Subscribe Now!
সর্বশেষ চাকরির খবর মিস করবেন না! Subscribe - এ ক্লিক করে দেখুন নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি।
My Ads
বিষয়: বিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে কে খুশি হলেন না?, গোড়াতেই এস্পার-ওস্পার হতো কেন? ব্যাখ্যা কর, অনুপমের আসল অভিভাবক কে?, ধনীর কন্যা অনুপমের মামার পছন্দ নয় কেন?- বুঝিয়ে লেখ,
নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং সৃজনশীল প্রশ্নগুলোর উত্তর দাওঃ
বিয়ের আসর। চারদিকে হৈ হৈ রৈ রৈ কাণ্ড। বিয়ের সময় ঘনিয়ে এলো। কনের বাবা গণি মিয়া একটি টেলিভিশন ও একটি মোটর সাইকেল বরপক্ষকে দিতে চাইল। বরের বাবা রফিউদ্দিন বললেন, “আমি আপনার মেয়ে নিতে এসেছি, কোনো যৌতুক নয়।”
ক. বিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে কে খুশি হলেন না?
খ. গোড়াতেই এস্পার-ওস্পার হতো কেন? ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অমিলগুলো দেখাও।
ঘ. “উদ্দীপকের রফিউদ্দিনের মনোভাব ‘অপরিচিতা’ গল্পের মূলভাব পরিবর্তনের চাবিকাঠি।”- উক্তিটির যৌক্তিকতা বিচার কর।
ক. জ্ঞান
বিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে মামা খুশি হলেন না।
খ. অনুধাবন
শম্ভুনাথ বাবুর উকিল বন্ধুটি যদি বরপক্ষকে বিশেষ খাতির না করতেন তাহলে শুরুতেই একটা এস্পার-ওস্পার হতো।
শম্ভুনাথ বাবুর এককালে প্রচুর টাকা-পয়সা থাকলেও বর্তমানে তাঁর অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। তাঁর বাড়ির উঠানে বরযাত্রীদের জায়গা সংকুলান হয় না, সমস্ত আয়োজনও মধ্যম রকমের। এসব কারণে বরপক্ষ সন্তুষ্ট নয়। এমতাবস্থায় তার উকিল বন্ধুটি যদি বরকর্তাদের প্রত্যেককে বিশেষ সমাদর না করতেন তবে বিয়েটা হয়তো শুরুতেই এস্পার-ওস্পার হতো।
গ. প্রয়োগ
My Ads
উদ্দীপকের সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের যৌতুক নেয়ার ঘটনা এবং মামার মানসিকতার বিশেষ পার্থক্য রয়েছে।
‘অপরিচিতা’ গল্পের মামা যৌতুক নেয়ার পক্ষপাতী ছিলেন। তাই তিনি অনুপমের বিয়েতে যৌতুকের গহনা নিয়ে বড় রকমের হীনমন্যতার পরিচয় দেন। ফলে বিয়ে ভেঙে দেন পাত্রীর বাবা।
উদ্দীপকের রফিউদ্দিন যৌতুক প্রথার বিরোধী ছিলেন। তাই ছেলের বিয়েতে যৌতুক চাননি। শুধু তাই নয়, মেয়ের বাবা উপহার দিলেও তিনি সেগুলো নিতে চান না। অন্যদিকে ‘অপরিচিতা’ গল্পে দেখা যায়, মামা অনুপমের বিয়ের আগেই যৌতুকের কথা সেরে ফেলেন। তিনি বিয়ে বাড়িতে স্যাকরা নিয়ে উপস্থিত হন, যাতে মেয়ের বাবা তাঁকে কোনো মতেই ফাঁকি দিতে না পারেন। অর্থাৎ, মামার মানসিকতা এভাবে তৈরি হয়েছে যে, বিয়েতে যৌতুক নিতে হবে এবং যে পরিমাণ যৌতুক চাইবেন মেয়ের বাবা সে পরিমাণ যৌতুক দিতে গিয়ে তাঁকে কোনোরকম ঠকাতে পারবেন না। এছাড়াও মামা মনে করেন, যে মেয়ে ঘরে আসবে সে যেন মাথা হেঁট করে থাকে। এভাবে উদ্দীপকের সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের মামার মানসিকতা এবং যৌতুক নেয়ার ঘটনার পার্থক্য রয়েছে। উপরন্তু উদ্দীপকে বিয়েটি সুসম্পন্ন হলেও আলোচ্য গল্পে বিয়ের আসরেই বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
ঘ. উচ্চতর দক্ষতা
উদ্দীপকের রফিউদ্দিনের যৌতুক না দেয়ার মনোভাবই ‘অপরিচিতা’ গল্পের মূলভাব পরিবর্তনের চাবিকাঠি।- মন্তব্যটি যথার্থ।
My Ads
‘অপরিচিতা’ গল্পের মামা যৌতুক নেয়ার মানসিকতাই গল্পের নায়ক-নায়িকার বিচ্ছেদের কারণ। মামার এরূপ মানসিকতার কারণেই মেয়ের বাবা মেয়েকে অনুপমের হাতে তুলে দেবার সাহস পান না।
উদ্দীপকের রফিউদ্দিন একজন উদার মনের মানুষ। তাই মেয়ের বাবা তাদেরকে উপহার দিলেও তিনি সেগুলো নিতে নারাজ। কারণ তিনি মনে করেন, তারা উপহার বা যৌতুক নিতে আসেননি। এসেছে ছেলের জন্য মেয়েকে নিতে। অন্যদিকে, ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের বিয়েতে মেয়ের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে মেয়ের বাবার দেয়া যৌতুকের প্রতি। ফলে বিয়ে ভেঙে যায়। আর অনুপম ও কল্যাণী চিরদিনের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
উদ্দীপকের রফিউদ্দিনের যৌতুক না নেয়ার মনোভাবই পারে ‘অপরিচিতা’ গল্পের মূলভাব পরিবর্তন করতে। কেননা, ‘অপরিচিতা’ গল্পের মামা যদি রফিউদ্দিনের মতো হতেন তাহলে অনুপমের বিয়ে ভেঙে যেত না। আর গল্পের পরিণতিও এমন করুণ হতো না। তাই আমরা বলতে পারি, রফিউদ্দিনের যৌতুকবিরোধী মনোভাব ‘অপরিচিতা’ গল্পের মূলভাব পরিবর্তনে সক্ষম। প্রশ্নোল্লিখিত উক্তিটি যুক্তিযুক্ত।
নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং সৃজনশীল প্রশ্নগুলোর উত্তর দাওঃ
জোছনার বিয়ে। সে সবেমাত্র যৌবনে পা দিয়েছে। সে গরিবের মেয়ে। তার আরো দুটি বোন আছে। অনেক জায়গা থেকে তার বিয়ের প্রস্তাব আসে। কিন্তু যৌতুকের জন্য তার বিয়ে হয় না।
ক. অনুপমের আসল অভিভাবক কে?
খ. ধনীর কন্যা অনুপমের মামার পছন্দ নয় কেন?- বুঝিয়ে লেখ।
গ. উদ্দীপকটি ‘অপরিচিতা’ গল্পের কোন বিষয়টির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ?- ব্যাখ্যা কর।
My Ads
ঘ. ‘অপরিচিতা’ গল্পের মূল চিত্রটি উদ্দীপকে উপস্থাপিত হয়নি।- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
ক. জ্ঞান
অনুপমের আসল অভিভাবক তার মামা।
খ. অনুধাবন
ধনীর কন্যা অনুপমের মামার পছন্দ নয়। কারণ ধনীর মেয়েরা মাথা হেঁট করে স্বামীর সংসারে থাকতে নারাজ।
মামা অনুপমের জন্য এমন পাত্রী খুঁজছেন যার বাবা ধনী নয়। কারণ ধনীর কন্যা সংসারের সকল যন্ত্রণা, অপমান নীরবে সহ্য করবে না। অন্যদিকে গরিবের কন্যা এসব কিছু মাথা পেতে নীরবে সহ্য করে যাবে। অনুপমের ঘরে যে মেয়ে আসবে সে মাথা হেঁট করেই আসবে- এটিই মামার প্রত্যাশা।
গ. প্রয়োগ
উদ্দীপকটি ‘অপরিচিতা’ গল্পে নির্দেশিত বাল্যবিয়ে এবং কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার অবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
একটি নির্দিষ্ট বয়সের মধ্যে কন্যার বিয়ে দেয়া এবং বরপক্ষের দাবিকৃত যৌতুক-এ দুয়ের চাপে কন্যার পিতা পিষ্ট হন। কারণ, নির্দিষ্ট সময়ে কন্যার বিয়ে দিতে না পারলে সমাজে তিনি অপমানিত হবেন এবং বরপক্ষকে যৌতুক দিতে না পারলে তার কন্যা সুখী হবে না। এ দুয়ে মিলে কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার অবস্থা হয় শোচনীয়।
‘অপরিচিতা’ গল্পের নায়িকা কল্যাণীকে পনেরো বছর বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়। কন্যার বিয়ে দিতে গিয়ে শম্ভুনাথ বাবুকে একদিকে যৌতুকের টাকা জোগাড় করতে হয়, অন্যদিকে বরের বাবার কাছে নানাভাবে অপমানিত হতে হয়। উদ্দীপকেও বাল্যবিয়ে এবং কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার অবস্থাও তাই। সেখানে কন্যার মাত্র শৈশব পার হয়েছে। কিন্তু পিতা ভালো পাত্র খুঁজে পাচ্ছেন না। কারণ, কন্যার পিতা বড়লোক নন, তিনি বেশি যৌতুক দিতে পারবেন না। এছাড়া বয়স বেশি হলে যৌতুক বেশি লাগবে।
ঘ. উচ্চতর দক্ষতা
My Ads
‘অপরিচিতা’ গল্পের মূল চিত্রটি উদ্দীপকে উপস্থাপিত হয়নি। মন্তব্যটি যথার্থ।
যৌতুক প্রথা একটি সামাজিক ব্যাধি। বর্তমানে এটি আমাদের সমাজে ভয়াল রূপ ধারণ করেছে। কন্যার বিয়েতে বরপক্ষের চাহিদার সীমা থাকে না। আর সেটি মেটাতে গিয়ে কন্যার পিতাকে কখনো কখনো সর্বস্বান্ত হতে হয়। যারা যৌতুক দাবি করে তারা অমানবিক ও আত্মসম্মানবোধহীন।
‘অপরিচিতা’ গল্পে কল্যাণীর পিতা নিজের সর্বস্ব দিয়ে বরপক্ষের দাবি পূরণ করেন। যখন দেখেন যে, বরের মামা কন্যার গহনা যাচাই করার জন্য স্যাকরা নিয়ে এসেছেন, তখন তিনি বুঝতে পারেন বরপক্ষ কতটা অমানবিক। সেজন্যই তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, এমন ঘরে তিনি মেয়ের বিয়ে দেবেন না। অন্যদিকে উদ্দীপকেও একজন কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার পরিচয় পাওয়া যায়। কন্যার জন্য ভালো পাত্র পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ, কন্যার পিতা ধনী নন। তিনি বরপক্ষের যৌতুকের চাহিদা মেটাতে পারবেন না।
My Ads
যৌতুক প্রথা এবং কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার চিত্র উদ্দীপক ও ‘অপরিচিতা’ গল্প উভয় স্থানেই আছে। তবে ‘অপরিচিতা’ গল্পের মূল চিত্রটি হলো যৌতুক প্রথা ও অমানবিকতার বিরুদ্ধে কন্যার পিতার অবস্থান, যা উদ্দীপকে নেই। এ কারণেই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং সৃজনশীল প্রশ্নগুলোর উত্তর দাওঃ
বিয়ের জন্য কাজী সাহেব এলেন। এলেন বর-কনে পক্ষের সাক্ষী-উকিল। এজিন আনার জন্য উকিল সাক্ষী অন্দর মহলে যেতে চাইল। এমন সময় বরের বাবা রায়বাহাদুর গর্জে উঠে বললেন, “আগে ফ্রিজ আর মোটরসাইকেল, পরে বিয়ে।” কনের বাবা অক্ষমতা প্রকাশ করলেন। বিয়ের আসর চোখের পলকে ভেঙে গেল।
ক. কে আসর জমাতে অদ্বিতীয়?
খ. মেয়ের বয়স পনেরো শুনে অনুপমের মামার মন ভার হলো কেন?
গ. উদ্দীপক ও ‘অপরিচিতা’ গল্পের মধ্যকার সাদৃশ্যের দিকটি তুলে ধর।
ঘ. উদ্দীপকের রায়বাহাদুর এবং ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের মামা একসূত্রে গাঁথা।- মন্তব্যটি মূল্যায়ন কর।
ক. জ্ঞান
‘অপরিচিতা’ গল্পের হরিশ আসর জমাতে অদ্বিতীয়।
খ. অনুধাবন
মেয়ের বয়স পনেরো শুনে অনুপমের মামার মন ভার হলো। কারণ, তিনি মনে করলেন যে, ঐ মেয়ের বংশে কোনো দোষ আছে।
তখনকার সময়ে আট থেকে দশ বছর বয়সের মধ্যে কন্যার বিয়ে দেয়ার রীতি ছিল। এ সময়ের মধ্যে মেয়ের বিয়ে না হলে মনে করা হতো মেয়ের বংশে কোনো দোষ আছে। যে কারণে মেয়ের বিয়ে হচ্ছে না। যে মেয়ের সাথে অনুপমের বিয়ের কথা চলছিল তার বয়স পনেরো। পনেরো বছর বয়সেও মেয়ের বিয়ে হয়নি, এমনটি ভেবে অনুপমের মামার মন ভার হলো।
গ. প্রয়োগ
বরপক্ষের অমানবিক আচরণের দিক থেকে উদ্দীপক ও ‘অপরিচিতা’ গল্পের মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে।
যৌতুক প্রথা আমাদের সমাজকে আষ্টেপৃষ্ঠে আঁকড়ে ধরেছে। এর কারণে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে অনেক মেয়ের জীবন। যৌতুকের কারণে বরপক্ষ কখনো কখনো হয়ে ওঠে অত্যন্ত অমানবিক। মূলত যারা যৌতুক দাবি করে তারা ব্যক্তিত্বহীন, অমানুষ।
‘অপরিচিতা’ গল্পে ব্যক্তিত্বহীনতা, অমানবিকতার এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত অনুপমের মামা। বেছে বেছে তিনি এমন একজন পাত্রী নির্বাচন করেন যার বাবা মেয়ের জন্য সর্বস্ব উজাড় করে দিতে কুণ্ঠিত হবেন না। কল্যাণীর বাবা মেয়ের বিয়েতে নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেন। কিন্তু বরপক্ষ বিশেষত বরের মামা তার অমানবিকতার চূড়ান্ত পরিচয় দিয়েছেন স্যাকরা নিয়ে এসে মেয়ের গহনা যাচাই করতে চেয়ে। উদ্দীপকেও বরপক্ষের এমন অমানবিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। বরপক্ষ বিয়েতে বিশ হাজার টাকা পণ এবং বহু দানসামগ্রী দাবি করে। কন্যার বাবা পুরো টাকা জোগাড় করতে পারেনি। এ ব্যাপারটি জানার পর বিবাহসভায় বরের বাবা পুরো টাকা হাতে না পেলে বিয়ে হবে না বলে জানিয়ে দেয়।
ঘ. উচ্চতর দক্ষতা
“উদ্দীপকের রায়বাহাদুর এবং ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের মামা একসূত্রে গাঁথা।” মন্তব্যটি যথার্থ।
যারা যৌতুক দাবি করে তারা লোভী, নিষ্ঠুর, অমানুষ। বিয়েতে নিজেদের দাবিকৃত পণ না পেলে তাদের এসব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সহজেই ধরা পড়ে। এমনকি চাহিদামাফিক যৌতুক না পেলে তারা বিয়ের আসর ত্যাগ করার মতো সিদ্ধান্ত নিতেও দ্বিধা করে না। তাদের এ ধরনের আচরণ সত্যিই অমানবিক।
‘অপরিচিতা’ গল্পে মামা অনুপমের বিয়েতে টাকা ও গহনা যৌতুক হিসেবে দাবি করেন এবং কন্যার পিতা এতে সম্মত হন। বিয়ের দিন, বিয়ে অনুষ্ঠানের ঠিক কিছুক্ষণ আগে তিনি কন্যার বাবাকে কন্যার গা থেকে গহনাগুলো খুলে আনতে বলেন; তিনি তা স্যাকরা দিয়ে যাচাই করাবেন। মামা এ ধরনের আচরণ ও কথাবার্তায় তার হীনতা, লোভ ও অমানবিকতারই পরিচয় দেন। উদ্দীপকের রায়বাহাদুরও অনুপমের মামার মতোই লোভী। তিনিও কন্যাপক্ষের কাছে অঢেল যৌতুক দাবি করেন। কিন্তু কন্যার পিতা তা দিতে অসমর্থ হলে তিনি বিয়ের আসর থেকে চলে যাওয়ার হুমকি দেন।
‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের মামা এবং উদ্দীপকের রায়বাহাদুর উভয়ই সমগোত্রীয়। তারা লোভী, হীন ও অমানবিক। এ কারণেই তারা একসূত্রে গাঁথা। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
আরো ও সাজেশন:-
নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং সৃজনশীল প্রশ্নগুলোর উত্তর দাওঃ
আমাদের অন্যতম ব্যবসায়- পাস বিক্রয়। এই পাস বিক্রেতার নাম ‘বর’ এবং ক্রেতাকে ‘শ্বশুর’ বলে। এক একটি পাসের মূল্য কত জান? “অর্ধেক রাজত্ব ও এক রাজকুমারী”। এম. এ. পাস অমূল্যরত্ন, ইহা যে-সে ক্রেতার ক্রেয় নহে। নিতান্ত সস্তা দরে বিক্রয় হইলে, মূল্য- এক রাজকুমারী এবং সমুদয় রাজত্ব। আমরা অলস, তরলমতি, শ্রমকাতর, কোমলাঙ্গ বাঙালি কিনা তাই ভাবিয়া দেখিয়াছি, সশরীরে পরিশ্রম করিয়া মুদ্রালাভ করা অপেক্ষা ঙষফ ভড়ড়ষ শ্বশুরের যথাসর্বস্ব লুণ্ঠন করা সহজ।
ক. বিয়ে ভাঙার পর থেকে কল্যাণী কীসের ব্রত গ্রহণ করেছে?
খ. কোনো কিছুর জন্যই অনুপমকে কোনো ভাবনা ভাবতে হয় না কেন?
গ. উদ্দীপকটি ‘অপরিচিতা’ গল্পের কোন দিকটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ?- ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘অপরিচিতা’ গল্পের আংশিক প্রতিফলন মাত্র।- মন্তব্যটির যথার্থতা প্রমাণ কর।
ক. জ্ঞান
বিয়ে ভাঙার পর থেকে কল্যাণী মেয়ে শিক্ষার ব্রত গ্রহণ করেছে।
খ. অনুধাবন
মামা অনুপমদের সংসারটাকে চারদিক থেকে এমনভাবে ঘিরে রেখেছেন যে, কোনোকিছুর জন্যই তাকে কোনো ভাবনা ভাবতে হয় না।
অনুপমের বাবা বেঁচে নেই, মা আছেন। তবে মা থাকলেও তার আসল অভিভাবক তার মামা। তিনি সংসারের সবকিছুর ভার নিজের কাঁধে নিয়েছেন, সংসারের সকল ভাবনা তার। কেননা তিনি তাঁর বিচক্ষণতা দিয়ে সবাইকে হটিয়ে অনুপমদের স্বার্থরক্ষা করে এসেছেন এতকাল। এ কারণেই কোনোকিছু নিয়ে অনুপমকে কোনো ভাবনা ভাবতে হয় না।
আরি পড়ুন ›Alim/আলিম বালাগাত ও মানতিক সংক্ষিপ্ত সাজেশন, ফাইনাল সাজেশন আলিম বালাগাত ও মানতিক, Alim Balagat O Mantik Suggestion 100% Common Guaranty, Special Short Suggestion Alim Suggestion Balagat O MantikAlim/আলিম বালাগাত ও মানতিক সংক্ষিপ্ত সাজেশন, ফাইনাল সাজেশন আলিম বালাগাত ও মানতিক, Alim Balagat…
আরি পড়ুন ›ডিগ্রী ইসলামের ইতিহাস ৪র্থ পত্র সাজেশনডিগ্রী ইসলামের ইতিহাস ৪র্থ পত্র সাজেশন 2026 জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রী পাস এবং সার্টিফিকেট কোর্স…
আরি পড়ুন ›উদ্ভিদবিজ্ঞান কি? | উদ্ভিদবিজ্ঞান বলতে কী বুঝ? |উদ্ভিদবিজ্ঞান সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা কর | উদ্ভিদবিজ্ঞান কাকে বলে?উদ্ভিদবিজ্ঞান কি? | উদ্ভিদবিজ্ঞান বলতে কী বুঝ? |উদ্ভিদবিজ্ঞান সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা কর | উদ্ভিদবিজ্ঞান…
গ. প্রয়োগ
আমাদের সমাজব্যবস্থায় পণপ্রথাকে যেভাবে বিবেচনা করা হয় ‘অপরিচিতা’ গল্পের সে বিষয়টির প্রতি উদ্দীপকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
আমাদের সমাজে বরপক্ষ যৌতুককে নিজেদের প্রাপ্য হিসেবেই মনে করে। যে ছেলে যত বেশি যোগ্য, তার মূল্য তত বেশি। অর্থাৎ ছেলের যোগ্যতাকে যৌতুকের মাপকাঠি হিসেবে ধরা হয়।
‘অপরিচিতা’ গল্পে বর এমএ পাস এবং ধনী। আর সে কারণেই অনেক বড় ঘর থেকে তার বিয়ের সম্বন্ধ আসে। তার মামা অবশেষে এমন একটি মেয়ের সাথে তার বিয়ে ঠিক করে, যার বাবা বরকে সর্বস্ব দিতে কসুর করবে না। উদ্দীপকেও এ বিষয়টি লক্ষ করি। এখানে বরকে বলা হয়েছে বিক্রেতা এবং শ্বশুরকে বলা হয়েছে ক্রেতা। মেয়ের বাবা তার সর্বস্ব দিয়ে মেয়ের বিয়ে দিয়ে এক অর্থে জামাই ক্রয় করেন।
ঘ. উচ্চতর দক্ষতা
উদ্দীপকটি ‘অপরিচিতা’ গল্পের আংশিক প্রতিফলন মাত্র।- মন্তব্যটি যথার্থ।
কন্যার বিয়ের কথা ভাবতে গেলে পরিবারকে প্রথমে যৌতুক নিয়ে ভাবতে হয় । কারণ মোটা অঙ্কের যৌতুক দিতে না পারলে মেয়েকে যোগ্য বরের সাথে বিয়ে দেয়া যাবে না। এ বিষয়টি আমাদের সমাজে এমনভাবেই প্রচলিত হয়ে গেছে যে, এটাকে একটা প্রথাই মনে করা হয়। মূলত বরপক্ষ এটাকে নিজেদের প্রাপ্য হিসেবেই গণ্য করে থাকে।
‘অপরিচিতা’ গল্পে বর এমএ পাস বিধায় তার পরিবারের যৌতুকের দাবিও বেশি। কন্যার বাবাকে চাপ দিয়ে যে-কোনো মূল্যে তারা বিশেষত অনুপমের মামা তা কড়ায়-গণ্ডায় আদায় করতে বদ্ধপরিকর। উদ্দীপকেও যৌতুক প্রথার এ বিষয়টি লক্ষ করি। উদ্দীপকে বিধৃত হয়েছে যে, আমাদের দেশের ছেলেরা তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিনিময়ে জোরপূর্বক আদায় করে শ্বশুরের সর্বস্ব। এ ব্যবস্থাই যুগ যুগ ধরে আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে।
‘অপরিচিতা’ গল্পের মূল বিষয় যৌতুক প্রথা হলেও এতে আছে এই নিকৃষ্ট সামাজিক প্রথার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের চিত্র। কল্যাণী এবং তার বাবা শম্ভুনাথ বাবু প্রতিবাদী চরিত্রের দৃষ্টান্ত। অন্যদিকে উদ্দীপকে কেবল যৌতুক প্রথার চিত্রই ফুটে উঠেছে। এদিক বিচার করে তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং সৃজনশীল প্রশ্নগুলোর উত্তর দাওঃ
গ্রামের সকল লোক ধুমধামের শবযাত্রা ভিড় করিয়া দেখিতে আসিল। মেয়েরা কাঁদিতে কাঁদিতে মায়ের দুই পায়ে গাঢ় করিয়া আলতা এবং মাথায় ঘন করিয়া সিন্দুর লেপিয়া দিল, বধূরা ললাট চন্দনে চর্চিত করিয়া বহুমূল্য বস্ত্রে শাশুড়ির দেহ আচ্ছাদিত করিয়া দিয়া আঁচল দিয়া তাঁহার শেষ পদধূলি মুছাইয়া লইল। পুষ্পে, পত্রে, গন্ধে, মাল্যে, কলরবে মনে হইল না এ কোনো শোকের ব্যাপার- এ যেন বড় বাড়ির গৃহিণী পঞ্চাশ বর্ষ পরে আর একবার নতুন করিয়া তাঁহার স্বামীগৃহে যাত্রা করিতেছেন।
ক. কলিকাতার বাইরের বাকি জগৎটাকে মামা কী বলে জানেন?
খ. কল্যাণীর পিতার আর্থিক অবস্থা কেমন ছিল?
গ. উদ্দীপকটি ‘অপরিচিতা’ গল্পের সাথে কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ?- ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘অপরিচিতা’ গল্পের বিশেষ একটি দিককেই নির্দেশ করে, পুরো বিষয়কে নয়।”- মন্তব্যটি আলোচনা কর।
ক. জ্ঞান
কলকাতার বাইরের বাকি জগৎটাকে মামা আন্দামান দ্বীপের অন্তর্গত বলে জানেন।
খ. অনুধাবন
কল্যাণীর পিতার আর্থিক অবস্থা খুবই অপ্রতুল ছিল।
কল্যাণীর পিতার পূর্বপুরুষদের আমলে লক্ষীর মঙ্গলঘট ভরা ছিল। এখন তা শূন্য বললেই হয়, যদিও তলায় সামান্য কিছু বাকি আছে। দেশে বংশ মর্যাদা রক্ষা করে চলা সহজ নয় বলে তিনি পশ্চিমে গিয়ে বাস করছেন। সেখানে গরিব গৃহস্থের মতোই থাকেন।
গ. প্রয়োগ
উদ্দীপকের সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের বিয়ের অনুষ্ঠানাদির আড়ম্বরের বাড়াবাড়ির বিষয়টি সাদৃশ্যপূর্ণ।
সমাজবদ্ধ জীব মানুষ তার দৈনন্দিন নানা কার্যকলাপ ও পারস্পরিক লেনদেন এবং নানা উৎসব-অনুষ্ঠানাদিতে সামাজিকতার পরিচয় দেয়। সামাজিক এসব অনুষ্ঠান মূলত পারস্পরিক সৌহার্দ ও সৌজন্যের বহিঃপ্রকাশ। সমাজের কিছু বৈষয়িক ও স্বার্থবাদী মানুষ এমন অনুষ্ঠানগুলোকেও আড়ম্বর প্রকাশ ও অন্যের বিড়ম্বনার কারণে পরিণত করে তুলেছে।’
উদ্দীপকে মৃতের সৎকারের মতো একটি শোকাবহ অনুষ্ঠানকে অর্থের প্রাচুর্য ও তার বহিঃপ্রকাশে অনুরূপভাবে আড়ম্বরের বাড়াবাড়ি ফুটে উঠেছে। আড়ম্বর ও প্রাচুর্যের নির্দয় বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ‘অপরিচিতা’ গল্পের বিয়ের অনুষ্ঠানটিতেও। সেখানে গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে এত বাহক যায় যে, তাদের বিদায় করতে কনেপক্ষকে রীতিমতো নাকাল হতে হয়েছে। তারপর বিয়ের দিন ব্যান্ড, বাঁশি, শখের কনসার্ট প্রভৃতি যত প্রকার উচ্চশব্দ আছে সব একসঙ্গে মিশিয়ে বর্বর কোলাহলে বরযাত্রী দল সংগীতসরস্বতীর পদ্মবন মত্তহস্তীর ন্যায় দলিত-বিদলিত করে বিয়েবাড়িতে গিয়ে চড়াও হয়েছিল।
ঘ. উচ্চতর দক্ষতা
উদ্দীপকটি ‘অপরিচিতা’ গল্পের বিশেষ একটি দিককেই নির্দেশ করে, পুরো বিষয়কে নয়- শীর্ষক বক্তব্যটি যুক্তিযুক্ত ও যথার্থ।
অর্থলোভী মানুষের কাছে অর্থই সব। আদর্শ, নৈতিক মূল্যবোধ, শিক্ষা সবকিছুই তাদের কাছে অর্থহীন। যে-কোনো মূল্যে তারা অর্থ ও নিজেদের প্রাধান্যকেই কামনা করে। তারা জীবনের সব ক্ষেত্রেই অর্থ ও প্রাধান্যের সমাগম চায়। স্কুল, কলেজে দু-চারটা পা দেয়া সন্তানকে অর্থ উপার্জনের রাস্তা হিসেবে তারা জ্ঞান করে। এতে অপরপক্ষের দুর্ভোগ ও অবমাননার কথা তাদের চেতনায় ন্যূনতম নাড়া দেয় না।
উদ্দীপকে অর্থবিত্তের প্রাচুর্য প্রকাশের এক বিশেষ দিক ফুটে উঠেছে। সেখানে মৃতের সৎকারের মতো একটি শোকাবহ ঘটনা আর শোকাবহ থাকেনি, হয়ে উঠেছে আড়ম্বরপূর্ণ উৎসববিশেষ। ‘অপরিচিতা’ গল্পেও বিয়ের অনুষ্ঠানে বরপক্ষ কনেপক্ষের উপর তাদের অর্থবিত্তের প্রাচুর্যের এমনি উৎকট প্রদর্শনী দেখায় যে, কনেপক্ষের জন্য তা দুর্ভোগের অবমাননার বিষয়ে পরিণত হয়। উদ্দীপকটি গল্পের এ বিষয়টি তুলে ধরলেও এটি গল্পের এক বিশেষ দিক বা অংশবিশেষ মাত্র।
‘অপরিচিতা’ গল্পে পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় পুরুষের আধিপত্য, নারীর প্রতি অবমাননা, দু-চারটা পরীক্ষা পাসের বিপরীতে সামাজিক ও আর্থিক নানা সুবিধা লাভ, বৈষয়িক লোকের অর্থলিপ্সা এবং নারীর অন্তর্নিহিত শক্তির বিজয়বার্তা ঘোষিত হয়েছে। অন্যদিকে উদ্দীপকে গল্পের সামাজিক অনুষ্ঠানাদির আড়ম্বরতা ফুটে উঠেছে মাত্র। এভাবে প্রশ্নোক্ত বক্তব্যটি যুক্তিযুক্ত ও যথার্থ।
নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং সৃজনশীল প্রশ্নগুলোর উত্তর দাওঃ
ফরিদপুর জেলার অন্তর্গত সদর থানার একদল মানুষ বরযাত্রীকে গণধোলাই দিয়ে বিয়ের আসর থেকে তাড়িয়ে দেয়। আর এ বরপক্ষ ছিল বরিশালের গৌরনদী থানার অন্তর্গত চরগ্রামের অধিবাসী। বিয়ের এক পর্যায়ে কাবিননামার দেনমোহরের পরিমাণ ধার্যের বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। বরপক্ষের অস্বাভাবিক আচরণে কন্যাপক্ষের একজন রাগান্বিত হয়ে ওঠে এবং তৎক্ষণাৎ মারামারি বেঁধে যায়। শেষ পর্যন্ত বরপক্ষকে জরিমানা দিয়ে বিয়ের মঞ্চ ত্যাগ করতে হয়।
ক. হবিশ কোথায় কাজ করে?
খ. সমস্ত মন যে সেই অপরিচিতার পানে ছুটিয়া গিয়াছিল- কেন?
গ. উদ্দীপকের ঘটনার সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের সাদৃশ্য দেখাও।
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত সমাজব্যবস্থা ‘অপরিচিতা’ গল্পের সমাজব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ- বিচার কর।
ক. জ্ঞান
হবিশ কানপুরে কাজ করে।
খ. অনুধাবন
‘অপরিচিতা’ গল্পের নায়ক অনুপমের মনটা ছুটে গেল তার কল্পলোকের রাজকন্যা কল্যাণীর দিকে।
অনুপম তার মা ও মামার একান্ত অনুগত আদরের ছেলে। তাদের মুখের উপর কোনো কথা বলার বা সিদ্ধান্ত নেয়ার সাহস বা ইচ্ছা তার ছিল না। সংগত কারণেই আজ তার ভাগ্যে এ করুণ পরিণতি। মামার লোভী মানসিকতা আর শ্বশুরের অপমানবোধের কারণে তার বিয়েটা হতে গিয়েও হলো না। কিন্তু অনুপমের মনটা আজও কিছু একটার অভাব অনুভব করে। দিবা-রাত্রি সে তার প্রেয়সীর পানে ছুটে যেতে চায়। কিন্তু সে তো আজও অপরিচিতা, অচেনা।
গ. প্রয়োগ
উদ্দীপকের সাথে অপরিচিতা গল্পের কাহিনি অনেকটা সাদৃশ্যপূর্ণ। আর এ সাদৃশ্যের বিষয় হলো যৌতুক।
আমাদের দেশে যৌতুক বা পণপ্রথা একটা মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি। এ সমাজে মেয়ে বিয়ে দিতে গিয়ে বাবাকে অনেক ধকল সহ্য করতে হয়। এমনকি অনেক বাবা তাঁর সঞ্চয়ের সবটুকু দিয়েও মেয়ের শ্বশুর পক্ষের মন খুশি করতে ব্যর্থ হন। তেমনি বিয়ের কাবিননামার দেনমোহরের পরিমাণ ধার্যের ব্যাপারেও অনেক জটিলতার সৃষ্টি হয়। আর সংগত কারণে অনেক ছেলেমেয়ের জীবনে নেমে আসে অশান্তির ঘোর অন্ধকার।
উদ্দীপকে আমরা লক্ষ করেছি যে, এক বরযাত্রীদের দল বিয়ে করতে এসে মেয়েপক্ষের কাছে অপমানিত হয়ে ফিরে যায়। বরিশালের গৌরনদী থানার অধিবাসী বরপক্ষ ফরিদপুরের সদরে বিয়ে করতে গিয়ে এ ঘটনার শিকার হয়। তবে এক্ষেত্রে যৌতুক নয়, কাবিননামার দেনমোহরের পরিমাণ ধার্যের বিষয়ে সমস্যা বাঁধে এবং এক পর্যায়ে মারামারিও শুরু হয়। অপরদিকে ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের বিয়ে ভাঙার একমাত্র কারণ হলো মামার হীন ও লোভী দৃষ্টিভঙ্গি এবং শম্ভুনাথের অপমানবোধ। উদ্দীপক ও ‘অপরিচিতা’ উভয় ক্ষেত্রেই বরপক্ষের হীন ও লোভী মানসিকতার কারণে বিয়ে ভেঙে যায়। আর এদিক থেকে উদ্দীপকের ঘটনার সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
ঘ. উচ্চতর দক্ষতা
উদ্দীপকের সমাজ ব্যবস্থার সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের সমাজব্যবস্থা বহুলাংশে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর এটা হলো বিয়ে সম্পর্কিত জটিলতা ও কুসংস্কার।
বিয়েতে পণপ্রথা, যৌতুক, দেনমোহর ইত্যাদি বিষয়গুলো আদিকাল থেকেই আজ পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে চলে আসছে। আর এ ধরনের কুপ্রথার প্রভাব আমাদের সকলকেই বহন করতে হচ্ছে। একদিকে ছেলে পক্ষের লোভী দৃষ্টিভঙ্গি, অন্যদিকে কন্যাপক্ষের না দিতে পারার দুর্বলতা। এ দু’য়ের কারণে উভয়ের জীবনে নানা প্রকার অশান্তি সৃষ্টি হয়, যার ফল উভয় পক্ষকেই বহন করতে হয়।
উদ্দীপকে আমরা লক্ষ করি, পুরুষদের অসৎ পরিকল্পনা ও অমানবিকতার পরিচয়। কারণ উক্ত বরপক্ষের কাবিননামার দেনমোহরের পরিমাণ ধার্যের বিষয়ে নিচু মনমানসিকতার পরিচয় পাওয়া গেছে। এমনকি মারামারিও হয়েছে অনেক। আবার ‘অপরিচিতা’ গল্পে দেখা গেছে অনুপমের মামা তাঁর দাবি অনুযায়ী সকল গহনা পাওয়ার পরও অবিশ্বাসের কারণে শম্ভুনাথের কাছে লোভী স্বার্থপর বলে পরিচিত হয়েছে। এমনকি সংগত কারণে বিয়েটা ভেঙে যায়।
উদ্দীপক ও অপরিচিতা উভয় ক্ষেত্রেই আমরা এ সমাজের মানুষের লোভ, স্বার্থপরতা ও নিচু মানসিকতার পরিচয় পেয়েছি। তাছাড়া পরিণতিও এক রকম। অর্থাৎ বিয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া আর এর কারণ হিসেবে উদ্দীপক ও ‘অপরিচিতা’ গল্প উভয় ক্ষেত্রেই বরপক্ষের দোষ ফুটে উঠেছে। তাই উভয় সমাজ ব্যবস্থাতেই সামাজিক অসংগতি ও বিবাহরীতির জটিলতা ফুটে উঠেছে।
নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং সৃজনশীল প্রশ্নগুলোর উত্তর দাওঃ
ছবি দেখে পাত্রীটিকে তুহিনের বেশ পছন্দ হয়েছিল। কিন্তু তার বড় মামা, যিনি তুহিনদের সংসারের আসল অভিভাবক- মেয়ে দেখে এসে বললেন, মেয়ের পরিবার বড় বেশি বড়লোক। তাই সেখানে সম্বন্ধ করা চলে না। তুহিন লাজলজ্জার মাথা খেয়ে বলেই ফেলল, বড়লোক হওয়াটা কি দোষের? মামা চোখ নাচিয়ে, মাথা ঝাঁকিয়ে বিজ্ঞের মতো বললেন, মুরব্বিরা বলে গেছেন, মেয়ে বিয়ে দেবে বড় ঘরে, কিন্তু ছেলে বিয়ে করাবে ছোট ঘরে। ছোট ঘরের মেয়ে আর মেয়ের জ্ঞাতি-স্বজনকে সহজেই চেপে রাখা যায়। আবার আদর-আপ্যায়ন ও পাওনাটাও ঘাড় ধরে আদায় করা যায়।
ক. কার চেহারা চোখে পড়ার মতো?
খ. “ভালো মানুষ হওয়ার কোনো ঝঞ্ঝাট নাই।”- কেন?
গ. উদ্দীপকের মামা ‘অপরিচিতা’ গল্পের কোন চরিত্রের সাথে কতটুকু সাদৃশ্যপূর্ণ?
