সূরা আম্বিয়া সকল তথ্য আল কোরআন ও হাদিসের আলোতে,পৃথিবীর জানা অজানা কিছু তথ্য আল আম্বিয়া আলমল ও ফজিলত, সূরা আম্বিয়া কতো বার পাঠ করলে কোন আলম ও ফজিলত, সূরা আম্বিয়া নাযিলের কারন গুলো কি কি ,কুরআন ২১ সূরা আল – আম্বিয়া

আজকের বিষয়: সূরা আম্বিয়া সকল তথ্য আল কোরআন ও হাদিসের আলোতে,পৃথিবীর জানা অজানা কিছু তথ্য আল আম্বিয়া আলমল ও ফজিলত, সূরা আম্বিয়া কতো বার পাঠ করলে কোন আলম ও ফজিলত, সূরা আম্বিয়া নাযিলের কারন গুলো কি কি ,কুরআন ২১ সূরা আল – আম্বিয়া

দুঃখ-দুর্দশা বা চরম বিপদে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইলে মহান আল্লাহ বিপদগ্রস্ত মানুষের দোয়া কবুল করে থাকেন। দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থায় দোয়া কবুলের বিষয়টি কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা সুস্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

আর মাছওয়ালার কথা স্মরণ করুন তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে চলে গিয়েছিলেন, অতপর মনে করেছিলেন যে, আমি তাঁকে ধৃত করতে পারব না। অতপর তিনি অন্ধকারের মধ্যে আহবান করলেন-

لَّا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
উচ্চারণ : ‘লা ইলাহা ইল্লা আংতা সুবহানাকা ইন্নি কুংতু মিনাজ জ্বালিমিন।’
অর্থ : তুমি ব্যতিত কোনো উপাস্য নেই; তুমি নির্দোষ আমি গোনাহগার।’ (সুরা আম্বিয়া : আয়াত ৮৭)

এ দোয়া কবুল সম্পর্কে কুরআন-সুন্নাহর বর্ণনা-
কুরআনুল কারিমে সুরা আম্বিয়ার শেষ আয়াতে আল্লাহ তাআলা হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামের সেই দোয়া কবুল করা সম্পর্কেও সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

فَاسْتَجَبْنَا لَهُ وَنَجَّيْنَاهُ مِنَ الْغَمِّ وَكَذَلِكَ نُنجِي الْمُؤْمِنِينَ
‘অতপর আমি তাঁর (হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামের) আহবানে সাড়া দিলাম এবং তাঁকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিলাম। আমি এমনিভাবে বিশ্ববাসীদের মুক্তি দিয়ে থাকি।’ (সুরা আম্বিয়া : আয়াত ৮৮)

এ আয়াতের আলোকে বুঝা যায়, মানুষের দুঃখ, কষ্ট ও দুর্দশায় আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলে তিনি তা কবুল করেন। যেভাবে বিপদের মুহূর্তে আল্লাহ তাআলা হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামের দোয়া কবুল করেছিলেন। হাদিসের বর্ণনায় এসেছে-

মাছের পেটে নবি ইউনুস আলাইহিস সালাম এ দোয়াটি পাঠ করেছিলে এবং আল্লাহ তাআলা তাকে সেই বিপদ থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। যদি কোনো মুসলিম ব্যক্তি বিপদে পড়ে দোয়াটি পাঠ করে, মহান আল্লাহ তাআলা ওই বান্দার দোয়া কবুল করবেন এবং তাকে বিপদ থেকে মুক্তি দেন।’ (মুসনাদে আহমাদ, তিরমিজি)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, জীবনের যে কোনো বিপদ-আপদ ও দুঃখ-দুর্দশায় উল্লেখিত দোয়াটি বেশি বেশি পড়া। কেননা এ দোয়াটি কবুলের ব্যাপারে ঘোষণা দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামের চরম বিপদের মুহূর্তের দোয়াটি পড়ার মাধ্যমে নিজেদের দুঃখ-দুর্দশা থেকে মুক্ত রাখার তাওফিক দান করুন।

আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ

পবিত্র কোরআনুল কারিমে অনেক দোয়া বর্ণিত হয়েছে। বর্ণিত এসব দোয়ার মাঝে ৩টি বিশেষ দোয়া রয়েছে, যেগুলো আল্লাহ তায়ালা কবুল করেছেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

আরো অবাক করার মতো বিষয় হলো, সৃষ্টিকর্তা মহান মালিকের মঞ্জুরকৃত দোয়াগুলো সবক’টিই জীবনঘনিষ্ঠ। এর প্রথম দোয়াটি রোগমুক্তির জন্য, দ্বিতীয়টি বিপদমুক্তির জন্য আর তৃতীয় দোয়াটি হলো- সন্তানলাভের জন্য।

পবিত্র কোরআনে বর্ণিত প্রথম দোয়াটি হলো- আল্লাহর নবী হজরত আইয়ুব আলাইহিস সালামের। তার দোয়াটি ছিলো-

أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ

উচ্চারণ: আন্নী মাচ্ছানিয়াজ্জুররু ওয়া আনতা আরহামুর রাহিমীন। 

অর্থ: (হে আমার প্রতিপালক!) আমাকে দুঃখ-ক্লেশ (ব্যাধি) স্পর্শ করেছে, আর তুমি তো (দয়ালুদের মধ্যে) শ্রেষ্ঠ দয়ালু।’ (সূরা: আম্বিয়া, আয়াত: ৮৩)

এই দোয়া প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘অতঃপর আমি তার (সেই) আহবানে সাড়া দিলাম এবং তার দুঃখ-কষ্ট দূর করে দিলাম এবং তার পরিবরাবর্গ ফিরিয়ে দিলাম, আর তাদের সঙ্গে তাদের সমপরিমাণ আরো দিলাম আমার পক্ষ থেকে কৃপাবশতঃ আর এটা ইবাদতকারীদের জন্যে উপদেশস্বরূপ।’ (সূরা: আম্বিয়া, আয়াত: ৮৪)

দ্বিতীয় দোয়াটি ছিল আল্লাহর নবী হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামের। ওই দোয়াটি হলো-

لَّا إِلَٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ 

উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নী কুনতু মিনাজ জোয়ালিমীন।

অর্থ: তুমি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই; তুমি নির্দোষ আমি গোনাহগার। (সূরা: আম্বিয়া, আয়াত:৮৭)

এই দোয়া বর্ণনার পর আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘অতঃপর আমি তার (সেই) আহবানে সাড়া দিলাম এবং তাকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিলাম। আমি এমনিভাবে বিশ্ববাসীদেরকে মুক্তি দিয়ে থাকি।’ সূরা: আম্বিয়া, আয়াত:৮৮)

তৃতীয় দোয়াটি হলো হজরত জাকারিয়া আলাইহিস সালামের। বরকতময় এই দোয়ার দু’টি অংশ পবিত্র কোরআনের ভিন্ন দুই জায়গায় বর্ণিত হয়েছে।

(ক) رَبِّ لَا تَذَرْنِي فَرْدًا وَأَنتَ خَيْرُ الْوَارِثِينَ

উচ্চারণ: রাব্বী লা তাযারনী ফারদান ওয়া আনতা খাইরুল ওয়ারিসীন। 
 
অর্থ: হে আমার পালনকর্তা! আমাকে একা রেখো না। তুমি তো উত্তম ওয়ারিস। (সূরা: আম্বিয়া, আয়াত:৮৯)

এই দোয়া কবুল হওয়া প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘অতঃপর আমি তার দোয়া কবুল করেছিলাম, তাকে দান করেছিলাম ইয়াহইয়া এবং তার জন্যে তার স্ত্রীকে প্রসবযোগ্য করেছিলাম।’ (সূরা: আম্বিয়া, আয়াত: ৯০)

(খ) একই বিষয়ে তিনি আরেকটি দোয়া করেছিলেন। সেই দোয়ার পর আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে ফেরেশতারা এসে তাকে দোয়া কবুলের সুসংবাদ দিয়েছিলেন। যা সূরা আলে ইমরানের ৩৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে। 

দোয়াটি হলো-

رَبِّ هَبْ لِي مِن لَّدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاء

উচ্চারণ: রাব্বী হাবলী মিল্লাদুনকা যুর্রিইয়াতান ত্বায়্যিবাতান ইন্নাকা সামিউদ্দোয়া।

অর্থ: হে আমার পালকর্তা! তোমার নিকট থেকে আমাকে পূত-পবিত্র সন্তান দান করো, নিশ্চয়ই তুমি প্রার্থনা শ্রবণকারী। (সূরা: আলে ইমরান, আয়াত: ৩৮)

দোয়ার উপরোক্ত ভাষ্যগুলোর গ্রহণযোগ্যতা যেহেতু পরীক্ষিত, সুতরাং রোগ মু্ক্তি, বিপদমুক্তি কিংবা সন্তান লাভের জন্য এসব দোয়ার মাধ্যমে প্রার্থনা করা বুদ্ধিমানের কাজ। 

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা আমাদের উক্ত দোয়ার ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আল্লাহুম্মা আমিন।



আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ

নামকরণ

কোন বিশেষ আয়াত থেকে এ সূরার নাম গৃহীত হয়নি। এর মধ্যে যেহেতু ধারাবাহিকভাবে বহু নবীর কথা আলোচিত হয়েছে তাই এর নাম রাখা হয়েছে “আল আম্বিয়া”।

এটাও সূরার বিষয়বস্তু ভিত্তিক শিরোনাম নয় বরং নিছক সূরা চিহ্নিত করার একটি আলামত মাত্র।

নাযিলের সময়-কাল

বিষয়বস্তু ও বর্ণনাভংগী উভয়ের দৃষ্টিতেই মনে হয় এর নাযিলের সময়-কাল ছিল মক্কী জীবনের মাঝামাঝি অর্থাৎ আমাদের বিভক্তিকরণের দৃষ্টিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মক্কী জীবনের তৃতীয় ভাগে। শেষ ভাগের সূরাগুলোর মধ্যে যে বৈশিষ্ট পাওয়া যায় এর পটভূমিতে তা ফুটে ওঠে না।

বিষয়বস্তু ও কেন্দ্রীয় আলোচ্য

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও কুরাইশ সরদারদের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব ও সংঘাত চলছিল এ সূরায় তা আলোচিত হয়েছে। তারা নবী করীমের (সা) রিসালাতের দাবী এবং তাওহীদ ও আখেরাত বিশ্বাসের দাওয়াতের বিরুদ্ধে যেসব সন্দেহ-সংশয় ও আপত্তি উত্থাপন করতো তার জবাব দেয়া হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে তার মোকাবিলায় যেসব কৌশল অবলম্বন করা হতো সেগুলোর বিরুদ্ধে হুকমি প্রদর্শন করা হয়েছে এবং তাদের অশুভ ফলাফল জানিয়ে দেয়া হয়েছে। তারা যে ধরনের গাফলতি ও ঔদ্ধত্যের মনোভাব নিয়ে তার দাওয়াতকে আগ্রাহ্য করেছিল সে সম্পর্কে তাদেরকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। সবশেষে তাদেরকে একথা বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে যে, যে ব্যক্তিকে তোমরা নিজেদের জন্য দুঃখ ও বিপদ মনে করছো তিনি আসলে তোমাদের জন্য রহমত হয়ে এসেছেন।

ভাষণের মধ্যে বিশেষভাবে যে সমস্ত আলোচিত হয়েছে সেগুলো নিচে দেয়া হলোঃ

একঃ মানুষ কখনো রসূল হতে পারে না, মক্কার কাফেরদের এ বিভ্রান্তি এবং এ কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রসূল মেনে নিতে অস্বীকার করাকে-বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে নিরসন ও খণ্ডন করা হয়েছে।

দুইঃ নবী করীমের (সা) ও কুরআনের বিরুদ্ধে তাদের বিভিন্ন ও পরস্পর বিরোধী ধরনের আপত্তি উত্থাপন করা এবং কোন একটি কথার ওপর অবিচল না থাকার-ওপর সংক্ষিপ্তভাবে কিন্তু অত্যন্ত জোরালো ও অর্থপূর্ণ পদ্ধতিতে পাকড়াও করা হয়েছে।

তিনঃ তাদের ধারণা ছিল, জীবন নেহাতই একটি খেলা, কিছুদিন খেলা করার পর তাকে এমনিই খতম হয়ে যেতে হবে, এর কোন ফল বা পরিণতি ভুগতে হবে না। কোন প্রকার হিসেব নিকেশ এবং শাস্তি ও পুরস্কারের অবকাশ এখানে নেই।-যে ধরনের গাফলতি ও অবজ্ঞা সহকারে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাওয়াতের প্রত্যাখ্যান করছিল, ঐ ধারণাই যেহেতু তার মূল ছিল, তাই বড়ই হৃদয়গাহী পদ্ধতিতে এর প্রতিকার করা হয়েছে।

চারঃ শিরকের প্রতি তাদের অবিচল নিষ্ঠা এবং তাওহীদের বিরুদ্ধে অন্ধ বিদ্বেষ ছিল তাদের ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মধ্যে বিরোধের মূল ভিত্তি।-এর সংশোধনের জন্য শিরকের বিরুদ্ধে ও তাওহীদের পক্ষে সংক্ষিপ্ত কিন্তু মোক্ষম ও চিত্তাকর্ষক যুক্তি প্রদান করা হয়েছে।

পাঁচঃ এ ভুল ধারণাও তাদের ছিল যে, নবীকে বারবার মিথ্যা বলা সত্ত্বেও যখন তাদের ওপর কোন আযাব আসে না তখন নিশ্চয়ই নবী মিথ্যুক এবং তিনি আমাদের আল্লাহর পক্ষ থেকে যে আযাবের ভয় দেখান তা নিছক অন্তসারশূন্য হুকমি ছাড়া আর কিছুই নয়।-একে যুক্তি ও উপদেশ উভয় পদ্ধতিতে দূর করার চেষ্টা করা হয়েছে।

এরপর নবীগণের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী থেকে কতিপয় নজির পেশ করা হয়েছে। এগুলো থেকে একথা অনুধাবন করানোই উদ্দেশ্য যে, মানবেতিহাসের বিভিন্ন যুগে আল্লাহর পক্ষ থেকে যেসব পয়গম্বর এসেছিলেন তারা সবাই ছিলেন মানুষ। নবুওয়াতের বিশিষ্ট গুণ বাদ দিলে অন্যান্য গুণাবলীর ক্ষেত্রে তাঁরা দুনিয়ার অন্যান্য মানুষদের মতই মানুষ ছিলেন। আল্লাহর সার্বভৌমত্বের গুণাবলী এবং খোদায়ীর সামান্যতম গন্ধও তাদের মধ্যে ছিল না। বরং নিজেদের প্রত্যেকটি প্রয়োজনের জন্য তারা সবসময় আল্লাহর সামনে হাত পাততেন। এই সংগে একই ঐতিহাসিক নজির থেকে আরো দুটি কথাও সুস্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে, নবীদের ওপর বিভিন্ন প্রকার বিপদ-আপদ এসেছে এবং তাদের বিরোধীরাও তাদেরকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে কিন্তু শেষ পর্যন্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে অস্বাভাবিক পদ্ধতিতে তাদেরকে সাহায্য করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত সকল নবী একই দীনের অনুসারী ছিলেন। এবং সেটি ছিল সেই দীন যেটি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পেশ করেছেন। এটিই মানব সম্প্রদায়ের আসল ধর্ম। বাদবাকি যতগুলো ধর্ম দুনিয়ায় সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো নিছক পথভ্রষ্ট মানুষদের বিভেদাত্মক প্ররোচনা ছাড়া আর কিছুই নয়।

সবশেষে বলা হয়েছে, এ দীনের অনুকরণ ও অনুসরণের ওপরই মানুষের নাজাত ও মুক্তি নির্ভরশীল। যারা এ দীন গ্রহণ করবে তারাই আল্লাহর শেষ আদালত থেকে সফলকাম হয়ে বের হয়ে আসবে এবং তারাই হবে এ পৃথিবীর উত্তরাধিকারী। আর যারা তাকে প্রত্যাখান করবে তারা আখেরাতে সবচেয়ে নিকৃষ্ট পরিণতির সম্মুখীন হবে। শেষ বিচারের সময় আসার আগেই আল্লাহ নিজের নবীর মাধ্যমে মানুষকে এ সত্য সম্পর্কে অবহিত করে চলছেন, এটি তাঁর বিরাট মেহেরবানী। এ অবস্থায় নবীর আগমনকে যারা নিজেদের জন্য রহমতের পরিবর্তে ধ্বংস মনে করে তারা অজ্ঞ ও মুর্খ ছাড়া আর কিছুই নয়।



সুরা নং- : ০২১ : আল-আম্বিয়া
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

আরবি উচ্চারণ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

বাংলা অনুবাদ পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)।

اقْتَرَبَ لِلنَّاسِ حِسَابُهُمْ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ مُعْرِضُونَ21.1

আরবি উচ্চারণ ২১.১। ইক্বতারবা লিন্না-সি হিসা-বুহুম্ অহুম্ ফী গফ্লাতিম্ মুরিদ্বূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.১ মানুষের হিসাব-নিকাশের সময় আসন্ন, অথচ তারা উদাসীনতায় মুখ ফিরিয়ে রয়েছে।

مَا يَأْتِيهِمْ مِنْ ذِكْرٍ مِنْ رَبِّهِمْ مُحْدَثٍ إِلَّا اسْتَمَعُوهُ وَهُمْ يَلْعَبُونَ21.2

আরবি উচ্চারণ ২১.২। মা-ইয়াতী হিম্ মিন্ যিক্রিম্ র্মি রব্বিহিম্ মুহ্দাছিন্ ইল্লাস্ তামা‘ঊহু অহুম্ ইয়াল্‘আবূন্।
বাংলা অনুবাদ ২১.২ যখনই তাদের রবের পক্ষ থেকে তাদের নিকট কোন নতুন উপদেশ আসে তখন তারা তা কৌতুকভরে শ্রবণ করে।

لَاهِيَةً قُلُوبُهُمْ وَأَسَرُّوا النَّجْوَى الَّذِينَ ظَلَمُوا هَلْ هَذَا إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ أَفَتَأْتُونَ السِّحْرَ وَأَنْتُمْ تُبْصِرُونَ21.3

আরবি উচ্চারণ ২১.৩। লা-হিয়াতান্ কুলূবুহুম্ ;অআর্সারুন্নাজ্বওয়াল্ লাযীনা জোয়ালামূ হাল্ হা-যা য় ইল্লা-বাশারুম্ মিছ্লুকুম্ আফাতাতূ নাস্ সিহ্র অআন্তুম্ তুব্ছিরূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৩ তাদের অন্তর থাকে অমনোযোগী এবং যালিমরা গোপনে পরামর্শ করে, ‘এ তো তোমাদের মতই একজন মানুষ। এরপরও কি তোমরা দেখে শুনে যাদুর কবলে পড়বে’?

قَالَ رَبِّي يَعْلَمُ الْقَوْلَ فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ 21.4

আরবি উচ্চারণ ২১.৪। ক্ব-লা রব্বী ইয়া’লামুল্ ক্বওলা ফিস্ সামা-য়ি অল্ র্আদ্বি অ হুওয়াস্ সামী‘উল্ ‘আলীম্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৪ সে (রাসূল) বলল, ‘আমার রব আসমান ও যমীনের সমস্ত কথাই জানেন এবং তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ’।

بَلْ قَالُوا أَضْغَاثُ أَحْلَامٍ بَلِ افْتَرَاهُ بَلْ هُوَ شَاعِرٌ فَلْيَأْتِنَا بِآيَةٍ كَمَا أُرْسِلَ الْأَوَّلُونَ21.5

আরবি উচ্চারণ ২১.৫। বাল্ ক্ব-লূ য় আদ্ব্গ-ছু আহ্লা-মিম্ বালিফ্ তার-হু বাল্ হুঅ শা-‘ইরুন্ ফাল্ইয়া তিনা-বিআ-ইয়াতিন্ কামায় র্উসিলাল্ আউঅলূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৫ বরং তারা বলে, ‘এগুলো অলীক কল্পনা, হয় সে এটি মন থেকে বানিয়েছে নয়তো সে একজন কবি। অতএব সে আমাদের কাছে এমন নিদর্শন নিয়ে আসুক যেরূপ নিদর্শনসহ প্রেরিত হয়েছিল পূর্ববর্তীগণ’।

مَا آمَنَتْ قَبْلَهُمْ مِنْ قَرْيَةٍ أَهْلَكْنَاهَا أَفَهُمْ يُؤْمِنُونَ21.6

আরবি উচ্চারণ ২১.৬। মা য় আ-মানাত্ ক্বব্লাহুম্ মিন্ র্ক্বইয়াতিন্ আহ্লাক্না-হা-আফাহুম্ ইয়ুমিনূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৬ তাদের পূর্বে যে জনপদ ঈমান আনেনি তাদেরকে আমি ধ্বংস করেছি । তবে কি এরা ঈমান আনবে?

وَمَا أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ إِلَّا رِجَالًا نُوحِي إِلَيْهِمْ فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ21.7

আরবি উচ্চারণ ২১.৭। অমা য় র্আসাল্না-ক্বাব্লাকা ইল্লা-রিজ্বা-লান্ নূহী য় ইলাইহিম্ ফাস্য়ালূ য় আহ্লায্ যিক্রি ইন্ কুন্তুম্ লা-তা’লামূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৭ আর তোমার পূর্বে আমি পুরুষই পাঠিয়েছিলাম, যাদের প্রতি আমি ওহী পাঠাতাম। সুতরাং তোমরা জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞাসা কর যদি তোমরা না জান।

وَمَا جَعَلْنَاهُمْ جَسَدًا لَا يَأْكُلُونَ الطَّعَامَ وَمَا كَانُوا خَالِدِينَ21.8

আরবি উচ্চারণ ২১.৮। অমা-জ্বা’আল্না-হুম্ জ্বাসাদাল্লা-ইয়াকুলূনা ত্ত্বোয়া‘আ-মা অমা-কা-নূ খ-লিদীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৮ আর আমি তাদেরকে এমন দেহবিশিষ্ট করিনি যে, তারা খাদ্য গ্রহণ করত না, আর তারা স্থায়ীও ছিল না।

ثُمَّ صَدَقْنَاهُمُ الْوَعْدَ فَأَنْجَيْنَاهُمْ وَمَنْ نَشَاءُ وَأَهْلَكْنَا الْمُسْرِفِينَ21.9

আরবি উচ্চারণ ২১.৯। ছুম্মা ছোয়াদাক্বনা-হুমুল্ অদা ফাআন্জ্বাইনা-হুম্ অমান্ নাশা-য়ু অআহ্লাক্নাল্ মুস্রিফীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৯ অতঃপর আমি তাদের প্রতি কৃত ওয়াদা পূর্ণ করলাম। আর আমি তাদেরকে ও যাদেরকে ইচ্ছা করি রক্ষা করলাম এবং সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে ধ্বংস করে দিলাম।

لَقَدْ أَنْزَلْنَا إِلَيْكُمْ كِتَابًا فِيهِ ذِكْرُكُمْ أَفَلَا تَعْقِلُونَ 21.10

আরবি উচ্চারণ ২১.১০। লাক্বদ্ আন্যাল্না য় ইলাইকুম্ কিতা-বান্ ফীহি যিক্রুকুম্; আফালা- তা’ক্বিলূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.১০ নিশ্চয় আমি তোমাদের প্রতি এক কিতাব নাযিল করেছি, যাতে তোমাদের জন্য উপদেশ রয়েছে, তবুও কি তোমরা বুঝবে না?

وَكَمْ قَصَمْنَا مِنْ قَرْيَةٍ كَانَتْ ظَالِمَةً وَأَنْشَأْنَا بَعْدَهَا قَوْمًا آخَرِينَ21.11

আরবি উচ্চারণ ২১.১১। অকাম্ ক্বাছোয়াম্না-মিন্ র্ক্বইয়াতিন্ কা-নাত্ জোয়া-লিমাতাঁও অআন্শানা-বা’দাহা-ক্বওমান্ আ-খরীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.১১ আমি কত জনবসতিকে ধ্বংস করেছি যারা ছিল যালিম এবং তাদের পর অন্য জাতি সৃষ্টি করেছি।

فَلَمَّا أَحَسُّوا بَأْسَنَا إِذَا هُمْ مِنْهَا يَرْكُضُونَ21.12

আরবি উচ্চারণ ২১.১২। ফালাম্মা য় আহাস্সূ বাসানা য় ইযা-হুম্ মিন্হা- ইর্য়াকুদ্বুন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.১২ অতঃপর তারা যখন আমার আযাব দেখল তখনই তারা জনপদ ছেড়ে পালাতে লাগল।

لَا تَرْكُضُوا وَارْجِعُوا إِلَى مَا أُتْرِفْتُمْ فِيهِ وَمَسَاكِنِكُمْ لَعَلَّكُمْ تُسْأَلُونَ21.13

আরবি উচ্চারণ ২১.১৩। লা-র্তাকুদ্বু ওর্য়াজ্বি‘ঊ য় ইলা-মা য় উত্রিফ্তুম্ ফীহি অ মাসা-কিনিকুম্ লা‘আল্লাকুম্ তুস্য়ালূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.১৩ (তাদেরকে বলা হল) ‘পলায়ন করো না, বরং তোমাদের ভোগ-বিলাসিতায় এবং ঘরবাড়িতে ফিরে যাও, যেন তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হয়’।

قَالُوا يَا وَيْلَنَا إِنَّا كُنَّا ظَالِمِينَ21.14

আরবি উচ্চারণ ২১.১৪। ক্ব-লূ ইয়া-অইলানা য় ইন্না-কুন্না-জোয়া-লিমীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.১৪ তারা বলল, ‘হায় আমাদের দুর্ভোগ! আমরা তো অবশ্যই যালিম ছিলাম।’

فَمَا زَالَتْ تِلْكَ دَعْوَاهُمْ حَتَّى جَعَلْنَاهُمْ حَصِيدًا خَامِدِينَ21.15

আরবি উচ্চারণ ২১.১৫। ফামা-যা-লাত্ তিল্কা দা’ওয়া-হুম্ হাত্তা-জ্বা‘আল্না-হুম্ হাছীদান্ খ-মিদীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.১৫ অতঃপর তাদের এই বিলাপ চলতে থাকে আমি তাদেরকে কেটে ফেলা শস্য ও নিভে যাওয়া আগুন সদৃশ না করা পর্যন্ত

وَمَا خَلَقْنَا السَّمَاءَ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا لَاعِبِينَ21.16

আরবি উচ্চারণ ২১.১৬। অমা-খলাক্বনাস্ সামা-য়া অল্ র্আদ্বোয়া অমা-বাইনাহুমা-লা-‘ঈবীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.১৬ আসমান-যমীন ও তাদের মাঝখানে যা কিছু আছে তার কোন কিছুই আমি খেলাচ্ছলে সৃষ্টি করিনি।

لَوْ أَرَدْنَا أَنْ نَتَّخِذَ لَهْوًا لَاتَّخَذْنَاهُ مِنْ لَدُنَّا إِنْ كُنَّا فَاعِلِينَ 21.17

আরবি উচ্চারণ ২১.১৭। লাও আরদ্না য় আন্ নাত্তাখিযা লাহ্ওয়াল্ লাত্তাখয্না-হু মিল্ লাদুন্না য় ইন্ কুন্না-ফা-‘ঈলীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.১৭ আমি যদি খেলার উপকরণ গ্রহণ করতে চাইতাম, তবে আমার কাছে যা আছে তা দিয়েই করতাম। কিন্তু আমি তা করিনি।

بَلْ نَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَى الْبَاطِلِ فَيَدْمَغُهُ فَإِذَا هُوَ زَاهِقٌ وَلَكُمُ الْوَيْلُ مِمَّا تَصِفُونَ21.18

আরবি উচ্চারণ ২১.১৮। বাল্ নাক্বযিফু বিল্হাক্বক্বি ‘আলাল্ বা-ত্বিলি ফাইয়াদ্মাগুহ ফাইযা- হুঅ যা-হিক্ব্; অলাকুমুল্ অইলু মিম্মা-তাছিফূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.১৮ বরং আমি মিথ্যার উপর সত্য নিক্ষেপ করি; ফলে তা মিথ্যাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় এবং নিমিষেই তা বিলুপ্ত হয়। আর তোমাদের জন্য রয়েছে দুর্ভোগ তোমরা যা বলছ তার জন্য ।

وَلَهُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ عِنْدَهُ لَا يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِهِ وَلَا يَسْتَحْسِرُونَ21.19

আরবি উচ্চারণ ২১.১৯। অলাহূ মান্ ফিস সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্ব্; অ মান্ ‘ইন্দাহূ লা-ইয়াস্ তাক্বিরূনা ‘আন্ ‘ইবা-দাতিহী অলা-ইয়াস্তাহ্সিরূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.১৯ আর আসমান-যমীনে যারা আছে তারা সবাই তাঁর; আর তাঁর কাছে যারা আছে তারা অহঙ্কারবশতঃ তাঁর ইবাদাত হতে বিমুখ হয় না এবং ক্লান্তিও বোধ করে না।

يُسَبِّحُونَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ لَا يَفْتُرُونَ21.20

আরবি উচ্চারণ ২১.২০। ইয়ুসাব্বিহূনাল্ লাইলা অন্নাহা-র লা-ইয়াফ্তুরূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.২০ তারা দিন-রাত তাঁর তাসবীহ পাঠ করে, তারা শিথিলতা দেখায় না।

أَمِ اتَّخَذُوا آلِهَةً مِنَ الْأَرْضِ هُمْ يُنْشِرُونَ21.21

আরবি উচ্চারণ ২১.২১। আমিত্তাখযূ য় আ-লিহাতাম্ মিনাল্ র্আদ্বি হুম্ ইয়ুন্শিরূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.২১ তারা যেসব মাটির দেবতা গ্রহণ করেছে, সেগুলি কি মৃতকে জীবিত করতে সক্ষম?

لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتَا فَسُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ عَمَّا يَصِفُونَ21.22

আরবি উচ্চারণ ২১.২২। লাও কা-না ফীহিমা য় আ-লিহাতুন্ ইল্লাল্লা-হু লাফাসাদাতা- ফাসুব্হা-নাল্লা-হি রব্বিল্ ‘র্আশি ‘আম্মা-ইয়াছিফূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.২২ যদি আসমান ও যমীনে আল্লাহ ছাড়া বহু ইলাহ থাকত তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত, সুতরাং তারা যা বলে, আরশের রব আল্লাহ তা থেকে পবিত্র।

لَا يُسْأَلُ عَمَّا يَفْعَلُ وَهُمْ يُسْأَلُونَ 21.23

আরবি উচ্চারণ ২১.২৩। লা- ইয়ুস্য়ালূ ‘আম্মা -ইয়াফ্ ‘আলু অহুম্ ইয়ুস্য়ালূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.২৩ তিনি যা করেন সে ব্যাপারে তাকে প্রশ্ন করা যাবে না; বরং তাদেরকেই প্রশ্ন করা হবে।

أَمِ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ آلِهَةً قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ هَذَا ذِكْرُ مَنْ مَعِيَ وَذِكْرُ مَنْ قَبْلِي بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ الْحَقَّ فَهُمْ مُعْرِضُونَ21.24

আরবি উচ্চারণ ২১.২৪। আমিত্তাখযূ মিন্ দূনিহী য় আ-লিহাহ্;কুল্ হা-তূ র্বুহা-নাকুম্ হাযা-যিক্রু মাম্ মা‘ঈয়া অযিক্রু মান্ ক্বব্লী; বাল্ আক্ছারু হুম্ লা-ইয়া’লামূন ; আলহাক্বক্ব ফাহুম্ মু’রিদ্বূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.২৪ তারা কি তাঁকে ছাড়া অনেক ইলাহ গ্রহণ করেছে? বল, ‘তোমাদের প্রমাণ নিয়ে আস। আমার সাথে যারা আছে এটি তাদের জন্য উপদেশ এবং আমার পূর্বে যারা ছিল তাদের জন্যও এটাই ছিল উপদেশ।’ কিন্তু তাদের বেশীরভাগই প্রকৃত সত্যকে জানে না; তাই তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়।

وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ21.25

আরবি উচ্চারণ ২১.২৫। অমা য় র্আসালনা-মিন্ ক্বব্লিকা র্মি রসূলিন্ ইল্লা-নূহী য় ইলাইহি আন্নাহূ লা য় ইলা-হা ইল্লা য় আনা ফা’বুদূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.২৫ আর তোমার পূর্বে এমন কোন রাসূল আমি পাঠাইনি যার প্রতি আমি এই ওহী নাযিল করিনি যে, ‘আমি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই; সুতরাং তোমরা আমার ইবাদাত কর।’

وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمَنُ وَلَدًا سُبْحَانَهُ بَلْ عِبَادٌ مُكْرَمُونَ21.26

আরবি উচ্চারণ ২১.২৬। অ ক্ব-লূত্ তাখর্যা রহ্মা-নু অলাদান্ সুব্হা-নাহ্ বাল্ ‘ইবাদুম্ মুক্রামূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.২৬ আর তারা বলে, ‘পরম করুণাময় সন্তান গ্রহণ করেছেন।’ তিনি পবিত্র। বরং তারা সম্মানিত বান্দা।

لَا يَسْبِقُونَهُ بِالْقَوْلِ وَهُمْ بِأَمْرِهِ يَعْمَلُونَ21.27

আরবি উচ্চারণ ২১.২৭। লা-ইয়াস্বিকু নাহূ বিল্ক্বাওলি অহুম্ বিআম্রিহী ইয়া’মালূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.২৭ তারা তাঁর আগ বাড়িয়ে কোন কথা বলে না, তাঁর নির্দেশেই তো তারা কাজ করে।

يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يَشْفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ارْتَضَى وَهُمْ مِنْ خَشْيَتِهِ مُشْفِقُونَ 21.28

আরবি উচ্চারণ ২১.২৮। ইয়া’লামু মা-বাইনা আইদীহিম্ অমা- খল্ফাহুম্ অলা-ইয়াশ্ফা‘ঊনা ইল্লা- লিমার্নিতাদ্বোয়া-অহুম্ মিন্ খশ্ইয়াতিহী মুশ্ফিকুন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.২৮ তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে সবই তিনি জানেন। আর তারা শুধু তাদের জন্যই সুপারিশ করে যাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট। তারা তাঁর ভয়ে ভীত।

وَمَنْ يَقُلْ مِنْهُمْ إِنِّي إِلَهٌ مِنْ دُونِهِ فَذَلِكَ نَجْزِيهِ جَهَنَّمَ كَذَلِكَ نَجْزِي الظَّالِمِينَ21.29

আরবি উচ্চারণ ২১.২৯। অমাইঁ ইয়াকুল্ মিন্হুম ইন্নী য় ইলা-হুম্ মিন্ দূনিহী ফাযা-লিকা নাজ্বযীহি জাহান্নাম্; কাযা-লিকা নাজযিজ্ জোয়া-লিমীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.২৯ আর তাদের মধ্যে যে-ই বলবে, ‘তিনি ছাড়া আমি ইলাহ’, তাকেই আমি প্রতিদান হিসেবে জাহান্নাম দেব; এভাবেই আমি যালিমদের আযাব দিয়ে থাকি।

أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ21.30

আরবি উচ্চারণ ২১.৩০। আওয়ালাম্ ইয়ারল্লাযীনা কাফারূ য় আন্নাস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বোয়া কা-নাতা- রত্ক্বন্ ফাফাতাক্বনা-হুমা-অজ্বা‘আল্না-মিনাল্ মা-য়ি কুল্লা শাইয়িন্ হাইয়িন্; আফালা-ইয়ু মিনূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৩০ যারা কুফরী করে তারা কি ভেবে দেখে না যে, আসমানসমূহ ও যমীন ওতপ্রোতভাবে মিশে ছিল , অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম, আর আমি সকল প্রাণবান জিনিসকে পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। তবুও কি তারা ঈমান আনবে না?

