বন্ড ও ডিবেঞ্চারের মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ কর

Subscribe Now!

সর্বশেষ চাকরির খবর মিস করবেন না! Subscribe - এ ক্লিক করে দেখুন নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি।

My Ads

বন্ড ও ডিবেঞ্চারের মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ কর।,বন্ড ও ডিবেঞ্চার বলতে কী বোঝায়? বন্ড ও ডিবেঞ্চারের মধ্যে প্রধান পার্থক্যসমূহ বিস্তারিত আলোচনা করো।

১. প্রাথমিক ধারণা (Basic Concept)

(ক) বন্ড (Bond):

যে দীর্ঘমেয়াদি স্বীকৃত দলিল বা ঋণপত্রের মাধ্যমে কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থায়িত্বশীল কর্পোরেশন বা বাণিজ্যিক ব্যাংক জামানতের বিপরীতে বাজার থেকে দীর্ঘমেয়াদের জন্য তহবিল সংগ্রহ করে, তাকে বন্ড (Bond) বলে। সাধারণত বন্ডের পেছনে স্থায়ী সম্পত্তি জামানত বা বন্ধক (Mortgage) হিসেবে থাকে।

(খ) ডিবেঞ্চার (Debenture):

যে দীর্ঘমেয়াদি ঋণপত্রের মাধ্যমে কোনো যৌথ মূলধনী কোম্পানি বা সুখ্যাত কর্পোরেশন সম্পূর্ণ জামানতহীনভাবে কেবল কোম্পানির সুখ্যাতি ও বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে দীর্ঘমেয়াদের জন্য ঋণ গ্রহণ করে, তাকে ডিবেঞ্চার (Debenture) বা অনাদায়ী ঋণপত্র বলে।

আরো ও সাজেশন:-

My Ads

Honors Suggestion Linksপ্রশ্ন সমাধান সমূহ
Degree Suggestion LinksBCS Exan Solution
HSC Suggestion Links2016 সাল থেকে সকল জব পরীক্ষার প্রশ্ন উত্তর
SSC ‍& JSC Suggestion Linksবিষয় ভিত্তিক জব পরিক্ষার সাজেশন
গণিত এর সমাথানBook PDF

২. বন্ড ও ডিবেঞ্চারের মধ্যে প্রধান পার্থক্যসমূহ (Master Difference Table)

১০ নম্বরের প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর পাওয়ার জন্য বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে একটি পূর্ণাঙ্গ ও গোছানো তুলনামূলক ছক উপস্থাপন করা সবচেয়ে কার্যকর:

My Ads

পার্থক্যের ভিত্তিবন্ড (Bond)ডিবেঞ্চার (Debenture)
১. মূল সংজ্ঞাজামানতের বিপরীতে ইস্যুকৃত দীর্ঘমেয়াদি ঋণপত্রকে বন্ড বলে।জামানত ছাড়া কেবল সুখ্যাতির ওপর ভিত্তি করে ইস্যুকৃত ঋণপত্র হলো ডিবেঞ্চার।
২. জামানত (Securities)এটি সাধারণত কোম্পানির স্থাবর সম্পদ (জমি, দালান) বন্ধক বা জামানতযুক্ত থাকে।এটি সম্পূর্ণ জামানতহীন (Unsecured) ঋণপত্র।
৩. ইস্যুকারী (Issuer)সরকার, আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও বেসরকারি কর্পোরেশন ইস্যু করতে পারে।মূলত সুখ্যাত ও উচ্চ ক্রেডিট রেটিংপ্রাপ্ত বেসরকারি কোম্পানিগুলো ইস্যু করে।
৪. ঝুঁকির পরিমাণ (Risk Level)জামানত থাকায় এতে বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকি অনেক কমজামানত না থাকায় বন্ডের তুলনায় ঝুঁকি কিছুটা বেশি
৫. প্রতিদানের হার (Return/Interest Rate)কম ঝুঁকির কারণে বন্ডে সুদের হার ডিবেঞ্চারের চেয়ে কিছুটা কম হয়।বেশি ঝুঁকি বহনের কারণে এতে তুলনামূলক বেশি সুদের হার প্রস্তাব করা হয়।
৬. অবসায়নকালে অগ্রাধিকার (Priority in Liquidation)কোম্পানি বন্ধ বা দেউলিয়া হলে সম্পদ বিক্রির টাকা থেকে বন্ডহোল্ডাররা প্রথম অগ্রাধিকার পায়।বন্ডহোল্ডারদের দাবি মেটানোর পর অবশিষ্ট অর্থ থেকে ডিবেঞ্চারহোল্ডারদের দাবি মেটানো হয়।
৭. পরিবর্তনযোগ্যতা (Convertibility)সাধারণ বন্ড শেয়ারে রূপান্তর করা যায় না (রূপান্তরযোগ্য বন্ড ব্যতীত)।ডিবেঞ্চার খুব সহজেই সাধারণ শেয়ারে রূপান্তরযোগ্য হতে পারে (Convertible Debenture)।
৮. ইস্যুর খরচ (Cost of Issue)বন্ড ইস্যুর আইনি প্রক্রিয়া ও জামানত সংক্রান্ত জটিলতার কারণে খরচ বেশি।জামানত ও আইনি জটিলতা কম হওয়ায় এটি ইস্যুর প্রাথমিক খরচ তুলনামূলক কম।
৯. ট্রাস্টি নিয়োগ (Trustee Requirement)বন্ডের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ট্রাস্টি (Trustee) নিয়োগ বাধ্যতামূলক।ডিবেঞ্চারের ক্ষেত্রে ট্রাস্টি নিয়োগ বাধ্যতামূলক হতেও পারে, আবার নাও হতে পারে।
১০. সুদের হার (Interest Rate Type)বন্ডের সুদের হার নির্দিষ্ট (Fixed) হতে পারে কিংবা শূন্য-কুপন (Zero-Coupon) হতে পারে।ডিবেঞ্চারের সুদের হার সাধারণত পূর্বনির্ধারিত ও নির্দিষ্ট থাকে।

My Ads

৩. গুরুত্বপূর্ণ মিল বা সাদৃশ্য (Similarities)

পরীক্ষায় উচ্চ নম্বর পেতে পার্থক্যের পাশাপাশি নিচে ২টি সংক্ষেপ মিল উল্লেখ করা যেতে পারে:

১. ঋণের দলিল: উভয়ই কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি ঋণের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি বা প্রমাণপত্র।

২. অ-ভোটাধিকার: বন্ডহোল্ডার বা ডিবেঞ্চারহোল্ডারদের কেউই কোম্পানির মালিক নন, তারা হলেন পাওনাদার। তাই কোনো পক্ষই বার্ষিক সাধারণ সভায় (AGM) ভোটাধিকার পান না।

৪. সিদ্ধান্ত/উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, বন্ড এবং ডিবেঞ্চার উভয়ই একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থসংস্থানের অপরিহার্য হাতিয়ার। তবে ঝুঁকি ও জামানতের দিক দিয়েই এদের মূল পার্থক্য তৈরি হয়। যেসব বিনিয়োগকারী কম ঝুঁকিতে নিরাপদ আয় চান, তাদের জন্য ‘বন্ড’ আদর্শ; আর যারা একটু বেশি ঝুঁকিতে বেশি আয় চান, তাদের জন্য ‘ডিবেঞ্চার’ উপযুক্ত। একইভাবে, অর্থপ্রার্থী প্রতিষ্ঠানের জন্য সম্পদ বন্ধক না রেখে দ্রুত দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের একটি দারুণ সুযোগ সৃষ্টি করে ডিবেঞ্চার।

পরীক্ষার জন্য বিশেষ প্লাস পয়েন্ট টিপস (১০-এ ১০ পাওয়ার কৌশল):

১. পার্থক্য উপস্থাপন: পার্থক্যের সারণিতে অবশ্যই প্রথম কলামে “পার্থক্যের ভিত্তি” রাখবেন। এটি উন্নতমানের উপস্থাপনার প্রধান লক্ষণ।

২. বোল্ড ও হাইলাইট: জামানতযুক্ত (Secured), জামানতহীন (Unsecured), ও অগ্রাধিকারের পয়েন্টগুলো নীল কালি দিয়ে বোল্ড করে লিখবেন।

৩. সূচনাতে প্রদত্ত ডায়াগ্রাম এবং উত্তরের শেষে সংক্ষেপ মিল উল্লেখ করলে আপনার খাতার সৌন্দর্য ও গ্রহণযোগ্যতা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে যাবে।

আর্টিকেলের শেষ কথাঃ বন্ড ও ডিবেঞ্চারের মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ কর।,বন্ড ও ডিবেঞ্চার বলতে কী বোঝায়? বন্ড ও ডিবেঞ্চারের মধ্যে প্রধান পার্থক্যসমূহ বিস্তারিত আলোচনা করো।

আরো পড়ুন:

My Ads

My Ads

Leave a Comment

My Ads

My Ads