BCS গ্রন্থ সমালোচনা তিথিডোর,বাংলা গ্রন্থ সমালোচনা তিথিডোর, তিথিডোর কাব্যের সার্থকতা আলোচনা,বিসিএস লিখিত পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি তিথিডোর,তিথিডোর বিসিএস গ্রন্থ সমালোচনা,তিথিডোর

আজকের গ্রন্থ সমালোচনা: BCS গ্রন্থ সমালোচনা তিথিডোর,বাংলা গ্রন্থ সমালোচনা তিথিডোর, তিথিডোর কাব্যের সার্থকতা আলোচনা,বিসিএস লিখিত পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি তিথিডোর,তিথিডোর বিসিএস গ্রন্থ সমালোচনা,তিথিডোর

বইঃ তিথিডোর

লেখকঃ বুদ্ধদেব বসু

অন্তর্ভুক্তিঃ শ্রেষ্ঠ উপন্যাস

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ৩০৩

প্রকাশনীঃ আজকাল প্রকাশনী মুদ্রিত

তিথিডোর / বুদ্ধদেব বসু রবীন্দ্রনাথ যে সময় দৃপ্ত ভঙ্গীমায় সাহিত্যে পদচারণা করছিলেন সেই সময় সাহিত্যের তরীটা তাকেই বইতে হচ্ছিলো।এর মুল কারন রবীন্দ্রনাথ, তার জনপ্রিয়তা আর মৌলিকত্ব সাহিত্যিকদের প্রভাবিত করেছিলো।কথাটা বোধহয় ঠিক বা যুতসই হলোনা।

তখন তারা রবীন্দ্রনাথকে গ্রহন করতে পারেন নি।তাকে অনুকরন করতে শুরু করলো।যার ফলে অধিকাংশ লেখাতেই নগ্নভাবে অনুকরন ধরা পরল।খুবই জঘন্য বটে! সে সময়কার এসব প্রভাব হতে মুক্ত হয়ে চেয়ে যেই সাহিত্যগোষ্ঠী “কল্লোল” এর সৃষ্টি তারাও কিছুটা হলেও এ ব্যাপারে থমকে ছিলো।হঠাৎ করেই বাংলা সাহিত্যের আকাশে বুদ্ধদেব বসুর আগমন।একদম নিজস্ব শিল্পশৈলীতে শুরু করলেন সাহিত্য রচনা। বলা হয় রবীন্দ্রনাথের পর বোধহয় বাংলা সাহিত্যে আর কেউ এমন সব্যসাচীরুপে সাহিত্য রচনা করেছেন।উপন্যাস, গল্প, কবিতা, ভ্রমনকাহিনী, সমালোচনা গ্রন্থ নিয়ে তার সাহিত্য সৃষ্ট। বুদ্ধদেব বসু একদম চমৎকার সাহিত্য বিশ্লেষক এবং সমালোচক।

স্বভাবতই এ কথা বলতে হয়, উনি তার লেখাগুলোতেও এক্সপেরিমেন্ট চালিয়েছেন। তার একমাত্র উৎকৃষ্ট উদাহরন “তিথিডোর” উপন্যাস। সম্ভবত লেখকের সেরা উপন্যাস এটি। “তিথিডোর” বাংলা উপন্যাস জগতের এক চমৎকার সংযোজন। লেখক কাব্যধর্মী বর্ননামুলক ধাচের উপন্যাস রচনার এক সফল উদাহরন এটি।

এত প্রশংসার চেয়ে বরং আলোচনাই বেশি ভালো মনে হচ্ছে। তবে এই বইটি নিয়ে এত এত কথা বলা যায় এত এত দিক তুলে ধরা যায় যে সেটা নিয়েও একটা বই লিখে ফেলা যায়। উপন্যাসের শুরুতে রাজেনবাবু আর তার স্ত্রী শিশিরকণাকে নিয়ে আবর্তিত হতে থাকে। রাজেনবাবু বেশ সৌখিন মানুষ হলেও বাবু নন।

তার বেশ কিছু সৌখিন স্বভাব একটি একান্নবর্তী সুখী পরিবারের নানা খুটিনাটি দিক তুলে ধরে। রাজেনবাবুর শত শখের সবচেয়ে প্রধান শখ অবশ্যই মেয়ে হবে ঘর। ছেলে হলে অবশ্য সুখ নেই।মেয়ে হলে রঙ বেরং এর নানা জামা কাপড় কত শত উজ্জ্বলতা। শিশিরকণা নিজ স্বতাজির সংখ্যাবৃদ্ধিতে অবশ্য এতটা সুখী হতে পারলেন না।

কিন্তু রাজেনবাবুরই জিত। হলো মেয়ে।আর অমনি শখ করে নাম দিলেন শ্বেতা।এমন বাহারের নাম! অতি দ্রুতই আস্তে আস্তে আরো ৩ মেয়ে মহাশ্বেতা,স্বরস্বতী আর শ্বাশ্বতীর আগমন।অনেক আকাঙখার পর এক ছেলে হলো তার নাম বিজন! আহা এ কি কান্ড রাজেনবাবুর!এত সুন্দর সুন্দর বাহারী নাম মেয়েদের আর ছেলের নাম কিনা বিজন!


আরো ও সাজেশন:-

একদম শেষের মেয়েটি হলো স্বাতী। শিশিরকণা আস্তে আস্তে মেয়েদের বিয়ে দিতে শুরু করলেন। শ্বেতার, মহাশ্বেতার আর স্বরস্বতীর বিয়ে হয়ে গেলো প্রমথেষ, হেমাঙ্গ আর অরুনের সাথে।একদিন স্বাতী, শ্বাশ্বতী, বিজনকে রেখে শিশিরকণা চলে গেলেন। রাজেনবাবু মেয়েদের অনেক বেশি ভালোবাসেন।ছেলেটাকে এতটা না। বড্ড বিপদের কথা! আসলে উপন্যাদের অন্যতম প্রধান চরিত্র রাজেনবাবুকে আমার দুর্দান্ত লাগে।এমন চমৎকার বাবা খুব কমই দেখা যায়।

একটা কথা কার কাছে যেন শুনেছিলাম।বাবাদের মনের উচ্ছ্বাস সম্ভবত মেয়েরাই পায়, ছেলেগুলো বুঝেই উঠেনা।রাজেনবাবুকে দেখে তাই মনে হলো।কিন্তু জীবনের একটা পর্যায়ে রাজেনবাবু বড্ড বেশি নিঃসঙ্গ হয়ে যায়।

আসল কথাটা বলে ফেলি।এই পুরো উপন্যাসটি একটি নিঃসঙ্গতার উপন্যাস।বুদ্ধদেব বসুর নিজ জীবনটা কেটেছে নিঃসঙ্গতায়। তার মা মারা যাওয়ার পর বাবা সেই যে সন্ন্যাসব্রতে গেলেন, আর নিঃসঙ্গতা পিছু ছাড়েনি।সেই নিঃসঙ্গতাই কি তার লেখায়? অবশ্যই।তার সব উপন্যাসেই একজন নিসঙ্গ ব্যক্তি আর তার হুহু করা টানাপোড়েন। তার আবির্ভাবের সময় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে।স্বভাবতই ফ্যাসিবাদবিরোধী এই লেখক তার লেখায় তার পুর্ন প্রকাশ করেছেন।

কিন্তু যা তার মুল মোটিভ ছিল, তা হলো তৎকালীন মধ্যবিত্ত সমাজের চিত্র তুলে ধরা।সুখ, দুঃখ বেদনা এইসব ছোটখাটো ঘটনা থেকেও গুরুত্বপুর্ন প্রতিটা ব্যক্তির ভেতরটাকে। তার লেখার মুল বক্তব্যই আমিত্ব তে।এই আমিত্ব কি? বিশাল নীল আকাশে ভেসে বেড়ানো অতি ক্ষুদ্র মেঘটুকুও এক একটি আমিত্বের প্রতীক। হয়ে চায় স্বাধীন। তবে তিনি বাস্তব বিবর্জিত নন। এই আমিত্ব এক সময় না এক সময় বাধনে আটবেই।কিন্তু সেটা কি বন্দিত্ব না আমিত্ব তা শুধু ব্যক্তিবিশেষেই বোঝা যায়। উপন্যাসটির মুল চরিত্র অবশ্যই স্বাতী। যদিও উপন্যাসের শুরু থেকে গল্পটা কাকে নিয়ে আগাবে তা বোঝা যায় না।

তবে স্বাতীই মুল চরিত্র।স্বাতীর একাকীত্ব আর রাজেনবাবুর অতিমাত্রার ভালোবাসা যেমন ভালো লাগে তেমনি তার অন্যান্য বোনদের ঘটনাও ভালো লাগে। স্বাতী একটু অসামাজিক,ছোটবেলা থেকেই জেদি।কিন্তু বাবার সবচেয়ে প্রিয় মেয়ে। সবচেয়ে সুন্দরীও বটে। আর বিজনটা ত বখাটে হয়েই যায়। লেখাপড়া আর হয়না, নিত্যনতুন জিনিস নিয়ে মেতে থাকে।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

স্বাতীর সাথে বনে না।ছোড়দি শ্বাশ্বতী এর সাথে হারীতের বিয়ে হয়। বিলেতফেরত এই ভদ্রলোক কমিউনিজমের ওপর বড় বড় লেকচার দেয়। যা এক হিসেবে অন্তঃসারশুন্য।স্বাতীর অন্যান্য বোনদের ব্যাপারে লেখক উপন্যাসে খুব বেশি বর্ননা না আনলেও বড় বোন শ্বেতাকে এনেছেন মাতৃরুপে।বেশ বিশাল একটি উপন্যাস। প্রচলিত কাহিনীবহুল উপন্যাস থেকে ভিন্ন বটে! উপন্যাসের নায়ক সত্যেন।যার কখনই পিছুটান ছিলোনা।

কিন্তু একদিন স্বাতীর সাথে কলেজে দেখা।সে স্বাতীর কলেজের প্রফেসর।কখনইই কোনো মেয়ের দিকে ফিরেও তাকায়নি।কিন্তু স্বাতীকে ভাল লেগে গেল।কিন্তু কেন? এখানে লেখক আমাদের মত পাঠকদের কথা তুলে এনেছেন। আমরা সব পাঠক ই সেই মানুষকেই বেশি পছন্দ করি যারা আমাদের মত সাহিত্য পড়ে। তাদের সাথে কথা বলেই এক অজানা সুখ আসে।

সেই সুখটুকু নায়ক সত্যেন অনুভব করে। একজন নিঃসঙ্গ মানুষই সাহিত্যের গভীরে প্রবেশ করতে থাকে।এগুলোই তার কাছে অভিজ্ঞতা।জগতে সে অসামাজিক, কারো সাথে কথা বলতে গেলে অপটু।এটুকুই তার সম্বল।একজন লেখক ও লেখার গুরুত্ব তার কাছে অনেক। আমি জানি খুব গুছিয়ে সাজিয়ে লিখতে পারছিনা, কারন বইয়ের এত এত কথা লিখতে মন চাচ্ছে কিন্তু সম্ভব হচ্ছেনা। অনেক এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।বইয়ের অধিকাংশ বর্ননা বা বর্ননাপ্রবাহ একটু একঘেয়ে। তবে সম্পুর্ন না।


Paragraph/Composition/Application/Email/Letter/Short Storiesউত্তর লিংক
ভাবসম্প্রসারণ/প্রবন্ধ, অনুচ্ছেদ/ রচনা/আবেদন পত্র/প্রতিবেদন/ চিঠি ও ইমেলউত্তর লিংক

উপন্যাসটির শেষের অংশটুকুতে একটি বিয়েবাড়ির মধ্যকার মানুষের মনের বা কর্মকান্ডের বিবরনের কিছু অংশ একঘেয়ে লাগলেও পুরো উপন্যাসটি একজন নিঃসঙ্গ ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের কথা তুলে এনেছে।যেটা চমৎকার সেটা হলো, উপন্যাসটির অন্তিম বা ফিনিসিং যদিও সুখময় কিন্তু শেষ পর্যন্তও নিঃসঙ্গতাকে টেনে আনলো কেন? উপন্যাসটি পড়ে কখনো টানাপোড়েনে ভুগেছি, ত কখনো মুখে হাসি ফুটেছে, কখনো হাস্যরসাত্নক বর্ননা আনন্দ দিয়েছে, কখনো অন্তঃসারশুন্য কপট মানুষের আচরনে ক্ষুব্ধ হয়েছি।

বিজন চরিত্রটিকে খারাপ ভালো দুটোই লেগেছে, শ্বাশ্বতী চরিত্রটাকে বেশি বোকা মনে হয়েছে, শ্বেতা চরিত্রে মা মা ঘ্রান পেয়েছি, স্বাতী আর সত্যেন নিঃসঙ্গ চরিত্র, হারীত চরিত্রটা বুদ্ধিমানের অন্তঃসারশুন্য উক্তি খারাপ লাগলেও কিছু কিছু দিকে ভালোই লেগেছে। মানে লেখক প্রায় সব চরিত্রের মধ্যে ভালো খারাপ তফাত রাখেননি।তিনি চেয়েছেন তাদের ভালো দিকটুকুও আসুক।সেটা এসেছে।আর এটাই ভালো লেগেছে।মোটের ওপর লাইফের পড়া বেস্ট উপন্যাসগুলোর মধ্যে না রাখলেও ভালো লাগা উপন্যাসে থাকবে।উপন্যাসটির আঙ্গিক গঠন বর্ননাভঙ্গী চমৎকার।বিশেষত একজন পাঠক বা নিঃসঙ্গ মানুষের কথা তুলে আনা খুবই কঠিন।

প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে ইমেল : info@banglanewsexpress.com

আমরা আছি নিচের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুলোতে ও

Leave a Comment