Subscribe Now!
বাংলানিউজ এক্সপ্রেসের এক্সক্লুসিভ সব আপডেট সবার আগে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।
My Ads
দায়ের প্রকারভেদ আলোচনা কর
এইচএসসি হিসাববিজ্ঞান পরীক্ষার জন্য “দায়ের প্রকারভেদ” (Classification of Liabilities) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক ও গাণিতিক বিষয়। আর্থিক অবস্থার বিবরণী (Balance Sheet) প্রস্তুত করার সময় এবং হিসাববিজ্ঞান পরিচিতি অধ্যায়ে এটি প্রায়ই পরীক্ষায় আসে।
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মোট সম্পদের ওপর তৃতীয় পক্ষের যে দাবি বা অধিকার থাকে, তাকেই দায় (Liabilities) বলে। অর্থাৎ, ব্যবসায়ের অন্য কারও কাছ থেকে নেওয়া ঋণ বা সুযোগ, যা ভবিষ্যতে পরিশোধ করতে হবে।
পরীক্ষার খাতায় যেভাবে লিখলে পূর্ণ নম্বর পাওয়া যাবে, সেই অনুযায়ী দায়ের প্রকারভেদ নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
দায়ের প্রধান শ্রেণিবিন্যাস
হিসাববিজ্ঞান নীতিমালা অনুযায়ী, পরিশোধের সময়সীমা বা মেয়াদের ভিত্তিতে দায়কে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়:
১. চলতি দায় ২. দীর্ঘমেয়াদি ৩. সম্ভাব্য দায়
১. চলতি দায় বা স্বল্পমেয়াদি দায় (Current Liabilities)
যেসব দায় বা দেনা সাধারণত একটি হিসাব বছর বা এক বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হয়, সেগুলোকে চলতি দায় বলে। ব্যবসায়ের দৈনন্দিন পরিচালন কার্যক্রম থেকে এই দায়ের সৃষ্টি হয়।
- বৈশিষ্ট্য: এগুলো খুব দ্রুত পরিশোধ করতে হয় এবং সাধারণত চলতি সম্পদ দিয়ে এগুলো মেটানো হয়।
- প্রধান উদাহরণসমূহ (যা অঙ্কে সবচেয়ে বেশি থাকে):
- প্রদেয় হিসাব / পাওনাদার (Accounts Payable): বাকিতে পণ্য ক্রয়ের ফলে এর সৃষ্টি হয়।
- প্রদেয় বিল (Notes Payable): ক্রয়ের বিপরীতে কোনো বিল বা নোট সই করে দিলে তা প্রদেয় বিল।
- বকেয়া খরচসমূহ (Outstanding Expenses): যেমন— বকেয়া বেতন, বকেয়া ভাড়া, বকেয়া মজুরি ইত্যাদি (সেবা নেওয়া হয়েছে কিন্তু টাকা দেওয়া হয়নি)।
- অনুপার্জিত আয় বা অগ্রিম আয় (Unearned Revenue): কাজ বা সেবা দেওয়ার আগেই যদি গ্রাহকের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নেওয়া হয়।
- ব্যাংক জমাতিরিক্ত (Bank Overdraft): ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা টাকার চেয়ে বেশি টাকা উত্তোলন করলে।
২. দীর্ঘমেয়াদি দায় (Long-term Liabilities)
যেসব দায় বা ঋণ পরিশোধের জন্য ব্যবসায়ের হাতে এক বছরের বেশি সময় (সাধারণত ৫, ১০ বা ২০ বছর) থাকে, সেগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি দায় বলে। স্থায়ী সম্পদ ক্রয়ের জন্য সাধারণত এই ধরণের দায় নেওয়া হয়।
- বৈশিষ্ট্য: এর ওপর নিয়মিত নির্দিষ্ট হারে সুদ প্রদান করতে হয়।
- প্রধান উদাহরণসমূহ:
- ব্যাংক ঋণ (Bank Loan): ব্যাংক থেকে দীর্ঘ মেয়াদের জন্য গৃহীত ঋণ।
- বন্ধকী ঋণ (Mortgage Loan): কোনো স্থায়ী সম্পদ (যেমন: জমি বা দালান) জামানত রেখে ঋণ নিলে।
- ঋণপত্র বা ডিবেঞ্চার (Debentures/Bonds): বড় কোম্পানিগুলো জনসাধারণের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নেওয়ার জন্য যে দলিল ইস্যু করে।
আরি পড়ুন ›ইজারাদাতার অবশিষ্ট মূল্য সম্পর্কে আলোচনা করইজারাদাতার অবশিষ্ট মূল্য সম্পর্কে আলোচনা কর ইজারাদাতার অবশিষ্ট মূল্য (Residual Value) বলতে ইজারার মেয়াদ…
আরি পড়ুন ›সুইফট কিভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লেনদেন কার্যক্রম সহযোগিতা করেসুইফট কিভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লেনদেন কার্যক্রম সহযোগিতা করে SWIFT (Society for Worldwide Interbank Financial…
আরি পড়ুন ›(2a + 7)² + 2(2a + 7) (2a – 7) + (2a – 7)² সরল কর, (3x + 2y)² + 2(3x + 2y) (3x – 2y) + (3x – 2y)² সরল কর, (7p + 3r – 5x)² – 2 (7p + 3r – 5x) (8p – 4r – 5x) + (8p – 4r – 5x)² সরল কর(2a + 7)² + 2(2a + 7) (2a - 7) + (2a - 7)²…
My Ads
৩. সম্ভাব্য দায় (Contingent Liabilities)
যেসব দায় বর্তমানে নিশ্চিত নয়, কিন্তু ভবিষ্যতের কোনো একটি নির্দিষ্ট ঘটনা ঘটা বা না ঘটার ওপর নির্ভর করে দায় হিসেবে সৃষ্টি হতেও পারে, আবার নাও হতে পারে—সেগুলোকে সম্ভাব্য দায় বলে।
- বৈশিষ্ট্য: এগুলোকে আর্থিক অবস্থার বিবরণীর ভেতরে মূল অঙ্কে যোগ করা হয় না। তবে হিসাবের স্বচ্ছতার জন্য বিবরণীর নিচে টিকা (Footnote) হিসেবে লিখে দেওয়া হয়।
- প্রধান উদাহরণসমূহ:
- আদালতে বিচারাধীন কোনো মামলার ক্ষতিপূরণ (যদি কোম্পানি মামলায় হেরে যায়, তবেই এটি দায় হবে)।
- বাট্টাকৃতপ্রাপ্য বিলের দায় (প্রাপ্য বিল ব্যাংকে ভাঙানোর পর মূল দেনাদার টাকা না দিলে ব্যাংকে কোম্পানিকে টাকা দিতে হবে)।
অভ্যন্তরীণ বনাম বাহ্যিক দায় (আরেকটি দৃষ্টিকোণ)
পরীক্ষায় মাঝে মাঝে উৎসের ভিত্তিতেও দায় জানতে চাওয়া হয়:
- অভ্যন্তরীণ দায় (Internal Liabilities): ব্যবসায়ের মালিকের প্রতি ব্যবসায়ের যে দায়। যেমন: মূলধন (Capital) এবং অবন্টিত মুনাফা। (তবে হিসাববিজ্ঞানের আধুনিক নিয়মে একে দায় না বলে ‘মালিকানা স্বত্ব’ বলা হয়)।
- বাহ্যিক দায় (External Liabilities): মালিক ছাড়া বাইরের যেকোনো তৃতীয় পক্ষের পাওনা। যেমন: ব্যাংক ঋণ, পাওনাদার ইত্যাদি। মূলত বাহ্যিক দায়কেই হিসাববিজ্ঞানে আসল ‘দায়’ L হিসেবে গণ্য করা হয়।
পরীক্ষার জন্য বিশেষ টিপস:
১. হিসাব সমীকরণ: হিসাব সমীকরণ A = L + OE -তে L বলতে মূলত বাহ্যিক দায়কে বোঝায়।
২. চলতি অনুপাত (Current Ratio): গাণিতিক সমস্যায় চলতি অনুপাত (চলতি সম্পদ/চলতি দায় )নির্ণয়ের সময় উপরের চলতি দায়ের তালিকাটি খুব কাজে দেবে।
সৃজনশীল প্রশ্নের উদ্দীপকে (Stem) অনেক সময় বেশ কয়েকটি হিসাবের নাম দিয়ে বলতে পারে—”চলতি দায়ের পরিমাণ নির্ণয় করো”। তখন কেবল এক বছরের মধ্যে পরিশোধযোগ্য হিসাবগুলো (যেমন: পাওনাদার, বকেয়া খরচ) যোগ করে দিলেই উত্তর মিলে যাবে।
এই প্রকারভেদগুলোর মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট হিসাব (যেমন: অনুপার্জিত আয় কেন দায় হলো) বুঝতে কি আপনার কোনো সমস্যা হচ্ছে?
My Ads
একাডেমিক শিক্ষা বিষয়ক লিখিত প্রশ্ন সমাধান পেতে ক্লিক করুন।
আর্টিকেলের শেষ কথাঃ দায়ের প্রকারভেদ আলোচনা কর, দায়ের কয় প্রকারভেদ আলোচনা কর, দায়ের প্রকারভেদ ,দায় কাকে বলে
বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস সর্বশেষ আপডেট পেতে Google News অনুসরণ করুন
আরো পড়ুন:
- মজুত মূল্যায়ন পদ্ধতি আলোচনা কর,মজুত পণ্য মূল্যায়ন কী? মজুত পণ্য মূল্যায়নের বিভিন্ন পদ্ধতিসমূহ বিস্তারিত আলোচনা করো।
- হিসাব পদ্ধতির গঠন প্রক্রিয়া আলোচনা কর
- আর্থিক বিবরণীর বিভিন্ন উপাদানসমূহ সংক্ষেপে আলোচনা কর।
- কার্যপত্র ও উদ্বৃত্তপত্রের মধ্যে পার্থক্যসমূহ আলোচনা কর, কার্যপত্র ও উদ্বৃত্তপত্রের মাঝের অমিলগুলো লেখ।
- নগদ ভিত্তিতে হিসাবরক্ষণের ও বকেয়া ভিত্তিতে হিসাবরক্ষণ পার্থক্য দেখাও
My Ads