Google Adsense Ads
বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি ও করণীয়
প্রত্যেকটি শিক্ষার্থীই উন্নত দেশে উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে। উন্নত বিশ্বের কয়েকটি দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ এবং অবকাঠামো অনবদ্য। যদি সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী স্বপ্নের পিছে না ছুটে অপরিকল্পিতভাবে ছুটে বেড়ানো হয় তখন এই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। স্নাতক শেষে ভাবছেন যে স্নাতকোত্তর দেশে করবেন নাকি বাহিরে করবেন। সিদ্ধান্ত একান্তই আপনার। বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি ও করণীয়, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পড়তে গেলে যা যা দরকার হবে
তবে আপনি যদি ভিন্ন দেশে পড়াশুনা, সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা পেতে চান কিংবা পড়াশুনা পরিবেশে পরিবর্তন চান, তাহলে স্নাতকোত্তর করতে বাহিরে যেতেই পারেন। তাছাড়া বিশ্বের প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয়ই স্নাতকোত্তরের জন্য সবচেয়ে বেশী স্কলারশিপ প্রদান করে থাকে। এছাড়া স্নাতকোত্তরের কোর্স দুই বছরের হওয়ায় আপনার শুধু দুই বছরের টিউশন ফি পরিশোধ হবে করতে হবে। খন্ডকালীন চাকুরির সুযোগ তো রয়েছেই।

বিদেশে উচ্চশিক্ষা: সঠিক গাইডলাইন ও স্কলারশিপের সুযোগ
বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য কোন দেশ বেছে নেবেন? স্কলারশিপ, ভিসা, আবেদন প্রক্রিয়া, খরচ ও বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিস্তারিত তথ্য জেনে নিন এক লেখায়।
কেন বিদেশে উচ্চশিক্ষা করবেন?
প্রত্যেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থাকে উন্নত দেশে পড়াশোনা করার। উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মানসম্মত শিক্ষা, আধুনিক অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার সুযোগ দিয়ে থাকে। তবে পরিকল্পনা ছাড়া বিদেশে পড়াশোনার চেষ্টা করলে স্বপ্ন ভেঙে যেতে পারে।
আপনি যদি সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা, নতুন পড়াশোনার পরিবেশ এবং বেশি স্কলারশিপ চান, তবে বিদেশে মাস্টার্স বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি করা হতে পারে সেরা সিদ্ধান্ত।
আরো পড়ুন: অনলাইনে করুন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট
বিদেশে উচ্চশিক্ষার ধাপে ধাপে গাইড
১. দেশ নির্বাচন
সবার আগে ঠিক করতে হবে কোন দেশে পড়াশোনা করবেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, মালয়েশিয়া, জার্মানি, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, নেদারল্যান্ডসসহ অনেক দেশ মানসম্মত শিক্ষা প্রদান করে।
২. বিষয় ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি ও করণীয়
আপনার বাজেট, ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার, স্কলারশিপের সুযোগ দেখে বিষয় ও বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নিতে হবে। জনপ্রিয় বিষয়সমূহ—
- মেডিকেল
- ইঞ্জিনিয়ারিং
- ব্যবসা প্রশাসন (MBA)
- আর্টস ও সায়েন্স
- মেরিন স্টাডিজ
৩. সঠিক সময় নির্বাচন
প্রতিটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির আলাদা টাইমলাইন থাকে। যেমন:
- যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা: Fall Session (আগস্ট–জানুয়ারি), Winter Session (এপ্রিল–মে)
- ইউরোপ: দেশ ভেদে ভিন্ন
👉 অন্তত ১০–১২ মাস আগে থেকে প্রস্তুতি শুরু করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
৪. খরচ ও স্কলারশিপ
বিদেশে পড়াশোনার খরচ দেশের ওপর নির্ভর করে। স্কলারশিপ নিতে চাইলে খেয়াল রাখতে হবে—
- কতদিনের জন্য স্কলারশিপ
- নবায়নযোগ্য কিনা
- কোন খরচ কাভার করবে
৫. ভর্তির শর্ত
প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ই ইংরেজি ভাষার দক্ষতা চায়।
- IELTS
- TOEFL
- GRE / GMAT (কিছু দেশে)
৬. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- ট্রান্সক্রিপ্ট
- সনদপত্র
- সুপারিশপত্র (Recommendation Letter)
- জীবনবৃত্তান্ত (CV)
- স্টেটমেন্ট অব পারপাস (SOP)
৭. আবেদন প্রক্রিয়া
বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া থাকে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভারত, মালয়েশিয়া, চীন, ফ্রান্স, ফিনল্যান্ড তুলনামূলক সহজ।
বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা (Top Universities for Higher Study)
1. অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় (University of Oxford)
ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় হলো ইংরেজি কথ্য বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গবেষণাগ্রন্থ প্রতিষ্ঠান; ধারণ করা হয় বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো ইংরেজি-ভাষার বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে। এটি ৩০টি নোবেল বিজয়ী, বহু রাষ্ট্রনেতা ও অলিম্পিক পদকার্থীর গর্ব—বিশেষ করে এর টিউটোরিয়াল শিক্ষার পদ্ধতি শিক্ষাবিদ্যায়ের মান উজ্জীবিত করে।
2. স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় (Stanford University)
আমেরিকার সিলিকন ভ্যালির নিকটে অবস্থিত স্ট্যানফোর্ড অন্যতম উচ্চপ্রযুক্তি ও ব্যবসায় প্রবণ প্রতিষ্ঠান। এটি গবেষণা-ভিত্তিক ও উদ্ভাবনোন্মুখ। অনেক বড় প্রযুক্তি সংস্থা এবং উদ্যোক্তার জন্ম এখানে—যার মধ্যে আছে গুগল, ইউটিউব, ইন্সটাগ্রাম সংস্থাগুলো।
3. হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় (Harvard University)
উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে পুরনো (১৬৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত) এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম। বিশাল পরিমাণ সম্পদ, নোবেল বিজয়ী, প্রিন্স ও রাষ্ট্রপতির শিক্ষার্থী—এই প্রতিষ্ঠান ঐতিহ্য ও গবেষণার কেন্দ্র।
4. এমআইটি (Massachusetts Institute of Technology)
কেম্ব্রিজ, ম্যাসাচুসেটসের এই প্রতিষ্ঠান পৃথিবীর শীর্ষ গবেষণা ও প্রযুক্তি শিক্ষা সংস্থাগুলোর একটি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ১০০+ নোবেল-লাভার শিক্ষার্থীসহ, এটি ভবিষ্যতের উদ্ভাবকদের গড়ার ক্ষেত্রে অগ্রগামী।
Google Adsense Ads
5. ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় (University of Cambridge)
সন ১২০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত, ক্যামব্রিজ একটি ঐতিহাসিক ও গবেষণাটেট প্রতিষ্ঠান। নিউটন, ডারউইনসহ অনেক বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও লেখক এখানে অধ্যয়ন করেছেন। ৮০+ নোবেল বিজয়ী ফ্যাকাল্টি ও ভুক্তভোগী ছড়িয়েছে এর অতিপ্রতিষ্ঠিত আদর্শে।
6. ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় (Yale University)
১৭০১ সালে প্রতিষ্ঠিত ইয়েল যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় ও আইভি লিগের অন্যতম সদস্য। বৈজ্ঞানিক, মানবিক ও সামাজিক গবেষণার ক্ষেত্রে শীর্ষস্থান অধিকারী।
7. ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে (UC Berkeley)
১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত, বার্কলে পাবলিক ল্যান্ড-গ্ৰান্ট গবেষণাপ্রতিষ্ঠান। এটি উচ্চ গবেষণাগত কার্যক্রম, বিশাল গ্রন্থাগার ও গবেষণা স্তরে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।
8. প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় (Princeton University)
নিউ জার্সি-তে অবস্থিত একটি উচ্চমানের গবেষণা ও শিক্ষক-প্রতিষ্ঠান—আইভি লিগের অংশ। প্রধানত মানবিক, বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য পরিচিত।
9. ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো (University of Chicago)
১৮৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি শক্তিশালী গবেষণার কেন্দ্র, যেখানে অর্থনীতি, সামাজিক বিজ্ঞানে বিশ্বখ্যাত “Chicago School” গড়েছে। নিউক্লিয়ার প্রতিক্রিয়ার পরীক্ষাসহ গবেষণায় অনন্য আবিস্কার এখানে ঘটেছে।
10. ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন (Imperial College London)
লন্ডনে ১৯০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, চিকিৎসা ও ব্যবসায় অগ্রগণ্য। স্বল্প সময়ের মধ্যেই QS বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় অবস্থান অর্জন করেছে। প্রযুক্তি-নির্ভর গবেষণার অনন্য কারিকুলাম ও অবকাঠামো এখানে রয়েছে।
এছাড়াও আরো উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় হলোঃ
* ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস।
* ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়েস।
* ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি।
* ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো।
* কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি।
* ইউনিভার্সিটি অব পেনিসিলভানিয়া।
* কর্নেল ইউনিভার্সিটি।
* ডিউক ইউনিভার্সিটি।
* ব্রাউন ইউনিভার্সিটি।
* ইউনিভার্সিটি অব উইজকনসিন।
* ইউনিভার্সিটি অব অ্যামস্টারডাম।
* ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন।
* ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলিনা।
* ইউনিভার্সিটি অব গ্লাসগো।
* ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টার।
* ইউনিভার্সিটি অব ওয়াররিক।
* ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন।
* ইউনিভার্সিটি অব এডিনবার্গ।
* লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস।
* হ্যামবার্গ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিস।
* কার্লশ্রুহে ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি।
* টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব মিউনিখ।
* ইউনিভার্সিটি অব বন।
* ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড।
* ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া।
* ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ড।
* ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ওয়েলস।
* মোনাশ ইউনিভার্সিটি।
* ইউনিভার্সিটি অব সিডনি।
* অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
* ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্ন।
* কিং আব্দুল-আজিজ ইউনিভার্সিটি।
* কিং ফাহাদ ইউনিভার্সিটি অফ পেট্রোলিয়াম এন্ড মিনারেলস।
বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ টিপস
✔️ কোন দেশে পড়বেন তা ঠিক করার আগে খরচ, স্কলারশিপ ও পার্ট-টাইম চাকরির সুযোগ বিবেচনা করুন।
✔️ পছন্দকৃত কোর্স দেশের মধ্যে পাওয়া যায় কিনা সেটাও তুলনা করুন।
✔️ বিদেশে গেলে নতুন সংস্কৃতির সাথে মানিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিন।
আপনি উচ্চশিক্ষার জন্য কোন দেশে যেতে ইচ্ছুক, সেই দেশ কেমন হবে, সেখানে স্কলারশিপের ব্যবস্থা আছে কিনা, পার্টটাইম কাজের সুযোগ আছে কিনা, আবার যে প্রোগ্রাম এবং কোর্স করার জন্য আপনি বিদেশে যেতে চাইছেন সেই কোর্সটি দেশে কোথাও করা যায় কিনা, আর করা গেলেও দেশে এবং বিদেশে কী কী সুবিধা-অসুবিধার সম্মুখীন হতে পারেন সেসব বিষয়গুলো সম্পর্কে তুলনামূলক ধারণা রাখতে হবে আপনাকে। এই সকল দিক বিবেচনা করেই আপনাকে সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হবে।
একাডেমিক শিক্ষা বিষয়ক লিখিত প্রশ্ন সমাধান পেতে ক্লিক করুন।
আর্টিকেলের শেষ কথাঃ বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি ও করণীয় বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পড়তে গেলে যা যা দরকার হবে, বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে চাইলে যেভাবে প্রস্তুতি শুরু করবেন
Google Adsense Ads