ডেবিট ও ক্রেডিট নির্ণয় করার নিয়মগুলো দেখাও

Subscribe Now!

বাংলানিউজ এক্সপ্রেসের এক্সক্লুসিভ সব আপডেট সবার আগে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।

My Ads

ডেবিট ও ক্রেডিট নির্ণয় করার নিয়মগুলো দেখাও,ডেবিট ও ক্রেডিট বলতে কী বোঝায়? ডেবিট ও ক্রেডিট নির্ণয় করার আধুনিক ও সনাতন নিয়মগুলো বিস্তারিত আলোচনা করো

ভূমিকা

হিসাববিজ্ঞানের মূল ভিত্তি হলো ইতালীয় গণিতবিদ লুকা প্যাসিওলি আবিষ্কৃত “দু-তরফা দাখিলা পদ্ধতি” (Double Entry System)। এই পদ্ধতি অনুযায়ী প্রতিটি আর্থিক লেনদেনের দুটি পক্ষ থাকে—একটি ডেবিট (Debit বা Dr.) এবং অন্যটি ক্রেডিট (Credit বা Cr.)। লেনদেনের এই দ্বিমুখী সত্ত্বাকে হিসাবের বইতে সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী লিপিবদ্ধ করা হয়। হিসাববিজ্ঞানে ডেবিট ও ক্রেডিট নির্ণয় করার প্রধান দুটি পদ্ধতি রয়েছে: একটি প্রাচীন বা সনাতন পদ্ধতি (Golden Rules) এবং অন্যটি আধুনিক বা সমীকরণ পদ্ধতি (Modern Rules)। নিচে এই নিয়মসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা করা হলো।

প্রথম অংশ: ডেবিট ও ক্রেডিট-এর সাধারণ অর্থ

হিসাববিজ্ঞানে ‘ডেবিট’ বা ‘ক্রেডিট’ শব্দের নিজস্ব কোনো একক বা স্থায়ী অর্থ নেই।

  • ডেবিট (Debit): ল্যাটিন শব্দ ‘Debere’ থেকে ডেবিট শব্দের উৎপত্তি, যার অর্থ হিসাবের বাম দিক।
  • ক্রেডিট (Credit): ল্যাটিন শব্দ ‘Credere’ থেকে ক্রেডিট শব্দের উৎপত্তি, যার অর্থ হিসাবের ডান দিক।অর্থাৎ, হিসাবের বাম পক্ষকে ডেবিট এবং ডান পক্ষকে ক্রেডিট বলা হয়।

দ্বিতীয় অংশ: আধুনিক বা সমীকরণ পদ্ধতি (Modern or Equation Method)

আধুনিক হিসাববিদদের মতে, হিসাব সমীকরণের উপাদানগুলোর হ্রাস-বৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করে ডেবিট-ক্রেডিট নির্ণয় করা সবচেয়ে বৈজ্ঞানিক ও সহজ। আমরা জানি, হিসাবের মূল সমীকরণটি হলো:

আরো ও সাজেশন:-

My Ads

Honors Suggestion Linksপ্রশ্ন সমাধান সমূহ
Degree Suggestion LinksBCS Exan Solution
HSC Suggestion Links2016 সাল থেকে সকল জব পরীক্ষার প্রশ্ন উত্তর
SSC ‍& JSC Suggestion Linksবিষয় ভিত্তিক জব পরিক্ষার সাজেশন
গণিত এর সমাথানBook PDF

A = L + OE

মালিকানা স্বত্ব (OE)-কে ভাঙলে আমরা পাই: OE = C + R – E – D। সুতরাং সম্প্রসারিত হিসাব সমীকরণটি দাঁড়ায়:

A + E + D = C + L + R

এখানে, A = {সম্পদ} , E = {ব্যয়}, D = {উত্তোলন}, C = {মূলধন}, L = {দায়}, R = {রাজস্ব/আয়} ।

এই সমীকরণের ওপর ভিত্তি করে আধুনিক নিয়মকে দুটি সহজ সূত্রে ভাগ করা যায়:

১. সম্পদ ( Asset ), ব্যয় ( Expense ) ও উত্তোলন (Drawing)-এর ক্ষেত্রে:

এই তিনটি উপাদান ব্যবসায়ে বৃদ্ধি পেলে ডেবিট হয় এবং হ্রাস পেলে ক্রেডিট হয়।

  • উপাদান বৃদ্ধি (+) longrightarrow ডেবিট (Dr.)
  • উপাদান হ্রাস (-) longrightarrow ক্রেডিট (Cr.)

২. দায় (Liability), মূলধন/মালিকানা স্বত্ব (Equity) ও আয়/রাজস্ব (Revenue)-এর ক্ষেত্রে:

এই তিনটি উপাদান ব্যবসায়ে হ্রাস পেলে ডেবিট হয় এবং বৃদ্ধি পেলে ক্রেডিট হয় (সম্পদ ও ব্যয়ের সম্পূর্ণ উল্টো)।

  • উপাদান হ্রাস (-) longrightarrow ডেবিট (Dr.)
  • উপাদান বৃদ্ধি (+)longrightarrow ক্রেডিট (Cr.)

তৃতীয় অংশ: সনাতন বা স্বর্ণসূত্র পদ্ধতি (Traditional or Golden Rules)

সনাতন পদ্ধতিতে ব্যবসায়ের সমস্ত হিসাবকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করে ডেবিট-ক্রেডিট নির্ণয় করা হতো, যা হিসাববিজ্ঞানের ইতিহাসে “স্বর্ণসূত্র” (Golden Rules) নামে পরিচিত:

  • ১. ব্যক্তিবাচক হিসাব (Personal Account): লেনদেনের সাথে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সুবিধা গ্রহণ করলে ডেবিট এবং সুবিধা প্রদান করলে ক্রেডিট হয়।
    • সুবিধা গ্রহণকারী (Receiver) longrightarrow ডেবিট (Dr.)
    • সুবিধা প্রদানকারী (Giver) longrightarrow ক্রেডিট (Cr.)
  • ২. সম্পত্তিবাচক হিসাব (Real Account): ব্যবসায়ে কোনো সম্পদ আগমন ঘটলে বা বৃদ্ধি পেলে ডেবিট এবং সম্পদ ব্যবসা থেকে চলে গেলে বা হ্রাস পেলে ক্রেডিট হয়।
    • সম্পদ আসলে (Comes in) longrightarrow ডেবিট (Dr.)
    • সম্পদ চলে গেলে (Goes out) longrightarrow ক্রেডিট (Cr.)
  • ৩. নামিক বা আয়-ব্যয়বাচক হিসাব (Nominal Account): ব্যবসায়ের যাবতীয় খরচ, ক্ষতি বা ব্যয়কে ডেবিট এবং যাবতীয় আয়, লাভ বা মুনাফাকে ক্রেডিট করা হয়।
    • যাবতীয় ব্যয় ও ক্ষতি (Expenses & Losses)longrightarrow ডেবিট (Dr.)
    • যাবতীয় আয় ও লাভ (Incomes & Gains) longrightarrow ক্রেডিট (Cr.)

পরীক্ষার খাতায় আকর্ষনীয় উপস্থাপনের জন্য মাস্টার ছক (Full Marks-১০ নিশ্চিত করার ট্রিকস)

পরীক্ষার খাতায় উত্তরের মাঝামাঝি এই প্রমিয়াম তুলনামূলক ছকটি পেন্সিল দিয়ে সুন্দর করে এঁকে দিলে পরীক্ষক ফুল মার্কস দিতে বাধ্য হবেন:

My Ads

হিসাবের শ্রেণী (আধুনিক)হিসাবের প্রকৃতিবৃদ্ধি পেলে (+)হ্রাস পেলে (-)
১. সম্পদ (Assets)দালানকোঠা, আসবাবপত্র, নগদ টাকাডেবিট (Dr.)ক্রেডিট (Cr.)
২. ব্যয় (Expenses)বেতন, ভাড়া, অবচয়, বিজ্ঞাপনডেবিট (Dr.)ক্রেডিট (Cr.)
৩. উত্তোলন (Drawings)মালিক কর্তৃক নগদ বা পণ্য উত্তোলনডেবিট (Dr.)ক্রেডিট (Cr.)
৪. দায় (Liabilities)প্রদেয় হিসাব, ব্যাংক ঋণ, বকেয়া খরচডেবিট (Dr.)ক্রেডিট (Cr.)
৫. মূলধন (Capital)মালিকের প্রারম্ভিক বা অতিরিক্ত বিনিয়োগডেবিট (Dr.)ক্রেডিট (Cr.)
৬. আয় (Revenue)পণ্য বিক্রয়, সেবা আয়, প্রাপ্ত সুদডেবিট (Dr.)ক্রেডিট (Cr.)

My Ads

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, ডেবিট ও ক্রেডিট হলো হিসাববিজ্ঞানের বর্ণমালার মতো। সনাতন পদ্ধতিটি আমাদের হিসাববিজ্ঞানের গোড়াপত্তন বুঝতে সাহায্য করে, তবে আধুনিক যুগের জটিল ও বড় করপোরেট হিসাবের ক্ষেত্রে সমীকরণ ভিত্তিক আধুনিক পদ্ধতিটিই সবচেয়ে বেশি নিখুঁত, বৈজ্ঞানিক ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য। একজন শিক্ষার্থীর এই দুই নিয়মের ওপর স্পষ্ট ও নির্ভুল জ্ঞান থাকলে হিসাববিজ্ঞানের যেকোনো জটিল সমস্যার সমাধান করা পানির মতো সহজ হয়ে যায়।

My Ads

পরীক্ষার জন্য বিশেষ প্লাস পয়েন্ট টিপস:

১. সম্প্রসারিত সমীকরণ: তৃতীয় অংশে দেওয়া সম্প্রসারিত হিসাব সমীকরণের সূত্রটি (A + E + D = C + L + R) অবশ্যই নীল কালি দিয়ে বড় করে লিখে বক্স করে দেবেন। এটি আপনার খাতার মান সাধারণ খাতা থেকে অনেক ওপরে নিয়ে যাবে।

২. মাস্টার ছক: ১০ নম্বরের প্রশ্নের জন্য উপরে দেওয়া মূল ৪টি কলামের ছকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি উত্তরের মূল আকর্ষণ।

3. ইংরেজি কি-ওয়ার্ড: প্রতিটি হিসাবের নামের পাশে ব্র্যাকেটে ইংরেজি টার্ম (যেমন: Assets, Liabilities, Revenue) ব্যবহার করবেন। এতে শিক্ষকেরা বুঝবেন আপনার গভীর বেসিক জ্ঞান চমৎকার।

My Ads

আর্টিকেলের শেষ কথাঃ ডেবিট ও ক্রেডিট নির্ণয় করার নিয়মগুলো দেখাও,ডেবিট ও ক্রেডিট বলতে কী বোঝায়? ডেবিট ও ক্রেডিট নির্ণয় করার আধুনিক ও সনাতন নিয়মগুলো বিস্তারিত আলোচনা করো

আরো পড়ুন:

My Ads

Leave a Comment

My Ads

My Ads