৯ম শ্রেণি, বিষয়: ব্যবসায় উদ্যোগ ৪র্থ এসাইনমেন্ট সমাধান

৯ম শ্রেণি, বিষয়: ব্যবসায় উদ্যোগ ৪র্থ এসাইনমেন্ট সমাধান

Assignment এসএসসি পরীক্ষা প্রস্তুতি শিক্ষা

বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস এর সর্বশেষ আপডেট পেতে Google News অনুসরণ করুন

শেয়ার করুন:

এ্যাসাইনমেন্ট/নির্ধারিত কাজ:

সৃজনশীল প্রশ্ন: রুহি তার বাবার সাথে শেরপুর বেড়াতে গেলাে। যাওয়ার পথে স্থানীয় একটি বাজারে নাস্তা খেতে নামলাে। সে দেখলাে রাস্তার পাশে বার্শ ও বেতের তৈরি সুন্দর সুন্দর ঝুড়ি, কুলা, চেয়ার, দোলনা, ফুলদানি বিক্রি করছে।

রুহি বাবাকে বলে দুটো ফুলদানি কিনলাে। রুহির বাবা বললাে এভাবেই স্থানীয়ভাবে তৈরি জিনিসপত্র বিক্রি করে হাজার হাজার লােকের কর্মসংস্থান হচ্ছে এবং পর্যটকদের নিকট এগুলাের চাহিদাও ব্যাপক।

বর্তমানে সরকার এ খাতের নারী উদ্যোক্তাদের দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ প্রদান করছে।

  • ক. ব্যবসায় পরিকল্পনা কী?
  • খ. সেবামূলক ক্ষুদ্র শিল্প বলতে কী বুঝায়? ব্যাখ্যা কর।
  • গ. উদ্দীপকে বর্ণিত পণ্যগুলাে কোন শিল্পের অর্ন্তগত বর্ণনা কর।
  • ঘ. উদ্দীপকে প্রদত্ত তথ্য মতে এ খাতের বিকাশ সম্ভব বলে মনে করাে কী? মতামত দাও।

Ans:

ক. ব্যবসায় পরিকল্পনা কী?

উত্তর: ব্যবসায় পরিকল্পনা হলো ব্যবসার ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের প্রতিচ্ছবি। এটি একটি লিখিত দলিল যার মধ্যে ব্যবসা এর লক্ষ্য, প্রকৃতি, ব্যবস্থাপনার ধারা, অর্থায়নের উপায়, বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের সম্পূর্ণ চিত্র তুলে ধরা হয়।

খ. সেবামূলক ক্ষুদ্র শিল্প বলতে কী বুঝায়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর:

সেবামূলক শিল্প বলতে বোঝায়-

যন্ত্রপাতি কিংবা স্থায়ী সম্পদ বা মেধাসম্পদের ব্যবহারের মাধ্যমে যে সকল সেবা মূলক কর্ম সম্পাদিত হয় সে সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সেবামূলক শিল্প।

আর ক্ষুদ্র শিল্প বলতে সেসব প্রতিষ্ঠানকে বুঝায় যেসব প্রতিষ্ঠান জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৫ লক্ষ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা কিংবা যে সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ১০ থেকে ২৫ জন শ্রমিক কাজ করে।

সুতরাং সেবামূলক ক্ষুদ্র শিল্প বলতে বোঝায় মেধাসম্পদের ব্যবহারে বা স্থায়ী সম্পদ এর মাধ্যমে সম্পাদিত কর্মক্ষেত্র অর্থাৎ যেখানে প্রতিস্থাপন ব্যয় ৫ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা;

এবং যে প্রতিষ্ঠান ১০ থেকে ২৫ জন শ্রমিক কাজ করে সে ধরনের প্রতিষ্ঠানকেই সেবামূলক ক্ষুদ্র শিল্প বলে।

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত পণ্যগুলাে কোন শিল্পের অর্ন্তগত বর্ণনা কর।

উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত পণ্যগুলো হলো ঝুড়ি, কুলা, চেয়ার, দোলনা, ফুলদানি ইত্যাদি। ‌ আর এই পণ্যগুলো বাঁশ ও বেত শিল্পের অন্তর্গত।

বিষয়টি নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:

আমরা জানি সাধারণ ব্যাপক মূলধন সামগ্রী ব্যবহার করে কারখানাতে কাঁচামাল বা প্রাথমিক দ্রব্য কে মাধ্যমিক বা চূড়ান্ত দ্রব্য রূপান্তর করার প্রক্রিয়াকে শিল্প বলে।

উদ্দীপকে উল্লেখিত পণ্যগুলো বাঁশ ও বেত শিল্পের অন্তর্গত। ‌ বাঁশ ও বেত শিল্প কুটির শিল্প cottage industry এর অন্তর্ভুক্ত।

কুটির শিল্প বলতে পরিবারের সদস্যদের প্রাধান্য বিশিষ্ট সেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বুঝায়-

যেসব প্রতিষ্ঠান জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ৫ লক্ষ টাকার নিচে এবং পারিবারিক সদস্যদের সমন্বয়ে সর্বোচ্চ জনবল দশের অধিক নয়।

সাধারণত স্বামী-স্ত্রী, পুত্র কন্যা, ভাই বোন ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সহায়তায় কুটির শিল্প পরিচালিত হয়। ‌

তারা পূর্ণকালীন ও খন্ডকালীন সময় উৎপাদন বা সেবা কাজে জড়িত থাকে। ‌ছোট জায়গা, স্বল্প মূলধন, ব্যক্তিগত নৈপুণ্য, সৃজনশীলতা এবং সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে কুটির শিল্প।

কুটির শিল্প অর্থাৎ বাঁশ ও বেত শিল্প আমাদের দেশকে সমৃদ্ধ করে তুলেছে। বাঁশ ও বেত শিল্প একটি প্রয়োজনীয় দ্রব্য।

ঘ. উদ্দীপকে প্রদত্ত তথ্য মতে এ খাতের বিকাশ সম্ভব বলে মনে করাে কী? মতামত দাও।

উত্তর:

আমার মতে উদ্দীপকে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী কুটির শিল্প খাতের বিকাশ করা সম্ভব।

এই প্রসঙ্গে আমার ব্যক্তিগত মতামত উল্লেখ করা হলো-

বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কুটির শিল্পের অবদান অত্যন্ত ব্যাপক। কারণ স্বল্প মূলধন, স্থানীয় কাঁচামাল, ব্যক্তিগত নৈপুণ্য, সৃজনশীলতা, পরিবারের সদস্যের বিশেষ করে মহিলাদের কর্মশক্তি ব্যবহার করে এ শিল্প গড়ে তোলা যায়।

তবে এ দেশের প্রেক্ষাপটে কুটির শিল্পের উন্নয়নের পথে বিভিন্ন প্রকার বাধা সম্মুখীন হতে হয়।

নিচে কুটির শিল্পের উন্নয়নের যে সমস্যা ও বাধাগুলো উত্তরণ প্রয়োজন আলোচনা করা হলো-

১. অনুন্নত রাস্তাঘাট: হে শিল্প বিকাশে দেশের সবচেয়ে বড় বাধা হল অনুন্নত রাস্তাঘাট। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন না হওয়ার সঠিক সময়ে উৎপাদিত পণ্য বিপণন এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামাল যন্ত্রপাতি আনা হলে সমস্যা সৃষ্টি হয়।

তাই কুটির শিল্পের বিকাশে রাস্তাঘাটের ব্যবস্থা করা অত্যান্ত প্রয়োজন।

২. কাচাঁমালের দুষ্প্রাপ্যতা: কাঁচামালের দুষ্প্রাপ্যতা অন্যতম একটি বাধা। অনেক সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন কারণে কাঁচামাল পাওয়া নিশ্চিত হয়ে পড়ে। এতে কুটির শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।

৩. দক্ষ শ্রমিকের অভাব: এদেশে অনেক সময় দক্ষ শ্রমিক এর অভাব পরিলক্ষিত হয়। কুটির শিল্প একটি শ্রমঘন শিল্প। কুটির শিল্পে চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে ডিজাইন ও দক্ষ কারিগরের জ্ঞান আবশ্যক হয়ে পড়ে।

কিন্তু প্রশিক্ষণের তেমন সুযোগ থাকে না বলে এদেশে এই শিল্প বিকাশে সমস্যা সৃষ্টি হয়। ‌

৪. পুঁজির সমস্যা: কুটির শিল্প স্থাপনের জন্য স্বল্প পুঁজির প্রয়োজন হলেও সকল সময় উদ্যোক্তার পক্ষে পুঁজির জোগান দেওয়া সম্ভব হয় না। ‌ এর ফলে এ শিল্পের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। ‌

৫.সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা: কুটির শিল্প দেশের ঐতিহ্য ও গর্বের প্রতীক। তাই এ শিল্প বিকাশে উন্নয়নের জন্য সরকারি সকল ধরনের সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন হয়।

কিন্তু এদেশের প্রেক্ষাপটের সব সময় সরকারি সহযোগিতা পাওয়া সম্ভব হয় না এতে শিল্পের উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হয়।

পরিশেষে বলা যায়, উল্লেখিত সমস্যাগুলোই বাংলাদেশের কঠিন পূরণে বাধা সৃষ্টি করে। এ সকল বাধা দূরীকরণের মাধ্যমে কুটির শিল্পের বিকাশ এবং উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। যা দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনবে ‌।

ব্যবসায় পরিকল্পনা ও বাংলাদেশের শিল্প – সেবামূলক ও কুটির শিল্প নিয়ে এই ছিল আজকের আয়োজন;

আশা করছি তোমাদের জন্য নবম শ্রেণির ব্যবসায় উদ্যোগ বিষয়ে ৪র্থ এসাইনমেন্ট এর ব্যবসায় পরিকল্পনা ও বাংলাদেশের শিল্প – সেবামূলক ও কুটির শিল্প থেকে প্রশ্ন উত্তর করা সহজ হবে।

সব এ্যাসাইনমেন্টর উত্তর লিংক 

৯ম শ্রেণি গণিত ৪র্থ এসাইনমেন্ট সমাধান

৩য় সপ্তাহের এ্যাসাইনমেন্টর সমাধান

More Assignment Answer Links==>>Click

শেয়ার করুন:

বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস এর সর্বশেষ আপডেট পেতে Google News অনুসরণ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *