সূরা তাগাবুন সকল তথ্য আল কোরআন ও হাদিসের আলোতে,পৃথিবীর জানা অজানা কিছু তথ্য আল তাগাবুন আলমল ও ফজিলত, সূরা তাগাবুন কতো বার পাঠ করলে কোন আলম ও ফজিলত, সূরা তাগাবুন নাযিলের কারন গুলো কি কি ,কুরআন ৬৪ সূরা আল – তাগাবুন

আজকের বিষয়: সূরা তাগাবুন সকল তথ্য আল কোরআন ও হাদিসের আলোতে,পৃথিবীর জানা অজানা কিছু তথ্য আল তাগাবুন আলমল ও ফজিলত, সূরা তাগাবুন কতো বার পাঠ করলে কোন আলম ও ফজিলত, সূরা তাগাবুন নাযিলের কারন গুলো কি কি ,কুরআন ৬৪ সূরা আল – তাগাবুন

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
یُسَبِّحُ لِلّٰہِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ ۚ لَہُ الۡمُلۡکُ وَلَہُ الۡحَمۡدُ ۫ وَہُوَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ١ ہُوَ الَّذِیۡ خَلَقَکُمۡ فَمِنۡکُمۡ کَافِرٌ وَّمِنۡکُمۡ مُّؤۡمِنٌ ؕ وَاللّٰہُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ بَصِیۡرٌ ٢ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ بِالۡحَقِّ وَصَوَّرَکُمۡ فَاَحۡسَنَ صُوَرَکُمۡ ۚ وَاِلَیۡہِ الۡمَصِیۡرُ ٣ یَعۡلَمُ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَیَعۡلَمُ مَا تُسِرُّوۡنَ وَمَا تُعۡلِنُوۡنَ ؕ وَاللّٰہُ عَلِیۡمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوۡرِ ٤ اَلَمۡ یَاۡتِکُمۡ نَبَؤُا الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مِنۡ قَبۡلُ ۫ فَذَاقُوۡا وَبَالَ اَمۡرِہِمۡ وَلَہُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ٥ ذٰلِکَ بِاَنَّہٗ کَانَتۡ تَّاۡتِیۡہِمۡ رُسُلُہُمۡ بِالۡبَیِّنٰتِ فَقَالُوۡۤا اَبَشَرٌ یَّہۡدُوۡنَنَا ۫ فَکَفَرُوۡا وَتَوَلَّوۡا وَّاسۡتَغۡنَی اللّٰہُ ؕ وَاللّٰہُ غَنِیٌّ حَمِیۡدٌ ٦ زَعَمَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اَنۡ لَّنۡ یُّبۡعَثُوۡا ؕ قُلۡ بَلٰی وَرَبِّیۡ لَتُبۡعَثُنَّ ثُمَّ لَتُنَبَّؤُنَّ بِمَا عَمِلۡتُمۡ ؕ وَذٰلِکَ عَلَی اللّٰہِ یَسِیۡرٌ ٧ فَاٰمِنُوۡا بِاللّٰہِ وَرَسُوۡلِہٖ وَالنُّوۡرِ الَّذِیۡۤ اَنۡزَلۡنَا ؕ وَاللّٰہُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ خَبِیۡرٌ ٨ یَوۡمَ یَجۡمَعُکُمۡ لِیَوۡمِ الۡجَمۡعِ ذٰلِکَ یَوۡمُ التَّغَابُنِ ؕ وَمَنۡ یُّؤۡمِنۡۢ بِاللّٰہِ وَیَعۡمَلۡ صَالِحًا یُّکَفِّرۡ عَنۡہُ سَیِّاٰتِہٖ وَیُدۡخِلۡہُ جَنّٰتٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَاۤ اَبَدًا ؕ ذٰلِکَ الۡفَوۡزُ الۡعَظِیۡمُ ٩ وَالَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَکَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَاۤ اُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ النَّارِ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا ؕ  وَبِئۡسَ الۡمَصِیۡرُ ٪ ١۰ مَاۤ اَصَابَ مِنۡ مُّصِیۡبَۃٍ اِلَّا بِاِذۡنِ اللّٰہِ ؕ وَمَنۡ یُّؤۡمِنۡۢ بِاللّٰہِ یَہۡدِ قَلۡبَہٗ ؕ وَاللّٰہُ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمٌ ١١ وَاَطِیۡعُوا اللّٰہَ وَاَطِیۡعُوا الرَّسُوۡلَ ۚ فَاِنۡ تَوَلَّیۡتُمۡ فَاِنَّمَا عَلٰی رَسُوۡلِنَا الۡبَلٰغُ الۡمُبِیۡنُ ١٢ اَللّٰہُ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ؕ وَعَلَی اللّٰہِ فَلۡیَتَوَکَّلِ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ ١٣ یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِنَّ مِنۡ اَزۡوَاجِکُمۡ وَاَوۡلَادِکُمۡ عَدُوًّا لَّکُمۡ فَاحۡذَرُوۡہُمۡ ۚ وَاِنۡ تَعۡفُوۡا وَتَصۡفَحُوۡا وَتَغۡفِرُوۡا فَاِنَّ اللّٰہَ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ١٤ اِنَّمَاۤ اَمۡوَالُکُمۡ وَاَوۡلَادُکُمۡ فِتۡنَۃٌ ؕ وَاللّٰہُ عِنۡدَہٗۤ اَجۡرٌ عَظِیۡمٌ ١٥ فَاتَّقُوا اللّٰہَ مَا اسۡتَطَعۡتُمۡ وَاسۡمَعُوۡا وَاَطِیۡعُوۡا وَاَنۡفِقُوۡا خَیۡرًا لِّاَنۡفُسِکُمۡ ؕ وَمَنۡ یُّوۡقَ شُحَّ نَفۡسِہٖ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡمُفۡلِحُوۡنَ ١٦ اِنۡ تُقۡرِضُوا اللّٰہَ قَرۡضًا حَسَنًا یُّضٰعِفۡہُ لَکُمۡ وَیَغۡفِرۡ لَکُمۡ ؕ  وَاللّٰہُ شَکُوۡرٌ حَلِیۡمٌ ۙ ١٧ عٰلِمُ الۡغَیۡبِ وَالشَّہَادَۃِ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ٪ ١٨


আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ  


নামকরণ
সূরার ৯নং আয়াতে () কথাটির () শব্দটিকে নাম হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে । অর্থাৎ এটি সেই সূরা যার মধ্যে () শব্দটি আছে ।

নাযিল হওয়ার সময় -কাল
মুকাতিল এবং কালবী বলেন, সূরাটির কিছু অংশ মক্কায় এবং কিছু অংশ মদীনায় অবতীর্ণ । হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস এবং আতা ইবনে ইয়াসির বলেনঃ প্রথম থেকে ১৩ আয়াত পর্যন্ত মক্কায় অবতীর্ণ এবং ১৪ আয়াত থেকে শেষ পর্যন্ত মদীনায় অবতীর্ণ । কিন্তু অধিকাংশ মুফাসিস্সিরের মতে সম্পূর্ণ সূরাটি মদীনায় অবতীর্ণ । যদিও সূরার মধ্যে এমন কোন ইশারা -ইংগীত পাওয়া যায় না । যার ভিত্তিতে এর নাযিল হওয়ার সময়-কাল নির্দিষ্ট করা যেতে পারে । তবে এর বিষয়বস্তু নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করলে অনুমতি হয় যে, সম্ভবত সূরাটি মাদানী যুগের প্রথমদিকে নাযিল হয়ে থাকবে । এ কারণে সূরাটিতে কিছুটা মক্কী সূরার বৈশিষ্ট এবং কিছুটা মাদানী সূরার বৈশিষ্ট পরিলক্ষিত হয় ।

বিষয়বস্তু ও মূল বক্তব্য
এ সূরার বিষয়বস্তু হচ্ছে ঈমান ও আনুগত্যের দাওয়াত এবং উত্তম নৈতিক চরিত্রের শিক্ষা দেয়া । বক্তব্যের ধারাক্রম হচ্ছেঃ প্রথম চার আয়াতে গোটা মানব জাতিকে সম্বোধন করা হয়েছে । ৫ থেকে ১০ আয়াতে যারা কুরেআনের দাওয়াত মানে না তাদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে এবং যারা কুরআনের এ দাওয়াতকে মেনে নিয়েছে ১১ আয়াত থেকে সুরার শেষ পর্যন্ত আয়াতগুলোতে তাদেরকে সম্বোধন করে কথা বলা হয়েছে । কয়েকটি সংক্ষিপ্ত বাক্য দ্বারা গোটা মানব জাতিকে সম্বোধন করে চারটি মূল সত্য সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে । প্রথমত বলা হয়েছে , এই বিশ্ব-জাহান যেখানে তোমরা বসবাস করছো তা আল্লাহহীন নয় । বরং সর্বসময় ক্ষমতার অধিকারী এমন এক আল্লাহ এর স্রষ্টা, মালিক ও শাসক যিনি যে কোন বিচারে পূর্ণাঙ্গ এবং দোষক্রটি ও কলুষ-কালিমাহীন । এ বিশ্ব-জাহানের সবকিছুই তাঁর সে পূর্ণতা, দোষ-ত্রুটিহীনতা এবং কলূষ-কালিমাহীনতার সাক্ষ দিচ্ছি ।

দ্বিতীয়ত বলা হয়েছে, এই বিশ্ব-জাহানকে উদ্দেশ্যহীন ও অযৌক্তিকভাবে সৃষ্টি করা হয়নি । এর সৃষ্টিকর্তা একে সরাসরি সত্য, ন্যায় ও যুক্তির ভিত্তিতে সৃষ্টি করেছেন । এখানে এরূপ ভ্রান্ত ধারণায় লিপ্ত থেকো না যে, এই বিশ্ব-জাহান অর্থহীন এক তামাশা, উদ্দেশ্যহীনভাবে এর সূচনা হয়েছে এবং উদ্দেশ্যহীনভাবে তা শেষ হয়ে যাবে ।

তৃতীয়ত বলা হয়েছে, আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে সর্বোত্তম আকৃতি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন এবং কুফর ও ঈমান গ্রহণ কর বা না করার পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন । এটা কোন নিষ্ফল ও অর্থহীন ব্যাপার নয় যে, তোমার কুফরী অবলম্বন করো আর ঈমান অবলম্বন করো কোন অবস্থাতেই এর কোন ফলাফল প্রকাশ পাবে না । তোমরা তোমাদের এই ইখতিয়াত ও স্বাধীনতাকে কিভাবে কাজে লাগাও আল্লাহ তা দেখেছেন ।

চতুর্থত বলা হয়েছে, তোমরা দায়িত্বহীন নও বা জবাবদিহির দায়-দায়িত্ব থেকে মুক্ত নও । শেষ পর্যন্ত তোমাদেরকে তোমাদের স্রষ্টার কাছে ফিরে যেতে হবে এবং সেই সত্তার সম্মুখীন হতে হবে যিনি বিশ্ব-জাহানের সবকিছু সম্পর্কেই অবহিত । তোমাদের কোন কথাই তাঁর কাছে গোপন নয়, মনের গহনে লুক্কায়িত ধ্যান -ধারণা পর্যন্ত তাঁর কাছে সমুজ্জল ও সুস্পষ্ট ।

বিশ্ব-জাহান এবং মানুষের প্রকৃত অবস্থান ও মর্যাদা সম্পর্কে এই চারটি মৌলিক কথা বর্ণনা করার পর বক্তব্যের মোড় সেই সব লোকদের প্রতি ঘুরে গিয়েছে যারা কুফরীর পথ অবলম্বন করেছে । ইতিহাসের সেই দৃশ্যপটের প্রতি তাদের মনোযোগ ও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে যা মানব ইতিহাসে একের পর এক দেখা যায় । অর্থাৎ এক জাতির পতনের পর আরেক জাতির উত্থান ঘটে এবং অবশেষে সে জাতিও ধ্বংস হয়ে যায় । মানুষ তার বিবেক -বুদ্ধির মাপকাঠিতে ইতিহাসের এ দৃশ্যপটে হাজারো কারণ উল্লেখ করে আসছে । কিন্তু আল্লাহ তা’আলা এর পেছনে কার্যকর প্রকৃত সত্য তুলে ধরেছেন । তা হচ্ছে, জাতিসমূহের ধ্বংসের মৌলিক কারণ শুধু দুটিঃ

একটি কারণ হলো, আল্লাহ তা’আলা তাদের হিদায়াতের জন্য যেসব রসূল পাঠিয়েছিলেন তারা তাদের কাথা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে । ফল হয়েছে এই যে, আল্লাহ তা’আলাও তাদেরকে তাদের অবস্থার ওপর ছেড়ে দিয়েছেন । ফলে তারা নানা রকম দার্শনিক তত্ত্ব রচনা করে একটি গোমরাহী ও বিভ্রান্তি থেকে আরেকটি গোমরাহী ও বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত হয়েছে ।

দুইঃ তারা আখেরাতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করার ব্যাপারটিও প্রত্যাখ্যান করেছে এবং নিজেদের ধ্যান-ধারণা অনুসারে মনে করে নিয়েছে যে, এই দুনিয়ার জীবনই সবকিছু । এ জীবন ছাড়া এমন আর কোন জীবন নেই যেখানে আল্লাহর সামনে আমাদের সব কাজের জবাবদিহি করতে হবে । এই ধ্যান-ধারণা ও বিশ্বাস তাদের জীবনের সমস্ত আচার-আচরণকে বিকৃত করে দিয়েছে । তাদের নৈতিক চরিত্র, কর্মের কলুষতা ও নোংরামি এতদূর বৃদ্ধি পেয়েছে যে শেষ পর্যন্ত আল্লাহর আযাব এসে তাদের অস্তিত্ব থেকে দুনিয়াকে পবিত্র ও ক্লেদমুক্ত করেছে । মানব ইতিহাসের এ দুটি শিক্ষামূলক বাস্তব সত্যকে তুলে ধরে ন্যায় ও সত্য অস্বীকারকারীদের আহবান জানানো হচ্ছে যাতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে । আর তারা যদি অতীত জাতিসমূহের অনুরূপ পরিণামের সম্মুখীন হতে না চায় তাহলে আল্লাহ তার রসূল এবং কুরআন মজীদ আকারে হিদায়াতের যে আলোকবর্তিকা আল্লাহ দিয়েছেন তার প্রতি যেন ঈমান আনে । সাথে সাথে তাদেরকে এ বিষয়ে সাবধান করা হয়েছে যে, সেদিন অবশ্যই আসবে যখন আগের ও পরের সমস্ত মানুষকে একত্র করা হবে এবং তোমাদের প্রত্যেকের হার -জিতের বিষয়টি সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে । তারপর কে ঈমান ও সৎকাজের পথ অবলম্বন করেছিল আর কে কুফর ও মিথ্যার পথ অনুসরণ করেছিল তার ভিত্তিতেই সমস্ত মানুষের ভাগ্যের চূড়ান্ত ফায়সালা করা হবে । প্রথম দলটি চিরস্থায়ী জান্নাতের অধিকারী হবে এবং দ্বিতীয় দলটির ভাগে পড়বে স্থায়ী জাহান্নাম ।


আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ  


এরপর ঈমানের পথ অনুসরণকারীদের উদ্দেশ্য করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছেঃ

একঃ দুনিয়াতে যে বিপদ -মুসিবত আসে তা আল্লাহর অনুমতি ও অনুমোদনক্রমেই আসে । এরূপ পরিস্থিতিতে যে ব্যক্তি ঈমানের ওপর অবিচল থাকে আল্লাহ তার দিলকে হিদায়াত দান করেন । কিন্তু যে ব্যক্তি অস্থির ও ক্রোধান্বিত হয়ে ঈমানের পথ থেকে সরে যাবে, তার বিপদ-মুসিবত তো মূলত আল্লাহর অনুমতি ও অনুমোদন ছাড়া দূরীভূত হবে না; তবে সে আরো একটি বড় মুসিবত ডেকে আনবে । তাহলো, তার মন আল্লাহর হিদায়াত থেকে বঞ্চিত হয়ে যাবে ।

দুইঃ শুধু ঈমান গ্রহণ করাই মু’মিনের কাজ নয় । বরং ঈমান গ্রহণ করার পর তার উচিত কার্যত আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করা । সে যদি আনুগত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে নিজের ক্ষতির জন্য সে নিজেই দায়ী হবে । কেননা, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সত্য বিধান পৌছিয়ে দিয়ে দায়িত্বমুক্ত হয়ে গিয়েছেন ।

তিনঃ এক মু’মিন বান্দার ভরসা ও নির্ভরতা নিজের শক্তি অথবা পৃথিবীর অন্য কোন শক্তির ওপর না হয়ে কেবল আল্লাহর ওপর হতে হবে ।

চারঃ মু’মিনের জন্য তার অর্থ-সম্পদ, পরিবার-পরিজন, ওসন্তান-সন্তুতি একটা বড় পরীক্ষা । কারণ ঔগুলোর ভালবাসাই মানুষকে ঈমান ও আনুগত্যের পথ থেকে ফিরিয়ে রাখে । সে জন্য ঈমানদার ব্যক্তিকে তার পরিবার -পরিজন ও সন্তান-সন্তুতি সম্পর্কে সাবধান থাকতে হবে যাতে করে তারা পরোক্ষ কোনভাবেই তাদের জন্যআল্লাহর পথের ডাকাত ও লুটেরা হয়ে না বসে । তাছাড়া তাদের উচিত অর্থ-সম্পদ আল্লাহর পথে খরচ করা যাতে তাদের মন-মানসিকতা অর্থ পূজার ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকে ।

পাঁচঃ প্রত্যেক মানুষ তার সাধ্যানুসারে শরীয়াতের বিধি-বিধান পালনের জন্য আদিষ্ট । আল্লাহ তা’আলা মানুষের কাছে তার শক্তি ও সামর্থের অধিক কিছু করার দাবী করেন না । তবে একজন মু’মিনের যা করা উচিত তাহলো, সে তার সাধ্যমত আল্লাহকে ভয় করে জীবন যাপন করতে কোন ত্রুটি করবে না এবং তার কথা, কাজ ও আচার-আচরণ তার নিজের ত্রুটি ও অসাবধানতার জন্য যেন আল্লাহর নির্ধারিত সমীসমূহ অতিক্রম না করে ।


আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ  

৬৪ . আত তাগাবুন – ( الـتغابن ) | মোহ অপসারণ
মাদানী, মোট আয়াতঃ ১৮

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

یُسَبِّحُ لِلّٰہِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ ۚ لَہُ الۡمُلۡکُ وَلَہُ الۡحَمۡدُ ۫ وَہُوَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ

ইউছাব্বিহু লিল্লা-হি মা-ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদি লাহুল মুলকুওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুওয়া ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন কাদীর।

Mufti Taqi Usmani
All that is in the heavens and all that is in the earth proclaim Allah’s purity. To Him belongs the kingdom, and for Him is all praise, and He is powerful over every thing.

মুফতী তাকী উসমানী
যা কিছু আকাশমণ্ডলীতে ও যা-কিছু পৃথিবীতে আছে, তা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে। রাজত্ব তাঁরই এবং তাঁরই সমস্ত প্রশংসা। তিনি সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে। রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই। তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সমস্তই আল্লাহ্ র পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে, আধিপত্য তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই ; তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।

মাওলানা জহুরুল হক
আল্লাহ্‌রই জপতপ করছে যা-কিছু আছে মহাকাশমন্ডলে ও যা-কিছু আছে পৃথিবীতে, তাঁরই হচ্ছে সার্বভৌমত্ব ও তাঁরই সকল প্রশংসা, আর তিনি সব-কিছুর উপরে সর্বশক্তিমান।

ہُوَ الَّذِیۡ خَلَقَکُمۡ فَمِنۡکُمۡ کَافِرٌ وَّمِنۡکُمۡ مُّؤۡمِنٌ ؕ وَاللّٰہُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ بَصِیۡرٌ

হুওয়াল্লাযী খালাকাকুম ফামিনকুম কা-ফিরুওঁ ওয়া মিনকুম মু’মিনুন ওয়াল্লা-হু বিমাতা‘মালূনা বাসীর।

Mufti Taqi Usmani
He is the One who created you, then some of you are disbelievers, and some of you are believers. And Allah is Watchful of what you do.

মুফতী তাকী উসমানী
তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তোমাদের মধ্যে কেউ কাফের ও কেউ মুমিন। তোমরা যা-কিছু কর আল্লাহ তা ভালোভাবে দেখছেন।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাদের মধ্যে কেউ কাফের এবং কেউ মুমিন। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা দেখেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, এরপর তোমাদের মধ্যে কেউ হয় কাফির এবং তোমাদের মধ্যে কেউ হয় মু’মিন। তোমরা যা কর আল্লাহ্ তার সম্যক দ্রষ্টা।

মাওলানা জহুরুল হক
তিনিই সেইজন যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, তারপর তোমাদের কেউ-কেউ অবিশ্বাসী ও তোমাদের কেউ-কেউ বিশ্বাসী। আর তোমরা যা কর আল্লাহ্ তার সম্যক দ্রষ্টা।

خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ بِالۡحَقِّ وَصَوَّرَکُمۡ فَاَحۡسَنَ صُوَرَکُمۡ ۚ وَاِلَیۡہِ الۡمَصِیۡرُ

খালাকাছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা বিলহাক্কিওয়া সাওওয়ারাকুম ফাআহছানা সুওয়ারাকুম ওয়া ইলাইহিল মাসীর।

Mufti Taqi Usmani
He has created the heavens and the earth rightly, and shaped your figures, and made your figures good, and to Him is the final return.

মুফতী তাকী উসমানী
তিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী যথাযথভাবে সৃষ্টি করেছেন। তিনি তোমাদের আকৃতি গঠন করেছেন এবং তোমাদের আকৃতিকে সুন্দর করেছেন। তাঁরই দিকে শেষ পর্যন্ত (সকলকে) ফিরে যেতে হবে।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলকে যথাযথভাবে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদেরকে আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর সুন্দর করেছেন তোমাদের আকৃতি। তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তিনি সৃষ্টি করেছেন আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী যথাযথভাবে এবং তোমাদেরকে আকৃতি দান করেছেন-তোমাদের আকৃতি করেছেন সুশোভন, এবং প্রত্যাবর্তন তো তাঁরই নিকট।

মাওলানা জহুরুল হক
তিনি মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে, আর তিনি তোমাদের আকৃতি দিয়েছেন, তারপর তোমাদের আকৃতিকে কত সুন্দর করেছেন! আর তাঁরই কাছে শেষ-প্রত্যাবর্তন।

یَعۡلَمُ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَیَعۡلَمُ مَا تُسِرُّوۡنَ وَمَا تُعۡلِنُوۡنَ ؕ وَاللّٰہُ عَلِیۡمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوۡرِ

ইয়া‘লামুমা-ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিওয়া ইয়া‘লামুমা-তুছিররূনা ওয়ামাতু‘লিনূনা ওয়াল্লা-হু ‘আলীমুম বিযা-তিসসুদূ র।

Mufti Taqi Usmani
He knows all that is in the heavens and the earth, and He knows whatever you conceal and whatever you reveal. Allah is fully aware of what lies in the hearts.

মুফতী তাকী উসমানী
আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে সবই তিনি জানেন। তোমরা যা গোপনে কর এবং যা প্রকাশ্যে কর তাও তিনি পরিপূর্ণরূপে জানেন এবং আল্লাহ অন্তরের বিষয়াবলী পর্যন্ত ভালোভাবে জ্ঞাত আছেন।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা আছে, তিনি তা জানেন। তিনি আরও জানেন তোমরা যা গোপনে কর এবং যা প্রকাশ্যে কর। আল্লাহ অন্তরের বিষয়াদি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সমস্তই তিনি জানেন এবং তিনি জানেন তোমরা যা গোপন কর ও তোমরা যা প্রকাশ কর এবং তিনি অন্তর্যামী।

মাওলানা জহুরুল হক
মহাকাশমন্ডলীতে ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে তা তিনি জানেন, আর তিনি জানেন যা তোমরা লুকোও ও যা তোমরা প্রকাশ কর। আর অন্তরের ভেতরে যা আছে সে-সন্বন্ধেও তিনি সর্বজ্ঞাতা।

اَلَمۡ یَاۡتِکُمۡ نَبَؤُا الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مِنۡ قَبۡلُ ۫ فَذَاقُوۡا وَبَالَ اَمۡرِہِمۡ وَلَہُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ

আলাম ইয়া’তিকুম নাবাউল্লাযীনা কাফারূমিন কাবলু ফাযা-কূওয়া বা-লা আমরিহিম ওয়ালাহুম ‘আযা-বুন আলীম।

Mufti Taqi Usmani
Did the news of those people not come to you who disbelieved earlier, and tasted (in this world) the evil consequence of their conduct, and for them (in the Hereafter) there is a painful punishment?

মুফতী তাকী উসমানী
তোমাদের নিকট কি পৌঁছেনি তাদের বৃত্তান্ত, যারা তোমাদের পূর্বে কুফর অবলম্বন করেছিল, অতঃপর তারা তাদের কর্মের পরিণাম ভোগ করেছে এবং (ভবিষ্যতে) তাদের জন্য আছে এক যন্ত্রণাময় শাস্তি?

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তোমাদের পুর্বে যারা কাফের ছিল, তাদের বৃত্তান্ত কি তোমাদের কাছে পৌছেনি? তারা তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করেছে, এবং তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তোমাদের নিকট কি পৌঁছে নাই পূর্ববর্তী কাফিরদের বৃত্তান্ত ? এরা এদের কর্মের মন্দ ফল আস্বাদন করেছিল এবং এদের জন্যে রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি।

মাওলানা জহুরুল হক
তোমাদের কাছে কি তাদের সংবাদ পেছেনি যাঁরা ইতিপূর্বে অবিশ্বাস পোষণ করেছিল, তারপর তাদের কাজের শাস্তি আস্বাদন করেছিল? আর তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি।

ذٰلِکَ بِاَنَّہٗ کَانَتۡ تَّاۡتِیۡہِمۡ رُسُلُہُمۡ بِالۡبَیِّنٰتِ فَقَالُوۡۤا اَبَشَرٌ یَّہۡدُوۡنَنَا ۫ فَکَفَرُوۡا وَتَوَلَّوۡا وَّاسۡتَغۡنَی اللّٰہُ ؕ وَاللّٰہُ غَنِیٌّ حَمِیۡدٌ

যা-লিকা বিআন্নাহূকা-নাত তা’তীহিম রুছুলুহুম বিলবাইয়িনা-তি ফাকা-লূ আবাশারুইঁ ইয়াহদূ নানা- ফাকাফারূ ওয়াতাওল্লাও ওয়াছতাগনাল্লাহু ওয়াল্লাহু গানিইয়ুন হামিদ।

Mufti Taqi Usmani
That is because their messengers used to bring them clear proofs, but they said, “Shall some mortals give us guidance?” Thus they disbelieved and turned away, and Allah did not care. Allah is All-Independent, Ever-Praised.

মুফতী তাকী উসমানী
তা এজন্য যে, তাদের কাছে তাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট দলীল-প্রমাণ নিয়ে এসেছিল। কিন্তু তারা বলেছিল, (আমাদের মত) মানুষই কি আমাদেরকে হেদায়াত দেবে? মোটকথা তারা কুফর অবলম্বন করল ও মুখ ফিরিয়ে নিল। আর আল্লাহও তাদেরকে অপ্রয়োজনীয় ঠাওরালেন। বস্তুত আল্লাহ অভাবমুক্ত, আপনিই প্রশংসাযোগ্য।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এটা এ কারণে যে, তাদের কাছে তাদের রসূলগণ প্রকাশ্য নিদর্শনাবলীসহ আগমন করলে তারা বলতঃ মানুষই কি আমাদেরকে পথপ্রদর্শন করবে? অতঃপর তারা কাফের হয়ে গেল এবং মুখ ফিরিয়ে নিল। এতে আল্লাহর কিছু আসে যায় না। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী প্রশংসিত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তা এইজন্যে যে, এদের নিকট এদের রাসূলগণ স্পষ্ট নিদর্শনসহ আসত তখন এরা বলত, ‘মানুষই কি আমাদেরকে পথের সন্ধান দিবে ?’ এরপর এরা কুফরী করল ও মুখ ফিরিয়ে নিল। কিন্তু এতে আল্লাহ্ র কিছু আসে যায় না; আল্লাহ্ অভাবমুক্ত, প্রশংসার্হ।

মাওলানা জহুরুল হক
এটি এইজন্য যে তাদের কাছে তাদের রসুলগণ আসতেছিলেন সুস্পষ্ট প্রমাণাবলী নিয়ে, কিন্ত তারা বলত — “মানুষই বুঝি আমাদের পথ দেখাবে?” সুতরাং তারা অবিশ্বাস করল ও ফিরে গেল, অথচ আল্লাহ্ বেপরোয়া রয়েছেন। আর আল্লাহ্ স্বয়ংসমৃদ্ধ প্রশংসার্হ।

زَعَمَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اَنۡ لَّنۡ یُّبۡعَثُوۡا ؕ قُلۡ بَلٰی وَرَبِّیۡ لَتُبۡعَثُنَّ ثُمَّ لَتُنَبَّؤُنَّ بِمَا عَمِلۡتُمۡ ؕ وَذٰلِکَ عَلَی اللّٰہِ یَسِیۡرٌ

ঝা‘আমাল্লাযীনা কাফারূ আল্লাইঁ ইউব‘আছূ কুল বালা-ওয়া রাববী লাতুব‘আছুন্না ছু ম্মা লাতুনাব্বাউন্না বিমা-‘আমিলতুম ওয়া যা-লিকা ‘আলাল্লা-হি ইয়াছীর।

Mufti Taqi Usmani
The disbelievers claim that they will never be raised again (after death). Say, “Why not? By my Lord, you will be raised again, and then you will be told about what you did. That is so easy for Allah.”

মুফতী তাকী উসমানী
যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তারা দাবি করে, তাদেরকে কখনওই পুনর্জীবিত করা হবে না। বলে দাও, কেন নয়? আমার প্রতিপালকের শপথ! তোমাদেরকে অবশ্যই পুনর্জীবিত করা হবে। তারপর তোমাদেরকে অবহিত করা হবে তোমরা যা-কিছু করতে। আর এটা আল্লাহর জন্য অতি সহজ।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
কাফেররা দাবী করে যে, তারা কখনও পুনরুত্থিত হবে না। বলুন, অবশ্যই হবে, আমার পালনকর্তার কসম, তোমরা নিশ্চয় পুরুত্থিত হবে। অতঃপর তোমাদেরকে অবহিত করা হবে যা তোমরা করতে। এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
কাফিররা ধারণা করে যে, এরা কখনও পুনরুত্থিত হবে না। বল, ‘নিশ্চয়ই হবে, আমার প্রতিপালকের শপথ! তোমরা অবশ্যই পুনরুত্থিত হবে। এরপর তোমরা যা করতে তোমাদেরকে সে সম্বন্ধে অবশ্যই অবহিত করা হবে। এটা আল্লাহ্ র পক্ষে সহজ।’

মাওলানা জহুরুল হক
যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা ধরে নিয়েছে যে তাদের কখনো তোলা হবে না। বলো — “হাঁ, আমার প্রভুর কসম, অতি-অবশ্য তোমাদের তোলা হবে, তারপর তোমাদের অবশ্যই জানানো হবে যা তোমরা করেছিলে।” আর এইটি আল্লাহ্‌র পক্ষে সহজ।

فَاٰمِنُوۡا بِاللّٰہِ وَرَسُوۡلِہٖ وَالنُّوۡرِ الَّذِیۡۤ اَنۡزَلۡنَا ؕ وَاللّٰہُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ خَبِیۡرٌ

ফাআ-মিনূবিল্লা-হি ওয়া রাছূলিহী ওয়ান্নূরিল্লাযীআনঝালনা- ওয়াল্লা-হু বিমাতা‘মালূনা খাবীর।

Mufti Taqi Usmani
So, believe in Allah and His Messenger, and in the light We have sent down. And Allah is fully aware of what you do.

মুফতী তাকী উসমানী
সুতরাং তোমরা ঈমান আন আল্লাহর প্রতি, তাঁর রাসূলের প্রতি এবং সেই আলোর প্রতি যা আমি নাযিল করেছি। তোমরা যা-কিছু করছ আল্লাহ সে সম্পর্কে পরিপূর্ণরূপে অবহিত।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
অতএব তোমরা আল্লাহ তাঁর রসূল এবং অবতীর্ন নূরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। তোমরা যা কর, সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক অবগত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতএব তোমরা আল্লাহ্, তাঁর রাসূল ও যে জ্যোতি আমি অবতীর্ণ করেছি তাতে বিশ্বাস স্থাপন কর। তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে আল্লাহ্ সবিশেষ অবহিত।

মাওলানা জহুরুল হক
অতএব তোমরা আল্লাহ্‌তে বিশ্বাস করো, আর তাঁর রসূলে ও সেই আলোকে যা আমরা অবতারণ করেছি। আর তোমরা যা করছ সে-সম্পর্কে আল্লাহ্ পূর্ণ-ওয়াকিফহাল।

یَوۡمَ یَجۡمَعُکُمۡ لِیَوۡمِ الۡجَمۡعِ ذٰلِکَ یَوۡمُ التَّغَابُنِ ؕ وَمَنۡ یُّؤۡمِنۡۢ بِاللّٰہِ وَیَعۡمَلۡ صَالِحًا یُّکَفِّرۡ عَنۡہُ سَیِّاٰتِہٖ وَیُدۡخِلۡہُ جَنّٰتٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَاۤ اَبَدًا ؕ ذٰلِکَ الۡفَوۡزُ الۡعَظِیۡمُ

ইয়াওমা ইয়াজমা‘উকুম লিইয়াওমিল জাম‘ই যা-লিকা ইয়াওমুত্তাগা-বুন ওয়া মাইঁ ইউ’মিম বিল্লা-হি ওয়া ইয়া‘মাল সা-লিহাইঁ ইউকাফফির ‘আনহু ছাইয়িআ-তিহী ওয়া ইউদখিলহু জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু খা-লিদীনা ফীহা-আবাদা- যা-লিকাল ফাওঝুল ‘আজীম।

Mufti Taqi Usmani
(Be mindful of) the day when He will gather you for the Day of Gathering. That will be the Day of loss and gain. Whoever believes in Allah, and does righteously, He will write off his evil deeds, and will admit him to gardens beneath which rivers flow, where they will live forever. That is the great achievement.

মুফতী তাকী উসমানী
(দ্বিতীয় জীবন হবে সেই দিন), যে দিন আল্লাহ তোমাদেরকে সমবেত করবেন একত্রীকরণের দিনে। সেটা কিছু লোক কর্তৃক অন্যদেরকে আক্ষেপে ফেলার দিন। ১ আর যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন এবং তাদেরকে প্রবেশ করাবেন এমন জান্নাতে, যার নিচে নহর প্রবাহিত থাকবে। তাতে তারা সর্বদা থাকবে। এটাই মহা সাফল্য।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
সেদিন অর্থাৎ, সমাবেশের দিন আল্লাহ তোমাদেরকে সমবেত করবেন। এ দিন হার-জিতের দিন। যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে, আল্লাহ তার পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তাকে জান্নাতে দাখিল করবেন। যার তলদেশে নির্ঝরিনীসমূহ প্রবাহিত হবে, তারা তথায় চিরকাল বসবাস করবে। এটাই মহাসাফল্য।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
স্মরণ কর, যেদিন তিনি তোমাদেরকে সমবেত করবেন সমাবেশ দিবসে সেদিন হবে লাভ-লোকসানের দিন। যে ব্যক্তি আল্লাহে বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে তিনি তার পাপ মোচন করবেন এবং তাকে দাখিল করবেন জান্নাতে; যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তারা হবে চিরস্থায়ী। এটাই মহাসাফল্য।

মাওলানা জহুরুল হক
সেইদিন তিনি তোমাদের সমবেত করবেন জমায়েৎ করার দিনের জন্যে — এইটিই মোহ-অপসারণের দিন। আর যে কেউ আল্লাহ্‌তে বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে, তিনি তার থেকে তার সব পাপ মোচন করে দেবেন এবং তাকে প্রবেশ করাবেন স্বর্গোউদ্যানসমূহে যাদের নিচে দিয়ে বয়ে চলেছে ঝরনারাজি, সেখানে তারা অবস্থান করবে চিরকাল। এইটি এক বিরাট সাফল্য।

তাফসীরঃ
১. কুরআন মাজীদে এখানে تغابن (তাগাবুন) শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। এর অর্থ একে অন্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করা, আক্ষেপে ফেলা। কিয়ামতকে ‘তাগাবুনের দিন’ বলা হয়েছে এ কারণে যে, সে দিন যারা জান্নাতে যাবে তাদেরকে দেখে জাহান্নামীরা আক্ষেপ করে বলবে, আহা! আমরা যদি দুনিয়ায়- জান্নাতীদের মত আমল করতাম, তবে আজ আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হত না, আমরাও তাদের মত জান্নাতের নি‘আমত লাভ করতে পারতাম। হযরত শাহ আবদুল কাদের (রহ.) এর তরজমা করেছেন ‘হারজিতের দিন’। এর দ্বারা বক্তব্য বিষয় সংক্ষেপে পরিষ্কার হয়ে যায়।

১০

وَالَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَکَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَاۤ اُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ النَّارِ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا ؕ  وَبِئۡسَ الۡمَصِیۡرُ ٪

ওয়াল্লাযীনা কাফারূওয়া কাযযাবূবিআ-য়া-তিনা উলাইকা আসহা-বুন্না-রি খা-লিদীনা ফীহা- ওয়া বি’ছাল মাসীর।

Mufti Taqi Usmani
As for those who disbelieve and reject Our signs, they are the people of the Fire. And it is an evil place to return.

মুফতী তাকী উসমানী
আর যারা কুফর অবলম্বন করেছে ও আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছে, তারা হবে জাহান্নামবাসী। তাতে তারা সর্বদা থাকবে এবং তা অতি মন্দ ঠিকানা।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আর যারা কাফের এবং আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলে, তারাই জাহান্নামের অধিবাসী, তারা তথায় অনন্তকাল থাকবে। কতই না মন্দ প্রত্যাবর্তনস্থল এটা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
কিন্তু যারা কুফরী করে এবং আমার নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করে তারাই জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে। কত মন্দ সেই প্রত্যাবর্তনস্থল!

মাওলানা জহুরুল হক
আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করে এবং আমাদের নির্দেশাবলী প্রত্যাখ্যান করে, তারাই হচ্ছে আগুনের বাসিন্দা — তারা সেখানেই অবস্থান করবে। আর কত মন্দ সেই গন্তব্যস্থান!

১১

مَاۤ اَصَابَ مِنۡ مُّصِیۡبَۃٍ اِلَّا بِاِذۡنِ اللّٰہِ ؕ وَمَنۡ یُّؤۡمِنۡۢ بِاللّٰہِ یَہۡدِ قَلۡبَہٗ ؕ وَاللّٰہُ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمٌ

মাআসা-বা মিমমুসীবাতিন ইল্লা-বিইযনিল্লা -হি ওয়া মাইঁ ইউ’মিম বিল্লা-হি ইয়াহদি কালবাহূ ওয়াল্লা-হু বিকুল্লি শাইয়িন ‘আলীম।

Mufti Taqi Usmani
No calamity befalls (one), but with the leave of Allah. And whoever believes in Allah, He guides his heart. Allah is All-Knowing about every thing.

মুফতী তাকী উসমানী
কোন মুসিবতই আল্লাহর হুকুম ছাড়া আসে না। যে-কেউ আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, আল্লাহ তার অন্তরকে হেদায়াত দান করেন। ২ আল্লাহ সর্ব বিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞাত।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আল্লাহর নির্দেশ ব্যতিরেকে কোন বিপদ আসে না এবং যে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করে, তিনি তার অন্তরকে সৎপথ প্রদর্শন করেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আল্লাহ্ র অনুমতি ব্যতিরেকে কোন বিপদই আপতিত হয় না এবং যে আল্লাহ্কে বিশ্বাস করে তিনি তার অন্তরকে সুপথে পরিচালিত করেন। আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে সম্যক অবহিত।

মাওলানা জহুরুল হক
কোনো বিপদ আপতিত হয় না আল্লাহ্‌র অনুমতি ব্যতীত। আর যে কেউ আল্লাহ্‌তে বিশ্বাস করে তিনি তার হৃদয়কে সুপথে চালিত করেন। আর আল্লাহ্ সব-কিছু সন্বন্ধে সর্বজ্ঞাতা।

তাফসীরঃ
২. বিপদাপদের সময় আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে স্থিরচিত্ত রাখেন। তারা চিন্তা করে যে-কোন বিপদ আল্লাহ তাআলার হুকুমেই আসে। এর মধ্যে কোনও না কোনও মঙ্গল নিহিত আছে, তা আমাদের বুঝে আসুক বা নাই আসুক। বিষয়টা এভাবে চিন্তা করার ফলে মুমিনদের পক্ষে সে বিপদ অসহনীয় হয়ে ওঠে না; বরং আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে তারা সবরের তাওফীক লাভ করে। ‘অন্তরকে হিদায়াত দান’ দ্বারা একথাই বোঝানো হয়েছে।

১২

وَاَطِیۡعُوا اللّٰہَ وَاَطِیۡعُوا الرَّسُوۡلَ ۚ فَاِنۡ تَوَلَّیۡتُمۡ فَاِنَّمَا عَلٰی رَسُوۡلِنَا الۡبَلٰغُ الۡمُبِیۡنُ

ওয়া আতী‘উল্লা-হা ওয়া আতী‘উর রাছূলা ফাইন তাওয়াল্লাইতুম ফাইন্নামা-‘আলারাছূলিনাল বালা-গুল মুবীন।

Mufti Taqi Usmani
Obey Allah, and obey the Messenger. But if you turn away, then Our Messenger has only to convey the message clearly.

মুফতী তাকী উসমানী
তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর এবং আনুগত্য কর রাসূলের। তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে (জেনে রেখ) আমার রাসূলের দায়িত্ব কেবল স্পষ্ট ভাষায় পৌঁছে দেওয়া।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রসূলুল্লাহর আনুগত্য কর। যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে আমার রসূলের দায়িত্ব কেবল খোলাখুলি পৌছে দেয়া।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তোমরা আল্লাহ্ র আনুগত্য কর এবং রাসূলের আনুগত্য কর; যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে লও, তবে আমার রাসূলের দায়িত্ব কেবল স্পষ্টভাবে প্রচার করা।

মাওলানা জহুরুল হক
আর আল্লাহ্‌র আজ্ঞাপালন করো ও রসূলকে মেনে চলো; কিন্ত যদি তোমরা ফিরে যাও তাহলে আমাদের রসূলের উপরে কেবল সুস্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া।

১৩

اَللّٰہُ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ؕ وَعَلَی اللّٰہِ فَلۡیَتَوَکَّلِ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ

আল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা-হুওয়া ওয়া ‘আলাল্লা-হি ফালইয়াতাওয়াক্কালিল মু’মিনূন।

Mufti Taqi Usmani
Allah is such that there is no god but He. And in Allah alone the believers must place their trust.

মুফতী তাকী উসমানী
আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। মুমিনদের উচিত কেবল আল্লাহরই উপর নির্ভর করা।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আল্লাহ তিনি ব্যতীত কোন মাবুদ নেই। অতএব মুমিনগণ আল্লাহর উপর ভরসা করুক।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আল্লাহ্, তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই; সুতরাং মু’মিনগণ আল্লাহ্ র ওপর নির্ভর করুক।

মাওলানা জহুরুল হক
আল্লাহ্ — তিনি ব্যতীত অন্য উপাস্য নেই। সুতরাং আল্লাহ্‌র উপরেই তবে মুমিনরা নির্ভর করুক।

১৪

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِنَّ مِنۡ اَزۡوَاجِکُمۡ وَاَوۡلَادِکُمۡ عَدُوًّا لَّکُمۡ فَاحۡذَرُوۡہُمۡ ۚ وَاِنۡ تَعۡفُوۡا وَتَصۡفَحُوۡا وَتَغۡفِرُوۡا فَاِنَّ اللّٰہَ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূ ইন্না মিন আঝওয়া-জিকুম ওয়া আওলা-দিকুম ‘আদুওওয়াল লাকুম ফাহযারূহুম ওয়া ইন তা‘ফূওয়া তাসফাহূওয়া তাগফিরূফাইন্নাল্লা-হা গাফূরুর রাহীম।

Mufti Taqi Usmani
O you who believe, among your wives and your children there are some enemies for you, so beware of them. And if you forgive and overlook and pardon, then Allah is Most-Forgiving, Very-Merciful.

মুফতী তাকী উসমানী
হে মুমিনগণ! তোমাদের স্ত্রী ও তোমাদের সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে কেউ কেউ তোমাদের শত্রু। সুতরাং তাদের ব্যাপারে সাবধান থাক। যদি তোমরা মার্জনা কর ও উপেক্ষা কর এবং ক্ষমা কর, তবে আল্লাহ তো অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ৩

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
হে মুমিনগণ, তোমাদের কোন কোন স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি তোমাদের দুশমন। অতএব তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাক। যদি মার্জনা কর, উপেক্ষা কর, এবং ক্ষমা কর, তবে আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুনাময়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘হে মু’মিনগণ! তোমাদের স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে কেউ কেউ তোমাদের শত্রু ; অতএব তাদের সম্পর্কে তোমরা সতর্ক থেক। তোমরা যদি এদেরকে মার্জনা কর, এদের দোষত্রুটি উপেক্ষা কর এবং এদেরকে ক্ষমা কর, তবে জেনে রাখ, আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

মাওলানা জহুরুল হক
ওহে যারা ঈমান এনেছ! নিশ্চয় তোমাদের কোনো-কোনো স্ত্রীরা ও তোমাদের ছেলেমেয়েরা তোমাদের শত্রু, অতএর তাদের ক্ষেত্রে হুশিয়াঁর হও। কিন্ত যদি তোমরা মাফ করে দাও ও উপেক্ষা কর ও উদ্ধার কর, তাহলে আল্লাহ্ পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।


আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ  


তাফসীরঃ
৩. যেই স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি আল্লাহ তাআলার নাফরমানী করতে উৎসাহিত করে, তারা শত্রুতুল্য। তবে তারা যদি অনুতপ্ত হয় ও তাওবা করে তবে তাদেরকে ক্ষমা করা উচিত এবং তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করা উচিত [তখন যদি তাদের সঙ্গে কঠোর আচরণ করা হয় কিংবা তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তবে দুনিয়ার শান্তি-শৃঙ্খলা ভেস্তে যাবে। যুক্তি-বুদ্ধি ও শরীয়তের বিচারে যতটুকু সম্ভব তাদের নির্বুদ্ধিতাকে উপেক্ষা করা ও তাদের দোষ-ত্রুটি ক্ষমা করা চাই। যে ব্যক্তি তাদের প্রতি এরূপ মহানুভবতার পরিচয় দিবে, আল্লাহ তাআলা তার প্রতি দয়া করবেন ও তার ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করবেন। প্রকাশ থাকে যে, সব স্ত্রী ও সকল সন্তান-সন্ততিই এ রকম নয়। এমন বহু নারী আছে, যারা তাদের স্বামীদের দীন ও ঈমান হেফাজত করে এবং নেক কাজে তাদের সৎ পরামর্শক ও উত্তম সহযোগী হয়। এমনিভাবে অনেক সৌভাগ্যবান সন্তান রয়েছে, যারা তাদের পিতা-মাতার জন্য স্থায়ী পুণ্য হয়ে থাকে -অনুবাদক, তাফসীরে উছমানী অবলম্বনে]।

১৫

اِنَّمَاۤ اَمۡوَالُکُمۡ وَاَوۡلَادُکُمۡ فِتۡنَۃٌ ؕ وَاللّٰہُ عِنۡدَہٗۤ اَجۡرٌ عَظِیۡمٌ

ইন্নামা আমওয়া-লুকুম ওয়া আওলা-দুকুম ফিতনাতুওঁ ওয়াল্লা-হু ‘ইনদাহূ আজরুন ‘আজীম।

Mufti Taqi Usmani
Your riches and your children are but a trial. As for Allah, with Him is a great reward.

মুফতী তাকী উসমানী
তোমাদের ধন-সম্পদ ও তোমাদের সন্তান-সন্ততি তোমাদের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ। ৪ আল্লাহরই কাছে আছে মহা প্রতিদান।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তো কেবল পরীক্ষাস্বরূপ। আর আল্লাহর কাছে রয়েছে মহাপুরস্কার।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তোমাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তো পরীক্ষাবিশেষ; আর আল্লাহ্, তাঁরই নিকট রয়েছে মহাপুরস্কার।

মাওলানা জহুরুল হক
নিঃসন্দেহ তোমাদের ধনদৌলত ও তোমাদের সন্তানসন্ততি তো এক পরীক্ষা। আর আল্লাহ্‌, তাঁরই কাছে রয়েছে বিরাট প্রতিদান।

তাফসীরঃ
৪. অর্থাৎ তোমাদেরকে পরীক্ষা করা হয় যে, তোমরা অর্থ-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির ভালোবাসায় মগ্ন হয়ে আল্লাহ তাআলার আদেশ-নিষেধের ব্যাপারে গাফেল হয়ে যাও কি না। যে ব্যক্তি এরূপ গাফলতি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হবে, আল্লাহ তাআলার কাছে তার জন্য রয়েছে মহা পুরস্কার।

১৬

فَاتَّقُوا اللّٰہَ مَا اسۡتَطَعۡتُمۡ وَاسۡمَعُوۡا وَاَطِیۡعُوۡا وَاَنۡفِقُوۡا خَیۡرًا لِّاَنۡفُسِکُمۡ ؕ وَمَنۡ یُّوۡقَ شُحَّ نَفۡسِہٖ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡمُفۡلِحُوۡنَ

ফাত্তাকুল্লা-হা মাছতাতা‘তুম ওয়াছমা‘উ ওয়া আতী‘ঊ ওয়া আনফিকূখাইরাল লিআনফুছিকুম ওয়া মাইঁ ইঊকা শুহহা নাফছিহী ফাউলাইকা হুমুল মুফলিহূন।

Mufti Taqi Usmani
So, observe taqwā (total obedience to Allah in awe of Him) as far as you can, and listen and obey, and spend (in Allah’s way), it being good for you. And those who are saved from the greed of their hearts are the successful.

মুফতী তাকী উসমানী
সুতরাং তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় করে চলো ৫ এবং শোন ও মান। আর (আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী) অর্থ ব্যয় কর। এটা তোমাদের জন্য উত্তম। যারা তাদের অন্তরের লোভ-লালসা থেকে মুক্তি লাভ করেছে তারাই সফলকাম।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
অতএব তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় কর, শুন, আনুগত্য কর এবং ব্যয় কর। এটা তোমাদের জন্যে কল্যাণকর। যারা মনের কার্পন্য থেকে মুক্ত, তারাই সফলকাম।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তোমরা আল্লাহ্কে যথাসাধ্য ভয় কর, এবং শোন, আনুগত্য কর ও ব্যয় কর তোমাদের নিজেদেরই কল্যাণের জন্যে ; যারা অন্তরের কার্পণ্য হতে মুক্ত ; তারাই সফলকাম।

মাওলানা জহুরুল হক
অতএব আল্লাহ্‌কে ভয়ভক্তি করো যতটা তোমরা সক্ষম হও, আর শোনো, আর আজ্ঞাপালন করো, আর ব্যয় করো, — এ তোমাদের নিজেদের জন্য কল্যাণময়। আর যে কেউ তার অন্তরের লোভ-লালসা থেকে সংযত রাখে তারাই তবে খোদ সফলকাম হয়।

তাফসীরঃ
৫. এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, মানুষকে যে তাকওয়া ও আল্লাহভীতির আদেশ করা হয়েছে, তা তার সাধ্যানুপাতেই করা হয়েছে। অর্থাৎ কারও উপর তার সাধ্যাতীত কোন বিধান চাপানো হয়নি। এই একই বিষয় গত হয়েছে সূরা বাকারায় (২ : ২২৩, ২৮৬); সূরা আনআমে (৬ : ১৫২); সূরা আরাফে (৭ : ৪২) ও সূরা মুমিনুনে (২৩ : ৬২)।

১৭

اِنۡ تُقۡرِضُوا اللّٰہَ قَرۡضًا حَسَنًا یُّضٰعِفۡہُ لَکُمۡ وَیَغۡفِرۡ لَکُمۡ ؕ  وَاللّٰہُ شَکُوۡرٌ حَلِیۡمٌ ۙ

ইন তুকরিদুল্লা-হা কারদান হাছানাইঁ ইউদা-‘ইফহু লাকুম ওয়া ইয়াগফিরলাকুম ওয়াল্লা-হু শাকূরুন হালীম।

Mufti Taqi Usmani
If you advance a good loan to Allah, He will multiply it for you, and will forgive you. And Allah is Appreciative, Forbearing,

মুফতী তাকী উসমানী
তোমরা যদি আল্লাহকে উত্তমভাবে ঋণ দাও, তবে আল্লাহ তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবেন এবং তোমাদের গুনাহ মাফ করে দেবেন। ৬ আল্লাহ অতি গুণগ্রাহী, মহা সহনশীলতার অধিকারী।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
যদি তোমরা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান কর, তিনি তোমাদের জন্যে তা দ্বিগুণ করে দেবেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ গুণগ্রাহী, সহনশীল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যদি তোমরা আল্লাহ্কে উত্তম ঋণ দান কর তিনি তোমাদের জন্যে তা বহুগুণ বৃদ্ধি করবেন এবং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ্ গুণগ্রাহী, ধৈর্যশীল।

মাওলানা জহুরুল হক
যদি তোমরা আল্লাহ্‌কে কর্জ দাও এক উত্তম কর্জ, তিনি সেটি তোমাদের জন্য বহু-গুণিত করে দেবেন, আর তিনি তোমাদের পরিত্রাণ করবেন। আর আল্লাহ্ গুণগ্রাহী, অতি অমায়িক।

তাফসীরঃ
৬. ‘আল্লাহ তাআলাকে ঋণ দেওয়ার’ অর্থ হল, আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে সৎকাজে অর্থ ব্যয় করা। বিষয়টাকে এ ভাষায় প্রকাশ করার দ্বারা ইশারা করা হয়েছে যে, কাউকে ঋণ দেওয়ার সময় ঋণদাতা যেমন আশ্বস্ত থাকে যে, এক সময় সে তা ফেরত পাবে, তেমনিভাবে সৎকাজে অর্থ ব্যয়ের সময়ও এই বিশ্বাস থাকা চাই যে, আল্লাহ তাআলা এর বিনিময়ে অবশ্যই উত্তম পুরস্কার দান করবেন। ‘উত্তমভাবে ঋণ দেওয়া’ এর অর্থ নেক কাজে ইখলাস ও খাঁটি নিয়তে অর্থ ব্যয় করা। লোক দেখানো ও সুনাম কুড়ানো উদ্দেশ্য থাকবে না। সৎকর্মে অর্থব্যয়কে সূরা বাকারা (২ : ২৪৫), সূরা মায়েদা (৫ : ১২), সূরা হাদীদ (৫৭ : ১১, ১৮) ও সূরা মুযযাম্মিলেও (৭৩ : ২০) ‘কর্জে হাসানা’ (উত্তম ঋণ) নামে অভিহিত করা হয়েছে।

১৮

عٰلِمُ الۡغَیۡبِ وَالشَّہَادَۃِ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ٪

‘আ-লিমুল গাইবি ওয়াশশাহা-দাতিল ‘আঝীঝুল হাকীম।

Mufti Taqi Usmani
the Knower of the Unseen and the seen, the All-Mighty, the All-Wise.

মুফতী তাকী উসমানী
তিনি সকল গুপ্ত বিষয় ও সকল প্রকাশ্য বিষয়ের জ্ঞাতা এবং অত্যন্ত ক্ষমতাবান, প্রজ্ঞাময়।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানী, পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে ইমেল : info@banglanewsexpress.com

আমরা আছি নিচের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে ও

আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ  

আমাদের নতুন ইসলামিক নিউজ ও জিজ্ঞাসা ভিত্তিক সাইড

Islamic Info Hub ( www.islamicinfohub.com ) আজই ভিজিড করুন !! 

Leave a Comment