৮ম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য কণিকা বইয়ের ‘আমাদের লোকশিল্প’ প্রবন্ধে সানকির উল্লেখ আছে

সানকি হচ্ছে পোড়ামাটির তৈরি এক ধরনের পাত্র। উপমহাদেশীয় মৃিশল্পের সবচেয়ে প্রাচীন ও উল্লেখযোগ্য একটি উপাদান হচ্ছে এই সানকি। বর্তমানে সিরামিক, চীনামাটি ও মেলামাইনের যুগে এই মাটির সানকির চাহিদা কিছুটা কমলেও কদর ও সৌন্দর্য কিন্তু কমেনি। বাঙালি জাতির সংস্কৃতি এবং রুচিবোধের একটি অন্যতম ধারক ও বাহক এই মাটির সানকি। বাংলাদেশের কিছু অঞ্চলে এটি সানক নামেও পরিচিত। ইংরেজিতে একে বলে Dish। প্রতিবছর পহেলা বৈশাখে মাটির সানকিতে পান্তা-ইলিশ না খেলে যেন জমেই না। একসময় বাংলাদেশ, চীনসহ বিভিন্ন দেশে মাটির সানকির বহুল ব্যবহার ছিল। গ্রামাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই থাকত সানকি। এটি লালচে রঙের হয়। গ্রামের মানুষ ভাত খাওয়ার থালা হিসেবে এবং রান্না শেষে গরম খাবার রাখার কাজে এটি ব্যবহার করত।

গবেষণায় জানা যায়, মাটির তৈরি সানকিতে খাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত। এটি শতভাগ প্রাকৃতিক। এতে গরম খাবার রাখলে দীর্ঘ সময় গরম এবং ঠাণ্ডা খাবার রাখলে দীর্ঘ সময় ঠাণ্ডা থাকে। খাবারের পুষ্টিগুণও অটুট থাকে।

কুমাররা সানকি তৈরিতে বেলে ও কালো এঁটেল—এই দুই ধরনের মাটি ব্যবহার করে। বেলে মাটির সঙ্গে এঁটেল মাটির অনুপাত ১:২। এ অনুপাতে মাটি মেশালে সে মাটি দিয়ে শক্ত ও উন্নতমানের সানকি তৈরি করা যায়। কুমাররা চাকার সাহায্যে সানকি তৈরি করে। মাঝখানে ক্ষুদ্র কীলকবিশিষ্ট চাকাটির আকার একটি ক্ষুদ্র গোল চাকতির মতো। একজন কুমার খুব সহজেই এই চাকা মাটিতে বসে অনায়াসে হাত দিয়ে ঘোরাতে পারে। মাটির গোলাকে চাকার সাহায্যে ঘুরিয়ে সানকির আকৃতি দেওয়ার পর একে রোদে শুকাতে হয়। পর্যাপ্ত পরিমাণ রোদে শুকানোর পর সানকি মোটামুটি শক্ত হয়ে এলে একে আবার চুলায় বা চুল্লিতে পোড়ানো হয়। চুল্লিতে পোড়ানো হয় বলে সানকির রং লালচে।

বর্তমানে ডাইনিং টেবিলে সানকির তেমন দেখা না পাওয়া গেলেও ঐতিহ্যপ্রিয় শৌখিন মানুষরা সানকিকে শোপিস হিসেবে ঘরে সাজিয়ে রাখে।

J.S.C

Leave a Comment