Subscribe Now!
সর্বশেষ চাকরির খবর মিস করবেন না! Subscribe - এ ক্লিক করে দেখুন নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি।
My Ads
| শ্রেণি: ১২শ/ hsc/ উন্মুক্ত-2021 বিষয়: ইতিহাস ২য় পত্র এসাইনমেন্টেরের উত্তর 2021 |
|---|
| এসাইনমেন্টের ক্রমিক নংঃ 03 বিষয় কোডঃ 2855 |
| বিভাগ: মানবিক শাখা |
এসাইনমেন্ট শিরোনামঃ প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সামরিক শক্তি কেমন ছিল
এসাইনমেন্ট সম্পর্কে প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে Google News <>YouTube : Like Page ইমেল : assignment@banglanewsexpress.com
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ যেভাবেই শুরু হোক না কেনো যুদ্ধবাজ দেশগুলোর উদ্দেশ্য ছিল অভিন্ন। বিভিন্ন স্থানে স্ব আধিপত্য নিশ্চিত করার জন্য তারা এই যুদ্ধ বাধিয়েছিল। অস্ট্রো-হাঙ্গেরির ফার্দিনান্দ কিংবা সোফিয়ার হত্যাকাণ্ড থেকে বড় বিষয় তাদের একটা আক্রমণের কারণ প্রয়োজন ছিল।
আর সেটা পাওয়ার সাথে সাথে পরস্পর বিবাদে জড়াতে তাদের সময় লাগেনি। একত্রীভূত ইতালি কিংবা জার্মানির হোহেনজোলার্নদের একক দাপট মেনে নেয়া তাদের জন্য অনেকটাই অসম্ভব হয়ে দেখা দেয়। যুদ্ধে অক্ষশক্তি কিংবা মিত্রশক্তি যাদের কথাই বলা হোক না কেনো কেউ শক্তিমত্তার দিক থেকে পিছিয়ে থাকার পাত্র নয়।
এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, জার্মান, ইতালি, কানাডা, ফরাসি, তুরস্ক, অস্ট্রো-হাঙ্গেরি, সার্বিয়া, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, গ্রিক কেউই শক্তিমত্তা প্রদর্শনের দিক থেকে পিছিয়ে থাকতে চায়নি। আর এর ফলাফল হিসেবেই দীর্ঘ চার বছর স্থায়ী হয়েছিল এ মরণঘাতী সংগ্রাম।
ব্রিটেন :
ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনীর পাশাপাশি তাদের বিমান ও সেনাবাহিনীও প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। তবে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর তুলনায় তাদের নৌবাহিনী ছিল অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী। যুক্তরাষ্ট্রের মত ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর জনশক্তিও সময়ের সাথে সাথে বেড়ে বিশাল আকার ধারণ করে। ১৯১৪ সালে মাত্র ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৩২ জন সৈন্য ব্রিটিশ সৈন্যের প্রতিনিধিত্ব করলেও ১৯১৬ সাল নাগাদ এই সৈন্য সংখ্যা বেড়ে গিয়ে হয় ২৬ লাখের কাছাকাছি। যার প্রায় ১৬ লাখ সৈন্য হতাহত হওয়ার ঘটনা থেকেই বোঝা যায় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ কত ধ্বংসাত্মক ছিল। তেমনি প্রথম দিকের একটি বেলুন ইউনিট দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ বিমান বাহিনীও বলার মত শক্তিমত্তা অর্জন করে। তারা ১৯১৫ সালের মে মাসের দিকে ১৬৬ এর মত বিমান সংযোজন করতে সক্ষম হয়।
[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]
১৮টির মত আধুনিক ড্রিডনট, ১০টি ব্যাটল ক্রুজার, ২০টি টাউন ক্রুজার, ১৫টি স্কাউট ক্রুজার, ২০০টির মত ডেস্ট্রয়ার আর ২৯টি শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ নিয়ে তখনকার দিনে ব্রিটিশ নৌবাহিনী ছিল অন্যতম সেরা। অর্কনির স্কাপা ফ্লো কিংবা স্কটল্যান্ডের রোসিথে থেকে জার্মানদের যে কোনো ধরনের আক্রমণ প্রতিরোধে সদা প্রস্তুত থাকতো ব্রিটিশ নৌবাহিনী।
আর এক্ষেত্রে ক্রুজার, ডেস্ট্রয়ার, সাবমেরিন ও হালকা অস্ত্রে সজ্জিত জাহাজগুলো এক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন করত। এর পাশাপাশি ভূমধ্য সাগরীয় অঞ্চল, জিব্রালটার, মালটা ও আলেকজান্দ্রিয়া উপকূলের প্রহরায় নিযুক্ত থাকে দুটি বাটলক্রুজার ও ৮ টির মত ক্রুজার।
তবে জার্মান ইউবোটের আক্রমণে এই শক্তিশালী ব্রিটিশ বাহিনীও বেশ কয়েক দফা সংকটে পরে। যুদ্ধে জার্মানরা প্রথম দিকে তিনটি ক্রুজার ও একটি ডেস্ট্রয়ার হারালেও তারা ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ আরথোসার প্রায় ধ্বংস করে দেয়। এদিকে জার্মান ইউবোটের লাগাতার আক্রমণে ১৯১৪ সালের মধ্যেই ব্রিটিশরা তাদের যুদ্ধ জাহাজ ক্রেসি, আবুকির ও হগ হারায়। এতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ নৌসেনার প্রাণ যায়। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে পেতে রাখা মাইনের বিস্ফোরণে অনেক ব্রিটিশ নৌবহরের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
১৯১৪ সাল থেকে শক্তিশালী ব্রিটিশ বাহিনীর জন্য মূর্তিমান আতঙ্ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন জার্মান নৌ অধিনায়ক ফাঞ্জ ফন হিপার। তিনি নানাস্থানে আক্রমণ করে ব্রিটিশদের জন্য সংকট তৈরি করে। তবে নানা স্থানের যুদ্ধে এত ক্ষয়ক্ষতি ব্রিটিশ নৌবাহিনীকে নিঃশেষ করতে পারেনি।
তারা ১৯১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি জার্মান বাহিনীর বিরুদ্ধে এক মরণপণ লড়াইয়ে লিপ্ত হয়। জার্মান যুদ্ধজাহাজ সিডলিজ ও ব্লচার এবার আক্রান্ত হয় ব্রিটিশ নৌসেনার দ্বারা। জার্মানরা এর প্রতিশোধ নিতে ব্রিটিশ অ্যাডমিরাল ডেভিড বিটির ফ্ল্যাগশিপ লায়নের সলিল সমাধি নিশ্চিত করে। ব্রিটিশরা আবার নতুন করে জার্মান নৌসেনার মুখোমুখি হয় ১৯১৬ সালের ৩১ মে জুটল্যান্ডের যুদ্ধে।
এবার দুপক্ষেই প্রচুর হতাহত হয়। তাদের প্রত্যেকেরই ক্ষয়ক্ষতি হয় অনেকগুলো যুদ্ধজাহাজ, ক্রুজার, ডেস্ট্রয়ার ও ব্যাটল ক্রুজার। এতে করে ব্রিটিশ রয়্যাল নেভি হতাশ হয়ে পড়ে। তারপরেও জুটল্যান্ডের লড়াইকে ব্রিটিশ কমান্ডারদের পক্ষ থেকে একটি বিজয় হিসেবে দাবি করা হয়। এরপর থেকেই ব্রিটিশ নৌবাহিনী বুঝে যায় যুদ্ধের ময়দানে টিকে থাকতে হলে সবার আগে জার্মান ইউবোটগুলোর আক্রমণ ঠেকাতে হবে।
My Ads
অন্যথায় এই বিপদজনক নৌযানগুলো সমুদ্রপথে কাউকেই আর দাঁড়াতে দেবে না। আর এতো কিছুর পরেও প্রথম বিশ্বযুদ্ধে এক ব্রিটিশ নৌবাহিনীরই প্রায় ৩৪ হাজর ৬৪২ জন সদস্য নিহত হয় যার মধ্যে অনেক এশীয় নাগরিক ছিল। আর আহতের সংখ্যাও নিতান্ত কম ছিল না।
জার্মানি ;
কাইজার দ্বিতীয় উইলহেম ও আর্মি চিফ অব স্টাফ জেনারেল হেলমুট ফন মোল্টকির অধীনে ছিল চৌকশ জার্মান বাহিনী। ১৯১৪ সালের বাস্তবতায় জার্মান সেনাবাহিনী ছিল বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী। পরবর্তীকালে জেনারেল ফন ফাকেনহায়েন কিংবা পল ফন হিন্ডেনবার্গ সেনাপ্রধান হলেও তাদের শক্তিমত্তায় তেমন হেরফের ঘটতে দেখা যায়নি। বরং যুদ্ধে পরাজয় ও লজ্জাজনক ভার্সাই চুক্তিতে বসার পূর্ব পর্যন্ত জার্মান সেনাবাহিনীকে ক্রমশ উন্নত থেকে উন্নততর হতে দেখা গেছে। ১৯১৪ সালের দিকে প্রায় ৭ লাখ সৈন্যের সমন্বয়ে গঠিত ২৫টি কোর নিয়ে যাত্রা শুরু করে জার্মান বাহিনী।
এক্ষেত্রে বিদ্যমান ৮টি কমান্ডের সাথে যুদ্ধক্ষেত্রে আরো ১০টি যুক্ত হলে অপ্রতিরোধ্য রূপ ধারণ করে জার্মান বাহিনী। বিশেষ করে যুদ্ধ ঘোষণার সপ্তাহ খানেকের মধ্যে রিজার্ভ সৈন্যদের ডেকে এনে সেনা সংখ্যা ৩৮ লাখে উন্নীত করা হয়। এক্ষেত্রে ১৯১৬ সালের আগস্টে পশ্চিম রণাঙ্গনে জার্মান সৈন্য ছিল ২৮ লাখ ৫০ হাজার। এ সময় পূর্ব রণাঙ্গনেও সৈন্য ছিল প্রায় ১৭ লাখের মত। আর এক্ষেত্রে জার্মান সৈন্য নিয়োগের ভয়াবহতা সম্পর্কে জানা যায় যুদ্ধ শেষ হলে প্রায় ১৭ লাখ ৫০ হাজার সৈন্য সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ দিয়েছিল বলে জানা গেছে।
জার্মান সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বিমান ও নৌবাহিনীও ছিল বেশ শক্তিশালী। বিশেষ করে তাদের সেনাবাহিনী প্রথম থেকে শক্তিশালী হওয়াতে বিমান ও নৌবাহিনী উন্নতকরণের তেমন গুরুত্ব দেয়নি জার্মানি। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর চেয়ে পিছিয়ে যাচ্ছে দেখে নৌ ও বিমান বাহিনীকেও সমান গুরুত্ব দিলে একটি পর্যায়ে এসে অন্যদের ছাপিয়ে যায় তারা।
My Ads
বিশেষ করে নৌপথে জার্মানির ডিজেল চালিত ইউবোট ও সাবমেরিন যে কোনো যুদ্ধ জাহাজের সর্বনাশ করার জন্য যথেষ্ট ছিল। পাশাপাশি তাদের ১৭টি অত্যাধুনিক ড্রিডনট, ৫টি ব্যাটেল ক্রুজার, ২৫টি ক্রুজার, ২০টি যুদ্ধজাহাজ ও ১০টি ইউবোট নিয়ে জার্মানির নৌবাহিনী হয়ে ওঠে দ্বিতীয় বৃহত্তম। তবে আকৃতিতে যাই হোক না কেনো নৌপথে জার্মান বাহিনী যে কোনো দেশকে সংকটে ফেলে দেয় বিভিন্ন স্থানের নৌযুদ্ধে।
সিনক্রোনাইজড গিয়ার আবিষ্কৃত হওয়ার পর জার্মান বিমান বাহিনী বেশ উপকৃত হয়। বলতে গেলে এ সময় থেকেই থেকেই তাদের নামেমাত্র উপস্থিত থাকা সেনাবাহিনীকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এক্ষেত্রে ফ্রান্সের যুগান্তকারী আবিষ্কার রোঁলা-গারোঁর উপযুক্ত জবাব দিতে এদিকে জার্মানিও তৈরি করে ফকার-ই, হালবারস্ট্যাড এবং অ্যালব্যাট্রস ডি-এর মত বিমান। এদিকে ম্যালফ্রেন ফন রিচথোপেন কিংবা আর্নেস্ট ওডেট হয়ে ওঠেন আকাশ যুদ্ধের প্রতীক।
ধীরে ধীরে লোকবল বাড়তে বাড়তে ১৯১৭ সালের দিকে এসে এক পশ্চিম রণাঙ্গনেই জার্মানির ৩ হাজার ৬৬৮ টি বিমান উড়তে দেখা যায়। আর যুদ্ধবিরতিকালে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেখা যায় এই বাহিনীকেই। তখন জার্মান আর্মি এয়ার সার্ভিসের ২ হাজার ৭০৯টি বিমান এবং সাড়ে চার হাজার পাইলট থাকার কথা। ভার্সাই চুক্তির মাধ্যমে জার্মান বিমান বাহিনী বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।
তবে এ বিলুপ্তির আগে জার্মান বাহিনী থেকে প্রায় ৬ হাজার ৮৪০ জন বৈমানিক নিহত ও নিখোঁজ হয়েছে বলে স্বীকার করা হয়। শেষ পর্যন্ত ভার্সাই চুক্তির অন্যতম শর্তবলে ১৯২০ সালের ৮ মে বিলুপ্ত হয় জার্মান বিমান বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্র :
মার্কিনরা জল, স্থল ও অন্তরীক্ষে সমান তালে আক্রমণ চালায়। বলতে গেলে তাদের এই আক্রমণ যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণ করে দিয়েছিল। ১৯১৪ সালের দিকে ৯৮ হাজার নিয়মিত মার্কিন সৈন্যের প্রায় ৪৫ হাজার মোতায়েন করা হয় দেশের বাইরে। জেনারেল লিওনার্ড উডের সুপারিশক্রমে প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন এই সংখ্যা বাড়িয়ে ১ লাখ ৪০ হাজার করতে সময় নেননি। আর ১৯১৭ সালের দিকে যুক্তরাষ্ট্র যখন জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে তখন জেনারেল পার্শিংয়ের নেতৃত্বে প্রেরণ করা হয় আমেরিকান এক্সপিডিশনারি ফোর্স বা এইএফ। এরই মাঝে মার্কিন কংগ্রেস ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিউজ জনসন প্রণীত সিলেক্টিভ সার্ভিস অ্যাক্ট পাস করে।
এর আওতায় ২১-৩০ বছর বয়সের সব মার্কিন পুরুষ নাগরিকের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়। এই আইনের আওতায় মার্কিন সেনাবাহিনীর জনবল বাড়তে থাকে। চাকরি প্রত্যাশী মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও দলে দলে যোগ দিতে থাকে সেনাবাহিনীতে। তাদের আগমনে ১৯১৮ সাল নাগাদ মার্কিন সামরিক বাহিনীর আকার দাঁড়ায় ২ কোটি ৩৯ লাখ ৮ হাজার ৫৬৬ জনে। আর তার মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ পুরুষকে সরাসরি নিয়োগ দেয়া হয় সামরিক বাহিনীতে। এরা অস্ত্রের প্রশিক্ষণ নিয়ে দায়িত্ব পালন করে দেশের বাইরে বিভিন্ন স্থানের যুদ্ধে। এর মাধ্যমেই ১৯১৮ সালের দিকে এসে এক ফ্রান্সেই মার্কিন সেনাবাহিনীর সংখ্যা ১০ লক্ষ ছাড়িয়েছিল। মার্কিন বিমান ও নৌবাহিনী বিভিন্ন দিক থেকে আক্রমণ করেই মূলত কোণঠাসা করে ফেলে অক্ষ শক্তিকে। ১৯০৩ সালের দিকে
[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]
রাইট ব্রাদার্স বিমান আবিষ্কার করলে যুক্তরাষ্ট্র সেটাকে যুদ্ধে ব্যবহারের কথা চিন্তা করে। শেষ পর্যন্ত এর প্রায় ১৪ বছর পর প্রথমবারের মত যুদ্ধে বিমান বাহিনীর সম্পৃক্তি ঘটায় তারা। আর ১৯১৮ সালের দিকে প্রথমবারের মত সরাসরি ফ্রান্সের মাটিতে বিমান থেকে হামলা করার প্রশিক্ষণ দেয়া হয় বেশ কিছুসংখ্যক সৈন্যকে। বিমান হামলা চালিয়ে শত্রুকে পর্যুদস্ত করে ইতিহাস বিখ্যাত মার্কিন বৈমানিক হচ্ছেন এডওয়ার্ড রিকেনবেকার, ফ্রেডরিখ গিলেট ও উইলফ্রেড রিভার। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম নৌবাহিনী হিসেবে ১৮১৪ সালের দিকেই মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছিল।
My Ads
এসব জাহাজ আটলান্টিকের বিস্তৃত এলাকায় মার্কিন সামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা প্রদানের কাজ করত। তবে কুশলী জার্মান নৌবাহিনীর ইউবোট থেকে চার্জ করা মাইনের আঘাতে এসব যুদ্ধ জাহাজের ব্যাপক ক্ষতি গুণতে হয় যুক্তরাষ্ট্রকে। ইতালি অপেক্ষাকৃত দুর্বল দেশ ইতালি শুরু থেকেই যুদ্ধবাজ দেশগুলোর শীতল সম্পর্ক থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখতে চেয়েছিল, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ১৯১৫ সালের ২৬ এপ্রিল থেকে বিশ্বযুদ্ধে তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে। তবে এ যুদ্ধে তারা প্রথম থেকেই তেমন কোনো সুবিধা করতে পারেনি।
২৫ পদাতিক এবং ৪টি ক্যাভালরি ডিভিশনের সৈন্য নিয়ে যুদ্ধে জড়ায়। এক্ষেত্রে ব্রিটেন সরাসরি তাদের অর্থসাহায্য করার কথা বলে। তারা মাত্র ১২০টি কামান ও ৭০০টি মেশিনগান নিয়ে এসময় অস্ট্রিয়া ও হাঙ্গেরিতে সর্বাত্মক হামলা চালায়। আইসোনজো অভিযানের একেবারে গোড়ার দিকের দু সপ্তাহেই ইতালির বাহিনী তাদের ৬০ হাজার সৈন্য হারায়। এদিকে শীতকালে আক্রমণ বন্ধ থাকলেও শেষ পর্যন্ত ইতালীয় বাহিনী তাদের লাখ তিনেকের মত সৈন্য হারিয়েছে। বস্তুত এসব সৈন্যের সিংহভাগ ছিল নানা পদে প্রতিষ্ঠিত যারা যুদ্ধ পরিচালনা করেছে। তবে প্রায় সাত বারের মত শত্রুর ব্যুহ ভাঙার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিল এই বাহিনী।
১৯১৬ সালের আগস্টে গরজিয়ায় ইতালীয় বাহিনীর সফলতা বাকিদের সতর্ক করে দেয়। তারা নতুন এটা ভেবে সবাই তাদের দুর্বল প্রতিপক্ষ ভাবত এতদিন। কিন্তু এ যুদ্ধের সাফল্য পরিস্থিতি যেমন বদলে দেয় তেমনি ইতালির শক্তিমত্তা সম্পর্কেও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে সবাইকে। প্রথম দিকে বেশ দুর্বল হিসেবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেও বিভিন্ন যুদ্ধে সফলতা ইতালীয়দের সাহস বাড়িয়ে দেয় বহুগুণে। বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রের বিজয় শত্রুসেনার মনে ত্রাস সৃষ্টি করে। গ্যারিবল্ডির রক্ত তাদের ধমনীতে বহমান তা প্রমাণ করতে একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে ইতালীয়রা। ১৯১৫ সালের বসন্ত আসার আগেই ইতালীয় বাহিনী বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের দক্ষতা দেখাতে সমর্থ হয়েছিল।
[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]
১৯১৫ সালে জেনারেল লুইগি কাডোরর্নার অধীনস্থ ২৫টি পদাতিক ও ৪টি ক্যাভালরি ডিভিশন এক্ষেত্রে তাদের শক্তিমত্তা প্রদর্শন শুরু করে। লুইগি কাডোর্নারের অধীনস্থ মাত্র ১২০টি কামান এবং ৭০০টি মেশিনগানধারী সৈন্যরাই ১৯১৫ সালের মে মাসের যুদ্ধে কাঁপন ধরিয়ে দেয় অস্ট্রো-হাঙ্গেরির সৈন্যদের মাঝে। তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে ইতালির প্রতিকূল হয়ে পড়ে। ইতালীয় সৈন্যদের সর্বত্মক হামলার মুখে আক্রান্ত সেনারা প্রতিরোধব্যুহ রচনা করে। এবার পাল্টা আঘাতে ছত্রখান হয়ে পড়ে ইতালির সৈন্যরা। আইসোনজো অভিযানের সপ্তাহ না পেরোতেই ৬০ হাজার ইতালীয় সৈন্য মারা যায়। এদিকে যমদূতের শীতলতা নিয়ে ঋতু পরিবর্তন হয়।
তুষারে চারদিক ঢাকা পড়তে শুরু করে হামলা বন্ধ করে ইতালি। কিন্তু এরই মাঝে হতাহত সৈন্যের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে তাদের। ৭ বারের মত আক্রমণ করে শত্রুর ব্যুহ ভেদ করতে ব্যর্থ কডোর্না এবার সাথে থাকা ৩ হাজার ফিল্ড গান পর্যন্ত খুইয়ে বসেন।
কানাডার সৈন্যদল :
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে ইউরোপের নানা দেশ যেখানে লক্ষাধিক সৈন্যের সমাবেশ করতে ব্যস্ত সেখানে মাত্র ৩ হাজার সৈন্য নিয়ে তাদের বাহিনী গঠন করেছিল কানাডা। একটি সমুদ্র বন্দর ও ডকইয়ার্ডের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সৈন্যরাই ছিল তাদের মূল ভরসা। তবে বিশ্বযুদ্ধের আলামত পেয়ে তারা নতুন করে বাহিনী তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করে।
এর ফল হিসেবেই ১৯১৪ সালের অক্টোবর নাগাদ কানাডার সৈন্য বাহিনীতে সদস্য সংখ্যা ৩ থেকে বেড়ে গিয়ে ৩০ হাজারে উন্নীত হয়। তবে এর আরো এক বছর পর ১৯১৫ সালে ইপ্রেঁ রণাঙ্গনে গিয়ে যোগদান করে কানাডার বাহিনী। তবে লে. জেনারেল উইলিয়াম অ্যান্ডার্সনের নেতৃত্বাধীন এই বাহিনী পেশাদার জার্মানদের সামনে দাঁড়িয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি।
মাত্র দু’সপ্তাহের লড়াইয়েই ৫ হাজারের বেশি সৈন্যের হতাহতের মধ্য দিয়ে অনেকটা দুর্বল হয়ে যায় কানাডা। তবে এই দুর্বলতা কাটিয়ে ক্রমশ লড়াইয়ে ফিরে আসে কানাডার বাহিনী। ১৯১৬ সালের দিকে ফ্রান্সের রণাঙ্গনে প্রেরিত বাহিনী প্রথমবারের মত সফলতার মুখ দেখে। ১৯১৭ সালের দিকে জেনারেল জুলিয়ান বায়ানগের বাহিনী ভিমি রিজের দখল নিতে খুব বেশি সময় নেয়নি। জেনারেল আর্থার কুরি বায়ানগের স্থলাভিষিক্ত হলেও কানাডীয় বাহিনীর সাফল্য অব্যাহত থাকে।
শুরুতে দুর্বল হিসেবে পরিচিত এই কানাডীয় সৈন্যরাই যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে এসে একের পর এক সাফল্য লাভ করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন প্রায় ৬ লাখ কানাডার নাগরিক যুদ্ধে যোগদান করে যার মধ্যে ৪ লাখ ১৮ হাজার কানাডীয় নাগরিক কাজ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এক্সপিডিশনারি ফোর্স হিসেবে।
My Ads
এই সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের অনেকেই লাভ করে ভিক্টোরিয়া ক্রসসহ আরো অনেক পুরস্কার। তবে কানাডিয়ান এক্সপিডিশনারি ফোর্স তথা সিইএফের প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার সৈন্য এ যুদ্ধে হতাহত হয়েছিল। অনেক পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে নিহত কানাডীয় সৈন্যের সংখ্যা কম করে হলেও ৫৬ হাজার ছাড়িয়েছিল তখন। এর বাইরে ব্রিটিশ বিমান বাহিনীতে নিযুক্ত কানাডিয়ান সৈন্যের সংখ্যাও নেহায়েত কম ছিল না।
[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]
আরি পড়ুন ›Honors 4th year viva exam,hons 4th year viva exam preparationHonors 4th year viva exam,hons 4th year viva exam preparation,hons 4th year viva what…
আরি পড়ুন ›Write a letter to your friend telling her/him how you feel when you listen to Bangabandhu’s historic 7 March Speechশ্রেণি: ৮ম 2021 বিষয়: ইংরেজি এসাইনমেন্টেরের উত্তর 2021এসাইনমেন্টের ক্রমিক নংঃ 6বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস// https://www.banglanewsexpress.com/…
আরি পড়ুন ›পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র এইচএসসি সাজেশনপৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র এইচএসসি সাজেশন
ফ্রান্স:
My Ads
১৯১০ সালের দিকে ফরাসি আর্মি এয়ার সার্ভিস গঠন করা হলে তা ইউরোপের ত্রাস হিসেবে আবির্ভূত হয়। পাশাপাশি তাদের সেনা ও নৌবাহিনীও ছিল বেশ বিখ্যাত। ১৯১২ সালের মধ্যেই তারা ফিল্ড আর্মিসহ ফাইভ স্কোয়াড্রন বিমান তাদের সার্ভিসে যুক্ত হয়।
প্রায় ৬টির মত বিমান নিয়ে গঠিত হয়েছিল তাদের এক একটি ফিল্ড আর্মি। এদিকে ১৯১৪ সালে না পড়তেই ফ্রান্সের অধিকারে থাকা বিমানের সংখ্যা দেড়শ’ হয়ে যায়। ফারম্যান এমএফ-৭, ফারম্যান এইচএফ-২০ ও ব্লেরিওঁ-১১ বিমান মিলে সংখ্যাটা প্রাথমিকবাবে ১৩২ ছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে ১৯১৫ সালের মধ্যেই জার্মান হামলায় ফরাসি বিমান বাহিনী বিস্তর ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এ সময় ক্ষতি কাটিয়ে উঠে নতুন করে লড়াই শুরু করার উদ্যোগ হিসেবে ফ্রান্স ২ হাজার ৩০০ বিমান তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করে।
এক্ষেত্রে ভয়েসিন ফাইভ, মরানি সাউলনাই, নিউপোর্ট সেকেন্ড, ফারম্যান এমএফ- সেকেন্ড প্রভৃতি তৈরিতে গুরুত্ব দেয়া হয় বেশি। আর সামার অফেন্সিভ শুরুর আগে পশ্চিম রণাঙ্গনে ফ্রান্স মওজুদ করে প্রায় ১ হাজার ১৪৯টির মত বিমান। তবে দ্রুত ফ্রান্সের বিমান উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৯১৭ সালে তা ২ হাজার ৮৭০ হয়েছিল ।
যুদ্ধ বিরতির পূর্বে ফরাসি বিমান বাহিনীর জনবল ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৩০ যাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল ৩ হাজার ২২২টি বিমান। এক্ষেত্রে রেনে ফ্রাঙ্ক, জর্জেজ গাইনেমাঁ, চার্লস নানগেসাঁ ও জর্জ ম্যাডোঁর মত জগদ্বিখ্যাত বৈমানিক ছিলেন ফ্রান্স বিমান বাহিনীর কর্ণধার।
