ব্যষ্টিক পরিবেশ ও সামষ্টিক পরিবেশের মধ্যে পার্থক্যগুলো লেখ,ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক পরিবেশের পার্থক্য দেখাও

Subscribe Now!

সর্বশেষ চাকরির খবর মিস করবেন না! Subscribe - এ ক্লিক করে দেখুন নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি।

My Ads

ব্যষ্টিক পরিবেশ ও সামষ্টিক পরিবেশের মধ্যে পার্থক্যগুলো লেখ,ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক পরিবেশের পার্থক্য দেখাও

১. ভূমিকা ও পরিবেশের প্রাথমিক ধারণা (Introduction & Core Concept)

যেকোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাব বিস্তারকারী চারপাশের বিভিন্ন উপাদান ও শক্তির সমষ্টিকে বাজারজাতকরণ পরিবেশ (Marketing Environment) বলে।

অধ্যাপক ফিলিপ কোটলারের মতে, বাজারজাতকরণ পরিবেশ প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত:

  1. ব্যষ্টিক পরিবেশ (Micro Environment): যা প্রতিষ্ঠানের একদম কাছাকাছি থেকে দৈনন্দিন কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ বা সরাসরি প্রভাব ফেলে।
  2. সামষ্টিক পরিবেশ (Macro Environment): যা বৃহত্তর সমাজ ও বাহ্যিক পরিবেশ থেকে প্রতিষ্ঠানের ওপর পরোক্ষ প্রভাব ফেলে।

২. দৃষ্টিভঙ্গিগত প্রক্রিয়াচিত্র (Environmental Framework Diagram)

পরীক্ষকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এবং উত্তরের মান বহুগুণ বাড়াতে পরিবেশের এই সমন্বিত কাঠামোর চিত্রটি আঁকা অত্যন্ত জরুরি:

আরো ও সাজেশন:-

My Ads

Honors Suggestion Linksপ্রশ্ন সমাধান সমূহ
Degree Suggestion LinksBCS Exan Solution
HSC Suggestion Links2016 সাল থেকে সকল জব পরীক্ষার প্রশ্ন উত্তর
SSC ‍& JSC Suggestion Linksবিষয় ভিত্তিক জব পরিক্ষার সাজেশন
গণিত এর সমাথানBook PDF

৩. ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক পরিবেশের সুনির্দিষ্ট পার্থক্য (Detailed Comparison Table)

১০ নম্বরের প্রশ্নে ফুল মার্কস নিশ্চিত করতে পার্থক্যের ভিত্তি উল্লেখ করে নিচের বিস্তৃত ছকটি উপস্থাপন করতে হবে:

My Ads

পার্থক্যের ভিত্তি (Basis)ব্যষ্টিক পরিবেশ (Micro Environment)সামষ্টিক পরিবেশ (Macro Environment)
১. সংজ্ঞাগত পার্থক্যযেসব উপাদান ও শক্তি প্রতিষ্ঠানের খুব কাছাকাছি অবস্থান করে এবং এর কার্যক্ষমতাকে সরাসরি প্রভাবিত করে, তাদের নিয়ে ব্যষ্টিক পরিবেশ গঠিত।যেসব বৃহৎ সামাজিক শক্তি সম্পূর্ণ ব্যষ্টিক পরিবেশ এবং সকল প্রতিষ্ঠানের ওপর পরোক্ষ কিন্তু দূরবর্তী প্রভাব ফেলে, তাদের নিয়ে সামষ্টিক পরিবেশ গঠিত।
২. প্রভাবের প্রকৃতিএটি প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রত্যক্ষ বা সরাসরি (Direct) প্রভাব বিস্তার করে।এটি প্রতিষ্ঠানের ওপর পরোক্ষ (Indirect) প্রভাব বিস্তার করে।
৩. নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাপ্রতিষ্ঠান ইচ্ছে করলে এই পরিবেশের উপাদানগুলোকে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ (Control) করতে পারে।প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই পরিবেশের উপাদানগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব (Uncontrollable)
৪. আওতা বা পরিসরএর আওতা ও পরিধি নির্দিষ্ট বা সংকীর্ণ (Narrow)এর আওতা ও পরিধি সমগ্র দেশ বা বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত (Broad/Global)
৫. প্রযোগের ক্ষেত্রএটি নির্দিষ্ট একটি কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা ও সুনির্দিষ্ট (Specific) হয়।এটি একটি দেশের সমজাতীয় সকল ইন্ডাস্ট্রি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য একইভাবে প্রযোজ্য (General)।
৬. পরিবর্তনশীলতাএই পরিবেশের উপাদানগুলো দ্রুত ও ঘন ঘন পরিবর্তিত হতে পারে।এই পরিবেশের উপাদানগুলো তুলনামূলকভাবে দীর্ঘমেয়াদে ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়।
৭. উপাদানসমূহএর মূল উপাদান ৬টি: ১. কোম্পানি নিজেই, ২. সরবরাহকারী, ৩. মধ্যস্থতাকারী, ৪. প্রতিযোগী, ৫. ক্রেতা ও ৬. জনগোষ্ঠী।এর মূল উপাদান ৬টি: ১. জনসংখ্যাভিত্তিক, ২. অর্থনৈতিক, ৩. প্রাকৃতিক, ৪. প্রযুক্তিগত, ৫. রাজনৈতিক/আইনি ও ৬. সাংস্কৃতিক।
৮. কৌশলের প্রভাবএই পরিবেশ থেকে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদি কৌশল গ্রহণ করা যায়।এটি মোকাবিলা করতে দীর্ঘমেয়াদি স্ট্র্যাটেজিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়।

My Ads

৪. উপাদানসমূহের বিস্তারিত বিশ্লেষণ (Detailed Analysis of Components)

পার্থক্য আরও স্পষ্ট করতে উভয় পরিবেশের ৬টি করে প্রধান উপাদান নিচে সংক্ষেপে দেখানো হলো:

(ক) ব্যষ্টিক পরিবেশের উপাদানসমূহ (Cosmopolitan/Micro Elements):

  1. কোম্পানি (Company): শীর্ষ ব্যবস্থাপনা, অর্থ, উৎপাদন ও গবেষণা বিভাগ।
  2. সরবরাহকারী (Suppliers): যারা কাঁচামাল ও প্র প্রয়োজনীয় সম্পদ সরবরাহ করে।
  3. বাজারজাতকরণ মধ্যস্থতাকারী (Intermediaries): ডিলার, পাইকার, খুচরা বিক্রেতা ও পরিবহন সংস্থা।
  4. প্রতিযোগী (Competitors): সমজাতীয় পণ্য উৎপাদনকারী অন্যান্য ব্র্যান্ড।
  5. ক্রেতা/গ্রাহক (Customers): ভোক্তা, ব্যবসায়ী বা সরকারি ক্রেতাগোষ্ঠী।
  6. জনগোষ্ঠী (Publics): মিডিয়া, ব্যাংক, স্থানীয় জনগণ বা নাগরিক সংগঠন।

(খ) সামষ্টিক পরিবেশের উপাদানসমূহ (Macro Elements – PESTLE):

  1. জনসংখ্যাভিত্তিক পরিবেশ (Demographic): বয়স, লিঙ্গ, ঘনবসতি ও শিক্ষার হার।
  2. অর্থনৈতিক পরিবেশ (Economic): জনগণের ক্রয়ক্ষমতা, মুদ্রাস্ফীতি, সুদের হার ও আয়।
  3. প্রাকৃতিক পরিবেশ (Natural): কাঁচামালের লভ্যতা, আবহাওয়া ও দূষণ।
  4. প্রযুক্তিগত পরিবেশ (Technological): নতুন উদ্ভাবন, ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশন।
  5. রাজনৈতিক ও আইনি পরিবেশ (Political & Legal): সরকারি নীতি, আইনের কড়াকড়ি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা।
  6. সাংস্কৃতিক পরিবেশ (Cultural): সমাজের মূল্যবোধ, প্রথা, ধর্মীয় অনুভূতি ও জীবনযাত্রা।

৫. সিদ্ধান্ত ও উপসংহার (Conclusion)

পরিশেষে বলা যায়, ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক পরিবেশ একে অপরের পরিপূরক। ব্যষ্টিক পরিবেশ কোনো কোম্পানির অভ্যন্তরীণ শক্তি বা দুর্বলতাকে নির্দেশ করে, অন্যদিকে সামষ্টিক পরিবেশ বাজারে নতুন সুযোগ (Opportunity) ও হুমকি (Threat) সৃষ্টি করে। একটি সফল প্রতিষ্ঠানকে টেকসই সাফল্য অর্জনের জন্য SWOT Analysis-এর মাধ্যমে উভয় পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে বাজারজাতকরণ কৌশল তৈরি করতে হয়।

পরীক্ষার জন্য বিশেষ প্লাস পয়েন্ট টিপস (১০-এ ১০ পাওয়ার কৌশল):

১. ইংরেজি টার্ম ব্যবহার: মূল পয়েন্টগুলোর পাশে ইংরেজি শব্দ (Direct Impact, Uncontrollable, Specific, Broad Scope, PESTLE, SWOT Analysis) নীল কালিতে হাইলাইট করে লিখবেন।

২. প্রক্রিয়াচিত্র উপস্থাপন: উত্তরের ২ নম্বরে প্রদত্ত পরিবেশের ওভারল্যাপিং ডায়াগ্রামটি পেন্সিল ও নীল কলম দিয়ে পরিষ্কারভাবে আঁকবেন। চিত্র ও সুন্দর পার্থক্যের ছক থাকলে যেকোনো শিক্ষক খাতা দেখে সন্তুষ্ট হয়ে পূর্ণাঙ্গ নম্বর প্রদান করেন।

আর্টিকেলের শেষ কথাঃ ব্যষ্টিক পরিবেশ ও সামষ্টিক পরিবেশের মধ্যে পার্থক্যগুলো লেখ,ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক পরিবেশের পার্থক্য দেখাও

আরো পড়ুন:

My Ads

Leave a Comment

My Ads

My Ads