Subscribe Now!
সর্বশেষ চাকরির খবর মিস করবেন না! Subscribe - এ ক্লিক করে দেখুন নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি।
অগ্রাধিকারযুক্ত শেয়ারের বৈশিষ্ট্য লিখ,অগ্রাধিকারযুক্ত শেয়ারের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য লিখ
১. ভূমিকা ও প্রাথমিক ধারণা (Introduction & Concept)
যে শেয়ারের মালিকরা সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের চেয়ে নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ প্রাপ্তিতে এবং কোম্পানি বিলোপসাধনের সময় মূলধন ফেরত প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার (Preference) পেয়ে থাকে, তাকে অগ্রাধিকার শেয়ার (Preference Share) বলে।
অগ্রাধিকার শেয়ারকে একটি সংকর বা হাইব্রিড জামানত (Hybrid Security) বলা হয়। কারণ এর মধ্যে সাধারণ শেয়ারের সুবিধা (যেমন: এটি কোম্পানির মূলধনের অংশ) এবং ঋণপত্রের/ডিবেঞ্চারের সুবিধা (যেমন: নির্দিষ্ট হারে আয় বা লভ্যাংশ) উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান থাকে।
২. অগ্রাধিকার শেয়ারের মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ (Characteristics of Preference Shares)
১০ নম্বরে পূর্ণাঙ্গ নম্বর পাওয়ার জন্য বৈশিষ্ট্যগুলোকে প্রধান কয়েকটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
(ক) আয় ও লভ্যাংশ সংক্রান্ত বৈশিষ্ট্য (Income & Dividend Features)
১. নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ (Fixed Rate of Dividend):
অগ্রাধিকার শেয়ারের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর লভ্যাংশের হার পূর্বনির্ধারিত থাকে (যেমন: ১০% Preference Share)। কোম্পানি যত বেশি মুনাফাই করুক না কেন, অগ্রাধিকার শেয়ারহোল্ডাররা কেবল চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট হারের লভ্যাংশই পান।
২. লভ্যাংশ প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার (Priority in Dividend):
কোম্পানি অর্জিত মুনাফা থেকে সর্বপ্রথমে কর এবং ঋণের সুদ পরিশোধ করে। এরপর অবশিষ্ট টাকা থেকে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দেওয়ার আগেই অগ্রাধিকার শেয়ারহোল্ডারদের নির্দিষ্ট হারের লভ্যাংশ মিটিয়ে দিতে হয়।
৩. সঞ্চয়ী সুবিধা বা বকেয়া লভ্যাংশ (Cumulative Feature):
যদি কোনো বছর কোম্পানি পর্যাপ্ত মুনাফা না হওয়ার কারণে লভ্যাংশ দিতে না পারে, তবে সঞ্চয়ী অগ্রাধিকার শেয়ারের (Cumulative Preference Share) ক্ষেত্রে সেই লভ্যাংশ জমতে থাকে (বকেয়া হয়)। পরবর্তীতে মুনাফা হলে পূর্বের সকল বকেয়া লভ্যাংশ পরিশোধ করার পর সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দেওয়া হয়।
(খ) মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বৈশিষ্ট্য (Ownership & Control Features)
৪. ভোটাধিকার হীনতা (No Voting Rights):
সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের মতো অগ্রাধিকার শেয়ারহোল্ডাররা কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভায় (AGM) ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন না। ফলে তারা পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন বা কোম্পানির সরাসরি নীতি নির্ধারণে অংশ নিতে পারেন না।
৫. নিয়ন্ত্রণহীন মালিকানা (No Control over Management):
ভোটাধিকার না থাকার কারণে অগ্রাধিকার শেয়ারহোল্ডাররা কোম্পানির ব্যবস্থাপনা বা পরিচালনায় কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার করতে পারেন না। ফলে প্রতিষ্ঠানের মূল মালিকদের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকে।
(গ) মূলধন ফেরত ও দায় সংক্রান্ত বৈশিষ্ট্য (Repayment & Liability Features)
৬. মূলধন ফেরত প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার (Priority in Asset Claims):
যদি কখনো কোম্পানির বিলোপসাধন (Liquidation) ঘটে, তবে ঋণদাতাদের পাওনা মেটানোর পর অবশিষ্ট সম্পদ থেকে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের টাকা ফেরত দেওয়ার আগেই অগ্রাধিকার শেয়ারহোল্ডারদের মূলধন ফেরত দিতে হয়।
আরি পড়ুন ›স্থায়ী বিনিময় হার পদ্ধতি ও ভাসমান বিনিময় হার পদ্ধতি পার্থক্যস্থায়ী বিনিময় হার পদ্ধতি ও ভাসমান বিনিময় হার পদ্ধতি পার্থক্য, স্থায়ী বিনিময় হার পদ্ধতি…
আরি পড়ুন ›মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরিচিতি,মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার ইতিহাস,মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বনাম জনপ্রশাসন, মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার সূত্রাবলি, কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনামানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরিচিতি,মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার ইতিহাস,মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বনাম জনপ্রশাসন, মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার সূত্রাবলি,কৌশলগত…
আরি পড়ুন ›IFRS: এটি কী এবং এর উপাদানগুলি কী কী?, আই. এফ. আর. এস বলতে কী বুঝায়? এগুলো বর্তমান ব্যবসায়ে কিভাবে ব্যবহৃত হয়?IFRS: এটি কী এবং এর উপাদানগুলি কী কী?, আই. এফ. আর. এস বলতে কী…
৭. পরিশোধযোগ্যতা বা সোধনীয়তা (Redeemability):
অগ্রাধিকার শেয়ার পরিশোধযোগ্য (Redeemable) বা অপরিশোধযোগ্য (Irredeemable) হতে পারে। পরিশোধযোগ্য অগ্রাধিকার শেয়ারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মেয়াদের (যেমন: ৫ বা ১০ বছর) পর কোম্পানি বাজার থেকে এই শেয়ারের টাকা পরিশোধ করে তুলে নেয়।
৮. রূপান্তরযোগ্যতা (Convertibility):
কিছু অগ্রাধিকার শেয়ারের সাথে রূপান্তরযোগ্যতার (Convertible) চুক্তি থাকে। এর ফলে একটি নির্দিষ্ট সময় পর শেয়ারহোল্ডাররা তাদের অগ্রাধিকার শেয়ারকে নির্ধারিত অনুপাতে সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর বা পরিবর্তন করতে পারেন।
৩. মাস্টার সামারি ছক (Master Summary Table)
পরীক্ষকের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং ১০ নম্বরে পূর্ণাঙ্গ নম্বর নিশ্চিত করার জন্য বৈশিষ্ট্যগুলোর একনজরে সংক্ষিপ্ত রূপ তুলে ধরা হলো:
| বৈশিষ্ট্য বা ক্ষেত্র | অগ্রাধিকার শেয়ারের নিয়ম / অবস্থান | অন্যান্য অর্থায়নের সাথে তুলনা |
| ১. লভ্যাংশের হার | নির্দিষ্ট ও পূর্বনির্ধারিত | সাধারণ শেয়ারে লভ্যাংশ পরিবর্তনশীল; ডিবেঞ্চারে সুদ নির্দিষ্ট। |
| ২. ভোটাধিকার | ভোটাধিকার নেই | সাধারণ শেয়ারের ভোটাধিকার থাকে। |
| ৩. লভ্যাংশ ও মূলধন ফেরত | সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের পূর্বে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত | সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা সবার শেষে টাকা পান। |
| ৪. মূল পরিচয় | সংকর বা হাইব্রিড জামানত (Hybrid Security) | শেয়ার ও ঋণপত্রের যৌথ বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। |
| ৫. নিয়ন্ত্রণ | ব্যবসায় ব্যবস্থাপনায় কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই | পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে প্রভাব রাখতে পারে না। |
৪. সিদ্ধান্ত ও উপসংহার (Conclusion)
পরিশেষে বলা যায়, অগ্রাধিকার শেয়ার হলো একটি সুচিন্তিত কৌশলগত অর্থায়ন মাধ্যম। যে সকল বিনিয়োগকারী শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে অতিরিক্ত ঝুঁকি নিতে চান না, আবার ব্যাঙ্কের চেয়ে কিছুটা বেশি নির্দিষ্ট হারে আয় চান, তাদের জন্য অগ্রাধিকার শেয়ার একটি আদর্শ মাধ্যম। অন্যদিকে, কোম্পানি নিজের নিয়ন্ত্রণ অক্ষুণ্ণ রেখে ও নির্দিষ্ট সুদের দায় না বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংস্থানের জন্য অগ্রাধিকার শেয়ারের এই অনন্য বৈশিষ্ট্যগুলোকে সফলভাবে ব্যবহার করে থাকে।
পরীক্ষার জন্য বিশেষ প্লাস পয়েন্ট টিপস (১০-এ ১০ পাওয়ার কৌশল):
১. ইংরেজি টার্ম ব্যবহার: মূল পয়েন্টগুলোর পাশে ইংরেজি টার্মগুলো (Hybrid Security, Fixed Rate of Dividend, Cumulative Dividend, Priority in Asset Claims, Redeemability, Convertibility) নীল কালিতে হাইলাইট করে লিখবেন।
২. হাইব্রিড সিকিউরিটি (Hybrid Security) ধারণা: সূচনা ও উপসংহারে অগ্রাধিকার শেয়ারকে কেন “হাইব্রিড সিকিউরিটি” বলা হয় তা স্পষ্ট করে উল্লেখ করা একটি হাই-মার্কিং পয়েন্ট।
৩. সূচনার ফ্লোচার্ট, সুন্দর ক্যাটাগরিভিত্তিক পয়েন্টসমূহ এবং উত্তরের শেষের মাস্টার সামারি ছকটি আপনার খাতাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে পূর্ণ ১০ নম্বর পেতে নিশ্চিত সাহায্য করবে।
একাডেমিক শিক্ষা বিষয়ক লিখিত প্রশ্ন সমাধান পেতে ক্লিক করুন।
আর্টিকেলের শেষ কথাঃ অগ্রাধিকারযুক্ত শেয়ারের বৈশিষ্ট্য লিখ,অগ্রাধিকারযুক্ত শেয়ারের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য লিখ
বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস সর্বশেষ আপডেট পেতে Google News অনুসরণ করুন
আরো পড়ুন: