ব্যবসায় পরিচালনায় ব্যবস্থাপনার কার্যাবলীর ধারণা বিশ্লেষণ, ব্যবস্থাপনার ধারণা ব্যখ্যা করতে পারবাে, ব্যবস্থাপনার কার্যাবলী বর্ণনা করতে পারবাে, একজন উত্তম ব্যবস্থাপকের গুণাবলী ব্যাখ্যা করতে পারবাে।

ব্যবসায় পরিচালনায় ব্যবস্থাপনার কার্যাবলীর ধারণা বিশ্লেষণ, ব্যবস্থাপনার ধারণা ব্যখ্যা করতে পারবাে, ব্যবস্থাপনার কার্যাবলী বর্ণনা করতে পারবাে, একজন উত্তম ব্যবস্থাপকের গুণাবলী ব্যাখ্যা করতে পারবাে।

এইচ এস সি পরীক্ষা প্রস্তুতি শিক্ষা
শেয়ার করুন:

অ্যাসাইনমেন্ট:  ব্যবসায় পরিচালনায় ব্যবস্থাপনার কার্যাবলীর ধারণা বিশ্লেষণ।

শিখনফল: 

  • ব্যবস্থাপনার ধারণা ব্যখ্যা করতে পারবাে। 
  • ব্যবস্থাপনার কার্যাবলী বর্ণনা করতে পারবাে। 
  • একজন উত্তম ব্যবস্থাপকের গুণাবলী ব্যাখ্যা করতে পারবাে।

নির্দেশনা :

  • ব্যবস্থাপনার ধারণা ব্যখ্যা করতে হবে।
  • ব্যবস্থাপনার কার্যাবলী বা ব্যবস্থাপনা চক্র বিশ্লেষণ করতে হবে। 
  • একজন দক্ষ ব্যবস্থাপকের কি কি গুণ থাকা দরকার তা ব্যাখ্যা করতে হবে। 
  • ব্যবসায় ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে হবে।

উত্তর সমূহ:

এসাইনমেন্ট সম্পর্কে যে কোন প্রশ্ন আপনার মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে লাইক পেজ : Like Page ইমেল : assignment@banglanewsexpress.com

১. ব্যবস্থাপনার ধারণা ব্যখ্যা

মানব সভ্যতার শুরু হতে ব্যবস্থাপনা বিভিন্ন মানব সংগঠনে বিস্তৃত হয়ে ছিল। 


প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য ব্যবস্থাপক যে সকল কার্যাবলী (পরিকল্পনা, সংগঠন, কর্মীসংস্থান, নেতৃত্ব, নিয়ন্ত্রণ) সুষ্ঠুভাব সম্পাদন করে থাকে তার সমষ্টিকে ব্যবস্থাপনা বলে।


ব্যবস্থাপনা বা Management ইটালীয় শব্দ ‘Maneggiare’ থেকে এসেছে। যার শাব্দিক অর্থ হল পরিচালনা করা (To handle)। কিন্তু কালের বিবর্তনে এটি মূলত মানব জাতিকে পরিচালনা অর্থে ব্যবহৃত হতে শুরু করেছে।
ব্যবস্থাপনাকে এক কথায় প্রকাশ করা কঠিন। 
বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পন্ডিত ব্যক্তি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। নিচে কয়েকটি সংজ্ঞা দেয়া হলাে–

আধুনিক ব্যবস্থাপনার জনক Henry Fayol এর মতে “ব্যবস্থাপনা হলাে পূর্বানুমান ও পরিকল্পনা, সংগঠন, নির্দেশনা, সমন্বয় সাধন এবং নিয়ন্ত্রণ করা। 
Terry & Franklin- এর মতে “ব্যবস্থাপনা হলাে এমন একটি স্বতন্ত্র প্রক্রিয়া যা মানুষ ও অন্যান্য সম্পদ সমূহের সুষ্ঠু ব্যবহারের লক্ষ্যে উদ্দেশ্য নির্ধারণ ও তা অর্জনের জন্যে পরিকল্পনা, সংগঠন, উদ্বুদ্ধ করন ও নিয়ন্ত্রণ কার্যের সাথে সম্পৃক্ত।”
Harold Koontz- এর মতে, “ব্যবস্থাপনা হচ্ছে এমন একটি পরিবেশ তৈরী করা ও সংরক্ষণ করার প্রক্রিয়া যাতে দলবদ্ধ ব্যক্তিবর্গ দক্ষতার সাথে অভিষ্ট লক্ষে উপনীতি হয়।”

উপরের আলােচনার থেকে সহজেই বলা যায় যে, ব্যবস্থাপনা হচ্ছে এমন একটি বিজ্ঞান সম্মত জ্ঞান যা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়ােজনীয় উপকরণ একত্রিকরণ ও এগুলাের পূর্ণ ব্যবহারের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন, সংগঠন, কর্মী সংস্থান, নির্দেশন, প্রেষণা ও নিয়ন্ত্রণমূলক কাজ।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল  কপিরাইট: (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

২.ব্যবস্থাপনার কার্যাবলী বা ব্যবস্থাপনা চক্র বিশ্লেষণ

পরিকল্পনা(Planning) – পরিকল্পনা ব্যবস্থাপনার একটি মৌলিক এবং প্রাথমিক কাজ। ভবিষ্যত কার্যবলী সম্পাদনের জন্য অগ্রিম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাকে পরিকল্পনা বলে। যে কোন কার্য সম্পাদনের পূর্বে – সংশ্লিষ্ট যাবতীয় বিষয়াদির পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হয়। কোনদিন, কোথায়, কোনকার্য, কার দ্বারা, কিভাবে সম্পন্ন হবে তা স্থির করাই হচ্ছে পরিকল্পনার উদ্দেশ্য।

প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যবলী নির্ধারণ এবং এদের বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কৌশল, নীতি, পলিসি, কর্মসূচী ইত্যাদি নির্ধারণই পরিকল্পনার অন্তর্ভূক্ত।সাধারণত অতীত অভিজ্ঞতা, বর্তমান পারিপার্শিক অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শক্তি, সামর্থ্য, দুর্বলতা ইত্যাদি উপর ভিত্তি করেই পরিকল্পনা প্রণীত হয়। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার ন্যায় পরিকল্পনা প্রণযনে বিভিন্ন বিকল্পসমূহ হতে সর্বোত্তমটি বেছে নেয়া হয়। মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদির পরিকল্পনা প্রনয়ন সর্বোচ্চস্তরে হয়ে থাকে। এদের আলোকে মধ্যস্তর ও নিম্নস্তরে ব্যবস্থাপকগণ ও স্ব স্ব পরিকল্পনা প্রনয়ন করে থাকেন।

সংগঠন (Organising) –  লক্ষ্য অর্জনের জন্য সংগ্রহীত উপাদান ও মানবশক্তির সুশৃংখল বিন্যাসকে সংগঠন বলে। সংগঠন হচ্ছে একটি কাঠামো বিশেষ।সংগঠনের আওতায় কর্মিদের মধ্যে দায়িত্ব  ও কর্তব্য সুনির্দিষ্টভাবে বন্টন করে দেয়া হয়। ফলে অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য কর্মিরা সহজে অনুধাবন করে কার্য সম্পাদন করতে পারে। সংগঠন হলো অভীষ্ঠ্য লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় জনশক্তি, জিনিশপত্র, যন্ত্রপাতি, সাজসরঞ্জাম ও কার্যক্ষেত্রে সুসংবদ্ধ সমাহার।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল  কপিরাইট: (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

কর্মসংস্থান (Staffing) – সংগঠন কাঠামোতে মানবশক্তির অভাব পূরণের জন্য যে ব্যবস্থাপকীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়, তাকে কর্ম  সংস্থান বলে। এক্ষত্রে ব্যবস্থাপনা কার্য বিবরণ অনুযায়ী বিভিন্ন পদে কর্মি নিয়োগ, তাদের কাজের মূল্যায়ন, বেতন ও মজুরী নির্ধারণ ইত্যাদি কার্য সম্পাদন করে থাকে। প্রয়োজনীয় কর্মি নিয়োগ এব নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মিদের যতাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ্য ও অভিজ্ঞ করে তোলা না হলে ব্যবস্থাপকীয় কার্যাবলী পালনকরা সম্ভবপর হয় না। তাই এই  বাস্তবায়নে ব্যবস্থাপনার সাংগাঠনিক কাঠামো প্রনয়নের পর কর্মি সংস্থাপনের ব্যবস্থা করে থাকেন।

নির্দেশনা  (Direction) – পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংগঠন কাঠামোর বিভিন্ন স্তরে নিয়োজিত কর্মিদেরকে যে আদেশ, উপদেশ বা পরামর্শ প্রদান করা হয়, তাকেই নির্দেশনা বলে। এটি এমন একটি সঞ্জিবনী শক্তি যার সাহায্যে ব্যবস্থাপক কি চান, তিনি কর্মিদের কাছ হতে কখন, কিভাবে, কি প্রত্যাশা করেন ইত্যাদি যথাযথভাবে তাদেরকে অবহিত করেন। কর্মিদের বোধগম্যতার জন্য সহজ ও সরল ভাষায় নির্দেশনার বিশদ ব্যাখ্যা প্রদান করতে হয়। কি করতে হবে- তা কর্মিদের অবহিত করা এবং তারা সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ সম্পাদন করছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করাই নির্দেশনা

সমন্বয় সাধন (Coordination) – সমন্বয় দলগত সমঝোতার একটি মাধ্যম,প্রতিষ্ঠানের অন্তর্গত বিভিন্ন ব্যক্তি, দল ও বিভাগসমূহকে প্রতিষ্ঠানেরর মূল উদ্দেশ্যের দিকে লক্ষ্য রেখে তাদের স্ব স্ব কার্যাবলী সম্পাদন করতে হয়। যেহেতু সকলের মূল উদ্দেশ্যে এক ও অভিন্ন তা্ই তাদের কাজের মধ্যে সমন্বয় বা ঐক্য স্থাপন করা অপরিহার্য। অন্যথায় উদ্দেশ্যসমূহের বাস্তবায়ন ব্যহত হয়।  ফলে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা সমন্বয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন বিভাগ ও বিভাগে নিয়োজিত কর্মিদের কাজের মধ্যে সংহতিও সামঞ্জস্য বিদান করে থাকে। 

প্রেষণা সৃষ্টি (Motivation) – প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কর্মিদের মধ্যে কাজ করার উৎসাহ, উদ্দীপনা ও পরিতৃপ্তি বিধানের ব্যবস্থাপকীয় কার্যকে প্রেষণা বলা হয়। প্রেষণা হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যা কাংখিত লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য কাজ সম্পাদনের প্রতি কর্মিদের আগ্রহ উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। প্রেষণা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ব্যবস্থাপনা বিভিন্ন ধরণের আর্থিক ও কল্যাণমূলক কর্মসূচী গ্রহণ করে। এদের মধ্যে উপযুক্ত পারিশ্রমিক প্রদান, চাকুরির নিরাপত্তা বিধান, আনুষঙ্গিক ভাতাদি, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেয়ার সূযোগ, আমোদ প্রমোদরে ব্যবস্থা ইত্যাদি অন্যতম। প্রেষণার ফলে কর্মিদের কাজে আগ্রহ, অনুপ্রেরণা ও মনোবল বৃদ্ধি পায়। ফলে প্রতিষ্ঠানের কাজের মান ও দক্ষতা বৃদ্ধিসহ কর্মিদের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি গড়ে উঠে।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল  কপিরাইট: (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

নিয়ন্ত্রণ (Controling) – ব্যবস্থাপনার মৌলিক কাজগুলোর মধ্যে নিয়ন্ত্রন হচ্ছে সর্বশেষ ধাপ। পরিকল্পনা মাফিক প্রতিষ্ঠানের গুণগত ও পরিমানগত যাবতীয় কার্যাবলীর সম্পাদনের কাজকে নিয়ন্ত্রন বলা হয়। নিয়্ন্ত্রণ উদ্দেশ্য  অর্জনকে সুনিশ্চিত করে। নিয়ন্ত্রণ হলো গৃহীত পরিকল্পনা, জারিকৃত নির্দেশনা ও প্রতিষ্ঠিত নীতি অনুযায়ী কার্য পরিচালিত হচ্ছে কিনা, তার পরীক্ষা করা।বিদ্যালয় কোন বানিজ্যিক বা মুনাফাভোগী প্রতিষ্ঠান নয়, বরং সামজিক সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে এই প্রতিষ্ঠানটি সৃষ্টি হয়। তাই সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনার সাথে কেবল পেশাগত লোকজনই জড়িত নয়। একটি বিদ্যালয়ের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য প্রধানশিক্ষক, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি,

শিক্ষক অভিবাবক কমিটি, স্বানীয় সরকার, শিক্ষা বিভাগসহ নানাধরণের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পর্কিত থাকতে হয়। তাই বিদ্যালয়ের সফলতার জন্য এর সাথে সম্পর্কিত সকল অংশীজনের প্রত্যাশা ও আকাংখাকে ধারণ করে এর সাথে পেশাগত ধ্যান-ধারণার সমন্বয় সাধন করা প্রয়োজন। তবেই ‍বিদ্যালয় তার অভীষ্ঠ্ লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে।

৩.একজন দক্ষ ব্যবস্থাপকের কি কি গুণ থাকা দরকার তা ব্যাখ্যা

সফল ব্যবস্থাপক বিভিন্ন প্রতিভার অধিকারী হয়ে থাকেন। কোম্পানীর প্রায় প্রতিটি পদক্ষেপে তাকে পদে পদে নানা ধরনের ভূমিকা গ্রহণ করতে হয়। তাকে নানা গুণে গুণানীত্ব হতে হয়। এখানে আমরা একজন মহান ব্যবস্থাপকের কি কি গুণাবলী থাকা প্রয়োজন তা নিয়ে আলোচনা করব। নিচে তা বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

১. সৃজনশীলতা

সৃজনশীলতা দক্ষতাকে পৃথক ভাবে উপস্থাপন করতে সহায়তা করে থাকে। সৃজনশীলতা হলো এক ধরনের উদ্দীপনা যা কোম্পানীর বিভিন্ন প্রকল্প গুলোকে এগিয়ে নিতে ও কর্মীদের মনোযোগ আর্কষণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

একজন সফল ব্যবস্থাপক সৃজনশীল দক্ষতার সমন্বয়ে বিভিন্ন পৃথক কর্মকে একত্রিত করে যে কোন প্রকল্পকে সফল ভাবে সম্পন্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন।

২. কাঠামো

একজন ব্যবস্থাপককে সর্বদা সীমাবদ্ধ ও সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে কাজ করতে হয়। আর একজন মহান ব্যবস্থাপক ভালো করেই জানেন কিভাবে কাঠামোর মধ্যে থেকে কাজ করতে হয়।

৩. স্বজ্ঞা

স্বজ্ঞা হলো যুক্তিসঙ্গত প্রক্রিয়া ব্যবহার করা ছাড়াই জানতে পারার ক্ষমতা। এটি হলো মানসিক বুদ্ধিমত্তার ভিত্তিপ্রস্তর। এর মাধ্যমে মানুষ অন্যদের অনুভূতি ও চিন্তা সম্পর্কে বুঝতে পারে। আর শক্তিশালী স্বজ্ঞাই একজন শক্তিশালী ব্যবস্থাপক তৈরি করতে পারে।

৪. জ্ঞান

একজন ব্যবস্থাপককে কোম্পানীর বিভিন্ন বড় বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। তাই তার পুঙ্খানুপুঙ্খ জ্ঞান থাকা আবশ্যক। জ্ঞানের ভিত্তিটি এতটাই সংহত হওয়া প্রয়োজন যেন তারা স্বচ্ছ ভাবে কর্মীদের মনোযোগ আর্কষণ করতে পারে। পাশাপাশি তাদেরকে পরবর্তীতে আরো কি কি শিখতে হবে তা যেন জানতে পারে।

৫. প্রতিশ্রুতি

একজন ব্যবস্থাপক কোম্পানীর যে কোন প্রকল্প ও তার টিমের সকল সদস্যের সাফল্যের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি তার টিমের দৃষ্টি আর্কষণের চেষ্টা করে থাকেন এবং টিমের শেষ ফলাফলের জন্য সামনের দিকে এগিয়ে যান।

৬. মানবিক

কর্মীরা মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন নেতাদের মূল্যায়ন করে থাকেন। আর সেরা নেতারা অন্যদের মানদন্ডের সাথে মানিয়ে নিতে মানবিক আচরণ করে থাকেন। পাশাপাশি অন্যদের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে বিনয়ী হয়ে থাকেন।

৭. বহুমুখীতা

বহুমুখীতা একজন মহান ব্যবস্থাপকের মূল্যবান গুণ গুলোর একটি। বহুমুখীতা বলতে ব্যক্তির উন্মুক্ততাকে বুঝানো হয়েছে। এর ফলে একজন ব্যবস্থাপক যে কোন প্রয়োজনে যে কোন বাধাকে তুচ্ছ মনে করে সামনে এগিয়ে যেতে পারেন।

৮. উজ্জ্বলতা

একজন সফল ব্যবস্থাপক শুধুমাএ অসামান্য ফলাফলই অর্জন করেন না, তার পুরো প্রক্রিয়াটিই অত্যন্ত মজাদার হয়ে থাকে। একজন ব্যবস্থাপক কোম্পানীর যে কোন প্রকল্পকে কর্মীদের সামনে উজ্জ্বল ভাবে উপস্থাপন করতে পারেন। যার ফলে প্রকল্পটি সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সহজ হয়।

৯. শৃঙ্খলা

শৃঙ্খলা যে কোন ব্যবস্থাপকের মহান গুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণ গুলোর একটি। কোম্পানীর যে কোন প্রকল্প নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হলে শৃঙ্খলার কোন বিকল্প নেই।

১০. বড় চিত্র, ছোট পদক্ষেপ

কর্মীদের মনোযোগ আর্কষণের জন্য মহান ব্যবস্থাপকরা ছোট ছোট কর্ম গুলোকেও বড় করে উপস্থাপন করে থাকেন। যেন কর্মীরা কাজটিকে আন্তরিক ভাবে গ্রহণ করে এবং যথা সময়ে সম্পন্ন করতে পারে।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল  কপিরাইট: (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

৪. ব্যবসায় ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামো খুবই নাজুক। স্বাধীনতা যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বহু শিল্প-কারখানা, ব্যাংক-বীমা ইত্যাদি। স্বাধীনতা-উত্তরকালেও পরিলক্ষিত হয়নি অর্থনীতি তথা শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রে কোন বলিষ্ঠ উদ্যোগ। ফলে শিল্প ক্ষেত্রে দেশটি অনুন্নতই থেকে যায়।

সরকারি বা বেসরকারি কোন খাতেই উল্লেখযোগ্য কোন বৃহদায়তন শিল্প গড়ে উঠেনি। এতদ্সত্ত্বেও বিশ্ব বাজারের চাহিদামাফিক যে তৈরি পোশাক শিল্প গড়ে উঠেছে যা ব্যাংক-বীমাসহ যে সকল কারবারি প্রতিষ্ঠান আমাদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিধান করছে সেগুলোতে ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব বা ভূমিকা অস্বীকার করার উপায় নেই। দেশী বিদেশী ডিগ্রী ও প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক দক্ষ ব্যবস্থাপক এ সকল প্রতিষ্ঠানের শ্রীবৃদ্ধিতে নিয়োজিত। এ পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব নিচে আলোচনা করা হলো ঃ

১। শিল্পায়ন ঃ শিল্পায়ন অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি বড় মাপকাঠি। এ কারণেই যে দেশ শিল্পে উন্নত সে দেশ অর্থনৈতিক দিক থেকে অবশ্যই উন্নত। অপরপক্ষে শিল্পে পশ্চাৎপদ দেশের অর্থনীতিও পশ্চাৎপদ। তবে শিল্পায়নের গতি ধরে রাখার জন্য ব্যবস্থাপনার চেয়ে উত্তম হাতিয়ার আর নেই। ব্যবস্থাপনায় পশ্চাৎপদ বলেই সৌদি আরবের মত তেল সমৃদ্ধ দেশেও শিল্পায়ন সম্ভব হয়নি। আমাদের শিল্পায়নও ব্যবস্থাপনার উপরই নির্ভরশীল।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

২। সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিতকরণ ঃ মানব সম্পদ ও বস্তুগত সম্পদের সমন¦য়েই গড়ে উঠে কারখানা, গড়ে উঠে দেশের অর্থনীতি। আমাদের এ সম্পদের যোগান যেহেতু সীমাবদ্ধ তাই এর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিতকরণে ব্যবস্থাপনার ভূমিকাই গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখতে হবে, জাপানের ব্যবস্থাপনা সে দেশের অতি সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে এক অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছে।

৩। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ঃ দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ব্যবস্থাপনার একটি বড় দায়িত্ব। আমাদের শিল্প কারখানাগুলোর উৎপাদিকা শক্তি শুধু যে বিশ্ব মানের তুলনায় খুবই কম তাই নয়, ক্রম হ্রাসমানও বটে। এ পরিস্থিতিতে আমাদের ব্যবস্থাপনার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জই হচ্ছে উৎপাদিকা শক্তি বৃদ্ধি এবং এর উপরেই মূলত নির্ভর করছে দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ।

৪। সামাজিক অগ্রগতিতে অবদান ঃ যে কোন প্রতিষ্ঠানেরই একটি সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে। আর এ দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করে ব্যবস্থাপনা। আধুনিক ব্যবস্থাপনা তাই শুধু ব্যবস্থাপক বা মালিক শ্রেণীর স্বার্থই দেখে না। শ্রমিক, গ্রাহক, সরবরাহকারী, প্রতিবেশী, সরকার এ সকল পক্ষের প্রতিই যথাযথ দৃষ্টি দিয়ে থাকে। বাংলাদেশের সামাজিক অগ্রগতি যদিও দুঃসাধ্য বলেই মনে হয়, দক্ষ ব্যবস্থাপক শ্রেণীই পারে এর চাকা সচল করতে। দরিদ্র জনসাধারণকে দিতে পারে আশার আলো।

৫। নৈতিকতার মান উন্নয়ন ঃ নৈতিকতার অবক্ষয় যেন আমাদের সামাজিক বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে। এ ব্যাধি দূরীকরণে ব্যবস্থাপনাকে গ্রহণ করতে হবে এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। শ্রমিক, মালিক, প্রতিবেশী বা সরকার কেউ যাতে বঞ্চনার শিকারে পরিণত না হয় তা ব্যবস্থাপনাকেই নিশ্চিত করতে হবে।

৬। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেকার সমস্যা হ্রাস ঃ কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাংলাদেশ সরকারের একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব। তবে সরকার এ দায়িত্ব পালনে সফলকাম হয়নি। দেশে বেকার সমস্যা তাই প্রকট রূপ ধারণ করছে। এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে ব্যবস্থাপনাকে পালন করতে হবে এক অগ্রণী ভূমিকা। দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা দেশী-বিদেশী পুঁজি-বিনিয়োগ উৎসাহ যোগানের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে যে পরোক্ষ অবদান রাখতে পারে তাই বেকার সমস্যা দূরীকরণে পাবে প্রত্যক্ষ অবদান রাখতে।

৭। জীবনধারণের মান উন্নয়ন ঃ অর্থনৈতিক দিক থেকে অতি কম উন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জনগণের জীবনযাত্রার মানও খুবই অনুন্নত। মাথাপিছু আয় বা ক্যালরি ভোগের পরিমাপে আমাদের অবস্থান পৃথিবীর সবচেয়ে দরিদ্র কয়েকটি দেশের মধ্যে। এ লজ্জাকর অবস্থান থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে ব্যবস্থাপনাকে দক্ষ করে গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই।

৮। অপচয় হ্রাস ঃ আমাদের অর্থনীতির একটি বড় বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে অপচয়। একদিকে দারিদ্র্য এবং অন্যদিকে অপচয়। এ বৈপরীত্য দূর করার মূল দায়িত্ব ব্যবস্থাপনার উপরেই বর্তায়। পরিবার থেকে শুরু করে কারখানা, অফিস-আদালত সর্বত্রই এ দায়িত্ব বিস্তৃত।

৯। ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণ ঃ ন্যায্য মূল্যে মানসম্পন্ন পণ্য / সেবা সরবরাহের মাধ্যমে ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণ সম্ভব। ব্যবস্থাপনাকে যত্নসহকারে এ দায়িত্বটিও পালন করতে হবে। অন্যথায় ভোক্তা হিসেবে জনগণের দুর্দশা বেড়েই চলবে।

১০। শ্রমিক-ব্যবস্থাপনা সম্পর্ক উন্নয়ন ঃ ধর্মঘট ও তালাবদ্ধজনিত কারণে যাতে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে ব্যাপারে সকল প্রতিষ্ঠানের সকল স্তরের ব্যবস্থাপনাকে শ্রমিক-ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে উন্নয়নে সতর্ক দৃষ্টি দিতে হবে।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

এসাইনমেন্ট সম্পর্কে যে কোন প্রশ্ন আপনার মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে লাইক পেজ : Like Page ইমেল : assignment@banglanewsexpress.com

  • ২০২১ সালের SSC পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ২০২১ সালের HSC পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ২০২১ সালের ৯ম/১০ শ্রেণি ভোকেশনাল পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ২০২১ সালের HSC (বিএম-ভোকে- ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স) ১১শ ও ১২শ শ্রেণির অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ২০২২ সালের ১০ম শ্রেণীর পরীক্ষার্থীদের SSC ও দাখিল এসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ২০২২ সালের ১১ম -১২ম শ্রেণীর পরীক্ষার্থীদের HSC ও Alim এসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ৬ষ্ঠ শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১ লিংক
  • ৭ম শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১ লিংক
  • ৮ম শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১ লিংক
  • ৯ম শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১ লিংক

এখানে সকল প্রকাশ শিক্ষা বিষয় তথ্য ও সাজেশন পেতে আমাদের সাথে থাকুন ।

আমাদের YouTube এবং Like Page

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *