hsc (bou) ১১শ শ্রেণির ৩য় অ্যাসাইনমেন্ট সমাজকর্ম ১ম পত্র এর সহজ উত্তর, ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম ও গুরুত্ব নিরূপণ করুন

hsc (bou) ১১শ শ্রেণির ৩য় অ্যাসাইনমেন্ট সমাজকর্ম ১ম পত্র এর সহজ উত্তর, ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম ও গুরুত্ব নিরূপণ করুন

Assignment এইচ এস সি ডিগ্রি ও উন্মুক্ত পরীক্ষা প্রস্তুতি শিক্ষা
শেয়ার করুন:
শ্রেণি: ১১শ/ hsc/ উন্মুক্ত-2021 বিষয়: সমাজকর্ম ১ম পত্র এসাইনমেন্টেরের উত্তর 2021
এসাইনমেন্টের ক্রমিক নংঃ 03 বিষয় কোডঃ 1862
বিভাগ: মানবিক শাখা
বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস// https://www.banglanewsexpress.com/

এসাইনমেন্ট শিরোনামঃ ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম ও গুরুত্ব নিরূপণ করুন।

এসাইনমেন্ট সম্পর্কে প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে Google News <>YouTube : Like Page ইমেল : assignment@banglanewsexpress.com

সদ্কা ইসলামী সমাজ ও জীবনব্যবস্থায় একটি উল্লেখযোগ্য দিক। আরবি ‘সাদাকাহ্’ শব্দ থেকে সদ্কা শব্দের উদ্ভব; যার অর্থ দান। দুস্থ, দরিদ্র ও অসহায় জনসাধারণের কল্যাণে ইসলামের প্রাথমিক যুগ থেকে এটি প্রচলিত রয়েছে। সদ্কা যাকাতের ন্যায় বাধ্যতামূলক নয়। এটি নফল ইবাদতের সমান। সাধারণত মহান আল্লাহতা’লার নৈকট্য লাভের আশায় স্বত্ব ত্যাগ করে কাউকে কিছু দান করাকে সদ্কা বলে। সদ্কার ক্ষেত্রে দান ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। স্বেচ্ছাধীন ও বাধ্যতামূলক (যাকাত, ফেতরা) সকল দান, মানত, যোগান নিয়ত, মাগফেরাত ও আরোগ্য কামনার্থে দান সবই সদ্কার অন্তর্ভুক্ত। এমনকি হাদিস শরীফে নেক আমল, সদ্ব্যবহার, হাসিমুখে কথা বলা, আপন ভাইয়ের দিকে সুদৃষ্টিও সদ্কার শামিল। সাধারণত দু’রকমের সদ্কা রয়েছে। যথা :

১. ঐচ্ছিক সদ্কা

২. বাধ্যতামূলক সদ্কা

ব্যক্তি নিজের ইচ্ছায় কোনো রকম বাধ্যবাধকতা ছাড়া যে দান করে, তাকে ঐচ্ছিক সদ্কা বলে। মানুষ সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য লাভ ও পাপমোচনের উদ্দেশ্যে এ সদ্কা প্রদান করে থাকে। যেমনÑ ফকির, মিসকিন ও ভিক্ষুককে দান করা ইত্যাদি। আবার বিশেষ শর্তসাপেক্ষে ও বিভিন্ন ধর্মীয় উপলক্ষ্যে যে দান মুসলিমের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে প্রদান করার নিয়ম রয়েছে তাকে বাধ্যতামূলক সদ্কা বলে। যেমনÑ সদ্কাতুল ফিতর ও ঈদুল আযহার কোরবানির পশুর চামড়া বা তার মূল্য। এছাড়া মানতের সদ্কা দেওয়াও বাধ্যতামূলক।

সমাজকল্যাণে সদ্কার গুরুত্ব

সদ্কা ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণের বিশেষ প্রতিষ্ঠান। জনকল্যণে এর অবদান অপরিসীম। যেমন :

১. স্রষ্টার ইবাদত ও সৃষ্টের সেবা ইসলামের অন্যতম বিধান।সদকার মাধ্যমে একই সাথে স্রষ্টা ও সৃষ্টির সন্তুষ্টি ও সেবা করা সম্ভব।

২. সদ্কা মানুষের স্বতঃস্ফুর্ত ও স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দানকে উৎসাহিত করে, যাতে সমাজের প্রভূত কল্যাণ নিহিত রয়েছে।

৩. সম্পদশালী ব্যক্তি তার সম্পদের একাংশ দুস্থ, অসহায়, দরিদ্র, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী, প্রবীণ, শিশু, বিধবা, নারী প্রভৃতি শ্রেণির কল্যাণে ব্যয় করে, যা সমাজকল্যাণের লক্ষ্যের সাথে সম্পূর্ণরূপে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

৪. সদকার মাধ্যমে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির তাৎক্ষণিক ও সাময়িক সমাধান করা সম্ভব হয়। এতে মৌল মানবিক চাহিদা পূরণ সম্ভব হয় যা সমাজকল্যাণে অতীব জরুরি।

৫. সমাজে অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটলে শুধুমাত্র যাকাতের অর্থ দিয়ে সে পরিস্থিতি মোকাবিলা সম্ভব নয়। এ অবস্থায় সদকার সহায়ক ভূমিকা অতুলনীয়।

৬. সদ্কার মাধ্যমে সামাজিক ঐক্য, শৃঙ্খলা, সাম্য, মৈত্রী ও সংহতি শক্তিশালী করা সম্ভব।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

যাকাত কী?

যাকাত ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে সর্বশেষ স্তম্ভ যার অর্থ হলো প্রশংসা করা, প্রাচুর্য লাভ করা ও সংশোধন করা। এছাড়াও যাকাতের অন্যতম দুটি অর্থ হলো পবিত্র করা ও বৃদ্ধি করা। ঐতিহ্যগত বা সনাতন সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্যে যাকাত অন্যতম। ইসলামিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মূলভিত্তি এবং মৌলিক ইবাদত হলো যাকাত, যা ইসলাম ধর্মের প্রধান কল্যাণমূলক পদক্ষেপ ও প্রতিষ্ঠান। যাকাত আদায় করলে অর্থ-সম্পদ ব্যক্তি বিশেষের হাতে কুক্ষিগত না থেকে সমাজে দরিদ্রদের হাতে সম্প্রসারিত হয় এবং এর সাহায্যে অনেক অসহায় ও দরিদ্র শ্রেণির অর্থনৈতিক উন্নতি সাধিত হয়। আবার পবিত্রতা অর্থে যাকাত মানুষের মধ্য হতে কৃপণতা, কপটতা, অপবিত্রতা ও লোভ লালসা থেকে মুক্ত করে পবিত্র রাখে।

নির্দিষ্ট হারে নির্দিষ্ট শ্রেণির মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে বিতরণ করাই যাকাত। যাকাত ফরজ হওয়ার কতগুলো শর্ত রয়েছে, তা হলো : ১. মুসলিম হওয়া ২. প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া ৩. জ্ঞানসম্পন্ন হওয়া ৪. স্বাধীন হওয়া ৫. নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া ৬. ঋণমুক্ত হওয়া ৭. এক বছর পূর্ণ মালিকানায় সম্পদ থাকা

সমাজকল্যাণে যাকাতের গুরুত্ব

যাকাতের আর্থ-সামাজিক, নৈতিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব অনন্য ও অপরিসীম। ইসলামের অন্যতম ও গুরুত্বপূর্ণ সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে জনকল্যাণে যাকাত এক অনবদ্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে সমাজকল্যাণে যাকাতের গুরুত্ব নিম্নে আলোচনা করা হলো :

১. সম্পদের সুসম বণ্টন : ইসলাম ধনী কর্তৃক নিরঙ্কুশ সম্পদ সঞ্চয়কে সমর্থন করে না। বরং সম্পদের মালিককে তার মোট সম্পদের ২.৫ শতাংশ অসহায় ও দরিদ্রদের অবস্থার উন্নয়নে দান করার নির্দেশ দিয়েছে, যা সম্পদের সুসম বণ্টন নিশ্চিত করে।

২. ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধন সৃষ্টি : যাকাত প্রদানের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, সহানুভূতি, সমবেদনা ও সহনশীলতা সৃষ্টি হয়। এর ফলে সমাজের বঞ্চিত শ্রেণির সাথে সম্পর্কের বন্ধন তৈরি হয়।

৩. নিরাপত্তা ও কল্যাণ : যাকাত সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। যাকাতের মাধ্যমে দুঃস্থ অসহায় শ্রেণির মৌল মানবিক চাহিদা পূরণের নিশ্চয়তা দেয়া হয়।

৪. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা : যাকাত ধনীদের আরো ধনী ও গরীবদের/দরিদ্রদের আরো দরিদ্র হওয়া থেকে বিরত রাখে। সমাজের অস্বচ্ছলদের প্রতি দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছলদের উদ্বুদ্ধ করে। ফলে মানুষের মধ্যে সদ্ভাব ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।

৫. নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ : যাকাতের মাধ্যমে মানবমনের সুন্দর প্রবৃত্তিগুলো জাগ্রত হয় ফলে নৈতিক ও মানবিক মূল্যাবোধগুলো ভ্রাতৃত্বের অভাব মোচনে সক্রিয় থাকে।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

ধর্মগোলা কী?

প্রাচীন ও ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে ধর্মগোলা অন্যতম। বর্তমানে ধর্মগোলা নেই কিন্তু ধর্মগোলার নীতির উপর ভিত্তি করে বর্তমান গ্রামদেশে এখনো এ ধরনের সেবা কার্যক্রম বিদ্যমান। ধর্মগোলা এমন একটি বিশেষ শস্যভাণ্ডার যাতে মৌসুমের সময় স্থানীয়ভাবে উদ্বৃত্ত শস্য সংগ্রহ করে মজুদ রাখা হয় এবং পরবর্তীতে খাদ্যাভাব দেখা দিলে দুর্গতদের মধ্যে তা বিতরণ করা হয়। ব্রিটিশ শাসনামলে ব্যাপক দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে বিশিষ্ট মানবপ্রেমীদের চিন্তাভাবনায় গড়ে ওঠে ধর্মগোলা। স্থানীয় ভিত্তিতে স্থানীয় সমস্যার মোকাবিলাÑ এ নীতির উপর ভিত্তি করে ধর্মগোলার

উদ্ভব। ভারত বিভক্তির পর থেকে ধর্মগোলার অস্তিত্ব ক্রমশ বিলুপ্ত হয়ে পড়ে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় প্রতি বছরই বন্যা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং পোকামাকড়ের আক্রমণে ব্যাপক ফসলহানি ঘটে। যে কারণে কৃষক সমাজ চরম দুরবস্থার শিকার হয়ে পড়ে এবং তারা চড়া সুদে গ্রাম্য মহাজনদের নিকট থেকে অর্থ বা শস্য ঋণ গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। এটা বন্ধ করতে স্থানীয় উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ধর্মগোলা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে থাকে।

ধর্মগোলার কার্যক্রম ধর্মগোলার কার্যক্রমসমূহ হলো :

ক. ফসলের মৌসুমে কৃষকদের নিকট থেকে খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও সমষ্টি শস্যভাণ্ডার গঠন করা।

খ. দুভিক্ষ ও দুর্যোগকালে সংগৃহীত খাদ্যশস্য বিতরণ করা।

গ. অনাহার, মৃত্যু ও মহামারি প্রতিরোধ করা।

ঘ. গ্রামীণ মহাজন ও সুদখোরদের হাত থেকে কৃষককূলকে রক্ষা করা।

ঙ. নিজস্ব সম্পদের ভিত্তিতে আঞ্চলিক ও সমষ্টিগত বিপর্যয় মোকাবিলা করা।

সমাজকল্যাণে ধর্মগোলার গুরুত্ব

ধর্মগোলা শুধু আপতকালীন খাদ্য সমস্যা মোকাবিলার ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। সমাজসেবা ও কল্যাণকর পদক্ষেপ হিসেবে সমাজকল্যাণে এর গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমানে প্রচলিত খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ধর্মগোলার ধারণা ও নীতি অনুসরণ করা যায়। এছাড়াওÑ

১. স্থানীয় প্রচেষ্টায় দুর্ভিক্ষ, মহামারি ও বিপর্যয়মূলক পরিস্থিতি মোকাবিলায় ধর্মগোলার গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

২. এটি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের বিনাসুদে ঋণদান ও মহাজন ও সুদখোরদের কবল থেকে কৃষকদের রক্ষা কবচ।

৩. দুঃস্থ ও অসহায়দের কল্যাণে নিবেদিত।

৪. সমষ্টিগত উদ্যোগে সমস্যা মোকাবিলা ও চাহিদা পূরণে ধর্মগোলার গুরুত্ব রয়েছে। সুতরাং বলা যায় যে, সমাজকল্যাণে ধর্মগোলার গুরুত্ব বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার এক অনন্য দৃষ্টান্ত ধর্মগোলা।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

সবার আগে Assignment আপডেট পেতে Follower ক্লিক করুন

এসাইনমেন্ট সম্পর্কে প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে Google News <>YouTube : Like Page ইমেল : assignment@banglanewsexpress.com

অন্য সকল ক্লাস এর অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর সমূহ :-

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় SSC এসাইনমেন্ট :

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় HSC এসাইনমেন্ট :

  • ২০২১ সালের SSC / দাখিলা পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ২০২১ সালের HSC / আলিম পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ভোকেশনাল: ৯ম/১০ শ্রেণি পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ২০২২ সালের ভোকেশনাল ও দাখিল (১০ম শ্রেণির) অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • HSC (বিএম-ভোকে- ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স) ১১শ ও ১২শ শ্রেণির অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ২০২২ সালের ১০ম শ্রেণীর পরীক্ষার্থীদের SSC ও দাখিল এসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ২০২২ সালের ১১ম -১২ম শ্রেণীর পরীক্ষার্থীদের HSC ও Alim এসাইনমেন্ট উত্তর লিংক

৬ষ্ঠ শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১ , ৭ম শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১ ,

৮ম শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১ , ৯ম শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১

বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস// https://www.banglanewsexpress.com/

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *