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৫৯ আর পূর্ববর্তীগণ কর্তৃক নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করাই আমাকে তা (নিদর্শনাবলী) প্রেরণ করা হতে বিরত রেখেছে। আর আমি শিক্ষাপ্রদ নিদর্শনস্বরূপ সামূদ জাতিকে উষ্ট্রী দিয়েছিলাম, অতঃপর তারা তার উপর যুলম করেছিল। আমি কেবল ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে নিদর্শনসমূহ পাঠাই।

وَإِذْ قُلْنَا لَكَ إِنَّ رَبَّكَ أَحَاطَ بِالنَّاسِ وَمَا جَعَلْنَا الرُّؤْيَا الَّتِي أَرَيْنَاكَ إِلَّا فِتْنَةً لِلنَّاسِ وَالشَّجَرَةَ الْمَلْعُونَةَ فِي الْقُرْآنِ وَنُخَوِّفُهُمْ فَمَا يَزِيدُهُمْ إِلَّا طُغْيَانًا كَبِيرًا17.60

আরবি উচ্চারণ ১৭.৬০। অইয্ কুল্না- লাকা ইন্না রব্বাকা আহা-ত্বোয়া বিন্না-স্; অমাজ্বা‘আর্ল্না রুইয়াল্লাতী য় আরইনা-কা ইল্লা-ফিত্নাতাল্ লিন্না-সি অশ্শাজ্বারতাল্ মাল্‘ঊনাতা ফিল্ ক্বরুআ-ন্; অনুখওয়্যিফুহুম্ ফামা-ইয়াযীদুহুম্ ইল্লা-তুগ্ইয়া-নান্ কাবীর-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৬০ আর স্মরণ কর, যখন আমি তোমাকে বললাম, ‘নিশ্চয় তোমার রব মানুষকে ঘিরে রেখেছেন। আর যে ‘দৃশ্য’ আমি তোমাকে দেখিয়েছি তা এবং কুরআনে বর্ণিত অভিশপ্ত বৃক্ষ কেবল মানুষের পরীক্ষাস্বরূপ নির্ধারণ করেছি’। আমি তাদের ভয় দেখাই; কিন্তু তা কেবল তাদের চরম অবাধ্যতা বাড়িয়ে দেয়।

وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ قَالَ أَأَسْجُدُ لِمَنْ خَلَقْتَ طِينًا17.61

আরবি উচ্চারণ ১৭.৬১। অইয্ কুল্না-লিল্মালা-য়িকাতিস্ জুদূ লিআ-দামা ফাসাজ্বাদূ য় ইল্লা য় ইব্লীস্; ক্ব-লা আ আস্জ্বুদু লিমান্ খলাক্বতা ত্বীনা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৬১ আর স্মরণ কর, যখন আমি ফেরেশতাদের বললাম, ‘আদমকে সিজদা কর’, তখন ইবলীস ছাড়া সকলে সিজদা করল। সে বলল, ‘আমি কি এমন ব্যক্তিকে সিজদা করব যাকে আপনি কাদামাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন’?

قَالَ أَرَأَيْتَكَ هَذَا الَّذِي كَرَّمْتَ عَلَيَّ لَئِنْ أَخَّرْتَنِي إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ لَأَحْتَنِكَنَّ ذُرِّيَّتَهُ إِلَّا قَلِيلًا 17.62

আরবি উচ্চারণ ১৭.৬২। ক্ব-লা আরইতাকা হা-যাল্লাযী র্কারম্তা ‘আলাইয়্যা লায়িন্ আর্খ্খতানি ইলা-ইয়াওমিল্ ক্বিয়া-মাতি লাআহ্তানিকান্না র্যুরিয়্যাতাহূ য় ইল্লা-ক্বলীলা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৬২ সে বলল, ‘দেখুন, এ ব্যক্তি, যাকে আপনি আমার উপর সম্মান দিয়েছেন, যদি আপনি আমাকে কিয়ামত পর্যন্ত সময় দেন, তবে অতি সামান্য সংখ্যক ছাড়া তার বংশধরদেরকে অবশ্যই পথভ্রষ্ট করে ছাড়ব’।

قَالَ اذْهَبْ فَمَنْ تَبِعَكَ مِنْهُمْ فَإِنَّ جَهَنَّمَ جَزَاؤُكُمْ جَزَاءً مَوْفُورًا17.63

আরবি উচ্চারণ ১৭.৬৩। ক্ব-লায্ হাব্ ফামান্ তাবি‘আকা মিন্হুম্ ফাইন্না জ্বাহান্নামা জ্বাযা-য়ুকুম্ জ্বাযা-য়াম্ মাওফূর-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৬৩ তিনি বললেন, ‘যাও, অতঃপর তাদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করবে, জাহান্নামই হবে তোমাদের প্রতিদান, পূর্ণ প্রতিদান হিসেবে’।

وَاسْتَفْزِزْ مَنِ اسْتَطَعْتَ مِنْهُمْ بِصَوْتِكَ وَأَجْلِبْ عَلَيْهِمْ بِخَيْلِكَ وَرَجِلِكَ وَشَارِكْهُمْ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَولَادِ وَعِدْهُمْ وَمَا يَعِدُهُمُ الشَّيْطَانُ إِلَّا غُرُورًا17.64

আরবি উচ্চারণ ১৭.৬৪। অস্তাফ্যিয্ মানিস্ তাত্বোয়া’তা মিন্হুম্ বিছোয়াওতিকা অ আজলিব্ ‘আলাইহিম্ বিখইলিকা অরজ্বিলিকা অশা-রিক্হুম্ ফিল্ আম্ওয়া-লি অল্আওলা-দি অ‘ইদ্হুম্; অমা- ইয়া‘ইদুহুমুশ্ শাইত্বোয়া-নু ইল্লা-গুরূর-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৬৪ ‘তোমার কণ্ঠ দিয়ে তাদের মধ্যে যাকে পারো প্ররোচিত কর, তাদের উপর ঝাপিয়ে পড় তোমার অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে এবং তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে অংশীদার হও এবং তাদেরকে ওয়াদা দাও’। আর শয়তান প্রতারণা ছাড়া তাদেরকে কোন ওয়াদাই দেয় না।

إِنَّ عِبَادِي لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطَانٌ وَكَفَى بِرَبِّكَ وَكِيلًا17.65

আরবি উচ্চারণ ১৭.৬৫। ইন্না ‘ইবা-দী লাইসা লাকা ‘আলাইহিম্ সুল্ত্বোয়া-ন্; অ কাফা- বিরব্বিকা অকীলা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৬৫ নিশ্চয় আমার বান্দাদের উপর তোমার কোন ক্ষমতা নেই। কর্মবিধায়ক হিসেবে তোমার রবই যথেষ্ট।

رَبُّكُمُ الَّذِي يُزْجِي لَكُمُ الْفُلْكَ فِي الْبَحْرِ لِتَبْتَغُوا مِنْ فَضْلِهِ إِنَّهُ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا 17.66

আরবি উচ্চারণ ১৭.৬৬। রব্বুকুমু ল্লাযী ইয়ুয্জ্বী লাকুমুল্ ফুল্কা ফিল্ বাহ্রি লিতাব্তাগূ মিন্ ফাদ্ব্লিহ্; ইন্নাহূ কা-না বিকুম রহীমা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৬৬ তোমাদের রব তিনি, যিনি তোমাদের জন্য সমুদ্রে চালিত করেন নৌযান, যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার। নিশ্চয় তিনি তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।

وَإِذَا مَسَّكُمُ الضُّرُّ فِي الْبَحْرِ ضَلَّ مَنْ تَدْعُونَ إِلَّا إِيَّاهُ فَلَمَّا نَجَّاكُمْ إِلَى الْبَرِّ أَعْرَضْتُمْ وَكَانَ الْإِنْسَانُ كَفُورًا17.67

আরবি উচ্চারণ ১৭.৬৭। অ ইযা-মাস্সাকুমুদ্ব্ দ্বরুরু ফিল্ বাহ্রি দ্বোয়াল্লা মান্ তাদ্‘ঊনা ইল্লা য় ইয়্যা-হু ফালাম্মা-নাজ্জ্বা-কুম্ ইলাল্ র্বারি আ’রদ্ব্তুম্ অকা-নাল্ ইন্সা-নু কাফূর-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৬৭ আর যখন তোমাদেরকে সমুদ্রে বিপদ স্পর্শ করে, তখন তিনি ছাড়া যাদেরকে তোমরা ডাক, তারা (তোমাদের মন থেকে) হারিয়ে যায়; অতঃপর তিনি যখন তোমাদেরকে রক্ষা করে স্থলে আনেন, তখন তোমরা বিমুখ হয়ে যাও। আর মানুষ তো খুব অকৃতজ্ঞ।

أَفَأَمِنْتُمْ أَنْ يَخْسِفَ بِكُمْ جَانِبَ الْبَرِّ أَوْ يُرْسِلَ عَلَيْكُمْ حَاصِبًا ثُمَّ لَا تَجِدُوا لَكُمْ وَكِيلًا17.68

আরবি উচ্চারণ ১৭.৬৮। আফাআমিন্তুম্ আইঁ ইয়াখ্সিফা বিকুম্ জ্বা-নিবাল্ র্বারি আও ইর্য়ুসিলা ‘আলাইকুম্ হা-ছিবান্ ছুম্মা লা-তাজ্বিদূ লাকুম্ অকীলা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৬৮ তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গিয়েছ যে, তিনি তোমাদেরসহ স্থলের কোন দিক ধ্বসিয়ে দেবেন না অথবা তোমাদের উপর শিলা বর্ষণকারী বাতাস প্রেরণ করবেন না? তারপর তোমরা তোমাদের জন্য কোন কর্মবিধায়ক পাবে না।

أَمْ أَمِنْتُمْ أَنْ يُعِيدَكُمْ فِيهِ تَارَةً أُخْرَى فَيُرْسِلَ عَلَيْكُمْ قَاصِفًا مِنَ الرِّيحِ فَيُغْرِقَكُمْ بِمَا كَفَرْتُمْ ثُمَّ لَا تَجِدُوا لَكُمْ عَلَيْنَا بِهِ تَبِيعًا 17.69

আরবি উচ্চারণ ১৭.৬৯। আম্ আমিন্তুম্ আইঁ ইয়ু‘ঈদাকুম্ ফীহি তা-রতান্ উখ্র- ফা ইর্য়ুসিলা ‘আলাইকুম্ ক্ব-ছিফাম্ মির্না রীহি ফাইয়ুগ্রিক্বকুম্ বিমা-কার্ফাতুম্ ছুম্মা লা-তাজ্বিদূ লাকুম্ ‘আলাইনা- বিহী তাবী‘আ-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৬৯ অথবা তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গিয়েছ যে, তিনি তোমাদেরকে আরেকবার সমুদ্রে ফিরিয়ে নেবেন না, অতঃপর তোমাদের উপর প্রচণ্ড বাতাস পাঠাবেন না এবং তোমাদেরকে ডুবিয়ে দেবেন না, তোমরা কুফরী করার কারণে? তারপর তোমরা আমার বিরুদ্ধে এ বিষয়ে কোন সাহায্যকারী পাবে না।

وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلًا17.70

আরবি উচ্চারণ ১৭.৭০। অ লাক্বদ র্কারাম্না-বানী য় আ-দামা অহামাল্না-হুম্ ফিল্ র্বারি অল্বাহ্রি অ রযাক্বনা-হুম্ মিনাতু ত্বোয়াইয়্যিবা-তি অফাদ্ব্ দ্বোয়াল্না-হুম্ ‘আলা-কাছীরিম্ মিম্মান্ খলাক্বনা-তাফ্দ্বীলা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৭০ আর আমি তো আদম সন্তানদের সম্মানিত করেছি এবং আমি তাদেরকে স্থলে ও সমুদ্রে বাহন দিয়েছি এবং তাদেরকে দিয়েছি উত্তম রিয্ক। আর আমি যা সৃষ্টি করেছি তাদের থেকে অনেকের উপর আমি তাদেরকে অনেক মর্যাদা দিয়েছি।

يَوْمَ نَدْعُوا كُلَّ أُنَاسٍ بِإِمَامِهِمْ فَمَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ فَأُولَئِكَ يَقْرَءُونَ كِتَابَهُمْ وَلَا يُظْلَمُونَ فَتِيلًا17.71 আরবি উচ্চারণ

১৭.৭১। ইয়াওমা নাদ্‘ঊ কুল্লা উনা-সিম্ বিইমা- মিহিম্ ফামান্ ঊতিয়া কিতা-বাহূ বিইয়ামীনিহী ফাউলা-য়িকা ইয়াক্ব্ রয়ূনা কিতা-বাহুম্ অলা-ইয়ুজ্লামূনা ফাতীলা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৭১ স্মরণ কর, যেদিন আমি প্রত্যেক মানুষকে তাদের ইমামসহ ডাকব। অতঃপর যাকে তার আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে তারা নিজদের আমলনামা পাঠ করবে এবং তাদের প্রতি সামান্য পরিমাণ অবিচার করা হবে না।

وَمَنْ كَانَ فِي هَذِهِ أَعْمَى فَهُوَ فِي الْآخِرَةِ أَعْمَى وَأَضَلُّ سَبِيلًا17.72

আরবি উচ্চারণ ১৭.৭২। অমান্ কা-না ফী হা-যিহী য় আ’মা-ফাহুঅ ফিল্ আ-খিরতি আ’মা-অআদ্বোয়াল্লু সাবীলা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৭২ আর যে ব্যক্তি এখানে অন্ধ সে আখিরাতেও অন্ধ এবং অধিকতর পথভ্রষ্ট।

وَإِنْ كَادُوا لَيَفْتِنُونَكَ عَنِ الَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ لِتَفْتَرِيَ عَلَيْنَا غَيْرَهُ وَإِذًا لَاتَّخَذُوكَ خَلِيلًا 17.73

আরবি উচ্চারণ ১৭.৭৩। অইন্ কা-দূ লা ইয়াফ্তিনূনাকা ‘আনিল্লাযী য় আওহাইনা য় ইলাইকা লিতাফ্তারিয়া ‘আলাইনা-গইরাহূ অইযাল্ লাত্তাখযূকা খলীলা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৭৩ আর তাদের অবস্থা এমন ছিল যে, আমি তোমাকে যে ওহী দিয়েছি, তা থেকে তারা তোমাকে প্রায় ফিতনায় ফেলে দিয়েছিল, যাতে তুমি আমার নামে এর বিপরীত মিথ্যা রটাতে পার এবং তখন তারা অবশ্যই তোমাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করত।

وَلَوْلَا أَنْ ثَبَّتْنَاكَ لَقَدْ كِدْتَ تَرْكَنُ إِلَيْهِمْ شَيْئًا قَلِيلًا17.74

আরবি উচ্চারণ ১৭.৭৪। অলাওলা য় আন্ ছাব্বাত্না-কা লাক্বদ্ কিত্তা র্তাকানু ইলাইহিম্ শাইয়ান্ ক্বলীলা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৭৪ আর আমি যদি তোমাকে অবিচল না রাখতাম, তবে অবশ্যই তুমি তাদের দিকে কিছুটা ঝুঁকে পড়তে,

إِذًا لَأَذَقْنَاكَ ضِعْفَ الْحَيَاةِ وَضِعْفَ الْمَمَاتِ ثُمَّ لَا تَجِدُ لَكَ عَلَيْنَا نَصِيرًا17.75

আরবি উচ্চারণ ১৭.৭৫। ইযাল্লা আযাক্বনা-কা দ্বি’ফাল্ হা ইয়া-তি অদ্বি’ফাল্ মামা-তি ছুম্মা লা-তাজ্বিদু লাকা ‘আলাইনা-নাছীরা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৭৫ তখন আমি অবশ্যই তোমাকে আস্বাদন করাতাম জীবনের দ্বিগুণ ও মরণের দ্বিগুণ আযাব। তারপর তুমি তোমার জন্য আমার বিরুদ্ধে কোন সাহায্যকারী পাবে না।

وَإِنْ كَادُوا لَيَسْتَفِزُّونَكَ مِنَ الْأَرْضِ لِيُخْرِجُوكَ مِنْهَا وَإِذًا لَا يَلْبَثُونَ خِلَافَكَ إِلَّا قَلِيلًا17.76

আরবি উচ্চারণ ১৭.৭৬। অইন্ কা-দূ লাইয়াস্তাফিয্যূনাকা মিনাল্ র্আদ্বি লিইয়ুখ্রিজুকা মিনহা- অ ইযাল্লা-ইয়াল্বাছূনা খিলা-ফাকা ইল্লা-ক্বলীলা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৭৬ আর তাদের অবস্থা এমন ছিল যে, তারা তোমাকে যমীন থেকে উৎখাত করে দেবে, যাতে তোমাকে সেখান থেকে বের করে দিতে পারে এবং তখন তারা তোমার পরে স্বল্প সময়ই টিকে থাকতে পারত।

سُنَّةَ مَنْ قَدْ أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ مِنْ رُسُلِنَا وَلَا تَجِدُ لِسُنَّتِنَا تَحْوِيلًا17.77

আরবি উচ্চারণ ১৭.৭৭। সুন্নাতা মান্ ক্বদ্ র্আসাল্না- ক্বব্লাকা র্মি রুসুলিনা-অলা-তাজ্বিদু লিসুন্নাতিনা- তাহ্ওয়ীলা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৭৭ তাদের নিয়ম অনুসারে যাদেরকে আমি আমার রাসূলদের মধ্যে তোমার পূর্বে পাঠিয়েছিলাম এবং তুমি আমার নিয়মে কোন পরিবর্তন পাবে না।

أَقِمِ الصَّلَاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ إِلَى غَسَقِ اللَّيْلِ وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا 17.78

আরবি উচ্চারণ ১৭.৭৮। আক্বিমিছ্ ছলা-তা লিদুলূকিশ্ শাম্সি ইলা-গসাক্বিল্ লাইলি অক্বরুআ-নাল্ ফাজ্ব্র্; ইন্না ক্বরুআ-নাল্ ফাজরি কা-না মাশ্হূদা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৭৮ সূর্য হেলে পড়ার সময় থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত সালাত কায়েম কর এবং ফজরের কুরআন । নিশ্চয় ফজরের কুরআন (ফেরেশতাদের) উপস্থিতির সময়।

وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَكَ عَسَى أَنْ يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَحْمُودًا17.79

আরবি উচ্চারণ ১৭.৭৯। অমিনাল্ লাইলি ফাতাহাজ্জ্বাদ্ বিহী না-ফিলাতাল্লাকা ‘আসা য় আইঁ ইয়াব্‘অছাকা রব্বুকা মাক্ব-মাম্ মাহ্মূদা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৭৯ আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় কর তোমার অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে। আশা করা যায়, তোমার রব তোমাকে প্রশংসিত অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করবেন।

وَقُلْ رَبِّ أَدْخِلْنِي مُدْخَلَ صِدْقٍ وَأَخْرِجْنِي مُخْرَجَ صِدْقٍ وَاجْعَلْ لِي مِنْ لَدُنْكَ سُلْطَانًا نَصِيرًا17.80

আরবি উচ্চারণ ১৭.৮০। অক্বরু রব্বি আদ্খিল্নী মুদ্খলা ছিদ্ক্বিঁও অ আখ্রিজনী মুখ্রাজ্বা ছিদ্ক্বিঁও অজ্ব‘আল্লী মিল্ লাদুন্কা সুল্ত্বোয়া-নান্ নাছীরা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৮০ আর বল, ‘হে আমার রব, আমাকে প্রবেশ করাও উত্তমভাবে এবং বের কর উত্তমভাবে । আর তোমার পক্ষ থেকে আমাকে সাহায্যকারী শক্তি দান কর’।

وَقُلْ جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقًا17.81

আরবি উচ্চারণ ১৭.৮১। অকুল্ জ্বা-য়াল্ হাক্বকু অযাহাক্বাল্ বা-ত্বিল্; ইন্নাল্ বা-ত্বিলা কা-না যাহূক্ব-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৮১ আর বল, ‘হক এসেছে এবং বাতিল বিলুপ্ত হয়েছে। নিশ্চয় বাতিল বিলুপ্ত হওয়ারই ছিল’।

وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ وَلَا يَزِيدُ الظَّالِمِينَ إِلَّا خَسَارًا17.82

আরবি উচ্চারণ ১৭.৮২। অনুনায্যিলূ মিনাল্ ক্বরুআ-নি মা-হুঅ শিফা-য়ুঁও অ রহ্মাতুল্লিল্ মুমিনীনা অলা-ইয়াযীদুজ্ জোয়া-লিমীনা ইল্লা-খসা-র-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৮২ আর আমি কুরআন নাযিল করি যা মুমিনদের জন্য শিফা ও রহমত, কিন্তু তা যালিমদের ক্ষতিই বাড়িয়ে দেয়।

وَإِذَا أَنْعَمْنَا عَلَى الْإِنْسَانِ أَعْرَضَ وَنَأَى بِجَانِبِهِ وَإِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ كَانَ يَئُوسًا 17.83

আরবি উচ্চারণ ১৭.৮৩। অইযা য় আন‘আম্না- ‘আলাল, ইন্সা-নি আ’রদ্বোয়া অনায়া-বিজ্বা-নিবিহী অইযা-মাস্সাহুশ্ র্শারু কা-না ইয়ায়ূসা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৮৩ আর আমি যখন মানুষের উপর নিআমত দান করি তখন সে মুখ ফিরিয়ে নেয় ও দূরে সরে যায় এবং যখন তাকে অনিষ্ট স্পর্শ করে তখন সে খুব হতাশ হয়ে পড়ে।

قُلْ كُلٌّ يَعْمَلُ عَلَى شَاكِلَتِهِ فَرَبُّكُمْ أَعْلَمُ بِمَنْ هُوَ أَهْدَى سَبِيلًا17.84

আরবি উচ্চারণ ১৭.৮৪। কুল্ কুল্লুইঁ ইয়া’মালূ ‘আলা-শা-কিলাতিহ্; ফারব্বুকুম্ আ’লামু বিমান হুঅ আহ্দা সাবীলা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৮৪ বল, ‘প্রত্যেকেই আমল করে থাকে নিজ পদ্ধতি অনুযায়ী এবং তোমার রব অধিক অবগত আছেন কে সর্বাধিক নির্ভুল পথে’।

وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الرُّوحِ قُلِ الرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّي وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلَّا قَلِيلًا17.85

আরবি উচ্চারণ ১৭.৮৫। অইয়াস্য়ালূনাকা ‘আর্নি রূহ্; কুর্লি রূহু মিন্ আম্রি রব্বী অমা য় ঊতীতুম্ মিনাল্ ‘ইল্মি ইল্লা-ক্বলীলা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৮৫ আর তারা তোমাকে রূহ সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বল, ‘রূহ আমার রবের আদেশ থেকে, আর তোমাদেরকে জ্ঞান থেকে অতি সামান্যই দেয়া হয়েছে’।

وَلَئِنْ شِئْنَا لَنَذْهَبَنَّ بِالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ ثُمَّ لَا تَجِدُ لَكَ بِهِ عَلَيْنَا وَكِيلًا17.86

আরবি উচ্চারণ ১৭.৮৬। অলায়িন্ শি’না-লানায্হাবান্না বিল্লাযী য় আওহাইনা য় ইলাইকা ছুম্মা লা-তাজ্বিদু লাকা বিহী ‘আলাইনা-অকীলা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৮৬ আর আমি ইচ্ছা করলে তোমার কাছে ওহীর মাধ্যমে যা পাঠিয়েছি তা অবশ্যই নিয়ে নিতে পারতাম; অতঃপর তুমি এ বিষয়ে আমার বিরুদ্ধে তোমার জন্য কোন কর্মবিধায়ক পেতে না।

إِلَّا رَحْمَةً مِنْ رَبِّكَ إِنَّ فَضْلَهُ كَانَ عَلَيْكَ كَبِيرًا17.87

আরবি উচ্চারণ ১৭.৮৭। ইল্লা-রহ্মাতাম্ র্মি রব্বিক্; ইন্না ফাদ্ব লাহূ কা-না ‘আলাইকা কাবীরা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৮৭ তবে তোমার রবের পক্ষ থেকে (এটা) রহমতস্বরূপ; নিশ্চয় তোমার প্রতি তাঁর অনুগ্রহ বিরাট।

قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا 17.88

আরবি উচ্চারণ ১৭.৮৮। কুল্ লায়িনিজ তামা‘আতিল্ ইন্সু অল্জ্বিন্নু ‘আলা য় আইঁ ইয়াতূ বিমিছ্লি হাযা-ল্ ক্বরুআ-নি লা ইয়াতূনা বিমিছ্লিহী অলাও কা-না বা’দ্বুহুম্ লিবা’দ্বিন্ জোয়াহীরা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৮৮ বল, ‘যদি মানুষ ও জিন এ কুরআনের অনুরূপ হাযির করার জন্য একত্রিত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ হাযির করতে পারবে না যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়’।

وَلَقَدْ صَرَّفْنَا لِلنَّاسِ فِي هَذَا الْقُرْآنِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ فَأَبَى أَكْثَرُ النَّاسِ إِلَّا كُفُورًا17.89

আরবি উচ্চারণ ১৭.৮৯। অ লাক্বদ্ ছোর্য়ারাফ্না-লিন্নাসি ফী হা-যাল্ কুরআ-নি মিন্ কুল্লি মাছালিন্ ফাআ-বা য় আক্ছারুন্ না-সি ইল্লা-কুফূর-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৮৯ আর অবশ্যই মানুষের জন্য এ কুরআনে আমি নানাভাবে বিভিন্ন উপমা বর্ণনা করেছি; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কুফরী না করে থাকেনি।

وَقَالُوا لَنْ نُؤْمِنَ لَكَ حَتَّى تَفْجُرَ لَنَا مِنَ الْأَرْضِ يَنْبُوعًا17.90

আরবি উচ্চারণ ১৭.৯০। অক্ব-লূ লান্নুমিনা লাকা হাত্তা-তাফ্জুরা লানা-মিনাল্ র্আদ্বি ইয়াম্বূ ‘আ-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৯০ আর তারা বলে, ‘আমরা তোমার প্রতি কখনো ঈমান আনব না, যতক্ষণ না তুমি আমাদের জন্য যমীন থেকে একটি ঝর্নাধারা উৎসারিত করবে’।

أَوْ تَكُونَ لَكَ جَنَّةٌ مِنْ نَخِيلٍ وَعِنَبٍ فَتُفَجِّرَ الْأَنْهَارَ خِلَالَهَا تَفْجِيرًا17.91

আরবি উচ্চারণ ১৭.৯১। আও তাকূনা লাকা জ্বান্নাতুম্ মিন্ নাখীলিঁও অ ‘ইনাবিন্ ফাতুফাজজ্বিরল্ আন্হা-র খিলা-লাহা- তাফ্জ্বীর-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৯১ ‘অথবা তোমার জন্য খেজুর ও আঙ্গুরের একটি বাগান হবে, অতঃপর তুমি তার মধ্যে প্রবাহিত করবে নদী-নালা’।

أَوْ تُسْقِطَ السَّمَاءَ كَمَا زَعَمْتَ عَلَيْنَا كِسَفًا أَوْ تَأْتِيَ بِاللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ قَبِيلًا17.92

আরবি উচ্চারণ ১৭.৯২। আও তুস্ক্বিতোয়াস্ সামা-য়া কামা-যা‘আম্তা ‘আলাইনা- কিসাফান্ আও তাতিয়া বিল্লা-হি অল্ মালা-য়িকাতি ক্বলীলা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৯২ ‘অথবা তুমি যেমনটি ধারণা কর, সে অনুযায়ী আসমানকে খণ্ড খণ্ড করে আমাদের উপরে ফেলবে, অথবা আল্লাহ ও ফেরেশ্তাদেরকে আমাদের মুখোমুখি নিয়ে আসবে’।

أَوْ يَكُونَ لَكَ بَيْتٌ مِنْ زُخْرُفٍ أَوْ تَرْقَى فِي السَّمَاءِ وَلَنْ نُؤْمِنَ لِرُقِيِّكَ حَتَّى تُنَزِّلَ عَلَيْنَا كِتَابًا نَقْرَؤُهُ قُلْ سُبْحَانَ رَبِّي هَلْ كُنْتُ إِلَّا بَشَرًا رَسُولًا17.93

আরবি উচ্চারণ ১৭.৯৩। আও ইয়াকূনা লাকা বাইতুম্ মিন্ যুখ্রুফিন্ আও র্তাক্ব- ফিস্ সামা-য়; অলান্ নুমিনা লিরুক্বক্বিয়িকা হাত্তা-তুনায্যিলা ‘আলাইনা-কিতা-বান্ নাক্বরয়ুহ্; কুল্ সুব্হা-না রব্বী হাল্ কুন্তু ইল্লা-বাশার্র রসূলা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৯৩ ‘অথবা তোমার জন্য স্বর্ণের একটি ঘর হবে অথবা তুমি আসমানে উঠবে, কিন্তু তোমার উঠাতেও আমরা ঈমান আনব না, যতক্ষণ না তুমি আমাদের প্রতি এক কিতাব নাযিল করবে যা আমরা পাঠ করব’। বল, ‘পবিত্র মহান আমার রব! আমি তো একজন মানব-রাসূল ছাড়া কিছু নই’?

