Subscribe Now!
বাংলানিউজ এক্সপ্রেসের এক্সক্লুসিভ সব আপডেট সবার আগে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।
My Ads
ইতিহাসজুড়ে নেতাদের পতন অনেক সময়ই সহিংস হয়েছে। তবে রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বিরল ও নাটকীয় ঘটনার মধ্যে অন্যতম হলো কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের আনুষ্ঠানিক মৃত্যুদণ্ড বা বিচারিক মৃত্যুদণ্ড। সাধারণত বিপ্লব, অভ্যুত্থান, গৃহযুদ্ধ বা গণ-অপরাধের বিচারের পর এ ধরনের ঘটনা ঘটে।
ইতিহাসে এমন অনেক রাজা, একনায়ক ও নির্বাচিত নেতাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে বা মৃত্যুদণ্ড পেয়েছিলেন এবং অনেকের ক্ষেত্রে কয়েক দশক পর আদালত পুনরায় রায় পর্যালোচনা করেছে।
বিশ্বের যেসব রাষ্ট্রপ্রধানের রায় মৃত্যুদণ্ড হয়েছে ,বিশ্বের যেসব প্রধানমন্ত্রী মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় ঘোষণা করেন। একই অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আদালত। অপর আসামি ও পরে রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের রায় দেন আদালত।
এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণা শুরু করেন। ট্রাইব্যুনালের বাকি সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। দুপুর সোয়া ১টার দিকে গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে বিভিন্নজনের সঙ্গে শেখ হাসিনার টেলিফোনে কথোপকথনগুলো পড়ে শোনানো হয়। এ ছাড়া গণহত্যার সংজ্ঞা এবং এই মামলায় বিভিন্ন সাক্ষীর সাক্ষ্য পড়ে শোনানো হয়।শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা প্রথম অভিযোগে তার মৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। তার বিরুদ্ধে আনা দ্বিতীয় অভিযোগে তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
ট্রাইব্যুনাল বলেন, অভিযুক্ত শেখ হাসিনা হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন।
গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা এটিই প্রথম মামলার রায়। গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি এই মামলার অন্য দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তিন আসামির মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান পলাতক। দুজনই এখন ভারতে অবস্থান করছেন। এই মামলায় একমাত্র আসামি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন আদালত কক্ষে উপস্থিত ছিলেন।রায় ঘোষণার সময় আদালত কক্ষে তাকে বিমর্ষ মুখে চুপচাপ রায় শুনতে দেখা গেছে। এর আগে সকালে কড়া নিরাপত্তায় সকালে কারাগার থেকে তাকে আদালতে আনা হয়। মাথা নিচু করে তিনি প্রিজন ভ্যান থেকে আদালতে প্রবেশ করেন।
বিশ্বের যেসব দেশের প্রধানমন্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া ও কার্যকর করা হয়েছে
১. পাকিস্তান – জুলফিকার আলী ভুট্টো
পাকিস্তানের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হত্যার অভিযোগে ১৯৭৯ সালে সামরিক সরকারের অধীনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। বিশ্বজুড়ে রায়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলা হয়েছে।
২. জাপান – হিদেকি তোজো
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী। যুদ্ধাপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ১৯৪৮ সালে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।
৩. রোমানিয়া – আয়ন অ্যান্টোনেস্কু
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে দেশটির নেতা ও প্রধানমন্ত্রী। যুদ্ধাপরাধের দায়ে ১৯৪৬ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর।
আরি পড়ুন ›স্টোর কিপার এর কাজ কি,একজন স্টোর কিপার ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?স্টোর কিপার এর কাজ কি,একজন স্টোর কিপার ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?, একজন স্টোর কিপার…
আরি পড়ুন ›High insurance premiumsHigh insurance premiums 2026 Insurance Interest Rates are the interest rates that insurance companies…
আরি পড়ুন ›Free Download link দুই হাজার বইয়েরএক সাথে দুই হাজার বই এর ডাউনলোড লিংক এখানে দুই হাজার বই এর লিংক…
৪. ইরাক – তায়ক ফয়সাল আল-গায়লানি (পরবর্তী বিচার)
ইরাকের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। ক্ষমতা হারানোর পর যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত বিচারে ১৯৫৮ সালের পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
৫. ইরাক – নুরি আল-সাঈদ
বহুবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৫৮ সালের বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং হত্যা করা হয়। বিচারের আনুষ্ঠানিকতা সীমিত ছিল।
৬. হাঙ্গেরি – ইমরে নাগি
১৯৫৬ সালের বিপ্লবের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী। সোভিয়েত-সমর্থিত সরকারের আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ১৯৫৮ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর।
৭. দক্ষিণ ভিয়েতনাম – নুয়েন কাও কি (ক্যু-পরবর্তী বিচার)
রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার সময়ে সামরিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল এবং পরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।
৮. রুয়ান্ডা – আগাথে উউইলিগিমানা (গণহত্যার সময়)
দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ১৯৯৪ সালের গণহত্যার শুরুর দিন সামরিক বাহিনীর একটি অংশ তাকে হত্যা করে। যদিও এটি আনুষ্ঠানিক আদালতের বিচারের পর নয়, সরকারিভাবে মৃত্যুদণ্ডাদেশের অংশ ছিল।
My Ads
৯. আফগানিস্তান – হাফিজুল্লাহ আমীন
প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপ্রধান দু’ ভূমিকাতেই ছিলেন। ১৯৭৯ সালে অভ্যন্তরীণ অভিযানের পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। আদালতীয় প্রক্রিয়া সীমিত ছিল।
১০. ইথিওপিয়া – তায়েফারি বাকালা (কমিটি-পরবর্তী বিশেষ আদালত)
ডার্গ শাসনামলের প্রধানমন্ত্রী। পরবর্তী বিপ্লবী আদালতের বিচারে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া এবং কার্যকর করা হয়।
আজকের : বিশ্বের যেসব রাষ্ট্রপ্রধানের রায় মৃত্যুদণ্ড হয়েছে ,বিশ্বের যেসব প্রধানমন্ত্রী মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে,বিশ্বের যেসব রাষ্ট্রপ্রধানের রায় হয়েছিল ফাঁসির,বিশ্বের যেসব প্রধানমন্ত্রী ফাঁসির দেওয়া হয়েছে,পৃথিবীর কোন কোন দেশের প্রধানমন্ত্রী মৃত্যুদণ্ড রায় দেওয়া হয়েছে,পৃথিবীর কোন কোন দেশের প্রধানমন্ত্রী ফাঁসির রায় দেওয়া হয়েছে,বিশ্বের ইতিহাসে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রপ্রধানরা
My Ads