ঘ. উদ্দীপকের মামা ও ‘অপরিচিতা’ গল্পের মামা চরিত্রগত দিক থেকে একই আদর্শের অনুসারী।-মন্তব্যটির যথার্থতা প্রমাণ কর।
ক. জ্ঞান
শম্ভুনাথ বাবুর চেহারা চোখে পড়ার মতো ।
খ. অনুধাবন
সংসারের কোনো রকম দায়িত্ব কাঁধে না নিয়ে আপাত নিরুপদ্রব ও নির্ঝঞ্ঝাট জীবনযাপনকে ব্যঙ্গ করে অনুপম এ কথা বলেছে।
দায়িত্ববান সামাজিক মানুষ হিসেবে সমাজে বসবাস করতে গেলে মানুষকে সৎকাজে সহযোগিতা এবং অসৎ কাজে বিরোধিতা করতে হবে। ‘অপরিচিতা’ গল্পে কথক যেহেতু শিশুকাল থেকে কোলে কোলেই মানুষ এবং যৌবনেও তেমনটি রয়েছেন তাই তাকে সংসারের দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হতে হয়নি। আর বিরোধ-বিপত্তিমূলক কোনো কাজে না থেকে তথাকথিত ভালো মানুষ হওয়াটাকে কথক উপর্যুক্ত বাক্যে ব্যঙ্গ করেছেন।
গ. প্রয়োগ
উদ্দীপকের মামা ‘অপরিচিতা’ গল্পের কথক অনুপমের মামার চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
বিয়ে একটি সামাজিক নিয়ম। দুটি নর-নারীর মিলনের মাধ্যমে সামাজিক জীবনকে এগিয়ে নেয়ার এক সমাজসিদ্ধ প্রক্রিয়া। আগে দুটি নর-নারীর মধ্যকার মিলনের ব্যাপারটি একান্তভাবেই তাদের পরিবারের অভিভাবকদের মর্জিমাফিক ছিল। এ প্রথাগত বিয়েকে কেন্দ্র করে সমাজে নানা রুচি, পছন্দ, নীতি ও আচার-আচরণের সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে ফটো দেখে পাত্রী পছন্দ হলেও পাত্রের অভিভাবক মামা এক বিশেষ কারণে বিয়ে ভেঙে দিয়েছেন। তার যুক্তি হলো মেয়ের পরিবার বেশি বড়লোক। তাই সেখানে আত্মীয়তা করা চলে না। বিয়ে সম্বন্ধে উদ্দীপকের মামার এক বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গিও দেখা যায়। উদ্দীপকের অনুরূপ ‘অপরিচিতা’ গল্পেও কথক অনুপমের মামা তার আসল অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। বিয়ে সম্বন্ধে তারও বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। ধনীর কন্যা তারও পছন্দ নয়। তার মতে, তাদের ঘরে যে মেয়ে আসবে সে মাথা হেঁট করে আসবে। উদ্দীপকের মামার ভিতরেও অনুরূপ মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গি বিদ্যমান রয়েছে।
ঘ. উচ্চতর দক্ষতা
উদ্দীপকের মামা ও ‘অপরিচিতা’ গল্পের মামা চরিত্রগত দিক দিয়ে একই আদর্শের অনুসারী।- মন্তব্যটি যথার্থ।
পুরুষপ্রধান সমাজব্যবস্থার অন্যায় ও বৈষম্যটাকে স্থায়ী করতে সমাজপতিরা নানা কুসংস্কার ও প্রথা সৃষ্টি করেছে। বিয়ের মতো একটি সর্বজনীন প্রতিষ্ঠানেও তাদের কায়েমি স্বার্থ প্রতিষ্ঠায় নানা নিয়ম-রেওয়াজ ও সংস্কার প্রথার সংযোজন ঘটিয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, তুহিনের মামা বিয়ের জন্য কনে নির্বাচন প্রসঙ্গে এক বিশেষ মতের ধারক। অর্থাৎ, বড়লোকের মেয়েকে সংসারের বউ করে আনতে অনিচ্ছুক। তুহিন এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, মেয়ে বিয়ে দিতে হবে বড় ঘরে আর ছেলে বিয়ে করাতে হবে ছোট ঘরে। কেননা ছোট ঘরের মেয়ে আর মেয়ের জ্ঞাতি-স্বজনকে সহজেই চেপে রাখা যায়। আবার আদর-আপ্যায়ন ও পাওনাটাও ঘাড় ধরে আদায় করা যায়। উদ্দীপকের মামার এই চারিত্রিক আদর্শ ‘অপরিচিতা’ গল্পের কথক অনুপমের মামার চারিত্রিক আদর্শের সাথে মিলে যায়।
‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের মামার ভাগ্নেকে বিয়ে করানোর ক্ষেত্রে ধনীর কন্যা পছন্দ নয়। তিনি চান সংসারে যে মেয়ে আসবে সে মাথা হেঁট করে আসবে। তিনি এমন বেয়াই চান যার টাকা নেই অথচ সে টাকা দিতে কসুর করবে না। যাকে শোষণ করা চলবে অথচ বাড়িতে এলে গুড়গুড়ির পরিবর্তে বাঁধা হুঁকায় তামাক দিলে যার নালিশ খাটবে না। উদ্দীপকের মামা এবং ‘অপরিচিতা’ গল্পের মামা চরিত্রগত দিক দিয়ে একই মন-মানসিকতার ধারক-বাহক।
প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে ইমেল : info@banglanewsexpress.com
আমরা আছি নিচের সামাজিক মাধ্যম গুলোতে ও
আরি পড়ুন ›dakhil (দাখিল) আরবি ২য় পত্র ১১তম সপ্তাহের এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২, dakhil arabic 2nd paper assignment answer 11th week 2022, দাখিল ১১তম সপ্তাহের আরবি ২য় পত্র অ্যাসাইনমেন্ট ২০২২, dakhil arabic 2nd paper 11th week assignment answers 2022শ্রেণি: দাখিল /SSC/ 2022 বিষয়: পৌরনীতি এসাইনমেন্টেরের উত্তর 2022এসাইনমেন্টের ক্রমিক নংঃ 02 বিষয় কোডঃ…
আরি পড়ুন ›স্বাধীনতা যুদ্ধে আওয়ামী লীগের সাফল্য বর্ণনা কর, স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগ ও স্বাধীনতা যুদ্ধ,আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসস্বাধীনতা যুদ্ধে আওয়ামী লীগের সাফল্য বর্ণনা কর, স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগ…
আরি পড়ুন ›ডিগ্রি ১ম বর্ষ মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র স্পেশাল সাজেশন, ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ১০০% কমন মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র সাজেশন, degree 1st year psychology 1st paper super suggestionডিগ্রি ১ম বর্ষ মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র স্পেশাল সাজেশন 2026 জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রী পাস এবং…