وَمَا مَنَعَ النَّاسَ أَنْ يُؤْمِنُوا إِذْ جَاءَهُمُ الْهُدَى إِلَّا أَنْ قَالُوا أَبَعَثَ اللَّهُ بَشَرًا رَسُولًا17.94

আরবি উচ্চারণ ১৭.৯৪। অমা-মানা‘আন্না-সা আইঁ ইয়ুমিনূ য় ইয্ জ্বা-য়াহুমুল্ হুদা য় ইল্লা য় আন্ ক্ব-লূ য় আবা‘আছাল্লা-হু বাশার্র রসূলা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৯৪ আর যখন মানুষের নিকট হিদায়াত আসে তখন তাদের ঈমান আনতে বাধা দেয় তাদের এ কথা যে, ‘আল্লাহ কি মানুষকে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন’?

قُلْ لَوْ كَانَ فِي الْأَرْضِ مَلَائِكَةٌ يَمْشُونَ مُطْمَئِنِّينَ لَنَزَّلْنَا عَلَيْهِمْ مِنَ السَّمَاءِ مَلَكًا رَسُولًا17.95

আরবি উচ্চারণ ১৭.৯৫। কুল্ লাও কা-না ফিল্ র্আদ্বি মালা-য়িকাতুইঁ ইয়াম্শূনা মুত্ব্ মায়িন্নীনা লানায্যাল্না-‘আলাইহিম্ মিনাস্ সামা-য়ি মালার্কা রসূলা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৯৫ বল, ‘ফেরেশ্তারা যদি যমীনে চলাচল করত নিশ্চিন্তভাবে তাহলে আমি অবশ্যই আসমান হতে তাদের কাছে ফেরেশ্তা পাঠাতাম রাসূল হিসেবে’।

قُلْ كَفَى بِاللَّهِ شَهِيدًا بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ إِنَّهُ كَانَ بِعِبَادِهِ خَبِيرًا بَصِيرًا17.96

আরবি উচ্চারণ ১৭.৯৬। কুল্ কাফা-বিল্লা-হি শাহীদাম্ বাইনী অবাইনাকুম্; ইন্নাহূ কা-না বি‘ইবা-দিহী খবীরাম্ বাছীর।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৯৬ বল, ‘আল্লাহই যথেষ্ট আমার ও তোমাদের মধ্যে স্বাক্ষী হিসেবে; নিশ্চয় তিনি তাঁর বান্দাদের ব্যাপারে পূর্ণ জ্ঞাত, পূর্ণ দ্রষ্টা’।

وَمَنْ يَهْدِ اللَّهُ فَهُوَ الْمُهْتَدِي وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَنْ تَجِدَ لَهُمْ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِهِ وَنَحْشُرُهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى وُجُوهِهِمْ عُمْيًا وَبُكْمًا وَصُمًّا مَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ كُلَّمَا خَبَتْ زِدْنَاهُمْ سَعِيرًا17.97

আরবি উচ্চারণ ১৭.৯৭। অমাইঁ ইয়াহ্ দিল্লা-হু ফাহুওয়াল্ মুহ্তাদি অ মাইঁ ইয়ুদ্ব্লিল্ ফালান্ তাজ্বিদা লাহুম্ আউলিয়া-য়া মিন্ দূনিহ্; অ নাহ্শুরুহুম্ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি ‘আলা-উজুহিহিম্ উম্ইয়াঁও অবুক্মাঁও অছুম্মা-; মাওয়া-হুম্ জ্বাহান্নাম্; কুল্লামা-খবাত্ যিদ্না-হুম্ সা‘ঈ রা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৯৭ আর আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন সে-ই হিদায়াতপ্রাপ্ত এবং যাকে তিনি পথহারা করেন তুমি কখনো তাদের জন্য তাঁকে ছাড়া অভিভাবক পাবে না। আর আমি কিয়ামতের দিনে তাদেরকে একত্র করব উপুড় করে, অন্ধ, মূক ও বধির অবস্থায়। তাদের আশ্রয়স্থল জাহান্নাম; যখনই তা নিস্তেজ হবে তখনই আমি তাদের জন্য আগুন বাড়িয়ে দেব।

ذَلِكَ جَزَاؤُهُمْ بِأَنَّهُمْ كَفَرُوا بِآيَاتِنَا وَقَالُوا أَئِذَا كُنَّا عِظَامًا وَرُفَاتًا أَئِنَّا لَمَبْعُوثُونَ خَلْقًا جَدِيدًا17.98

আরবি উচ্চারণ ১৭.৯৮। যা-লিকা জ্বাযা-য়ুহুম্ বিআন্নাহুম্ কাফারূ বিআ-ইয়া-তিনা- অক্ব-লূ আইযা- কুন্না- ‘ইজোয়া-মাঁও অ রুফা-তান্ আইন্না লামাব্‘ঊছূনা খল্ক্বান্ জ্বাদীদা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৯৮ এটাই তাদের প্রতিদান, কারণ তারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছে এবং বলেছে, ‘আমরা যখন হাড্ডি ও ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে যাব, তখন আমরা কি নতুন সৃষ্টিরূপে পুনরুজ্জীবিত হব’?

أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللَّهَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ قَادِرٌ عَلَى أَنْ يَخْلُقَ مِثْلَهُمْ وَجَعَلَ لَهُمْ أَجَلًا لَا رَيْبَ فِيهِ فَأَبَى الظَّالِمُونَ إِلَّا كُفُورًا 17.99

আরবি উচ্চারণ ১৭.৯৯। আওয়ালাম্ ইয়ারাও আন্নাল্লা- হাল্লাযী খলাক্বস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বোয়া ক্ব-দিরুন্ ‘আলা য় আইঁ ইয়াখ্লুক্ব মিছ্লাহুম্ অজ্বা‘আলা লাহুম্ আজ্বালাল্লা-রইবা ফীহ্ ; ফাআবাজ্ জোয়া-লিমূনা ইল্লা-কুফূর-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.৯৯ তারা কি দেখে না যে, আল্লাহ আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, তিনি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম ? আর তিনি তাদের জন্য একটি সময় নির্ধারণ করেছেন যাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু যালিমরা কুফরী না করে থাকেনি।

قُلْ لَوْ أَنْتُمْ تَمْلِكُونَ خَزَائِنَ رَحْمَةِ رَبِّي إِذًا لَأَمْسَكْتُمْ خَشْيَةَ الْإِنْفَاقِ وَكَانَ الْإِنْسَانُ قَتُورًا17.100

আরবি উচ্চারণ ১৭.১০০। কুল্ লাও আন্তুম্ তাম্লিকূনা খাযা-য়িনা রহ্মাতি রব্বী য় ইযাল্ লাআম্সাক্তুম্ খাশ্ইয়াতাল্ ইন্ফা-ক্ব্; অকা-নাল্ ইন্সা-নু ক্বতূর-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.১০০ বল, ‘যদি তোমরা আমার রবের রহমতের ভাণ্ডারসমূহের মালিক হতে, তবুও খরচ হয়ে যাওয়ার ভয়ে তোমরা তা আটকে রাখতে; আর মানুষতো অতি কৃপণ’।

وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى تِسْعَ آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ فَاسْأَلْ بَنِي إِسْرَائِيلَ إِذْ جَاءَهُمْ فَقَالَ لَهُ فِرْعَوْنُ إِنِّي لَأَظُنُّكَ يَا مُوسَى مَسْحُورًا17.101

আরবি উচ্চারণ ১৭.১০১। অ লাক্বদ আ-তাইনা মূসা- তিস্‘আ ‘আ-ইয়া-তিম্ বাইয়িনা-তিন্ ফাস্য়াল্ বানী য় ইস্র-ঈলা ইয্ জ্বা-য়াহুম্ ফাক্ব-লা লাহূ র্ফি‘আউনু ইন্নী লাআজুন্নুকা ইয়া- মূসা- মাস্হূরা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.১০১ আর আমি মূসাকে নয়টি স্পষ্ট নিদর্শন দিয়েছিলাম, সুতরাং তুমি বনী ইসরাঈলকে জিজ্ঞাসা কর, যখন সে তাদের কাছে আসল তখন ফির‘আউন তাকে বলল, ‘হে মূসা, আমিতো ধারণা করি তুমি যাদুগ্রস্ত’।

قَالَ لَقَدْ عَلِمْتَ مَا أَنْزَلَ هَؤُلَاءِ إِلَّا رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ بَصَائِرَ وَإِنِّي لَأَظُنُّكَ يَا فِرْعَوْنُ مَثْبُورًا17.102

আরবি উচ্চারণ ১৭.১০২। ক্ব-লা লাক্বদ্ ‘আলিম্তা মা য় আন্যালা হা য় উলা-য়ি ইল্লা-রব্বুস্ সামা-ওয়া- তি অল্র্আদ্বি বাছোয়া-য়িরা অইন্নী লা আজুন্নুকা ইয়া-র্ফি‘আউনু মাছ্বূর-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.১০২ সে বলল, ‘তুমি জান যে, এ সকল বিষয় কেবল আসমানসমূহ ও যমীনের রবই নাযিল করেছেন প্রত্যক্ষ প্রমাণ হিসেবে। আর হে ফির‘আউন, আমি তো ধারণা করি তুমি ধ্বংসপ্রাপ্ত।

فَأَرَادَ أَنْ يَسْتَفِزَّهُمْ مِنَ الْأَرْضِ فَأَغْرَقْنَاهُ وَمَنْ مَعَهُ جَمِيعًا 17.103

আরবি উচ্চারণ ১৭.১০৩। ফাআর-দা আইঁ ইয়াস্তাফিয্যাহুম্ মিনাল্ র্আদ্বি ফাআগ্রক্বনা-হু অমাম্মা‘আহূ জ্বামী‘আ-। বাংলা অনুবাদ ১৭.১০৩অতঃপর সে তাদেরকে দেশ থেকে উৎখাত করার ইচ্ছা করল; তখন আমি তাকে ও তার সাথে যারা ছিল সকলকে ডুবিয়ে দিলাম।

وَقُلْنَا مِنْ بَعْدِهِ لِبَنِي إِسْرَائِيلَ اسْكُنُوا الْأَرْضَ فَإِذَا جَاءَ وَعْدُ الْآخِرَةِ جِئْنَا بِكُمْ لَفِيفًا17.104

আরবি উচ্চারণ ১৭.১০৪। অকুল্না-মিম্ বা’দিহী লিবানী য় ইস্র-ঈলাস্ কুনুল্ র্আদ্বোয়া ফাইযা-জ্বা-য়া ওয়া’দুল্ আ-খিরতি জ্বিনা বিকুম্ লাফীফা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.১০৪ আর আমি এরপর বনী ইসরাঈলকে বললাম, ‘তোমরা যমীনে বাস কর, অতঃপর যখন আখিরাতের ওয়াদা আসবে তখন আমি তোমাদেরকে জড়ো করে নিয়ে আসব’।

وَبِالْحَقِّ أَنْزَلْنَاهُ وَبِالْحَقِّ نَزَلَ وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا مُبَشِّرًا وَنَذِيرًا17.105