وَجَعَلْنَا فِي الْأَرْضِ رَوَاسِيَ أَنْ تَمِيدَ بِهِمْ وَجَعَلْنَا فِيهَا فِجَاجًا سُبُلًا لَعَلَّهُمْ يَهْتَدُونَ21.31

আরবি উচ্চারণ ২১.৩১। অ জ্বা‘আল্না-ফীল্ র্আদ্বি রাওয়া- সিয়া আন্ তামীদা বিহিম্ অজ্বা‘আল্না-ফীহা-ফিজ্বা-জ্বান্ সুবুলাল্ লা‘আল্লাহুম্ ইয়াহ্তাদূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৩১ আর আমি যমীনে সৃষ্টি করেছি সুদৃঢ় পর্বত, যেন তা পর্বতসমূহ নিয়ে একদিকে হেলে না পড়ে, আর আমি তাতে তৈরী করেছি প্রশস্ত রাস্তা, যেন তারা চলতে পারে।

وَجَعَلْنَا السَّمَاءَ سَقْفًا مَحْفُوظًا وَهُمْ عَنْ آيَاتِهَا مُعْرِضُونَ 21.32

আরবি উচ্চারণ ২১.৩২। অ জ্বা‘আল্নাস্ সামা-য়া সাক্বফাম্ মাহ্ফূজোয়াঁও অহুম্ ‘আন্ আ-ইয়া-তিহা- মু’রিদ্বূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৩২ আর আমি আসমানকে করেছি সুরক্ষিত ছাদ; কিন্তু তারা তার নিদর্শনাবলী হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ21.33

আরবি উচ্চারণ ২১.৩৩। অহুওয়াল্লাযী খলাক্বল্ লাইলা অন্নাহা-র অশ্ শাম্সা অল্ ক্বর্মা; কুল্লুন্ ফী ফালাকিইঁ ইয়াস্বাহূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৩৩ আর তিনিই রাত ও দিন এবং সূর্য ও চাঁদ সৃষ্টি করেছেন; সবাই নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করে।

وَمَا جَعَلْنَا لِبَشَرٍ مِنْ قَبْلِكَ الْخُلْدَ أَفَإِنْ مِتَّ فَهُمُ الْخَالِدُونَ21.34

আরবি উচ্চারণ ২১.৩৪। অমা-জ্বা‘আল্না-লিবাশারিম্ মিন্ ক্বব্লিকাল্ খুল্দ্; আফায়িম্ মিত্তা ফাহুমুল্ খ-লিদূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৩৪ আর তোমার পূর্বে কোন মানুষকে আমি স্থায়ী জীবন দান করিনি; সুতরাং তোমার মৃত্যু হলে তারা কি অনন্ত জীবনসম্পন্ন হয়ে থাকবে ?

كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ وَنَبْلُوكُمْ بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ فِتْنَةً وَإِلَيْنَا تُرْجَعُونَ21.35

আরবি উচ্চারণ ২১.৩৫। কুল্লুনাফ্সিন্ যা-য়িক্বতুল্ মাউত্;অনাব্লূকুম্ বির্শ্শারি অল্ খাইরি ফিত্নাহ্; অইলাইনা র্তুজা‘ঊন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৩৫ প্রতিটি প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে; আর ভাল ও মন্দ দ্বারা আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করে থাকি এবং আমার কাছেই তোমাদেরকে ফিরে আসতে হবে।

وَإِذَا رَآكَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ يَتَّخِذُونَكَ إِلَّا هُزُوًا أَهَذَا الَّذِي يَذْكُرُ آلِهَتَكُمْ وَهُمْ بِذِكْرِ الرَّحْمَنِ هُمْ كَافِرُونَ21.36

আরবি উচ্চারণ ২১.৩৬। অ ইযা-রয়া-কাল্লাযীনা কাফারূ য় ইঁ ইয়াত্তাখিযূনাকা ইল্লা-হুযুওয়া-; আ হা-যাল্লাযী ইয়ায্কুরু আ-লিহাতাকুম্ অহুম্ বিযির্ক্রি রাহ্মা-নি হুম্ কাফিরূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৩৬ আর যারা কুফরী করে তারা যখন তোমাকে দেখে তখন তোমাকে কেবল উপহাসের পাত্র হিসেবে গ্রহণ করে। তারা বলে, ‘এ কি সেই ব্যক্তি, যে তোমাদের দেবতাদের সমালোচনা করে?’ অথচ তারাই ‘রহমান’-এর আলোচনার বিরোধিতা করে।

خُلِقَ الْإِنْسَانُ مِنْ عَجَلٍ سَأُرِيكُمْ آيَاتِي فَلَا تَسْتَعْجِلُونِ 21.37

আরবি উচ্চারণ ২১.৩৭। খুলিক্বাল্ ইন্সা-নু মিন্ ‘আজ্বাল্; সাউরীকুম্ আ-ইয়া-তী ফালা তাস্তা’জ্বিলূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৩৭ মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে তাড়াহুড়ার প্রবণতা দিয়ে। অচিরেই আমি তোমাদেরকে দেখাব আমার নিদর্শনাবলী। সুতরাং তোমরা তাড়াহুড়া করো না।

وَيَقُولُونَ مَتَى هَذَا الْوَعْدُ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ21.38

আরবি উচ্চারণ ২১.৩৮। অ ইয়াকু লূনা মাতা- হা-যাল্ অ’দু ইন্ কুন্তুম্ ছোয়া-দিক্বীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৩৮ আর তারা বলে, ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে বল, এ ওয়াদা কখন পূর্ণ হবে?’

لَوْ يَعْلَمُ الَّذِينَ كَفَرُوا حِينَ لَا يَكُفُّونَ عَنْ وُجُوهِهِمُ النَّارَ وَلَا عَنْ ظُهُورِهِمْ وَلَا هُمْ يُنْصَرُونَ21.39

আরবি উচ্চারণ ২১.৩৯। লাও ইয়া’লামুল্লাযীনা কাফারূ হীনা লা-ইয়াকুফ্ফূনা আওঁ য়ুজ্ব ূ হিহিমুন্ না-রা অলা-‘আন্ জুহূরিহিম্ অলা-হুম্ ইয়ুন্ছোয়ারূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৩৯ হায়, কাফিররা যদি সে সময়ের কথা জানত, যখন তারা তাদের সামনে ও পেছন থেকে আগুন ফিরাতে পারবে না। আর তাদেরকে সাহায্যও করা হবে না;

بَلْ تَأْتِيهِمْ بَغْتَةً فَتَبْهَتُهُمْ فَلَا يَسْتَطِيعُونَ رَدَّهَا وَلَا هُمْ يُنْظَرُونَ21.40

আরবি উচ্চারণ ২১.৪০। বাল্ তাতী হিম্ বাগ্তাতান্ ফাতাব্হাতুহুম্ ফালা-ইয়াস্তাত্বী‘ঊনা রদ্দাহা-অলা-হুম্ ইয়ুন্জোয়ারূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৪০ বরং অকস্মাৎ তাদের উপর তা এসে পড়বে। অতঃপর তাদেরকে হতবাক করে দেবে। ফলে তারা তা ফিরাতে সক্ষম হবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেয়া হবে না।

وَلَقَدِ اسْتُهْزِئَ بِرُسُلٍ مِنْ قَبْلِكَ فَحَاقَ بِالَّذِينَ سَخِرُوا مِنْهُمْ مَا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ21.41

আরবি উচ্চারণ ২১.৪১। অলাক্বাদিস্ তুহ্যিয়া বিরুসুলিম্ মিন্ ক্বব্লিকা ফাহা-ক্ব বিল্লাযীনা সাখিরূ মিন্হুম্ মা-কা-নূ বিহী ইয়াস্তাহ্যিয়ূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৪১ আর তোমার পূর্বেও অনেক রাসূলকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা হয়েছিল; পরিণামে তারা যা নিয়ে ঠাট্টা করত তাই বিদ্রুপকারীদেরকে ঘিরে ফেলেছিল।

قُلْ مَنْ يَكْلَؤُكُمْ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ مِنَ الرَّحْمَنِ بَلْ هُمْ عَنْ ذِكْرِ رَبِّهِمْ مُعْرِضُونَ 21.42

আরবি উচ্চারণ ২১.৪২। কুল মাইঁ ইয়াক্লায়ুকুম্ বিল্লাইলি অন্নাহা-রি মির্না রহ্মান্; বাল্হুম্ ‘আন্ যিক্রি রব্বিহিম্ মু’রিদ্বুন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৪২ বল, ‘রাতে এবং দিনে পরম করুণাময় থেকে কে তোমাদেরকে রক্ষা করবে?’ তবুও তারা তাদের রবের স্মরণ হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

أَمْ لَهُمْ آلِهَةٌ تَمْنَعُهُمْ مِنْ دُونِنَا لَا يَسْتَطِيعُونَ نَصْرَ أَنْفُسِهِمْ وَلَا هُمْ مِنَّا يُصْحَبُونَ21.43

আরবি উচ্চারণ ২১.৪৩। আম্ লাহুম্ আ-লিহাতুন্ তাম্না‘ঊহুম্ মিন্ দূনিনা-; লা-ইয়াস্তাত্বী‘ঊনা নাছ্রা আন্ফুসিহিম্ অলাহুম্ মিন্না-ইয়ুছ্হাবূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৪৩ আমি ছাড়া তাদের কি এমন কোন দেব-দেবী আছে যারা তাদেরকে রক্ষা করতে পারে? তারা তো নিজদেরকেই সাহায্য করতে সক্ষম নয় এবং আমার বিরুদ্ধে তারা কোন সঙ্গীও পাবে না।

بَلْ مَتَّعْنَا هَؤُلَاءِ وَآبَاءَهُمْ حَتَّى طَالَ عَلَيْهِمُ الْعُمُرُ أَفَلَا يَرَوْنَ أَنَّا نَأْتِي الْأَرْضَ نَنْقُصُهَا مِنْ أَطْرَافِهَا أَفَهُمُ الْغَالِبُونَ21.44

আরবি উচ্চারণ ২১.৪৪। বাল্ মাত্তা’না- হা য় উলা-য়ি অআ-বা-য়াহুম্ হাত্তা-ত্বোয়া-লা ‘আলাইহিমুল্ ‘উর্মু; আফালা-ইয়ারাওনা আন্না-নাতিল্ র্আদ্বোয়া নান্ক্বছুহা-মিন্ আত্বর-ফিহা-; আফাহুমুল্ গ-লিবূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৪৪ বরং আমিই তাদেরকে ও তাদের পিতৃপুরুষদেরকে উপভোগ করতে দিয়েছিলাম; উপরন্তু তাদের হায়াতও দীর্ঘ হয়েছিল। তারা কি দেখে না যে, আমি চতুর্দিক থেকে তাঁদের দেশকে সঙ্কুচিত করে দিচ্ছি? তবুও কি তারা জয়ী হবে?

قُلْ إِنَّمَا أُنْذِرُكُمْ بِالْوَحْيِ وَلَا يَسْمَعُ الصُّمُّ الدُّعَاءَ إِذَا مَا يُنْذَرُونَ21.45

আরবি উচ্চারণ ২১.৪৫। কুল্ ইন্নামা য় উন্যিরুকুম্ বিল্ অহ্য়ি অলা-ইয়াস্মা‘উছ্ ছুম্মুদ্ দু‘আ-য়া ইযা-মা-ইয়ুন্যারূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৪৫ বল, ‘আমি তো কেবল ওহী দ্বারাই তোমাদেরকে সতর্ক করি’। কিন্তু যারা বধির তাদেরকে যখন সতর্ক করা হয়, তখন তারা সে আহ্বান শোনে না।

وَلَئِنْ مَسَّتْهُمْ نَفْحَةٌ مِنْ عَذَابِ رَبِّكَ لَيَقُولُنَّ يَا وَيْلَنَا إِنَّا كُنَّا ظَالِمِينَ 21.46

আরবি উচ্চারণ ২১.৪৬। অলায়িম্ মাস্সাত্হুম্ নাফ্হাতুম্ মিন্ ‘আযা-বি রব্বিকা লাইয়াকু লুন্না ইয়া-ওয়াইলানা য় ইন্না-কুন্না-জোয়া-লিমীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৪৬ আর তোমার রবের আযাবের সামান্য কিছুও যদি তাদেরকে স্পর্শ করে, তবে তারা অবশ্যই বলে উঠবে-‘হায়, দুর্ভোগ আমাদের! আমরাতো অবশ্যই যালিম ছিলাম’।

وَنَضَعُ الْمَوَازِينَ الْقِسْطَ لِيَوْمِ الْقِيَامَةِ فَلَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا وَإِنْ كَانَ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ أَتَيْنَا بِهَا وَكَفَى بِنَا حَاسِبِينَ21.47

আরবি উচ্চারণ ২১.৪৭। অ নাদ্বোয়াউ’ল্ মাওয়া-যীনাল্ ক্বিস্ত্বোয়া লিইয়াওমিল্ ক্বিয়া-মাতি ফালা-তুজ্লামু নাফ্সুন্ শাইয়া; অইন্ কা-না মিছ্ক্ব-লা হাব্বাতিম্ মিন্ র্খদালিন্ আতাইনা-বিহা-;অকাফা-বিনা-হা-সিবীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৪৭ আর কিয়ামতের দিন আমি ন্যায়বিচারের মানদণ্ড স্থাপন করব। সুতরাং কারো প্রতি কোন অবিচার করা হবে না। কারো কর্ম যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয়, আমি তা হাযির করব। আর হিসাব গ্রহণকারীরূপে আমিই যথেষ্ট।

وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى وَهَارُونَ الْفُرْقَانَ وَضِيَاءً وَذِكْرًا لِلْمُتَّقِينَ21.48

আরবি উচ্চারণ ২১.৪৮। অলাক্বদ্ আ-তাইনা- মূসা-অহা-রূনাল্ ফুরক্বা-না অদ্বিয়া-য়াঁও অযিক্রাল্ লিল্মুত্তাক্বীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৪৮ আর আমি তো মূসা ও হারূনকে সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী দিয়েছিলাম এবং মুত্তাকীদের জন্য দিয়েছিলাম জ্যোতি ও উপদেশ।

الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ بِالْغَيْبِ وَهُمْ مِنَ السَّاعَةِ مُشْفِقُونَ21.49

আরবি উচ্চারণ ২১.৪৯। আল্লাযীনা ইয়াখ্শাওনা রব্বাহুম্ বিল্ গইবি অহুম্ মিনাস্ সা- ‘আতি মুশ্ফিকুন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৪৯ যারা না দেখেও তাদের রবকে ভয় করে এবং কিয়ামত সম্পর্কে থাকে ভীত-সন্ত্রস্ত।

وَهَذَا ذِكْرٌ مُبَارَكٌ أَنْزَلْنَاهُ أَفَأَنْتُمْ لَهُ مُنْكِرُونَ21.50

আরবি উচ্চারণ ২১.৫০। অ হা-যা -যিক্রুম্ মুবা-রকুন্ আন্যাল্না-হ্ আফাআন্তুম্ লাহূ মুন্কিরূন।

বাংলা অনুবাদ ২১.৫০ আর এটা বরকতময় উপদেশ, যা আমি নাযিল করেছি। তবুও কি তোমরা তা অস্বীকার করবে?

وَلَقَدْ آتَيْنَا إِبْرَاهِيمَ رُشْدَهُ مِنْ قَبْلُ وَكُنَّا بِهِ عَالِمِينَ 21.51

আরবি উচ্চারণ ২১.৫১। অলাক্বদ্ আ- তাইনা য় ইব্র-হীমা রুশ্দাহূ মিন্ ক্ববলু অকুন্না-বিহী ‘আ-লিমীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৫১ আর আমি তো ইতঃপূর্বে ইবরাহীমকে সঠিক পথের জ্ঞান দিয়েছিলাম এবং আমি তার সম্পর্কে ছিলাম সম্যক অবগত।

إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِ مَا هَذِهِ التَّمَاثِيلُ الَّتِي أَنْتُمْ لَهَا عَاكِفُونَ21.52

আরবি উচ্চারণ ২১.৫২। ইয্ ক্ব-লা লিআবীহি অক্বওমিহী মা-হা-যিহিত্ তামা-ছীলুল্ লাতী য় আন্তুম্ লাহা-‘আ-কিফূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৫২ যখন সে তার পিতা ও তার কওমকে বলল, ‘এ মূর্তিগুলো কী, যেগুলোর পূজায় তোমরা রত রয়েছ’?

قَالُوا وَجَدْنَا آبَاءَنَا لَهَا عَابِدِينَ21.53

আরবি উচ্চারণ ২১.৫৩। ক্ব-লূ অজ্বাদ্না য় আ-বা-য়ানা লাহা-‘আ-বিদীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৫৩ তারা বলল, ‘আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে এদের পূজা করতে দেখেছি’।

قَالَ لَقَدْ كُنْتُمْ أَنْتُمْ وَآبَاؤُكُمْ فِي ضَلَالٍ مُبِينٍ21.54

আরবি উচ্চারণ ২১.৫৪। ক্ব- লা লাক্বদ্ কুন্তুম্ আন্তুম্ অআ-বা-য়ুকুম্ ফী দ্বোয়ালা-লিম্ মুবীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৫৪ সে বলল, ‘তোমরা নিজেরা এবং তোমাদের পিতৃপুরুষরা সবাই রয়েছ স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে’।

قَالُوا أَجِئْتَنَا بِالْحَقِّ أَمْ أَنْتَ مِنَ اللَّاعِبِينَ21.55

আরবি উচ্চারণ ২১.৫৫। ক্ব-লূ য় আজ্বিতানা বিল্হাক্বক্বি আম্ আন্তা মিনাল্ লা-‘ঈবীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৫৫ তারা বলল, ‘তুমি কি আমাদের নিকট সত্য নিয়ে এসেছ, নাকি তুমি খেল-তামাশা করছ’?

قَالَ بَل رَبُّكُمْ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الَّذِي فَطَرَهُنَّ وَأَنَا عَلَى ذَلِكُمْ مِنَ الشَّاهِدِينَ21.56

আরবি উচ্চারণ ২১.৫৬। ক্ব-লা র্বা রব্বুকুম্ রব্বুস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বিল্লাযী ফাতারহুন্না অ আনা ‘আলা- যা-লিকুম্ মিনাশ্ শা-হিদীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৫৬ সে বলল, ‘না, বরং তোমাদের রব তো আসমানসমূহ ও যমীনের রব; যিনি এ সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। আর এ বিষয়ে আমি অন্যতম সাক্ষী’।

وَتَاللَّهِ لَأَكِيدَنَّ أَصْنَامَكُمْ بَعْدَ أَنْ تُوَلُّوا مُدْبِرِينَ21.57

আরবি উচ্চারণ ২১.৫৭। অ তাল্লা-হি লাআকীদান্না আছ্না-মাকুম্ বা’দা আন্ তুওয়াল্লু মুদ্বিরীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৫৭ ‘আর আল্লাহর কসম, তোমরা চলে যাওয়ার পর আমি তোমাদের মূর্তিগুলোর ব্যাপারে অবশ্যই কৌশল অবলম্বন করব’।

فَجَعَلَهُمْ جُذَاذًا إِلَّا كَبِيرًا لَهُمْ لَعَلَّهُمْ إِلَيْهِ يَرْجِعُونَ 21.58

আরবি উচ্চারণ ২১.৫৮। ফাজ্বা‘আলাহুম্ জুযা-যান্ ইল্লা- কাবীরল্ লাহুম্ লা‘আল্লাহুম্ ইলাইহি ইর্য়াজ্বি‘ঊন্। বাংলা অনুবাদ ২১.৫৮ অতঃপর সে মূর্তিগুলোকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিল তাদের বড়টি ছাড়া, যাতে তারা তাঁর দিকে ফিরে আসে।

قَالُوا مَنْ فَعَلَ هَذَا بِآلِهَتِنَا إِنَّهُ لَمِنَ الظَّالِمِينَ21.59

আরবি উচ্চারণ ২১.৫৯। ক্ব-লূ মান্ ফা‘আলা হা-যা-বিআ- লিহাতিনা য় ইন্নাহূ লামিনাজ্ জোয়া-লিমীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৫৯ তারা বলল, ‘আমাদের দেবদেবীগুলোর সাথে কে এমনটি করল? নিশ্চয় সে যালিম’।

قَالُوا سَمِعْنَا فَتًى يَذْكُرُهُمْ يُقَالُ لَهُ إِبْرَاهِيمُ21.60

আরবি উচ্চারণ ২১.৬০। ক্ব-লূ সামি’না- ফাতাইঁ ইয়ায্কুরুহুম্ ইয়ুক্ব-লু লাহূ য় ইব্রা-হীম্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৬০ তাদের কেউ কেউ বলল, ‘আমরা শুনেছি এক যুবক এই মূর্তিগুলোর সমালোচনা করে। তাকে বলা হয় ইবরাহীম’।

قَالُوا فَأْتُوا بِهِ عَلَى أَعْيُنِ النَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَشْهَدُونَ21.61

আরবি উচ্চারণ ২১.৬১। ক্ব-লূ ফাতূ বিহী ‘আলা য় আ’ইয়ুনিন্ না-সি লা‘আল্লাহুম্ ইয়াশ্ হাদূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৬১ তারা বলল, ‘তাহলে তাকে লোকজনের সামনে নিয়ে এসো, যাতে তারা দেখতে পারে’।

قَالُوا أَأَنْتَ فَعَلْتَ هَذَا بِآلِهَتِنَا يَا إِبْرَاهِيمُ21.62

আরবি উচ্চারণ ২১.৬২। ক্ব-লূ য় আআন্তা ফা‘আল্তা হা-যা-বিআ-লিহাতিনা-ইয়া য় ইব্রা-হীম্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৬২ তারা বলল, ‘হে ইবরাহীম, তুমিই কি আমাদের দেবদেবীগুলোর সাথে এরূপ করেছ’?

قَالَ بَلْ فَعَلَهُ كَبِيرُهُمْ هَذَا فَاسْأَلُوهُمْ إِنْ كَانُوا يَنْطِقُونَ21.63

আরবি উচ্চারণ ২১.৬৩। ক্ব-লা বাল্ ফা‘আলাহূ কাবীরুহুম্ হা-যা-ফাস্য়ালূহুম্ ইন্ কা-নূ ইয়ান্ত্বিকুন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৬৩ সে বলল, ‘বরং তাদের এ বড়টিই একাজ করেছে। তাই এদেরকেই জিজ্ঞাসা কর, যদি এরা কথা বলতে পারে’।

فَرَجَعُوا إِلَى أَنْفُسِهِمْ فَقَالُوا إِنَّكُمْ أَنْتُمُ الظَّالِمُونَ21.64

আরবি উচ্চারণ ২১.৬৪। ফারজ্বা‘ঊ য় ইলা য় আন্ফুসিহিম্ ফাক্ব-লূ য় ইন্নাকুম্ আন্তুমুজ্ জোয়া-লিমূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৬৪ তখন তারা নিজদের দিকে ফিরে গেল এবং একে অন্যকে বলতে লাগল, ‘তোমরাই তো যালিম’।

ثُمَّ نُكِسُوا عَلَى رُءُوسِهِمْ لَقَدْ عَلِمْتَ مَا هَؤُلَاءِ يَنْطِقُونَ 21.65

আরবি উচ্চারণ ২১.৬৫। ছুম্মা নুকিসূ ‘আলা-রুয়ূসিহিম্ লাক্বদ্ ‘আলিম্তা মা-হা য় য়ুলা-য়ি ইয়ান্ত্বিকুন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৬৫ অতঃপর তাদের মাথা অবনত হয়ে গেল এবং বলল, ‘তুমি তো জানই যে, এরা কথা বলতে পারে না’।

قَالَ أَفَتَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَنْفَعُكُمْ شَيْئًا وَلَا يَضُرُّكُمْ21.66

আরবি উচ্চারণ ২১.৬৬। ক্ব-লা আফাতা’বুদূনা মিন্ দূনিল্লা -হি মা-লা-ইয়ান্ফা‘ঊকুম্ শাইয়াঁও অলা-ইয়ার্দ্বুরুকুম্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৬৬ সে (ইবরাহীম) বলল, ‘তাহলে কি তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুর ইবাদাত কর, যা তোমাদের কোন উপকার করতে পারে না এবং কোন ক্ষতিও করতে পারে না’?

أُفٍّ لَكُمْ وَلِمَا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَفَلَا تَعْقِلُونَ21.67

আরবি উচ্চারণ ২১.৬৭। উফ্ফিল্লাকুম্ অলিমা-তা’বুদূনা মিন্ দূনিল্লা-হ্; আফালা-তা’ক্বিলূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৬৭ ‘ধিক তোমাদেরকে এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের ইবাদাত কর তাদেরকে! ‘তবুও কি তোমরা বুঝবে না’?

قَالُوا حَرِّقُوهُ وَانْصُرُوا آلِهَتَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ فَاعِلِينَ21.68

আরবি উচ্চারণ ২১.৬৮। ক্ব-লূ র্হারিকু হু অন্ছুরূ য় আ-লিহাতাকুম্ ইন্ কুন্তুম্ ফা-‘ইলীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৬৮ তারা বলল, ‘তাকে আগুনে পুড়িয়ে দাও এবং তোমাদের দেবদেবীদেরকে সাহায্য কর, যদি তোমরা কিছু করতে চাও’।

قُلْنَا يَا نَارُ كُونِي بَرْدًا وَسَلَامًا عَلَى إِبْرَاهِيمَ21.69

আরবি উচ্চারণ ২১.৬৯। কুলনা- ইয়া-না-রু কূনী র্বাদাঁও অসালা-মান্ ‘আলা য় ইব্রা-হীম্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৬৯ আমি বললাম, ‘হে আগুন, তুমি শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও ইবরাহীমের জন্য’ ।

وَأَرَادُوا بِهِ كَيْدًا فَجَعَلْنَاهُمُ الْأَخْسَرِينَ21.70

আরবি উচ্চারণ ২১.৭০। অআর-দূ বিহী কাইদান্ ফাজ্বা‘আল্না-হুমুল্ আখ্সারীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৭০ আর তারা তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেছিল, কিন্তু আমি তাদেরকে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত করে দিলাম।

وَنَجَّيْنَاهُ وَلُوطًا إِلَى الْأَرْضِ الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا لِلْعَالَمِينَ21.71

আরবি উচ্চারণ ২১.৭১। অনাজ্জ্বাইনা-হু অলূত্বোয়ান্ ইলাল্ র্আদ্বিল্লাতী বা-রাক্না-ফীহা- লিল্‘আ-লামীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৭১ আর আমি তাকে ও লূতকে উদ্ধার করে সে দেশে নিয়ে গেলাম, যেখানে আমি বিশ্ববাসীর জন্য বরকত রেখেছি।

وَوَهَبْنَا لَهُ إِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ نَافِلَةً وَكُلًّا جَعَلْنَا صَالِحِينَ 21.72

আরবি উচ্চারণ ২১.৭২। অওয়াহাব্না-লাহূ য় ইস্হা-ক্ব; অ ইয়া’কু বা না-ফিলাহ্; অ কুল্লান্ জ্বা‘আল্না-ছোয়া-লিহীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৭২ আর আমি তাকে দান করেছিলাম ইসহাক ও ইয়াকূবকে অতিরিক্ত হিসেবে; আর তাদের প্রত্যেককেই আমি সৎকর্মশীল করেছিলাম।

وَجَعَلْنَاهُمْ أَئِمَّةً يَهْدُونَ بِأَمْرِنَا وَأَوْحَيْنَا إِلَيْهِمْ فِعْلَ الْخَيْرَاتِ وَإِقَامَ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءَ الزَّكَاةِ وَكَانُوا لَنَا عَابِدِينَ21.73

আরবি উচ্চারণ ২১.৭৩। অ জ্বা‘আল্না-হুম্ আয়িম্মাতাঁই ইয়াহ্দূনা বিআম্রিনা-অ আওহাইনা য় ইলাইহিম্ ফি’লাল্ খইর-তি ও অ ইক্ব-মাছ্ ছলা-তি অই-তা-য়ায্ যাকা-তি অকা-নূ লানা-আ’বিদীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৭৩ আর তাদেরকে আমি নেতা বানিয়েছিলাম, তারা আমার নির্দেশ অনুসারে মানুষকে সঠিক পথ দেখাত। আমি তাদের প্রতি সৎকাজ করার, সলাত কায়েম করার এবং যাকাত প্রদান করার জন্য ওহী প্রেরণ করেছিলাম। আর তারা আমারই ইবাদাত করত।

وَلُوطًا آتَيْنَاهُ حُكْمًا وَعِلْمًا وَنَجَّيْنَاهُ مِنَ الْقَرْيَةِ الَّتِي كَانَتْ تَعْمَلُ الْخَبَائِثَ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمَ سَوْءٍ فَاسِقِينَ21.74

আরবি উচ্চারণ ২১.৭৪। অলূত্বোয়ান্ আ-তাইনা- হু হুক্মাঁও অ ‘ইল্মাঁও অনাজ্জ্বাইনা-হু মিনাল্ র্ক্বাইয়াতিল্লাতী কা-নাত্ তা’মালুল্ খবা-য়িছ্ ; ইন্নাহুম্ কা-নূ ক্বওমা সাওয়িন্ ফা-সিক্বীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৭৪ আর লূতকে আমি প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দান করেছিলাম। আমি তাকে এমন এক জনপদ থেকে উদ্ধার করেছিলাম, যার অধিবাসীরা অশ্লীল কাজে লিপ্ত ছিল। তারা ছিল এক মন্দ ও পাপাচারী কওম।

وَأَدْخَلْنَاهُ فِي رَحْمَتِنَا إِنَّهُ مِنَ الصَّالِحِينَ21.75

আরবি উচ্চারণ ২১.৭৫। অআদ্খল্না-হু ফী রহ্মাতিনা- ; ইন্নাহূ মিনাছ্ ছোয়া-লিহীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৭৫ আর আমি তাকে আমার রহমতের মধ্যে শামিল করে নিয়েছিলাম। সে ছিল সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত।

وَنُوحًا إِذْ نَادَى مِنْ قَبْلُ فَاسْتَجَبْنَا لَهُ فَنَجَّيْنَاهُ وَأَهْلَهُ مِنَ الْكَرْبِ الْعَظِيمِ21.76

আরবি উচ্চারণ ২১.৭৬। অনূহান্ ইয্ না-দা-মিন্ ক্বব্লু ফাস্তাজ্বাব্না-লাহূ ফানাজ্জ্বাইনা-হু অআহ্লাহূ মিনাল্ র্কাবিল্ ‘আজীম্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৭৬ আর স্মরণ কর নূহের কথা, ইতঃপূর্বে যখন সে আমাকে ডেকেছিল, তখন আমি তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম। অতঃপর তাকে ও তার পরিবারবর্গকে আমি মহাবিপদ থেকে উদ্ধার করেছিলাম।

وَنَصَرْنَاهُ مِنَ الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمَ سَوْءٍ فَأَغْرَقْنَاهُمْ أَجْمَعِينَ21.77

আরবি উচ্চারণ ২১.৭৭। অ নাছোর্য়ানা-হু মিনাল্ ক্বওমিল্লাযীনা কায্যাবূ বিআ-ইয়া-তিনা- ; ইন্নাহুম্ কা-নূ ক্বওমা সাওয়িন্ ফাআগ্রাক্বনা-হুম্ আজ্বমা‘ঈন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৭৭ আর আমি তাকে সেই সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সাহায্য করেছিলাম, যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছিল। তারা ছিল এক মন্দ কওম। তাই আমি তাদের সকলকেই পানিতে ডুবিয়ে মেরেছিলাম।

وَدَاوُدَ وَسُلَيْمَانَ إِذْ يَحْكُمَانِ فِي الْحَرْثِ إِذْ نَفَشَتْ فِيهِ غَنَمُ الْقَوْمِ وَكُنَّا لِحُكْمِهِمْ شَاهِدِينَ21.78

আরবি উচ্চারণ ২১.৭৮। অদা-ঊদা অ সুলাইমা-না ইয্ ইয়াহ্কুমা-নি ফিল্ র্হাছি ইয্ নাফাশাত্ ফীহি গনামুল্ ক্বওমি অকুন্না-লিহুক্মিহিম্ শা-হিদীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৭৮ আর স্মরণ কর দাঊদ ও সুলায়মানের কথা, যখন তারা শস্যক্ষেত সম্পর্কে বিচার করছিল। যাতে রাতের বেলায় কোন কওমের মেষ ঢুকে পড়েছিল। আর আমি তাদের বিচার কাজ দেখছিলাম।

فَفَهَّمْنَاهَا سُلَيْمَانَ وَكُلًّا آتَيْنَا حُكْمًا وَعِلْمًا وَسَخَّرْنَا مَعَ دَاوُدَ الْجِبَالَ يُسَبِّحْنَ وَالطَّيْرَ وَكُنَّا فَاعِلِينَ21.79

আরবি উচ্চারণ ২১.৭৯। ফাফাহ্হাম্না-হা-সুলাইমা-না অকুল্লান্ আ-তাইনা-হুক্মাঁও অ ই’ল্মাঁও অ সার্খ্খানা-মা‘আ দা-ঊদাল্ জ্বিবা-লা ইয়ুসাব্বিহ্না অত্ত্বোয়ার্ই; অকুন্না-ফা-‘ইলীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৭৯ অতঃপর আমি এ বিষয়ের ফয়সালা সুলায়মানকে বুঝিয়ে দিয়েছিলাম। আর আমি তাদের প্রত্যেককেই দিয়েছিলাম প্রজ্ঞা ও জ্ঞান। আর আমি পর্বতমালা ও পাখীদেরকে দাঊদের অধীন করে দিয়েছিলাম, তারা দাঊদের সাথে আমার তাসবীহ পাঠ করত। আর এসবকিছু আমিই করছিলাম।

وَعَلَّمْنَاهُ صَنْعَةَ لَبُوسٍ لَكُمْ لِتُحْصِنَكُمْ مِنْ بَأْسِكُمْ فَهَلْ أَنْتُمْ شَاكِرُونَ21.80

আরবি উচ্চারণ ২১.৮০। অ ‘আল্লাম্না-হু ছোয়ান্‘আতা লাবূসিল্ লাকুম্ লিতুহ্ছিনাকুম্ মিম্ বাসিকুম্ ফাহাল্ আন্তুম্ শা-কিরূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৮০ আর আমিই তাকে তোমাদের জন্য বর্ম বানানো শিক্ষা দিয়েছিলাম। যাতে তা যুদ্ধে তোমাদেরকে রক্ষা করতে পারে। সুতরাং তোমরা কি কৃতজ্ঞ হবে?

وَلِسُلَيْمَانَ الرِّيحَ عَاصِفَةً تَجْرِي بِأَمْرِهِ إِلَى الْأَرْضِ الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا وَكُنَّا بِكُلِّ شَيْءٍ عَالِمِينَ21.81

আরবি উচ্চারণ ২১.৮১। অ লিসুলাইমা-র্না রীহা ‘আ-ছিফাতান্ তাজ্বরী বিআম্রিহী য় ইলাল্ আর্িদ্বল্লাতী বা-রাক্না-ফীহা-; অ কুন্না-বিকুল্লি শাইয়্যিন্ ‘আ-লিমীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৮১ আর আমি সুলায়মানের জন্য অনুগত করে দিয়েছিলাম প্রবল হাওয়াকে, যা তার নির্দেশে প্রবাহিত হত সেই দেশের দিকে, যেখানে আমি বরকত রেখেছি। আর আমি প্রত্যেক বিষয় সম্পর্কেই অবগত ছিলাম।

وَمِنَ الشَّيَاطِينِ مَنْ يَغُوصُونَ لَهُ وَيَعْمَلُونَ عَمَلًا دُونَ ذَلِكَ وَكُنَّا لَهُمْ حَافِظِينَ21.82

আরবি উচ্চারণ ২১.৮২। অ মিনাশ্ শাইয়া-ত্বীনি মাইঁ ইয়াগূছূনা লাহূ অ ইয়া’মালূনা ‘আমালান্ দূনা যা-লিকা অকুন্না-লাহুম্ হা-ফিজীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৮২ আর শয়তানদের মধ্যে কতক তার জন্য ডুবুরীর কাজ করত, এছাড়া অন্যান্য কাজও করত। আর আমিই তাদের জন্য হিফাযতকারী ছিলাম।

وَأَيُّوبَ إِذْ نَادَى رَبَّهُ أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ21.83

আরবি উচ্চারণ ২১.৮৩। অ আইইয়ূবা ইয্ না-দা-রব্বাহূ য় আন্নী মাস্ নানিয়াদ্ব্ দ্বরুরু অআন্তা র্আহার্মু র-হিমীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৮৩ আর স্মরণ কর আইউবের কথা, যখন সে তার রবকে আহ্বান করে বলেছিল, ‘আমি দুঃখ-কষ্টে পতিত হয়েছি। আর আপনি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু’।

فَاسْتَجَبْنَا لَهُ فَكَشَفْنَا مَا بِهِ مِنْ ضُرٍّ وَآتَيْنَاهُ أَهْلَهُ وَمِثْلَهُمْ مَعَهُمْ رَحْمَةً مِنْ عِنْدِنَا وَذِكْرَى لِلْعَابِدِينَ21.84

আরবি উচ্চারণ ২১.৮৪। ফাস্তাজ্বাব্না-লাহূ ফাকাশাফ্না-মা-বিহী মিন্ র্দ্বুরিঁও অ আ-তাইনা-হু আহ্লাহূ অ মিছ্লাহুম্ মা‘আহুম্ রহ্মাতাম্ মিন্ ‘ইন্দিনা-অযিক্র-লিল্‘আ-বিদীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৮৪ তখন আমি তার ডাকে সাড়া দিলাম। আর তার যত দুঃখ-কষ্ট ছিল তা দূর করে দিলাম এবং তার পরিবার-পরিজন তাকে দিয়ে দিলাম। আর তাদের সাথে তাদের মত আরো দিলাম আমার পক্ষ থেকে রহমত এবং ইবাদাতকারীদের জন্য উপদেশস্বরূপ।

وَإِسْمَاعِيلَ وَإِدْرِيسَ وَذَا الْكِفْلِ كُلٌّ مِنَ الصَّابِرِينَ21.85

আরবি উচ্চারণ ২১.৮৫। অইস্মাঈ’লা অইদ্রীসা অযাল্ কিফ্ল্ ; কুল্লুম্ মিনাছ্ ছোয়া-বিরীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৮৫ আর স্মরণ কর ইসমাঈল, ইদরীস ও যুল্ কিফল এর কথা, তাদের প্রত্যেকেই ধৈর্যশীল ছিল।

وَأَدْخَلْنَاهُمْ فِي رَحْمَتِنَا إِنَّهُمْ مِنَ الصَّالِحِينَ 21.86

আরবি উচ্চারণ ২১.৮৬। অ আদ্খল্না-হুম্ ফী রহমাতিনা-; ইন্নাহুম্ মিনাছ্ ছোয়া-লিহীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৮৬ আর তাদেরকে আমি আমার রহমতে শামিল করেছিলাম। তারা ছিল সৎকর্মপরায়ণ।

وَذَا النُّونِ إِذْ ذَهَبَ مُغَاضِبًا فَظَنَّ أَنْ لَنْ نَقْدِرَ عَلَيْهِ فَنَادَى فِي الظُّلُمَاتِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ21.87

আরবি উচ্চারণ ২১.৮৭। অ যান্নু নি ইয্ যাহাবা মুগ-দ্বিবান্ ফাজোয়ান্না আ ল্লান্ নাক্বদিরা ‘আলাইহি ফানা-দা-ফিজ্ জুলুমা-তি আল্লা য় ইলা-হা ইল্লা-আন্তা সুবহা-নাকা ইন্নী কুন্তু মিনাজ জোয়া-লিমীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৮৭ আর স্মরণ কর যুন-নূন এর কথা, যখন সে রাগান্বিত অবস্থায় চলে গিয়েছিল এবং মনে করেছিল যে, আমি তার উপর ক্ষমতা প্রয়োগ করব না। তারপর সে অন্ধকার থেকে ডেকে বলেছিল, ‘আপনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই’। আপনি পবিত্র মহান। নিশ্চয় আমি ছিলাম যালিম’ ।

فَاسْتَجَبْنَا لَهُ وَنَجَّيْنَاهُ مِنَ الْغَمِّ وَكَذَلِكَ نُنْجِي الْمُؤْمِنِينَ21.88

আরবি উচ্চারণ ২১.৮৮। ফাস্তাজ্বাব্না- লাহূ অনাজ্জ্বাইনা-হু মিনাল্ গম্; অ কাযা-লিকা নুন্জ্বিল্ মুমিনীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৮৮ অতঃপর আমি তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম এবং দুশ্চিন্তা থেকে তাকে উদ্ধার করেছিলাম। আর এভাবেই আমি মুমিনদেরকে উদ্ধার করে থাকি।

وَزَكَرِيَّا إِذْ نَادَى رَبَّهُ رَبِّ لَا تَذَرْنِي فَرْدًا وَأَنْتَ خَيْرُ الْوَارِثِينَ21.89

আরবি উচ্চারণ ২১.৮৯। অ যাকারিয়্যা য় ইয্ না-দা-রব্বাহূ রব্বি লা-তার্যানী র্ফাদাঁও অআন্তা খাইরুল্ ওয়ারিছীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৮৯ আর স্মরণ কর যাকারিয়্যার কথা, যখন সে তার রবকে আহ্বান করে বলেছিল, ‘হে আমার রব! আমাকে একা রেখো না, তুমি তো শ্রেষ্ঠ মালিকানার অধিকারী’।

فَاسْتَجَبْنَا لَهُ وَوَهَبْنَا لَهُ يَحْيَى وَأَصْلَحْنَا لَهُ زَوْجَهُ إِنَّهُمْ كَانُوا يُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَيَدْعُونَنَا رَغَبًا وَرَهَبًا وَكَانُوا لَنَا خَاشِعِينَ 21.90

আরবি উচ্চারণ ২১.৯০। ফাস্তাজ্বাব্না-লাহূ অওয়াহাব্না-লাহূ ইয়াহ্ইয়া-অআছ্লাহ্না- লাহূ যাওজ্বাহ্ ;ইন্নাহুম্ কা-নূ ইয়ুসা-রি‘ঊনা ফিল্ খইর-তি অ ইয়াদ্‘ঊ নানা- রাগবাঁও অ রহাবা- ; অকা-নূ লানা-খ-শিঈ’ন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৯০ অতঃপর আমি তার আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলাম এবং তাকে দান করেছিলাম ইয়াহইয়া। আর তার জন্য তার স্ত্রীকে উপযোগী করেছিলাম। তারা সৎকাজে প্রতিযোগিতা করত। আর আমাকে আশা ও ভীতি সহকারে ডাকত। আর তারা ছিল আমার নিকট বিনয়ী।

وَالَّتِي أَحْصَنَتْ فَرْجَهَا فَنَفَخْنَا فِيهَا مِنْ رُوحِنَا وَجَعَلْنَاهَا وَابْنَهَا آيَةً لِلْعَالَمِينَ21.91

আরবি উচ্চারণ ২১.৯১। অল্লাতী য় আহ্ছোয়ানাত্ র্ফাজ্বাহা-ফানাফাখ্না-ফীহা র্মি রূহিনা-অজ্বা‘আল্না-হা- অবনাহা য় আ-ইয়াতাল্ লিল্‘আ-লামীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৯১ আর স্মরণ কর সে নারীর কথা, যে নিজ সতীত্ব রক্ষা করেছিল। অতঃপর আমি তার মধ্যে আমার ‘রূহ’ ফুঁকে দিয়েছিলাম এবং তাকে ও তার পুত্রকে সৃষ্টিকুলের জন্য করেছিলাম এক নিদর্শন।

إِنَّ هَذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَأَنَا رَبُّكُمْ فَاعْبُدُونِ21.92

আরবি উচ্চারণ ২১.৯২। ইন্না হা-যিহীয় উম্মাতুকুম্ উম্মাতাঁও ওয়া-হিদাতাঁও অআনা রব্বুকুম্ ফা’বুদূ ন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৯২ নিশ্চয় তোমাদের এ জাতি তো একই জাতি। আর আমিই তোমাদের রব। অতএব তোমরা আমার ইবাদাত কর।

وَتَقَطَّعُوا أَمْرَهُمْ بَيْنَهُمْ كُلٌّ إِلَيْنَا رَاجِعُونَ21.93

আরবি উচ্চারণ ২১.৯৩। অ তাক্বত্ত্বোয়া‘ঊ য় আম্রহুম্ বাইনাহুম্ কুল্লুন্ ইলাইনা-র-জ্বি‘ঊন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৯৩ কিন্তু তারা নিজদের কার্যকলাপে পরস্পরের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে। সকলেই আমার নিকট প্রত্যাবর্তন করবে।

فَمَنْ يَعْمَلْ مِنَ الصَّالِحَاتِ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَا كُفْرَانَ لِسَعْيِهِ وَإِنَّا لَهُ كَاتِبُونَ21.94

আরবি উচ্চারণ ২১.৯৪। ফামাইঁ ইয়া’মাল্ মিনাছ্ ছোয়া-লিহা-তি অহুঅ মুমিনুন্ ফালা-কুফ্র-না লিসা ‘ইয়িহী অইন্না-লাহূ কা-তিবূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৯৪ সুতরাং যে মুমিন অবস্থায় সৎকাজ করে তার প্রচেষ্টাকে অস্বীকার করা হবে না। আর আমি তো তা লিখে রাখি।

وَحَرَامٌ عَلَى قَرْيَةٍ أَهْلَكْنَاهَا أَنَّهُمْ لَا يَرْجِعُونَ21.95

আরবি উচ্চারণ ২১.৯৫। অহার-মুন্ ‘আলা-র্ক্বইয়াতিন্ আহ্লাক্নাহা য় আন্নাহুম্ লা-ইর্য়াজ্বি‘ঊন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৯৫ আর আমি যে জনপদকে ধ্বংস করেছি তার সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে যে, তার অধিবাসীবৃন্দ আর ফিরে আসবে না।

حَتَّى إِذَا فُتِحَتْ يَأْجُوجُ وَمَأْجُوجُ وَهُمْ مِنْ كُلِّ حَدَبٍ يَنْسِلُونَ 21.96

আরবি উচ্চারণ ২১.৯৬। হাত্তা য় ইযা-ফুতিহাত্ ইয়াজ্ব ূজু অমাজ্ব ূজু অহুম্ মিন্ কুল্লি হাদাবিই ইয়ান্সিলূন্ ।

বাংলা অনুবাদ ২১.৯৬ অবশেষে যখন ইয়া’জূজ ও মা’জূজকে মুক্তি দেয়া হবে, আর তারা প্রতিটি উঁচু ভূমি হতে ছুটে আসবে।

وَاقْتَرَبَ الْوَعْدُ الْحَقُّ فَإِذَا هِيَ شَاخِصَةٌ أَبْصَارُ الَّذِينَ كَفَرُوا يَا وَيْلَنَا قَدْ كُنَّا فِي غَفْلَةٍ مِنْ هَذَا بَلْ كُنَّا ظَالِمِينَ21.97

আরবি উচ্চারণ ২১.৯৭। অক্বতারবাল্ অ’দুল্ হাক্বকু ফাইযা-হিয়া শা -খিছোয়াতুন্ আব্ছোয়া-রুল্ লাযীনা কাফারূ; ইয়া-অইলানা-ক্বদ্ কুন্না- ফী গফ্লাতিম্ মিন্ হা-যা-বাল্ কুন্না-জোয়া-লিমীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৯৭ আর সত্য ওয়াদার সময় নিকটে আসলে হঠাৎ কাফিরদের চক্ষু স্থির হয়ে যাবে। তারা বলবে, ‘হায়, আমাদের দুর্ভোগ! আমরা তো এ বিষয়ে উদাসীন ছিলাম বরং আমরা ছিলাম যালিম’ ।

إِنَّكُمْ وَمَا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ حَصَبُ جَهَنَّمَ أَنْتُمْ لَهَا وَارِدُونَ21.98

আরবি উচ্চারণ ২১.৯৮। ইন্নাকুম্ অমা-তা’বুদূনা মিন্ দূনিল্লা-হি হাছোয়াবু জ্বাহান্নাম্ ; আন্তুম্ লাহা-ওয়া-রিদূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৯৮ নিশ্চয় তোমরা এবং আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদের পূজা কর, সেগুলো তো জাহান্নামের জ্বালানী। তোমরা সেখানে প্রবেশ করবে।

لَوْ كَانَ هَؤُلَاءِ آلِهَةً مَا وَرَدُوهَا وَكُلٌّ فِيهَا خَالِدُونَ21.99

আরবি উচ্চারণ ২১.৯৯। লাও কা-না হা য় উলা-য়ি আ-লিহাতাম্ মা-অরাদূহা-; অকুল্লুন্ ফীহা-খা-লিদূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.৯৯ যদি তারা ইলাহ হত তবে তারা জাহান্নামে প্রবেশ করত না। আর তারা সবাই তাতে স্থায়ী হয়ে থাকবে।

لَهُمْ فِيهَا زَفِيرٌ وَهُمْ فِيهَا لَا يَسْمَعُونَ21.100

আরবি উচ্চারণ ২১.১০০। লাহুম্ ফীহা-যাফীরুঁও অহুম্ ফীহা- লা-ইয়াস্মা‘ঊন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.১০০ সেখানে থাকবে তাদের আর্তনাদ, আর সেখানে তারা শুনতে পাবে না।

إِنَّ الَّذِينَ سَبَقَتْ لَهُمْ مِنَّا الْحُسْنَى أُولَئِكَ عَنْهَا مُبْعَدُونَ21.101

আরবি উচ্চারণ ২১.১০১। ইন্নাল্লাযীনা সাবাক্বত্ লাহুম্ মিন্নাল্ হুস্না য় উলা-য়িকা ‘আন্হা-মুব্‘আদূ ন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.১০১ নিশ্চয় আমার পক্ষ থেকে যাদের জন্য পূর্বেই কল্যাণ নির্ধারিত রয়েছে তাদেরকে তা থেকে দূরে রাখা হবে।

لَا يَسْمَعُونَ حَسِيسَهَا وَهُمْ فِي مَا اشْتَهَتْ أَنْفُسُهُمْ خَالِدُونَ 21.102

আরবি উচ্চারণ ২১.১০২। লা-ইয়াস্মা‘ঊনা হাসীসাহা-অহুম্ ফী মাশ্তাহাত্ আন্ফুসুহুম্ খ-লিদূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.১০২ তারা জাহান্নামের ক্ষীণতম শব্দও শুনতে পাবে না। সেখানে তারা তাদের মনঃপুত বস্তুর মধ্যে চিরকাল থাকবে।

لَا يَحْزُنُهُمُ الْفَزَعُ الْأَكْبَرُ وَتَتَلَقَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ هَذَا يَوْمُكُمُ الَّذِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ21.103

আরবি উচ্চারণ ২১.১০৩। লা-ইয়াহ্যুনুহুমুল্ ফাযা‘ঊল্ আক্বারু অ তাতালাক্বক্ব- হুমুল্ মালা-য়িকাহ্; হা-যা ইয়াওমুকুমুল্লাযী কুন্তুম্ তূ ‘আদূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.১০৩ মহাভীতি তাদেরকে পেরেশান করবে না। আর ফেরেশতারা তাদেরকে অভ্যর্থনা জানিয়ে বলবে, ‘এটাই তোমাদের সেই দিন, যার ওয়াদা তোমাদেরকে দেয়া হয়েছিল’।

يَوْمَ نَطْوِي السَّمَاءَ كَطَيِّ السِّجِلِّ لِلْكُتُبِ كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيدُهُ وَعْدًا عَلَيْنَا إِنَّا كُنَّا فَاعِلِينَ21.104

আরবি উচ্চারণ ২১.১০৪। ইয়াওমা নাত্ব্ ওয়িস্ সামা-য়া কাত্বোইয়্যিস্ সিজ্বিল্লি লিল্ কুতুব্; কামা-বাদানা য় আউঅলা খল্ক্বিন্ নু‘ঈ দুহ্; অ’দান্ ‘আলাইনা-; ইন্না-কুন্না-ফা-‘ইলীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.১০৪ সে দিন আমি আসমানসমূহকে গুটিয়ে নেব, যেভাবে গুটিয়ে রাখা হয় লিখিত দলীল-পত্রাদি। যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম সেভাবেই পুনরায় সৃষ্টি করব। ওয়াদা পালন করা আমার কর্তব্য। নিশ্চয় আমি তা পালন করব।

وَلَقَدْ كَتَبْنَا فِي الزَّبُورِ مِنْ بَعْدِ الذِّكْرِ أَنَّ الْأَرْضَ يَرِثُهَا عِبَادِيَ الصَّالِحُونَ21.105

আরবি উচ্চারণ ২১.১০৫। অলাক্বদ্ কাতাব্না-ফিয্ যাবূরি মিম্ বা’দিয্ যিক্রি আন্নাল্ র্আদ্বোয়া ইয়ারিছুহা-‘ইবা-দিয়াছ্ ছোয়া-লিহূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.১০৫ আর উপদেশ দেয়ার পর আমি কিতাবে লিখে দিয়েছি যে, ‘আমার যোগ্যতর বান্দাগণই পৃথিবীর উত্তরাধিকারী হবে’।

إِنَّ فِي هَذَا لَبَلَاغًا لِقَوْمٍ عَابِدِينَ21.106

আরবি উচ্চারণ ২১.১০৬। ইন্না ফী হা-যা-লাবালা-গল্ লি ক্বওমিন্ ‘আ-বিদীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.১০৬ নিশ্চয় এতে ইবাদাতকারী কওমের জন্য উপদেশ বাণী রয়েছে।

وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ 21.107

আরবি উচ্চারণ ২১.১০৭। অমা য় র্আসাল্না-কা ইল্লা-রহ্মাতাল্ লিল্‘আ-লামীন্!

বাংলা অনুবাদ ২১.১০৭ আর আমি তো তোমাকে সৃষ্টিকুলের জন্য রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি।

قُلْ إِنَّمَا يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَهَلْ أَنْتُمْ مُسْلِمُونَ21.108

আরবি উচ্চারণ ২১.১০৮। কুল্ ইন্নামা-ইয়ূহা য় ইলাইয়্যা আন্নামা য় ইলা-হুকুম্ ইলা-হুঁও ওয়া-হিদুন্ ফাহাল্ আন্তুম্ মুস্লিমূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.১০৮ বল, ‘আমার প্রতি ওহী প্রেরণ করা হয় যে, তোমাদের ইলাহ একক ইলাহ। সুতরাং তোমরা কি আত্মসমর্পণকারী হবে’?

فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُلْ آذَنْتُكُمْ عَلَى سَوَاءٍ وَإِنْ أَدْرِي أَقَرِيبٌ أَمْ بَعِيدٌ مَا تُوعَدُونَ21.109

আরবি উচ্চারণ ২১.১০৯। ফাইন্ তাওয়াল্লাও ফাকুল্ আ-যান্তুকুম্ ‘আলা- সাওয়া-য়্; অইন্আদ্রী য় আক্বারীবুন্ আম্ বা‘ঈদুম্ মা-তূ ‘আদূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.১০৯ তবে তারা মুখ ফিরিয়ে নিলে তুমি বলে দিও, ‘আমি যথাযথভাবে তোমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছি। আর আমি জানি না তোমাদেরকে যে বিষয়ের ওয়াদা দেয়া হয়েছে তা কি নিকটবর্তী না দূরবর্তী’।

إِنَّهُ يَعْلَمُ الْجَهْرَ مِنَ الْقَوْلِ وَيَعْلَمُ مَا تَكْتُمُونَ21.110

আরবি উচ্চারণ ২১.১১০। ইন্নাহূ ইয়া’লামুল্ জ্বাহ্র মিনাল্ ক্বওলি অ ইয়া’লামু মা-তাক্তুমূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.১১০ তিনি প্রকাশ্য কথা সম্পর্কেও জানেন এবং তোমরা যা গোপন কর তাও জানেন।

وَإِنْ أَدْرِي لَعَلَّهُ فِتْنَةٌ لَكُمْ وَمَتَاعٌ إِلَى حِينٍ21.111

আরবি উচ্চারণ ২১.১১১। অ ইন্ আদ্রী লা‘আল্লাহূ ফিত্নাতুল্লাকুম্ অ মাতা‘ঊন্ ইলা-হীন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.১১১ আর আমি জানি না হয়তো তা তোমাদের জন্য এক পরীক্ষা কিছু কালের জন্য উপভোগের সুযোগ।

قَالَ رَبِّ احْكم ُ بِالْحَقِّ وَرَبُّنَا الرَّحْمَنُ الْمُسْتَعَانُ عَلَى مَا تَصِفُون 21.112

আরবি উচ্চারণ ২১.১১২। ক্ব-লা রব্বিহ্ কুম্ বিল্হাক্ব; অ রব্বুর্না রহ্মা-নুল্ মুসতা‘আ- নু ‘আলা-মা-তাছিফূন্।

বাংলা অনুবাদ ২১.১১২ রাসূল বলেছিল, ‘হে আমার রব, আপনি ন্যায়সঙ্গতভাবে ফয়সালা করে দিন’। আর আমাদের রব তো পরম করুণাময়। তোমরা যা বলছ সে বিষয়ে তিনিই একমাত্র সহায়স্থল।

আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ

    প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে ইমেল : info@banglanewsexpress.com

    আমরা আছি নিচের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে ও

    Leave a Comment