কুরবানির পশুর চামড়া খাওয়া কি হালাল না হারাম? ,গরুর চামড়া খাওয়া হালাল নাকি হারাম,কোরবানির পশুর চামড়া খাওয়া যাবেকি, কোরবানীর গরুর চামড়া খাওয়া জায়েজ কি?,গরুর চামড়া খাওয়া জায়েজ কিনা,গরুর চামড়া খাওয়া কি জায়েজ,গরুর চামড়া খাওয়া হারাম না হালাল,গরুর চামড়া খাওয়ার নিয়ম,কুরবানীর পশুর চামড়া খাওয়া জায়েজ?

আজকের বিষয়:  ছাগল, গরু, মহিষ, ভেড়া প্রভৃতি পশুর চামড়া খাওয়া যাবে কি?

যবহকৃত হালাল পশুর প্রবাহিত রক্ত ব্যতীত সবই হালাল (আন‘আম ১৪৫)। হানাফী কিতাব সমূহে আরো ছয়টি বস্ত্ত হারাম বলে উল্লেখ আছে। কিন্তু সেগুলি সব ক্বিয়াসী বা অনুমান নির্ভর। সুতরাং হালাল পশুর চামড়া যদি কেউ খেতে চায়, খেতে পারে। তবে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর সবকিছু থেকে বিরত থাকতে হবে। কেননা রাসূল (ছাঃ) বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়ো না এবং ক্ষতি করো না (ইবনু মাজাহ হা/২৩৪০; ছহীহাহ হা/২৫০)। কেননা এতে খাদ্য গ্রহণের লক্ষ্য ব্যাহত হয় (ফৎহুল ক্বাদীর বাক্বারাহ ১৬৮; মায়েদাহ ৮৮; আনফাল ৬৯; নামল ১১৪)


আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ  


ত্বক বা চামড়া যেকোনো প্রাণীর সবচেয়ে বড় অঙ্গ। গরুর আকারভেদে একটি চামড়া ১০ থেকে ৫০ কেজি ওজন হতে পারে। সাধারণত পশুর চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে পোশাক, জুতা, ব্যাগ, বেল্ট ইত্যাদি বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আবার পশুর চামড়া থেকে জিলাটিন বের করে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ঔষধ, প্রসাধনীতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

তবে, মানুষের খাবার হিসেবেও পশুর চামড়া একেবারে মন্দ নয়। যদিও হালাল নয়, তবে শুকরের চামড়া খুব জনপ্রিয় খাবার। চীনে সবধরনের পশুর চামড়া দিয়ে নানা স্বাদের খাবার তৈরি করা হয়। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও নাইজেরিয়ার মুসলমান ধর্মাবলম্বীরা গরুর চামড়া দিয়ে তৈরি খাবার খেয়ে থাকেন।

বাংলাদেশেও বৃহত্তর চট্টগ্রামের কোনো কোনো এলাকায় পশুর চামড়ার তৈরি খাবারের প্রচলন রয়েছে। বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে কোরবানির পশুর চামড়ার উপযুক্ত দাম ও সংরক্ষণের অভাবে বিপুল পরিমাণ পশুর চামড়া নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে পশুর ভুঁড়ি বা খাদ্যনালীর মতো চামড়া খাদ্য হিসেবে সংস্কৃতি গড়ে উঠলে এই অপচয় রোধ করা যায় অবশ্যই।

খাদ্যমান হিসেবে গরুর চামড়া একেবারে মন্দ নয়। প্রতি ১০০ গ্রাম গরুর চামড়ায় ২২৫ কিলো ক্যালরি শক্তি থাকে। উপাদান হিসেবে এই ১০০ গ্রামে ৪৭ গ্রাম প্রোটিন, ৭ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ১ গ্রাম চর্বি, ০.০২ গ্রাম ফাইবার এবং ৪৫ গ্রাম পানি থাকে। গরুর চামড়ার প্রোটিন সাধারণত জিলাটিন হিসেবে থাকে। জিলাটিন হাড় ও ত্বক গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যদিও গরুর চামড়ায় ভিটামিন ও মিনারেল থাকে না বললেই চলে। তবে, খুবই সামান্য পরিমাণ চর্বি থাকায় শরীরে কোনো ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না।

পশুর চামড়া খাবার হিসেবে প্রস্তুত করা একটু ঝামেলা। গরু ছাগলের ভুঁড়ি খাবার হিসেবে প্রস্তুত করতেও কিন্তু ঝামেলা কম নয়। চামড়া থেকে লোম ছাড়ানোর পদ্ধতি ইউটিউবে দেখে নিতে পারেন। লোম ছাড়ানোর পর এটি নিজস্ব স্বাদে বিভিন্ন মসলা দিয়ে কারি বা ভাজা বা সুপ হিসেবে খাওয়া যায়। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়ায় কিকিল বা নাইজেরিয়ায় পনমো খাবার হিসেবে বেশ জনপ্রিয়।

বিগত কয়েকবছর ধরে আমাদের দেশে গরু ছাগলের চামড়ার দাম একেবারে কমে গেছে। কোরবানির পর অনেকেই পশুর চামড়া মাটিতে পুতে রাখছেন বা ফেলে দিচ্ছেন, যা নিতান্তই সম্পদের অপচয়। অথচ খাবার সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটিয়ে এই বিশাল অনাকাঙ্ক্ষিত অপচয় থেকে আমরা মুক্তি পেতে পারি।


আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ  


হালাল পশুর যেসব অংশ খাওয়া নিষিদ্ধ

হালাল প্রাণীর রক্ত খাওয়া খাওয়া নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৭টি জিনিস খাওয়া অপছন্দ করতেন। হাদিসে এসেছে-
বিখ্যাত তাবেয়ি হজরত মুজাহিদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বকরির সাত জিনিস (খাওয়াকে) অপছন্দ করেছেন। (তাহলো)- প্রবাহিত রক্ত, পিত্ত, মূত্রথলি, মাংসগ্রন্থি, নর-মাদা পশুর গুপ্তাঙ্গ এবং অণ্ডকোষ।’ (বায়হাকি)

অন্য হাদিসে এসেছে, ‘রক্ত ছাড়া হালাল পশুর অন্য কোনো অংশ হারাম নয়।’ তবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হালাল পশুর এ অংশগুলো অপছন্দ করতেন-
– প্রবাহিত রক্ত
– অণ্ডকোষ
– চামড়া ও গোশতের মাঝে সৃষ্ট জমাট মাংসগ্রন্থি
– মূত্রথলি
– পিত্ত
– নর ও মাদা পশুর গুপ্তাঙ্গ।

সর্ব সম্মতিক্রমে পশুর রক্ত খাওয়া নিষিদ্ধ। সুতরাং কুরবানির পশু হোক কিংবা হালাল যে কোনো পশু হোক; সব হালাল প্রাণীর রক্ত খাওয়া হারাম বা নিষিদ্ধ। সুতরাং হাদিসের অনুসরণে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অপছন্দনীয় অংশগুলো না খাওয়াই উত্তম।



ওয়া আলাইকুমুসলাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি

◾হালাল পশুর ৭টি অঙ্গ হারাম। যথা-
১- প্রবাহিত রক্ত।
২- নর প্রাণীর পুং লিঙ্গ।
৩- অন্ডকোষ।
৪- মাদী প্রাণীর স্ত্রী লিঙ্গ।
৫- মাংসগ্রন্থি।
৬- মুত্রথলি।
৭- পিত্ত।

وَأَمَّا بَيَانُ مَا يَحْرُمُ أَكْلُهُ مِنْ أَجْزَاءِ الْحَيَوَانِ الْمَأْكُولِ فَاَلَّذِي يَحْرُمُ أَكْلُهُ مِنْهُ سَبْعَةٌ: الدَّمُ الْمَسْفُوحُ، وَالذَّكَرُ، وَالْأُنْثَيَانِ، وَالْقُبُلُ، وَالْغُدَّةُ، وَالْمَثَانَةُ، وَالْمَرَارَةُ لِقَوْلِهِ عَزَّ شَأْنُهُ {وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ} [الأعراف: 157] وَهَذِهِ الْأَشْيَاءُ السَّبْعَةُ مِمَّا تَسْتَخْبِثُهُ الطِّبَاعُ السَّلِيمَةُ فَكَانَتْ مُحَرَّمَةً. (بدائع الصنائع، كتاب التضحية، باب صفة التضحية، فَصْلٌ فِي بَيَانُ مَا يَحْرُمُ أَكْلُهُ مِنْ أَجْزَاءِ الْحَيَوَانِ الْمَأْكُولِ-5/61، وكذا فى الفتاوى الهندية-5/290، وفى رد المحتار، كتاب الأضحية
الغُدَّةُ والغُددَةُ: كُلُّ عُقْدَةٍ فِي جَسَدِ الإِنسان أَطاف بِهَا شَحْم. والغُدَدُ: الَّتِي فِي اللَّحْمِ، (لسان العرب، فصل الغين المعجمة
🔲 সুতরাং উল্লেখিত বস্তু ছাড়া হালাল প্রাণীর সকল কিছুই খাওয়া যাবে । চামড়া খেতেও সমস্যা নেই ।
والله اعلم بالصواب

প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে ইমেল : info@banglanewsexpress.com

আমরা আছি নিচের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে ও

আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ  

আমাদের নতুন ইসলামিক নিউজ ও জিজ্ঞাসা ভিত্তিক সাইড

Islamic Info Hub ( www.islamicinfohub.com ) আজই ভিজিড করুন !! 

Leave a Comment