আরবি উচ্চারণ ১৭.১০৫। অবিল্ হাক্বক্বি আন্যাল্না-হু অবিল্হাক্বক্বি নাযাল্; অমা য় র্আসালনাকা ইল্লা-মুবাশ্শিরাঁও অ নাযীর-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.১০৫আর আমি তা যথাযথভাবে নাযিল করেছি এবং যথাযথভাবে তা নাযিল হয়েছে। আমি তো তোমাকে কেবল সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে পাঠিয়েছি।

وَقُرْآنًا فَرَقْنَاهُ لِتَقْرَأَهُ عَلَى النَّاسِ عَلَى مُكْثٍ وَنَزَّلْنَاهُ تَنْزِيلًا17.106

আরবি উচ্চারণ ১৭.১০৬। অ ক্বরুআ-নান্ ফারক্বনা-হু লিতাক্বরয়াহূ ‘আলান্না-সি ‘আলা-মুক্ছিঁওঁ অ নায্যাল্না-হু তান্যীলা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.১০৬আর কুরআন আমি নাযিল করেছি কিছু কিছু করে, যেন তুমি তা মানুষের কাছে পাঠ করতে পার ধীরে ধীরে এবং আমি তা নাযিল করেছি পর্যায়ক্রমে।

قُلْ آمِنُوا بِهِ أَوْ لَا تُؤْمِنُوا إِنَّ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ مِنْ قَبْلِهِ إِذَا يُتْلَى عَلَيْهِمْ يَخِرُّونَ لِلْأَذْقَانِ سُجَّدًا17.107

আরবি উচ্চারণ ১৭.১০৭। কুল্ আ-মিনূ বিহী য় আওলা- তু’মিনূ ইন্নাল্লাযীনা ঊতুল্ ‘ইল্মা মিন্ ক্বব্লিহী য় ইযা-ইয়ুত্লা- ‘আলাইহিম্ ইয়ার্খিরূনা লিল্আয্ক্ব-নি সুজ্জ্বাদা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.১০৭বল, ‘তোমরা এতে ঈমান আন বা ঈমান না আন, নিশ্চয় এর পূর্বে যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছে, তাদের কাছে যখন এটা পাঠ করা হয় তখন তারা সিজদাবনত হয়ে লুটিয়ে পড়ে।

وَيَقُولُونَ سُبْحَانَ رَبِّنَا إِنْ كَانَ وَعْدُ رَبِّنَا لَمَفْعُولًا 17.108

আরবি উচ্চারণ ১৭.১০৮। অ ইয়াকুলূনা সুব্হা-না রব্বিনা য় ইন্ কা-না ওয়া’দু রব্বিনা-লামাফ্‘ঊলা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.১০৮আর তারা বলে, ‘পবিত্র মহান আমাদের রব! আমাদের রবের ওয়াদা অবশ্যই কার্যকর হয়ে থাকে’।

وَيَخِرُّونَ لِلْأَذْقَانِ يَبْكُونَ وَيَزِيدُهُمْ خُشُوعًا17.109

আরবি উচ্চারণ ১৭.১০৯। অইয়ার্খিরূনা লিল্আয্ক্ব-নি ইয়াব্কূনা অইয়াযীদুহুম্ খুশূ ‘আ-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.১০৯‘আর তারা কাঁদতে কাঁদতে লুটিয়ে পড়ে এবং এটা তাদের বিনয় বৃদ্ধি করে’।

قُلِ ادْعُوا اللَّهَ أَوِ ادْعُوا الرَّحْمَنَ أَيًّا مَا تَدْعُوا فَلَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى وَلَا تَجْهَرْ بِصَلَاتِكَ وَلَا تُخَافِتْ بِهَا وَابْتَغِ بَيْنَ ذَلِكَ سَبِيلًا17.110

আরবি উচ্চারণ ১৭.১১০। কুলিদ্‘ঊল্লা-হা আওয়িদ‘্র্উ রহ্মা-ন্; আইয়া-ম্মা- তাদ্‘ঊ ফালাহুল্ আস্মা-য়ুল্ হুস্না-অলা-তাজ্বর্ হা বিছলা-তিকা অলা-তুখ-ফিত্ বিহা-অব্তাগি বাইনা যা-লিকা সাবীলা-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.১১০ বল, ‘তোমরা (তোমাদের রবকে) ‘আল্লাহ’ নামে ডাক অথবা ‘রাহমান’ নামে ডাক, যে নামেই তোমরা ডাক না কেন, তাঁর জন্যই তো রয়েছে সুন্দর নামসমূহ। তুমি তোমার সালাতে স্বর উঁচু করো না এবং তাতে মৃদুও করো না; বরং এর মাঝামাঝি পথ অবলম্বন কর।

وَقُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي لَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا وَلَمْ يَكُنْ لَهُ شَرِيكٌ فِي الْمُلْكِ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ وَلِيٌّ مِنَ الذُّلِّ وَكَبِّرْهُ تَكْبِيرًا 17.111

আরবি উচ্চারণ ১৭.১১১। অকুলিল্ হাম্দু লিল্লা-হিল্লাযী লাম্ ইয়াত্তাখিয্ অলাদাঁও অ লাম্ ইয়াকুল্ লাহূ শারীকুন্ ফিল্ মুল্কি অলাম্ ইয়াকুল্ লাহূ অলিয়্যু ম্মিনায্যুল্লি অকার্ব্বিহু তাক্বীর-।

বাংলা অনুবাদ ১৭.১১১ আর বল, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি কোন সন্তান গ্রহণ করেননি, রাজত্বে তাঁর কোন শরীক নেই এবং অপমান থেকে বাঁচতে তাঁর কোন অভিভাবকের দরকার নেই।’ সুতরাং তুমি পূর্ণরূপে তাঁর বড়ত্ব ঘোষণা কর।

আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ

    প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে ইমেল : info@banglanewsexpress.com

    আমরা আছি নিচের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে ও

    Leave a Comment