নতুন পণ্যের ক্ষেত্রে ক্রেতা বা ভোক্তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া বা গ্রহণ প্রক্রিয়া (Adoption Process) বিস্তারিত আলোচনা করো।

Subscribe Now!

সর্বশেষ চাকরির খবর মিস করবেন না! Subscribe - এ ক্লিক করে দেখুন নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি।

My Ads

প্রশ্ন: নতুন পণ্যের ক্ষেত্রে ক্রেতা বা ভোক্তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া বা গ্রহণ প্রক্রিয়া (Adoption Process) বিস্তারিত আলোচনা করো।

১. ভূমিকা ও সংজ্ঞা (Introduction & Definition)

(ক) মূল ধারণা:

বাজারে কোনো নতুন পণ্য প্রবর্তন করলেই তা ক্রেতারা সাথে সাথে কিনে নেয় না। একটি নতুন পণ্য সম্পর্কে প্রথম জানা থেকে শুরু করে সেটি নিয়মিত ব্যবহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া পর্যন্ত ক্রেতাকে মানসিক ও আচরণগত কয়েকটি নির্দিষ্ট ধারাবাহিক ধাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ক্রেতার এই মানসিক বা মনস্তাত্ত্বিক যাত্রা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ক্রমকে নতুন পণ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া (New Product Adoption Process) বলা হয়।

বিপণনকারীর জন্য এই প্রক্রিয়াটি বোঝা অত্যন্ত জরুরি, কারণ সঠিক ধাপে সঠিক প্রমোশন কৌশল প্রয়োগ করতে না পারলে নতুন পণ্য বাজারে ব্যর্থ হতে পারে।

(খ) প্রাতিষ্ঠানিক সংজ্ঞা:

আধুনিক বাজারজাতকরণের জনক ফিলিপ কোটলার (Philip Kotler) এবং গ্যারি আর্মস্ট্রং (Gary Armstrong)-এর মতে:

“নতুন পণ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া হলো এমন একটি মানসিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি কোনো নতুন পণ্য সম্পর্কে প্রথম অবহিত হওয়া থেকে শুরু করে সেটি চূড়ান্তভাবে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত পর্যন্ত উপনীত হয়।”

আরো ও সাজেশন:-

Honors Suggestion Linksপ্রশ্ন সমাধান সমূহ
Degree Suggestion LinksBCS Exan Solution
HSC Suggestion Links2016 সাল থেকে সকল জব পরীক্ষার প্রশ্ন উত্তর
SSC ‍& JSC Suggestion Linksবিষয় ভিত্তিক জব পরিক্ষার সাজেশন
গণিত এর সমাথানBook PDF

২. নতুন পণ্যের ক্ষেত্রে ক্রেতার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার ৫টি ধাপ (Steps in Adoption Process)

কোটলারের প্রামাণ্য বিপণন ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী নতুন পণ্যের ক্ষেত্রে একজন ভোক্তা প্রধানত ৫টি ধারাবাহিকভাবে সাজানো মানসিক পর্যায় অতিক্রম করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে:

১. সচেতনতা বা অবহিতকরণ (Awareness Stage):

  • ব্যাখ্যা: এটি এই প্রক্রিয়ার একদম প্রথম ধাপ। এ ধাপে ভোক্তা নতুন কোনো পণ্য বা প্রযুক্তির অস্তিত্ব সম্পর্কে প্রথম জানতে পারে, কিন্তু পণ্যটি সম্পর্কে তার কাছে পর্যাপ্ত বা বিস্তারিত তথ্য থাকে না।
  • ভোক্তার মানসিক অবস্থা: ভোক্তা কেবল নতুন পণ্যটির নাম বা ব্র্যান্ড সম্পর্কে সচেতন হয়।
  • বিপণনকারীর ভূমিকা: বড় পরিসরে গণমাধ্যম, সোশ্যাল মিডিয়া, টিভি বিজ্ঞাপন বা বিলবোর্ডের মাধ্যমে পণ্যের অস্তিত্ব প্রচার করা।

২. আগ্রহ সৃষ্টি (Interest Stage):

  • ব্যাখ্যা: পণ্যটি সম্পর্কে জানার পর ভোক্তা যদি সেটির প্রতি আকর্ষিত বোধ করে, তবে সে পণ্যটি সম্পর্কে আরো বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের জন্য আগ্রহী হয়ে ওঠে।
  • ভোক্তার মানসিক অবস্থা: ভোক্তা অনলাইনে রিভিউ খোঁজে, পরিচিতদের কাছে জিজ্ঞাসা করে, ব্রোশার পড়ে বা ওয়েবসাইটে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে।
  • বিপণনকারীর ভূমিকা: সহজে বোধগম্য ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য (যেমন: স্পেসিফিকেশন, ক্যাটালগ, ব্লগ বা ভিডিও) ওয়েবসাইটে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সহজলভ্য করা।

৩. মূল্যায়ন (Evaluation Stage):

  • ব্যাখ্যা: এ ধাপে ভোক্তা প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে চিন্তা করে যে নতুন পণ্যটি চেষ্টা করে দেখা বা কেনা তার জন্য যুক্তিসঙ্গত ও লাভজনক হবে কি না।
  • ভোক্তার মানসিক অবস্থা: সে পণ্যের সুবিধা, কার্যকারিতা ও মূল্যের সাথে বাজারে থাকা বিদ্যমান বিকল্প পণ্যের তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করে।
  • বিপণনকারীর ভূমিকা: পণ্যের অনন্য সুবিধা (Unique Value Proposition) ফুটিয়ে তোলা এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত বা কাস্টমার টেস্টিনোমস উপস্থাপন করা।

৪. পরীক্ষণ (Trial Stage):

  • ব্যাখ্যা: মূল্যায়নে ইতিবাচক মনে হলে ভোক্তা ঝুঁকি কমাতে পণ্যটি ছোট পরিসরে বা অল্প পরিমাণে ব্যবহারের মাধ্যমে পরীক্ষা করে দেখে।
  • ভোক্তার মানসিক অবস্থা: ভোক্তা নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে নিশ্চিত হতে চায় যে পণ্যটি তার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে কি না।
  • বিপণনকারীর ভূমিকা: ক্রেতাকে পরীক্ষার সুযোগ দিতে ফ্রি স্যাম্পল (Free Samples), ট্রায়াল প্যাক, কাউন্টারে টেস্ট ড্রাইভ বা ‘মানি ব্যাক গ্যারান্টি’ প্রদান করা।

৫. গ্রহণ বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত (Adoption Stage):

  • ব্যাখ্যা: পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সন্তুষ্ট হলে ভোক্তা নতুন পণ্যটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং ভবিষ্যতে সেটি নিয়মিত ব্যবহারের জন্য ক্রয় করে।
  • ভোক্তার মানসিক অবস্থা: ভোক্তা পণ্যটির একজন নিয়মিত ব্যবহারকারীতে পরিণত হয় এবং মানসিক স্বস্তি লাভ করে।
  • বিপণনকারীর ভূমিকা: সঠিক বিক্রয়োত্তর সেবা (After-Sales Service) ও ওয়ারেন্টি নিশ্চিত করা, যাতে ব্র্যান্ড আনুগত্য (Brand Loyalty) গড়ে ওঠে।

৩. নতুন পণ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে ভোক্তাদের শ্রেণিবিন্যাস (Adopter Categories)

পরীক্ষায় নম্বর বাড়াতে এভারেট রজার্স (Everett Rogers) উদ্ভাবিত ও কোটলার সমর্থিত এই ৫ ধরনের ক্রেতাগোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করা অত্যন্ত ফলপ্রসূ:

১. উদ্ভাবক (Innovators): যারা নতুন পণ্য আসার সাথে সাথে ঝুঁকি নিয়ে প্রথম কেনে (সামগ্রিক ক্রেতার ২.৫%)। ২. প্রাথমিক গ্রহণকারী (Early Adopters): যারা সচেতনভাবে পর্যালোচনা করে দ্রুত গ্রহণ করে (১৩.৫%)। ৩. প্রাথমিক সংখ্যাগরিষ্ঠ (Early Majority): যারা সাধারণ মানুষের আগে কিন্তু সতর্কতার সাথে কেনে (৩৪%)। ৪. বিলম্বিত সংখ্যাগরিষ্ঠ (Late Majority): যারা অধিকাংশ মানুষ কেনার পর বা বাধ্য হয়ে কেনে (৩৪%)। ৫. ধীরগতি সম্পন্ন বা রক্ষণশীল (Laggards): যারা ঐতিহ্যের অনুসারী এবং পরিবর্তন পছন্দ করে না (১৬%)।

৪. সিদ্ধান্ত ও উপসংহার (Conclusion)

পরিশেষে বলা যায়, নতুন পণ্য বাজারজাতকরণে কেবল মানসম্মত পণ্য তৈরি করাই যথেষ্ট নয়; ক্রেতাকে সচেতনতা থেকে শুরু করে সফলভাবে গ্রহণ পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে আসা বাজারজাতকারীর মূল দায়িত্ব। একটি নতুন পণ্য যত দ্রুত সচেতনতা থেকে পরীক্ষণ ও গ্রহণ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে, বাজারে পণ্যটির বাণিজ্যিক সাফল্য তত দ্রুত অর্জিত হবে।

পরীক্ষার জন্য বিশেষ প্লাস পয়েন্ট টিপস (১০-এ ১০ পাওয়ার কৌশল): ১. ইংরেজি টার্ম ব্যবহার: মূল পর্যায়গুলোর সাথে ইংরেজি শব্দ (Awareness, Interest, Evaluation, Trial, Adoption, Innovators, Early Adopters, Laggards) নীল কালিতে হাইলাইট করে লিখবেন। ২. কোটলারের সংজ্ঞা ও বিন্যাস: শুরুতে ফিলিপ কোটলার ও গ্যারি আর্মস্ট্রং-এর প্রামাণ্য সংজ্ঞাটি নীল কালি দিয়ে হাইলাইট করবেন এবং ৫টি প্রধান ধাপ ক্রমানুসারে নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করবেন।

আর্টিকেলের শেষ কথাঃ নতুন পণ্যের ক্ষেত্রে ক্রেতা বা ভোক্তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া বা গ্রহণ প্রক্রিয়া

Leave a Comment

My Ads