Subscribe Now!
সর্বশেষ চাকরির খবর মিস করবেন না! Subscribe - এ ক্লিক করে দেখুন নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি।
My Ads
গ্রামীণ পরিবারের প্রকারভেদ আলোচনা কর, গ্রামীণ পরিবারের ধরনসমূহ আলোচনা কর,গ্রামীণ পরিবারের শ্রেণিবিন্যাস কর
ভূমিকা : সামাজিকভাবে স্বীকৃত বিবাহের মধ্য দিয়েই পরিবারের সূত্রপাত। সন্তান জন্মদান ও তার প্রতিপালনই হচ্ছে পরিবারের প্রধান কাজ। পরিবারের মধ্য দিয়ে গ্রাম সমাজের মানুষ তাদের জীবন শুরু করে। গ্রাম সমাজের মূল ভিত হচ্ছে পরিবার। পরিবার সমাজের মৌলিক ও ক্ষুদ্রতম সংগঠন। পরিবারের সাথেই গ্রামীণ মানুষের অতি আন্তরিক এবং অনেকটা অকৃত্রিম সামাজিক মিথস্ক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়।
গ্রামীণ পরিবারের প্রকারভেদ : পরিবারের আকৃতি, প্রকৃতি, দেশ-কাল নির্বিশেষে অভিন্ন নয়। দেশ- কাল-ভেদে এবং বিভিন্ন সমাজে গ্রামীণ পরিবারের প্রকৃতি ও সংগঠনে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। কতকগুলো বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবারের এ প্রকারভেদ দেখা যায়।
নিয়ে গ্রামীণ পরিবারের ধরন বা প্রকারভেদ সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো :
১. পিতৃতান্ত্রিক ও মাতৃতান্ত্রিক পরিবার : ক্ষমতার মাত্রার ভিত্তিতে গ্রামীণ পরিবারকে পিতৃতান্ত্রিক এবং মাতৃতান্ত্রিক এ দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। অর্থাৎ, নারী অথবা পুরুষ কার হাতে পরিবারের কর্তৃত্ব ন্যস্ত আছে তার ভিত্তিতেই গ্রামীণ পরিবারের এ ধরনের শ্রেণিবিভাজন করা হয়। কর্তৃত্ব যদি পিতা বা স্বামীর হাতে ন্যস্ত থাকে তাহলে সে পরিবারকে বলা হয় পিতৃতান্ত্রিক পরিবার। অন্যদিকে, পুরুষের পরিবর্তে স্ত্রী বা মায়ের হাতে পরিবারের কর্তৃত্ব ন্যস্ত থাকলে সে পরিবারকে বলা হয় মাতৃতান্ত্রিক পরিবার। রাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজের পরিবার মূলত পিতৃতান্ত্রিক বা পিতৃপ্রধান। পিতৃপ্রধান পরিবারকে Father right বা পিতৃ অধিকার বলেও আখ্যা দেওয়া হয়। পিতা এখানে পরিবারের সম্পত্তির মালিক ও প্রশাসক। সন্তানসম্ভতি, স্ত্রী এবং ভাইবোনেরা তার অধীনস্থ পরিবারের সদস্য। পিতৃপ্রধান পরিবার একাধারে পিতৃবাস ও পিতৃসূত্রীয়। গ্রামীণ পরিবারে পিতার অবর্তমানে তার ক্ষমতা বড় পুরুষ সন্তানের উপর অর্পিত হয়।
২. একগামী ও বহুগামী পরিবার : গ্রামীণ পরিবারকে একগামী ও বহুগামী এ দু’টি ভাগে বিভক্ত করা হয়। পরিবারের এ প্রকারভেদ যৌন সম্পর্কের স্বীকৃত পরিধির পরিপ্রেক্ষিতে করা হয়। একগামী পরিবার হলো এক পতি ও এক পত্নীবিশিষ্ট পরিবার। অর্থাৎ, একজন পুরুষ ও একজন নারীর বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তিতে যে পরিবার গড়ে উঠে তাকে বলে একগামী পরিবার। এ ধরনের পরিবার ব্যবস্থায় একজন পুরুষ ও একজন নারীর মধ্যে অর্থাৎ, এক পতি ও এক পত্নীর মধ্যেই যৌন সম্পর্ক সীমাবদ্ধ থাকে।
অপরদিকে, এক পতি ও একাধিক পত্নী নিয়ে গঠিত পরিবারকে বলে বহুগামী বা বহু স্ত্রী বিবাহভিত্তিক পরিবার।” প্রকাশনা আধুনিক গ্রামীণ সভ্য সমাজে একগামী বা এক বিবাহভিত্তিক পরিবার সর্বত্র লক্ষ্য করা যায়। তবে বহু স্ত্রী বিবাহভিত্তিক পরিবার আমাদের সমাজে অজানা নয়। গ্রামীণ মুসলিম সমাজে ধনী কৃষক পরিবারে বহু স্ত্রী বিবাহভিত্তিক পরিবার লক্ষ্য করা যায়।
প্রায়ই ধর্মীয় সমর্থনের ভুল ব্যাখ্যার আশ্রয়ে প্রতাপশালী ধনী ব্যক্তিরা গ্রামীণ সমাজে ক্ষমতার বলয় বৃদ্ধি করতে, কখনও বা প্রথম স্ত্রীর সন্তান না হওয়ার কারণে অথবা প্রথম স্ত্রীর পুত্র সন্তান না হওয়ার কারণে অথবা সম্পত্তির লোভে অথবা নেহায়েত পছন্দ বা শখের কারণে এমনটি ঘটে থাকে। বড় বা ধনী কৃষি পরিবারে কাজকর্মের লোকের প্রয়োজনেও অনেকে বহু স্ত্রী গ্রহণ করে।
৩. মাতৃসূত্রীয় এবং পিতৃসূত্রীয় পরিবার: গ্রামীণ পরিবারের বংশমর্যাদা ও সম্পত্তির উত্তরাধিকারের ভিত্তিতে পরিবারকে দু’টি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। যথা : মাতৃসূত্রীয় পরিবার ও পিতৃসূত্রীয় পরিবার। মাতৃকুলের পরিচয় যে পরিবারে সন্তানের পরিচয় নির্ধারিত হয় এবং সন্তান মাতৃকুলের বংশধর হিসেবে বিবেচিত হয় সে পরিবারকে বলা হয় মাতৃসূত্রীয় পরিবার।
আরি পড়ুন ›The Father of the Nation Bangabandhu Sheikh Mujibur RahmanPrepare a fact file (a short report of all the most important information on…
আরি পড়ুন ›২০২১ সালের এইচএসসি ডিপ্লোমা ইন কমার্স ১১শ ও ১২শ শ্রেণির ৫ম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ 2021PDF আকারে পেতে ক্লিক করুন ছবি আকারে পেতে ক্লিক করুন PDF Links Images Links…
আরি পড়ুন ›সাধারণ যুক্তিবিদ্যা অনার্স ২য় বর্ষ সাজেশনসাধারণ যুক্তিবিদ্যা অনার্স ২য় বর্ষ সাজেশন 2026 জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অনার্স পাস এবং সার্টিফিকেট কোর্স…
পক্ষান্তরে, যে পরিবারে সন্তান পিতৃপুরুষের বংশধর হিসেবে গণ্য হয়, এবং সন্তানের পরিচয় পিতৃকুলের পরিচয়ের পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত হয়, সে পরিবারকে বলা হয় পিতৃসূত্রীয় পরিবার। যেহেতু গ্রামীণ পরিবার পিতৃসূত্রীয় অথবা মাতৃসূত্রীয় যে কোনো একটি রূপ নেয়, সেহেতু উত্তরাধিকার, বংশ এবং জ্ঞাতি সম্পর্ক একসূত্রীয় বা একটি ধারায় (পিতা বা মাতার) লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশের গ্রামীণ মুসলিম সমাজের মধ্যে মাতা এবং পিতা উভয় ধারায় দ্বিসূত্রীয় জ্ঞাতি সম্পর্ক দেখা যায়।
গ্রামীণ হিন্দু সমাজে সম্পত্তির উত্তরাধিকারের দিক থেকে বলা যায় যে, এখানে পিতৃসূত্রীয় নীতিই প্রাধান্য পায়। কেননা, সাধারণত হিন্দু মেয়েরা বাবার সম্পত্তি উত্তরাধিকারসূত্রে পায় না।
৪. পিতৃবাস ও মাতৃবাস পরিবার : বিবাহের পর স্বামী এবং স্ত্রীর বাসস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবারকে দু’টি ভাগে যেমন- পিতৃবাস পরিবার এবং মাতৃবাস পরিবারে ভাগ করা হয়। মাতৃবাস বা মাতৃস্থানীয় পরিবার ব্যবস্থায় স্বামী স্ত্রীর পিতার বাড়িতে বসবাস করে। অন্যদিকে, পিতৃবাস বা পিতৃস্থানীয় পরিবার ব্যবস্থায় স্ত্রী স্বামীর বাড়িতে বসবাস করে। গ্রামীণ সমাজে পিতৃবাস পরিবার প্রথাই বেশি প্রচলিত।
[ বি:দ্র: উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]
৫. বর্ধিত এবং যৌথ পরিবার : গ্রামীণ সমাজকাঠামোর দিক থেকে পরিবার প্রধানত দুই প্রকার। যথা : বর্ধিত পরিবার বা Extended family এবং যৌথ পরিবার বা Joint family। যৌথ পরিবার ব্যবস্থায় পুত্র বা কন্যারা বিবাহের পর যথাক্রমে স্ত্রী বা স্বামীর সাথে একই পিতামাতার সংসারে বসবাস করে থাকে। রক্ত সম্পর্কের যোগসূত্রের ভিত্তিতে কয়েকটি একক পরিবারের সমষ্টি হলো এ যৌথ পরিবার। এ ধরনের পরিবার মূলত একক পরিবারের বর্ধিত রূপ বিধায় একে Extended family বলা হয়। অর্থাৎ, তিন পুরুষের পরিবারই বর্ধিত পরিবার।
My Ads
আবার এ পরিবারের কর্তার সাথে যদি এক বা একাধিক ভাই ও তাদের সন্তানসম্ভতি নিয়ে বা নিকটস্থ আত্মীয় নিয়ে গঠিত হয় তা হবে যৌথ পরিবার। বাংলাদেশের গ্রাম অঞ্চলে যৌথ পরিবারের সংখ্যা বেশি। তবে ইদানীং পরিবার কাঠামোর পরিবর্তন আসায় সকল ধরনের সমাজেই যৌথ পরিবারের অবলুপ্তি সুস্পষ্ট।
৬. আজ্ঞগোষ্ঠী এবং বহির্গোষ্ঠী বিবাহভিত্তিক পরিবার : আন্তঃগোষ্ঠী বিবাহভিত্তিক পরিবার ব্যবস্থায় বিবাহ শুধুমাত্র আপন গোষ্ঠীর মধ্যে স্বীকৃত। পক্ষান্তরে, বহির্গোষ্ঠী বিবাহভিত্তিক পরিবার ব্যবস্থায় কোনো ব্যক্তিকে সামাজিক বিধি অনুসারে অবশ্যই গোত্রের বাইরে বিবাহ করতে হয়। গ্রামীণ হিন্দু সমাজে স্বজাতি বর্ণের মধ্যেই বিবাহ বাঞ্ছনীয়। মুসলিম সমাজে নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই যাকে আন্তঃগোষ্ঠী বা বহির্গোষ্ঠী বলা চলে।
উপসংহার : পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, পরিবার হচ্ছে গ্রাম সমাজের কেন্দ্র। পরিবারকে ঘিরেই গ্রাম সমাজের সকল বিষয় আবর্তিত। মানুষ পরিবারে জন্মগ্রহণ করে এবং সারাটি জীবন পরিবারে কাটায়। বাংলাদেশের গ্রামীণ পরিবার সাধারণত যৌথ পরিবার। তবে উল্লিখিত সকল ধরনের পরিবার ব্যবস্থাই গ্রামীণ সমাজে দেখা যায়। এক সময়ে গ্রামের মানুষেরা মিলেমিশে সবাই যৌথ পরিবারে বাস করতে ভালোবাসত। বর্তমান আধুনিকতা ও শিল্পায়নের প্রভাবে গ্রামীণ পরিবারগুলো বিভিন্ন রূপ নিচ্ছে।
আরি পড়ুন ›অথায়নের ক্রমবিকাশঅর্থায়নের ধারনা ও সংজ্ঞা, শ্রেণি বিভাগ অর্থায়নের ধারণা অর্থায়ন অর্থনীতির একটি শাখা যার কাজ…
আরি পড়ুন ›স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ (MEFWD) এর পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান- ২০২Health Education and Family Welfare Department (MEFWD) Exam Question Solution - 2021 স্বাস্থ্য শিক্ষা…
আরি পড়ুন ›assignment higher math 5th week assignment answer for in ssc exam 2021, এসএসসি ২০২১ উচ্চতর গণিত ৫ম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১অ্যাসাইনমেন্ট শিরোনাম: রেডিয়ান পরিমাপ ও ডিগ্রি পরিমাপ সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান মি. রাতুল প্রতিদিন প্রাতঃভ্রমনে…