অ্যাটাচড ক্যাভালরি ও ফিল্ড আর্টিলারিসহ ২১টি আঞ্চলিক কোরের ৪৭টি ডিভিশন নিয়ে ১৯১৪ সালের দিকে গড়ে ওঠে শক্তিশালী ফরাসি সৈন্যদল। এক্ষেত্রে ফরাসি সৈন্য সংখ্যাই ছিল শুরুতে ৭ লাখ ৭৭ হাজার যার সাথে যুক্ত হয়েছিল ঔপনিবেশিক অঞ্চলের আরো ৪৬ হাজার সদস্য। তবে পশ্চিমের রণাঙ্গনে সব সৈন্য মোতায়েন না করে তাদের বেশিরভাগ সৈন্য মোতায়েন করা হয় পূর্বের রণাঙ্গনে। অনেক সৈন্য ফ্রান্সের অভ্যন্তরে আপৎকালীন প্রয়োজন মেটানোর উদ্দেশ্যে অবস্থান নেয়।
১৯১৪ সালের গ্রিষ্ম আসতে না আসতেই আরো ৪৯ লাখ সৈন্য যুক্ত করে সেনাবাহিনীর কলেবর আরো বৃদ্ধি করা হয়। যুদ্ধের শুরুতে পশ্চিম রণাঙ্গনে বহু ফরাসি সৈন্য হতাহত হওয়ায় তারা আইন করে ৪৫ বছর বয়সী সব ফরাসি নাগরিকের সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করে তোলে। এতে করে সৈন্যসংখ্যা বাড়লেও সেনাবাহিনীর কাঠামো ও ভারসাম্য দ্রুত ভেঙে পড়ে।
১৯১৮ সালের দিকে ফরাসি সৈন্যের ৪০ শতাংশ ছিল গোলন্দাজ। বিশেষ করে ক্রমশ ফরাসি এয়ার সার্ভিস তাদের সৈন্যবাহিনীর তুলনায় অপেক্ষাকৃত সফল হওয়ায় সৈন্য বাহিনীর কলেবর আর না বাড়িয়ে উদ্যোগ নেয়া হয় বিমান বাহিনী শক্তিশালী করার। তবে নির্বিচারে জোর করে দেশের সব নাগরিককে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা ফরাসিদের সর্বনাশ ডেকে আনে। যুদ্ধে প্রায় ১৩ লাখের মত ফরাসি সৈন্য মারা যায়। ১৯১০-১৪ সালের দিকে এসে ফরাসি নৌবাহিনীর কলেবর বৃদ্ধি তার ব্যয় বাড়িয়ে দ্বিগুণ করে তোলে।
এক্ষেত্রে তাদের বাহিনীতে লভ্য ক্রুজার, ডেস্ট্রয়ার ও সাবমেরিনের সাথে সাথে যুক্ত হয় ১৪টির মত যুদ্ধজাহাজ, ৩২টি ক্রুজার, ৮৬টি ডেস্ট্রয়ার, ৩৪-সাবমেরিন ও ১১৫টি টর্পেডো বোট। দার্দানেলিস অভিযানের সময় শুরুতেই আক্রান্ত হয়ে ফরাসি বাহিনী পিছু হটে যায়। এরপর ভূমধ্যসাগরে ফরাসি বাণিজ্য জাহাজগুলোর নিরাপত্তা দিতে গিয়েও ব্যর্থ হয় ফরাসি নৌবাহিনী। বিশেষ করে নানা স্থানে শক্তি দেখাতে গিয়ে তাদের মুখোমুখি হতে হয় জার্মান ইউবোটের। বেশ কয়েকটি স্থানে এই ইউবোটের আক্রমণেরই ছত্রখান হওয়ার যোগাড় ফরাসি নৌবাহিনীর বিপরীতে ধ্বংসের মুখে পড়ে তাদের নৌবাণিজ্য।
তুরস্ক:
আরব, আর্মেনীয়, কুর্দি, সিরীয় ও আনাতোলীয় তুর্কি নিয়েই গঠিত হয়েছিল তাদের সেনাবাহিনী। তবে ১৯১২-১৩ সালের দিকে ঘটে যাওয়া বলকান যুদ্ধের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বেশ কিছুটা সময় লেগে যায়। তারা সেসময়ের ক্ষয়ক্ষতির হিসেব করে দেখে পুরো বাহিনীকে ঢেলে সাজানো ছাড়া আরো কোনো পথ নেই।
তাদের বন্ধুরাষ্ট্র জার্মানি এবার সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণে সাহায্যের হাত বাড়ায়। বিখ্যাত সমরবিশারদ জেনারেল লিমান ফন স্যান্ডার্স এক্ষেত্রে তুরস্কের ত্রাণকর্তার ভূমিকায় আবির্ভুত হন। এরপর ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ায় তুর্কি বাহিনী। তারা প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তিনটি আর্মির অধীনে ৩৬ ডিভিশন নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে। যুদ্ধমন্ত্রী আনোয়ার পাশার নেতৃত্বাধীন তুর্কি বাহিনী নানা স্থানে ইঙ্গো-ফরাসি প্রশিক্ষিত বাহিনীকে নাস্তানাবুদ করে ছাড়ে।
বিশেষ করে গ্যালিপলির যুদ্ধে তুর্কিদের সাফল্য ইংরেজ বাহিনীর মনে ত্রাস সৃষ্টি করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সবমিলিয়ে তাদের সাড়ে তিন থেকে সাড়ে চার লাখ সৈন্য অংশ নিয়েছিল বলে মনে করা হয়। অস্টো-হাঙ্গেরিয়ান বাহিনী
যুদ্ধের শুরুটা হিসেব করতে গেলে অস্ট্রো-হাঙ্গেরির নাম সবার আগে চলে আসে। তাই যুদ্ধ শুরুর পূর্বে তাদের সৈন্যদলের অবস্থান ও যুদ্ধকালীন সাফল্য গাথা কিংবা ব্যর্থতার খতিয়ান সবই এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রিয়া ও হাঙ্গেরির আলাদা সেনাবাহিনী থাকলেও তা ১৯১৪ সালের দিকে অর্ধলক্ষ অতিক্রম করতে পারেনি। তবে তাদের বিমান ও নৌবাহিনী বেশ শক্তিশালী ছিল। বলতে গেলে ক্ষুদ্রাকৃতির দেশ হলেও স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ হিসেবে টিকে থাকার ক্ষমতা তাদের ছিলো।
এক্ষেত্রে নানা স্থানের রণাঙ্গনে তারা আঘাত হানতে থাকে জল, স্থল ও অন্তরীক্ষ থেকে আক্রমণ চালানোর জন্য। তাদের সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ ছিলেন মার্শাল কাউন্ট ফন কনরাড। আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতির সমর্থক কনরাডও অনেক ক্ষেত্রে বিশ্বযুদ্ধ বাধার কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে কাজ করেছিলেন। পাশাপাশি গডউইন ব্রমবোস্কি ছিলেন একজন খ্যাতনামা পাইলট। পরপর প্রায় ৩৫টি যুদ্ধে জয়লাভ করে তিনি হয়ে ওঠেন পুরো সেনাবাহিনীর অনেক পরিচিত মুখ।
[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]
সার্বিয়া ও বেলজিয়াম :
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে থেকেই বেশ শক্তিশালী ছিল সার্বিয়ান বাহিনী। ১৯০১ সালের দিকে প্রায় সব পরিণত বয়স্ক সার্বিয়ান যুবকের সেনাবাহিনীতে ভর্তি হওয়ার কথা বলা হলে মাত্র এক যুগ ব্যবধানে ১৯১২ সালে এসে ২ লাখ ৬০ হাজার সৈন্যের একটি বাহিনী গড়ে ওঠে তাদের। এরপর তারা মন্টেনিগ্রো, গ্রিস ও বুলগেরিয়ার সাথে যোগদান করে বলকান লীগে।
তাদের মিলিত বাহিনী তুর্কি ভূখণ্ডের অনেক এলকা আগ্রাসন চালিয়ে দখল করে নেয়। ৩ লাখ ৬০ হাজার সৈন্যের বিরাট বাহিনী নিয়ে যুদ্ধে যোগদান করে প্রথম দিকে বেশ সফলতার সাথে কয়েকটি আক্রমণ তারা প্রতিহত করে। তবে অস্ট্রো-হাঙ্গেরির দুর্বার আক্রমণের মুখে ধসে গিয়ে ষাটোর্ধ্ব পুরুষদের যুদ্ধে নিয়োগের পাশাপাশি মিত্রবাহিনীর দিকে সাহায্যের জন্য হাত বাড়ায় সার্বিয়ানরা।
১৯১৫ সালের ৫ অক্টোবরের দিকে তাদের সহায়তায় এসে পৌঁছায় ফ্রান্স-ব্রিটিশ মিত্রবাহিনীর একটি দল। ব্রিটিশ সেনাদলের নেতা জর্জ মিলনি সেলোনিকা ও ফরাসি দলপতি মরিস সরাই সীমান্তে সরাসরি জার্মানদের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষাব্যুহ তৈরিতে অংশ নিয়েছিলেন। তবে ১৯১৫ সালের দিকে জার্মান বাহিনীর দুর্বার আক্রমণে সেখান থেকে মিত্রবাহিনীসহ সার্বিয়ার সৈন্যরা পালিয়ে যায়।
তাদের বেশিরভাগ প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে গিয়ে আশ্রয় নেয় আলবেনিয়ার পার্বত্য অঞ্চলে। সেনাবাহিনীর ক্ষমতার দিক থেকে বিচার করলে বেলজিয়াম ছিল দুর্বল একটি দেশ। তারপর ১৯১৪ সালের দিকে জার্মান আক্রমণে ধসে পড়ে তাদের সীমান্তবর্তী সবগুলো দুর্গ। তাদের ২ লাখ ৬৭ হাজার সৈন্যের মধ্য থেকে প্রায় ১৪ হাজার নিহত ও অগণিত সৈন্য আহত হয়েছিল এ যুদ্ধে।
বুলগেরিয়ার সেনাদল:
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ক্ষমতা প্রদর্শনের মহড়া ও শক্তিমত্তা বিচার করতে গেলে বুলগেরিয়ার সৈন্যদলকে তেমন গুরুত্বের মধ্যে ফেলা যায় না। তবে ২০ থেকে ৪৬ বছর বয়স্ক প্রতিটি পুরুষকে সেনাবাহিনীর ট্রেনিং বাধ্যতামূলক করার পর ১৯১২-১৩ সালের দিকে ১০ ডিভিশনে উন্নীত হয়েছিল। তারা বলকান ফ্রন্টে সমবেত হয়ে ১৯১৫ সালের দিকে সার্বিয়া আক্রমণ করে বসে।
তাদের কোনো কারখানা না থাকার পরেও জার্মান বাহিনীর থেকে সহায়তা পাওয়ায় কখনই গোলাবারুদ, বুলেট, কামান ও মেশিনগান সংকটে পড়তে হয়নি। পাশাপাশি জার্মান আর্মি এয়ার সার্ভিস তাদের লোকবলের পাশাপাশি বিমান দিয়েও সহায়তা করেন। শেষ পর্যন্ত ১২ লাখ বুলগেরিয়ার সৈন্য যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। যুদ্ধবিরতির আগে পর্যন্ত তাদের নিহত সৈন্যের সংখ্যা ছিল ১ লাখের উপরে।
গ্রিক বাহিনী:
বলকান অঞ্চলে যুদ্ধ শুরু হলে গ্রিক রাজার অনুসারী সামরিক কর্মকর্তারা সরাসরি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সমর্থন দিয়ে বসে জার্মানিকে। তখন তাদের সেনা সংখ্যা ৩২ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ ১০ হাজার করা হয়। তবে এক্ষেত্রে বলকানে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে গ্রিক প্রধানমন্ত্রী এলিফথিরিওস ভেনিজেলস অক্ষ শক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতেই আগ্রহী ছিলেন। তবে রাজা কনস্টান্টাইন ভিন্নমত দেয়াতে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছিল তাকে।
এদিকে ১৯১৫ সালে ক্ষমতায় গিয়ে তিনি আবার মিত্রবাহিনীর পক্ষে সেনা সমাবেশের চেষ্টা করলে রাজা কনস্টান্টাইন তাকে আবার বরখাস্ত করেন। এরপর তিনি ক্রিট দ্বীপে পালিয়ে গিয়ে সেখান থেকে মিত্রবাহিনীর সহায়তায় আক্রমণ চালিয়ে রাজা কনস্টান্টাইনকে পরাজিত করে ক্ষমতা উদ্ধারে সক্ষম হন। যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত ১৫ হাজার গ্রিক সৈন্যের প্রাণ যায়, পাশাপাশি হতাহত হয় প্রায় এর পাঁচ গুণ।
ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের বাহিনী :
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে পশ্চিম রণাঙ্গনের পাশাপাশি মেসোপটেমিয়া, গ্যালিপলি, ফিলিস্তিন, পূর্ব আফ্রিকা ও মিশরের নানা স্থানে নিযুক্ত করা হয় ব্রিটিশ-ভারতীয় বাহিনীকে। ফ্রান্সে পাঠানো ৭০ হাজার ভারতীয় সৈন্যের প্রায় ৫ হাজার নিহত হয়, আহত হয় ১৬ হাজারের বেশি। জেনারেল লর্ড কিচেনারের নেতৃত্বাধীন এ বাহিনীর সিংহভাগই ছিল ভারতের নানা স্থানে নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত ব্রিটিশ।
পাশাপাশি গোলন্দাজ বাহিনীতে যুক্ত হয়েছিল বেশ কিছু সংখ্যক জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিক। এদিকে ১৯১২ সালের দিকে গঠিত দক্ষিণ আফ্রিকার বাহিনীতে ৫টি অশ্বারোহী রেজিমেন্টের পাশাপাশি একটি ক্ষুদ্র গোলন্দাজ দল যুক্ত করা হয়। জেনারেল জান স্মার্টসের নেতৃত্বে তাদের প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার সৈন্য অংশ নেয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধে। এর মধ্যে নিহত ও আহতের সংখ্যাও দশ হাজারের বেশি কিংবা কারো কারো মতে পাঁচ হাজারের মত। এদিকে স্থানীয় শিকারী বয়েড কানিংহামের নেতৃত্বে তৎকালীন রোডেশিয়া তথা জিম্বাবুয়েতে গঠিত হয় বিশেষ বাহিনী। তাদের সিংহভাগ গিয়ে উপস্থিত হয় পশ্চিম রণাঙ্গনে যার বেশিরভাগই ছিল পুরুষ ও ইউরোপীয় শ্বেতাঙ্গ।
[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]
সবার আগে Assignment আপডেট পেতে Follower ক্লিক করুন
এসাইনমেন্ট সম্পর্কে প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে Google News <>YouTube : Like Page ইমেল : assignment@banglanewsexpress.com
অন্য সকল ক্লাস এর অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর সমূহ :-
উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় SSC এসাইনমেন্ট :
- বিজ্ঞান ১ম ও ২য় বর্ষের এসাইনমেন্ট লিংক
- ব্যবসায় ১ম ও ২য় বর্ষের এসাইনমেন্ট লিংক
- মানবিক ১ম ও ২য় বর্ষের এসাইনমেন্ট লিংক
উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় HSC এসাইনমেন্ট :
- মানবিক ১ম ও ২য় বর্ষের এসাইনমেন্ট লিংক
- বিজ্ঞান ১ম ও ২য় বর্ষের এসাইনমেন্ট লিংক
- ব্যবসায় ১ম ও ২য় বর্ষের এসাইনমেন্ট লিংক
বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস// https://www.banglanewsexpress.com/
আরি পড়ুন ›Geography 4th paper Degree 2nd Year Suggestion PDFGeography 4th paper Degree 2nd Year Suggestion PDF 2026 NU Degree 2nd Year Geography…
আরি পড়ুন ›১৯৭৫ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়ইসলামের সমুন্নত আর্দশ ও মূল্যবোধের প্রচার ও প্রসার কার্যক্রমকে বেগবান করার লক্ষ্যে জাতির পিতা…
আরি পড়ুন ›diploma in commerce class:11 to 12 [12th week assignment published 2021], ২০২১ সালের এইচএসসি ডিপ্লোমা ইন কমার্স ১১শ ও ১২শ শ্রেণির ১২তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ 2021PDF আকারে পেতে ক্লিক করুন ছবি আকারে পেতে ক্লিক করুন PDF Links Images Links…
- ডিগ্রি ১ম বর্ষ মার্কেটিং ১ম পত্র স্পেশাল সাজেশন , ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ১০০% কমন মার্কেটিং ১ম পত্র সাজেশন

- Degree 2nd year suggestion

- স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস সাজেশন ডিগ্রী ১ম বর্ষ

- ডিগ্রি ১ম বর্ষ স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস

- অনার্স এবং ডিগ্রীর পরীক্ষার জন্য কমন স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস

- ডিগ্রি ২য় বর্ষ ইতিহাস ৩য় পত্র সাজেশন,ডিগ্রি ২য় বর্ষের ১০০% কমন ইতিহাস ৩য় পত্র সাজেশন
